বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯

ও ভোলা রে

শরীরের সাথে অশরীরীর দ্বন্দ্বে ক্লান্ত
ও আমার ক্লিন্ন ভ্রান্তি-যাপন

শুদ্ধে হোক অথবা কোমলে,
পার্থিবে - আমার-তোমার ভেদ,
অধিকার-বোধের নিরিখে অহরহ
পাই-পয়সা চুলোচুলির হিসেব -
মৃত্যুবাণ হানছে আজও, আড়ালের
নিষাদ-লোলুপ তীব্রতরতা হতে
আমাদের
বাঁচার সরল ও সোচ্চার উৎসবে !

আগ্রহের উত্থান, অযাচিতের বিস্ময়,
সাযুজ্যের কারুকার্য, আনন্দের ভাগ,
নৈকট্যের মাতোয়ারা পরশে
পলকে তুরীয়কে ছুঁতে পারে, অথচ,
কেবলমাত্র
হৃদয়-উৎসারিত অপার্থিবে
স্বতঃস্ফূরণের - সার্থক দমকে দমকে !

সালোকসংশ্লেষী আলোকপর্ণা

তুমি আমি মুখোমুখি
মাঝে রয় অদৃশ্য নগর ।
চাক্ষুষের সীমা বিনে
মেহসুসের অখণ্ড অবসর ।

 

কখনো দরবারী আর
কখনো নেহাতই বেহাগে
সোহাগের সুরে যেথা
প্রাণকোষ প্রসারে বিহগে !

 

তুমি আমি বাঁধা নেই
স্থাবরে, অসুরের ডোরে
দোসর বাসর সাজায়
সঙ্গতে, স্বাধীন পরিসরে !

 

কার কিবা এলো গেল
সে নগর কোথায় বিরাজে
তোমার আমার যথা
যোগ নিবিড়ে আজো বাজে ।
.

 

বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯

লীলা

ও শেষ, জেনো, সবাই ছুঁতে পারে !
পেরেছে তোমার অনন্ত পূর্ব-পুরুষ - সমানে !
তুমি আর নূতন এমন কি ছড়াবে
লাস্য-খচিত হাস্যের অদূরে
একঘেয়ে পরিণতির প্রত্যুত্তরে ?

 

বরং ভাবো, কতরকম
নূতন নূতন খেলা আবিষ্কার করা
ইতিমধ্যে - এই প্রথমবার,
যা - এ বিশাল ধরায়
প্রথার বাইরে উত্তালে,
উৎসারণের সন্তর্পণে,
কেবল মাত্র
যুগল দক্ষতাতেই ছুঁতে পারা,

 

- যে খেলাদের খেলতে গেলে
দৃষ্টি ততটা উজ্জ্বলতা পায়
আগ্রহ তেমন উচ্চতা ছোঁয়
যেমনটি
আর কোন কিছুতে নয় - এ জনমে !

 

কতগুলো ? বল, কতগুলো খেলা
আবিষ্কার করা - ঠিক মাঝ বরাবর
খেলতে শিখে - মাত্র দুজনে,
হৃদয়বাসরের অবিরত একান্তে
অসম্ভবের বিরুদ্ধে - প্রতিবার
সুযোগটি তৈরী করে নেওয়ার
উর্ব্বর রোমাঞ্চে - ওৎ পেতে,
সময়কে - নিয়মের বন্ধন হতে
অবলিলায় চোখ মেরে চুরি করে ?
.


.

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯

উত্তরসুরী

সীমায় পুষ্টি রইতেই পারে !

সীমার অধিকে
যে কোনও সম্ভোগের গতি
একতরফা নিম্নপানে !
মেদবৃদ্ধি-জনিত জড়ত্বে ক্ষয় !

সৃষ্টি একা ঊর্ধ্বপানে চায়
কাঠিন্যের স্থিরতায় !

নারী, পুরুষ অপেক্ষা তরলতর !
তারল্য-ধর্মে সে
যথারীতি ভোগস্পৃহায়
সুযোগ পেলে
পুরুষের বাঁধ ছাপিয়ে যেতেই চায় !

পুরুষ তাই চিরকাল
অমানবিকতার আতিশায্যে
"নরকের দ্বার, বেশ্যা"
ইত্যাদি শত-ভূষণ ছুঁড়ে মেরে
অযুতবার
একতরফা অপমান করে গেছে নারীকে !

অথচ
নিজেরই অসংযমের অভিশাপে
অশিবের প্রাত্যহিক দৈন্যতায়
বোঝেওনি - নারীকে একবারটি
আদরে বুকে টেনে নিলে,
সোহাগের উষ্ণতাটুকু সে পেলে,
সেই একই নদীর জল
হালকা হওয়ার পথে
উল্টোরথে সহজে ফেরে !
ক্রমশ বাষ্পীয়-নিদানে ভেসে
কৈলাসশৃঙ্গে
পার্বতীরা পুনরাগমনে যায় !

সোহাগ হতে মৈথুনের
কোমলতম দূরত্ব,
সে দূরত্বের সার্থক উপযোগ,
সে দ্বান্দ্বিক অবসরে সৃষ্টির দুন্দুভি
চেনেনি পুরুষ - আদিগন্তকাল !

অবুঝ সখার অসামর্থ্য-কারণে
তাড়ার বীর্য্যহীন তারণে
নির্মম একাকিত্বের যাতনা
সখিতে
নিরন্তর আজও তড়পায় !
.


মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯

অবলা নিয়তি

জীবনের বয়স নিয়ম ক'রে
প্রত্যহ বেড়ে বেড়ে যেতে হয় আরও !

