কখনো কি একলা হতে সাধ জাগে ?
সব ভীড় থেকে অনেক দূরে পালাতে চাও ?
তবে, ওভাবে দৌড়ে গিয়ে দেখবে
সুবিধা হলো না খুব বেশি ।
যে জঞ্জাল আর আঁস্তাকুড় বয়ে বেড়ায়
সবচেয়ে বেশি মানুষের অভ্যস্ত মন,
তারা তখনো দুর্গন্ধময় করবে পরিবেশ ।
যদি পারো, তাই সবার আগে
দোকলা মনের
অবিরত বকবকানির অভ্যেসে
তোমার আগ্রহের সাড়া দেওয়া
সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দাও ।
কেবল নিঃশব্দ অনুসরণ থাকুক জেগে ।
সাড়া না পেয়ে, একা বকতে বকতে,
অবশেষে, তেমন চুপ করে যাবে মন,
যেন এবারে ভিতরঘর
ততদূর নিঃশব্দ হতে পারে, যাতে
আলপিন পড়লেও
তার শব্দ পরিস্কার শোনা যায় ।
অতঃপর আবির্ভূত হবে চেতনার আলো
সেই নৈঃশব্দ্যের অন্ধকারটি পেলে ।
আত্মাকে পরমাত্মার সাথে পরিচয় করাতে
স্থির হবে এসে মুখোমুখি সমীপে তোমার ।
শুনতে পাবে "খোল খোল দ্বার
রাখিও না আর বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে !"
এই সেই আলো,
যে ঔজ্জ্বল্য, জীবনের অন্তর্নিহিত সত্যদের
স্বচ্ছতর রূপে চিনিয়ে দেয়
আর তারই সাথে
যাবতীয় অমূলক তার্কিকতার লয় ঘটে,
অনুভব, যুক্তি-বুদ্ধির উপরে
সফলরূপে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ।
প্রসঙ্গতঃ, এই প্রক্রিয়া তে
তুমি কোন ধর্মের লোক,
অথবা অবিশ্বাসী,
তাতে যায় আসে না বিশেষ কিছু ।
আধ্যাত্মিকতা আদপেই ধর্ম-বিশ্বাস নয়
এবং তুমি তখনো নিতান্ত সাধারণ,
অথচ, ভাবতে পার, প্রকৃত স্বাধীনতার
আভাসটুকু-মাত্র পেয়ে,
আনন্দ, ইতিমধ্যে, কোন অবধি তূরীয় তোমার ?