শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

ভরাট

হাওয়ারা গান করে !

সে গান বারুদ চেনে না !
সে গান পথিকের প্রাণ !
বাস তার - নিত্য পথ-প্রান্তরে !

পথিক দুঃখ কেনে না !
ভালবেসে ফুল 
বাঁচিয়ে রাখে তাকে
সঞ্জীবনীর আকুল মন্তরে -
ব্যাকুলের প্রসন্নতার তরে,

যে বিতান যতনে রেখেছে আজও শ্বাস,
বাতাস বয়ে আনে সে সুবাস
যে বাতায়ন-উন্মুক্ত ঘরে,

বাঁচে আজও যেথায় সে সুরে বিশ্বাস
হার-না-মানা অপেক্ষার বরে !
.

রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

মাত্রাভেদ

কত মানুষ মরে যাচ্ছে অনাহারে
কত শিশু অর্ধ্বাহারে
আর এক পাও হাঁটতে পারছে না !

তুমি পাগল হয়ে গেছো !
ছুটে যাচ্ছো সবদিকে !
করুণ আর্ত চিৎকারে
মানুষ ডাকছো আর বলছো -
"এখনো সময় আছে
ওদের বাঁচাও, 
একটু কাছে এসে হাত দুটি বাড়াও !"

এই তো সেই সময়,
যখন তুমি নিশ্চিত ভরসায় থাকো
আর কেউ না থাকুক
আমাকে পাশে পাবেই চিরকাল !

আমিও আপ্রাণ চাইছি,
বিশ্বাস কর,
পৌঁছাতে যে কোন প্রকারে
তোমার পাশটিতে !

কিন্তু, না হেরে তাকিয়ে আছি আপাততঃ
মাকড়সার ছলে আটকে পড়ে !

তুমিও তাকাচ্ছো চতুর্দিকে বার বার !
কিন্তু আমার কথা -
সাময়িক দুর্বল স্তর হতে,
এখনো প্রবল ভাবে বেঁচে থাকা তুমি
কিছুতেই আর শুনতে পাচ্ছো না !

বুধবার, ২০ মে, ২০২০

রমনী

অবয়বে স্পষ্ট সেই ছাপ !
মানসিকতাতেও তদনুরূপ প্রত্যয় !
নিষ্ঠার জগৎটি 
সন্দেহাতীত রূপে ঋদ্ধ
সেকথা আপন পাণ্ডিত্যে
ইতিমধ্যে প্রমাণিত ৷

গতজনমে মায়ের কোলটি বিদেশে ছিল !
হয়তো ইওরোপে অথবা অ্যামেরিকায় !
মানুষ যেখানেই জন্ম নিক
পূর্বাশ্রমে ফের ফিরতে চায় ৷

এ জনমে এখানে এসে পড়ে
ভালবেসে ফেলেছো
বাংলার কমনীয়তাকে !
তবে, যৌক্তিক সরলতার অতীত অভ্যাস
ভুল করে বারবার
অনুভবের বক্ররৈখিক মনস্তত্ত্বকে সামলে নিতে ৷

একলা হয়ে পড়া তাই !

অথচ নিজে ভালবাসা
আর ভালবাসা সমানহারে পাওয়া
মানুষমাত্রেরই চাই !

হে বিচক্ষণ,
পরের ইচ্ছাকে বোঝার পাঠে
যেটুকু বাকি রয়ে গেছে
সেটুকু, অবসর বুঝে,
সমাপ্ত করে নাও !

তারপরে ভয় পেও না আর !
বিনিময়রা সুখী আর
দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার
অপেক্ষায় আছে আজও ৷
যোগ্য সহযোগও আছে,
বর্তমানে যদিও অচেনা 
নিদারুণ অনাগ্রহে আর উপেক্ষায় ৷

শুধু মনে রেখো
সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে - পাওয়া অপেক্ষা
দেওয়ার ভূমিকাটি 
সর্বদাই বেশ কয়েক গুণ বেশি,
যে দেওয়া - আপন পছন্দের হুজুগে মোটেই নয়,
তার না বলা প্রয়োজন 
প্রতি পদে বুঝে,
না চাইতে, যোগান দিতে হয়,
যেন তোমার সান্নিধ্যে এসে 
ইঁটের দালানটিকে মনে হতেই হয়
মায়ের পরশ-মাখানো 
আপন ঘরের কোমলতম আশ্রয় ৷

তারপরে ?
আত্মবিশ্বাসে 
আবেগের জগতেও
জিততে চাওয়ার ইচ্ছেটি শুধু
ফেরৎ চাই !

