সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩

The Disrespectful

A human being remains a loser,
So long, he keeps losing everyday.

He loses his time of life
That never comes back,
So long, he accepts
A regular failure
In converting his time
Into permanent assets
In the form of his personal worth.

A human-being 
Always has every right
To lead a worthless life
Till death.

A human being
May still beg noble compassion
From others
For his futile worthlessness.

শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩

জাত্যাভিমান

কবিরা নিঃসন্দেহে একটা আলাদা জাত ।
গগনচুম্বী কল্পনার সাহসে
তারা এ বলে আমায় দ্যাখ,
তো, ও বলে আমায় ।
কল্পনা তাদের, সুন্দর ছবি আঁকতে জানে
আর শিল্পকে হামেশা ভালোমত চেনে ।
কবিদের মধ্যে নারী-দরদীরও অভাব নেই ।

তবে, একটি বিশেষ জায়গায় 
বেশিরভাগেই প্রায় একপ্রকার ।
সে হলো -
নারী-মূর্তির মাটির প্রাকৃতে
পোড়ার আগে নিরন্তর সযতনে গড়ায়
জলের কখন, কতটা, প্রবাহ প্রয়োজন
সে বোধটি কেউ 
বড় একটা স্বচ্ছ ভাবে খোঁজেনি ।

নাকি, সময় দেওয়ার ঝক্কি এড়াতে,
মৌন-শ্রবণের আলতো অবসরে 
পাশে বসে, হৃদয় দিয়ে, আদপে বোঝেইনি ?

বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩

অপারগ

এই জগতে প্রায় প্রতিটি মানুষ 
সহজাত প্রবৃত্তি হতেই সমূহ কৃপণ । 
সে দিনের-পর-দিন ধরে সঞ্চয় করে, 
আপন নিবিড়ে, বিশেষ কিছু গুপ্তধন, 
কাউকে কিচ্ছুটি না জানিয়ে, কেবলমাত্র 
স্বপ্নের 
আপনতম মানুষটির কথা মাথায় রেখে ।

তার মূল সিন্দুকটি থাকে পরাণে,
যার রঙ আজীবন চাপা রইতে পারে না ব'লে,
বাধ্য হয়ে
ছড়িয়ে পড়ে ক্রমশই - মন বেয়ে শরীরে ।
ভাণ্ডারটি ভরে গেলে কানায়-কানায়,
উপচেও পড়ে জলপ্রপাতের পারা ।
বুকের আঁচল, 
বেখেয়াল কলমের একপশলা খোঁচায়
আচমকা একটুখানি সরে যেতেই 
চকচক করে ওঠে হৃদয়ের গোপনতম আমন্ত্রণ !

তার ঔজ্জ্বল্যের তীব্রতায়
নিরুপায় অনুভবীর 
বাকরুদ্ধ দৃষ্টি ঝলসে যেতে থাকে ।
হৃদস্পন্দন স্তব্ধ হতে চায় ।
অজান্তে, অপারগ হাতটি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে 
উপরে উঠে
আছড়ে পড়ে শূন্যে, হাওয়ায় ।

সকরুণ বেণু সাড়া দিতে চেয়ে
হৃদয়কে ক্রমাগত বিচলিত করলেও,
বিবেক শেষ অবধি 
আবেগের দাস হতে পারে না ব'লে,
পূর্ববর্তী অঙ্গীকারের প্রতি স্খলনহীন নিষ্ঠায়,
অকবি-আপোষহীনতাকে, টলটল-জলেও
অতঃপরেও অটল রইতে হয় ।

শিক্ষক আহরণ

মানুষের চিন্তা বেশিরভাগ সময়ে
তার অভ্যস্ত আন্তর-প্রবূত্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত,
ও নির্দেশিত হতে থাকে ।
একটি বাঁধা-গতের সীমিত পরিধির বাইরে
একটি মানুষের অভ্যাস
সচরাচর বেরোতে বিফলই হয় ।
প্রগতি-জনিত উত্তরণ তাই কদাপি সহজ নয় ।

