মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

প্রতিক্রিয়াশীলতার দৈন্য

দুটি হাতের তালু একে অপরের দিকে প্রবল-রূপে ধেয়ে এসে আঘাত জনিত অভিঘাতটি সৃষ্টি না করলে পারষ্পরিক পীড়ন-জনিত ক্ষয়ের বিনিময়ে তালির শব্দশক্তিটি সৃষ্টি করতে পারে না !

মানবজীবনে প্রতিটি দুর্ভাগ্য-রচিত ক্ষয়ে এই ঘটনাটিরই অজ্ঞতা-খচিত পুনরাবৃত্তিটি ঘটে !

দুর্ভাগ্যের কারণটি যখন আসে, মানুষ আপন আসক্তি-উদ্ভূত প্রতিক্রিয়াটি সংযত করতে পারে না ! দুর্ভাগ্যের কারণটির সহিত মানুষের অসংযত প্রতিক্রিয়ার অবধারিত সংঘাতে বিপদটি সার্থক-রূপে বাস্তবায়িত হতে পারে !

অথচ, মানুষ যখন, আত্মশ্রদ্ধার সচেতন অধিকারে নিম্নস্তরে পতন রোধ ক'রে, প্রতিক্রিয়াটি বশীভূত রাখতে পারে - আপন সংযম-শক্তিতে, তখন দুঃসময়টি সময়সীমার চক্র এড়াতে না পেরে একসময়ে নিজেই ফের অবলুপ্ত হয় ! একহাতে তালিটি বাজতে পারে না !

এখানেই মানবজীবনে দর্শনের সর্বোচ্চ পাঠটি কার্যকরী ভূমিকা নিতে সক্ষম হয়, যে পাঠে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে, কুরুক্ষেত্রে, নির্লিপ্তির দীক্ষা দিয়েছেন - প্রবুদ্ধতম মানব-মন্ত্র - গীতায় !

মানুষে ঈশ্বরত্ব আরোপের প্রবণতা সংযত করে, তার অপরাপর সীমাকে বিস্মৃত না হয়েও, নিরপেক্ষ মানসে, এ সত্যটুকুকে স্বীকার করে নিতে কুণ্ঠা থাকার কথা নয়, যে - এই নির্লিপ্তির পাঠটি একদা জন-জাগরণে সবচেয়ে সাহসী ও কার্যকরী ভূমিকা নিতে পেরেছিল ভারতবর্ষের ইতিহাসে, - মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে, অস্ত্রের ক্ষমতাকে বহুলাংশে, সার্থক-রূপে, ক্ষমতাহীনতায় নির্বাসিত করতে পারায় !
.

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

প্রতিযোগী

প্রাণের সাথে মনের
ছোট্ট একটি খেলা - এ মানব জীবন ৷
মানুষ, অথচ, হামেশা সে খেলাতে
নিছক বুদ্ধি-দোষে গোহারা হারে !

 

অনুভব - শ্রদ্ধা আর বিনয়ের আকর !
সে সূক্ষ্মতরতার ঊর্ধ্বে
প্রকৃত মানবিক কোমলতা বিরাজ করে ৷
পরাণটি সংশয়াতীত রূপে প্রভু যখন,
অনুভবের রাজকীয় রুচি - স্বভাবে এলে
দুজোড়া চোখের মাঝে - বাঁচার মজা
নিবেদনে আর গ্রহীতার সমর্পণে
পিংপং বলের মত কতই না পারাপার করে !

 

মানুষ অথচ, আধিপত্যের লুব্ধ স্থাপনে
ক্রীতদাস-রুচি মনের যুক্তি আর বুদ্ধিকে
রাজার আসনটি আগ বাড়িয়ে দিয়ে,
অহংকারের প্রতিযোগিতায়
"আমিই সেরা" - প্রমাণের নৃশংস উল্লাসে,
একে অপরকে, কত না সহজে ছুরি মারে !

 

বুদ্ধির সরলরৈখিক প্রয়োগাধিকার
যুক্তির চকচকে ধারের অস্ত্রটি পেতেই
আপন শ্রেষ্ঠত্ব-প্রমাণ প্ররোচনায়
প্রাণের প্রসাদী অনুভবের
অনুরণন-জনিত মানবিক উৎকর্ষকে
সর্বাগ্রে অবশ করে ফেলতে চায়,
করতে অবশ্যই বেশ পারে,

 

মানুষ যখনই 

নিজেকে বেখেয়ালে খেয়াল না করে !

বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ছ্যাঁকা

দৃষ্টি-আরোপেই ফাগুনে-লাল আগুনে রাঙা - স্পৃশ্য যদি
তারমানেই তো অপেক্ষা-আকুল সোমত্ত নদী ! তারপরও
বুকে আর ফিকে ঝারি কেন রে শুধু, তালকানা বোকা ?

 

ভালবাসায় দেরে তাকে ঝপ্পাস ক'রে চুবিয়ে ! উজানে ফুলে

খামচে নাছোড়, না বলাদের ফেললো ব'লে চোখের লালে -

"ফল্গুর বানে বেসামাল যে, তারে ওরে তমালটি শোঁকা" !

  .