হে অপরূপা ! এ জগৎ
তোমাকে শুধু সুখী দেখতে চায় ৷
.


মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

মোড়

থাকতে আসেনি জেনেও
ডেকেছিল তাকে 
কোন এক শীতের দুপুরে
প্রৌঢ় বটগাছের তলে,
যেখানে সকালের ঝাড়ুদারের
পৌঁছাতে ভুল হয়ে যায় !

যেখানে শুকনো পাতার উপর দিয়ে
তার পায়ে পায়ে এগিয়ে আসার আওয়াজ
বাকি জীবনের স্মৃতিতে রয়ে যেতে
বুক অবধি নির্বিঘ্নে পৌঁছে যায় !




আরোপ ও সহায় ( একটি তুলনা )

"অহমিকা-জনিত আমি" -
ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম -
একথা - প্রায় প্রতিটি মহত্ব-লোভী
অনুভব-দৈন্যের মনে হতে হয় ! 

তার দায় থাকে,
যাকে সে ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র বলে মনে করে,
সেই অধিকাংশই বর্জ্য,  নিছক বাগাড়ম্বরকে 
মানুষের শ্রদ্ধা আদায়ের একমাত্র মাধ্যম ভেবে 
নানারূপে বিজ্ঞাপিত করার
এবং বুদ্ধির অপপ্রয়োগে
যথাসম্ভব বলপূর্বক আরোপ করার ৷

অশ্রদ্ধা ও ক্লেদ-প্রীতির
বাজারমুখী, 
তার্কিক প্রতিযোগিতাদের
নিয়ম করে
ব্যাজার-মুখো বৈশ্যদের দখলে যেতে হয় !

পৃথিবী অথচ এমন মানুষদেরও আধার
যারা অযথা চিৎকারে ব্যস্ত নয় !
যারা বলার চেয়ে শুনতে ভালবাসেন !
নিতান্তই বলতে হলে
মানবিক ভারসাম্যে 
অনভিজাত স্খলন থাকে না কোনও ৷

যাদের আপন শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার
কোন তাড়া কোনকালেই নেই,
অথচ, যাদের মধুর সংস্পর্শে এলে
মানব প্রকৃতিতে আত্মবিশ্বাস,
প্রশান্তি আর আনন্দের
পুনরুত্থান হয় -
বিবেকের স্বতঃস্ফূরণে,
সত্যানুভবের অমায়িক সাহচর্যে !

মহত্ব - বাধ্য অনুসরণ করে যাদের ৷

রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

হাসি

"আজকের আকুল গলাগলি
কাল তুমুল গালাগালিতে পাল্টে যায়,
আপন ক্ষুদ্র স্বার্থটি 
না চরিতার্থ হতে পেলে !" -
এই একঘেয়ে সংজ্ঞা দেখতে দেখতে
মানুষ সম্পর্কে আগ্রহ
বর্ষার হাওয়া-পাওয়া মুড়ির মত 
মিইয়ে বসে আছে !

"কেউ অসুন্দরকে ছুঁড়ে দিলেই
আমাকেও ওমনি লুফে নিতে হবে না !
বরং সে গতিপথ হতে
প্রত্যুৎপন্ন নিজেকে সরিয়ে নিয়ে,
আমার অনন্ত জাগৃতি 
ঘুমিয়ে পড়বে বরং
তৎক্ষণাৎ সে মনুষ্যেতর স্তরের প্রতি
ব্যতিক্রমী নির্লিপ্তিতে ! 

আমার মনের খুশি, মুখের হাসি,
যার প্রতি কেবল সুন্দরের ন্যূনতম উচ্চতার অধিকার,
তাকে একবারের জন্য হলেও 
নিম্নাকাঙ্খী কটুকে স্পর্শ করতে দেব না !"
 - আত্মবিশ্বাসে এই নিভৃত সংবদ্ধতা, 
 - রুচির এমন দৃঢ়চেতা প্রতিফলন,
একজন অন্ততঃ মানুষের যাপনে
খুঁজে যাওয়া - বহুকাল ধরে !

