শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২

ছেলের মা

সেই মা-দের 
জেলে পাঠানোর মত আইনের বড়ই প্রয়োজন, 
যারা নিজের পুরুষ সন্তানটিকে, 
কৈশোরে, 

ঝাড়ু দেওয়া, বাসন মাজা, 
প্রতিদিনের ঘর গোছানো, 
বাজার করা, 
অন্ততঃ, ভাত, ডাল, ভাজা, মাছের ঝোল 
রাঁধতে শেখা 
আর টবে বা বাগানে ফুল ফোটাতে শেখার নিয়মিত ট্রেনিং থেকে বঞ্চিত করে ।

অর্থ রোজগার ও যৌনতা - 
একমাত্র যোগ্যতা 
হতে পারে না পুরুষের ক্ষেত্রে ।
নারী, ঘরে ঘরে, যে গৃহস্থলির দায়িত্ব নেয়,
তাকে নিজের হাতে বাস্তবে করতে গেলে,
গিয়ে, পদে পদে 
আপন উৎকর্ষহীনতার সম্মুখীন হলে,
একমাত্র তবেই পুরুষের অন্তরে
নারীজাতির প্রতি শ্রদ্ধা আসা সম্ভবপর, 
নচেৎ, কোনমতে নয় 

আর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা বিনা 
সহমর্মী সহযোগিতায়
সুন্দর হতে পারে না একটিও দাম্পত্য
অপর আর কোনও উপায়ে ।
 
এই মায়েরা সেই চিরকালীন কালপ্রিট, 
যারা পুরুষকে মানুষ না হতে দিয়ে, 
বরং একটি অপদার্থ জড়দগব তৈরী ক'রে,
একদিন তাকে টোপর পরিয়ে
অপর একটি নারীর ভবিষ্যত সুখকে 
চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়
এবং সমাজের সর্ববৃহৎ ক্ষতিসাধন করে । 

পুরুষ সন্তানটি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে,নিজেকে
নিতান্ত পঙ্গু আবিস্কার করার পরে, 
এই প্রবঞ্চনার উত্তরে
একদিন যদি মাতৃহন্তা হয়,
অথবা, বাকি জীবনের জন্য
তেমন মায়ের মুখদর্শন আর না করে,
তাহলে, তার তদৃশ কাজ 
কতটা অপরাধ ব'লে পরিগনিত হবে  ? 

খুব জানতে ইচ্ছে করে ।

আহা রে, মায়ের মন

সেই মা-দের 
জেলে পাঠানোর মত আইনের বড়ই প্রয়োজন, 
যারা নিজের পুরুষ সন্তানটিকে, 
কৈশোরে, 

ঝাড়ু দেওয়া, বাসন মাজা, 
প্রতিদিনের ঘর গোছানো, 
বাজার করা, 
অন্ততঃ, ভাত, ডাল, ভাজা, মাছের ঝোল 
রাঁধতে শেখা 
আর টবে বা বাগানে ফুল ফোটাতে শেখার নিয়মিত ট্রেনিং থেকে বঞ্চিত করে ।

অর্থ রোজগার ও যৌনতা - 
একমাত্র যোগ্যতা 
হতে পারে না পুরুষের ক্ষেত্রে ।
নারী, ঘরে ঘরে, যে গৃহস্থলির দায়িত্ব নেয়,
তাকে নিজের হাতে বাস্তবে করতে গেলে,
গিয়ে, পদে পদে 
আপন উৎকর্ষহীনতার সম্মুখীন হলে,
একমাত্র তবেই 
নারীজাতির প্রতি শ্রদ্ধা আসা সম্ভবপর, 
নচেৎ, কোনমতে নয় 

আর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা বিনা 
সুন্দর হতে পারে না 
একটিও দাম্পত্য অপর কোনও উপায়ে ।
 
এই মায়েরা সেই চিরকালীন কালপ্রিট, 
যারা পুরুষকে মানুষ না হতে দিয়ে, 
বরং একটি অপদার্থ জড়দগব তৈরী ক'রে,
অপর একটি নারীর ভবিষ্যত সুখকে 
চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়
এবং সমাজের সর্ববৃহৎ ক্ষতিসাধন করে । 

পুরুষ সন্তানটি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে,নিজেকে
নিতান্ত পঙ্গু আবিস্কার করার পরে, 
এই প্রবঞ্চনার উত্তরে
একদিন যদি মাতৃহন্তা হয়,
অথবা, বাকি জীবনের জন্য
মায়ের মুখদর্শন আর না করে,
তাহলে, তার তেমন কাজ 
কতটা অপরাধ ব'লে পরিগনিত হবে  ? 

খুব জানতে ইচ্ছে করে ।

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রাপ্তি

একটা কালো কুকুর 
রাস্তার ধারের ছাইয়ের গাদায়
দিনরাত শুয়ে-বসে থাকে
আর যে যায় পাশ দিয়ে
তাকে চুপচাপ মাপতে থেকে যায় ।

একটা খয়েরি মদ্দা
একটা সাদা মাদির সাথে
অথচ, সবসময়েই খেলে আর লাফায় ।
ওরা চেনে আমাকে ।
দেখলেই উচ্ছলতায় ঘি ঢালে,
খুশি হওয়া প্রকাশ করে নানান উপায়ে ।

আমাকে বেরোতে দেখলেই উঠে পড়ে,
দুজনে লাফাতে লাফাতে, খেলতে খেলতে,
আমার সাথে মোড় অবধি যায় ।
তারপরে অপেক্ষা করে ।
ওরা জেনে গেছে ফিরবই আমি
দশ থেকে পনেরো মিনিট পরে ।
ফিরতে দেখলেই 
ফেরে ফের সাথে সাথে, গরর-গররে
প্রাণের আনন্দে লাফাতে লাফাতে ।

ওদের খেতে দিই নি কিছু কখনো ।
তবুও ওরা আমার সঙ্গ পেলে যে 
প্রভূত আনন্দ পায়,
সে কথাটি নিয়ম করে বুঝিয়েই দেয় ।
ভালবাসার সুযোগ পেয়েছে ব'লে
লাভ-লোকসানের করুণ হিসেবে 
যথারীতি আটকে পড়ার মত
কৃপণ আদপেই ওরা নয় ।

এ জগতে এখনো বহু প্রাণ বাঁচে এমনতর,
এমনকি মানুষেও মেলে,
যারা মুখ ফুটে চাইতে আসে না কিছুই,
আপন আনন্দের উৎসটি সঠিক চিনে নিয়ে
ভালবেসে, হেসে, বিরামহীন আত্ম-উদ্ভাসে 
সুখের পরকাষ্ঠা খুঁজে নিতে পায় 
অবিশ্বাস্য আত্মমুখাপেক্ষায় ।

নিরন্তর হনু

সত্য - তিক্ত শোনাতেই পারে ।
তোমার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা
লুকিয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র একটি বদভ্যাসে ।

যে কোনও মানুষের মধ্যে
মানবিক গুণের আকস্মিক বিকাশকে
আবশ্যিক ভাবে সুন্দর হতেই হয় ।
অথচ তোমার নজরে
তেমন আবিষ্কার ধরা পড়া মাত্রই
থমকে যাও ।
চাইলেও, দরাজ হৃদয়ে ও মুক্ত কণ্ঠে
অভিবাদন জানাতে পার না সর্বদা ।
"দেখই নি" - এমন ভাব দেখিয়ে সরে পড় ।

তোমার অহমিকা 
তাৎক্ষণিক হীনমন্যতায় আক্রান্ত হয়ে
বারংবার 
বলতে শুরু করে কানের গোড়ায় -
"তুমিই বা কম কিসে ?
কী এমন দরকার আছে তোমার 
পরকে প্রশংসা করার ?"

ফলতঃ, অপ্রত্যাশিত সুযোগ এলেও,
শিশু-সুলভ ভালবেসে ফেলার
অভ্যাসের অভাবে,
আত্মস্থই করতে পারলে না
সদ্য আবিষ্কার করা নূতন গুণটিকে
এ জীবনে আর ।

বেকুবের ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে মাকাল,
ঘাড় শক্ত করে দাঁড়িয়ে রয়ে গেলে
আরবুঝো স্থবিরের বিপরীতমুখিতায়,
যখন অন্যরা, 
তোমাকে কম গুরুত্বপূর্ণ বুঝতে পেরে,
হাসতে হাসতে পেরিয়ে গেল অবহেলায়,
তোমারই পাশ দিয়ে, একে একে, অবিরাম।

উপসংহার

"সুন্দর" শব্দটি লেখা থাকে না
একটিও মানুষের গায়ে ।
অনেকেই, অবশ্য,
অনেক রঙ মেখে-টেখে
সুন্দর দেখাচ্ছে জেনে
মহানন্দে রওনা দেয় ।

আমি কিন্তু 
আসল সত্যিটি জানি ।
বেখেয়ালি মন ব'লে,
এক-একটি ক'রে
রাখেনি সে হিসেব কখনো, 
কত রকমের বিরল গুণ
সাজিয়ে বসে আছে এযাবৎ 
নির্বিবাদ নৈঃশব্দ্যে 
চরিত্রের বাগানটিতে তোমার ।

তোমাকে না ব'লে
তোমার মধ্যে 
যখন তখন ঢুকে প'ড়ে
আমি মাঝে মাঝেই
বিরল পুষ্প-সুবাসে 
বিভোর ও স্তম্ভিত হয়ে যাই ।

না ! এ পরিসংখ্যানে 
আবেগজনিত অস্বচ্ছতার 
বিন্দুমাত্র প্রবেশাধিকার নেই ।
শ্রদ্ধা তোমাকে বাধ্য করতেই হয়
আপন অর্জিত প্রাপ্যের গুণে ।
একপ্রকার অসহায় হয়ে প'ড়ে তাই 
ভালোও না বেসে পারি না ।

অবশ্য, মোহ আর ভালবাসার
পার্থক্য মাপতে পারে না যারা,
তারা আবার গম্ভীর হয়ে 
মাঝেমধ্যে বলতেই যায় -
"বেয়াদব ক্ষুধার তাড়না
আজও অবধারিত উৎস ব'লে,
ভালবাসাকে অন্ধ হতেই হয় !"

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২

সাথী

ভালবাসার সাথে
সুখ-দঃখের রথে
হাতে হাত ধরে রেখে
আজীবন পথ চলতে পারা 
অথবা ঘর করার তাড়া
আদপে সহজ কথা নয় ।

পোষ্য আসক্তিরা 
উদ্ধত অশ্রদ্ধার অধিকারে
সুযোগ পাওয়া মাত্রই
সুতীক্ষ্ণ স্বরে
চাইবে পাই-পয়সায় 
রোজের হিসেব বুঝে নিতে ।

বুঝিয়ে দিতে দিতে দিতে
একদা ওষ্ঠাগত প্রাণ
পরিত্রাণ খুজে পেতে
পেরোতেই পারে শেষে
সঙ্গ পরিত্যাগের দ্বার,
যৌবনের সাময়িক ব্যবহার
বুকের যন্ত্রণায় ও উপবাসে
শেষ অবধি ঘুচেই যেতে গেলে,

কৈশোরের সরলতার সাথে
জীবনের পড়ে থাকা পাতে
পুনরায় সহমর্মী যাপন
ব্যাকুল পরাণে ফিরে পেতে ।
.

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

বেলাইন

একদিন সাচ্চা ভালবেসেছিল 
আর তাই নিত্য নূতন সম্প্রসারণে
নিজেকে উপভোগ করেছিল 
উদ্ভিন্ন সৃজনে,
নব কলেবরের নিরন্তর কলরবে ।
সে ছিল অঝোর বৃষ্টিতে
হাতে হাত ধরে দৌড়ে যাওয়া
উদ্দাম আনন্দের দিন ।

তবে, সে সাচ্চা প্রেমের ফাঁকে
লুকিয়ে ছিল যে না ফিরতে জানা
বেলাগাম অধিকারবোধ,
সময়েরর সাথে সাথে 
দাম্পত্যের প্রথম মাতে
শরীরের দেরাজ খুলতে শিখে গিয়ে,
তারা কালে কালে 
ব্যতিব্যস্ত ও অপ্রতিরোধ্য হলো ।

বিপরীতে যেহেতু ছিল না সাড়া 
দুনৌকা-জনিত আপোষে কোনওদিন,
ফলতঃ, একতরফা অবদমিত কামনা
উদভ্রান্ত করে তুললো আপন যাপন ।
অতৃপ্ত বাসনার মরীচিকা ভুলিয়ে নিল
অবধারিত কিংকর্তব্যবিমূঢ়তায় ।

পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে
বিচক্ষণতায় পাল্লা দিয়ে
নিজেকে বিলক্ষণ পাল্টে নিতে না পেরে,
কবি অতঃপর একটু একটু করে ডুবে গেল
ব্যর্থ কবিতার 
দ্বর্থক অনর্থের অনাবশ্যক চোরাবালিতে ।

সলতে ফুরিয়ে এলো অনুভবের আলোর,
ফিরে ফিরে আসা অমাবস্যার রাতে
অক্লান্ত দীর্ঘশ্বাসে ক্লান্ত উষার
ঊষর প্রতীক্ষায় ।

প্রসারতা

'প্রেম' শব্দটির প্রচলিত অর্থের আসেপাশে 
কোথায় যেন একটা হালকা আঁশটে গন্ধ
পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েই যায় ।

'ভালবাসা' শব্দটি সে তুলনায়
বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগ ও সহমর্মিতার বেশ কাছাকাছি ।

'অনুরাগ' শব্দটির ব্যপ্তি সম্ভবতঃ অধিক ।
অনুরাগ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নাও হতে পারে ।
তবে, তেমন গভীর আগ্রহ ও আকর্ষণ
অপ্রতিরোধ্যরূপে অনুভব করা বিনা
জীবনকে 
সুন্দরতরে উন্মোচন কদাপি সম্ভব নয় ।

একমাত্র অনুরাগের তীব্রতায় মানুষ 
নিজেকে প্রয়োজনানুসারে বিনির্মাণ ক'রে
স্বতঃপ্রণোদিত নবজনমের বিকাশে
অতীতের যে কোনও অসম্ভব ও দুর্লভকে 
পরবর্তীতে, পরিবর্তিত স্তরে, একটু একটু করে 
ক্রমশঃ বাগে আনতে পেরে 
অবশেষে একদিন 
সম্ভবে পরিনত করতে সক্ষম হয় ।

এ জগতে যে কোনও মানুষ
আন্তরে বান্তর হতে চাইলে নিবিড়তরে,
একদিন বাস্তবে, অতীতের
অসহায় সীমাবদ্ধতাদের ছুঁড়ে ফেলে 
হাসতে হাসতে এক জনমে
ফিনিক্স এর মত, আপন অস্তির 
একাধিকবার
সুন্দরতর সংজ্ঞা রচনা করতে পারে ।
.

শুরুর বাঁশি

লক্ষ্য একবার স্থির তথা অবিচল হলে
অতঃপর সব বিভ্রান্তির ঘুরপথ ছেড়ে
কর্মের অভিমুখটি
সোজা এবং সরাসরি হতে হবে ।

এগোতে গেলে বাধাও থাকবেই ।
প্রতিটি বাধার উপরে রিসার্চ এর কাজ
যত দ্রুত সম্পন্ন হবে,
তত সহজে তাকে অতিক্রম করা যাবে ।

এই বোধটুকু স্বচ্ছ হলেই 
চরৈবেতি, তথা গতি, দিব্যি স্বাধীনতা পাবে ।

ওহো, ভালো কথা !
তুমি কি দম নেওয়ার জন্যে দাঁড়িয়ে পড়েছো ?
নাকি, তোমার ভোগের আর দুর্ভোগের বাকিরা
মোটেই ছাড়তে রাজি নয় তোমাকে এখনও ?

সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২

নারসিসিস্ট

ভালবাসা মানে - নাটকে
খুব কায়দা ক'রে পার্ট বলতে পারা ?
ভালবাসা মানে রঙ মেখে সং সাজা ?
ভালবাসা মানে খুশি হওয়ার 
অবিরাম অভিনয় আর 
আপন বিবেকের স্বতঃস্ফূর্ততার বিরুদ্ধে
খুব পরিপাটি করে পরকে খুশি করে,
আখেরে, আপন মোক্ষম অভিনয়ের 
গেম-প্ল্যানটি সার্থক করা ?

ভালবাসা মানে 
চমকদার নতুন স্ক্রিপ্টের খোঁজে 
হার-জিতের আসরে সূক্ষ্ম বুদ্ধির খেলা ?
খেলতে নেমে ফাঁক বুঝে,
ফলতঃ, অবধারিত শুয়ে পড়া ?
ভালবাসা মানে - জমিয়ে বসেছে আবার
কুটিলতার মেলা ?
সুতরাং চলতেই হবে
সরলতাকে যত উপায়ে সম্ভব
কৃত্রিমতা দিয়ে ঢেকে ফেলা ?

