সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

অনিচ্ছাকৃত

আমি ঘুমোই আমার শয্যায়,
তুমি তোমারটায়।
না কোনো ঝগড়া,
না কোনো বিচ্ছেদ—
শুধু নিঃশব্দে আমরা 
নেই যেখানে আমাদের থাকা উচিত ছিল।

এক সময়, আমাদের স্বপ্নগুলো
ছিল এক মাঠে।
এখন সেগুলো ওঠে
অজানা প্রার্থনার মতো,
বিপরীত কূল থেকে।

আমাদের মাঝে—না কোনো রাগ,
না কোনো আগুন—
শুধু ছুঁয়ে না যাওয়ার
নরম অনুপস্থিতি।
শুধু এক রকম নীরবতা
যার নাম নেই,
যা একদিন ছিল সুর।

চাঁদ আলো ছড়ায়
দুই বিছানাতেই সমান,
তবু ছোঁয় না কিছুই।
তার নিঃশব্দতা রাজকীয়,
তার দুঃখ—আমাদের।

আমরা ভাঙিনি,
আমরা সেরেও উঠিনি।
একই বইয়ের দুই পৃষ্ঠা,
যারা আর একসাথে
খোলে না।

তোমার শরীর পড়ে আছে
এক ঘরে, যেখানে আমার প্রবেশ নেই।
আমার দেহ গুটিয়ে যায়
আর এক পরিচিত ভাঁজে—
খুব চেনা,
খুব একা।

ভালবাসার সবচেয়ে নিষ্ঠুর অংশ
হলো না বলা,
চুপচাপ বিরতি—
শেষ হওয়া শুরুর আগেই।

আমরা একসাথে ঘুমাই না।
এ অনুপস্থিতি—
না কোনো উচ্চ শব্দ,
না কোনো হিংস্রতা—
শুধু ধ্বনিত হয়
একটি হারানো স্তবের
শেষ সুরের মতো।

তবুও কিছু থেকে যায়—
একটি নিঃশ্বাস, যা আমার নয়,
একটুকরো উষ্ণতা,
যা দখলহীন রয়ে গেছে বিছানার ফাঁকে,
যেন আত্মা মনে রাখে
যা শরীর ভুলে গেছে।

এটাই কি আজকের
সবচেয়ে দুঃখের গল্প?
হয়তো।
তবু দুঃখও
একটি ধরনের নিষ্ঠা।
আমরা যা ছিলাম,
তাকে শ্রদ্ধা জানাই
এই কোমল যন্ত্রণায়।

হয়তো প্রেম,
তার সবচেয়ে উচ্চতর রূপে,
অধিকার নয়,
বরং ধৈর্যের অনুগ্রহ
তার ভাঙনকে মেনে নেওয়ার।

আর তাই—
আজ রাতে,
আমি শুয়ে থাকি
এই যৌথ অনুপস্থিতির ব্যথা নিয়ে,
যেন ছোট্ট এক জ্বলজ্বলে তারা
দুই দূরের আকাশের মাঝখানে।

তুমি তোমার বিছানায়।
আমি আমারটায়।
আর আমাদের মাঝের না বলা দূরত্বে—
একটি বাড়ির প্রেতছায়া
যা আমরা প্রায় অজান্তে গড়ে তুলেছিলাম।

শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫

তাঁতি

জীবন—
বাইরের কোনো যাত্রা নয়,
বরং আত্মা ও প্রাণের ছায়ার মাঝে
মনের এক নিঃশব্দ, তীব্র খেলা।
এ এক বুনো, একাকী সাধনা,
নিজেরই প্রতিচ্ছবিতে রূপান্তরিত হওয়ার—
প্রতিটি শ্বাসে একটু স্বচ্ছ,
প্রতিটি পাতনে একটু বেশি সত্য।

জীবন—
একটি মাত্র সূতা,
পাতলা, দোদুল্যমান—
যার মাপ দৈর্ঘ্যে নয়,
বরং কত যত্নে
তাকে সময়ের সাথে গেঁথে রাখা যায়,
তাতে নির্ধারিত হয় তার মূল্য।

প্রতিটি সকাল চায় তাঁতির হাত—
যে বাঁধে, মেরামত করে,
আর প্রতিদিনকে গেঁথে তোলে
অর্থপূর্ণ এক অখণ্ড বস্ত্রে।
কারণ সামান্য একটু ঢিলেও,
অলক্ষ্য ফাঁকের ভিতর দিয়েই
অপচয়ের নীরবতা
চোরের মতো ঢুকে পড়ে।

