মনের মাঝে
প্রাকৃত স্বাধীনতায় বেড়ে ওঠা
অসংখ্য ঝোপঝাড় ছিল
আর ছিল বড় বড় কত রকমের গাছ !
সে সব গাছ রোজ সকাল থেকে
ভরে যেত পাখির ডাকে - দিনভর !
কত দূর থেকে
কত রকমফেরে আসতো পাখিরা,
মাঝে মাঝেই মেলা বসে যেতো !
রাতে পেঁচার শিকার-শিকার খেলাও ছিল ৷
ঝোপগুলোতে ছিল
ধেড়ে ইঁদুর, গিরগিটি, পোকামাকড়
আর সাপখোপের বাস ৷
প্রবৃত্তিদের একমাত্র প্রভু মেনে
আপাত-রূপে মনটা স্বাধীনই ছিল !
হঠাৎই একদিন,
মনের মালিক এসে হাজির হলো !
প্রোমোটিং হবে !
জেসিবির ঘড় ঘড় শব্দে
ঝোপঝাড়, ঢিবি যত, যেখানে ছিল
কয়েক দিনের মধ্যে
কেটে কুটে অসহায় সাফ !
যত অজানা রহস্যের নিগূঢ়
বুক ভরে লুকানো ছিল,
সব আচমকা উপড়ে তুলে ফেলে দিয়ে
দৃশ্যে প্রকট হলো - টানটান হলুদ মাঠ ৷
করাত এসে বড় বড় গাছদেরও
একে একে কেটে দিল ৷
চারপেয়েদের খুঁজে পাওয়া গেল না আর !
কে জানে কতজন মরেই গেল পিষে !
পাখিরা হাহাকার করতে করতে
অন্য কোথাও উড়ে গেল !
এবারে শুধু ভরে যাওয়া বাকি মনের -
কেবলই চৌকো চৌকো ঘরের বাক্সে ?
মনের মালিক, কিন্তু অবাক করে, তারপরে,
যান্ত্রিকতার অলঙ্ঘ্য নির্বিবাদে না গিয়ে,
মনকেই, নদী ছুঁয়ে,
সত্যযুগের সতত নিয়মে
নিত্যে নিকোনো উঠানে
নূতন অরন্য-কুটিরের ছায়া-মাখা
নিজেকে সুন্দরতরে গড়ে নিতে দিল !
.
.