মানুষ যখন, নিরহঙ্কার মনের দরজাটি খুলে
মুক্ত বাতাসকে,
পরাণে, অনুভব অবধি ডেকে নেয়,
( যদিও, অনুভবের 
গভীর হতে গভীরতর স্তরও থাকতে পারে )
একমাত্র তখনই সে পরের অভিজ্ঞতা হতে
অজানা সূত্র আহরণ করতে সক্ষম হয়,
যা, তার গতানুগতিক প্রবৃত্তির বাইরে গিয়ে 
আপন পথটিকে খুঁজে নিতে
ও স্বচ্ছতর হতে যারপরনাই সাহায্য করে ।

অন্তরে শ্রদ্ধার লালন অবিরত রাখলে
শিক্ষা শেষ হয় না কোনও বয়সেই ।
শিক্ষকরাও, আশেপাশেই থেকে,
হামেশাই, আপন বোকামির দ্বারা,
কঠিন সমস্যার এমন সহজ সমাধান
চোখের সামনে অহরহ ফুটিয়ে তোলে, যে,
কৃতজ্ঞ চিত্তে, তেমন বোকাদের
পায়ের ধুলো মাথায় নিতে প্রাণ চায় ।

নিজেই আগে-ভাগে ঠকে না গিয়ে,
উন্নত ধৈর্যের মূল্যে, পরের ভুল করা অবধি
আপন প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষাকে প্রসারিত করলে
এবং পরের ভুল - 
প্রথম সুযোগে চিহ্নিত করতে পারলে,
কোনও সমালোচনায় না গিয়ে,
অপ্রতিরোধ্যতার অমায়িক উৎসবে, নীরবে,
কেবল নিজেতে, বিচক্ষণতার সুমধুর ঐতিহ্য
যত্ন করে রক্ষা করা সম্ভব হয় ।

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৩

খায় ? না, মাথায় মাখে ?

ভালবাসার দায় যেমনই থাক
সে শুধুমাত্র অনুভবের জগতে ।

প্রথম দায়টি হলো, - যে ভালবাসলো,
তার নিজের হৃদয়াকাশে
কোন স্ফূরণ ঘটালো নতুনের !
সেই স্ফূরণ আপন একান্তে 
সুন্দরকে রচনা করলো কোন অবধি !
উত্তরণে - চরৈবেতি অবাধ হলো কতদূর !

দ্বিতীয় দায়টি হলো, - যাকে ভালোবাসলো,
ভাব-বিনিময়ে সুযোগ যথেষ্ট পেলে,
তার আন্তর-প্রগতির এযাবৎ বাধা 
অপসারণ সম্ভব হলো কতটা !
যে পেল,
পাওয়ার পরে তার জীবন কী 
সহজ, তথা আনন্দময়
ও অধিকতর আসান হলো ?
তেমন হলে, তার রেশ প্রাপকের জীবনে
কতটা স্থায়িত্বের আশ্বাস যোগালো !

এরপরেও তৃতীয় একটি দায়
যা হামেশাই আরোপ করে থাকে 
মানব-প্রবৃত্তি, বহুলরূপে,
সে হলো "ভালবেসে কী পেলাম ?"
প্রসঙ্গতঃ, ভালবাসা যেহেতু
সাগরের মত, কদাপি অনুমতিসাপেক্ষ নয়,
তাই কোনও দায় থাকে না তার
পাওয়ার অথবা পাওয়ানোর প্রশ্নে ।

ভালবাসা যেহেতু কেবলই পরাণের ধন,
দুটি মানুষ, 
এমনকি, চাক্ষুষে একে অপরকে না দেখেও,
জীবনভর ভালবেসে যেতে পারে
অনুভবে ক্রমাগত ধনী হতে চেয়ে, 
আপন পরাণের ব্যাকুল তাগিদে ।

শরীর আর মন যদিও ভাবতে থাকে - 
ও সম্পত্তিটি অবধারিত তার একার,
তবে, বাজারে যেহেতু কেনা যায় না
ক্যাশ-অন-ডেলিভারিতে
এক পরাণ হতে অপর পরাণে
দুশো-টাকার ভালবাসা, 
লাভ-লোকসানের হিসেব
তাই, শেষ অবধি, খাটে না এখানে ।

তাহলে উপসংহারে যা দাঁড়ালো, সে হলো -
ভালবাসার প্রথম দায়টি আবশ্যিক,
দ্বিতীয়টি ঐচ্ছিক
আর তৃতীয়টি অনাবশ্যক ।

রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৩

প্রেমিকা

মা বলে ভাবতে পারিনি ব'লে,
প্রেমিকার আসনে রেখেছি ।
সন্তানকে দুধ দেওয়ার কালেও
তোর যৌবন-জ্বালা দেখেছি ।

তেজে যখন জ্বলে উঠিস তখন
কাম-জ্বরে অসহায় ঠেকেছি,
বরদা-রূপী স্নিগ্ধ নয়নের টানে
রমন-ইচ্ছাকে ফের মেখেছি ।

তোর কথা মাথায় আসা মানেই
উদ্দাম-দামাল হতে চেয়েছি ।
চাওয়া-রা তো একার ছিল না আমার
তোর তন্ত্রে ঠ'কেই হেরেছি ।

রুদ্রাণী তুই, চির-সংহার-রূপা,
তাই সংযমকে অগত্যা পুজেছি ।
শিব কেন যে একা সোহাগ তোর
হাড়ে-হাড়ে বেশ বুঝেছি ।

#আছে_একতারেতে_এইবেলা_মন_চুটিয়ে-ফসল_কেটে_নে_না_মন_রে_কৃষি_কাজ_জানো_না ।

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৩

প্রায়শ্চিত্ত

'মানিব্যগে রাখা টাকার গোছ ঘন-ঘন কমতে থেকে, একসময়ে, অবধারিত শূন্যে মিলাতে চায়' - এ সমস্যা বোধহয়, কম-বেশি, সকলেরই । মাঝেমধ্যেই আবিষ্কার করি ব্যথিত পরাণে, আমাকে অবাক করে, কখন যেন তিনি ফের খালি হয়ে বসে আছেন ।

অথচ এটিএম এর সুবিধা নিয়ে যে, তৎক্ষণাৎ বিপদ সামলে নেব, তার আবার অন্য সমস্যাটি হলো - "পাঁচশো টাকার খুচরো নেই" ।

এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে, একটা বাফার সেভিংস এর কথা মাথায় এল কয়েক বছর আগে । মোবাইলের কভারের ফ্ল্যাপে তৎক্ষণাৎ দুটো একশো টাকার নোট ভরে রেখে দিলাম । সে টাকা যে বেশ কয়েকবার অসময়ে পরিত্রাতার ভূমিকা পালন করে নি, এমনও নয় ।

তবে এই বিষয়টি কবে যে আমার চেতনার স্তরে পরিবর্তন এনেছিল একটু একটু ক'রে, সে কথা খেয়ালে ছিল না । দীর্ঘদিন ঐ দুটো একশো টাকার নোটে হাত পড়ার আগেই মানিব্যাগ ভর্তি হয়ে যেত আবার ।

অবশ্য, অন্য সব প্রয়োজনীয় কাগজের ফাঁকে ঢুকিয়ে রাখা একশো টাকার নোট দুটো, বাধ্য হয়ে, মাঝেমধ্যেই প্রায় জোর করে, অন্য কাগজদের সাথে বেরিয়ে এসে, "আমরাও আছি"-র মরীয়া জানান দিত । যতবার এরকম করতো, আমিও বিশেষ-রূপে বিরক্ত হয়ে, একপ্রকার জোর করে ফেরৎ পাঠাতাম তাদের জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাপের অন্ধকার ডেরায় । এভাবে কাটছিল, খুব সম্ভবতঃ এক বছরের বেশি ।

