বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

অপেক্ষায়

তুমি কি খেয়াল করেছো কখনো
কী আশ্চর্য সেই ঘটনাটি
নিঃশব্দে ঘটেই যায়,

দৃষ্টি যখন, মরীয়া অপেক্ষার পরে
হাত বাড়িয়ে
দৃষ্টির হাতদুটি ধরে,
জীবনে প্রথমবার
অথবা আবার অনেক দিনের পরে 
অথবা আকস্মিক প্রশ্নের নিঃশব্দ উত্তরে ?

চার চোখ, মুহূর্ত-মধ্যে,
চারটি স্তম্ভের আকার ধারণ করতেই,
তাদের মাঝ বরাবর
উঠে যায় 
বহির্জগতের কাছে অদৃশ্য
অস্বচ্ছতার দেওয়াল !

তুমি খেয়াল করেছ কখনো 
অনুভব নিমেষে ঘর গড়ে নিয়ে
বিশ্বের কোলাহল কে এড়িয়ে যাওয়া
কেমনতর
নির্জনতার গোপন উপহার দেয় ?

প্রাণ - প্রাণকে 
রোমাঞ্চিত নিরাভরণে ছুঁতে পাওয়ার
সহজতম সুযোগে
নির্বিবাদে
ততটা কাছে চলেই আসে,
যে সুবাদে - চাতক "দুই"
বিশ্বস্ত অভিসারে, পরম নির্বিঘ্নে
"এক" হতে পারায় অবগাহন করে ৷

তুমি কি সেই ডাক-হরকরাকে
খেয়াল করেছ কখনো,
দৃষ্টির যৎসামান্য বিদ্যুৎ-প্রভা
তোমার আর আমার চৌম্বক-ক্ষেত্রকে 
মাঝখানে পেয়ে গেলে
কী সমূহ পরিমান 
প্রলয়-বরষণটি ঘটাতে পারে ?

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

আত্মকীয়া

কোমরের উপরে ঠ্যাং তুলে
ঘুমিয়ে থাকতে পেরে গেছি,
পরষ্পরের কাছে মূখ্যতঃ অপরিচিত 
আমরা সদা-মুখোমুখি দুজন,
নাকডাকার সাথে বায়ু-নিংসরণকে
সুনিপুন ভাবে মিলিয়ে দিতে পারার সুবাদে

আর ছন্দ মিলিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারার 
অশালীন নির্বিবাদে,
অভ্যস্ত পরকীয়া-বৈভবে
ক্রমাগত আউড়ে গেছি

"তুমুল প্রেমের তোড়ে
একদিন শীৎকার-রবে
চার চোখে প্রাণভরে দেখা হবে

জেগে উঠব যবে ৷"
.

.

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

ভিতর-পানে ফোটার টানে

বৃষ্টি যেদিন ঝড় পোহালো
সে ছিল প্রবল শ্রাবণ
ঢেউ তখনো বাড়ছে সবে,
বাকি - ডাকতে পারা প্লাবন !

থাকতে পারা সে উজানে
যদি বিজনে আপনে স্থির
সুর তবে চিনে ফেলেছে পাগল !
আগল হবে তবু অস্থির ?

আগল হবে বুঝি অস্থির ?
.

.

হে কবিতাময়

যে লক্ষাধিক গল্পরা, জন্মমাত্রে
অবিরত ধায় নীরব অভিসারে
তোমার বুকের উষ্ণ প্রস্রবন হতে,

এ পৃথিবীতে কেউ কেউ
কান খাড়া করে রাখে
সুযোগ পাওয়া মাত্র
আপন সীমিত সামর্থে
তাদের সুন্দরতরে মূর্ত হতে দিতে !

তেমন মানুষদের থেকে 
সাবধানে থেকো !

