শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০২৩

ভালো না

একশো এগারো জন লাইনে হলেও
আকুতিতে একবারও খাদ ছিল না ।
অথচ, প্রায় প্রতিবারই হেরে গেল
ভালবাসাগুলো 
পরিশেষে, নিছক সমালোচনার কাছে ।
কেন একবারও 
সংবেদনশীলতা তুমুল জিতে ফিরলো না ?

ভুল না করলে মানুষ শেখে না ।
একদিন ঠকে গিয়ে
যে সত্যকে সামনাসামনি চেনা, সে হলো -
তোমার জগতে পুরুষ-রা আখেরে
তৃতীয়পক্ষের চেয়ে নিকটতর 
হতেই পারে না ।

যে দ্বিতীয়পক্ষ
তোমার ও তার মাঝে দাঁড়িয়ে প'ড়ে,
প্রথম প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে প্রতিবার,
সে হলো তোমার অপরাজেয় অহমিকা,
যে, ভালবাসাকে
অবধারিতরূপে প্রতিযোগিতার পরিসরে
নামিয়ে এনে, অতঃপরে,
পুরুষের কাছে হার মানতে 
আদপে একটিবারও রাজি থাকে না ।

না, ভালবাসা কোমলতার আহ্বাণ হলেও
অসুস্থ প্রতিযোগ-জনিত আমিত্বের ফনা
কে কত উঁচুতে তুলতে পারে,
সে কোনও মনস্তাত্ত্বিক বাজি না ।
.

বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩

লাগাম

সে কিন্তু সহজেই ভালবাসে,
যে, হিসেব না ক'রে, অনায়াসে হাসে ।
তাকেই মানুষ সবচেয়ে সহজে মনে রাখে ।

অথচ, 
একই মানুষ যত বুড়ো হতে থাকে
তত গম্ভীর হয়, যেন বেমক্কা হাসলেই
আছোলা বাঁশ দেবে কেউ তাকে ।

ভারিক্কি লোকদের আবার অন্য ধরণ 
হাতছানি দিয়ে ডাকে ।
সবাই একে একে চলে গেলে
চারদিক দেখে নিয়ে, সুযোগ বুঝে
প্রবল ব্যক্তিত্বের আবডালে
চিলতে হাসি ঝোলে গোঁফের ফাঁকে ।

বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩

The Joyful

Attitudes may be of various types.
Attitudes are also free to design
For every person, 
As per individual need and taste.

Intelligent people are those,
Who design their attitude everytime
With such radiating wit
That they invariably enjoy 
Their own actions 
To the brim while performing.

Attitude designing is playing
With one's own psychology.
It is for those only
Who always have the patience
And time for thinking
Before rushing into action.

Satisfaction is always
Such commensurate a reward
That it is
Never available to everybody
Without a cause.

জীবন-শিল্পী

বাইরে কখনো পাত পাতেনি ব'লে
অসূয়াদের 
ক্রমে ক্রমে জমেছিল প্রভূত ভীড় ।
পরমুখাপেক্ষাদের হতেও হয়েছিল
উপেক্ষায় - বারেবার বিস্মৃত ও বর্ণহীন ।
কারণ - তাকে বাধ্য-নিমগ্ন রেখেছিল 
অপ্রতিরোধ্য কারুবাসনার চির-নবীন ।

আর সব প্রাত্যহিক দায়-কে 
অস্বীকার না করেও,
সে প্রতি অবসরে ব্যস্ত ছিল 
নীরব কর্মের নির্লিপ্ত নির্জনতায়
আপন অটল প্রতিজ্ঞায় ।

সংবেদী পরিচর্যায়
রোজ, অন্ততঃ একটি করে  
নূতন সবুজ পাতা,
আপন চরিত্রে 
অবধারিত বিকশিত করা
ছিল তার একার দায়,
তার বোধে প্রবলতম সমীচীন ।

যেন, ভালবাসার নিবিড়তর সামর্থে,
নিয়ম ক'রে, সে সাজিয়ে দিতে পারে 
নিজেকে প্রতিদিন,
অন্ততঃ একটি ক'রে 
উদযাপনে প্রজাপতি-রঙ্গিন
উৎসবমুখর শুভ জন্মদিন ।

সে হাসতো সবসময়, 
দুঃখের প্রতি সতত উদাসীন,
কারণ - আজ রাত পেরোলেই
তার আবার জন্মদিন ।

মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩

মেডিটেশন

কখনো কি একলা হতে সাধ জাগে ?
সব ভীড় থেকে অনেক দূরে পালাতে চাও ?