এবছর লক্ষ্মীপুজোর পরদিনই আচমকা পুরোনো পরিস্থিতি আবির্ভূত হলো ফের । সকালে, মাছের বাজারে, মাছ কিনতে কিনতে, মানিব্যাগের টাকা হাতবদল হতে হতে, ফুরিয়ে গেল একসময়ে । আর সব ধরণের মাছ কেনা হয়ে গেলেও, আমার লোলুপ নজর তখনো আটকে লইট্যা মাছে । খেয়ালও পড়ে গেছে মোবাইলের ফ্ল্যাপের গচ্ছিত উদ্ধারকর্তাদের কথা । ফলতঃ, এক কিলো লইট্যা কেটে দিতে বলে হাত বাড়ালাম মোবাইলে । আর সব কাগজের সাথে যথারীতি বেরিয়ে এল নোট দুটো । 

নোটের ভাঁজ খুলতেই, লক্ষ্য করলাম দুটোর একটা, কখন ছিঁড়ে, অচল হয়ে বসে আছে অদ্ভুতভাবে, বেখেয়ালে অন্য কাগজ টানাহ্যাঁচড়া করতে গিয়ে । "এবার কী হবে" - ভেবে 'থ' হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ, অবধারিত অপরাধবোধে । মন সেইফাঁকে পৌঁছে গেল এক অনাস্বাদিত বিষাদে ভারাক্রান্ত অসহায়তার জগতে ।

দীর্ঘ অবহেলার ভার সইতে-সইতে, একসময়ে আর না পেরে, জীবনের কাছে বাধ্য হেরে গিয়ে, কোনও মানুষের পরাণও, একসময়ে, এভাবেই ছিঁড়ে গিয়ে, অকেজো ও পরিত্যক্ত হয়নি তো, আমার অজ্ঞাতে, আমারই দ্বারা, চিরতরে ? কেবল যুক্তিবুদ্ধির মনটুকু সম্বল করে পঙ্গু-যাপন করে না মানুষ, এমনটা হ'লে, যখন ইচ্ছে-রা শুকাতে শুকাতে একপ্রকার মরেই যায়, আবেগে সাড়া না পাওয়ার কারণে আর্দ্রতা-বঞ্চিত পরাণে ? বেখেয়ালে ঘটে না অঘটন ? মানুষ কি অপর হৃদয়ের যত্ন সবসময়ে ঠিকঠাক নিতে পারে ? সব অপরাধী কি অননুভব-জনিত অপরাধ সজ্ঞানে করে ? তেমন বিশেষ ক্ষেত্রে, পাপীজনশরণপ্রভুও কি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন অক্ষমকে ক্ষমা করার বিরোধে ?

বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৩

স্পষ্ট কথা

এক জীবনের যত কিছু চাওয়া আর পাওয়া
সবই, মূলতঃ, দায়রা-সোপর্দ নিজের কাছে ।
ফলতঃ, অবশিষ্ট একা, ব্যতিক্রম - ভালবাসা,
তোমাকে অনুভবে পেলে, তবে ভরপুর বাঁচে ।

The Object

শৈল্পিক

ইশারা সুযোগ দিলেই,
নিরাপত্তাটুকুও বুঝে নিতে পেলে,
শুরু আর সাড়া মধ্যে 
কে আর খুব বেশি দেরী করে ?

কিন্তু, হয়ে যাওয়ার ঠিক পরে
অভ্যাস-বশতঃ
পরিধেয়-র পানে হাত না বাড়িয়ে
বরং, নবাবী কায়দায় 
পরম নিশ্চিন্তিতে, মুখোমুখি সোফায় বসে,
এক পায়ের উপরে আর এক পা তুলে
ফস করে সিগেরেট ধরিয়ে
দুজনে মিলে
পালাবদল-সুখটানের অবসরে
সমানতালে
দৃষ্টি দিয়ে, পরষ্পরের সাবলীল ঔদ্ধত্যকে 
আপাদমস্তক লেহনের অভাবনীয় মধুর স্বাদে,
ইতিমধ্যে লব্ধ সুখের রেশটি 
তারিয়ে তারিয়ে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ
চুটিয়ে নেওয়ার কথা
কতজনের আর মাথায় আসতে পারে ?

