অদ্য তৃতীয় দিবস ।
বৃষ্টি এমন নাছোড় অঝোর হলে
"যাচ্চলে" বলে এক লাফ দিয়ে উঠে
ঘরের নিরাপদ ছাদকে
"বিলকুল ছাতার মাথা" বুঝে
বলে দেওয়া ভাল -
"অনেক হলো মামা, এবার আসি" ।
অতঃপর, বৃষ্টির যেচে বাড়ানো আড়ালে
মাসিমার নজর
গরুকে গোয়ালের দিকে তাড়ালে,
সেই ফাঁকে তোমার হাতটি ছিনিয়ে নিয়ে
অবশ্যই লম্বা ছুট ।
সেই কখন থেকে ডেকেই চলেছে
বুকের ভিতরে বেহায়া বাঁশি ।
হাঁপাতে হাঁপাতে ধানজমিতে পৌঁছতেই
এক হ্যাঁচকা টানে হুড়মুড়িয়ে ধপ্পাস ।
আধমানুষ-উঁচু ধানের ঘন আড়ালে
এবার আর কেউ খুঁজে পাবে না বুঝে,
আপেক্ষাদের ছুটি করিয়ে,
ঢ্যোঁড়াসাপকে পিঠের চাপে বাপ বলিয়ে,
দাপাদাপি আর
কাদা-মাখামাখির দোসরকে এবার
আষ্টেপৃষ্ঠে,
নিবিড় দোহনে ব্যস্ত হবে গভীর শ্বাস ।
মাসিমার অবশেষে যখন
জুটলো টনক নড়ার অবসর
ততক্ষণে আবার
আমাদের উত্যুঙ্গের দৌড় পগারপার ।
সুখকে ছিনিয়ে নিতে পারা জয়ে,
ফলতঃ, আর একটু পরেই
সর্বাঙ্গ-কর্দমাক্ত ফেরার কালে -
দু-জোড়া ঠোঁট জুড়ে দুলতে হবে
যার-পর-নাই অভিযোগহীন হাসি ।