পরাণ বেচারা যেন 
সহজিয়া মুক্তির নিতান্ত অভাবে
একতরফা অবসন্ন রয়ে যেতে পারে
পরিকল্পিত প্রবঞ্চনার নিঃসঙ্গতায়, 
আপন চাতুরীর কর্তৃত্বের কাছে 
বারংবার বাধ্য পরাজয়ে, আজীবন 
এবং সারাবেলা ?

রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২

তারপরেও

হয়তো অপেক্ষায় থাকবে না 
কোনও রাজকীয় অভিসারের রথ !
হয়তো অপেক্ষাদের বিকেল গড়িয়ে 
সন্ধ্যে নামা
হতে হবে প্রাত্যহিক এবং অবধারিত ।

তারপরেও যদি কোনওরকমে
বেঁচে থাকে সুন্দর - ইচ্ছার নমনীয় শ্বাসে,
তাহলে, অপ্রত্যাশিত অবসর 
না চাইতেই জুটেও যায়
দূরদর্শী পরাণের কপালে একদিন ।

তেমন হলে, নিশ্চিন্তে, 
পায়ে পায়ে, নিকটে এগিয়ে এসো ।
পাশাপাশি হেঁটে যাব কিছু পথ
মৌন আস্থাটুকুকে
সন্তানের মত মাঝখানে আগলে রেখে ।

চার পা, নাহয়, সাতপাকের নিয়মে 
পথ চলতে চলতে, মাখবে একসাথে, 
অনুরাগে ভিজে ওঠা সহমর্মী ধুলো,
অস্তগামী অরুণের আবীরে
কপাল আমাদের হয়ে উঠবে 
অবশ্যম্ভাবী লালে-লাল যখন,
অযতনে ফুটে থাকা 
শত-পুষ্পের উজ্জ্বল হাসিকে
রাস্তার ধারে নির্ভীক সাক্ষী রেখে ।

শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২২

The Turn

At a certain point of life 
you may irresistibly feel 
that the time has finally come 
for a rapid change of your old regime. 

A conversion becomes mandatory,
when, after years of walking strides,
you ultimately decide to henceforth fly.

To silently welcome 
a thoroughly new YOU inside, 
you may leave 
your so far lingering habits 
and practices, whatever old, 
of mundane comforts and complacencies, far behind, 
to trace a fresher path of life 
of adapting 
more dedicated replacement of habits, 
only when you hear 
the clear phoenix-alarm deeper inside. 

বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২

অপারগ

চাইলেও, তোমাকে যা দিতে পারি না
সে আমার একান্ত স্বাধীনতা এযাবৎ ।

যেমন ধর,
তোমার অগোচরে
তোমার গভীরে হাঁটতে হাঁটতে
অনায়াসে যত দূর চলে যাই হামেশাই,
যেভাবে জেনে, বুঝে নিতে পারি
অন্দরমহলের 
পরতে পরতে সযতনে লুকিয়ে রাখা 
এক একটি রহস্যের সঙ্গোপন,
তা তোমাকে হুবহু দেখাতে পেলে
সে অবধি রক্তিম হয়ে উঠতে লজ্জায়
যতদূর হতে পারনি সজ্জায় এ জীবনে কখনো ।

অবশ্য বলাও যায় না,
দেখিয়ে ফেললে একবার
আরও মায়াবী হয়ে উঠতে পারে হয়তো
দৃষ্টি তোমার 
গভীরতর পিয়াসের মরীয়া উদ্ভাসে
অচেনা ডাহুক-ডাকের অবলা ফাঁকে 
আশাতীত দিব্যি তখনো ।

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২২

রিএকশন

যে কাজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়
কিন্তু, যে পরিস্থিতির শিকার
আমাদের বাধ্য হয়ে হতেই হয়,
সেখানেও 
একটি স্বাধীনতা থেকেই যায় আমাদের,
সে হলো প্রতিক্রিয়ার স্বাধীনতা,
কারণ, তালিটি বাজতে হলে
ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার দুটি হাতই লাগে ।
অর্থাৎ, আমি কি ভাবে সাড়া দেব
আর কখন, কত কম বা বেশি সাড়া দেব,
সে পছন্দ তখনো একা আমার ।

তবে সাড়া একবার দিয়ে ফেলার পরে
ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় 
অধিকতম ক্ষেত্রেই আর থাকে না  ।
সুতরাং কোন আবেদনে সাড়া কিভাবে দেব
এই সিদ্ধান্ত গভীর দায়িত্ববোধ দাবী করে ।
কেবল আপন সাড়াদের 
ক্রমশঃ সুরুচিসম্পন্ন ও উন্নত করার মাধ্যমে
জীবনকে অধিকতর সুন্দর করতে পারা
মানবজীবনে প্রকৃত বিচক্ষণতার পাঠ ।

একজন সুন্দর অথচ উপযোগী মানুষ 
হয়ে উঠতে পারা
কখনোই খুব সহজ কথা নয় ।

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২

ঋত্বিক

বিশ্বাস দুর্বল হলে
আজও মনে হয় পরমাদ, 
বলেছিলে যবে -

"পৌষের লেপের প্রলেপে
জেগে ওঠা সাময়িক পৌরুষে 
তলে তলে তুলে দিয়ে বাঁধ
হাত ধরে ডেকে নিই তোমায়
অধিকতর উষ্ণতায় ?

চলে এসো তবে একছুটে এইবেলা
ভিন্ন নিয়মের খেলায় ।
চাবি খুলে, দরজা হাট করে মেলে দিতেই
পেয়ে যাবে অপ্রতিরোধ্যের স্বাদ ।
চেনাবো পায়ে পায়ে অভিসারে
আমারই হৃদয়কাননে 
মোম-গলানো মেদুর উষ্ণতায়
আগুন-রঙা ফুলে ভরা
আলোকিত অবারিত ছাদ ।"

নির্ভয়

যে ধরায় তিন ভাগই সুনীল জল,
একটু দূর থেকে দেখলে
অনেকটা আকাশেরই মত,
সেখানে চিন্তা কেন আর বল ?

প্রতিটি দেশ, 
তা সে বড় হোক না যত
আর যার যত কাছাকছিই থাকুক,
শেষমেষ আর একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ,
অবিকল ঠিক মানুষেরই মত ।

প্রয়োজন
উভয়েরই খুব বেশি কিছু নাকো,
বাইরে আয়োজনহীন আর
বিশ্বস্ত অন্তরে 
শক্তপোক্ত ভালবাসার সাঁকো ।
.

সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২

চিরসবুজ

অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন করি একটা ?
মেঘের আড়ালে আড়ালে 
বেলা কত গড়ালো এ অবধি ?
মৌন রয়ে যাও যৎসামান্য হেসে,
উত্তর দিতে ইচ্ছা একদমই করে না ।

তাহলে অন্য প্রশ্ন করি, কেমন !
ভালবাসার বয়স কত হলো তোমার ?
এবারে সত্যিই মুখ হাঁ ।
উত্তর জোগাবে কি করে ?
দশ থেকে একশো, যাই হোক সংখ্যায়
ভালবাসার যে
শরীরের কোনও বয়সেই বয়স বাড়ে না !

তাহলে, দিল খুলে 
একচোট খেলা হয়েই যাক, নাকি ?
খুল্লম-খুল্লা খেলতে বলিনি তাবলে ।
হাঁপানোর অবসর 
যদিও জুটেই যাবে শেষমেষ ।
হয়ে গেলে, চোখ তুলে 
পারবে না, জেনো, বলতে আবার -
"লজ্জা করে না ?"

হাঃ হাঃ হাঃ !

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২২

পলাতক

একের পিঠে এক অভ্যাসের ইঁট 
আসক্তির আঠা দিয়ে জুড়ে জুড়ে
ক্রমশঃ ঘর বানায় মানুষ
আজন্ম নিরাপত্তার চাহিদায়
কখনো কখনো বহু বছর ধরে ।

অথচ, তেমন যতনে গড়া 
সোহাগের আবাসনখানি
এক ঝটকায় ছুঁড়ে ফেলে
সম্পূর্ণ অনিশ্চিতের তাগিদে
সহসা বেরিয়ে পড়ে - সেই একই মানুষ,
বুকের গভীরে একবারটি তার
ভালবাসার বেসামাল সুরটি 
আকুল হয়ে ডাক দিলে ।

চেতনার নিগূঢ়ে লুকিয়ে থাকে
সুপ্ত কারুবাসনা প্রতিটি মানুষের ।
সহসা ঘুম ভেঙে 
নিজেকে তখনো অতীতে দেখতে পেলে,
প্রতিবেশ পাল্টাতে চায় তার ।
অদূরে বাঁশির আবাহনও প্রকট হতে হয়
ফের তাকে 
টাটকা ও নতুন সবুজে গড়ার 
চৌম্বক মরীয়ায় ।

অলখে সাড়ার তাড়া 
বাধ্য হয়ে, শিকল অবধারিত ছেঁড়ে,
প্রেমাস্পদের হাতটিতে 
অধিকতর নির্ভরতা খুঁজে পেলে ।
.

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

The Racing Car Driver

During scheduled executions of the purposes of life, whatever, it requires every time a commitment for maintaing an irresistible toughness. 

It has to have an element of ruthlessness, purely masculine in nature. 

This particular side of one's strength of character is applicable to convincingly discipline and raise one's own competence only and is never applicable upon somebody else, whoever. The latter propensity is purely accident prone and disastrous. 

On the other hand, no transformation in real life is a game of soft toyes, i.e. those who, before duties, can't arrest their habit of extending compassion to themselves, can never attain required agility and perfection to defeat time and become a master executive of serial successes.

Self indulgence delivers imbeciles only, at the maximum, while toughness is seriously needed in life, purely for internal applications and nothing else.

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২

সখের প্রলাপ

এধরার ধারায়
যে কোনও দুটি মানুষের দিশা
কদাপি হুবহু এক হওয়ার নয় ।

ভালবাসা তবু না বলে জন্ম নেয় 
একের তরে অপরের পরাণের ঘরে,
প্রতিটি জীবনকে আপন সাধনে 
সুগত করার মঙ্গল কামনায় ।

তৃষ্ণা 
আহরণে ব্যস্ত থাকে ।
আহরণ মানে বরণ হতেও পারে 
তবে, হরণ সর্বদা নয় ।
রাধার যাপন-অভিধানে
সংবেদনের তলে তলে 
অচিন রহস্য-যোগে
জল কেবল
গভীরতায় বাড়তে থেকে
ক্রমশঃ কৃষ্ণ-অতলকে খুঁজে পায় ।

কৃষ্ণ তখন কি অন্যমনে
আর সুনিধি তার
স্মিতহাস্য সহযোগে 
অতীব ব্যস্ত
করজোরে দয়া ভিক্ষায় ?

বিদ্বানে ফেটে পড়তে শুধু বাকি 
দরিদ্র পৃথিবীর ।
সত্য চিনতে কয়জনা পায় ?

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২২

Enlightenment

LOVE is the most magical device
For growth
That provides you
With two inevitable options.
The choice is, of course, only yours.

Either #get_wounded
Or #become_wise.
Over.

( By the enlightenment from Sadguru's wisdom )

লাভ

সুখের বাস পরের ঘরে ?
চোরের পারা, অতি সন্তর্পণে, 
প্রত্যাশা পূরণের অভিসারে ?

স্থায়িত্ব-জনিত শান্তি
আদৌ জোটে না যে অধিকারে,
প্রকারান্তরে, অনিশ্চয়তার প্রাবল্যে,
কেবল উৎকণ্ঠা যখন 
একতরফা জ্বালিয়ে মারে,
তেমন কুহকিনী আশাকেও
অতীব লোভনীয় দেখাতেই পারে ।

যাপনের অপর পারে
যতক্ষণ
কল্পনার জগতে, 
বিশ্বাসের জগতে,
চিন্তা-ভাবনার জগতে
আবেগের বেগে
অনুভবের পরিসরে
সুন্দরকে, মরীয়া হয়ে,
অধিকতর খুঁজে পাওয়ার তাগিদে
মানুষ নিজেকে
আপ্রাণ কর্ষণ করতে পারে
একনিষ্ঠ সমর্পণের পরিসরে,

ততক্ষণই বাঁচার মত বাঁচে 
আপন অন্তর হতে 
সুখের পরশ-যোগ্য উৎসারণে
সতত খুশি মানুষ
শুদ্ধ সৃজনশীলতায় প্রাপ্য অধিকারে ।

আপন সৃষ্টিরা, অতঃপর,
প্রকাশ্যে মেডেল হয়ে দোলে 
স্রষ্টার গলার হারে
আর জীবন হতে, দেখ-না-দেখ 
প্রভূত হাসি কাড়তে পারে ।

Human BEING

What is the basic difference between man and animal ? 

Animals can react only, they are thus driven mostly by first reactions, but only man knows how to control first reactions and convert a tendency of mere reaction into a positive and useful response that may push him forward in life in attaining higher power and control.

Animals have no idea of growth through self transformation, but man, by his ability of ceaselessly BEING and BECOMING, keeps on transforming himself through generations and grows into a worthier species on earth . 

That's precisely why, not like rest of the animal world, a man is called a human-BEING and thus, only man knows how to be judicious, the art of being RESPONSIBLY RESPONSIVE. 

Do you remain aware of this subtle trait of yourself too, every now and then and always ? If yes, keep confidently smiling. Being more conscious implies being more spirited and alive. Cheers !

( In light of Sadguru's wisdom )

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২

সংকীর্ণ

"কেবলই নিজেকে নিয়ে 
এবং অযথা ইনিয়ে-বিনিয়ে" !

আটকে আছে বৃহত্তম ব্যস্ততার জগৎ
কুয়োর ব্যাঙের অপার মহিমায়
"আমি ও আমার"
এই তুচ্ছাতিতুচ্ছ মূর্খামীটুকুতে
নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিয়ে ।

শ্শ্লা ! কানার জিন ।
এত্ত বড় দুনিয়া 
আর তার সুন্দরের 
এত এত রূপে নিয়তঃ উদ্ভাস
আর তার প্রভূত সম্ভাবনা
ধরাই পড়ে না পোড়াচোখে ।

দৃষ্টি গভীরে না মেলে,
জীবনে 
আপন বিবর্তনের দায়
সামান্যতমও না নিতে চেয়ে,
এসেছে জগতে শুধু
আত্মরতিকে 
দুর্লভতম অভীষ্ট জেনে,
খাড়া-বড়ি-থোর 
আর থোর-বড়ি-খাড়ার
অবশ্যম্ভাবী একঘেয়েমি
উদযাপন করতে করতে,
নিজেকে অনুপযোগী প্রমাণ
নিঃসন্দেহে সার্থক হলে, অবশেষে
বিস্মৃতির অতলে যেতে হারিয়ে 
কিছুমাত্র নিষ্কর্মা পরিসর পার করে ।
.

সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২

খেলতে খেলতে

কাজটা যে বিশাল কঠিন - এমন নয় ।
আসক্তির উপরে 
ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ থাকলেই হবে ।

অন্য একটা মানুষের ভিতরে ঢুকে
হুবহু তারই মত করে
তাকে বুঝতে পারা কে 'অনুভব' বলে ।
মায়ের প্রাণ হামেশা পারে 
আর পারে বিরল শিল্পীরা,
নিজেরই আঁকার ছবি 
আঁকতে আঁকতে,
অথবা অভিনীত চরিত্রের মধ্যে
নিজে বার বার ঢুকে পড়ে ।

ধরে নাও - এমন মানুষ তুমি নিজে,
যার জীবনে কষ্ট অনেকই আছে,
কেবল যা নেই, আসক্তি-বিনে,
সে হলো দুঃখের দীর্ঘশ্বাস এবং ফলতঃ,
পরের প্রতি অভিযোগের পাহাড় ।

তুমি তারপরও যা পারো, সে হলো -
মনে মনে, কারণ সহযোগে
নিজের একটি দুঃখের ছবি এঁকে
তার মধ্যে ঢুকে পড়ে
তাকে অবিকল বাস্তবে অনুভব করতে 
আর তেমনটা সত্যি পারলে, দেখবে - 
না বলে হঠাৎই বন্যা ধেয়ে এল নয়নে,
ঠিক যেভাবে মঞ্চে কেঁদে ফেলেন শিল্পী
অবিকল ঝর ঝর ক'রে !
তফাৎ পাবে না তখন খুব একটা বড়
অন্যদের দুঃখের অভিজ্ঞতার সাথে ।
মানুষ ভাবতেই পারে, "আহা রে, না জানি
কোন অভিশাপ নেমে এল জীবনে ।"

পরে যদিও, ফের অতীতেরই মত
সুখী হয়ে শুতে যেতে পার রোজ রাতে ।

অপনোদন

নারীর পারা পুরুষও প্রেমে পড়ে ।

যে কোনও প্রকার প্রেমে পড়ার কালে
কোনও না কোনও ভাবে
অসহায়রূপে, বাধ্য পরিবাহিত হতেই হয়
পরিস্হিতির 
অথবা অপর মানুষটির ইচ্ছানুসারে ।

তুমিও প্রেমে পড়তে চেষ্টা করতেই পারো ।
তবে, দৃষ্টি স্বচ্ছতর হলে
আপন নিয়ন্ত্রণটি এতকাল পরে হঠাৎ 
অপরের হাতে অর্পণ-জনিত
অস্বস্তির কালে
বোড়ে সেজে, সেধে গজের গোড়ায় এলে
বেশ জোরসে হাসি পেয়ে যেতে পারে ।
তবু চেষ্টা তো কর ।

কর্তিত

"ও কথাটি আলো হয়ে
গেঁথে রয়ে যাবে বুকে অতঃপরে,
যদি একবার উচ্চারিত হতে পারে
মেঘের সুরে, হুবহু মন্দ্রস্বরে,
যথা-লগনের বকলমে
এবং সার্থক আকস্মিকতার উপচারে,"

সম্ভবত, ঠিক এমনটিই আশা করে
ঝড়-জলের প্রতিটি বাধা 
নীরবে পার করে
পায়ে পায়ে
এসে চলা আজও
অপ্রতিরোধ্য অনুসরণে
ক্রমশঃ নিকটতরে ।

নিশিথ-শিশিরের ভারে
ক্রমাগত সিক্ত হতে হতে
অসহায় বৃন্ত 
আরও কিছুটা নুয়ে এলে পরে,
শিকারকে শেষ অবধি 
কব্জায় পেয়ে যাওয়ার উপক্রম হ'লে,
সুদীর্ঘ অনাহার
একতরফা সয়ে, পার করে,
জিতে যাওয়ার উল্লাসে
কখন যে আপদের পারা
অবধারিত হেসে উঠবে 
শীতলতর শ্বাপদ
তোমার আমার রসায়ন হতে
অপ্রতিরোধ্য অভিসারে,
সে কে, কবে, কোন সুবাদে বলতে পারে ?
.

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২

জুড়ে যাওয়া

মানুষ তো প্রথমেই জান্তব আসক্তিতে,
দেখ-না-দেখ, শরীরে আটকে প'ড়ে,
দিবস-রজনী গোলাকারে ঘুরে মরে ।
সবচেয়ে বোকারা তাই শুধু শুতেই পারে ।

তেমনটি না হলে, দুজনে মিলে 
জীবনকে গোছাতে চায় সুন্দরতরে
ভিন্ন পরিবেশ তৈরী ক'রে 
মন মনকে চিনতে পারে অধিক নিবিড়ে ।
তবে, মনও থেমে পড়ে আপন সীমার দ্বারে
লাভ-লোকসানের মুহুর্মুহু হিসেবের অত্যাচারে ।

না থামলে, সে ভিন্ন জগতে হারাতে পারে,
কোমল পরাণটি যখন অভিযোগহীন আর
কপোত-কপোতী কেবল মধুরে নিমগ্ন 
পরাণের ঘরে, উদার সম্প্রীতির অভিসারে ।
অনুভব বুঝতে পারে, অপর কেউ বাহির হতে
দেয় না অধিকার নির্নিমেষে ভালবাসিবারে,
উৎসটি অপেক্ষায় থাকে কেবল আপন অন্তরে ।

আরও একটি জগৎ অবশিষ্ট থাকে উন্মোচনে ।
হ্যাঁ, তারও ওপারে ।
একাত্মতা, তথা অভেদের বিরলতম আশীর্বাদে 
প্রশান্ত ও ফলতঃ মৌন সাধারণতঃ যারা,
তারা অচেনাই রয় । একদমই বেশি জোটে না রে
আদর্শ উদাহরণ হতে । বরং আড়ালেই থাকে
স্থুলময়তার অদূরে অবধারিত-আটকে-পড়া 
মূলতঃ এ মোহের সংসারে ।

ফুলের সুবাস অদ্ভুত স্নিগ্ধতায় পাল্টাতে পারে,
মানুষে মানুষে, আপন পছন্দের গলার হারে ।

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২

Certify

Every incomplete act
Large or small
Is another cheating 
By beating the conscience
And putting it in shallow hide
And thus,  remains a definite crime.

Not competitions, but
Completions are ever divine.
One has to learn afresh
How to hear the chime 
Inside heart
With deeper pride.

One has also to learn
To celebrate internally
By rewarding the acquired shine
Everytime
With a compulsory abide

And fill up 
All minor nooks of life
With residual smiles.

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২

হয়

সুখ আর আরামের বিবশতা
যতটুকুই হোক না কেন,
অবসন্ন আর 
জড়ই করে আখেরে ।

খুব যদি ভালোবাসো,
তবে, সাময়িক তৃপ্তির ক্লেদে
লক্ষ্য কে গুলিয়ে দিয়ে
ভুলিয়ে রেখো না 
অবনতির নিঠুর ছলনায় ।
বরং সর্বাঙ্গ তার
উন্নতির যথাযথ সুবাসে 
ভরপুর ভরে উঠুক, - চেও ।

কষ্টের একনিষ্ঠতায়
যোগ্যতা-অর্জনের দিশায়
বিকাশের উৎসবে
নিয়ত হাসি-মুখের -
'হাঁটি হাঁটি পা পা'-য়
দিনে দিনে দূরকে নিকটে পাঠিও ।

ঔজ্জ্বল্যের নিগূঢ় তাগিদে
আপামর নিজেকে
উত্তরোত্তর উচ্চতায় বাড়তে দিও ।

সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

Empower

That may keep you consistently happy, in reality, who or what loves you the most and everyday, without fail.

Can you ever fetch steady happiness by being a love seeker externally ? The answer is NO.

Let me repeat the same question once again, with a little twist. Can you ever fetch steady happiness by being a love seeker internally ? Now the answer is a sanguine YES.

Then how ?

Well, every single good habit you consciously form by compelling repetitions of 66 days, the bare minimum, turns into the most faithful caregiver to definitely add more residual smiles to your everyday life.

A ceaseless urge for improvement is what matters most. Whatever you do , there must be some active effort, some actual energy investment for improving the quality of your every action. You have to do it always to 

1. Discover a better way of doing the same thing that you perform everyday. Very interestingly, being vibrant, more and more, it then never ever feels monotonous.

2. Invent by any means, at least, one more fresh activity to add to, that may invariably turn your everyday life into a better work of art than yesterday. It means growth. This goal involves required passion of youth that contributes to sheer renewal of celebration, mandatory for a habitually happy human being. 

When you love each of the powerful habits with enough passion, let your accumulation of care-giver habits keep providing you, like the trusted mother, enough emotional security and balance that you may recall every night before sleep with pure pride and regard.

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

বাহক

অঢেল নিবেদন, অজস্র সমর্পণ
সবাই মজুত ছিল 
জনম সার্থক করার অপেক্ষায় ।
অথচ সব মোহ-মায়া ছেড়ে
যাত্রা করেছে অজানিতের পথে,
এমন মানুষ একজন নয়,
অনেকেই ইতিহাসে আছে ।
কিন্তু কেন ? কোন অমূল্য অভিলাষে ?

নিজেরই দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও
প্রিয়তম ভালবাসার প্রশ্রয়কে
তীব্রতম যন্ত্রণা সহ্য করে
আপন কলজে হতে ছিঁড়ে
রেখে চলে যায় পথের পাশে 
কোনও এক বাঁকে ।

মানুষটির বাইরের খোলটি
স্থবির অতীত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।
বর্তমান নিঃশব্দে 
নিজেকে নতুনে পাল্টে নিয়ে
রওনা দেয় ভবিষ্যতের পথে ।

এমন ব্যতিক্রমী যারা
তাদেরই কিন্তু 
চিরকাল সবচেয়ে একা হতে হয় ।
ধূ-ধূ বরফের রাজ্যেও অবিচল
এক-একটি একক চরৈবেতি ।
এদের নিকটতম সঙ্গী 
ও সমঝদার সুহৃদ একমাত্র
সদ্য পরিত্যক্ত আপন অতীত সত্তাটি, 
এর অধিক আর কেউ বিশেষ নয়।

কানাইয়ের গোকুল ছাড়ার পরে
আর কোনও নতুন গল্প নেই রাধার ।
আর গৌতমের বেলা ?
সে আর কি নতুন করে বলার ?
কেন আসে এরা, এ ধরায় ? 
কেনইবা না বলতেই ভালবাসে ?
ভালবাসা শেষে কী খুঁজে পায় ?
নিরাসক্তি এ অবধি কেন যে ধায় !

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

অধিকার

"সে" - তুমিও নয়, 
আবার "সে" - আমিও মোটেই নয় ।
অথচ "সে" সর্বদা আশেপাশে ঘুরঘুর ক'রে
আমাদের থেকে 
সন্তান-সম মমত্ব অবিরত কাড়ে ।

ভালবাসার জল সকাল-সাঁঝে
নিয়ম করে রোজ পেয়ে গেলে
"সে" চনমনে সবুজ থাকতে পারে ।
"সে" আদপে কোনও গাছ নয়,
অথচ বৃক্ষের মত আশ্রয় দেয় 
সময়মত
শান্তির সুনিবিড় ছায়া-সহকারে ।
আবার রোমান্টিকতাও চাই তার,
ফাঁক পেলেই, ব্যস্ততার প্রহারের প্রহরে ।

তার প্রতি যত্ন যত বাড়ে আমাদের,
"সে" তত সুখী রাখতে পারে 
দুজনকেই অধিকতর হারে ।
নিজে "সে" সবচেয়ে বেশি সুখী হয়
নিত্য-নূতন অন্তর্মুখী আবিষ্কারে
পরাণে, বিশ্বাসের প্রসারে, 
পুরোনো হয়ে যাওয়াকে
না বলেই পেরিয়ে যেতে পেলে ।

একজনকে, অপরের হৃদয়ালোকে, 
প্রতিবিম্বে অবিকল তুলে ধরতে
"সে" ঝকঝকে আয়না ধরে,
যে আয়না অসাবধানতা-জনিত
অপমান, অবহেলা আর অযতনে
আচমকা চুর-চুর হয়ে ভেঙে যেতে পারে ।
নরম হাতে ধরলে আবার 
বড় ভাল থাকে,
ভাল রাখে আমাদের 
অবিশ্রান্ত হারে বাড়িয়ে ধরা উপহারে ।

খোলা চোখে দেখা যায় না তাকে,
ছোঁয়াও সম্ভব নয় পার্থিব আঙুলে ।
সম্পর্ক "সে" - তোমার আমার,
জীবনের শ্রেষ্ঠতম আশীর্বাদ,
যাপনে মূল্যবানতম হওয়ার আর
হামেশা মুখোমুখি খুশিতে 
মাল্যবান থাকার সহজাত অধিকারে ।

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২

আক্ষেপহীন


প্রীতম স্যার, ক্লাসের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে,
মোটা ফ্রেমের চশমার ফাঁকে 
চকচকে চোখে যেমনটি তাকাতেন
এক চিলতে হাসির দুষ্টুমি 
বুক থেকে বুকে ছড়িয়ে দিয়ে,
রাতে শুয়ে পড়ার পরে 
মনে পড়বে না সেকথা আর,
তেমনটাই স্বাভাবিক ছিল, এমন নয় ।
ক্লাসের ফার্স্টগার্ল হলে 
প্রিয় পুরুষকে ভেবে স্বমেহন অন্যায়
তেমনটা কে বলেছে ভাই ?

অথচ এমন দীর্ঘদিনের অভ্যাস,
( সু না কু বলবে - সে তোমার দায় )
চলেই গেল তোমার প্রেমে পড়ার পরে ।
পাগল অভিমান কী আর করে ?
তোমার কাছে যা ন্যায্য দাবী,
রয়ে সয়ে, রসে বসে, না আদায় করে
তা কি লুকানো আপোষে 
স্বার্থপরের মত একা নিজের কাছে কেউ
চুপিচুপি চাইতে পারে ?

ভাল কে বাসে

খুঁজতে হলে, অনুভবে খুঁজো ।
খুঁড়তে হলে, পরাণে খুঁড়ো মানুষটিকে ।
পরাণে কুৎসিতের বাস থাকে না কারও ।
বিবেকের শুভ্র সাহচর্যে কেবলই সুগন্ধ
আর মধুর স্বাদ পাবে সেখানে ।

মানুষকে খুঁজতে যেও না কখনো
তার মনে ।
সেখানে শুধু স্বার্থ গজগজ করে ।
যত ধান্দাবাজি আর সুবিধাবাদের চর্চা
করতে পারে মানুষের ওই হিসেবী মন ।
মনটি আদৌ বিশ্বাসের যোগ্য নয় তাই ।
প্রলোভনের চাপে পড়ে, সুযোগ পাওয়ামাত্রই 
সে তোমাকে ঠকিয়ে দিতে পারে ।
যে কোনদিনও ঠকাতে পারে না
সে হলো মাতৃসমা-মমতাময়ী পরাণটি মানুষের ।

যে মানুষই হোক,
মানুষটি কখন, কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত,
এটা খুব সাবধানে খেয়াল করার বিষয় ।
সে নিজেও খেয়াল করে না, অথচ
একই মানুষের মধ্যে
একই সময়ে দুটি মানুষ বাস করে ।
সময়মত আলাদা করে চিনতে জানলে 
আর ভয় নেই কোনও,
না চিনলে, একদিন
আচমকা বিভৎসভাবে ঠকে যাওয়ার
সম্ভাবনা থাকতে পারে ।
.

মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২

বিরল

কিছুই পারি না, এমন তো নয় ।
লোকে বলে, ভালই গান করি ।
ছবি আঁকার হাতও মন্দ নয় ।
আর আমার ঘর সাজানোকে
ঈর্ষা করার মত মানুষও যে কম, তাও নয় ।

প্রতি শনিবার রাত সাড়ে আটটায়
যে রান্নার ক্লাস নিই, লাইভে এসে,
সেখানে দর্শক সংখ্যা একশো ছাড়িয়ে যায়
পনেরো মিনিট পেরোনোর আগেই ।
ফেসবুকে আমার লেখা কবিতায়
লাইক ত্রিশ থেকে 
দেড়শোর আশেপাশে থাকে ।

সবই ঠিক ছিল । তবে কিছুদিন হলো
ভুগছি বিবেকের দংশনে, 
তীব্র হীনমন্যতায় ।
কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না সেই রাস্তাটা
যে পথে সময়কে নিমেষে
অমূল্য সম্পদে পাল্টে দেওয়া যায় ।

যাদের এক একটা আঁকা ছবির দর 
আরামসে সত্তর হাজার ছাপিয়ে যায়,
যে গায়ক অথবা গায়িকা 
একটা মাত্র গান রেকর্ড করে 
লক্ষাধিক টাকা কামায়,
অথবা যে রাঁধুনীর বেতন 
মাসে পাঁচ লক্ষের বেশি,
তেমন একজনেরও স্তরে 
অনায়াসে উঠে যেতে পারি না ব'লে,
কানের পাশটিতে এসে
আমার যোগ্যতা, আমাকে 
উঠতে বসতে
বাঁজা আর কূপমণ্ডূক বলে গাল দেয় ।

রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২

সচরাচর মামলা হয় না

শরীরে বলতেই পার,
তবে মানসিক স্তরে 
নারী 
পুরুষ অপেক্ষা দুর্বল আদপে না ।
নারীও দিব্যি অপরাধ করে 
অধিকতর মানসিক শক্তির জোরে
এবং হামেশাই নিয়মিত হারে ।
তবে গৃহাভ্যন্তরের সে অপরাধে 
সচরাচর মামলা হয় না ।

একজন পুরুষ 
স্বেচ্ছায় যতটা দিতে পারে অথবা চায়,
তার থেকে অনেক বেশি দাবী করা,
আপন চাহিদানুসারে
জোর করে দুয়ে নেওয়ার অভিপ্রায়ে
নানা অভিযোগে ক্রমাগত দুষতে থেকে
কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি ক'রে,
শোষণের বহুমুখী কুটিল প্রচেষ্টা করা
নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে অপরাধ না ?
পুরুষ যখন 
চরম আত্মগ্লানির বলি হতে থাকে ঘরে ঘরে
কল্পলোকের কবি তখন ফুল ফোটার সাথে
নারীর অপার পেলবতার তুলনা করে ।

অথচ, সব সহমর্মিতাকে ছাপিয়ে
যখন জেগে ওঠে
স্থিরলক্ষ্য আত্মকেন্দ্রিকতা,
যখন নারী-মনের অক্টোপাস 
ক্রমশ শক্তি বাড়াতেই থাকে
মানসিক স্তরে
একে একে আটটি মরীয়া শুঁড়ে
পুরুষটির ইচ্ছার উপরে 
পুরোপুরি দখল নিতে,
যখন পুরুষ হাঁসফাঁস করতে থাকে
নিরুপায় হয়ে 
তার সহজাত স্বাধীনতার 
একটু একটু করে 
চোখের সামনে দমবন্ধ হতে দেখে,
আর নারী যখন পুরুষের ইচ্ছার 
বুকের উপরে চেপে ব'সে,
লক্ষ্যের ক্ষীর পুরোটা নিষ্কাশনের আগে
কোনওমতে ছাড়ার বান্দাই না,
তাকে তখনো প্রেমের কর্ষণ বলবে তুমি ?
ধর্ষণ বলবে না ?
.