মেঘ না চাইতেই জল
লজ্জায় লাল হওয়া লুকাতে
বুঝতে না দিয়ে, মুহূর্তে কথা পাল্টে নিলে,
দু-অক্ষরের ডাকনামে 
বুক-ভরা আদর উপচে পড়তে চায় !

ওই যে সুনীল কবেই বলেছিলেন -
"সুন্দর লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজেরই আড়ালে ৷
মানুষ দেখে না ৷"

ভাগ্যিস, কোন আঁতেল, 
কোন এক বিকাল-বৈকল্যে, 
আপন উঁচু নাকটি নাড়াতে নাড়াতে
মন্তব্য করেছিলেন -
"নাঃ, তেমন রাবীন্দ্রিক নয় !"
আহা, শাপে তো বরও হয় !
.

.

শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

নির্দোষ শুচি

পুকুরে স্নান করে যে রোজ
তার মাঝে মাঝে জাগে সাধ
নদীতে নাইতে যেতে !

আবার নদীতে প্রাত্যহিকি যার,
তাকে ডাক পাঠায় সমুদ্র,
হামেশা মনখারাপ হলেই !

তোমার সমুদ্রের পারে শৈশব !
মহাসমুদ্রের
কোন পার হয় না বলে
পারাণী তোমার নিয়তিকে
টেনেছে গ্রামে !

তুমি নির্বাকে আবিষ্কার কর
বাঁশবনগামীদের
কাকভোর থেকে লাইন -
চুপিসারে জলশৌচের !
একটু বেশি আলো ফুটতেই
এঁটো বাসনের ঝনঝন আর
পাড়ার বৌদিদের কিচির মিচির !
অল্প কিছুটা কালচে সবুজ জল আর
বেশিরভাগটাই পচা পানায় ঢাকা,
পার বরাবর গাছে ছাওয়া
গ্রামের পুকুর ৷

বেলা বাড়তে বাড়তে যখন
সাড়ে বারোটা,
প্রেমিকা সরল দৃষ্টিতে তাকিয়ে
মিষ্টি করে হেসে,
হাতে নূতন গামছা ধরিয়ে দিয়ে বলে -
"যাও, এবার কয়েকখান ডুব দিয়ে এসো,
তোমার তো আবার সমুদ্রের অভ্যাস !"

হ্যাঁ, এ বিষয়ে সামান্য মাত্রও সন্দেহ নেই
যে, সুরূপা মেয়েটি তোমাকে
সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালবেসেছে !

তবু কেন যে ওয়াক আটকানো যায় না ?
কেন মনে হয়
"কোনও রকমে, পড়ি কি মরি,
পালাতে পারলে বাঁচি" ?

বেলা বাড়তে থাকে আরও !
ভাত বাড়ার তাড়া
পাঠাতে ব্যর্থ হয় সাড়াকে
অরুচির অবগাহনে ৷
.

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

আষাঢ়ে গপ্পো

কলকে, না হয়, নাই পেলো কল্পনা,
অপেক্ষায় রয়ে - বাস্তব-নিরূপণ !
বিষয়টি যদি আকর্ষণীয়, ওহো !
অধিকই প্রিয় সাময়িকেও তখন !

গল্প করো ! সংজ্ঞা বলো তবে !
বলতে পারো কাকে বলে - চুম্বন ?
.
ভেবেছ ভবে সহজতম এ যে,
আত্ম-স্বার্থ-মুক্ত যে নিবেদন,
ছিনিয়ে নেওয়ার ভাগেতে শূন্য রেখে
কেবলই যুগল পরাণে দ্রবিত গলন ?

অভ্যস্ত অহং সযত্নে যদি পোষা
পড়বে তবে ধরা তদ্বিধ চলন,
কঠিনে-তরলে দ্রাবক-ধর্ম ভেদে 
হাস্যস্পদে পিছিয়ে পড়া যখন !
.
ছন্দ প্রবন্ধে একবার কেটে গেলে,
রয়ে আনমনে তখনও উচাটন
ঝালার চুড়ায় বেতালার অনুনাদে 
অমিয়ে-গরল - অঝোর সে শ্রাবণ !