অবহেলা ফাঁক তৈরি করে,
যার মধ্য দিয়ে
আগামী দিনের সম্ভাবনাগুলো
অদেখা, অগৃহীত থেকে
চিরতরে বিলীন হয়ে যায়—
পৌঁছায় না আর কোনো সার্থকতায়।

নষ্ট সম্ভাবনার স্মৃতি থেকে
বেদনাদায়ক আর কিছু নেই,
এবং ধীরে ধীরে খুলে পড়া জীবনের চেয়ে
বৃহত্তর কোনো শূন্যতাও নেই।

তাই প্রতিটি মুহূর্তকে রক্ষা করো।
তোমার প্রতিটি সেকেন্ড হোক নিখুঁত সেলাইয়ে গাঁথা,
প্রতিটি দিন হোক লক্ষ্য আর অর্থে গঠিত।
কারণ এই জীবন দীর্ঘ নয়,
নয় নিশ্চয়তায় পূর্ণ—
এটি শুধু একবারই আসে,
এবং তুমি কীভাবে কাটাও তাকে,
সেটিই নির্ধারণ করে
আগামীকাল তোমাকে কতটা মনে রাখবে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

ভালবাসার মাপকাঠি

তুমি কতখানি আকাশ
একজন মানুষের পরাণকে দিতে পারো
তাকে নিজের না ভেবে?

সেটা—
না হোক ত্বকে নাম লেখার আবেগ,
না হোক আকুল আকাঙ্ক্ষার কাঠামো l

ভালবাসা দেহের সীমান্তে শেষ নয়,
মনকে ছুঁয়েও না।
এ শুরু হয় যখন উভয়ই বিলীন—
একটি শিখা, যার নেই কোনো সলতে,
একটি হাওয়া, যার নেই কোনো সীমান্ত।

ভালবাসা মানে
ধরার নয়,
ছাড়ার ক্ষমতা অর্জন।
ভালবাসা মানে—
একটি এমন বিশালতা সৃষ্টি করা
যেখানে অপরজনের আকুল পরাণে
নির্বিঘ্নে খুলে যেতে পারে অনুভব
আপন উৎকর্ষ আবিষ্কারের নেশায়,
 পরতে পরতে, সম্পূর্ণ বন্ধনহীন।

তুমি কি প্রত্যক্ষ করতে পারো
একজন মানুষের জাগরণ—
তাকে নিজের সূর্যোদয় না ভেবেও,
একটি স্বতন্ত্র ভোর হিসেবে
যা তোমার দিগন্তকে ছুঁয়েও নত হয় না?
যা নিজেকে নিজে 
বিকশিত করতে জানে অবিরত?

সত্যিকারের ভালবাসা বাঁধে না।
সে কেবল শুভাকাঙ্খী হতে জানে।
সে স্থির থাকে,
যাতে অপরজন তুমুল নাচতে পারে।

এ ভালবাসা মিশে যাওয়ার আকুতি নয়,
বরং মুক্ত করে দেওয়ার অনন্ত করুণা।
এ এমন আনন্দ,
যা আকাশের মতো—
নিজে থেকে যায়,
তবু অন্যকে উড়তে দেয়।

ভালবাসা আয়না নয়,
একটি জানালা—
স্বচ্ছ, মুক্ত, অসীম—
যার ভেতর দিয়ে
একটি পরাণ
নিজের গভীরতরকে আবিষ্কার করে।

তাই,
যদি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করো
তোমার ভালবাসা কতটা সাচ্চা, কতটা গভীর,
প্রশ্ন করো বরং—
তাকে তুমি কতটা স্বাধীনতা দিতে পারো
ভয় না পেয়ে,
অহেতুক হারানোর আশঙ্কা না রেখে,
ভালবাসা পাওয়ার বাসনায়
আটকে না রেখে?

মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫

অসময়

দীর্ঘক্ষণ অনেক ধৈর্য ধরে 
খাতা ভরে
অলীক কল্পনা দিয়ে
বহুপ্রকার আল্পনা এঁকেছি ।
তারপরে অপেক্ষায় থেকেছি তার ।

সে অবশেষে এল, দেখলো,
অতঃপর মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। 

দৌড়ালাম পিছু পিছু।
শুধলাম "বলে গেলে না কিছু?"

ঘাড় ঘুরালো সে । মুখে মৃদু হাসি ।
বললো "কৈশোর কাটলো কৈ ?
রবির কাছেও শিখলে না ।
গভীর অনুভব বিনা  
সার্থক কবিতা হয় নাকি ?"