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

The Celestial Right

A relationship is a second hand affair
Where you have to depend on
Somebody, outside you,
For it's mere existence.

It is just like an infatuation,
Another tendency, purely second-hand,
When you crave for possession
Of somebody in reality
By one form or the other.

But love is always independent,
Thus, obviously first hand,
A joyous flowering, inside heart,
For someone
Who may not even know of it.

Love is a true self exhilaration
And right for an unabated growth
Of bright green
And thereby, celebration of one' own
Freedom of spirit
Without dependence of any type
On any damn one.

Obscenity

She heard that four letter word 
Several times and knew 
It as a habitual slang
Used every now and then by men only.

Once she came back home 
From school in unexpected hours
And found her mother 
Being vigorously done, in reality,
By one younger neighbour,
While the former was 
Competitively responding from bottom
With encouraging, amorous cries.

She, though extremely shocked,
Didn't disturb them
And silently ran away out.
But, since then,
Her life was permanently disordered
By the unforeseen animal in her mother
And she unfortunately lost 
The basic respect for all goodness
Together with
The natural harmony of her mind
For the rest of her life.
.

মায়ের শঙখলাগা প্রেমিক যারা দেখে ফেলে
তাদের জীবনের মাঝখানে আগুন জ্বলে যায়
সারাদিন হাত ধোয়  ঘসেঘসে চামড়া তুলে ফেলে
 চোখ দুটো জ্বলে.. 
জলে জলে ভরে যায় শ্যাওলা চোখের উঠোন
তবুও  কি নিষ্কৃতি মেলে!  

যে জীবন ঘেন্নার, শ্বাপদের 
যে জীবন শুধুমাত্র বয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শেষপর্যন্ত যাওয়া...
সেইতো উন্মাদ! সারাদিন অভিশাপ, " মর" 
নিজে তবু মরেনা কিছুতে ! 

অকারণ  এ হেনস্থা সহ্য হয় কার!  
মনে হয় সারা গায়ে সাপের থুতু লেগে আছে, ঘেন্না হয় 
আজকাল ঘেন্না ছাড়া কোনো রঙ সেভাবে ফোটেনা 
 সমস্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কাদা রঙে বদলে যায়,আ মরণ! ন্যাকামি বোঝনা! 
 এইসব রমণ প্রহার.... 
নোংরা বড় নোংরা মনে হয়।

 আমার প্রেমিক নেই। প্রেমিকেরা দেহকাতর,এই দেহ স্পর্শ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছি। শোনো! তোমরা শুনে যাও
যে মেয়েরা,মায়ের রমণ দেখে ফেলে, 
তাদের জীবন পুঁটলি বেঁধে মৃত্যুর মুখে ছুঁড়ে ফেলা ভালো 
যদিও এসমস্ত নাটক আমি পেরিয়ে যাচ্ছি অনায়াস,অবিকল অসংলগ্ন উন্মাদের বেশে....

আচ্ছা বলো! এরপরে কী লেখা হবে! 
চোখের সামনে প্রস্রাবের কটু গন্ধমাখা কাঁথা রেখে এগিয়ে গিয়েছে
 মা নামের সুচারু প্রেমিকা,
লোকে বলে আমি তার মৃত্যুবীজ নিয়ে ঘরে এসে হঠাৎ জুটেছি
মায়ের প্রেমিক বাবা নয়, অথচ সে খাদ্য জুগিয়ে যায়, অথচ সে কিছুতেই আমাকে মৃত্যু পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেনা...

আমার প্রেমিক নেই। কেননা মৃত্যুবিলাসী আমি অন্য মৃত্যু চাইনি সেভাবে 
আসলে  পৃথিবী পুরুষ শূন্য
 অথবা প্লাস্টিকের কাঁটাওলা  সমস্ত পুরুষকে আমি মনে মনে  ঘেন্না দিয়েছি।

 চারিদিকে শকুনের ছায়া 
ছায়ারও অসংখ্য ছায়া 
নুয়ে নুয়ে আসে, আমার শরীরে কথার চাবুক কেটে বসে 
আমি সেই থেকে বসে আছি 
নাওয়া নেই খাওয়া নেই মৃত্যু নেই 
কাঁকরমাটিতে থেবড়ে বসে আছি
 ও মৃত্যু এসো! এইখানে বসো! 

আমার উপরে কেন  বিষের প্রয়োগ
 হল না ! বলো! আমারই উপরে 
কেন এত গবেষণা! 
 বলো ! আমিই একমাত্র দোষী!
 তবে এই জন্ম অসাড়, হড়াৎ করে কেন নেমে আসে এ জন্ম এই গর্ভস্রাব!
 ঘেন্না করো প্রতিদিন আমাকে ঘেন্না করো।আমি সেই মেয়ে, না চাইতে মায়ের প্রেমিকা রূপ যে দেখে ফেলে...

ওগো জন্মদিন! এরপরে এতল্লাটে একবারও এসোনা। কুরুক্ষেত্র হবে 

সময় অস্থির বড় 
কর্কটের চেয়ে মূর্খ আছো কেউ! ছুঁয়েও ছোঁওনি যাকে! এজীবন আজকের নয়, বিষিয়েছে বহুযুগ আগে

পাশে কাউকে না নিয়ে কীভাবে হেঁটে যাবে 
 গোটা একটা মাঠ!একটা জীবন
 মাঠের চেয়েও বড় যদি, পানশালাতে চলো 
বেহেড মাতাল হব। চিৎকার করে
 লিখতে চাই এ পৃথিবী ভণ্ডের দেশ, 
 কিছুটা কৈশোরে একদিন মুছে গেছে মস্তিষ্কের ভারসাম্য... 
সেই থেকে অবিশ্রান্ত চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে এজন্মকে এই আধখাওয়া ছেঁড়া শরীরকে নিকৃষ্ট খিস্তি দিয়েও 
নিজেকে জুড়োতে পারছিনা, ফুরোতে পারছিনা   ...
ওহে মৃত্যু এ বেজন্মা জন্ম আমার
তোমার চেয়েও কুৎসিত কদর্য অর্থহীন 
আরও কত বেজন্মার জন্ম হবে বলে এই সময় সময়ের সাথে  শঙখ লেগেছে

চূড়ান্ত কিছু নাহলে এ অশান্তি কিছুতে মিটবে না 
এসো বিষ, মৃত্যুও এসো এ কুয়াশা দীর্ঘ জমাট হোক

অস্থির সময়ের কবিতা ২
©অরুণিমা চৌধুরী
.

বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২

The Unpredictable

Want predictable fun ?

Tempt habitual critics
With a mystic piece of nun.
( Second handers being the most readily available parasites on earth, won't be able to resist reactions.)

Pamper till f_ck and shun.

Sounds inhuman ? Yet you can.
Well, its not deep winter now,
But only mid-autumn. 
;)

সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২২

বর্জ্য যার যার তার তার

সুন্দর হতে তো সবাই চায় ।
তবে, একই মানুষের পক্ষে 
তার সবচেয়ে সুন্দর ভার্সানে
নিজেকে ধরে রাখতে পারা সহজ নয় -
সুদীর্ঘক্ষণ ।

যখন যেটুকু সচেতনে
সুন্দরের উদ্ভাস দেখা দেয় আপন অন্তরে, 
সেটুকু ভাগ করে নিতে চাইলে
মাঝে মাঝে অবশ্যই
আমার দরজায় টোকা দিও ।

সাড়া দিয়ে, কপাট খুলে দিলে
কিছুটা সময়, নিজেরই মনে করে, 
আমার সাথে, যেমনটি চাও, 
দুই সং এ মিলে 
জীবনের সার খোঁজার বাহানায়
মাতাল হতে হতে
উথাল-পাতাল ঘর করে যেও ।
তোমার এযাবৎ সুপ্ত ইচ্ছার খেলনাবাটি 
ভাগ করে দুজনে মিলে খেলার মাঝে
আমিও আমার সেরা সুবাস
বেছে বেছে ভরে দেব পরাণে তোমার ।
স্মৃতির সঞ্চয়ে তার, রাশি-রাশি,
খুশি-হাসির সুখ মিলতে পারে অনুক্ষণ ।

অধিকার 
কুক্ষিগত করতে চাওয়া মানুষদের
কোনওকালে ভাল লাগে না আমার ।
সম্পত্তির মত কিনে নিতে চেও না তাই ।
চব্বিশ ঘন্টার 
"জী-হুজুর" ক্রীতদাস খুঁজলে,
এদিকে নয়,
অন্য কারও কাছে বরং যেও ।

অনাকাঙ্খিত তিক্ততাদের জন্যও
সময় বরাবরই অপ্রতুল ।
অভিযোগের বদভ্যাস থাকলে
ফের একা হওয়া অবধি অপেক্ষা করো ।
অতঃপরে তিক্ততার তীব্রতম বিষে 
খাতার পাতাকে কলমের চাকুতে
আপাদমস্তক জর্জরিত করা 
পুরোটা হয়ে গেলে,
আবার সুন্দরের পানে ফেরার আগে
মমতাভরে, হাত ধরে,  নিজে নিজের 
টলে যাওয়া সামলে নিও ।

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২

আলো

বাড়িতে বসে বিদ্যুৎশক্তি পাও
প্রয়োজনানুসারে ব্যবহারে,
পাওয়ার প্ল্যান্ট অনেকটা দূরে
চুম্বকের উত্তর আর দক্ষিণ মেরুকে
পাশাপাশি এনে, মিলতে না দিয়ে,
দুইয়ের মাঝ বরাবরে
সুপরিবাহীকে বারংবার 
প্রবল গতিতে আবর্তিত করে ব'লে ।
পদার্থবিজ্ঞান ডায়নামো বলে তাকে ।

বিপরীত বক্তব্যে অসংগতি খোঁজো ?
বিপরীত ধারণাদের পাশাপাশি এনে
আপন চিন্তনে 
দ্বন্দ্ব না যদি জাগাতে পারো তীব্রতরে, 
তবে সত্যের সহসা ঔজ্জ্বল্য
তোমাতে সহাস্য প্রতিভাত হওয়ার
সুযোগটুকু পাবেই বা কী করে ?

না না, এমনটা ঠিক না । 
এ মন বড় মাসুম । 
পাখির বুকের মত নরম ।
তাকে এমন কঠিন প্রশ্ন করো না ।
বরং বাঁচুক জন্মান্ধ অন্ধকারে ।
সরলতা বুঝি 
বাস্তবের কষাঘাত সইতে পারে ?
.

চাতাল-চুম্বন

পাহাড়র অনাবিল ঔদ্ধত্য বেয়ে 
তরতরিয়ে নেমে এলে 
সমতলের নিরাপদ সফরে ।

অতঃপর, ফের সেই আটকেই গেলে
গভীর ঘূর্ণীতে, নাভিমূলে ।
ঘনজঙ্গল যদিও নিবিড় অপেক্ষায় ছিল
তার যৎসামান্য পরেই ।

আগেই সর্পিল ভয়ে দমে গেলে,
পাতার আড়ালে লুকোনো 
দেদার ঝরণায় 
অনুরাগের বিলম্বিত লয়ে
ক্রমশ মাতাল হতে হতে
পাতাল-অবগাহন 
করবে আর কী করে ?

শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০২২

Opportunities Unavailed Of

Number of choices 
Is the greatest blessing 
That a human being may readily have, 
While it remains pretty limited 
For any bare animal.

Whenever one is stuck up, 
Taking an alternate route 
For any fixed destination,  
Becomes wisdom. 

The range of this wisdom 
Is really immense, 
For, 
One often has lot of alternatives, 
Out of which he generally tries 
Only one or two in reality, 
While the residual choices, 
Never tried, are always lot more.

That's, perhaps, how 
Elon Musk supersedes 
The unnecessarily poetic ones.
.

বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২

বর্ধিষ্ণুতার বোধ

আহা, কী গভীর দুঃখে ভরা এ জীবন !

অলস ও অলীক সুখ-স্বপ্নরা, 
নিরন্তর নৈঃশব্দ্যে, জোঁকের মত 
মনকে কামড়ে ধরে থেকে,
এ অবধি
প্রতিটি দুঃখের গোপন উৎস তোমার ।
নিদ্রা - দ্রুত ত্যাগ কর ।

নিঃসঙ্কোচে, কেবল আত্মবিশ্বাসের জোরে,
কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে অভ্যস্ত হও ।
কেবল সেই কাজ কর, যে কাজ করলে
আবশ্যিকরূপে 
নিজের প্রতি নিজের শুদ্ধ শ্রদ্ধা
অবলীলাক্রমে বাড়াতে পারো,
যার পরে
আয়নার সামনে দাঁড়াতেই, প্রতিটিবার
আত্ম-সমৃদ্ধির নিরঙ্কুশ অধিকারে
প্রবলতর প্রসন্নতা ও বিশুদ্ধ গর্ব অনুভব কর ।

মানবজীবনে, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও
উৎকৃষ্টতম স্বীকৃতির উৎস যে,
সে হলো আপন আত্মবিশ্বাসী-বিবেক,
বিবেকানন্দ সাক্ষাৎ প্রমাণ যার, 
চাইলে, মিলিয়ে নিতে পারো ।

বেকুব হলে, 
নিজেকে অযথা দীন প্রমাণ করতে,
স্বীকৃতি, পুরষ্কার রূপে - বাইরে, 
পরের নিকটে হাত পেতে ভিক্ষা কর ।

বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২

ভরা পাত্রে ঢালবে কোথায়

কোনও প্রত্যাখ্যানেই কি কখনো
জীবনের চরৈবেতি শেষ অবধি
স্থবির রয়ে যেতে পায় ?
যাপন, সহসা, পরিস্থিতির প্রহেলিকায়
বাধ্য একশো আশি ডিগ্রী ঘুরে গেলে
প্রতিবেশও সমূহ পাল্টে যায় ।
কি করে যেন
অভাগাদের জন্যও
তৃষ্ণার চাতক-সময়ে জলের গ্লাসে 
বাড়িয়ে ধরা করুণাও দিব্যি জুটে যায় ।

পথ হয়তো ঘুরে যায় পথেরই নিয়মে
ভিন্ন দিশার বাড়ানো হাত ধরে,
ভরা-কলস নেই যদি তখনো আর 
নূতন পরিনয়ের বাঞ্ছিত অপেক্ষায় ।

মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২

প্রাণের আরাম

তুমি কি সেই অবশিষ্ট জন
যাকে আমার খুঁজে বেড়ানো জনমভর ?

তুমি কি সেই মানুষ, যার জাদু-পরশে
আমি অবধারিত বদলে যেতে থাকি
অভীষ্ট সুন্দরতরে ?

তোমার মধ্যেই কি 
সেই বিরল যাপনের বাস,
যে, কোনও কথা না বলেও 
সবচেয়ে অনায়াসে বুঝে নিতে পারে 
প্রতিটি ইচ্ছা-অনিচ্ছা আমার ?

তুমি কি আমার সেই কমফোর্ট-জোন
যার সংস্পর্শে আসামাত্রই
জীবনকে আবশ্যিক সাবলীল আর 
হাসিকে সহজাত-রূপে প্রতিভাত হতে হয় ?

আচমকা জেগে ওঠা তীব্র প্রেম
স্থায়ী হয় না কখনো, - একথা চিরন্তন সত্য ।
তাহলে, কে তুমি
যার একঘেয়ে লাগে না, আমার সঙ্গ
ঘন্টার পর ঘন্টা, বছরের পর বছর ?
সহনশীল এবং অভিযোগহীন
কোন অবধি হতে পারে একজন মানুষ ?

