সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯

মগন

দহন জাগে দূরত্বের স্বেচ্ছা চাষে !
কষ্ট কেষ্টকে পায় আপন পরাণে
নির্ভরতার বাসে ।


নিকট - বহনমাত্র হতে হয়
মোহের মায়ার খেলায় ।
চাহিদা আর যোগানে ফারাক
একদা দুঃখে বর্তায় !


গহন নীরবে সুদূর হতে হাসে !
.

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

Revolution

Man evolved
And we learnt the grammer of
Languages.
Man evolved further
And we learnt the grammer of
Science and Commerce.

Man tried to glorify the positive prospect
Of brain by absolute rationalism
But we yet couldn't control
Inhuman evils
That misuse brains to 
Wider and meaner extent
And keep exploiting goodnesses
At their free will.
We, thus, couldn't arrest human sufferings.

It is only conscience
A faculty of heart-driven perception
That can restrain the evil application 
Of brain.
It is the only one-way ticket
For human civilization
To the haven, that it dreamt all along
To reach some day.

We are still far away of 
Conscious exercise of conscience
As the first principle.
We are still deprived of the best benefit
Of being a human being.
We can not yet replace animosity
By sheer love.

A brave Indian taught us once
How to become truly radical inside.
We are yet too far from
Learning the grammer of thinking.




শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

The Call


Man often visualized revolution
As an external purpose only.
Fools toiled a lot, couldn't sustain
And finally, let go.

Life claims -
"You lose freedom of choice for consumption
If you don't earn and store beforehand."
Do we still have to confuse priorities ?
What should be
The primary purpose of human life ?
Creation first or consumption ?

If it is consumption, then
We are no better than any animal.
If it is creation,
Then we are, at least, wiser than, but
Is it possible without love ?

We earn capabilities
Whenever we create ourselves and grow.
The objects of our love may vary
But they are still 'means' only.
The principal fuel of our self-creation
Is the honey, we miserly store
At our own fountain of love
That awaits an overflow
To flood all barriers of
Sadness driven stagnancies

Do we hear the tune of the flute ?
Can we,
That has ever been inviting us
To the paradise of revolution
Individual by individual ?
Do we ever feel due urge inside
For the bake and call and turn bright
To transform into further green
While growing gloriously in spirit
Even more tall ?

.

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

তাপ-তাড়িত

শরীর ছোঁবো, শরীরে খাবো
বায়না বড় !
শরীর-বাজারে হাড়ে-মাংসে
কিনতে পারো !

যে মনন - পরাণের ধন ব'লে
আকুলে চাওয়া
পরাণ দিয়েই তাকে কেবল
দুইতে পাওয়া !

তেমন দুধেই সুস্থ বিকাশে
পুষ্টি জেনো ।
নিকোনো উঠানে আসন পাতা,
আসোনি তখনো !

.

মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

জানলে পরে

বাসতে জানলে পরমহংস !

না জানলে, সত্যি সত্যি না পারলে,
জেনে শুনে কৃত্রিমতার ধোঁকা দিলে 
প্রতিটি পূজা তো অং বং চং মাত্র !

যে অসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলন
তাতে আর আমাতে তখন
তফাৎ কোথায় ?

দূরদর্শনের অংশবিশেষ দেখছিলাম ৷
মনস্তত্ত্ব আর ঈশ্বরত্বত্ত্ব
একে অপর হতে
খুব বেশি দূরে নয় - বোধহয় !

মনস্তাত্ত্বিক ও সুসঙ্গীতজ্ঞা
অতিথি বলছিলেন -
নিবেদন যখন সর্বস্ব ছুঁতে পারে
তফাৎ থাকতে পারে না তখন
পূজা আর প্রেমে !
বিরহ আর অপেক্ষার মধ্য হতে
অফুরন্ত প্রাপ্তির অভ্যূদয় হতে হয় !
পার্থিব জগতের ত্রিমাত্রিক স্পর্শসুখে
কি পেলাম আর কি পেলাম না
সেখানে তখন
কে আর আটকে রইতে পারে
অথবা চায় ?
.
.

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

অযাচক

সত্যি - তা সে কঠোর যতই হোক
মেনে নেওয়ার জন্য ন্যূনতম সাহসটি দাবীত চায় ।

তুমি লক্ষ্য ছিলে না কোনদিন,
তবে, উপলক্ষ আদিগন্তকাল ধরে ছিলে ।
লক্ষ্য ছিল একান্তে নিরলস উত্তরণ
আপন ভালবাসার দিগন্ত-প্রসারী দক্ষতায় ।

টেনে নেওয়া তাই তোমাকেই বারবার
আমার গভীরতর অনুভবের সোহাগী আদরে
তোমার মুকুলগুলি কোন দিশায় ফুটতে চায়
তাকে আরও স্বচ্ছ ভাবে বুঝে নিতে নিতে ।

স্বার্থটি যেহেতু
ব্যক্তিগত তাগিদে একান্তই আমার
তাই মূল্য দাবী করা ছিল না কোন
তোমার বিনিময়ী লাভের কারণে,
হোক না বাস্তবে তদজনিতে !

স্রষ্টা পরম করুণাময় ব'লেই,
চলৎ-শক্তি বিরূপ
করুণা-আশ্রিত ভিক্ষুকের পথ এ নয় ।
আপন উত্তরণের দাম
কেবল নিজেকেই অর্জন হতে দিতে হয় ।
তোমাকেও দিতে হবে জানি
ভালবাসার চিরন্তন দ্বন্দ্বে - মধুমন্থনে
নিছকই আপন মঙ্গলকামনায় !

জীবন তো থাকতে জানে, তুমিও জানো,
- অফুরন্ত অপেক্ষায়, আজও ঠায় !
.

.

সকাল

সুন্দরের প্রাথমিক শর্ত হলো
মাত্রাবোধে দায়বদ্ধতা !
সুরের প্রাথমিক শর্তও তাই !

সুখে, দুঃখে, আনন্দে, বিপদে,
সুন্দরের সুরটি 
আজীবন প্রতিটি ক্ষণে ধরে রাখা
সহজসাধ্য নয় !
জীবনের প্রতি একমাত্র
আপোষহীন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা
মানুষকে তেমন মহৎ করতে পারে ৷

সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে
এই কাজটি সর্বশ্রেষ্ঠ রূপে
ধরে রেখে গেছেন একজন
সৃষ্টির মানবোত্তর সাক্ষ্যে 
সুগভীর মগ্নতায় !

তার নাম রবীন্দ্রনাথ !
আর আমাদের নাম একই কারণে
রাম, শ্যাম, যদু, মধু ৷
.

.

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

স্লো পয়জন

"ফ্যাসিবাদ কোন ভাল করে নি কোনদিন
পৃথিবীর ইতিহাসে ৷"
এটুকু বলে ফেলেই
পরম নিশ্চিন্তিতে গা ভাসিয়ে দেওয়া
অনেকেরই পক্ষে হয়তো অধিক আসান, 
তবে, সর্বক্ষেত্রেই 
সমস্যার সর্বশেষ সমাধান হয়তো না ৷
বয়ে যাওয়া অতীব সহজ-সাধ্য বরাবর,
বেয়ে ওঠা - আজ অবধি সহজ ছিল না ৷

যে বৃদ্ধরা দশকের পর দশক ধরে
ধর্ষিতা কন্যাকে নিজে হাতে পুড়িয়ে
অথবা ফিরে পাওয়ার আশা 
শেষ অবধি বাধ্য জলাঞ্জলি দিয়ে
স্ত্রী, পুত্রের হাত ধরে
কয়েক পুরুষের ভিটা ছেড়ে
অবশিষ্ট সঞ্চয়টুকুও বাধ্য ঠেকিয়ে 
তবে, পেরিয়ে প্রহরীর প্রহার 
শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে
পার হচ্ছে জোড়া কাঁটাতারের বিন্ধ্য-বাধা,
তার ক্ষোভের যন্ত্রণাকে বোঝা
তোমার ভূয়সী অনুভূতির দৌড়ে 
জাস্ট কুলাবে না !

খাস কলকাতার বুকে
যে বালকটি স্কুল হতে ফেরার
পথে 
জানলা, দরজায় অপেক্ষমান
মাসিমা কাকিমাদের কাছ থেকে
রোজ কুড়িয়ে আনতো 
বিশুদ্ধ আনন্দের স্মৃতিতে
হাসির নিত্য নতুন আল্পনা,
বিকেলে, ব্রীজের রেলিং ঘেঁসে
জমে উঠতো যার
বন্ধুদের সাথে হৈ হৈ আড্ডা
প্রতিদিন অন্ততঃ দুই ঘন্টা করে

সে, কুড়ি বছর পরে
ঘটনাচক্রে
সেখানে ফিরে যেতে পেয়ে যদি দেখে
পাড়া দখল হয়ে গেছে - টুপি দাড়িতে,

হ্যাঁ, খাস কলকাতার বুকে,

যাদের দৃষ্টিতে অবাঞ্ছিতের জন্য
জমা আছে একতরফা অযাচিত ঘৃণা,
বাড়িগুলো একই আছে, কিন্তু,
একটাও তেমন সামাজিক মুখ 
আবার চোখে পড়ছে রাস্তায়, দোকানে,
অথবা 
উঁকি দিচ্ছে কোন না কোন জানলায় -
তেমনটি আর দৈবক্রমেও ঘটছে না,
বরং বদলে জাগছে 
কেবল অজানা আতঙ্কে আর অস্বস্তিতে
শ্বাপদসংকুল এক ভিনদেশী গা শিরশির,
তখন
তার বুকের যে সহসা হিমে ছেয়ে যাওয়া,
তাকে - যতই বড় কাব্য-বিধায়কই হও না কেন
মানবিকতা আর সম্প্রীতির 
ধুন্ধুমার বুলি অনবরত আকাশে উড়িয়ে,
এ জীবনের অভিজ্ঞতার দৌড়ে
কোনওমতে কল্পনাও করতে পারবে না !

সব ছেড়ে আজকের কথাও ভাবতে পারো !
বৃদ্ধ পিতা কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি !
দুই অবিবাহিতা কন্যার বড়টি
সাতদিন হলো মুর্শিদাবাদ থেকে
পাঁচ ঘন্টার পথে ফিরতেই পারছে না ব'লে
চিকিৎসা স্তব্ধ হয়ে আছে !
বড় হওয়ার পথে চোখের সামনে
তার সাতপুরুষের ধর্ম সংখ্যালঘু হয়ে গেছে
পাশাপাশি একাধিক জেলায় !
সে আর আদৌ নিশ্চিন্ত নয় আজ
একবার বের হলে
তার বিশ্বস্ত পশ্চিমবাংলা, চোখের নিমেষে,
অবিকল বাংলাদেশে পাল্টে যাবে না ৷

"মানবিক-প্রমাণিত মানুষজন
আপন কর্মের নিরন্তর অবদানে
প্রতিটি ধর্মে কম-বেশি চিরকাল থাকেই !
সুস্থ মানসিকতার মানুষের কাছে
তারা কোনদিন অশ্রদ্ধার পাত্র হতে পারে না"
- একথা নতুন করে শোনার প্রয়োজন নেই!

