সুসময় খালি পায়ে এসেছিল, ভবিষ্যদ্বাণীর বদলে বালিশ বয়ে।
সে ঘড়িকে হাই তুলতে শিখিয়েছিল, পাহাড়কে হাঁটু গেড়ে বসতে।
আরাম নিজেকেই রাজা ঘোষণা করেছিল কোনো নির্বাচন ছাড়াই।
আয়নাগুলো ভুলে গিয়েছিল সেই মুখগুলোকে, যারা তাদের গড়েছিল।
তারপর সময় নিঃশব্দে তার অদৃশ্য চাকা ঘুরিয়ে দিল।
সকাল একই সূর্য পরে এল, কিন্তু অন্য এক অভিপ্রায় নিয়ে।
রাস্তা এক ইঞ্চিও না সরে দীর্ঘতর হয়ে উঠল।
নদীগুলো নৌকার বদলে পাথর বহন করতে শুরু করল।
নীরবতা নিজেকেই শানিয়ে তুলল এক শিক্ষক হিসেবে।
ঝড় এল ঘৃণা নয়, হাতুড়ি হাতে।
সে ছাদ নয়, ভিত খুঁজে দেখল।
প্রতিটি ফাটল অবহেলিত শৃঙ্খলাকে মনে রাখল।
প্রতিটি ধ্বংসাবশেষ এক বিস্মৃত সূচনার মহড়া দিল।
কোথাও নক্ষত্রমালার ওপারে দাঁড়িয়ে ছিল এক বালুঘড়ি।
তার বালুকণা ছিল ধুলোর নয়, অভ্যাসের।
প্রতিটি কণা মনে রেখেছিল এক অদেখা সিদ্ধান্ত।
প্রতিটি পতন আগামীকালের ভিতরে প্রতিধ্বনি তুলেছিল।
আমার পাঁজরের নিচে ঘুমিয়ে আছে এক পরিত্যক্ত নগরী।
তার গ্রন্থাগারগুলো অপঠিত স্বপ্নের শ্বাস নেয়।
তার নাট্যমঞ্চগুলো অভিনয় করে অলিখিত ভবিষ্যতের।
তার রাস্তাগুলো অপেক্ষা করে শৃঙ্খলিত পদচারণার।
প্রয়োজন আমার একগুঁয়ে আত্মায় জানালা কেটে দিয়েছে।
বিনয় আমার ছেঁড়া পকেটে নক্ষত্র সেলাই করেছে।
আশা আমার ক্ষতের নিচে অদৃশ্য অরণ্য রোপণ করেছে।
বিলম্ব এক ধৈর্যশীল জ্যোতির্বিদের মতো মৃদু হেসেছে।
সৌভাগ্য অন্য এক দিগন্ত থেকে আমার দিকে হেঁটে এসেছে।
পরিশ্রম তাকে চিনেছিল, আমার আগে।
তাদের করমর্দনের শব্দ ছিল দূরবর্তী বজ্রধ্বনির মতো।
আকাশ তাকে কেবল কাকতালীয় বলে ডেকেছিল।
যখন বসন্ত অবশেষে ফিরে এল,
সে কোনো নতুন পৃথিবী নিয়ে আসেনি—
সে প্রকাশ করেছিল সেই পৃথিবীকে,
যাকে অধ্যবসায় গোপনে নির্মাণ করে যাচ্ছিল।
গাছেরা নত হয়েছিল অদৃশ্য শিকড়ের সামনে।
সূর্য চিনে নিয়েছিল আমার আবহাওয়ায় ক্ষয়প্রাপ্ত হাতদুটোকে।
এমনকি ছায়ারাও ফুল বহন করছিল।
আর তখন আমি বুঝলাম—
অলৌকিক ঘটনা ছিল না ফিরে আসা ঋতু,
অলৌকিক ছিল সেই আত্মা,
যে শীতকে ভুলে না গিয়ে
বসন্তকে স্বাগত জানানোর মতো দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে পেরেছিল।
এলন মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিল।