মানুষের বয়স যত বাড়ে
স্বপ্নগুলো ততই
পাতা ঝরার মতো
চুপিচুপি খুলে পড়ে—
কিছু স্বপ্ন বার্ধক্যের ভয়ে
নিজেরাই অবসর নেয়,
কিছু আবার কপালে ভাঁজ পড়ে
ভাঁজের মধ্যেই হারিয়ে যায়।
ঘড়ি তখন
শুধু সময় নয়,
স্বপ্ন গুনতে শুরু করে—
একটা, দুটো,
তারপর হঠাৎ থেমে যায়,
যেন সংখ্যারও ক্লান্তি আছে।
কিন্তু কিছু মানুষ থাকে
যাদের ভিতরে আরেকটা পৃথিবী—
যেখানে অভিজ্ঞতা মানে
ধুলো জমা নয়,
বরং প্রতিটি ধাক্কা
নতুন জানালার কাচ ভাঙে।
তাদের স্বপ্নগুলো
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে
বড় হয়,
হাঁটতে শেখে,
নিজের নাম ভুলে
নিজের আকার বানায়।
ভুল, ব্যর্থতা, ক্ষত—
সব মিলিয়ে
একটা অদ্ভুত সার তৈরি হয়
যার গন্ধে
স্বপ্ন আরও সবুজ হয়।
এই মানুষগুলো কবির মত
হাওয়ায় কথা বলে না,
তারা মাটির সঙ্গে চুক্তি করে—
বিচক্ষণতার হাতে হাত রেখে
স্বপ্নকে নামিয়ে আনে বাস্তবের উঠোনে,
যেখানে কাদা আছে,
কিন্তু দাঁড়ানোর জায়গাও আছে।
একদিন
স্বপ্ন আর কল্পনা থাকে না—
সে হয়ে যায় ঘর, সেতু, আলো,
বা এমন কিছু
যার নাম ইতিহাস পরে দেয়।
পৃথিবী তখন
এক মুহূর্তের জন্য
নির্বাক হয়ে যায়—
কারণ সে অভ্যস্ত
স্বপ্ন মরে যেতে দেখায়,
স্বপ্ন হাঁটতে দেখায় না।
আর সেই নীরবতায়
কেউ ফিসফিস করে বলে—
সবাই বড় হলে স্বপ্ন হারায় না,
কিছু মানুষ বড় হয়
স্বপ্নকে বহন করার শক্তি নিয়ে।
আর সেই শক্তি
কোনো পেশি নয়,
কোনো পদক নয়—
ওটা জন্মায়
ধৈর্যের গভীর গর্তে,
যেখানে আশা কাঁদে না,
শুধু অপেক্ষা করে।
এই মানুষগুলো জানে,
সব স্বপ্ন একসাথে আসে না—
কিছু আসে লাঠিতে ভর দিয়ে,
কিছু আসে চোখে চশমা পরে,
কিছু আসে দেরিতে
কিন্তু একদম ঠিক সময়ে।
তারা সময়কে শত্রু ভাবে না,
সময়কে তারা
কাজে লাগায়—
ছুরি হিসেবে নয়,
ছেনি হিসেবে,
যাতে বাস্তবের পাথরে
স্বপ্নের মুখটা ধীরে ধীরে
খোদাই করা যায়।
শেষে যখন
স্বপ্নটা পুরো দাঁড়িয়ে যায়—
রক্ত-মাংসের মতো সত্য,
ঘাম-মাটির মতো ভারী—
তখন কেউ আর প্রশ্ন করে না
এটা সম্ভব ছিল কি না।
পৃথিবী শুধু তাকিয়ে থাকে,
নীরবতারও শ্বাস আটকে যায়,
আর সময়—
যে এতদিন স্বপ্ন খেয়েছে—
সেদিন প্রথমবার
হার মেনে নেয়।