তবে কি জানো

উচ্চশিক্ষিতের সমাজে নিরাপত্তার বলয় 
পরম আদরে মণ্ডূক পুষতে জানে 
মার্বেল-বসানো চকচকে কূপে !
সেখানের আরামে গা এলিয়ে বসে 
বড্ড বেশি 'জানি জানি' মনে হওয়ার 
এক মানসিক চর্মরোগ 
অজান্তে বেড়ে উঠতেই পারে ৷
আখেরে, বিপ্রতীপে 
যে রূঢ় বাস্তবের আয়োজন ইতিমধ্য,
তার সামগ্রিকতাকে
আপন ইতিহাসের পাতায় পাতায়
জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসে না চিনলে
ফাটা ঢোলই বাজিয়ে যাবে অলীক-যাপনে,
গল্প লিখবে একশো দুশো -
অচিরে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে হারিয়ে যেতে,
সত্যির ছেঁকায় কেমন ফোস্কা পড়ে,
কতটা জল জমে ব্যথার গলায় গলায়,
সে হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার ভার
সামান্যতম আঁচও করতে পারবে না !

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

আসক্তি

"কোন সময়টি
কোন স্বর্ণালী সম্ভাবনাকে
উৎকর্ষের শিখরে পেতে
মানুষ ভেদে সাজিয়ে রেখেছিল ?

কোন নিত্য অবৈধাচারে
মানুষ তাকে হেলায় হারায় ?" -
ততদূর ভাবার গরজ থাকে না
আমাদের কখনো !

মানুষ স্বপ্নকে 
একতরফা হুতাশনে অনুবাদ-দক্ষ
অভ্যাসের দড়ির সীমায়
প্রাকৃত কলুর বলদ ! 
মনেও পড়ে না অচিরে তার
মুক্তি - কাকে যথার্থে বলে !

ইচ্ছাশক্তির সচেতনায়
অপেক্ষমান পৌরুষকে 
নিয়মিত নিদ্রার অভিশাপে
পরপুরুষবৎ এড়িয়ে যেতে যেতে
সরলরৈখিক দিশাকে
চিরস্থায়ী না খুঁজে পাওয়ায়
বেচারা অপারগতা
প্রবৃত্তির দাসত্ব মাথায় করে
বৃত্তপথে ঘুরেই যায়, ঘুরেই যায় ৷
~~~~~~~~~~~~~~~
.
"উত্তিষ্ঠত জাগ্রত ! প্রাপ্য বরাণ নিবোধত ৷" - স্বামী বিবেকানন্দ
.



মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

অনুনয়

এমন করে ভালবেসো না
যা তোমার হয়ে ওঠাতে
আরও একবার ছেদ ঘটাতে পারে !

খোলসের মধ্যে কাটতে থাকা জীবন
ছিটকে বেরিয়ে আসা কে
সাহসে খুজে পেয়ে, চিনে নিয়ে,
গতিতে ছন্দ মিলালে
তারপরও
আবারো ভোকাট্টা হারিয়ে যেতে পারে !

যে ভালবাসা তোমার বড্ডই নিজের
আপন গভীর উৎস হতে
উৎসারণের স্বতঃস্ফূর্তে
তোমাকে আমূল পাল্টে দিতে চায়
অসীমের সম্ভাবনায়,
খুব ছোট ঘড়ায় নাইবা ভরতে গেলে তাকে !
মেঘ হয়ে বারবার ভিজাতে আসবে সে
আসক্তিকে ফের ঢেকে নিতে না দিলে ।

শাম্ভবীতে নিবিষ্ট অমৃতমন্থন
প্রতিটি মানুষে ইচ্ছাটুকু মাত্র দাবী করে ।
সে সাগরে বার বার ফিরে এসো ।
বাকি জীবন
নিজেতে অফুরাণ বিশ্বাসে নাইতে চেও !
.

.
.

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

অনুযোগ

এটা কি প্রকৃত বিচার হলো ? ধর্মাবতার !

জন্মাবধি, এযাবৎ প্রতিটি আড়াই প্যাঁচের দিব্বি,
মানবতার মাথায় চড়ে
নৃশংসতার যে নিত্য অব্যাহত জয়জয়কার, -
ধর্মের মহানুভবতায়, শোণিতের পরম্পরায়,
ত্রুটিমুক্ত আত্তীকরণে,
আমরা যে তারই আকাঙ্ক্ষিত ও
অতি-স্বাভাবিক পরিণত অবতার !

নারী যারই গৃহপালিত পোষ্য হোক,
খাদ্যোৎকর্ষে -
সে তো সেই একই রকম সুস্বাদু চিকেন !

খাওয়া আগে হোক অথবা পরে
বার-বি-কিউ -
কিছু না কিছু তো প্রাপ্যই তাহার !



শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

হত্যা



বিপরীতের দ্বন্দ্বে

নতুনের আগমনী শুনতে পেয়েছিল ৷

তারা, ফলতঃ, কাছে এসে,

সরলতার উদাত্ত উপচার সম্বলে

হুড়মুড় করে ভালবেসে ফেলেছিল ৷




তেমনটা হলে যে বুকের নরম ছায়ায়

মাথাটিকে টেনে এনে আশ্রয় দিতেই হয়,

তাই, আর খুব বেশি কিছু না ভেবে

দুজনে উঠে পড়ে, লেগে,

একটা ঘরও বানিয়ে ফেলেছিল !




কালে কালে সম্পর্ক বললো -

"আমার যে ঘরের দাবী আছে !"

অগত্যা বিবাহও হলো !




ঘর হলে, থাকেই

নিয়ম করে রান্নাবাটি খেলা

আর ইচ্ছে-মত স্নানের সাঁতার !




কিন্তু, ঘরের পেছন-খিড়কিতে

একটা ধু ধু তেপান্তরের মাঠেরও যে

বড় বেশি প্রয়োজন ছিল

শৈশবকে তখনো বাড় জুগিয়ে বাঁচতে দিতে

বুকের শ্বাসে বিশ্বাসকে ভরপুর ভরে

হামেশা ঘরকে কাঁধে নিয়ে

আজীবন হাত ধরাধরি দৌড়ে যাওয়ার,

যেখানে পথ আর আকাশ

দুয়েরই সহসা শেষ রইতে নেই !




প্রকৃতি বললো -

"সে তো ভিতরে খোঁজার চর

বিনা অহেতুক আড়ম্বরে !"




মানতে রাজি হলো না মানুষের অহঙ্কার !

বললো - "আচ্ছা বেশ !

খেলা, তাহলে শুরু হয়,

কি না হয় - একবারটি দেখি ৷

আমারটা আমি নিজেই

সবচেয়ে ভাল বুঝে নিতে জানি !"




বিবেকের শিশুটির মুখে হাতচাপা দিয়ে

ধূর্ততা কুটিলতর চকচকে হলো ৷




মাঠে সতেজ সবুজের বদলে

বাটে উথলে উঠলো জলরঙা বিষ !

প্রসারের মুখোশ পরে

বেখেয়াল বুঝে, সুড়সুড় করে,

সংকীর্ণতা সাপের পারা ঢুকে এলো ৷




অন্তরের 'খেলা না-ভোলা' শিশুটির

এযাবৎ মায়াকে

চিরতরে কবরে শুইয়ে দিতেই,

অভিসার - ঘরের মায়াও

তাকে তুলে রেখে দিলো ৷




বিবাহ, অগত্যা, দ্বিচারিতার কাছে

উপযাজক হয়ে

ছাদহীন আশ্রয় ভিক্ষা নিতে

আত্মশ্রদ্ধা-শূন্য দুহাত বাড়িয়ে দিলো ৷

সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৯

গতি


কুল হতে সমুদ্র আকুল ডেকেছিল !
পারোনি ফিরাতে আহ্বাণ একসময়ে আর !
মেঘের ফাঁকে ফাঁকে
ঢলছিল বিকেলের গলে পড়া আলো
তোমার আঢাকা ঢেউয়ে !
তোমার মাথা কি সামান্য টলছিল ?
এগিয়ে আসছিলে পায়ে পায়ে একা
ঠিক যেন প্রথম দেখা - ভালবাসার সাথে !

আর ঠিক তখনই এমনটা হতে হলো -
একটা কালো ঘোড়া, ডানা মেলে
ক্রমশঃ বিশালতা বাড়াতে বাড়াতে
আকাশ হতে নেমে এসে
সহসা তোমাকে পিঠে তুলে
একান্তে আপন করে নিলো ।

তারপরে, একবার জলের গভীরে
আর পরক্ষণে আকাশে ওড়ায়
তুমুল প্রতিযোগিতা চলেছিল ।

সুরে, তালে আর ছন্দে
এমনই শিল্প রচনা হয়েছিল,
বোঝাতে পারিনি সেদিন,
আমার হাতের লাগাম শক্ত নাগালে নিয়ে
তোমার সে দুরন্ত দৌড়ে - টগবগের ছন্দটুকু
এ বিবশ, আঁখি না মেলেও,
না বলে, সমানতালে যুগিয়েছিল !

.

.

.
 

আবৃতি

কথাদের হিল্লোলরা যত
চিনে নিচ্ছিল হাওয়ার মত
আঁচল উড়তে চায় বা কত,
সহসা পালাবদলের পালা

চাইলে - তোমায় দেখাক দিশে
হুলের বিষে কেমন মিশে
শোষণ-তারণ লুকিয়ে থাকে
পরাতে সুখের বরণমালা

তখন তুমি অন্য খাতে
যুগলবন্দী মূর্ছনাতে
উৎসবে জোয়ার দে-দাপিয়ে
শুনতে চাইছিলে শেষ ঝালা ৷

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

হারিয়ে পাওয়া

হারতে যে আসোনি -
সে কথা কি করে যেন জানতাম !
মাঝপথে হয়তো 
বিশ্বাসে সাময়িক ভাটা,
রথের চাকা বিপথে বসে যেতে চেলে !

তারপরে যথারীতি একদিন
সত্যিকেও অবশেষে ছুঁতে পারা,
"ভালবাসতেই এসেছিলাম আমরা"
- এটুকুমাত্র বিশ্বাসে পূর্ণ নির্ভরতাকে
পরাণ-ভরে খুঁজে পেলে !

আসছে, সে আসছে

রাত মানে কেয়াবাত !
কলমও ছন্দে মাৎ !
কিন্তু সময় অসময়ও হতে পারে !

ভোরের শিশিরে
কাঁপন অন্য শিরশিরে !
চট করে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে ৷

নৈকট্য

খুব বেশি বলার প্রয়াসও থাকে না !
ইচ্ছাগুলো আপনা থেকেই মেলে
কিছু কিছু মানুষ যেচে ছুঁতে এলে !

কিছু মানুষের সাথে আজন্মকাল
নিজেকে মেলানো বড়ই কঠিন হয় ৷ কোথায় যেন বাধ্য তফাৎ, দ্বিধা, ভয় !

কিছু মানুষ বরাবর কাছেই ছিল !
আচমকা নসিব দিল কি শিকল তুলে
বিশ্বাসের পরিপাটিতে যৎসামান্য ভুলে ?

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

গোপন-কথা

তখন দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ছিল না !
ডেস্কটপ বা ল্যাপটপও না !
ছিল না টোটোর ভিড় !
মোবাইল ফোন ?
সে তো শুধু হলিউডি ছবির বোন !

ইচ্ছা কেবল কম পড়েনি ব'লে
তখনো একটিবারও আটকে পড়েনি 
দিনের পর দিন দেখা হওয়া -
যখন তখন, যেখানে সেখানে,
উদযাপনের উথলে ওঠা ব্যকুলে - 
তুমুল ভাসতে পারা আর ভাসাতে পারার 
নিরন্তর উজ্জ্বলতায়, 
সিক্ততা-আপ্লুত সীমাহীনতার অবগাহনে !
.

.

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

দূর

সুরের আদর পরশে মিশে গেলে 
অভ্যাসের খাঁচায় দুলে দুলে
প্রতিবার অযথা রূদ্ধদ্বার
আপন ছায়তেই আটকে পড় ৷

সুর ডাকে যে তোমায় দূরে
না হয়, না রইলে আর অন্তঃপুরে !
প্রসন্নপুরের সে চাঁদের ঝরণা 
যেথা নৃত্যের তালে আলোকপর্ণা,
অপেক্ষা তার তোমা-অপেক্ষা আরও !

সেথায় পৌঁছে, সৌরসেন সম্মুখে
বাঁধন যত খুলতে পারার সুখে
বিনিময়ের লগনটি এসেই গেলে
পরাণখানিও - পূর্ণ-বিবস্ত্রা হলে
বিরলের এ সীমাহীন নিখিলে
মুগ্ধতার তার বরাভয়-মসলিনে 
সমর্পণী কুঞ্চন যত - সলজ্জ মেলে
অনুপমাও হতেই তো শেষে পারো !

মলাট-ছেঁড়া

সেদিন বলতে পারিনি তোমায়

আমার মনের ব্যথা !


অপার নৈঃশব্দ্যে রয়ে

প্রবল ভাবে একলা হয়ে

বুক ফাটতে থাকার ধৈর্য্য সয়ে

অনবরত খুঁজতে থাকা কথা !


তোমার ঘরটি যদিও গোছানো তখন

তবুও এ পারে প্রবল মাতন

ভিন্ন যতনে রাঙাবেই বলে,

পুজারিণী, চারুলতা !
.

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

বর্ণ-বরণ

পুরুষ এক অদ্ভুত প্রজাতি এ ধরায় !

সে, না ভালবেসে, নারীকে
নিছক মাংস-রূপে শিকার করতে পারে
বিনা দ্বিধায় !

প্রেমেও পড়ে ইচ্ছার উত্তরে !

আবার, না প্রেমে পড়ে,
সুদীর্ঘকাল, নিঃস্বার্থ উদারতায়,
নিছক অনুভবের কার্পণ্যহীনতায়
দরদী ভালবাসতেও পারে !

নারী মূলতঃ প্রেমেই পড়ে 
আর পরিনামে সমর্পণ না পেলে
উপায় থাকে না আর সাধারণতঃ তার !
নিজেকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে তখন -
আর্তনাদে, ঘৃণায় আর আত্মধিক্কারে ৷

অতি বিরল সে ব্যতিক্রমী উত্তরণ,
তেমনটি এ জগতেই যদিও ঘটে,
নারীর অন্তর্দৃষ্টি যখন নিজে থেকে 
বলিষ্ঠ প্রত্যয়ে উচ্চারণ করে -

"তোমার মধ্যে যে আন্তরিকতা পাই, 
যা - এ বিশাল পৃথিবীতে
রক্ষা করে বাঁচাকে আমার প্রতিবার
গভীরতায় দীন সম্পর্কদের মাঝে
মাঝে মাঝেই, 
ক্রমশই একা হয়ে যেতে থাকার বাস্তবে
এক নির্মম মহাশূন্যে অবধারিত পতন হতে,
সেই অনুভবী অস্তিত্বটির প্রতি
বিশ্বাস-ঘন নির্ভরতার আশ্বাস 
অনেক বেশি দামী সম্পদ - 
আমার যাপনের নিয়তঃ প্রয়োজনে !

এর অতিরিক্ত 
কোন সাময়িক সুখের লোভ
অবশিষ্ট রাখিনি
তোমার নিকট হতে চরিতার্থ করার - আমার ৷"

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

সত্য-সুন্দর

পথ চলতে গিয়ে
কত যে কবির ছবি নজরে পড়ে !

তারা আপন আপন চমৎকারে
অনবরত দাবী করে -
"কারুবাসনার স্বাধীনতা চাই - নিছকই সুন্দরে !
শিল্পীর কৈফিয়ৎ-দায় রইতে পারে - 
একমাত্র শিল্পেরই তরে !"

আমাকে সঙ্কুলান দিও, তবু,
হে প্রভু, তোমার উদারে
কোপাই এর পারে, ও পিতৃ-প্রতিম,
শিল্প যে স্তরে লক্ষ্যকে খোয়ায় না চক্রের আলস্য-বিবরে,

বরং
আগলে রাখে বুকে, পরম আদরে,
সুন্দরকে দীর্ঘায়ু সরলতা জোগাতে
অনিমিক সত্যের আধারে ৷
.

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

অন্তর্ণিহিত

মূলসূত্রটি যদি স্বচ্ছ থাকে, তবে, "মানুষ পৃথিবীতে এসেছে যে মহানন্দে ভোগ করতে !" - এ সিদ্ধান্তে দ্বিমত থাকতেই পারে না ৷

মূলসূত্রটি হলো - সংযম-সচেতনতা উদ্ভূত প্রবুদ্ধ আত্মনিয়ন্ত্রণে, ভোগ্যকে - নিরাপদ গ্রহণের হারে, যথার্থ সীমাটিকে সার্থক রূপে অক্ষত রাখতে হবে !

হিন্দুধর্মের মূল বৈশিষ্টটি হলো - প্রতিটি মানবচিত গুণ ঈশ্বরের অভিধায় পৃথক পৃথক রূপে সংজ্ঞায়িত হয়েছে ৷

শিব অর্থে সংযমের সুঅভ্যাসকে প্রকৃত আরাধনটি দিতে পারা চাই আপন প্রত্যাহার-চেতনায় ! গাঁজা, ভাঙ ও অপর যাবতীয় ভোগের উপলক্ষ যোগ্যের পরীক্ষা নিতে অপরিমিত থাকতেই পারে !

আর শ্রাবণ মাসে জল ঢালার বাস ? সে তো স্বল্পবোধের বাধ্য কুসংস্কারে ৷
:)

রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯

Consumption

Sex may be, if desired, optional
Or even, be it the food for the stomach,
You still can not survive
Without consuming time
The fourth dimension.

Every life is a mere stopwatch
That gives one this scope
Of various kind of consumptions
With a silent warning, that -

"Venturing beyond limit
In tempted gourmandising

Will leave your senses more dull,
Lower the space for easy breathing
And take you away from truths
That liberates higher perceptions

Happiness silently departs
Whenever peace is abruptly cheated
By pleasure-seeking obsessions.

~~~~~~~~~~~~~~~~~~
P.S. Jogis, deliberately arrested  in Himalayan caves during winter by ice, for months, are said to healthily survive by consuming oxygen only from air, while remaining completely without any solid or liquid food.

বিতনু

ভোরের শিশির-আদরে
প্রতিটিবার নতুন করে
পাপড়ি পুরোটা মেলতে দেওয়া তার
অনিবার !

এর অধিক 
আর একফোঁটাও কি কিছু ?

ছুটছো আজীবন বেদম জোরে ৷
কিন্তু, কিসের পিছু পিছু ?
.

অপরাজেয় বিচার

আমারও, জানো, এককালে ঠিক এমনটাই মনে হতো, যে - এই বিশাল পৃথিবীতে, এত এত মানুষের মধ্যে, আমার জন্য - কোথাও একজনও কেউ নেই !

তারপরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ভিখারীর অপমান সহ্য করব না আর এ জীবনে, অতঃপর কোনমতেই ! নিরন্তর দেনা-পাওনার হিসেবই নির্ধনের ভিক্ষুক-প্রাপ্যের উৎস ৷ সুতরাং প্রথমে নিজের দিকে ফেরো ! আপন অন্তরে আসক্ত অপেক্ষাদের সবার আগে নিকেশ করতে হবে ! আর তার সাথে সাথে, সুখভিক্ষুকের দল থেকে নিজের নামটি নিজে নিঃশব্দে কেটে দিয়ে, আর একবারও পিছন পানে না তাকিয়ে ফিরে আসতে হবে ৷

নিজে ভালবেসে গেলে, পাওয়ার সুখ - বিনিময়ে না পেলেও, আনন্দের অভাবটি কখনো হতে যে পারে না, - কেবল এই সত্যটুকুকে যাপনে মসৃণতার একমাত্র উৎস-সম্বল করে, না পাওয়াদের নির্লিপ্তির উদাত্ত অগ্রাহ্য দিয়ে, বিনিময়ের কখনো কোনও শর্ত না রেখে, কেবল নিজের একার প্রত্যক্ষের জোরে বেঁচে থাকতে পারতেই হবে ! 

অনেক বেশি বয়সে এসে বুঝিছি - অপেক্ষা বাদ দিয়ে অবিরত ভালবাসার চাষ করে করেই প্রতিটি মানুষের ভালবাসার জগতে আপন প্রারব্ধের ঋণকে শুধতে বা ক্ষয়িয়ে ফেলতে পারা যায়, এমনকি এক জীবনেই, আরব্ধের প্রতিযোগী উচ্চতার প্রয়োজনীয় অর্জনে ! মনে রাখতে হবে - অযাচক নীতির সাথে শুধু আপোষটি করা চলবে না কোন পরিস্থিতিতেই ৷

পাল্লা ভারী হতে হতে একদিন অন্য দিকে হেলতেই হবে ৷ জীবন তখনই, অভ্যস্ত গতানুগতিকের পরিপ্রেক্ষিতে, বিপরীত নিয়মে পাল্টে, চমকে দিয়ে, না চাইতেই, শালা, বাপ বাপ বলে, যেচে এসে হেসে ধরাও দেবে !
.

ঘর


মানুষের মন বাইরে বাধ্য হয়ে যাই মানুক, আসলে সে অন্তরে আদপেই গরীব-বড়লোক প্রভেদের তোয়াক্কাও করে না ৷ সকলের মনের ঘরের ভিতরেই থাকতে হয় - ঘর পেরোলে ঘর, তার মধ্যে আরও অনেক প্রকারের ঘর, - কুটির, দালান, বাগানবাড়ি, বাগানবাড়িতে ফুলের ঘর, সদ্য আড়াল চেনা লতাপাতার ঘর, উদাস বসার ছাতিমতলা, লুকিয়ে পড়ার গাছের কোটর, আরও কত রকমের যে ঘরের আয়োজন, সে যেমনটি যার, - একমাত্র সে ই তার কৌলিন্যের পরিমাপটি বলতে পারে !

