বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০

উজাড়


আশা আকাঙ্খারা লুকিয়ে থাকে
মনের ফাঁকে !

শাখা মেলতে জেগে ওঠে
বসন্তোদয়ে
কুহু যেদিন আকুলে ডাকে !

বলে - "বলার ভাষাটি শিখিয়ে দাও !
একবার বলতে চায় সর্বস্ব আমার -
প্রতিটি ছোট-বড় শাখে শাখে
কোনও দ্বিধা না রেখে,
নিশ্চয়তায় পূর্ণ-কলস বুকে,


ভালবেসেছি তোমাকে !"
.

অযান্ত্রিক

মনের মাঝে
প্রাকৃত স্বাধীনতায় বেড়ে ওঠা
অসংখ্য ঝোপঝাড় ছিল
আর ছিল বড় বড় কত রকমের গাছ !


সে সব গাছ রোজ সকাল থেকে
ভরে যেত পাখির ডাকে - দিনভর !
কত দূর থেকে
কত রকমফেরে আসতো পাখিরা,
মাঝে মাঝেই মেলা বসে যেতো !


রাতে পেঁচার শিকার-শিকার খেলাও ছিল ৷


ঝোপগুলোতে ছিল
ধেড়ে ইঁদুর, গিরগিটি, পোকামাকড়
আর সাপখোপের বাস ৷
প্রবৃত্তিদের একমাত্র প্রভু মেনে
আপাত-রূপে মনটা স্বাধীনই ছিল !


হঠাৎই একদিন, 
মনের মালিক এসে হাজির হলো !
প্রোমোটিং হবে !


জেসিবির ঘড় ঘড় শব্দে
ঝোপঝাড়, ঢিবি যত, যেখানে ছিল
কয়েক দিনের মধ্যে
কেটে কুটে অসহায় সাফ !
যত অজানা রহস্যের নিগূঢ়
বুক ভরে লুকানো ছিল,
সব আচমকা উপড়ে তুলে ফেলে দিয়ে
দৃশ্যে প্রকট হলো - টানটান হলুদ মাঠ ৷

করাত এসে বড় বড় গাছদেরও
একে একে কেটে দিল ৷
চারপেয়েদের খুঁজে পাওয়া গেল না আর !
কে জানে কতজন মরেই গেল পিষে !
পাখিরা হাহাকার করতে করতে
অন্য কোথাও উড়ে গেল !


এবারে শুধু ভরে যাওয়া বাকি মনের -
কেবলই চৌকো চৌকো ঘরের বাক্সে ?


 মনের মালিক, কিন্তু অবাক করে, তারপরে,
যান্ত্রিকতার অলঙ্ঘ্য নির্বিবাদে না গিয়ে,
মনকেই, নদী ছুঁয়ে,
সত্যযুগের সতত নিয়মে
নিত্যে নিকোনো উঠানে
নূতন অরন্য-কুটিরের ছায়া-মাখা
নিজেকে সুন্দরতরে গড়ে নিতে দিল !
.

.