তোমাকে বলতেই হবে । বল, কে তুমি, 
যে আমার সঙ্গটুকু ছাড়া
আর কিছু মুখ ফুটে চাও না কখনো ?
এ ধরায় প্রচলিত কোন ধারা আমাদের ?
আমরা কি কপালে-লেখা
একে অপরের জন্য জগতে আসার
নিভৃত ও গহীন কারণ ?

সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০২২

অভিসার

সবসময়ই নয় ।
তবে, মাঝে মাঝে জাত চেনাই যায়  
খাপ থেকে
না বলে বেরিয়ে এলে
তরোয়ালের ঝলসে ওঠা ধার,
পরাণটি যখন 
যথারীতি এসপার ওসপার

আর তেমনটা যখনই হয় 
তখনই তো বিলকুল মাত ।
মোগাম্বো খুশ ।
আরে গ্গুরু, কেয়াবাত !

একমনে আল্পনা আঁকা দেখে
অতঃপর, সমর্পণের পাশে
আলতো পরশে না থেমে থেকে,
অজুহাত মেখে,
অলখে হারিয়ে যাওয়া
খুব একটা সহজ দায় নয়,

নিছক বাধা পড়াকে যখন 
নিরুপায় বাঁধা পড়া নিমগন
হাসতে হাসতে বোকা বানিয়ে
পিছনে একলা ফেলে রেখে 

উজানের সে প্রত্যন্ত অবসরে
উথাল-পাতাল বুক ভরে 
বেঘোরে ভালবেসে নিতে 
দুয়ে দুয়ে চারের সাথে
পাতার ঘন ছাওয়ায় লুকানো 
দোকার একলা হওয়ার ডেরায়
নিঃশব্দে পালায় !

সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২

ঠিকানা

মন আর পরাণ
একে অপরের বিপরীতে চলতে পারে ।
আত্মা সেথা কার লগে ঘর করে ?

মন বলবে -
সে তোমাদের কেউ নয় ।
তাকে ভেবে লাভ নেই ।

পরাণ বলবে -
তার চেয়ে অধিক আপন
ইহজগতে 
আর কাউকে পেলাম কই ?
.
https://youtu.be/U5wzqoGyEII
.

সাক্ষী

অতর্কিতে বিদ্যুৎ চমকালে 
স্মৃতিতে ঘুরেফিরে ধরা পড়ে -
সবই তো হলো একে একে নিয়ম ক'রে,
একটি ইচ্ছা শুধু বিরল সম্ভাব্যে
বয়ে চলা আজো সকাতরে !

মণিকর্ণিকা ঘাটে
সদ্য ফুটতে শুরু ভোরে,
একবার অন্ততঃ আশ মিটিয়ে 
সিক্ত হবে ওষ্ঠে অধর
আবছা আলোর পূর্ণ স্বাধীনতায় 
ক্রমশঃ নিবিড়তর জাপটে ধরে ।

ধুয়ে যাবে এযাবৎ বিরহের পাপ
পাশ দিয়ে
দ্বিধাহীন বহমানতার তোড়ে ।
চিতার আগুন
পিতার মত সাক্ষী রইবে যৎসামান্য দূরে ।

রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২

মোহ

যৌনতায় প্রগতির অবকাশ নেই ।

যৌনতার অবধারিত পরিনতি তাই
প্রতিটিবার নতুন থেকে শুরু করে
একদিন ডাল-বরাবরে নেমে
বিস্বাদ হয়ে যাওয়া পেরিয়ে,
অবশেষে বাসি হয়ে
পচনশীলকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া
কফ-ভর্তি থুতুর মত একদলা ।

যৌবন আছে বলেই, যৌনতা দিয়ে
ভালবাসার গভীরতাকে মাপা ?
খাদক-সর্বস্ব সুবিধাবাদ ও তার ধারক

ধান্দাবাজ মন

শান্তি পাবে না এ জীবনে,
ক্রমাগতহারে অর্জিত হতাশার
আর অভিযোগের অভিশাপে ।
পড়ে রইবে, বুকের ব্যথা আগলে রেখে,

একলা পরাণ ও তার
শেষ অবধি, নিঃস্ব হওয়ার পথে চলা, -

তোমাকে যেকথা
হয়নি এর আগে কখনো বলা ।
.

অধিকার

কল্পনা বানিয়ে বানিয়ে গল্প লিখতে পারে ।
গল্পরা তবু বাস্তব সত্যের দ্বারে এসে
নিরুপায় হয়ে হারে একই প্রকারে  ।

কার, কাকে, কতদূর অবধি দেওয়ার,
সাক্ষাতে যার পাওয়ার, শুধু সে ছাড়া,
ও অনুভব আর কার, কবে, অধিকারে ?

https://youtu.be/dD3Oa0y8n70
.

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২

বন্ধুরে বন্ধু

হত্যে দিয়ে পড়ে থাকা থানে,
শুধুমাত্র পাঁচনের বলে
অবুঝের মত ভালবাসতে পারে ব'লে ।
সখের কল্পনায় এমন দৌড় আদপে চলে ?

নিমিত্তরা 
একে একে মিত্রে পাল্টে গিয়ে
কেবলই সংখ্যায় বেড়ে ক্রমশঃ ঘিরে ধরে,
আগুন যে অবধি না জ্বলে

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২২

বিযোজন

দুই এর সাথে দুই যোগ করলে
চার হতেই হবে,
বাস্তব কিন্তু তেমনটা বলে না ।

তুমি হামেশা অনুভব কর,
রুচি-পছন্দ সহযোগে,
ইচ্ছা-অনিচ্ছাদের সুরে
সুর মিলিয়ে,
'তুমি' মানুষটাকে বুঝতে
এবং সামলে নিতে
আমার তেমন অসুবিধা হয় না ।

তাব'লে, অপর সত্যিটা কি বোঝ ?
'আমি' যে মানুষটা, তাকে
খুব যে স্বচ্ছ ভাবে বুঝতে পার, ফলতঃ
তালে তাল দিতে পার সমানহারে,
তেমনটা, অবশ্য, না ।

সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২

Magic Spirit Wasted

I am asking you a simple question.

May the story of an overwhelming,
Mutual brightness,
May the throbbing passion of heart,
May self-surpassing exultation of the soul,
Which honestly seeks 
A far better version of yourself
As the compulsory goal,
Be completely consummated
By any street-dogly hard fuck
Under the vail of the bush
Beside the yellow electric pole ?

If yes, then congrats ! 
Now bark till you can't suck
And proceed, such that, 
The grace of the whole is finally lost,
Once again,
Inside the same, old hole.

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২

উপহার

তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিতে যেও না 
সুযোগসন্ধানী, উতলা-হাভাতেদের মত,
ভালবাসা, না বলে, স্বেচ্ছায় এসে ছুঁলে ।

তাকে বিনা বাধায় ছুঁতে দিও,
বইতে দিও পরাণে - আপন সম্ভ্রমে,
বাইতে দিও ছলাৎ-ছল রাগে
জীবনকে দরদীয়া সুন্দরের দিশায় ।

উত্তরের দায় - উত্তরোত্তর 
দমবন্ধ না করতে এলে,
বাহ্যিক প্রতিক্রিয়ায় 
তৎক্ষণাৎ প্রাপ্তিকে খরচা না করে ফেলে,
বরং চেতনে ধারণ করতে শিখো 
বিরল সৌভাগ্যকে
নিভৃত অনুভবের মনিকোঠায়,
একান্ত পরশে, মাত্র এক জীবনভর !
কিছু সৌভাগ্য কদাচিতই মেলে ।

অর্বাচীন

কাউকে ভালবাসা মানে
তার সর্বাঙ্গীণ কুশল কামনায়
প্রয়োজনে, নির্দ্বিধায়, আপন বিপন্নতাকে
অযাচিতরূপে উন্মুক্ত করা ।
যে দেয় আর যে পায়,
দুজনেই অনুভবের নিয়মে জেনে যায়
এ বিপন্নতা ভিন্ন মাত্রায় এক অমূল্য লাভ,
সস্তা আবেগ-জনিত
সাময়িক দুর্বলতার সীমাবদ্ধতা আদপে না ।

অথচ, আত্মস্বার্থ সামান্যতম বিঘ্নিত হলে,
ছলে, বলে, কৌশলে,
অশ্রদ্ধা-প্রবৃত্ত কটুভাষ বমন 
যাদের প্রবৃত্তিতে আর
কোনওমতে বাঁধ মানতে পারে না,
তাদের, এ জগতে, নিঃসন্দেহে,
মহৎ ভালবাসার শান্তি-পরশ 
কপালে ছিল না ।

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২

স্ফূরণ

অভিনয় অভ্যাসলব্ধ !
চালাকে - বোকারা জব্দ !
কম বেশি, - অনেকে বেশ পারে !
.
অভিনয় বাদই যখন, 
চাইলেই, যখন-তখন,
প্রাণ খুলে হাসতে কজন পারে ?
.
একজন পাগল !
.
আর একজন -
যে হিসেব না করে ভালবাসতে পারে !
.

সঞ্চয় ও সঞ্চার

তার সাথে কথাই নাই তো - কতদিন হলো,
তবু পরাণে বেশ কাছাকাছিই পাই 
অস্তগামী সূর্যের বিরহী বেতারে ।
কি জানি, কে কার ব্যথার কেদার 
কতটা না দেখে রিডিং পড়তে পারে,
কেমন করে, অবিকল একই সুরে !

তবে একথা জানি,
তার ছিলা-ছেঁড়া ডাকে জেগে ওঠা 
হঠাৎ কোনও ভৈরবীর ভোরে
সুবাতাস প্রাণখুলে হাসতে পারে, 
যখনই
যাপনের জটিলতাদের গিঁটগুলো 
খুলে যায়, অনায়াসে, একে একে,
সে উদ্ভিন্ন সারল্যের সরাসরি সুরে,
সঞ্চয় করা যাদের এযাবৎ, এ প্রান্তরে,
জীবনকে, অকারণ ক্ষুদ্রত্বের মোড়কে, 
ভুল জেনে আর ভুল ক'রে ।

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

The Magic

The celestial magician 
Suddenly appeared one midnight
And told me -
"You have only three types of person
For genuine concern in your life.

The first one is youself.
The next ones are those 
Whom you love
And the third group are those
Who are in need."

He said that 
The priorities been settled,
Everybody requires one single thing
To healthily survive on earth
And that is money.

He also said
"I deposit 86400 seconds everyday
Into your life account,
Not for spending in your comfort zones
But for conversion into pure worth."

He looked at the picture
Of Sir Ratan Tata, hung on my wall,
And then at my eyes for some time,
Smiled mysteriously 
Just when I had a cold shivering
And then left the stage 
With dignified strides.

He was thoroughly ruthless this time.
He left no second alternative
Within my immediate limits
Than to humbly abide.
.

শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২২

Quality of life

What life are you living in reality ?
Is it intensely spirited 
Or badly frustrated ?

Well, love only is
The instant multiplier of
Your inner spirit.

Thus, habitual love means
Living a life of 
ceaseless celebration of brightness.

The object doesn't matter.
What matters is the attitude only.
Please don't live hanging
Being hooked up somewhere.
Love's food for survival
Is its constant flow
From your inside and that's all.

You are always safe in love
So long you may segregate it
From infatuation. 
Cause, love is the best identifier
Of truth, by dint of its inner light.
That's why love loves simplicity
And no twist
Cause, light follows straight lines only.

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২

ভালবাসতে পাগল

জীবনের প্রতিটি ঘন্টা, প্রতি মুহূর্তকে,
আপন উন্নততর সংস্করণ
সৃজন ও আবিস্কারের কাজে লাগাও ।
যেনতেন প্রকারেণ
প্রাণপণে খুঁজে বের করে, তবে ছাড়,
আসলে, কতদূর অবধি সুন্দর হতে পার
আর আরও ঘাম ঝরিয়ে নিখাদ ভাল 
এরপরে কত বেশি হতে চাও ।

আগের থেকে একধাপ উন্নত হলেই
তৎক্ষণাৎ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর
ও শুদ্ধ আনন্দের পরিবেশ দেওয়ার জন্য 
আপন সৎ প্রচেষ্টাটুকুকে 
নিঃসংকোচে ধন্যবাদ জানাও ।
আত্মশ্রদ্ধাবোধের শক্ত কাঠামোয়
ভালবাসার মাটি লেপে লেপে
নিজের ব্যক্তিত্বের অবয়বটিকে 
দিনে দিনে
প্রেমময়ী মাতৃমূর্তির মত সহজিয়া রূপ দাও ।

কোনও পার্থিব সুখ নয়, এ জগতে 
একমাত্র উত্তরণের নিরন্তর অভ্যাস
জীবনকে অনবরত
জীবন্ত উৎসবে পাল্টে দিতে পারে ।
বাঁচবেই যদি, তবে পরমুখাপেক্ষিতার
একটিও দায়সারা করুণায় কেন ? 

শেষ নিঃশ্বাস অবধি
মাথা উঁচু করে, প্রবল দাপটে, 
অপ্রতিরোধ্য আত্মবিশ্বাসের জোরে
শুদ্ধ কারুবাসনায়
অর্জিত স্বর্গীয় সৃষ্টির স্বাধীনতায় 
প্রাণখুলে বেঁচে নাও ।
জীবনের অনন্য বিন্যাসকে
দুরন্ত কবিতা রূপে রচনা করে রেখে যাও ।

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২

অপচয়

সান্ধ্য কেদারায় বসে অনুভবের কেদার
ধৈর্য ধরে বাজাতে বাজাতে
সুদীর্ঘকাল অপেক্ষাতেই ছিলে ।

অথচ, সময় এলে, ঠিক তখনি
নিজেকে নিয়ে এত ব্যস্ত হলে, যে
ইশারাটি বুঝে, সুযোগমত
চকমকির স্ফুলিঙ্গকে
শিখায় পাল্টাতে না পেরে,
বোবা অপেক্ষাকে
অন্ধকারে পাশ কাটিয়ে,
ভ্রান্ত দিশার অজানিতে
পায়ে পায়ে দেদার মিলিয়ে গেলে ।

অপচয়ের অনাকাঙ্খিত নিরন্তরে,
ভবিষ্যতে বাধ্য মাথা ঠুকতে হলেও,
ফেরারী সারণী হতে বাড়ানো হাত ধরে
সাফল্যে ফেরার সুযোগ
এক জীবনে কতবার আর মেলে ?
.

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০২২

দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা

রবীন্দ্রনাথ যতটা দার্শনিক ছিলেন তদপেক্ষা সহস্রগুণে আধ্যাত্মিক ছিলেন ।  তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল - বিদ্যালব্ধ বোধ ও নিছক কল্পনার উপরে নির্ভর না করে, কেবল অনুভবের দুরন্ত ব্যপ্তির উপরে ভরসায়, অনুভব-নিয়ন্ত্রিত কল্পনার সুসহযোগে, সাহিত্য-জগতে, সৃষ্টির অবাধ স্বাধীনতাকে উপভোগ করার । স্রষ্টার সাথে সৃষ্টের নিয়ত দ্বান্দ্বিক প্রেম ও বিরহের উপাখ্যান আর কেউ রচনা করেননি তার মত বৈচিত্রে । এই কাজটি সুসম্পন্ন করার জন্য যেটি প্রথম প্রয়োজন ছিল, সে হলো সর্বদা সত্যের অতি নিকটে অবস্থান করা, যেটি সম্ভবপর হয়েছিল প্রচলিত ধর্মদের থেকে যোজন দূরত্ব বজায়ে রেখেও, তার সুতীব্র আধ্যাত্ম-প্রীতির কারণে ।

অনুভবের গভীরতার পরিসরে এরূপ চর্চার সুযোগটি কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে পাওয়া সম্ভব নয় ব'লে, এ যুগের মোল্ডেড সাহিত্যচর্চায় এই প্রবৃত্তিটির অনুসারীও প্রভূতরূপে দুর্লভ ।
.