তবে যত রকমেরই ঘর থাকুক না কেন, একটি ঠিক সেই একই রকমের - সকলেরই থাকতে হয় ! সে হলো ভালবাসার ঘর ৷ 

তার অবস্থানটি কিন্তু অনেকটাই আমরা যাকে মন বলি, সেখানে নয় ৷ বরং পরাণের ধুকপুকে, প্রজাপতি-পাখার নিরন্তর কাঁপনের আচ্ছাদনে, যে ঘরে একই ক্ষণে একজনই মাত্র সর্বসাকুল্যে আঁটে !

একান্তের নির্জন নিরাপত্তায় মনের মানুষটি সেখানে গৃহীর আপন শ্বাসের কেদারায়, আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে, আদরের নিয়ম করে ফুটে উঠতে পারার নিশ্চিন্ত বিলাসে, গৃহ-দেবতার উপাস্যসম শ্রেষ্ঠত্বে - প্রায় অনায়াসেই স্বর্গ-যাপন করে !

যে বোঝে, সে আবার যেন - বুঝেও অথচ বোঝে না, তেমন বাসটির আড়ালে সে - কার বুকের মাখনে, কতটা কোমলের পরিমলে, কোন সোহাগের নিগূঢ় পরশের বান্তরে, গভীরতার কেমন অনাবিল প্রশান্তিতে, কোন অবিরত মন্থনের টইটুম্বুরে - রোজ ক্ষীরটি ঠিক খেয়েই যায়, মাখামাখির না-বলা সমঝোতার কেমনতর ভিন্ন-পথে, অভিন্নতার বেহিসেবী যোগসূত্রে, সহস্র ঝড়জলের মাঝেও, আলোকবর্তিকার ক্রমশঃ স্পষ্টতররূপে প্রকট হতে চাওয়া কোন এক গূঢ় উজ্জ্বলতার অবিরাম আকুলে উপচে প'ড়ে !
~~~~~~~~~~~~
শুন মাইয়া মোরি, ম্যায় নেহি মাখন খায়ো !
শুন মাইয়া মোরি, ম্যায়নে হি মাখন খায়ো !  
:)
~~~~~~~~~~~~
.

শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯

দ্বন্দ্বের নাছোড়

অশ্রুরও
একটিই মাত্র প্রকার নয় !

দুঃখ আর কষ্ট !
তফাৎ কি স্পষ্ট ?

স্বেচ্ছায় কষ্ট পরের তরেও
হতে পারে নির্দিষ্ট !
আনন্দাশ্রুকে ডাকতে পারে
আঁখির বাইরের কোনায় !

দুঃখ - আসক্তিমাত্র !
একপেশে আত্মস্বার্থ !
জল কেবল -
নাকের দুপাশ ভিজিয়ে ঠোঁটে নামে !
জিহ্বা - লবনকে চেটে চেটে
আসক্তিকে ফের ভিতরে বাড়ায় !

কষ্টই ত্রাতা !
ত্বরণকে সে-ই তাড়া দেয় !

তথাপি মানুষ
দুঃখকে সম্বল ক'রে ৷
"আহারে, বেদনা-বাদক আমার !"
- এই ব'লে,
স্থবিরকে নিয়তির বানী করতে চায় !

বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

পাবক



তোমার দৃষ্টিতে শিকারীর লোভ !
অজগরের সম্মোহনী আগ্রাসনে
নিছক অধিকৃত-করণ !
প্রকৃতির দান - যে আপন নিম্ন-জঠরাগ্নি
তুমি তার নাম দিয়েছো - প্রেম !
তোমার একদিন চৈতন্য হোক !
তার দৃষ্টিকোণ হতে তাকে
পার্থক্যজনিতেও দেখতে শিখো !
তার জীবন-বোধের
প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের
আলাদা করে সঞ্চালন-সুবাদে,
সুবিধা আর অসুবিধাদের
প্রত্যক্ষ পরিচিতি
তার নিকট হতে বুঝে নিও - সর্বপ্রথমে,
নিজেতে - সহানুভূতির সার্থক উন্মেষে
মাতৃ-দরদের পূন্যস্মৃতিকে অনুসরণ করে !
অন্তরটি স্পষ্টতর হলে, দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে
স্থুলতর বহিরাঙ্গখানি, যদি চাও,
তারপরে প্রাপ্য যতনে,  সুর-তাল না কেটে,
মানবিক সৌন্দর্য্যবোধের
কোনও না কোনও শৈল্পিক কলার চমকিতে
আর্তনাদহীন বাজাতে চাইতে যেও ৷

বাসনা


নিরবচ্ছিন্ন উপোষ করে রোগা হবে ?
ধুসস্ ! মিথ্যার বেসাতি শুধু !
কাঠের ল্যাঙটও হেরে যাবে !

প্রাকৃত ক্ষিদের কাছে - 
বাধ্য তোমাকে, অন্ততঃ শুরুতে, 
বারংবার পরাজয়ই হবে !

এবার তাহলে কি হবে ?

হারের চাবুকটি খেয়ে 
ভূপতিতে - ক্ষমার উদারে,
সস্নেহে চিবুকটি তুলে ধরে
নিজেকে প্রতিবারই নতুন ক'রে
অদম্য লক্ষ্যে 
দাঁড়ও করিয়ে দিতে হবে !

এবং আর 'বারে' নয়, 
বরং 'পরিমানে', খুবই সামান্য ক'রে,
প্রতি সপ্তাহে লোভের বরাদ্দ-কে
সচেতনে ছাঁটতে শিখতে হবে !

ক্ষুধার দোতালাকে এবারে
অনেকই 
বেখেয়ালে বয়ে চলা দিনের পরে,
অবশেষে,
উপরে অথবা তলে - যেমনটি চেলে, অথবা যুগলে,
একদিন হালকা হতেই হবে ৷
তবেই অভীষ্টকে কষ্টের আরাধ্যে পাবে ৷

আর হাল ছেড়ে, ধরো যদি ভেসেই গেলে, তবে পেটমোটা
তাকেই প্রকৃত পুরুষ মেনে -
সুগভীর শ্রদ্ধায়
প্রবল প্রেমে পড়ে রয়ে গেছে
প্রাপ্য মর্যাদা দিতে - 
সে কোন মহৎ প্রকৃতি গো ? 

মরি মরি ! আহা, কোন জনমের উৎসবে ?

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

পাবক

তোমার দৃষ্টিতে শিকারীর লোভ !

অজগরের সম্মোহনী আগ্রাসন,
নিছক অধিকৃত-করণ 
আর তেমনটা না হলেই - ক্ষোভ !

প্রকৃতির দানে - আপনে 
যে অপর জঠরাগ্নি - ক্ষুধায় ভগ্নী,
তুমি তারই নাম দিয়েছো - প্রেম !

তোমার চৈতন্য হোক ! 
বর্ষিত হোক বরং মোলায়েম !
তার দৃষ্টিকোণ হতে তাকে দেখে
পার্থক্যজনিতেও পেতে শিখো হেম !

সে জীবন-বোধের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের
সঞ্চালন-ব্যাকরণ সুবাদে,
সুবিধা আর অসুবিধাদের 
প্রত্যক্ষ পরিচিতির নির্বিবাদে,
তারই নিকট হতে বুঝে নিও -
তার আকাঙ্খাদের - আলাপন সাধে !

অন্তরটি তার স্পষ্টতর ব্যক্ত হলে
দুশ্চিন্তামুক্ত কালে
অধিবাস নাচেই যদি তোমারো কপালে,
স্থুলতর বহিরাঙ্গ তার, যদি চাও,
তারপরে পরশে পেতে চেও !

প্রাপ্য যতনে, সুর-তাল কদাপি না কেটে,
মানবিক সৌন্দর্য্যবোধের পথে হেঁটে
তার আর্তনাদহীনকে নাড়তে চাড়তে যেও ৷

রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

Limit


A very rare grace of balance within
That churns my appreciation for you

I am not only a mere admirer of it,
The person you, that exists on earth
Makes me proud and obliged too

In spite of having a regular
And round-the-clock life-mate,
Just as yours too,
I find the sheer probability
Of the blissful journey
Of a genuine understanding
( That's the only name, I find, I may do )

That is never barren out of a casual friendship
Or obsessed by any extramarital eccentricity,

But a lasting and reliable one, in nature
Surprisingly, yes, is coming up with you !
.

শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

দ্রাবক


জীবনকে পূনর্ণবা খুঁজে কি পাও
প্রতিদিনের চাষে ?
সকাল, তুচ্ছতম ঘাসের শিশিরে,
তোমাকে দেখে কি সত্যিই হাসে আজো?

দিনের প্রথম চা-টি বাড়াতে গিয়ে
মমত্বকে পরমে ছুঁতে পাও ?
নিদ্রিতকে জাগাও স্নেহের উদারে ?

তোমাকে আদর করতে ডাকে ঘর বাসনকোসনে ?
খুন্তিতে - হাতের পরশে
পরাণের অধরসুধাটি অকৃপণে বিলাও ?

ফুলগাছরা নেচে ওঠে বাগানে
তোমার আসার আওয়াজ পেয়ে ?
তুমি চেয়ারে বসলে, টেবিলে -
কলমের অবসাদ অন্তর্হিত হয় ?

প্রতিটি জড়ত্বে জেগে ওঠে কি প্রাণ
মরমীর আগ্রাসী সম্মোহনে ?
তুমিও জেগে উঠতে থাকো, যথারীতি,
অন্তঃসলিলার অকৃপণ ঝরণায় ?

সে কি তোমাতে অফুরাণ আসে
অকাতরের বাসে ?

যদি আসে, 
তবে তৃষ্ণার্তে বিলিও-ও,
পেয়েছো যা - তার আপনতম দৃষ্টির দিশায়

আর যদি না আসে ?
তবে খুঁজে খুঁজে ফিরো আজীবন
একথা ভুলে -
চেনাই হলো না আপাতঃ জনমে -
প্রকৃত তায় !

শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯

See Through


Dedication is never a sacrifice
You don't lose on the other hand. It's only a rise
.
I love myself so madly.
That remains the principal reason behind my loving you
.
Because I unself myself every time
Because I soften and melt my hardnesses, once again
By loving you - leading to another souls' merger
Such that, spirits liberate, thus, may taste higher highs
.
I deliberately keep breaking residual chains around me
Whatever left over is yet borne by attachments
.
Love lets abide by.
~~~~~~~~~~~~
.

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

সুনীল


ভিতরে একই স্তরে থেকে গিয়ে, ভোগের ভিখিরিপনায়, কেবল বাইরের সাজগোজ পাল্টাতে থাকাকেই প্রকৃত প্রস্তর-যাপন বলে ! যারা করে, তারা জীবনের উপরের স্তরের বৈচিত্রে বিমোহিত হতে হতে, অবশেষে একদিন বৃদ্ধ হয়ে যায় !
.
জীবনকে খুঁজে পাওয়া যায় আত্ম-রূপান্তরের গভীরে ! তবে চাইলেও, দৃষ্টির অভ্যস্ত অস্বচ্ছতায়, হয়ে ওঠেনা তেমন গভীরকে ছোঁয়া - খুব সহজেই !
.
আর ঠিক এইখানে ভালবাসা তার চিরন্তন ম্যাজিক দেখাতে জানে ! ভালবাসলেই মানুষ সর্বপ্রথমে অবাক পরিবর্তন দেখতে পায় নিজেতে ! 
.
ভালবাসলে আগ্রহও হঠাৎ বড্ড বাড়ে ! আর একটা মানুষের ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দ, অপছন্দ, বিশেষত্ব, সম্ভাবনা, - এরা তখন সহানুভূতিতে প্রাপ্য গুরুত্ব পায় !
.
দুটো মানুষ, যারা এযাবৎ বাড়তে পেরেছিল ভিন্ন পরিবেশে, বিভিন্ন মানুষের সন্নিধানে, তারা একে অপরে নূতন কুমোর খুঁজে পায় ! 
.
ভালবাসা - অহঙ্কারকে যত দ্রবীভূত করতে পারে, তত সহজে আবার নূতন করে মাটি লেপার কাজটি শুরু হয় - একে, অপরে ! মুখোমুখি নগ্ন দাঁড়িয়ে, অপরকে মাটি লেপার স্বাধীনতা নিজে হাতে তুলে দিতে প্রাণ চায় ! প্রতিদিন একটু একটু করে পাল্টে যাওয়া, যেতে থাকা, এভাবেই রোজনামচা হয়ে দাঁড়ায় !
.
নিছক শারীরিক মোহ-জনিতে হলে, কিছুদিন পরে, পড়া বইয়ের মত, চেনা শরীরে সে ফের আগ্রহ হারায় ! 
.
তবে, সচেতন ভালবাসায়, এই পাল্টে যেতে পারার কাছে জীবনের আর বাকি সব দায় গৌন হয়ে দাঁড়ায় ! সব কাজের মধ্যেও, একই সুরে দ্বৈত অনুরণনের ইড়া ও পিঙ্গলায় - অবিরাম গতিশীলতার আশীর্বাদে, পারস্পরিক সন্ধির সুসুম্নাটির  প্রতিনিয়তঃ শ্রীবৃদ্ধিকে - জগজিতের গজলের মত অবিকল চিনতে পারা যায় ৷

বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯

The Confusive


No ! Certainly not.
Love's purpose is not  physical union merely
May be, again and again, you are missing the focus 
It is absolutely different a reign.
.
Come on and unlearn the false,
Love is meant chiefly for pure loss
It has to be a deliberate sacrifice
You have to crumble 
Your snail's shell of protection yourself
Into dust,
Obviously under intense pain
.
To lose so far barriers against expansion
Raised by your ego every now and then
.
To give vent to your inner vulnerabilities
Where the growth hormones of your soul 
Are as seeds, long since, lying hidden
.
Just like a flower bud, 
When the harder outer cover bursts, at last,
That too, again, in sheer pain
To let the softer petals come out
And expand much more
To let the true beauty take proper shape
.
Following an old dream coming true
Of becoming someday
One of the celestial beauties,
Rarely graceful and dignified,
Of a happening heaven
Far away from sorrow's land.

মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯

ঘৃণা যদি করতেই হয়


যুক্তির বিভ্রান্তি-শক্তি
অনুভবের মাতৃপ্রবণ সহমর্মিতাকে
সরাসরি অস্বীকার করে, পাশ কাটিয়ে
একবারটি পিছনে ফেলে দিলে,
.
( ঠিক যে ভাবে পুরুষ আজও
নারীকে দ্বিতীয় ও গৌণ লিঙ্গে বরে, )
.
তারপরে সে পরম নিশ্চিন্তে
মানবতাকে নির্বিচারে
কতদূর নৃশংস ধর্ষণ করতে পারে
.
তার ভূয়সী প্রমাণ
ধারণ করে রয়েছে ইতিহাস, আপন আকরে -
.
ধর্মের নিরন্তর নিপীড়ন হতে শুরু করে
হিটলার ও কমিউনিজম পেরিয়ে গিয়ে
দেশে দেশে, একালের ঠগ রাজনীতির
বহুবিধ মহানতার অভিনয়ের অনুদারে ৷
.
মানুষ কি সত্যিই আদপে দেখতে চায়
বা দেখার পরে, -
শাশ্বতকে অবশেষে চিনতেও পারে ?

ঘৃণা যদি করতেই হয়


যুক্তির বিভ্রান্তি-শক্তি
অনুভবের মাতৃপ্রবণ সহমর্মিতাকে
সরাসরি অস্বীকার করে, পাশ কাটিয়ে
একবারটি পিছনে ফেলে দিলে -
.
তারপরে সে পরম নিশ্চিন্তে
মানবতাকে
কতদূর নৃশংস ধর্ষণ করতে পারে
.
তার ভূয়সী প্রমাণ
ধারণ করে রয়েছে ইতিহাস, আপন আকরে -
.
ধর্মের নিরন্তর নিপীড়ন হতে শুরু করে
হিটলার ও কমিউনিজম পেরিয়ে গিয়ে
দেশে দেশে, একালের ঠগ রাজনীতির
বহুবিধ মহানতার অভিনয়ের অনুদারে ৷
.
মানুষ কি সত্যিই আদপে দেখতে চায়
বা দেখার পরে, -
শাশ্বতকে অবশেষে চিনতেও পারে ?
x

শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৯

পর্যাবরণ


নিজেকে যেচে বিনম্র সুসঙ্গ দিতে জানা ও আকুল পরাণে ঊর্ধ্বমুখী চাওয়ামানুষকে একমাত্র অবাধ-স্বাধীন রাখে !

.

জীবনে, মসৃনতার কারকটিকে স্বচ্ছতর চিনেনিত্য যাপনে, প্রতিটি কাজের ফাঁকে ফাঁকে,ভালবাসার একান্ত ব্যক্তিগত অবসরদের,প্রতিবন্ধকতাদের অসূয়া পেরিয়ে, অন্তরেবারবার জোগান দিতে - সুতীব্র আগ্রহটি চাই-ই চাই !

.

সে আগ্রহকে বিপথে হারিয়ে ফেলে যারা অনাত্মনির্ভরতার বিজ্ঞ বক্রতায়, অজুহাতদের মুখ্যতর কর্তৃত্বের অভিশাপে -

.

তারা, সাধারণত, যান্ত্রিকতার অসহায় বাহক,অথবা চরৈবেতিশূন্য অলস,অথবা আসক্তি-জনিত বিশুদ্ধ আপোষ, -কোনও না কোনও তিনটি মাত্রা-জনিত মোহেদীর্ঘ-লালিত অন্ধত্বের অভিসারে -

.

যারা আপন স্থবিরতার এক পারে,যোগ্যতরতার অর্হণ-উপাসনা ত্যাগ করে,দায়িত্বশূন্য, থেবড়ে বসে পড়েঅপর পারে, হতাশ নয়নে, কেবলি তাকিয়ে থাকে ৷

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

বুদ্ধি বনাম পরাণ (brain vs. heart)



_________________Arup Sarkar
.
সত্য - আংশিক ও পূর্ণতর, এই দুই রকমই হতে পারে ৷ যত নিকট হতে দেখা যায়, সত্যকে তত আংশিক হতে হয় ! দূরে গেলে সামগ্রিক রূপটি দৃশ্যমান হতে পারে ! এক্ষেত্রে পরিপ্রেক্ষিত একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে !
.
যেমন আমরা জন্ম হতে যে শহরে বা গ্রামে বাস করি, তার একটি চিত্র আমাদের মানসপটে আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে আঁকা হয়ে যায় ! কিন্তু আমরা যেদিন প্রথম সুযোগে এরোপ্লেনে উঠে, অথবা নিদেনপক্ষে, ত্রিমাত্রিক গুগুল ম্যাপে আমাদের গ্রাম বা শহরটিকে অন্বেষণ করার সুযোগ পাই, তখন আমাদের দীর্ঘ-লালিত ধারণাটিকে অবাক করে দিয়ে, সত্যের সম্পূর্ণ অজানা একটি সামগ্রিকতর রূপ ও তার পৃথকতর সৌন্দর্য আমাদের কাছে দীপ্যমান তথা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে ৷
.
স্থুল-মাত্রিক রূপ এবং সূক্ষ্ম-মাত্রিক রূপেও সত্যের অনুধাবন এভাবে পাল্টে যেতে হয় !
.
পৃথিবীতে যে কোনও সত্য, তা সে যে স্তরেরই হোক না কেন, প্রথমে ধরা দেয় - মানুষের অনুভবে ! সেই সত্যটিকে অপর কাউকে ব্যবহারযোগ্য করে পরিবেশন করার জন্য যে অনুবাদকটির উপস্থিতি আবশ্যিক হয়ে ওঠে সে হলো যুক্তি ! আবিষ্কারকটি সর্বদা অনুভবকেই হতে হয়, তবে আবিষ্কারকের কাজটি, নিজের ছাড়া, পৃথিবীর আর কারও কাজে লাগে না, যদি যুক্তি সত্যটির সহজবোধ্য অনুবাদটি করতে বিফল হয় !
.
তবে, মানুষ অহরহ যে ভুলটি করে, সেটি হলো - যুক্তি বা তথাকথিত যুক্তিবাদকে অনুভবের মাথায় বসিয়ে, তাকে কর্তৃত্বের অধিকারটি দিয়ে ফেলা !