খুলতে অথচ পেলে গভীরে বৃৃৃৃৃতি 
দন্দ্বোজ্জ্বলে ঈড়া-পিঙ্গলা জাগরণ, 
প্রকৃতি-পুরুষে, আপন অর্ধ-হারে
নির্নিমেষে অভেদ-ধর্মী দরশন !

বিনীত কোমলে সহজলভ্য হওয়া
সমর্পনে অকল্পনীয় অনুরণন,
বিশ্বাসে যদি দুঃসাহসী মধুর
সুন্দরতমে বরণ - সে শিহরণ !
.
~~~~~~~~~~~~~~~
.

বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

তুমি, সে ও সখা

মাটিতে পা আটকে থেকে নয়,
ধুলো আর কাদা ছেড়ে
পাখির উড়ানে একটু উপরে
পরাণ রয়ে গেছে মনের অপেক্ষায়

শরীর বড় সতীন, তাই,
অথবা তুমিই তোমার দিকে
তাকিয়ে দেখতে চাওনি,
হওনি ঊর্ধ্বতরে সহায়

আর সুযোগ দাওনি 
জানলা গলে হাত বাড়িয়ে
নিজেকে নিজে ছুঁতে !

তুমি নামক একটি দোলাচল,
চিরটাকাল বিহ্বল,
অথচ, হেঁটে গেছে পথে পথে
নিজেকে ভিক্ষুক জেনে
তুমি-রাজার পিছু পিছু
হাতটি পেতে !
.

.

উন্মোচন

ভালবাসার শ্বেত-শুভ্র ক্ষরণ
বুকে উথলে ওঠায়, ব্যাকুল তখন,
যেতে চেয়েছিলে গভীর বনে !
ছুঁতে চেয়েছিলে বিনিময়কে
নিবিড়ের শৈল্পিক দ্যোতনায় ৷

"তাই সই !" - বলে 
হাতখানি ধরা তোমার
বনের মাঝে, পথ হারাতে হারাতে,
পৌঁছে দিয়েছিল তোমাকে
পর্বত-শীর্ষে,
আপাতঃ সংজ্ঞাহীন দণ্ডীকে
শীর্ষসুখের প্রবুদ্ধ সংজ্ঞায় ৷

তুমি চেয়েছিলে 
শুধু-মাত্র ভেসে যাওয়া !
তার থাকা - কেবলই ধরে রাখা,
অবিরত, ভিন্ন মাত্রার দায় !
.

সোমবার, ১১ মে, ২০২০

যেও না

"লাবন্য হঠাৎই ঝরে যায়
পেটে পুরুষ সন্তান এলে ৷
আর মেয়ে হওয়ার হলে,
ঘাম-তেল চোঁয়ানো শুরু
গাল বেয়ে !" -
এমনটা জেনে গেছিল সে
মা-মাসিদের যৌবনকালে ৷

তারপরে যৌবন এলে ভালবাসাও এল !
তারও ভিতরটি একদিন ভার-ভার হতে হলো !
একছুটে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই
নিজেকে দেখে চমকে গেল সে !
"এ কোন লাবন্যময়ী ? এতও সুঘ্রাণ তুলে রাখা ছিল শরীরের তাকে ?"

অতঃপর পেরোনো
একটি একটি করে স্বপ্নের দিন
আর অসংখ্যবার লুকিয়ে
চোরা চাউনিতে দেখা আয়নাকে ৷

তখন ভরা অষ্টম-মাস,
হঠাৎ কি সন্দেহ হলো
ডাক্তার টেষ্ট করতে দিলো !
রেজাল্ট শোনালো -
"গর্ভধান হয়েছিল কখনো !
মৃতবৎসায় হতে হবে ফের একা -
অশনি-দুর্বিপাকে ৷"
.

বুধবার, ৬ মে, ২০২০

হলে

মেনে নিলাম - 
সাময়িকে সুতীব্র তৃপ্তি পাবে,
তল-দল যেদিন অভিযোগহীন
ভরন্ত-সুখের বৈভবে !

অতঃপর ?
একবার খেলে বুঝি বাকি বাঁচার আত্মার্থে
ক্ষুধা জাগবে না আর ?
জোগানদার - জীবনভরের ক্রীতদাস রয়ে যাবে ?