তবে, ওভাবে দৌড়ে গিয়ে দেখবে
সুবিধা হলো না খুব বেশি । 
যে জঞ্জাল আর আঁস্তাকুড় বয়ে বেড়ায়
সবচেয়ে বেশি মানুষের অভ্যস্ত মন, 
তারা তখনো দুর্গন্ধময় করবে পরিবেশ ।

যদি পারো, তাই সবার আগে 
দোকলা মনের
অবিরত বকবকানির অভ্যেসে
তোমার আগ্রহের সাড়া দেওয়া 
সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দাও ।
কেবল নিঃশব্দ অনুসরণ থাকুক জেগে ।

সাড়া না পেয়ে, একা বকতে বকতে,
অবশেষে, তেমন চুপ করে যাবে মন,
যেন এবারে ভিতরঘর 
ততদূর নিঃশব্দ হতে পারে, যাতে
আলপিন পড়লেও 
তার শব্দ পরিস্কার শোনা যায় ।

অতঃপর আবির্ভূত হবে চেতনার আলো
সেই নৈঃশব্দ্যের অন্ধকারটি পেলে ।
আত্মাকে পরমাত্মার সাথে পরিচয় করাতে
স্থির হবে এসে মুখোমুখি সমীপে তোমার ।
শুনতে পাবে "খোল খোল দ্বার
রাখিও না আর বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে !"

এই সেই আলো, 
যে ঔজ্জ্বল্য, জীবনের অন্তর্নিহিত সত্যদের
স্বচ্ছতর রূপে চিনিয়ে দেয়
আর তারই সাথে
যাবতীয় অমূলক তার্কিকতার লয় ঘটে,
অনুভব, যুক্তি-বুদ্ধির উপরে 
সফলরূপে অধিষ্ঠিত হওয়ায় ।

প্রসঙ্গতঃ, এই প্রক্রিয়া তে
তুমি কোন ধর্মের লোক,
অথবা অবিশ্বাসী,
তাতে যায় আসে না বিশেষ কিছু ।
আধ্যাত্মিকতা আদপেই ধর্ম-বিশ্বাস নয় 

এবং তুমি তখনো নিতান্ত সাধারণ,
অথচ, ভাবতে পার, প্রকৃত স্বাধীনতার
আভাসটুকু-মাত্র পেয়ে,
আনন্দ, ইতিমধ্যে, কোন অবধি তূরীয় তোমার ?

সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০২৩

LOL

There's, unfortunately, no second alternative.
You have to remain aware.
Cause, love always has
Four simultaneous layers 
Of reciprocation.

If you blindly rush
To connect with the body(1),
You ignore the connection
With the mind(2)
And you eventually forget
To perceive the soul(3).
The last layer is yet left.
It's spirit(4), where there remains
No duality 
When two energy-bodies unite
To become
Unconditionally one.

If you unnecessarily hurry
Only for the hole,
Your love-goal usually turns
No receptive than
An unfathomable, stiff mole.

শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩

নশ্বরতা-উদযাপন

ক্ষণিকের তরে এসেছিলে এ ধরায়
মানব-জীবন নামক হে সুবর্ণ সুযোগ,
হে অনন্ত সম্ভাবনাময় !

এসে, কোন অবধি বেঁচে নিলে 
প্রবুদ্ধ জাগরণে, 
অপ্রতিহত বিকাশের অনুপ্রেরণায় ?
কতটা পাল্টে নিতে পারলে নিজেকে
স্বাধীনতার অধিকতর সক্ষমতায় ?
হাতে পেলে কোন কোন 
হাস্যোজ্জ্বল সুন্দরের ঠিকানা ?
চেষ্টা কি পৌঁছাতে পারলো 
সেই আপোষহীনতা অবধি,
যার পরে সব আফশোষের শেষ হতে হয়  ?

বিদায় সমাগত হতে হবে অদূরে ।
যার হাত ধরে থাকা,
তার পানে হাত নাড়ার সময়ও 
হয়তো যাবে না পাওয়া ।
যাওয়ার লগন একটিবার এসে গেলে,
সে আজ হোক অথবা কাল, 
আজকের আমরা আচমকা একদিন
প্রাণ-ভরে জেগে উঠব না আর কখনো,
অভ্যস্ত নতুন বিস্ময়ের সকালবেলায় ।

এই সামান্য বাস্তবতাটুকু 
নিরন্তর গোচরে রাখতে পারলে,
অমূল্য জীবনের "বেখেয়াল-অপচয়"
হয়তো অবধারিত হবে না আর
ছেলেমানুষ তোমার আমার ।

বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৩

গান

বিশ্বাস আর যুক্তিবাদের হামলে-পড়া, শিশুসুলভ, কামড়াকামড়ির স্তরটিকে পিছনে, অনেকটা দূরে ফেলে এলে, তারপরেও আপামর অনুভবে যে গভীরতার জগৎ টি প্রকাশিত থাকতে পারে - তিনি নিঃসন্দেহে রবীন্দ্রনাথ ।

সত্যের বিভিন্ন স্তর হতে হয় । 

যেমন, 'একটি বীজকে জমিতে রোপন করে, তার উপরে নিয়মিত জল দিলে, একদিন সেখানে একটি উদ্ভিদ-জন্মের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়' । এই বোধটি একটি সত্য, যা বাস্তব জগতের একটি নিয়মকে প্রতিভাত করে ।

ঠিক তেমনই, 'যে কোনও মানুষ, আপন চরিত্রে আজ যদি একটি নূতন সুঅভ্যাসের বীজ রোপন করে, তবে, কালে কালে, সে সেই সুঅভ্যাসটির কারণে, কিছু-না-কিছু সুফল সে অর্জন করবেই' । এটি অপর একটি বাস্তব জগতের নিয়ম, যা সমহারে সত্য, অথচ পার্থক্যটি লক্ষণীয়, যে - এই দুটি সত্যের স্তর কিন্তু এক নয়, বরং ভিন্ন ।

আমাদের পার্থিব জগতের নিয়মগুলি এরূপে বহুমাত্রিক এবং অসংখ্য । এই অফুরাণ নিয়ম তথা সত্যগুলি যার যত অধিক স্বচ্ছতায় উপলব্ধ ও ধার্য, সে তার আপন জীবনটিকে তত বেশি সহজে সার্থকতার অভিমুখে পরিচালিত করতে পারে ।

এবার একটু মানবিক মনস্তত্ত্বের দিকে দৃষ্টি ফেরালে, এটি পরিলক্ষিত হয় যে, অধ্যয়নের প্রতিযোগিতায়, যে ছাত্রটির শ্রদ্ধাবোধ ও বিনয় যত অধিক, শিক্ষাক্ষেত্রে তার অগ্রগতির হার তত বেশি ।

তাহলে পরিস্হিতিটি এরূপ দাঁড়ালো, যে, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের জগৎ এর নিয়ত পারস্পরিক দ্বন্দ্বের নিকুচি করে, জীবনের অবধারিত নিয়মে, সত্যের এই  অফুরন্ত ভাণ্ডারের প্রতি, প্রতিটি মানুষের মনস্তত্ত্বে শ্রদ্ধা ও বিনয়ের অভ্যাস অতি-আবশ্যক, - আপন জীবনে সুন্দরতর পরিনতির দ্রুততরতার স্বার্থে ।

এটুকু বোধে এলে, তারপরে পৌত্তলিকতা, তথা, সর্বপ্রকারের অন্ধ-ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরোধী অথচ নিগূঢ়-রূপে সমর্পণ-সিদ্ধ মহামানব রবীন্দ্রনাথের বিশালতা ও মহানতার অমৃত-স্বাদ আস্বাদন করতে আর তো অসুবিধা থাকার কথা নয় আমাদের । তাই না ?
.
Ranjini Mukhopadhyay

হাত ধরে পৌঁছে দিলেন তার কাছে, যাকে হামেশাই বেখেয়ালে হারিয়ে ফেলে, হারিয়ে যাই নিজে, ভুল ঠিকানায় ।

কৃতজ্ঞতা জানানোর পরিভাষায় যথারীতি টান পড়ছে বড় । দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন । সুমঙ্গল পাশে থাকুক আপনার অহরহ, - এই কামনা করি ।

ব্যথা

রমলা-র ভালই ব্যথা সুদীপের জন্য ! সে এমন এমন কথা বলে ফেলে, অতি অনায়াসে, যাদের কিছুতেই তাড়ানো যায় না আর মন থেকে, যারা দিন রাত নেশায় বুঁদ ক'রে রাখে, যাদের মানাও সুকঠিন, আবার ভোলাও যায় না সহজে ।

এই যেমন সেদিনই দূর থেকে সুদীপ কে আসতে দেখেই যথারীতি থেমে পড়েছিল রমলা  । সুদীপ কাছে আসতেই একটু অন্য দিকে নজর ঘুরিয়ে রমলা-কে প্রশ্ন করলো "চাতক কি বড় কাতর আজ ?"

রমলা "হ্যাঁ",-"না", কোনও কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই সুদীপ ফের বলে উঠলো "তাহলে চল !"

রমলা বাধ্য হয়ে জিজ্ঞেস করলো "কোথায় ?"

সুদীপ বললো "পুকুর পাড়ে ঝোপের পিছনে ।"

রমলা - "কেন ?"