সিদ্ধকাম

পুড়বে ব'লে অপেক্ষায় থাকে বেচারা হৃদয় ।

পুড়তে পেলে, না বলতেই
হরপা বান ডাকে নয়ন-যুগলে।
অনুভব গভীরতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, তাই
যতবার পোড়ে, ঠিক ততবার 
দীর্ঘকালের জমা অনুর্বরতার আস্তরণ
প্রবল উজানে ধুয়ে সাফ হয়ে যাওয়ার পরে
ভাবের ঘরে অঙ্কুরের নব উন্মেষের ভোরে
জীবন উজ্জ্বলতাকে ফের খুঁজে পায় ।
পোড়া-কপাল জনমটি সার্থক হতে পারে তখন ।

মন বিভিন্ন রুচির হতেই পারে,
পরাণের নিয়মটি সকলেরই এক ।
পুড়তে চেয়ে, সুযোগ তেমন না পেয়ে,
সেই কোন কাল থেকে,
অজান্তে, করজোরে, অধীর অপেক্ষায় রয়েছে 
অধিকাংশ মানুষের পরমহংস হৃদয় ।

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০২২

টারবাইন

হিসেব ও আবেগের উত্তর ও দক্ষিণ মেরু
বিপরীত হতে আমে-দুধে মেলার মত 
মিশে যেতে চেয়ে বিবশ কাছে এলে,
তারপরে সে মিশ্রণ সুসিদ্ধ হতে,
ইচ্ছার তীব্রতা-জনিত উত্তাপ
কোন অবধি বাড়তে দেবে,
সে সামর্থ যার যার, তার তার ।

হোক না অমৃত দুর্লভ 
ও অধিক আয়াস-সাধ্য
চিরাচরিত
দোকার অথবা ব্যতিক্রমী একার 
নয়তো পর ।

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

কলির অন্ত

আবেগ নয়, বিবেক নির্দেশিত
সত্যের হাতখানি অবিচল ভাবে 
যাপনে ধরে রাখতে পারার নাম সততা !

চুম্বকের সাথে থাকতে থাকতে
লোহা যেমন 
ক্রমশই চৌম্বকত্ব প্রাপ্ত হয়,
সততার সাথে অবিরাম বাসে
মানুষের মধ্যে তেমন ভাবে 
সত্যের সুর 
সঠিক-রূপে চিনতে পারার যোগ্য
দিব্য-বোধের উদয় হয় ৷

সত্যের সাথে বাসের 
দুটি উপযোগিতা অবশ্যই আছে !

যক্তি তর্কের ব্যাজার লড়াই বাদ দিয়ে
প্রতিটি ঘটনার অন্তর্ণিহিত সত্যটি,
প্রমাণ ছাড়াও, তার দ্বারা প্রতিবারই
প্রায় অনায়াসে প্রত্যক্ষ হতে হয় ৷

সর্বদা সত্য উচ্চারণ করে যে,
তার মুখ-নিসৃত বাক্য, বাস্তবে,
যতই অসম্ভব মনে হোক না কেন,
অচিরে সত্যে পরিণত হয় ৷

আপেক্ষিকতা

কর্ম - সহজতম বিষয় ভেবেছ ?
তাহলে ভারতবর্ষের এত এত যোগী
অন্য সব যোগে প্রভূত সফল,
কেবল কর্মযোগে অনাগ্রহী
ও অন্ধ শিক্ষক কেন ?

কিছু একটা, যাহোক, পয়দা করে দিলেই
ওমনি কালজয়ী দাঁড়িয়ে যাবে ?
সময়কে পথের ধুলোর মত 
অনাদিকাল ধরে সুলভ ও মূল্যহীন ভেবে
হুজুগে পায়ের খামখেয়ালিপনায় 
যেমন-তেমন মাড়িয়ে গেলে
অপচয়ের অপর নাম হতে হয়
আপন জীবন ।

অথচ সময় তার খাপে খাপে 
প্রতিনিয়তঃ ধারণ করে
বিভিন্ন ক্ষমতার বিরল বারুদ ।
প্রতিটি রাসায়নিককে ঠিকঠাক চিনে,
অভ্যাসযোগ-লব্ধ যতনে
ছেঁকে আলাদা ক'রে,
যে বাঁধতে জানে সময়কে, 
তার আপন বিশিষ্ট নিয়মে,
অতীব সতর্কতায়, সঠিক ভাগ মেনে, 

তার জীবনের 
যে কোনও বিস্তর বাধার পাহাড়কে
এক মুহূর্তে ধূলিস্যাৎ ক'রে 
পরবর্তী পথকে প্রশস্ত ক'রে দিতে,
সেই একই সময় আবার 
হয়ে উঠতে পারে অবধারিত এটমবোম্ব ।

তোমার হলো ? ওঠার কি
অনেক দেরী আছে এখনও ?
পরস্মৈপদী, হলুদ প্রতিযোগের
একঘেয়ে নিঃসরণ শেষে,
শ্রদ্ধাশীল চেতনার আপন সাধনভূমে
একাগ্রতার কেন্দ্রবিন্দুকে 
বরাবরের মত ফিরাবে কখন ?

সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২

প্রথম বেহাগ

ষষ্ঠির আলাপ সপ্তমীর সন্ধ্যায়
যথারীতি বাঁক নিয়েছে প্রলাপে
আর ইতিউতি চকিত
ঘনিষ্ঠতার ফাঁক খুঁজে নেওয়ায় ।

অষ্টমীর পুরো দিনটা কেটে গেল
সেই সকাল থেকে 
বহুরূপে, নানা স্বাদের তাণ্ডব আবিষ্কারে ।
নতুন জানার ছিল যা যা, যেমন ক'রে,
সবাই মোটামুটি 
রাত সাড়ে নয়টার মধ্যে হাজির
অভিজ্ঞতায় ।

আসছে নবমী নিশি ।
বুক করা হয়ে গেছে প্রথম একান্ত ।
অধিকার অপেক্ষায় 
বুঝে নিতে প্রতিটি হিসেব
তারিয়ে তারিয়ে এবার
পাকা গিন্নীর মত পাই-পয়সায়
ভালবাসার ফর্দ মিলিয়ে ।

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০২২

দ্বিজ

এযাবৎ যতদূর অবধি বোঝা
ততটাই কিন্তু 
অভিজ্ঞানের শেষপ্রান্ত নয় ।

বোধটি হতে পারে অনেক গুণ
বড়, উদার আর ধনী,
সুযোগও রয়েছে অফুরাণ,
আপন দৃষ্টির অন্তর্ভেদ যদি 
একই সময়ে
গভীরতর সত্যকে 
যথার্থ বাস্তবের পরিসরে
মহান সুন্দরতরে ছুঁতে পায় ।

একই জীবন, তখন
বোধে, গভীরতার তারতম্যে,
আত্মবিশ্বাসের পার্থক্য-সূচকে
সমূহ পাল্টে যেতে পায় ।

শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কবি ও ভবি

সাধারণতঃ ভাল কবি তারাই হতে পারেন
যারা আবশ্যিক ভাবে সুন্দর "মনের" মানুষ হন ।

"মন" - মস্তিষ্ক-উদ্ভুত চিন্তা, বুদ্ধি আর কল্পনার সমাহার ।

কিন্তু তারপরেও খুব বড় একটি কাজ পড়ে থাকে । সে হলো "অনুভব", যে কর্মটি মনের ক্ষমতার অতীত, কারণ, সে কাজটি মস্তিষ্ক-যন্ত্রেরই নয়, বরং হৃদয়াশ্রিত পরাণের । সেখানে অপর একটি অতীব সূক্ষ্ম অথচ গুরুত্বপূর্ণতম যে যন্ত্রটি লুকিয়ে থাকে, সে হলো মানব-বিবেক । বিবেকের আবার একটিইমাত্র কাজ । সে হলো, যে কোনও প্রকার তথ্য পাওয়া মাত্র, পরমহংস রূপ ধারণ করে, সত্য অংশটি ছেঁকে তুলে নিয়ে মিথ্যা অংশটিকে তৎক্ষণাৎ বর্জন করা । এই কারণে মিথ্যা-অনুভব বাস্তবে সম্ভব নয় । মিথ্যাকে কল্পনা করা খুবই আসান, তবে, শুধুমাত্র সত্য হলে, একমাত্র তখনই তাকে অনুভব সম্ভবপর ।

সাধারণতঃ কবিদের নিয়ে যে বিশাল সমস্যাটিতে পড়তে হয়, সে হলো, কবিরা মূলতঃ প্রবলরূপে কল্পনা-নির্ভর ও অতি ক্ষীণরূপে বিবেক-নির্ভর হওয়ার কারণে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবনভর দিশাহীন ও গোলাকার পথে, হরে-দরে, আখেরে চর্বিত-চর্বনের শিকার । 

আধ্যাত্মের বোধ কিছু অন্ততঃ এসেছে যাদের, তাদের কাছে বিবেকের সাথে সম্পর্কে দীন, তেমন কবির কবিতা, সে যতই শৈল্পিক উৎকর্ষে ধনী হোক না কেন, সত্য ও বাস্তবতার সাথে প্রভূত দূরত্বের কারণে, স্থায়িত্ব ও জ্ঞানের সাথে সম্পর্কশূন্য, ক্ষণজীবী শব্দদূষণের অধিক আর বিশেষ কোনও মানে রাখে না ।

অপরপক্ষে, বিবেককে পদে পদে ছুঁয়ে থাকার বিরলতম বিচক্ষণতার কারণেই রবিকে বিশ্বকবি রূপে মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্যই হই আমরা হাসিমুখে ।

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

অভিশপ্ত

অপূর্ণতার অপর নাম মানবজনম ।
সব অভীষ্ট কারোরই কি লাভ হতে পারে ?

আপন চর্চায়, অভিযোগ আর ঘৃণা 
মাত্রাতিরিক্ত বাড়তে দিলে,
তিক্ততার বিষে, অন্তরে-বাহিরে
ভালবাসার ভাল-রা 
একে একে খুন হওয়ার কালে
কাছের মানুষগুলো, কখন অজান্তে,
নিঃশব্দে, বাধ্য দূরে সরে যায় ।

ভালবাসার অবসর দ্রুত বৃদ্ধ হয়,
অপেক্ষায় থাকে না আর আগের মত ।
বিনিময়ের মত একজনও
অবশিষ্ট থাকে না কালে কালে ।

ফলতঃ, আপন একাকী অন্তরে 
বাঁচার সুতীব্র বাসনাটিও  
আমন্ত্রিত পরিস্থিতির নিরুপায় করালগ্রাসে
অবশেষে নীরব হতে চায় ।
বিদ্বেষ ও ঘৃণার স্বেচ্ছাচার 
অবধারিত অবয়বটি ফুটিয়ে তোলে
আপনে, ঘৃণিতের প্রতিবিম্বে ও পূর্ণমাত্রায় ।

রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কর্তৃ ও কর্ম

এক জীবনে ভালবাসার মত বিষয়
একাধিক হতেই হয় মানুষের ।
প্রতিটি বিষয়
একই মানুষের সাথে ভাগ করে নেওয়া
কৈশোর অবধি সম্ভব হতে পারে ।
রুচি-বৈচিত্রের স্বাধীনতা-স্পৃহায়
অতঃপর বাস্তবে হয়ে ওঠে না আর ।

অথচ, প্রথমে বহুবার
বোকার মত ভুল চেষ্টা করে মানুষ ।
ঠকতে ঠকতে, বাধ্য একদিন শিখে,
অবশেষে, এক একটি বিষয়
যত্ন করে সঞ্চয় করে রাখে অপেক্ষায়,
বিশেষ অন্যজনের সহযোগটি পেলে
প্রাণ খুলে ভাগাভাগিতে মেতে
নির্দোষ আনন্দ দ্বিগুণ করবে ব'লে ।

এক্ষেত্রে সমস্যা তেমন কিছুই নেই,
কেবল
প্রায় নিয়মিত হারে ব্যবহৃত হতে হতে
এঁটো ও বাসির ছাপ লাগা যাওয়া
শরীরের থালাটিকে
দুর্লভতম সমর্পণের বিষয় হিসেবে
সাজানোর ভান
শঠ প্রবৃত্তিকে পুনরায় করতে না দিলে ।

কর্তৃ ও কর্ম

এক জীবনে ভালবাসার মত বিষয়
একাধিক হতেই হয় মানুষের ।
প্রতিটি বিষয় 
একই মানুষের সাথে ভাগ করে নেওয়া
কৈশোর অবধি সম্ভব হতে পারে ।
অতঃপর বাস্তবে হয়ে ওঠে না আর ।

অথচ, বারবার বোকার চেষ্টা করে,
ঠকতে ঠকতে, বাধ্য একদিন শিখে,
মানুষ তখন, এক একটি বিষয়
যত্ন করে সঞ্চয় করে রাখে অপেক্ষায়,
বিশেষ অন্যজনের সহযোগটি পেলে
প্রাণ খুলে 
নির্দোষ আনন্দে উপভোগ করবে ব'লে ।

এক্ষেত্রে সমস্যা তেমন কিছুই নেই,
কেবল 
সাত-পুরোনো, নিয়মিত-এঁটো শরীরকে 
দুর্লভতম, কচি-সবুজ বিষয় হিসেবে 
সাজানোর অভিনয়
শঠ প্রবৃত্তিকে পুনরায় করতে না দিলে ।

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Exultation, The Story of The Rare Ones

Do you have an ambition ?
Can you generate intense passion ? 
Well, It can never be a single day mission.

Stop wastages first.
Be determined to ruthlessly deprive
Each and every deviation.
Concentrate further
Towards accumulating more will power
With purity, discipline and perseverance.
Keep raising the level of inner store
Day by day, by harder exercises,
Until you may flood 
The pick height of the barrier,
whatever,

And kiss success finally
While reaching your dream purpose
In tangible reality
While gifting yourself a guilt-free pride
Of superlative existence.

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দীক্ষা

প্রত্যাখ্যান 
ক্ষমা কোরো অন্ততঃ একবার ।

তোমাকে যথাযথ শেখার আগেই
বুকের নীচে ডাকবো কি করে ?
মানবো কেমন করে
চোখে চোখ রেখে সমর্পণ তোমার ?
যোগাবে কি প্রকারে বেবাক তামসে
গুরুর প্রতি কামনার উৎসারণ ?
বীর্যবতী হওয়ার পরক্ষণেই
পারবে সরস্বতীর পবিত্রতায়
মুখোমুখি পড়াতে বসতে আবার ?

নিত্যদিনের চক আর ডাস্টার হাতে, 
তুমি যে এখনো 
আপন সাগরের সাবলীল প্রসারে
অপ্রতিরোধ্য শিক্ষাগুরু
আর আমি অভিভূত পদে পদে 
ঊর্ধ্বনেত্রে, নিত্য পঠনের হারে, 
নিছকই আপ্লুত অভিবাদনের পারাবার ।

দীক্ষা

প্রত্যাখ্যান ক্ষমা কোরো ।

তোমাকে যথাযথ শেখার আগেই
বুকের নীচে ডাকবো কি করে ?
মানবো কেমন করে
চোখে চোখ রেখে সমর্পণ তোমার ?
যোগাবে কি প্রকারে বেবাক তামসে
গুরুর প্রতি কামনার উৎসারণ ?
বীর্যবতী হওয়ার পরক্ষণেই
পারবে সরস্বতীর পবিত্রতায়
মুখোমুখি পড়াতে বসতে আবার ?

নিত্যদিনের চক আর ডাস্টার হাতে, 
তুমি যে এখনো 
আপন সাগরের সাবলীল প্রসারে
অপ্রতিরোধ্য শিক্ষাগুরু আমার
আর আমি অভিভূত পদে পদে 
ঊর্ধ্বনেত্রে, নিত্য শেখার হারে, 
নিছকই আপ্লুত অভিবাদনের পারাবার ।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Move

We already had enough of it.
Stagnations out of misery .
Oh, petty egos of us !
They are the ever narcissists
And the virtual backbenchers.

Inspiration for taking first initiative
Means required determination
For moving fast forward.
Let's moisten every brittle part inside
And humanize.
Let's ceaselessly convert
The rigid into supple and
The static into
An inevitably dynamic feature.

Let's start rolling to turn possibilities
Into sheer capabilities.
Every verdict of us must go
In favour of the flower of dawn
Called love,
The necessarily friction-free action,
To let explode into chivalry
The most of our individual potentials.

Never love
For getting something secondhand
From anybody else.
Extraction and surrender
Are never friends.
The former may be
A shrewd trade, not love.