তোমারই একান্ত নিজস্ব সুরটি বেয়ে,
যুগলবন্দীর নন্দনতত্ত্ব মেনে 
আকাঙ্খিত স্বতঃস্ফূর্ততাটি,
সতত প্রতিদানে,
সাড়ার সাড়ম্বর স্বয়ম্বরে
হাজিরাটুকু দিলেই,

তারা, তোমাকে চড়াইয়ের পথে
কষ্টের বিনিময়ে অভিযোজনের রথে -
প্রবৃত্তির অভ্যস্ত বিচরণ-ভূমি হতে বহুদূরে
পুনর্জনমের মরমিয়া প্রসূতিসদনে
শেষ অবধি ভুলিয়ে নিয়ে চলেই যায় !

ভালবাসা - সিদ্ধার্থ হলে
কেবল তোমার ভালোর অধিকে
আপন স্বার্থে সামান্যমাত্র আপোষও 
চাইতে কী উপায়েই বা পায় ?
.

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০

লেখা-রা

সে অন্তরালের আকুতি
নজরে এলে 
হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হয় !

তোমার কলম
প্রতিবার খুঁজে ফেরে
অন্য আর একজন,
অনেকটা তোমার মতন,
তবে পুরোটা মোটেও নয়,

যেমনটি চেয়েছিলে হতে -
খুব যে স্বচ্ছ নিজেও দেখতে পাও
তাও কি নিশ্চিতে বলা যায় ?

তবু যেমনটি হলে
নিজেকে দেখে
নিজেই
বিষ্ময়ে হাততালি দিয়ে উঠলে
নিজের
নিতান্তই স্বাভাবিক মনে হয় !

জারণ

বিভ্রান্তির স্থায়ী বিনাশ মানবজীবনে সহজ কর্ম নয় ! শারীরিক আকারটুকু মাত্র পাল্টে পাল্টে গেছে তার ৷ মৎসজনম হতে মানবজনম অবধি জন্মান্তরের লক্ষ-অতীত হতে অধীত অভ্যাস মানুষকে আজও বইতে হয় প্রবৃত্তি তথা প্রকৃতির নামে ! এ পৃথিবীতে একজন মানুষও প্রবৃত্তির প্রভূত-প্রকার আগ্রাসন হতে মুক্ত নয়, - মূর্খ অহমিকা যাকে মূলতঃ "ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র" নাম দেয় ৷

তবে, সুখবরটি হলো - বিবেক নামক একটি যন্ত্র রয়েছে প্রতিটি মানুষের পরাণে, যে আক্ষরিক অর্থেই বিবর্তন-পারগ ৷ ইচ্ছা যখন বিবেককে প্রয়োজনীয় শক্তিটি সরবরাহ করে, বিবেক তখন

কামের বিপরীতে প্রেমকে

ক্রোধের বিপরীতে তেজকে

লোভের বিপরীতে অর্জনস্পৃহাকে

মোহের বিপরীতে কারুবাসনাকে

অহঙ্কারের বিপরীতে আত্মবিশ্বাসকে

আর
মাদকতার বিপরীতে সহমর্মী মহানুভবতাকে

বিকশিত করতে পারে ৷ প্রবৃত্তির জলীয়-প্রবণ অধোগতি, বিবেকের জাদু-পরশে, বিপরীত মুখে ঊর্ধ্ব-দিশাপ্রাপ্ত হয় ৷ মানুষ তখন বুঝতে পারে - শক্তি আর বস্তুর মাঝে সে একটি দশা ভিন্ন অপর কিছুই নয় ৷

গড়পড়তা মানুষ প্রতিনিয়তই প্রবৃত্তি হতে বিবেকে আর বিবেক হতে প্রবৃত্তির সেবায় - ইচ্ছার প্রযুক্তিকে, অল্টারনেটিং কারেন্টের মত প্রায় নিয়ম ক'রে, পাল্টে পাল্টে যায় ৷ সত্যের চৌম্বকশক্তি বাধ্য নিষ্কৃয় থাকে তখন ৷ বিবেক সে চৌম্বক-ক্ষেত্রকে জাগ্রত করতে সক্ষম - ধনাত্মকতার অবিরত ডাইরেক্ট কারেন্টের মাধ্যমে ৷

গঠন আর ক্ষয় - বিপরীতমুখী হতেই হয় ৷ এ নিয়মকে ঠকানোর কোন উপায় মানুষের হাতে নেই ৷ আপন বিবেকের প্রতি একনিষ্ঠতা কার কতদূর দীর্ঘস্থায়ী, তার উপরে নির্ভর ক'রে, এ জগতে সে অনুসারে মানুষে মানুষে স্তরভেদ ঘটতে হয় ৷

প্রবৃত্তি কিভাবে বিবেক হতে ইচ্ছাকে প্রতিনিয়তই হরণ করে, তার যৎসামান্য নমুনাও থাকা ভাল - উদাহরণে ৷ যার যেমন ভাবে বোঝার সে তেমনটি বুঝে নিতেই পারে ৷ 
.