.
যেমন, তর্ক ও আলোচনায় যে মূল প্রভেদটি থাকে, সেটি হলো - যে কোন তর্কে, অহঙ্কারের হীন স্বার্থপরতায়, প্রতিদ্বন্দীকে অশ্রদ্ধেয় প্রমাণ করে, নিজেকে একমাত্র সঠিক তথা সত্যের অনন্য প্রতিনিধি বলে দাবী করা ! অথচ আলোচনার মূল লক্ষ্যটি হলো, অন্যকে বলতে দেওয়ার মাধ্যমে, আপন অনুভবটি তার দৃষ্টিকোণে বসিয়ে, অতঃপর রোজের ঘর ঝাঁট দেওয়ার মত, আপন আপন দৃষ্টিকোণের এযাবৎ অদৃশ্য ত্রুটিগুলি প্রত্যক্ষ করতে পেরে,  পরিহার করে, উভয়েরই গ্রহণযোগ্য করে সত্যটিকে পুনরায় বিশ্বস্ত স্মৃতিতে সুন্দরতর রূপে প্রতিস্থাপন করা ৷ তর্কে তাই যার পর নাই আগ্রহ যুক্তির, অথচ আলোচনায় আগ্রহ একমাত্র সুলোচন অনুভবের !
.
এই ব্যপারটিকে বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক ৷ বাড়িতে একটি অতি বিশ্বস্ত কাজের লোক আছে ! সে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে সংসারের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি কাজ রোজ সংশয়হীন নিষ্ঠা সহকারে করে থাকে ৷ সে বাড়ির প্রতিটি লোককে যথেষ্ট শ্রদ্ধাও করে ৷
.
তার এইরূপ মহত্ব দিনের পর দিন, বছরের পর বছর দেখে, বাড়ির মালিক অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন - "অতঃপর, সংসারের কোথায় কোন খরচ - কতটা হবে, সেটা ঐ কর্মচারীই ঠিক করবে এবং তাকে লকারের চাবিটি দিয়ে রেখে, কোথায় সংসারে খরচের টাকা জমা থাকে দেখিয়ে দেওয়া হবে ৷"
.
এই অবিবেচকতার কারণে মালিকটির যে যে বিপদের সম্ভাবনা তৈরী হবে, সে হলো -
.
১) বাড়ির প্রতিটি মানুষের রুচি ও পছন্দ সঠিক অনুভবের জন্য যে পরিশীলিত বোধের সূক্ষতা মালিকের পক্ষে অনায়াস ছিল, কর্মচারীটির রুচিবোধ তার সমকক্ষ না হওয়ার কারণে, মালিকের ও বাড়ির অপর সকলের এযাবৎ নিয়মিত, তৃপ্ত-অভ্যাসে নতুন নতুন বিঘ্ন সৃষ্টি হতে শুরু করবে ! তদ্বারা শান্তির অতীত পরিবেশটি ক্রমশঃ নষ্ট হওয়ার ফলে নিত্য নূতন অশান্তি ও উষ্মার সম্ভাবনা তৈরী হতে থাকবে একই সংসারে ৷
.
২) প্রকৃতির অবশ্যিক তাড়নায় মানুষমাত্রে কিছু না কিছু অবদমিত ভোগবাসনা থাকতেই হয়, যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়, যেমন কর্তব্যবোধ দ্বারা তেমনই পরিবেশ দ্বারা ৷ পরিবেশটি আচমকা নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে গেলে তার প্রভাব কর্তব্যবোধেও পরার সম্ভাবনা খুবই বেশি ! বিচক্ষণ মানুষরা এই কারণে আপন দৈনন্দিন পরিবেশের নির্দিষ্ট উচ্চতার স্তরটির যোগ্য সংরক্ষণ যথেষ্ট যত্নসহকারে করে থাকেন ! অপরপক্ষে এই ক্ষেত্রে, হঠাৎ পেয়ে যাওয়া অবাধ স্বাধীনতাটির দৌলতে অবদমিত বাসনাদের স্বেচ্ছাচারের ফনার  মাথা তোলার সম্ভাবনাটি একটু একটু করে তৈরী হবে ৷
.
প্রথমবার কর্মচারীটি সিন্দুক হতে একটি পাঁচ টাকার কয়েন সরিয়ে হয়তো পানের দোকান থেকে একটি গুটখা কিনে খাবে ৷ কোন অসুবিধা হয়নি দেখে, অতঃপর, একদিন পঞ্চাশ টাকার নোট সরিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে ও ঘুঘনি খাবে ! এভাবে, ক্রমে ক্রমে, বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তার নিজের ঘরে ঢুকে রোজ বাংলা মদ খাওয়ার অভ্যাস হবে ! এরপরে! হয় - তার কোন প্রেমিকা জুটবে - নিয়মিত টাকা আত্মস্মাৎ করার লোভে অথবা সে নিয়মিত হারে বারনারীতে আসক্ত হবে ৷ একদিন মালিকটি তার অতিবিশ্বস্ত কর্মচারীটিকে অনিচ্ছুক নারীকে উত্যক্ত করার কারণে পুলিশের জিম্মায়, অথবা মদ খেয়ে বেহূঁশ হয়ে ড্রেণের ধারে পড়ে আছে দেখে, কাজ থেকে চিরতরে ছাড়িয়ে দেবে ৷
.
এই উদাহরণটিতে মূল প্রতিপাদ্য যা, সে হলো, পৃথিবীতে যোগ্যতাই প্রাপ্যের একমাত্র চিরকালীন নির্ণয়ক ! অযোগ্যকে অবাধ স্বাধীনতা দিলে, দাতা ও গ্রহীতা, - উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় - স্বাধীনতার স্বেচ্ছাচারিতায় অবধারিত অনুবাদে ৷
.
এবার আবার ফেরা যাক মানবজীবনে অনুভব ও যুক্তির আপন আপন কার্যকারিতার অনুধাবনে !
.
সত্যকে স্পর্শের স্বাধীন অধিকার অনুভবের (Perception) !
.
প্রসঙ্গতঃ, অনুভবের সাথে অন্ধ-বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ কোন রকম সম্পর্ক নেই ! অন্ধবিশ্বাসের বাস মানুষের মস্তিষ্কে, অলীক কল্পনার প্রতি একবগগা আসক্তিতে !
অপরপক্ষে, অনুভবের আধার পরাণ তথা মানবহৃদয়, যার সাথে বিবেকের তথা মানবিকতার সরাসরি যোগ ! অন্ধ-বিশ্বাস তাই এক্ষেত্রে প্রসঙ্গ-বহির্ভূত ৷
.
যুক্তির কাজ - অনুভব-আবিষ্কৃত সত্যের গ্রহণযোগ্যতাটি তৈরী করে দেওয়া সফলতম অনুবাদে ৷ সে অনুভবের কর্মচারী মাত্র !
.
এবারে, অনুভবের মালিকানা হরণ করে, কমিউনিজমের বঞ্চিত-দরদী আদর্শকে মাথায় রেখে, এই কর্মচারীটিকে - মানবজীবনের যাবতীয় সিদ্ধান্তের স্বাধীন অধিকার দিলে, দেখা যাক - ব্যপারটা ঠিক কেমন দাঁড়ায় !
.
যুক্তির উৎসরূপে বুদ্ধি যেই মালিকানাটি পাবে, তার যেহেতু বিবেকের মত one way ticket to truth - এর নিয়ন্ত্রণটি নেই, সুতরাং, সত্য ও মিথ্যা দুদিকেই অবাধ বিচরণক্ষমতার কারণে, সুযুক্তিকে কুযুক্তির দ্বারা প্রতিস্থাপনের বল্গাহীন অধিকারে,
অবদমিত বাসনারা সুযোগসন্ধানী হওয়ার প্রকৃষ্টতম সুযোগ পাবে !
.
এই সুযোগে অহঙ্কার তার বহু আকাঙ্খিত - নিজেকে 'পৃথিবীতে একমাত্র সঠিক ও শ্রেষ্ঠ' প্রমাণ করার জন্য আপ্রাণ ঝাঁপিয়ে পড়বে !
.
কর্তৃত্ব ও প্রভূত্ব-বাসনারা চালাকির সুসহযোগে প্রতিদ্বন্দ্বীকে অকাট্য যুক্তির দ্বারা, নিকৃষ্টতম প্রমাণ করে, তাকে হয় বিনাশ, না হলে, বশীভূত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে !
.
অর্থলোভীরা, কুযুক্তির সার্থক প্রয়োগে, নির্ধনের অবশিষ্ট ধন আত্মস্মাৎ করে প্রভূত ধনের অধিকারী হবে !
.
সীমিত সংখ্যক শোষকের কুযুক্তির, বলপ্রয়োগের অধিকারে, কোটি কোটি শোষিত, নিপীড়িত, বঞ্চিতের, দিকে দিকে, করুণ হাহাকার রবে ধরার হৃদয় বিদীর্ণ হবে ৷
.
যুক্তির উপরে অনুভবের প্রাপ্য নিয়ন্ত্রণকে, বাগে পেয়ে, অপরিমিত নির্মম ধর্ষণই, প্রকারান্তরে উৎসরূপে, মানবিকতাকে দিকে দিকে নিরন্তর ধর্ষণের প্রতিভূ হয়ে, আজকের পৃথিবীতে, মানুষের পাখির স্বাধীনতায় স্বতঃস্ফূর্ত উড়ানের বিরুদ্ধে যে একমাত্র স্বৈরাচারী প্রতিবন্ধক রূপে বিরাজ করছে, - এই নির্মম সত্যটিকে - যুক্তিবাদ, তবু, অন্ধ উল্লাসে অস্বীকার করেই যাবে ৷
.
অবশেষে মানুষের হুঁশ একদিন ফিরতেও হয়তো হবে, তবে তার অনেক আগেই, সুযোগসন্ধানী কুযুক্তিদের - প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের প্রদত্ত অধিকার, পৃথিবী নামক গ্রহটির সর্ববিধ মৃত্যু যে ডেকে আনতে যথেষ্টই সক্ষম, - এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ বড় একটা নেই ৷
.

বুদ্ধি বনাম পরাণ (brain vs. heart)



_________________Arup Sarkar
.
সত্য - আংশিক ও পূর্ণতর, এই দুই রকমই হতে পারে ৷ যত নিকট হতে দেখা যায়, সত্যকে তত আংশিক হতে হয় ! দূরে গেলে সামগ্রিক রূপটি দৃশ্যমান হতে পারে ! এক্ষেত্রে পরিপ্রেক্ষিত একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে !
.
যেমন আমরা জন্ম হতে যে শহরে বা গ্রামে বাস করি, তার একটি চিত্র আমাদের মানসপটে আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে আঁকা হয়ে যায় ! কিন্তু আমরা যেদিন প্রথম সুযোগে এরোপ্লেনে উঠে, অথবা নিদেনপক্ষে, ত্রিমাত্রিক গুগুল ম্যাপে আমাদের গ্রাম বা শহরটিকে অন্বেষণ করার সুযোগ পাই, তখন আমাদের দীর্ঘ-লালিত ধারণাটিকে অবাক করে দিয়ে, সত্যের সম্পূর্ণ অজানা একটি সামগ্রিকতর রূপ ও তার পৃথকতর সৌন্দর্য আমাদের কাছে দীপ্যমান ও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে ৷
.
স্থুল-মাত্রিক রূপ এবং সূক্ষ্ম-মাত্রিক রূপেও সত্যের অনুধাবন এভাবে পাল্টে যেতে হয় !