অসূয়া বলবে - "আরও কেন ?
বার্ধক্যের ভারে, হেরে যেতে ন্যুব্জ হও !
আমাদের ফাঁকা মাঠে গোল দিতে
তলে তলে ক্রমশ এবার তো মরো ।"

স্থবির - আলস্যে, মস্তিষ্কের মেদে
অবরুদ্ধ নিয়তির স্বেদে ।
ত্রাণ-হীন বার্ধক্য-যাপনে
কৈশোরে, এমনকি যৌবনে আরও !

তুমি ভালবাসার রোজে
অনন্তকাল সমর্পণে
উত্তরণ ঢালো আপন সবুজে
নিরন্তর বারি সেচনে !
কেবল সুবাসের উৎসমুখ
নবমুকুলোদ্গমে ভরো !

বৃদ্ধের ভেদন সীমাটি অতিক্রম করে
পরাক্রমের শৌর্যে অফুরান ভরে
যথোচিত পুরস্কারের স্বততঃ
বরণাধিক্য-অভিসারে, ফলতঃ,
যৌবনে উৎরে যেতেই পারো !

তোমার পরাজয়
আকাঙ্ক্ষিত হতেই পারে অক্ষম-স্বপনে !
আপন পরাণ-বীণে
তবুও পরাজিত হতেই নিয়তঃ হারো !
.

 

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯

চাইলে

গতকাল তুমি আকুলে যেচেছিলে

অনেকটা দূর হেঁটে যাওয়া

খালি পায়ে

আমার দরদ-জমিনের মাঝ বরাবর

রেশমী সবুজ গালিচায় !


চেয়েছিলে - আমি, একবারও না থেমে,

তোমার বাতায়নে

পাগল-পারা আলোর হাত বোলাবো !


চল, চলেই যাব !

চল,আজ সারা রাতকে আর

কালোর অভ্যাসে আটকে না রেখে

প্রথম থেকেই ভোরে ভরে দেব !

.



রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৯

অবসর


কখনো কখনো পরিসরটুকু দিও

যেটুকু না হলে ঘুমায় বাধ্য মানুষ !

মুখোমুখি মানেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত

ভাবতে তাই চাই কল্পনার ফানুস ৷.


কখনো কখনো নিস্তব্ধতাও রেখো

বাজতে আবারো ইচ্ছার রিণিঝিনি !

একথা ভেবো না বুকের জমা কথা

ভাগ হবে নাতো দূর হতে যদি কিনি ৷.


নিজেকে খুঁজতে আসে সর্বত্র মানুষ

বাসা বাঁধার খড়টি ঠোঁটেই রেখে !

বিবশ পরাণ পরিধানে বুঝি পারগ

ধ্যানের ধান দেবে দাঁড়িপাল্লায় ঢেকে ?.


তোমার সাথে আমার সমের মিলে

ফাঁকটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছো বড় ?

নির্ভর বিনে বাকির পুরোই ফাঁকা

প্রাণহীনে পৃথা বৃথা না হতে যে দড় !.
.

শনিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৯

বেড়ালের গলায়

সত্যকে - খোলা বাজারে স্বীকার করতে

সাহস লাগে মাত্র !

রাজনীতি - সে যে-ই করতে আসুক

একজনও মহানতায় - ধোয়া তুলসিপাতা নয় !


প্রত্যেকের, প্রতিটি আদর্শবাদী ভাষণের আড়ালে

ক্ষমতা আর বিনিয়োগ-শূন্য ব্যবসার লোভে 

ব্যক্তিস্বার্থের কৃমিরা কিলবিল করে !


গনতন্ত্র - শব্দের মহানতাটি 

বাস্তবে প্রতিফলিত তখনি হতে পারে

যখন একটি দেশে

"নিরপেক্ষ" - সবচেয়ে বড় দল হয়,

যারা, - প্রতিবার ভোটের সুবাদে

উপহারের কিঞ্চিত দাক্ষিণ্য উপেক্ষা করে,

বরং, রাজনৈতিক লোভকে চাবকে

ন্যূনতম প্রতিটি নাগরিক প্রয়োজন

আপোষহীন মিটিয়ে নিতে পারে !

গরিষ্ঠ - একবার প্রমাণিত হলে

মেনে নেওয়া ছাড়া

রাজনীতিরও উপায় বাঁচে না আর !


গনতন্ত্রের মত শক্তি হাতে পাওয়ার

বাহাত্তর বছর পরেও

একটি দেশ খোঁড়াতেই থাকে

সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পেয়ে,
তার কারণ -

নিজের পেছন সামলাতে অক্ষম ব'লে,

ছোট অথবা বড়, কোন না কোন,

রাজনৈতিক অভিনয়-প্রতিভাকে 

চরম অবাস্তবতায়

ঈশ্বর-প্রদত্ত কল্পনা ক'রে

জনসাধারণের, আজও অম্লানবদনে,

মানবাধিকারকে - শোষণের কাছে

ধর্ষণের জন্য খুলে দিতে হয় !


অবাক লাগে ! বড়ই অবাক লাগে,

যখন - আখেরে মেরুদণ্ডহীন,

তাই, বিশেষ একটি ছত্রছায়াতলে

ল্যাজ নাড়তে অভ্যস্ত তারা,

যারা নিজেদের শিক্ষিত ভাবে,

একটি গনতান্ত্রিক দেশে

স্বাবলম্বী নিরপেক্ষতার 

গনতন্ত্রে অনিবার্য ভিত্তিকে জলাঞ্জলি দিয়ে,

কোনও একটি রাজনৈতিক দলের ছাপ

বীর হনুমানের মত

বুক খুলে দেখাতে পেরে,

প্রতিনিধিত্বের ক্রীতদাসত্বে-গরবে

অশিক্ষিতের সার্থক প্রমাণে

গনতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে যায় !