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

পঙ্কজ

মানবিকতায় সমৃৃৃদ্ধতর মানুষ ? 
না, নিছক একটি রঙ ?
যদি ভুলে যাও -
কি তোমার প্রথম পরিচয়,
তবে সে সমস্যা একান্তই
তোমার একার ! আর কারও নয় ৷

তুমি না চাইতেই পারো ৷
জীবন, বাঁচার তাগিদে,
তবুও খুঁজবেই সে পথ,
রং এর অন্ধ নেশা ভুলে,
প্রয়োজনে পায়ে দলে,
যে পথে মানুষকে 
একাধিকবার উঠে দাঁড়াতে হয় !

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

উদ্বৃত্ত

আপেলে 
প্রথম কামড়টি দেওয়ার
অব্যবহিত পরেই প্রমাদ গনলো সে !
বললো "পৃথিবীর সব পুরুষ
আমার সামনে এসে দাঁড়াও ৷"

সবাই একত্র জড়ো হলে,
সে জানতে চাইলো -
"কে বেশি সুন্দর, বল,
সত্য না নারী ?"

দুই ভাগে হলো পুরুষের দল ৷
যে অধিকতর 
নারীকে সুন্দরতর মেনেছিল
সে তাদের দিকে
আপেলের না খাওয়া অবশিষ্ট অংশটি
নির্দ্বিধায় ছুঁড়ে দিয়ে,

অপরপক্ষকে
পরকীয়ার সুনিশ্চিত অবসর জেনে
পরম আশ্বস্ত হলো ৷

সমঝোতা

দিনের আলো সন্ধ্যার ডাকে 
ফিরে যেতেই
তার সাথে মুছে যায়
প্রকৃতির নাক, মুখ, চোখ,
গলা, বুক,
একে একে হাত আর পা !


তবুও নদীর জলে আলো ছলকায় -
আলোছায়া আকৃতিময়ে ৷
পুরুষের চোখ -
সে আকালের ত্রিবেণীতেও
বর্ষণ থেমে গেলে
জলের হৃদয়ের তমিশ্র অববাহিকায়
উন্মুখ ব-দ্বীপখানি
চকচক করছে - দেখতে পায় ৷


উন্মুখতরের দূরদর্শিতা
সামনে সাজিয়ে ফে
লেছে তাই 
প্লেট আর গ্লাস - প্রস্তুতিপর্বে

আর সাওয়ারীর চমকিত মরমে
যুগলবন্দী ধরমে
পশেছে অপেক্ষমান সাড়া,
সঙ্গত লগনে, চেনা দোতারার
আত্মপ্রত্যয়ী সঙ্গত-ইশারায় ৷

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

সুসময়

এমন সুযোগ এসেছে
অনেক অনেক দিন পরে !
সর্ব প্রকারের দূষণরা 
হেরে গেছে, একে একে, অবশেষে ৷

চল, মাস্ক বেঁধে উঠে পড়ি !
হাঁটতে চাইলে - অনন্ত পথ 
ফিরেছে অবশেষে, অপেক্ষায় !
যানবাহনের বাধাও অন্তর্হিত ৷
ডাকছে যখন
ভয় পেতে নেই এমন সুসময়ে ৷

হাঁটতে হাঁটতে, হাঁটতে হাঁটতে,
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসুক !
রাত কে দিন করে 
পুলিশের জিপ চলে যাক 
একটু পরে পরেই
গড়ের মাঠের পাশ দিয়ে !
প্রশ্ন করার মানুষ কেউ থাকবে না !

