বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫

যেতে দিও না

স্রষ্টার দিব্যি
তাকে থামাও যাবার আগে,
কারণ -
তার আত্মা 
শিখে নেয় বিদায়ের ভাষা অতি দ্রুত,
তার ক্ষত রূপ নেয় নীরবতার দুর্গে।

যখন সে চলে যাবে,
সে শুধু ব্যথা নিয়েই যাবে না—
সঙ্গে নিয়ে যাবে সেই নরম নক্ষত্রপুঞ্জ,
যা একদিন তোমাদের মাঝখানের আকাশ আলোকিত করেছিল।

সে হয়তো ছুঁড়ে ফেলে দেবে 
তোমার আকুতি
ভুলে যাওয়া বাতাসের মতো,
তুমি যখন ব্যস্ত রইবে
খোদাই করতে তার নাম 
নক্ষত্রের মজ্জার গভীরে,
সত্যতার নদী ঢালবে অতল গহ্বরে,
তবু তার পথ বেঁকে যাবে এমন দূরত্বে,
যেখানে ভালোবাসাও পৌঁছাতে পারে না।

একবার হৃদয় ভাঙলে,
তা নিজেকে রূপ দেয় এক অটল দুর্গে,
যেখানে অশ্রু দিয়ে গড়া হয় ইস্পাত,
আর দরজা বন্ধ থাকে
অব্যক্ত বিদায়ের গভীরতায়।

যদি ভালোবাসো, 
তাকে আঁকড়ে ধরো এখনই—
তার আগেই,
যে দূরত্বে জন্ম নেবে শিকড়,
আর আফসোস ছায়ায় লিখবে তার নাম।

তাকে হারিয়ে যেতে দিও না
অবিরাম নীরবতার ভেতরে,
কারণ একবার সে চলে গেলে,
সেতুগুলো বিলীন হয়ে যাবে
"যদি এমন হতো"র ছাইয়ে ।

স্ফূটন

“দায়িত্ববোধ” সুসিদ্ধ হতে হতে
তার শৈল্পিক পূর্ণতা খুঁজে পায়
শুধুমাত্র সম্পাদনের জ্বালে।

প্রতিটি কাজ, ইচ্ছার এক একান্ত সুর,
ভর করে কঠোর নিয়মের স্তম্ভে,
যেখানে বিচ্যুতির মায়াবী বিভ্রান্তি
তাড়িত হয় নিষ্ফলা বাতাসে,
আর বিলাসিতার বীজ
মাটি খুঁজে পায় না কোনও।

এই উদ্দেশ্যের কষাঘাতে,
সুখ গলে যায় ছায়ার মায়ায়,
আর স্বাচ্ছন্দ্য হারায় তার ক্ষীণ সিংহাসন।

যা থাকে, তা এক নীরব শিখা,
এক সতর্ক তারার আগুন,
যেখানে আত্মা, পুনর্গঠিত আর দীপ্তিময় হয়ে ওঠে 
একাধারে
প্রদীপ-পাত্র ও তার উজ্জ্বল আলোতে,
অদম্য, অটল,
চিরন্তন।

উপায়

কীভাবে গড়েন একজন মা 
তার প্রিয় সন্তানকে?

মা গড়েন মমতার স্পর্শে, যত্নের আলোয়।
প্রথমেই পূরণ করেন তিনি 
ছোট্ট ইচ্ছেগুলো,
জাগান বিশ্বাস—
সন্তানের নিজের উপর 
আর মায়ের উপর।
এরপরে আলতো হাতে ধরে 
হাঁটান সঠিক পথে,
শিখিয়ে দেন - পথের গতি থেকে 
কিভাবে আহরণ করতে হয়
চলার আনন্দ।

গতি খুলে দেয় মুক্তির আকাশ,
যেখানে আনন্দ বাঁধনহীন, সীমাহীন।
সন্তান পায় নিজের অগ্রগতির দিশা,
জানতে পারে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ।

আমাদের সকলের ভেতরে 
একই প্রকার জড়তার বাস,
অচেতন আসক্তির অদৃশ্য শিকল
আমাদের বন্দী করে রাখে দীর্ঘকাল,
চেতনাকে যখন স্বেচ্ছায়
হতে হয় নিজেরই মা,
উদ্ধার করতে হয় 
অবোধ অবচেতনকে
জড়তার গতানুগতিক আঁধার থেকে
মুক্তির পথে।

গতি ফিরে পেলে 
জীবনের গান বাজে ফের
আর স্বপ্নের নূতন-নূতন দিশা 
খুঁজে পায় আকুল হৃদয়।