মানুষে মানুষে প্রাণতরঙ্গে মিল ও পার্থক্য থাকতে আছে ! কিছু মানুষ আজীবন খুঁজে যায় - মিলটি কোথায় লুকিয়ে আছে ! কেউ কেউ আবার সমর্পণের আগ বাড়ানো জোরে, আপন গতানুগতিক অভ্যাসের কঠিন অংশটি ভেঙে ফেলে, খুব সহজেই খুঁজে পায় ! নিজে খুঁজে না পেলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে, মানুষ অপরকে দোষারোপ করে হালটি ছাড়ে ৷
স্কেল চেঞ্জিং হারমোনিয়ামে, যেভাবে প্রয়োজনানুযায়ী স্কেল চেঞ্জ করে, অন্যের সুরের সাথে নিজের সুরকে মিলিয়ে নিতে হয়, - অনুনাদটি খুঁজে পেতে, ঠিক একই ভাবে, মা-রা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তানকে বুঝে নেয় এই মিলের জোরে ! সন্তানও, মায়ের সান্নিধ্যে, চেনা অনুনাদটি ঝালিয়ে নিতেই, সব বিক্ষিপ্ততা পেরিয়ে আবার সাদৃশ্যের আয়নায় নিজেকে ফিরে পেয়ে, পরম স্বচ্ছন্দ বোধ করে !
একবার স্কেলটি সঠিক খুঁজে পেলে, অতঃপর সুরে সুর মিলাতে পারার ক্রমাগত অভ্যাসে, অনুনাদটি যে হবেই - এই বিশ্বাসটি ক্রমশঃ সত্য হয়ে দানা বাঁধে - সকল অনিত্যের মাঝে ! বিশ্বাসের শিখাটি প্রথমে সাধারণত কাঁপে ! তারপরে ক্রমশঃ শত ঝড় জলের মাঝেও নিষ্কম্প অচঞ্চলতায় স্থির হতে যখন পারে, তখন তার উপরে মানুষ পরম নিশ্চিন্তে প্রতিবার নির্ভর ক'রে, মায়ের কোলের সুখটিকে পেতে পারে !
যে সম্পর্কে যতই আবেগপ্রবণতা অথবা কল্পনাকুলতা থাকুক না কেন, জীবনের অনাগত গানে - অনুভবের মধ্যে সাধারণ সত্যের যোগসূত্রটির এই নিষ্কম্প অস্তিত্বই দুটি মানুষের মধ্যে অসুরহীন সম্পর্কের শেষ কথা হতে চায়, কি শ্রদ্ধায়, কি স্নেহে, কি প্রেমের অপ্রতিহত গতিময়তার অভিসারে ৷