চল, প্রথমে চুপচাপ পাশাপাশি বসি ৷
সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং এর 
নতুন নিয়মটি 
এক্কেবারে হুবহু মেনে বসা হলে, তারপরে
অন্ধকারকে কাঁপিয়ে দিয়ে
আবার শিশুর শুরুর মত
প্রাণ খুলে হা হা করে বেশ হাসি ৷

বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০

করোনা ব'লে কি ........

শব্দরা 
হঠাৎই ফুড়ুৎ করে উড়ে যায়,
কেমন নিশ্চিন্তে ছুটি নেয়,
সময় দায়ভার নিলে ৷

এই যেমন ধর - এই তো সেদিন 
সেই যে হিজলবনে হরিণ !
তুমি তোমার
চাঁদের জোয়ারে সকাল ছলকে দেওয়া
হাসির ঝরণা মেলে, 
অক্ষরগুলোকে
এক পা এক পা করে এগোতে দিয়ে,
উচ্চারণ করেছিলে - "স ঙ্গ ম র তা" !

আমিও ওমনি বলে উঠেছিলাম - 
"কিচ্ছু হলো না - শব্দচয়ন ! 
টলটল জল-ভার চলেছিল দীর্ঘ বয়ে !
অবশেষে, হাপ ছেড়ে, দ্যাখো,
কত না নিশ্চিন্তে - আহা
পরম নির্বিঘ্নে সমর্পিতা !"

আর তারপরেই তোমার দৃষ্টি 
হরিণীর দীঘলকে ছুঁতেই
আর আমার বুকেও
"আয় তবে সহচরী"র গুনগুন যেই,

তারপরে
সেই যে প্রায় চল্লিশ মিনিট
একটাও শব্দের আর দরকার না পড়ে,
( মনে কি পড়ে )
কেমন সমানতালে পাল্লা দিয়ে 
নিশ্চিন্ত ছিল - 
সেই যে সে চুপ করে যাওয়া !

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

আকাল

দুর্ভিক্ষরা 
প্রত্যেকে নবজাতক ব'লে
দামাল হতে হতে
একসময়ে তুমুলু ক্ষুধার্ত হয়,
মুচড়ে ওঠে 
জন্মাবধি উপোষের অনিমিখ ,

মেহমানের বহিরাঙ্গ কারুকাজে -
যদিও, যতই না হোক জামদানী,
শ্বাপদ তাক করে ওৎ পেতে, 
অবরূদ্ধ শ্বাসে রয় চেয়ে !
এক পা এগোয় আর
এক পা পিছোয় !
তাপিত মরু চেনে না - বয়স,
সময় ও পরিচিতির আগল !
কেবল জানে
নিংড়ে শুষে নিতে হবে কলিজাখানি !

কোনও বেঘোর-অবসরে একবারটি
একা পেয়ে গেলে, ওমনি
সব ভনিতার পরিধান ছেড়ে, সরাসরি
ফেলবে গপ করে খেয়ে
আর কিছুদিন মাত্র পরে,
বেশ জানি !

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

আহুতি

Let me burn myself within you
to celebrate Eternal Oneness.