কাজ যাই হোক, 
পেলবতার স্বচ্ছ আচ্ছাদনের আড়ালে
সুন্দরের কমনীয় অবকাশ
লুকিয়ে থাকে জীবনের যে কোনও স্তরে ।

বুধবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৩

স্বাধীনতার সুখ

অনেকদিন সময় নিয়েছিলি
কেবল নিজের বাইরে-টুকু চেনাতে ।

আমি, অবশ্য, মেয়েলি সুবিধাবাদে
নষ্ট করিনি এক মুহূর্ত সময় ।
তুই যখন বারংবার মেপে দেখছিলি
মনের সাথে মনের মিল কতটা হয়,
আমি তখন তোকে না বলে,
তোর মনের ফাঁক গলে, কখন যে
সড়াৎ করে ঢুকে পড়েছিলাম
পরাণের ঘরে, সে খবর
জানতেও পারিস নি কখনো ।
অঢেল অবসর পেয়ে
একে একে, নিঃশব্দে, বুঝে নিয়েছিলাম 
তোর আদরের খুঁটিনাটির মাঝে
হবু সংসারখানি আমার ।

ফলতঃ, ফুলের রাতে, 
ছিটকিনি অবশেষে বন্ধ হ'লে,
তোকে প্রায় নিষ্ক্রিয় রেখে
আমার সহসা বিপরীতকরণী
আশাতীত চমকে দিয়েছিল তোকে
আমাকে চেনায় 
তখনো তোর বহুল বাকিতে ।

নিজেকে অত্যধিক স্মার্ট প্রমাণ করা আমি
শুধু জানতাম না তখনো,
সেদিন থেকেই বিরলতম উপহারে 
ছেড়ে দিবি আমার একার উপরে 
বাকি জীবনের 
ইচ্ছেমত প্রতিবারের সূচনার মহার্ঘ্য দায় ।

মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩

হাসো-তো দেখি

এ জগতে সবচেয়ে সহজ কাজ হলো
পরকে দোষারোপ করা
আর সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো
আপন স্বপ্নকে প্রবলতম ভালবেসে
নিঃশব্দে ঘাম ঝরিয়ে-ঝরিয়ে
অবশেষে
একদা সত্যে পরিণত করতে পারা ।

দ্বিতীয়-টি করতে
অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না,
কারণ অপেক্ষা-রা আবার হামেশাই
জীবনভর হওয়া পছন্দ করে ।
তবে, যা সত্যিই প্রয়োজন পড়ে, সে হলো -
আপোষহীন নিষ্ঠায়
কর্মের সাথে শৃঙ্খলার সুসমন্বয় অর্জন ।

তারপরে ? অবশেষে বোঝা যাবে -
সময়ে-অসময়ে
হাসির বাঁধভাঙা উৎসব
চিরকাল কেবলমাত্র সফলের অধিকারে ।

কর্মণ্যতা

যে কোনও জাতির অর্থনৈতিক দুঃসময় আসতেই পারে সময়ের পরিবর্তনের সাথে । তবে জাতীয় চরিত্রের মেরুদণ্ডে একবার পচন ধরলে সমস্যা অনেক গভীরে যায়, কারণ, একটি জাতির চরিত্রের ভিত্তিমূলে সার্জারী সহজ নয় মোটেও ।

বাঙালি-গর্ভ হতে বিরল প্রতিভার বহুমুখী উৎসারণ প্রায় নিয়মিত ছিল বিগত শতাব্দী অবধি । তবে গত দুই দশকে তেমন ঘটনা দেখা যায়নি আর খুব একটা । 