.
পৃথিবীতে যে কোনও সত্য, তা সে যে স্তরেরই হোক না কেন, প্রথমে ধরা দেয় - মানুষের অনুভবে ! সেই সত্যটিকে অপর কাউকে ব্যবহারযোগ্য করে পরিবেশন করার জন্য যে অনুবাদকটির উপস্থিতি আবশ্যিক হয়ে ওঠে সে হলো যুক্তি ! আবিষ্কারকটি সর্বদা অনুভবকেই হতে হয়, তবে আবিষ্কারকের কাজটি, নিজের ছাড়া, পৃথিবীর আর কারও কাজে লাগে না, যদি যুক্তি সত্যটির সহজবোধ্য অনুবাদটি করতে বিফল হয় !
.
তবে, মানুষ অহরহ যে ভুলটি করে, সেটি হলো - যুক্তি বা তথাকথিত যুক্তিবাদকে অনুভবের মাথায় বসিয়ে, তাকে কর্তৃত্বের অধিকারটি দিয়ে ফেলা !
.
যেমন, তর্ক ও আলোচনায় যে মূল প্রভেদটি থাকে, সেটি হলো - যে কোন তর্কে, অহঙ্কারের হীন স্বার্থপরতায়, প্রতিদ্বন্দীকে অশ্রদ্ধেয় প্রমাণ করে, নিজেকে একমাত্র সঠিক তথা সত্যের অনন্য প্রতিনিধি বলে দাবী করা ! অথচ আলোচনার মূল লক্ষ্যটি হলো, অন্যকে বলতে দেওয়ার মাধ্যমে, আপন অনুভবটি তার দৃষ্টিকোণে বসিয়ে, অতঃপর রোজের ঘর ঝাঁট দেওয়ার মত, আপন আপন দৃষ্টিকোণের এযাবৎ অদৃশ্য ত্রুটিগুলি প্রত্যক্ষ করতে পেরে,  পরিহার করে, উভয়েরই গ্রহণযোগ্য করে সত্যটিকে পুনরায় বিশ্বস্ত স্মৃতিতে সুন্দরতর রূপে প্রতিস্থাপন করা ৷ তর্কে তাই যার পর নাই আগ্রহ যুক্তির, অথচ আলোচনায় আগ্রহ একমাত্র সুলোচন অনুভবের !
.
এই ব্যপারটিকে বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক ৷ বাড়িতে একটি অতি বিশ্বস্ত কাজের লোক আছে ! সে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে সংসারের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি কাজ রোজ সংশয়হীন নিষ্ঠা সহকারে করে থাকে ৷ সে বাড়ির প্রতিটি লোককে যথেষ্ট শ্রদ্ধাও করে ৷
.
তার এইরূপ মহত্ব দিনের পর দিন, বছরের পর বছর দেখে, বাড়ির মালিক অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন - "অতঃপর, সংসারের কোথায় কোন খরচ - কতটা হবে, সেটা ঐ কর্মচারীই ঠিক করবে এবং তাকে লকারের চাবিটি দিয়ে রেখে, কোথায় সংসারে খরচের টাকা জমা থাকে দেখিয়ে দেওয়া হবে ৷"
.
এই অবিবেচকতার কারণে মালিকটির যে যে বিপদের সম্ভাবনা তৈরী হবে, সে হলো -
.
১) বাড়ির প্রতিটি মানুষের রুচি ও পছন্দ সঠিক অনুভবের জন্য যে পরিশীলিত বোধের সূক্ষতা মালিকের পক্ষে অনায়াস ছিল, কর্মচারীটির রুচিবোধ তার সমকক্ষ না হওয়ার কারণে, মালিকের ও বাড়ির অপর সকলের এযাবৎ নিয়মিত, তৃপ্ত-অভ্যাসে নতুন নতুন বিঘ্ন সৃষ্টি হতে শুরু করবে ! তদ্বারা শান্তির অতীত পরিবেশটি ক্রমশঃ নষ্ট হওয়ার ফলে নিত্য নূতন অশান্তি ও উষ্মার সম্ভাবনা তৈরী হতে থাকবে একই সংসারে ৷
.
২) প্রকৃতির অবশ্যিক তাড়নায় মানুষমাত্রে কিছু না কিছু অবদমিত ভোগবাসনা থাকতেই হয়, যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়, যেমন কর্তব্যবোধ দ্বারা তেমনই পরিবেশ দ্বারা ৷ পরিবেশটি আচমকা নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে গেলে তার প্রভাব কর্তব্যবোধেও পরার সম্ভাবনা খুবই বেশি ! বিচক্ষণ মানুষরা এই কারণে আপন দৈনন্দিন পরিবেশের নির্দিষ্ট উচ্চতার স্তরটির যোগ্য সংরক্ষণ যথেষ্ট যত্নসহকারে করে থাকেন ! অপরপক্ষে এই ক্ষেত্রে, হঠাৎ পেয়ে যাওয়া অবাধ স্বাধীনতাটির দৌলতে অবদমিত বাসনাদের স্বেচ্ছাচারের ফনার  মাথা তোলার সম্ভাবনাটি একটু একটু করে তৈরী হবে ৷
.
প্রথমবার কর্মচারীটি সিন্দুক হতে একটি পাঁচ টাকার কয়েন সরিয়ে হয়তো পানের দোকান থেকে একটি গুটখা কিনে খাবে ৷ কোন অসুবিধা হয়নি দেখে, অতঃপর, একদিন পঞ্চাশ টাকার নোট সরিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে ও ঘুঘনি খাবে ! এভাবে, ক্রমে ক্রমে, বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তার নিজের ঘরে ঢুকে রোজ বাংলা মদ খাওয়ার অভ্যাস হবে ! এরপরে! হয় - তার কোন প্রেমিকা জুটবে - নিয়মিত টাকা আত্মস্মাৎ করার লোভে অথবা সে নিয়মিত হারে বারনারীতে আসক্ত হবে ৷ একদিন মালিকটি তার অতিবিশ্বস্ত কর্মচারীটিকে অনিচ্ছুক নারীকে উত্যক্ত করার কারণে পুলিশের জিম্মায়, অথবা মদ খেয়ে বেহূঁশ হয়ে ড্রেণের ধারে পড়ে আছে দেখে, কাজ থেকে চিরতরে ছাড়িয়ে দেবে ৷
.
এই উদাহরণটিতে মূল প্রতিপাদ্য যা, সে হলো, পৃথিবীতে যোগ্যতাই প্রাপ্যের একমাত্র চিরকালীন নির্ণয়ক ! অযোগ্যকে অবাধ স্বাধীনতা দিলে, দাতা ও গ্রহীতা, - উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় - স্বাধীনতার স্বেচ্ছাচারিতায় অবধারিত অনুবাদে ৷
.
এবার আবার ফেরা যাক মানবজীবনে অনুভব ও যুক্তির আপন আপন কার্যকারিতার অনুধাবনে !
.
সত্যকে স্পর্শের স্বাধীন অধিকার অনুভবের (Perception) !
.
প্রসঙ্গতঃ, অনুভবের সাথে অন্ধ-বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ কোন রকম সম্পর্ক নেই ! অন্ধবিশ্বাসের বাস মানুষের মস্তিষ্কে, অলীক কল্পনার প্রতি একবগগা আসক্তিতে !
অপরপক্ষে, অনুভবের আধার পরাণ তথা মানবহৃদয়, যার সাথে বিবেকের তথা মানবিকতার সরাসরি যোগ ! অন্ধ-বিশ্বাস তাই এক্ষেত্রে প্রসঙ্গ-বহির্ভূত ৷
.
যুক্তির কাজ - অনুভব-আবিষ্কৃত সত্যের গ্রহণযোগ্যতাটি তৈরী করে দেওয়া সফলতম অনুবাদে ৷ সে অনুভবের কর্মচারী মাত্র !
.
এবারে, অনুভবের মালিকানা হরণ করে, কমিউনিজমের বঞ্চিত-দরদী আদর্শকে মাথায় রেখে, এই কর্মচারীটিকে - মানবজীবনের যাবতীয় সিদ্ধান্তের স্বাধীন অধিকার দিলে, দেখা যাক - ব্যপারটা ঠিক কেমন দাঁড়ায় !
.
যুক্তির উৎসরূপে বুদ্ধি যেই মালিকানাটি পাবে, তার যেহেতু বিবেকের মত one way ticket to truth - এর নিয়ন্ত্রণটি নেই, সুতরাং, সত্য ও মিথ্যা দুদিকেই অবাধ বিচরণক্ষমতার কারণে, সুযুক্তিকে কুযুক্তির দ্বারা প্রতিস্থাপনের বল্গাহীন অধিকারে,
অবদমিত বাসনারা সুযোগসন্ধানী হওয়ার প্রকৃষ্টতম সুযোগ পাবে !
.
এই সুযোগে অহঙ্কার তার বহু আকাঙ্খিত - নিজেকে 'পৃথিবীতে একমাত্র সঠিক ও শ্রেষ্ঠ' প্রমাণ করার জন্য আপ্রাণ ঝাঁপিয়ে পড়বে !
.
কর্তৃত্ব ও প্রভূত্ব-বাসনারা চালাকির সুসহযোগে প্রতিদ্বন্দ্বীকে অকাট্য যুক্তির দ্বারা, নিকৃষ্টতম প্রমাণ করে, তাকে হয় বিনাশ, না হলে, বশীভূত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে !
অর্থলোভীরা, কুযুক্তির সার্থক প্রয়োগে, নির্ধনের অবশিষ্ট ধন আত্মস্মাৎ করে প্রভূত ধনের অধিকারী হবে !
সীমিত সংখ্যক শোষকের কুযুক্তির, বলপ্রয়োগের অধিকারে, কোটি কোটি শোষিত, নিপীড়িত, বঞ্চিতের, দিকে দিকে, করুণ হাহাকার রবে ধরার হৃদয় বিদীর্ণ হবে ৷
যুক্তির উপরে অনুভবের প্রাপ্য নিয়ন্ত্রণকে, বাগে পেয়ে, অপরিমিত নির্মম ধর্ষণই, প্রকারান্তরে উৎসরূপে, মানবিকতাকে দিকে দিকে নিরন্তর ধর্ষণের প্রতিভূ হয়ে, আজকের পৃথিবীতে, মানুষের পাখির স্বাধীনতায় স্বতঃস্ফূর্ত উড়ানের বিরুদ্ধে যে একমাত্র স্বৈরাচারী প্রতিবন্ধক রূপে বিরাজ করছে, - এই নির্মম সত্যটিকে - যুক্তিবাদ, তবু, অন্ধ উল্লাসে অস্বীকার করেই যাবে ৷
অবশেষে মানুষের হুঁশ একদিন ফিরতেও হয়তো হবে, তবে তার অনেক আগেই, সুযোগসন্ধানী কুযুক্তিদের - প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের প্রদত্ত অধিকার, পৃথিবী নামক গ্রহটির সর্ববিধ মৃত্যু যে ডেকে আনতে যথেষ্টই সক্ষম, - এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ বড় একটা নেই ৷

যুক্তি বনাম অনুভব (brain vs. heart)


সত্য - আংশিক ও পূর্ণতর, এই দুই রকমই হতে পারে ৷ যত নিকট হতে দেখা যায়, সত্যকে তত আংশিক হতে হয় ! দূরে গেলে সামগ্রিক রূপটি দৃশ্যমান হতে পারে ! এক্ষেত্রে পরিপ্রেক্ষিত একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে !
যেমন আমরা জন্ম হতে যে শহরে বা গ্রামে বাস করি, তার একটি চিত্র আমাদের মানসপটে আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে আঁকা হয়ে যায় ! কিন্তু আমরা যেদিন প্রথম সুযোগে এরোপ্লেনে উঠে, অথবা নিদেনপক্ষে, ত্রিমাত্রিক গুগুল ম্যাপে আমাদের গ্রাম বা শহরটিকে অন্বেষণ করার সুযোগ পাই, তখন আমাদের দীর্ঘ-লালিত ধারণাটিকে অবাক করে দিয়ে, সত্যের সম্পূর্ণ অজানা একটি সামগ্রিকতর রূপ ও তার পৃথকতর সৌন্দর্য আমাদের কাছে দীপ্যমান ও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে ৷
স্থুল-মাত্রিক রূপ এবং সূক্ষ্ম-মাত্রিক রূপেও সত্যের অনুধাবন এভাবে পাল্টে যেতে হয় !
পৃথিবীতে যে কোনও সত্য, তা সে যে স্তরেরই হোক না কেন, প্রথমে ধরা দেয় - মানুষের অনুভবে ! সেই সত্যটিকে অপর কাউকে ব্যবহারযোগ্য করে পরিবেশন করার জন্য যে অনুবাদকটির উপস্থিতি আবশ্যিক হয়ে ওঠে সে হলো যুক্তি ! আবিষ্কারকটি সর্বদা অনুভবকেই হতে হয়, তবে আবিষ্কারকের কাজটি, নিজের ছাড়া, পৃথিবীর আর কারও কাজে লাগে না, যদি যুক্তি সত্যটির সহজবোধ্য অনুবাদটি করতে বিফল হয় !
তবে, মানুষ অহরহ যে ভুলটি করে, সেটি হলো - যুক্তি বা তথাকথিত যুক্তিবাদকে অনুভবের মাথায় বসিয়ে, তাকে কর্তৃত্বের অধিকারটি দিয়ে ফেলা ! 
যেমন, তর্ক ও আলোচনায় যে মূল প্রভেদটি থাকে, সেটি হলো - যে কোন তর্কে, অহঙ্কারের হীন স্বার্থপরতায়, প্রতিদ্বন্দীকে অশ্রদ্ধেয় প্রমাণ করে, নিজেকে একমাত্র সঠিক তথা সত্যের অনন্য প্রতিনিধি বলে দাবী করা ! অথচ আলোচনার মূল লক্ষ্যটি হলো, অন্যকে বলতে দেওয়ার মাধ্যমে, আপন অনুভবটি তার দৃষ্টিকোণে বসিয়ে, অতঃপর রোজের ঘর ঝাঁট দেওয়ার মত, আপন আপন দৃষ্টিকোণের এযাবৎ অদৃশ্য ত্রুটিগুলি প্রত্যক্ষ করতে পেরে,  পরিহার করে, উভয়েরই গ্রহণযোগ্য করে সত্যটিকে পুনরায় বিশ্বস্ত স্মৃতিতে সুন্দরতর রূপে প্রতিস্থাপন করা ৷ তর্কে তাই যার পর নাই আগ্রহ যুক্তির, অথচ আলোচনায় আগ্রহ একমাত্র সুলোচন অনুভবের !
এই ব্যপারটিকে বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক ৷ বাড়িতে একটি অতি বিশ্বস্ত কাজের লোক আছে ! সে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে সংসারের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি কাজ রোজ সংশয়হীন নিষ্ঠা সহকারে করে থাকে ৷ সে বাড়ির প্রতিটি লোককে যথেষ্ট শ্রদ্ধাও করে ৷ 
তার এইরূপ মহত্ব দিনের পর দিন, বছরের পর বছর দেখে, বাড়ির মালিক অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন - "অতঃপর, সংসারের কোথায় কোন খরচ - কতটা হবে, সেটা ঐ কর্মচারীই ঠিক করবে এবং তাকে লকারের চাবিটি দিয়ে রেখে, কোথায় সংসারে খরচের টাকা জমা থাকে দেখিয়ে দেওয়া হবে ৷"
এই অবিবেচকতার কারণে মালিকটির যে যে বিপদের সম্ভাবনা তৈরী হবে, সে হলো - 
১) বাড়ির প্রতিটি মানুষের রুচি ও পছন্দ সঠিক অনুভবের জন্য যে পরিশীলিত বোধের সূক্ষতা মালিকের পক্ষে অনায়াস ছিল, কর্মচারীটির রুচিবোধ তার সমকক্ষ না হওয়ার কারণে, মালিকের ও বাড়ির অপর সকলের এযাবৎ নিয়মিত, তৃপ্ত-অভ্যাসে নতুন নতুন বিঘ্ন সৃষ্টি হতে শুরু করবে ! তদ্বারা শান্তির অতীত পরিবেশটি ক্রমশঃ নষ্ট হওয়ার ফলে নিত্য নূতন অশান্তি ও উষ্মার সম্ভাবনা তৈরী হতে থাকবে একই সংসারে ৷
২) প্রকৃতির অবশ্যিক তাড়নায় মানুষমাত্রে কিছু না কিছু অবদমিত ভোগবাসনা থাকতেই হয়, যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়, যেমন কর্তব্যবোধ দ্বারা তেমনই পরিবেশ দ্বারা ৷ পরিবেশটি আচমকা নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে গেলে তার প্রভাব কর্তব্যবোধেও পরার সম্ভাবনা খুবই বেশি ! বিচক্ষণ মানুষরা এই কারণে আপন দৈনন্দিন পরিবেশের নির্দিষ্ট উচ্চতার স্তরটির যোগ্য সংরক্ষণ যথেষ্ট যত্নসহকারে করে থাকেন ! অপরপক্ষে এই ক্ষেত্রে, হঠাৎ পেয়ে যাওয়া অবাধ স্বাধীনতাটির দৌলতে অবদমিত বাসনাদের স্বেচ্ছাচারের ফনার  মাথা তোলার সম্ভাবনাটি একটু একটু করে তৈরী হবে ৷ 
প্রথমবার কর্মচারীটি সিন্দুক হতে একটি পাঁচ টাকার কয়েন সরিয়ে হয়তো পানের দোকান থেকে একটি গুটখা কিনে খাবে ৷ কোন অসুবিধা হয়নি দেখে, অতঃপর, একদিন পঞ্চাশ টাকার নোট সরিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে ও ঘুঘনি খাবে ! এভাবে, ক্রমে ক্রমে, বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তার নিজের ঘরে ঢুকে রোজ বাংলা মদ খাওয়ার অভ্যাস হবে ! এরপরে! হয় - তার কোন প্রেমিকা জুটবে - নিয়মিত টাকা আত্মস্মাৎ করার লোভে অথবা সে নিয়মিত হারে বারনারীতে আসক্ত হবে ৷ একদিন মালিকটি তার অতিবিশ্বস্ত কর্মচারীটিকে অনিচ্ছুক নারীকে উত্যক্ত করার কারণে পুলিশের জিম্মায়, অথবা মদ খেয়ে বেহূঁশ হয়ে ড্রেণের ধারে পড়ে আছে দেখে, কাজ থেকে চিরতরে ছাড়িয়ে দেবে ৷
এই উদাহরণটিতে মূল প্রতিপাদ্য যা, সে হলো, পৃথিবীতে যোগ্যতাই প্রাপ্যের একমাত্র চিরকালীন নির্ণয়ক ! অযোগ্যকে অবাধ স্বাধীনতা দিলে, দাতা ও গ্রহীতা, - উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় - স্বাধীনতার স্বেচ্ছাচারিতায় অবধারিত অনুবাদে ৷
এবার আবার ফেরা যাক মানবজীবনে অনুভব ও যুক্তির আপন আপন কার্যকারিতার অনুধাবনে !
সত্যকে স্পর্শের স্বাধীন অধিকার অনুভবের (Perception) !
প্রসঙ্গতঃ, অনুভবের সাথে অন্ধ-বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ কোন রকম সম্পর্ক নেই ! অন্ধবিশ্বাসের বাস মানুষের মস্তিষ্কে, অলীক কল্পনার প্রতি একবগগা আসক্তিতে ! অপরপক্ষে, অনুভবের আধার পরাণ তথা মানবহৃদয়, যার সাথে বিবেকের তথা মানবিকতার সরাসরি যোগ ! অন্ধ-বিশ্বাস তাই এক্ষেত্রে প্রসঙ্গ-বহির্ভূত ৷
যুক্তির কাজ - অনুভব-আবিষ্কৃত সত্যের গ্রহণযোগ্যতাটি তৈরী করে দেওয়া সফলতম অনুবাদে ৷ সে অনুভবের কর্মচারী মাত্র !
এবারে, অনুভবের মালিকানা হরণ করে, কমিউনিজমের বঞ্চিত-দরদী আদর্শকে মাথায় রেখে, এই কর্মচারীটিকে - মানবজীবনের যাবতীয় সিদ্ধান্তের স্বাধীন অধিকার দিলে, দেখা যাক - ব্যপারটা ঠিক কেমন দাঁড়ায় ! 
যুক্তির উৎসরূপে বুদ্ধি যেই মালিকানাটি পাবে, তার যেহেতু বিবেকের মত one way ticket to truth - এর নিয়ন্ত্রণটি নেই, সুতরাং, সত্য ও মিথ্যা দুদিকেই অবাধ বিচরণক্ষমতার কারণে, সুযুক্তিকে কুযুক্তির দ্বারা প্রতিস্থাপনের বল্গাহীন অধিকারে,অবদমিত বাসনারা সুযোগসন্ধানী হওয়ার প্রকৃষ্টতম সুযোগ পাবে ! 
এই সুযোগে অহঙ্কার তার বহু আকাঙ্খিত - নিজেকে 'পৃথিবীতে একমাত্র সঠিক ও শ্রেষ্ঠ' প্রমাণ করার জন্য আপ্রাণ ঝাঁপিয়ে পড়বে !
কর্তৃত্ব ও প্রভূত্ব-বাসনারা চালাকির সুসহযোগে প্রতিদ্বন্দ্বীকে অকাট্য যুক্তির দ্বারা, নিকৃষ্টতম প্রমাণ করে, তাকে হয় বিনাশ, না হলে, বশীভূত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে !
অর্থলোভীরা, কুযুক্তির সার্থক প্রয়োগে, নির্ধনের অবশিষ্ট ধন আত্মস্মাৎ করে প্রভূত ধনের অধিকারী হবে !
সীমিত সংখ্যক শোষকের কুযুক্তির, বলপ্রয়োগের অধিকারে, কোটি কোটি শোষিত, নিপীড়িত, বঞ্চিতের, দিকে দিকে, করুণ হাহাকার রবে ধরার হৃদয় বিদীর্ণ হবে ৷
যুক্তির উপরে অনুভবের প্রাপ্য নিয়ন্ত্রণকে, বাগে পেয়ে, অপরিমিত নির্মম ধর্ষণই, প্রকারান্তরে উৎসরূপে, মানবিকতাকে দিকে দিকে নিরন্তর ধর্ষণের প্রতিভূ হয়ে, আজকের পৃথিবীতে, মানুষের পাখির স্বাধীনতায় স্বতঃস্ফূর্ত উড়ানের বিরুদ্ধে যে একমাত্র স্বৈরাচারী প্রতিবন্ধক রূপে বিরাজ করছে, - এই নির্মম সত্যটিকে - যুক্তিবাদ, তবু, অন্ধ উল্লাসে অস্বীকার করেই যাবে ৷
অবশেষে মানুষের হুঁশ একদিন ফিরতেও হয়তো হবে, তবে তার অনেক আগেই, সুযোগসন্ধানী কুযুক্তিদের - প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের প্রদত্ত অধিকার, পৃথিবী নামক গ্রহটির সর্ববিধ মৃত্যু যে ডেকে আনতে যথেষ্টই সক্ষম, - এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ বড় একটা নেই ৷
x