Let love, obviously being 
the only available device,  dissolve and eliminate 
all differences whatever.
~~~~~~~~~~

আহুতি
———

অনুমতির অপেক্ষা করে না
হৃদয়বীনাখানি !
বেজে ওঠে সাড়ার উতলে,
সুরের বাঁধভাঙা আদর 
তোমায় প্রতিবার খুঁজে পেলে !

তেমনই নতুনের জাদু 
চমকিত বিস্ময়ে এনে ফেলে
অসময়ে ফিরে এসে
আবারও দেখিয়েই গেলে !
.

ভেদ ও অভেদ

ঘাতক অনিশ্চয়তার রবাহুত অভিসারে 
আশঙ্কাকে পারে
অবিলম্বে নিশ্চিহ্ন করতে
প্রকৃত নির্ভর, - ইত্যবসরে !

ভালবাসার কোমলতার কাছে
অভেদের বরে,
আপাতঃ অদূরদর্শীর
শর্তহীন সমর্পণের উৎসারে,
অহমিকার ভেদ-ভাব
আত্মস্বার্থের অভিশাপ বইতে থেকে, 
প্রতিটিবারের অবশেষে 
পৃথিবীর ইতিহাসে বাধ্য হারে ৷

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০

কৃতিত্ব

স্রষ্টার স্বাধীন রচনা তুমি !
আকৃতির কৃতিত্ব দাবি কর ?

বিশ্বসুন্দরীও হতে পারো !
তবুও তোমার নিছক শারীরিকে
এমন কোন বিরল সম্পদ নেই
যার অমোঘ আকর্ষণে
পৃথিবীর সব পুরুষকে
একাদিক্রমে বশীভূত করতে পারো !

এ সত্য নিঠুর ও তিক্ত হতে পারে !
বাস্তবকে পারলে বিশ্বাস কোরো ৷

অসীম সম্ভাবনার আকর
অনাবিষ্কৃত রেখেছো আজও
পরাণে, অনুভবের উৎকর্ষে তোমার !
বাহিরকে অস্বীকার না করেও
অন্তরে প্রতিজনে লভ্য - 
সত্যদ্রষ্টা বিবেকের বরাভয় !

প্রকৃত শিল্পীর 
প্রাকৃত আগ্রহ নিশ্চিতে পেতে
আত্মবিশ্বাসের ত্রুটিহীন স্তরে
নিষ্ঠা-ভরে
আপন রঙের সমাহারে,
সত্যের অনাদি জ্যোতি
আংশিকে চিত্রিত, অবশ্য, 
চাইলে আজও করতেই পারো ৷
.

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

অন্তর্দর্শী

কেন এসেছিলে ? হেতু বলতে হবে !
বল - কেন, কেন, কেন ?

মানুষ যুগ যুগ ধরে
ভালবাসার অজুহাতে
হ্রস্ব স্বার্থের প্রবল উল্লাসে
একতরফা শরীরই ছেনে গেছে !

তৃপ্তি মাত্রে তার 
উদারতার উচ্চতার স্খলন,
পুঙ্খানুপুঙ্খতরে 
বাসি হওয়া প্রতিবারে,
ফলতঃ, টাটকা সুবাসের অভাবে 
লাভ-লোকসানের
ক্রমশঃ দীর্ঘতর দড়ি-টানাটানি
কোন সুমহান কর্তব্যের হিতে ?

উত্তরণ-শূন্য আহরণের গতে
নতুন করে কলুর বলদ হতে
তোমারই তাহলে কোন
ব্যতিক্রমী প্রয়োজন ছিল
উৎকর্ষ-বরণী এ পৃথিবীতে ?
.

.

বিস্মৃতা

নির্দায়-বিলাসিনীর
পূর্বরাগকে বারেবার ভুলে যাওয়া
স্নিগ্ধতাকে করেছে মাতাল ৷

নেশার চিরন্তন দাবী -
খেতে হবে যে খাবি, 
তাই অবশ্যই চাই
অধীরতার উত্তাল হাওয়া !

প্রেমের পথে প্রতিটি মহরৎ
প্রতিটিবার, সে সুবাদে,
নেমে গেছে সরাসরি নীচে 
দুলতে দুলতে বেহুঁশ
উসখুসের শিকারাতে !

অথচ, সমর্পণের পথ
চিনেছে যেদিন শ্রদ্ধার রথ,
স্বর্গের ঘোড়া মেলেছে
হৃদয় হতে ঊর্ধ্বাচারী
ভালবাসার ডানা,

ও দোলন-দরদী হাসনুহানা,

ভৈরবী-ভরা ভোর 
নিয়েছে ডেকে যাকে
প্রবল মাঝরাতে ৷
.


.

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০

তাপিত

জোর করে খাপ খোলালে
ভাল লাগে না আজকাল আর ৷
অভিমান বরং করে দিতে চায় 
অনুভবের কোমলকে - নুলো ৷

সঠিক চেনায় - সুর মেলাতে পারার
আসল চমৎকার !
অশ্রদ্ধার ঔদ্ধত্য শেখায় চ্যালেঞ্জে 
শুধুই বর্জ্যগুলো !