বিগত ছয় দশক যাবৎ রাজনীতির কুটিল আবর্ত, হঠকারী বিপ্লব ও সমবেত মধ্যাচারী অগ্রগতির দামামায়, প্রায় গলা টিপে ধরেছে বাঙালি প্রতিভার ব্যক্তিত্ব-কেন্দ্রিক ঊর্ধ্বাচারী স্বতঃস্ফূর্ততার । বাঙালির চিরাচরিত জাতিগত আদর্শ-রা বর্তমানে ভূলুন্ঠিত, নীতগত আপোষে ক্রমাগত জড়িয়ে পড়ে, সুদূরপ্রসারী দৈন্য ও হীনতায় । ফলতঃ, বাঙালি বলতে যে যুব-সম্প্রদায় বেড়ে উঠছে আজ, তারা মূলত লেজুড় প্রবৃত্তি-সম্ভূত মেধাশূন্য গড্ডলিকা মাত্র, যাদের সত্যানুভব-জনিত ন্যূনতম তেজ বা ধক নেই, সাহসী সিদ্ধান্তে, আপন কার্যকরী কর্মের নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাসের জোরে, আপন পূর্বসূরিদের মত, উত্তরসূরিদের জন্য যোগ্য পথপ্রদর্শক হওয়ার ।

এ ঘোর কলিতে বাঙালির সামনে কে দাঁড় করাবে অনুসরণযোগ্য আদর্শ আবার নতুন ক'রে ? কোন পথে উত্তির্ণ হবে বাঙালি-জাতি ফের প্রবল পরাক্রমের স্বমহিমায় ? আপামর বাংলা-ভাষীর মধ্য হতে প্রাতঃস্মরণীয় বাঙালি জেগে উঠবে আবার কোন শ্রদ্ধা ও কর্মের দ্বান্দ্বিক অপ্রতিরোধ্যতায় ?

আত্মশ্রদ্ধা শব্দটির সাথে সম্পর্কশূন্য, পরমুখাপেক্ষিতার পরকাষ্ঠারা কেবল চলে-ফিরে বেড়াচ্ছে বর্তমানে, এদেশে, মানুষের অবয়বে, সমবেত অদূরদর্শিতার, তথা, অকর্মণ্যতার 'গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক'-এর বিবশ উদযাপনে ।

সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩

Achiver-Style

A good-morning smile is always nice.
You give a smile at every dawn
To all the new blooms of nature 
Around you and feel jubilant and happy.

You also deliver a recognising smile at
The thousand and a one infatuations,
Which generally prove man faker-fools
And as dumb as flowing sheeps 
At the success of every helplessness
Before consumptive greeds of life.

You laugh at the repeating defeat
Of the basic instincts
When they fail to take you down
Of your straight-line advancement
To the higher destiny
That you earn by your everyday actions,
Following your personal routine
Guarded by acute discipline,
Guided by your uncompromising,
Conscience-driven, consciousness
And a determined will 
That silently retains an erect spine.

শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৩

উদভ্রান্তি

'জীবনের অচেনাদের
একটি-একটি ক'রে, অথবা একটু-একটু ক'রে
চিনে নিতে হবে ব'লে, বাড়াতে হবে
দিকভ্রান্ত পা - যে কোনও সহজ-লভ্য পথে', 
বা ভাসিয়ে দিতে হবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণহীন -
এরকম কথা ছিল না আদপে কোনদিন ।

উদাসীন মানে - 'অনুভবহীন, চেতনা-বিহীন
ও প্রত্যুৎপন্নমতি নয়' - এমনটাও নয় ।

আপন চিরাচরিত বিশ্বাসের অগোচরে
লক্ষ্যের রথ থেকে স্বেচ্ছায় নেমে পড়ে
ভিনদেশী পথের ধুলো 
মাখতেই হবে সারা গায়ে-পায়ে,
সাময়িকে হলেও
অন্ধ হতেই হবে ধুলো কচলে চোখে,
এমন হাস্যকর দাবী 
করেনি জীবন এ-অবধি ভুল ক'রে ।