আরোহনটি রইবে না 
উচ্চতার পূর্ব-শৃঙ্গে আগামীকালই,
বেচারা খালিপেটটি
আবার যখনি মোচড়াবে ৷
অথচ তুমি 
অভীষ্ট রক্তের স্বাদ পাওয়া
শ্বাপদ - ইতিমধ্যে তখন !
প্রবৃত্তিতে - মানুষ বরং কম ৷

আজ কি বলতে পারো
হতাশা - নৃশংসতার নিরিখে,
জীবনকে, অবতরণের অভিসারে,
পাশবিকতার কেমন নূতনকে চেনাতে
কোন পরাক্রমে অগ্রসর হবে ?

রবিবার, ৩ মে, ২০২০

সুইসাইড্যাল

বলবে - "আত্মহত্যা মহাপাপ" !
অথচ বলতে বলতে
একদিন শেষে 
নিজে আত্মহত্যার পথই বেছে নেবে ৷

করবে, কারণ - পিছিয়ে পড়েছিলে ! 
দাঁড়িয়ে পড়েছিলে একদিন
পিছনে ফিরে
পাওয়ার সুতীব্র বাসনায়,
জীবন যখন, ফাঁকি দিয়ে,
সময়ের হাত ধরে,
একতরফা সামনে এগিয়ে গেছে ৷

না পাওয়ার আশীর্বাদ পেয়ে
ছোট থেকে বড় হয়েছে যারা,
যেহেতু তোয়াক্কাও করে না 
না-পাওয়ার,
তাই স্বাধীনতর তারা,
ভরপুর বাঁচতে শেখে -
কেবল দেওয়ার শ্বাসে নির্ভর করে ৷

প্রতিটি দেওয়া মানে -
সদ্য পরাণে গজানো
আরও একটি সবুজ পাতা,
যে স্বয়ম্ভর বিনির্মাণ, সুখের মোহকে
শুদ্ধ আনন্দে সংশ্লেষিত করতে পারে,
প্রতিদানাকাঙ্খাহীন হলে ৷

দেওয়া, পাওয়ার মত,
পরের অধীন নয় ব'লে
থেমে পড়তে হয় না তাদের -
আটকে প'ড়ে 
সুখ-স্বপনের মোহ-জালে !

হুঁশ ফেরে না তবু বিকলের -
নিত্য-ব্যর্থ অলস বিকালে ৷
.

শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

ঝাড়ুদার

মনে পড়ে একবারও
বিকেলে,
ফেরার সময়টি ফিরে এলে ?
সাথে নিতে চায় বিমূঢ় অপেক্ষারতকে 
কোন একদিন চোখ মেরে -
"এবারে নিশ্চিন্তে চলে আয় !" - ব'লে ?

চেনায় অচেনাকে বাড়ির গেট, উঠোন
আর দেয়ালে টাঙানো
স্বামীজী, রবীন্দ্রনাথ ?

তাকিয়া টান টান করে বসতে বলে ?
ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে
একটু পরেই
এগিয়ে ধরে চায়ের কাপ ?

গল্পের সরণী ধরে 
এঁকেবেঁকে এগোতে এগোতে
তারপরে একসময়ে,
অন্যমনস্ক বিহ্বলে
বুকের অ্যালবামখানি পরতে পরতে খুলে
চেনায় আঁচলে চাপা দিয়ে রাখা, 
একাকিত্বের 
আর এক দীর্ণ ঘরদালান
আর তার সাথে 
আর না ঢেকে রাখতে পেরে
ছুঁতে দেয়, প্রশ্রয়ে ভ'রে,
জমে আছে যেখানে যত
আবর্জনার ভার ?

সুযোগ দেয় আজন্ম ঝাড়ুদারকে
অন্ততঃ একটিবার
ভোরের পাখি ডাক না পাঠানো অবধি
যত্ন করে ধুলো ঝেড়ে দিতে ?

বিদায়-লগনটিও 
একসময়ে যথানিয়মে পেরিয়ে গেলে 
পরাণ 
যতনে সামলে রাখে -  সুগন্ধে
বাসি হতে বিরূপ ফুলের হার ?