Be love yourself
For manifesting pure power
Essentially first-hand.
Break all silly barriers and
Be finally kind to yourself.
Be enough kind not to hesitate
To love.
.
http://go2arup.blogspot.com/2022/09/move.html?m=1

শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

মানা না-মানা

অদ্য তৃতীয় দিবস ।
বৃষ্টি এমন নাছোড় অঝোর হলে
"যাচ্চলে" বলে এক লাফ দিয়ে উঠে
ঘরের নিরাপদ ছাদকে 
"বিলকুল ছাতার মাথা" বুঝে
বলে দেওয়া ভাল - 
"অনেক হলো মামা, এবার আসি" ।

অতঃপর, বৃষ্টির যেচে বাড়ানো আড়ালে
মাসিমার নজর 
গরুকে গোয়ালের দিকে তাড়ালে,
সেই ফাঁকে তোমার হাতটি ছিনিয়ে নিয়ে 
অবশ্যই লম্বা ছুট ।
সেই কখন থেকে ডেকেই চলেছে
বুকের ভিতরে বেহায়া বাঁশি ।

হাঁপাতে হাঁপাতে ধানজমিতে পৌঁছতেই 
এক হ্যাঁচকা টানে হুড়মুড়িয়ে ধপ্পাস ।
আধমানুষ-উঁচু ধানের ঘন আড়ালে
এবার আর কেউ খুঁজে পাবে না বুঝে,
আপেক্ষাদের ছুটি করিয়ে,
ঢ্যোঁড়াসাপকে পিঠের চাপে বাপ বলিয়ে, 
দাপাদাপি আর
কাদা-মাখামাখির দোসরকে এবার
আষ্টেপৃষ্ঠে, 
নিবিড় দোহনে ব্যস্ত হবে গভীর শ্বাস ।

মাসিমার অবশেষে যখন 
জুটলো টনক নড়ার অবসর
ততক্ষণে আবার 
আমাদের উত্যুঙ্গের দৌড় পগারপার ।
সুখকে ছিনিয়ে নিতে পারা জয়ে,
ফলতঃ, আর একটু পরেই
সর্বাঙ্গ-কর্দমাক্ত ফেরার কালে - 
দু-জোড়া ঠোঁট জুড়ে দুলতে হবে
যার-পর-নাই অভিযোগহীন হাসি ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দূরের আমি

ঘরের থেকে অনেক দূরের পথ পেরিয়ে
অজানা জগতে প্রথম পৌঁছে গিয়ে
অচেনা প্রকৃতিকে আবিষ্কারের সময়
একের পর এক পুলকিত শিহরণ
সহসা আস্বাদনের উৎসবে
ফের চেনা মানুষের সাত-পুরোনো অভিব্যক্তি
পুরো কাবাব মে হাড্ডি ।
পরের জন্মে, শ্লা, হারগিস নিয়ে যাব না সাথে ।

অচেনা প্রকৃতির মায়াবী অবগুন্ঠন
পরতে পরতে উন্মোচনের সময়,
মানো অথবা না মানো,
একজন অচেনা মানুষের
বড্ড প্রয়োজন পড়ে
সমানতালে 
পরস্পরকে আবিষ্কারেও উত্তাল হতে ।
ঝাঁপিয়ে, দাপিয়ে, ফিরে আসতে পারে 
রোমাঞ্চের অকৃত্রিমে, জীবনের প্রথম উনিশ,
এক জনমেই ফের আরও একবার ।

যাবে ? ভাবলে মজা করছি ?
এ জনমে হতেই পারে, 
তবে হয়তো আক্ষরিকে পুরোটাও না !
.

বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

পাতলা ঠোঁটের মানুষ

যৌবনের মাপ বয়সের গায়ে লেখা থাকে' -
এ একেবারেই ভুল কথা ।
বিহান ফুটে ওঠে আগ্রহের তীব্রতায়,
ফেটে বেরোয় সুন্দরের উৎসবে
উৎকর্ষ অর্জনের মরীয়া উপচারে ।

কলিংবেল বাজাতে এসে, মিষ্টি হেসে,
দরজা খুললে যে তুমি,
তোমার আঙুলের সে শৈল্পিক নিয়ন্ত্রণে
ছিটকিনির আওয়াজই হলো না কোনও ।

বিয়ে হয়ে গেছে তোমার মেয়ের
বেশ কয়েক বছর,
অথচ, কথা বলার সময়
শিশুসুলভ উচ্ছলতা ও সারল্যের 
কোনওপ্রকার অভাব চোখে পড়ার
উপায় ছিল না একটিবারও তোমাতে ।

বোন-চায়নার ধুমায়িত কাপ
যখন কথা বলতে বলতে
নামালে এসে কাচের টেবিলে,
তখনও অবাক হয়ে খেয়াল করলাম
কাচের সাথে কাচের আচম্বিতে চুম্বন
কোন অবধি নিঃশব্দ হতে পারে ।

বাকিটা বুঝতে, অবশ্য, অসুবিধা হয়নি আর ।
এরপরে, তোমার বিরল চা-পানের দৃশ্যে
কাপের বাইরের দেওয়ালে লিপ্সটিকের 
কোন বিসদৃশ দাগ পাওয়া যাবে না
ব্যবহারের স্থুলে একটিবারও ।

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

তুড়ি

যাকে সে ভোগাতে পারে না 
নিরন্তর হীনমন্যতায়

অথবা

পারে না যাকে সে 
নাকানিচোবানি খাওয়াতে, 
সুপটু উদাসীনতায়

অথবা

উঠতে বসতে, অসঙ্গতি 
চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে দিতে, 
পারে না মারতে 
সপাৎ সপাৎ করে কথার চাবুক

অথবা

পারে না পর্যুদস্ত করতে যাকে 
অহরহ ছলনার বিষে

অথবা

সব কর্তৃত্ববাসনাকে 
বাধ্য হার মানতেই হয় যার সমীপে এসে,

সে শিকার কে, সে 
বিফলতার অভিঘাতে,
অহমিকার প্রতিরোধকে 
নিজেতে আর খুঁজে না পেয়ে,
নিরুপায় ভালবেসে ফেলে ।
.

ন্যূনতম দূরত্বের উপযোগ

মানুষ যখন মন্দিরে, গুম্ফায় অথবা চার্চে যায়, দীর্ঘ সময় ধরে উপাসনা করে, তখনও মূর্তির সাথে মানুষের একটি বাহ্যিক দূরত্ব সযতনে, শ্রদ্ধাসহকারে, রক্ষা করতে হয় । সেখানে গিয়ে, মানুষ কোনওমতেই বগলদাবা করতে যায় না মূর্তিটিকে । 

প্রেমের ক্ষেত্রে, মানুষের সাথে মানুষের বাহ্যিক সম্পর্কেও এই ন্যূনতম দূরত্বের সম্ভ্রমটুকু শ্রদ্ধাসহকারে রক্ষা করা আবশ্যিকরূপে শিক্ষণীয়, সুন্দরের প্রতি বিচক্ষণতার আবশ্যিক দায়বদ্ধতায় । ঐ পরিসরটুকু পেলে, তবেই সেই পটটিতে সম্পর্কের সুনিবিড় আল্পনাদের কারুখচিত করে আঁকা সম্ভব হতে পারে আপন আপন জীবনে সার্থকতার সুখদ প্রসারে । 

বাহ্যিক দূরত্ব কি আর প্রাণের টান কে কখনও ঠেকিয়ে রাখতে পারে ? ভালবাসা দুটি মানুষের মধ্যে আকর্ষণের যে চৌম্বকক্ষেত্রটি অলখে নির্মাণ করে, সে তীব্রতার নন্দনকাননে, প্রাণের সাথে প্রাণের ঘটতে থাকা অবধারিত, অবিরত, সঙ্গমে, দৃষ্টিতে যেই আলোর বিস্ফোরণ ঘটে, ওমনি পরাগ-মিলন-জনিত বানভাসি তো উভয়ে উপভোগ করতে শুরু করেই প্রতিনিয়ত, উত্যুঙ্গ আগ্রহ ও বিশ্বাসের আকাঙ্খিত আচ্ছন্নতার সহযোগ প্রথমবারটি মাত্র কব্জায় পেয়ে গেলেই, মীরা যেই পেরিয়ে যেতে থাকে রাধাকে, ক্ষণে ক্ষণে এবং অদূরে ।

শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হাল

'ভালোবাসা'
আপন খাঁচার পাখিকে 
মুক্ত করার দায় !
.
মানুষের মন এমনই খাসা,
আর এক খাঁচায় মনের সুখে 
বাঁধতে তাকে চায় !
.
হায়, মানুষ ভ্রমের খেলায় 
কেন এত অসহায় ?
.
বাঁধন দম বন্ধই করে ! 
কে যে বার বার মরে -
সেকথাও মানুষই বেশ বোঝে,
.
অবশ্য অনেক পরে ।
তবু আবারও ভোলে - 
খেলার ছলে
আসলে কী যে সে চায় !

বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দঃখ ও কষ্ট

কষ্টের মাঝে বাস স্থির-লক্ষ্য অর্জনের ও
তদজনিত আনন্দের !
একটু হলেও, চরৈবেতির অবিচলে
কষ্টের কিছু ভগ্নাংশ অন্ততঃ সর্বদা বেঁচে থাকা,
কষ্টকে যেন-তেন বাঁচিয়ে রাখা - ভালো ।

কষ্ট মানে - তখনো দাঁড়িয়ে পড়োনি,
গড়িয়েও যাওনি ঢালু খাদের অতলে, 
বরং পরের বাঁকে হয়তো অপেক্ষায় 
উত্তীর্ণের অভীষ্ট আলো ।

যদি কষ্টকে স্বেচ্ছায় ভালো না বাসো,
তাহলে নিরুপায়, 
ভাবো - সুখকে একবারটি পেলেই
পেয়ে যাবে আজীবনের অধিকার ।
সুতরাং আসক্তির কূপমণ্ডূকতায়
ক্ষণস্থায়ীকে বিবশ লেলিহানে জ্বালো ।

সাময়িক সুখভোগের অদূরদর্শী লোভে
লভ্য দুঃখের নীল বিষে 
জীবনকে আরও একবার
পুড়ে হতেই হবে মৃতের পারা বিবর্ণ
এবং অবশেষে অবধারিত কালো ।

পছন্দ স্বাধীন তোমার !
খেলতে চাইলে, জেনে বুঝে খেলো ।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

একটু না-হয় অন্যরকম

সত্যি প্রেমের জমাট গল্পগুলো 
বেশিরভাগই মাঝপথে হারিয়ে যায়,
হঠাৎ উবে যায় 
এক অথবা একাধিক 
দুরন্ত দৌড়ের পরে ।
সত্যি প্রেমের গল্পগুলোকে
কেন যে অবধারিত ভূতে ধরে ?

দুজনে মিলে বরং
একটা মিথ্যা প্রেমের গল্প রচি চল !
মিথ্যা মানে - আসলে প্রেম নয়
অথচ, হুবহু সত্যি প্রেমের মত দেখতে !
প্রথম থেকেই সত্যি নয় জানলে,
কুহকিনী আশাদের এসে
বাধ্য ঠকে ফিরে যেতেই হবে ।
বাধ সাধবে না যাপনে তখন আর 
সম্পর্কের বাসায় চটচটে অসক্তিরা
একবারও ভুল ক'রে ঢুকে প'ড়ে ।

না বলে পিছন থেকে এসে তুমি
সহসা জড়িয়ে ধরতে গেলে আর
সমুদ্রের ধারে সান্ধ্য আঁধার
ন্যূনতম আড়ালটুকু দিলে,
আমারও রইবে প্রভূত প্রত্যুত্তর -
শিরশিরে, ভেজা হাওয়ার উল্লাসে,
ক্রমশঃ ত্রিবেণী সঙ্গমের কাশে
অভিসারী আঙুলের রাসে
নিভৃত মঞ্জরীর পাতায় পাতায়
অজস্র বিলি কেটে দিতে দিতে ।

নিছক মিথ্যা প্রেমে বোনা
একটা অনাহত গল্প 
লিখতে পারিই আমরা একবার,
যার মেয়াদ ফুরানোর তাড়া
অবধারিত রইবে না আর
প্রচলিত বিষাদের কাব্যিক হাঁস-ফাঁসে ।

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

উপযোগিতা

অভিযোগ অজস্র থাকতে পারে ।
ঘৃণা সহজে মেশে তীব্র হতাশায় ।
পরমুখাপেক্ষী পাওয়ার স্বপ্নে
সুখভোগের আকাঙ্খারা
পরিতৃপ্তির কথা রাখে না শেষ অবধি,
যে কোনও প্রকার সুখের 
ত্রিমাত্রিক পার্থিবতায়
অসীম বা চিরন্তন না হতে পারার 
দীন অক্ষমতায় ।

ভালবাসা, অথচ, আন্তর উদ্দীপনা যে
প্রবলতম রূপে জাগাতে সক্ষম
একথা সকলেই জানে,
যে উৎসাহ 
আত্মসৃষ্টির অন্তরায় ঘোচায়,
যখনই মানুষ নতুন ক'রে
শুদ্ধ স্বনির্ভরতার পরিসরে
অন্তর্মুখী হতে পারে ব'লে
পরাণের গহীনে
সে আশ্চর্য ঐকান্তিকতায়
আপন উৎসমুখটি ফের খুলে যায়,
মানুষ যে সুলগনে, নতুন বিষ্ময়ে,
আপন অন্তরে 
উজাড় করা অফুরাণ কে খুঁজে পায়,
যে অবধি তন্ময় রইতে পারে ।

ভালবাসার মুহূর্তে নিজেকে সুন্দর করেনি
এমন কে আছে ব্যতিক্রম, এ ধরায় ?

দোষ কার চেতনার, 
যদি কেউ দেনা-পাওনার 
পার্থিব কূপমণ্ডূকতার ফাঁদে পড়ে,
অতঃপর 
বরাহের বর্জ্য-লোলুপতার অধিকারে
নিছক নিম্নাকাঙ্খী প্রবৃত্তির বশে,
নিজেই নিজেকে আর
সুন্দরতরে ধরে রাখতে না পারে ?

শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ফেরা

কিছু মানুষ আসে দিনের আলোতে
আর কিছু আগমন ঘটে ভরা জোছনায় !
হৃদয়-তন্ত্রী স্বাতন্ত্রে বেজে ওঠে তারই মাঝে ।
বিরল অবসরে
বিশেষ কাউকে দূরভাষে ধরে 
বলতে পরাণ চায়
"যা দিয়েছিলে, খরচ হতে হতে
সময়ের তালে একদিন ফুরিয়ে এলে,
মানুষ বেচারা তখন কি আর করে ?

অমূল্য অপেক্ষারা, অবশেষে ধৈর্য-শেষে, 
তড়িঘড়ি উঠে পড়ে
পরিধান পাল্টে নিতে চায়
যেই না তিক্ত উপেক্ষায়,

ঠিক তখনই
তোমার আঁখি-সরসিজে
ফের পরম নিশ্চিন্তির বাসায়
থাকে ফেরার বাকি আমার 
কোনও এক গহন অবসরের
বিহগ-উদযাপনে,
তোমারই পছন্দের দামালপনার 
অপর্যাপ্ত অবেলায়" ।

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

উৎসারণ

প্রবৃত্তির ছলনায়
বারংবার আটকে না গেলে,
সম্পর্ক বহমানতা পেলে,

আমি তোমার গর্ভে 
রোজ নবজন্ম নিই,
খেয়াল করেছো আর
তুমিও ঔরসে আমার

ভালবাসা কথা বলে ব'লে ।

শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২

ঠাকুরমার ঝুলি

রূপকথার জগতে সন্ধ্যা-বাতি প্রতিদিন জ্বলার কথা নয় !
জ্বলেও না !
তবে সবাই কে চমকে দিয়ে যেদিন আচমকা জ্বলে,
সেদিন মেঘের ওপরে আকাশবাড়িতে
সব রাক্ষস রাক্ষসীদের একসাথে ঘুমিয়ে পড়ার ধুম ।
.
আর সেই ফাঁকে
হাওয়ার ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে চুপিসারে
স্বর্গের রাজকন্যে পায়ে পায়ে মর্তে নেমে আসে !
সকলের সামনে দিয়ে অদৃশ্য শরীর তার
হেঁটে যায় বনের ওপারে ।
.
সেখানে রাখাল ছেলে বাঁশি হাতে আছে অপেক্ষায়,
সুরের অমল সুরভিতে বোনা পছন্দের আভরণ
রাজকন্যের আপন আকুল হাত
তৃপ্তির পেলবে ফিরে পাওয়া পার্থিব তনুতে 
অবশেষে তুলে নেবে বলে !

Posted seven years back.

রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

রঙের দোষে

যত বেশি ফর্সা হবে, 
ততই বর্ষার মত ধারালো হবে নাক
এমন কি নিয়ম আছে নাকি ?
ফর্সা হলেই মানুষটি হবে 
ষোলোআনা পরিষ্কার মনের 
এমনও তো কথা নেই কোনও ।

অবশ্য
তুমি এমনই অদ্ভুত ফর্সা, যে -
তোমার ত্বকের স্বচ্ছতা ভেদ করে
শিরা আর ধমনি-দের যে সহজেই
আলাদা ক'রে চিনে নেওয়া যায়,
সেকথা নিজেই 
অনেক আগে থেকে বেশ জানো ।

অথচ
রোদ্দুর পোড়ায় না যেখানে, সেখানেও
এ অভাগার লোমের দশা
ভুসো কালির মত কালো ।
আচ্ছা, তোমারটা কি সোনালী ?
না, মানে - যে কোনও ?

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

পরনির্ভর বনাম আত্মনির্ভর

অতি সাময়িকে
যেটুকু লাভ হবে,
তার থেকে বহুগুণ
পরাধীন দুঃখের মূল্যে
ট্যাক্স দিতে দিতে
জীবন ক্ষয়ে যাবে ।
মাত্রাহীন সুখের লোভের
অবধারিত নিয়তি এটিই ।
সুখতৃষ্ণা 
ঘাড় ধরে সংযম শেখাবে ।

ভালবেসে
আত্মসৃষ্টির জগৎ অবশ্য
বিপরীত নিয়মে চলে ।
উদ্যমের উড়ানের জন্য
স্বাধীন আকাশ পাবে ।
প্রতিটি উড়ান 
পরিশেষে শুদ্ধ আনন্দ দেবে ।
সে আনন্দ কেড়ে নিতে
পারবে না অপর কেউ ।

এবার পছন্দ তোমার,
কোন পথ ছেড়ে
কোন পথে দৃষ্টি ফেরাবে !
.

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

সারে যাহাঁ সে সচ্চা নিয়ত হ্যায় তুম্হারা

ইংরেজদের তৈরী করা সংবিধান যৎসামান্য উল্টেপাল্টে, অথচ লাইনের ফাঁকগুলো অবিকল একরকম রেখে দিলে যা দাঁড়ায় সেটিই হচ্ছে সংবিধান - বর্তমান ভারতবর্ষের ।

জনগন চিরটাকাল যা খেতে সবচেয়ে পছন্দ করে - সে হলো বিভ্রান্তি বা কনফিউশন আর রাজনীতির সেটাই USP ! 

ফলতঃ গরীব জনসাধারণকে শোষণ করে ক্ষমতার কালোটাকা ফুলে ফেঁপে ওঠার সেই ট্র্যডিশন আজ ছাড়িয়ে যাচ্ছে অতীতের সব ইতিহাস । প্রায় নিয়ম করে বিলিয়নের হিসেবে টাকা পাচার হয়ে চলেছে বিদেশের ব্যাঙ্কে । 

লাফাচ্ছে জনগন প্রবল উৎসাহে জনগনমন উদযাপন আর অপা নিয়ে । প্রচুর ধকল গেল আজ সারাদিন । তোমার কি খুব ঘুম পাচ্ছে এবার ? তুমি, তোমরা, তোমাদের ?

সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

কর্ম

হাতে-কলমে পাস-ফেলের বাস্তব রেজাল্ট একমাত্র গ্রহনযোগ্য প্রমাণ অর্জিত যোগ্যতার । কোনও অলীক ভাববাদ-জনিত বিভ্রান্তির দক্ষ ভণ্ডামীর কোনওরূপ  আসন পাতার সুযোগ নেই কর্মের রাজ্যে । 

জীবনের শ্রী-বৃদ্ধিতে, সরাসরি ফল প্রদানের নিরিখে, 'কর্ম' যে অবধি নিশ্চিন্তির স্থায়িত্ব অর্জন করতে সক্ষম, সে অবধি অধিকার অপর কোনও যোগের নেই । এ জগতে প্রতিটি কর্ম আদপে ভিন্ন ভিন্ন কারুবাসনার স্পর্শযোগ্য ফল ।

লক্ষ্য যত স্বচ্ছ, অটুট আর পরিশ্রম যত আপোষহীন হয়, কর্ম ততই নিস্কলুষ তপস্যাতে রূপান্তরিত হতে থাকে । 

দীর্ঘ তপস্যার বল মানব-হৃদয়ে গুরুরূপে অধিষ্ঠিত হয় । অহমিকার স্থুল প্রলোভন পেরিয়ে, তাকে শ্রদ্ধা ও সংযমের উপচারে ধারণ করতে জানলে, মানুষের জীবন ক্রমশঃ পরিনত হয় আত্মবিশ্বাস-জনিত আনন্দের নিরন্তর মহোৎসবে । 

সততা - শান্তির আকর আর সংবেদনশীলতা - আত্মবিকাশের । যুগপৎ সৎ ও সংবেদী মানুষের চিত্তে এমন আনন্দের সাথে তাই যুক্ত হয় প্রেম ও শান্তির স্বতঃস্ফূর্ত বরষণ । 

এ আরোহনেরও পরে, সে উচ্চতরতায়, আরও অন্য কিছু অবশিষ্ট থাকতে পারে চাওয়ার, এ ধরায়, উত্তরণকামী মানুষের ?

রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২

Failures Only

Could you identify the trap,
The barrier everytime
That prevented 
Your ultimate liberation ?

It was always inside
That you failed to surpass
And helplessly watch 
Your chances gone again,
Thus, accepted 
The destiny of ugly repetitions only
Along the beaten track
Of torturing and ruining yourself
More and more in a stereotype.

You, too, had a Hotel California
Full of apparent pleasures
To fool you in the end,
That gave you nothing real and lasting, 
Just never,
Except allowing time to slip further. 

Therefore you, at times, wanted
To get rid of.
But for that, you needed
A threshold intensity of purpose,
For becoming almost supersonic,
A fixity that let you attain
A relatively higher speed
To compete with
The inevitable roll-over of time. 

Could you finally identify the enemy ?
Well, who else than 
Whom you foolishly considered 
Your most reliable 'best-friend'
During every idleness,
Your pampered instincts,
Who never loosened their chain
On you at any point of time.

You travelled a great lot
Along the varieties of 
The lengths and the widths
While trying to deny 
The third dimension of depth,
Which was time, the real transformer,
That kept rotating always
And you missed 
The required relative speed
To finally win over it
And reach real bliss.
.
http://go2arup.blogspot.com/2022/08/failure.html?m=1
.
https://youtu.be/nExImHpSFuY

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

কালিদাস

সকলের কখনোই নয়, তবে,
অনেকের মুখে থাকে এমন হলাহল,
কথায় থাকে এমন ধার,

যে, যার দিকে একবার
বর্ষিত হয় ক্রোধ,
তারপর থেকে তার অবিরাম রক্ত ঝরে,
হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত উদ্ভুত হয় 
সে চকিতে অমানবিক অত্যাচারে ।
থামে না আর রক্তক্ষরণ বাকি-জীবন ।

ফলতঃ, গ্রহীতার ভালবাসা 
বাধ্য প্রতিস্থাপিত হয়,
জেগে ওঠে আবশ্যিক প্রতিশোধ ।
তুমি কি ভিন্ন কিছু আশা করেছিলে অতঃপরে, 
ও বিরল সুনয়ন ?

জীবনকে
শুধু শত্রুব্যুহে রচনা করবে আজীবন 
শব্দের ধারে ?
মানুষের অহমিকা কেন এ অবধি বাড়ে ?
কেন এতদূর বরাহ-নন্দন ?
আর কবে বড় হবে তুমি, হে বৈভবী,
হবে বিচক্ষণ ?

পরমাত্মীয় ? বসবে যে ভালবাসার ডালে,
কাটতে বসতেই হবে যে গোড়া তার
ক্রুরতার বলে !
অহমিকার সুমতি হলে
হতে কি পারতো না কোমলতর,
সকালের সকলের অনাবিল অরুণ যেমন ?

ছল

প্রকৃতির নির্মমতম ছলনার মায়ায়
প্রায় প্রতিটি নারী
সজ্ঞানে অথবা অবচেতনে ভাবতে বসে -
"শরীরের পরতে পরতে তার 
লুকিয়ে রয়েছে
পৃথিবীর গূঢ়তম রহস্য,
যার যথার্থ উদঘাটন সম্ভব নয়
যোগ্য পুরুষের সংবেদী সহযোগ বিনা,
যে পুরুষটির আসা বাকি রয়ে আজও
জীবনের কোনও এক 
অতীব আকাঙ্খিত সমর্পণের কিনারে ।"

যুগ যুগ ধরে নারী তাই, 
বিজ্ঞাপন হতে অধিকতর আকুল, 
সাজে-গোজে পরিপাটি শরীরে ।
সাজে আপন রুচির প্রকাশে 
যদিও নারীর
নিজেরই নিজেকে বেশি ভাল লাগে,
নারী-শরীর লোভী চিরন্তন পুরুষ
সুযোগ পেলেই উৎসাহ প্রদান করে
নারীর নিছক বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠাকে 
আপন সঙ্গিনীটির নজরের সুচতুর আড়ালে ।

এমনই সুবাদে পরকীয়ারা আবার
"কিছুই হয় নি"-ভাবটি বেমালুম বজায়ে রেখে,
চকিত, উদ্বেল ইশারায় 
ডিল সেট ক'রে নেয় উভয়-তরফে 
সমাজের চোখরাঙানিদের নিখুঁত এড়িয়ে ।

ভারতের আধ্যাত্মিকতার ইতিহাস বলে -
"অসংযম সমানতালে তালে তাল দেয় 
মোহের বিকলে ।"

Never Loud

I prefer not to make your life hard
Because I need you genuinely hard, 
More lastingly, down there.

For, I have to serve enough moistness
In equal rhythm
To save my poor eyes from
Getting moistened without.

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

রাধে

চোখ অলখে ভেসে যায় জলে
বরষণ প্লাবনে পাল্টায় অদৃষ্টের পরিহাসে

যখন 
ক্রমশঃ শুকাতে থাকে ভিতরের সবুজ,
বর্ষিত হও না যেদিন প্রাণ-বারি হয়ে
আমার গ্রহীতা বাগানে, রোপিত আরোপে,
চাতক-অধীর, বিরহ-বিধুর ঘাসে ঘাসে ।

নিয়ম ব'লে বাধ্য মেনে নিই, 
কষ্টের মূল্যে 
জীবনে গভীরতাকে পেতে হয় তাকে,
যে স্বেচ্ছায় ভালবাসতে আসে ।

The Monkey-Mind

The major portion of everybody's brain often remains in control of his subconscious, which is a monkey-mind that can repeat its previous experiences only. It prefers to depend mostly on already acquired habits that may safely follow a beaten track. The monkey-mind hates to face any unforeseen and if yet compelled, it reacts from any of its old habits that generally creates hazards only and no synchronized solution.

Opportunities of growth lies hidden only in the unforeseen. Since a monkey-mind never learns how to explore the unforeseen to acquire new skills and aptitudes, it can never grow further from it's usual state of down-trend.

Growth and a monkey-mind, thus, remain rival to each other. 

Love implies exploration, while infatuation is nothing greater than any damn habitual addiction. A monkey mind understands infatuations only that seeks mostly sex in the name of love, because it's impossible for a monkey-mind to actually celebrate exploration and personality-growth, deep inside, through love.

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

Sense It

Wastage is always and only free. You can give liberty to your instincts to just waste your life in as many ways as possible through short-term pleasures that never provides a permanent return.

But lasting growth of life is never free. You have to establish full control on instinctive whims, must keep committed to a clear long-term purpose and work really hard at a regular basis on it.

Remarkable achievers of the world obviously belong to the second category, while the gross middle class of mere futility belongs to the first.

The funniest truths on earth are

1. Love means rejoicing learning in its purest form. Whenever you love, you learn the subject person or a thing.

2. Happiness can never be second-hand. The source has to be within and dynamic.

3. Happiest person is he, who can keep growing the fastest.

Cheers !

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

নিলয়

শরীর, অধিকারবোধের অবধারিতে,
আর কিছু হোক বা না হোক,
শেষ অবধি, ঘুরেফিরেই শুতে চায় ।
প্রবৃত্তিরা শুভ পরিনতির অনবলোকনে
পরিনয়ের বাসরে 
উদ্বৃত্ত-রূপে প্রত্যাখ্যাতও হয় ।

প্রত্যাখ্যানের প্রতি আখ্যানে
অহমিকারা যত অধিক প্রকট হয়,
ততই তীব্রতররূপে অপমানিত বোধ করে ।
এরকম যাবতীয় অপমান-বোধ
ফ্যাদা-গন্ধী সমাপ্তি না ছুঁতে পারার
তীব্র হতাশায়
আসক্তির বিজয়োৎসবকেই 
পুনর্বার নির্বাচিত ও নিশ্চিত করে ।

অথচ ভালবাসা অনাবিল হলে
হতেই হবে স্বতঃস্ফূর্ততায় স্বাধীন ।
ধার করে শোধ দেওয়ার ব্যবসা-শর্তে
সে কারও ব্যক্তিগত বস্তু-সম্পত্তি নয় ।
আত্মনির্ভর উত্তরণ-প্রকল্পে
লক্ষ্যকে সুস্থির রাখতে জানলে,
দুতরফেই, কেবল উন্নতির দিশারী,
ভালবাসার পরার্থে 
লাগাম লাগে না জন-ভেদে ।
জল, প্রাবল্যের তোড়ে,
প্রতিবার নদীর সহজিয়াকে খুঁজে পায় ।

সে নদীর দুই পার 
তোমাতে-আমাতে মিলে 
তিলে তিলে গড়ে তোলা ।
বহতা বারিধারা তার মাঝে
অনায়াসে ওঠে নামে
অনুভবের জোয়ার-ভাটায় ।

মাঝের সেতুটি, অবশ্য, প্রতি ক্ষেত্রেই
ভীষণভাবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের ।
দৃশ্যমান নয় ব'লে 
নিশ্চিন্তির সে ছায়াবিথিতলে
সহজ মিলন ও বিনিময়ে 
হয়তো তবুও বাধা পড়ে বারেবার !
সোনার সোপান নির্মোক-ভ্রমে ভুলে
অবহেলিত পড়ে রয় ।

বুকের ঘর, বুকে হাত রেখে বল, 
দুয়ার-সম্ভব কি হতে পারে কখনো ?
বস্তুগত না হলে, 
পরাণের অধিক কে আর নির্ভার, নির্ভয় ?
সুন্দরের প্রতি 
এটুকুই দায় ছিল, বোধ হয়, আমাদের ।
মানুষ-ভেদে সত্য পৃথক তো নয় ।

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২

মহীয়সী

অহমিকারা আহম্মক ।
তারা হয়তো অনেক জানে,
তবে, ভালবাসতে জানে না ।

মাত্র কয়েক বছর আগে
তুমি আমার আদৌ কেউ ছিলে না ।
ভাবতেও পারিনি কখনো
ভবিষ্যত লুকিয়ে রেখেছে
আমারই জন্য
এমন গলা-অবধি দেনা ।
স্রষ্টার মহিমায় তারপরও
বহুজন বিশ্বাস করে না ।

একটা মানুষের খেয়াল
আর একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ
কোন অবধি রাখতে পারে,
অন্যের ভাল কোন অবধি চাওয়া যায়,
চেয়ে করতে পারা যায় - নিষ্ঠাসহকারে,
ভালবাসতে-বাসতে আগলে রাখায়
প্রেমের কি প্রকারে
অপর মাতৃত্বে উত্তরণ ঘটতে পারে,
সে পরিসরের ব্যপ্তি ও গভীরতা
কোন পর্যায় অবধি পৌছে যেতে চায়,
তার বাস্তব জীবনভিত্তিক অভিজ্ঞতা
এর আগে অবধি সঞ্চয়ে ছিল না ।

আজকাল
নিছক রোমাঞ্চ-স্বার্থকে হামেশা
বড় জোলো আর ছেদো মনে হতে হয়
শ্রদ্ধা-জনিত বাধ্য-সমীহের ভারের পাশে ।

তোমাকে যত কাছ থেকে দেখি
তত নির্বাক বিস্ময়ে বুঝি
ভালবাসতে শেখা
এ জীবনেও অনেকই বাকি রয়ে গেছে ।
হয়তো সে কারণেই,
যেটুকু পারি, একমনে শিখে নিতে,
তোমার তুলনা 
ভুল করেও দ্বিতীয়ে আর খুঁজি না ।

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

অস্থায়ী

ফুলের আর দুলে কি লাভ, ভ্রমর যদি না চেনে আকুল ইশারা ?

তার মানে ?

পাখি আকাশকে পাশে না দেখতে পেলে, উড়ান নিমেষে দিশেহারা ।

তার মানে ?

যখন আর কেউ নেই আশেপাশে, তখন তুমি তো একাই সাহারা ।

তার মানে ?

ঘুমাতে পারি না, জানো, বেঘোরে, তোমাকে দিতে পেয়ারী পাহারা ।

তার মানে ?

ভালবাসার জ্বালা কত, সে আমারই মত বোঝে যে কাহারা ?

তার মানে ?

তার মানে অবনত-অবিরত শঙ্কার কাছে যারা, সুখীও শুধুই তাহারা ।