সুদীপ - "তোর আকুলি আর বিকুলি কে আলতো করে মোলায়েম দেব । নাহলে, কিছুতেই আর জমে থাকা টনটনে ব্যথা-টা মরবে না রে বেচারাদের । ওদের আর কি দোষ বল, আমরা যদি খেয়াল না রাখি, নিয়ম ক'রে, অবুঝ ছোটদের ? এবার চল, খুব বেশি সময় পাব না ।"
.

বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩

পদধ্বনি

তারপরে, বাধ্য চলে আসা,
সেই থেকে থিতু ক'রে বসিয়ে রেখে,
আপন অতীতকে
প্রথম খাড়াই এর আচমকা বাঁকে ।

টলতে টলতে তাড়া করে, 
একসময়ে হন্তদন্ত হয়ে পৌঁছে গিয়ে
তখন থেকে দুই হাতে
নিবিড় আদরে জড়িয়ে রেখেছ তাকে ।

অথচ ঊষা, 
না থেমে, উঠে দাঁড়াতে বলে ।
প্রতিদিন নিয়ম করে 
ক্রমশঃ আরও এগিয়ে যেতে ডেকেই থাকে ।

ভালবাসারও হাঁপ ধরে যায়
অন্ধ মোহের সাঁড়াশি চাপে ।

মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩

মিস্টেরিয়াস সাইকোলজিস্ট

এ জগতের অমোঘ নিয়মে
হৃদয় একা শুদ্ধতা বেচে, বুদ্ধি না ।
"মস্তিষ্ক, তার সর্ব-শক্তি প্রয়োগ করেও,
হৃদয়কে যে আদপে লুকাতে পারে না"
সে কথা হয়তো 
আগে থেকে জানা ছিল না ।

পরাণের টাটকা সুবাস
ততক্ষণই উৎপন্ন হতে থাকে,
ঠিক যতক্ষণ মানুষটি 
কথোপকথনে অভিনয় মিশায় না ।

মিথ্যা দিয়ে
তাই, ভুলেও মোহিত করতে এসো না
তাকে
যে, তুমি বোঝার আগেই,
সরাসরি পেয়ে যায়
হৃদয়ের বিশিষ্ট ঘ্রাণটি তোমার,

যার সাহায্যে, তার নিকটে,
মুহূর্ত-মাঝে
তোমার মনস্তত্ত্বের কোনও অংশ
আর থাকে না গোপন, কিঞ্চিৎও অচেনা ।

খুব বুদ্ধি তোমার ? চাপা গর্ব আছে ?
বোকা এবার বুঝবে হয়তো,
চালাকি করতে গেলে,
অতঃপর, যা পড়ে থাকে, সে হলো,
অপর একজনের কাছে 
পড়া বই পুরোনো হয়ে যাওয়ার মত
একটি অতি তুচ্ছ ঘটনা ।
;)

রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩

সুতো ছিঁড়ে যাওয়া

তুমি ভিন্ন গ্রহের মানুষ, আমার জগতের না ।
কখনো বোঝনি তা, এ আমার দোষ নয় ।

তবু ভালবাসি, শ্রদ্ধা জাগে, কৃতজ্ঞতাও,
যখনি মহান হয়ে ওঠো আপন পরিসরে
সমর্পণের নিবিড়ে, বিরল উচ্চতায় ।

আবার কষ্টও দাও, নীরব হতে বাধ্য কর,
নিজেকে সুন্দরে ধরে রাখতে ব্যর্থ যখন,
অসূয়ার কদর্যতায় ।

হয়তো কোনও একদিন 
দীর্ঘশ্বাস শেষ বারের মত জানান দেবে
ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভুলে যেতে হবে তোমাকেও,
মুছে দিতে হবে আগ্রহের কোমলতা যত,
তোমারই একরোখা সীমাবদ্ধতায় ।

বলা হয়নি তোমাকে কখনো,
ভালবেসে পাশে বসতেই পারো,
তবে বিছানায় উঠে পড়ার অধিকার
যে কোনও কারোর জন্য লভ্য নয় ।

বিচক্ষণতা

কিপ্টে-রা মরুক আপন দৈন্যে 
আর হিসেবী হওয়ার অহঙ্কারে ।

ভাল একটা মানুষ পাওয়া মাত্রই
নিকুচি করেছে আর দ্বিতীয়বার ভাবার ।
প্রথম সুযোগেই, শ্লা, যতটা পার
প্রাণ ঢেলে ভালবেসে,
সময়ের তাৎক্ষণিক উদারতাকে 
যে অবধি পারো 
ভরপুর উসুল ক'রে নাও
আপন সিংহ-হৃদয়ের সহজাত অধিকারে,

যেন পরে, যে কোনদিন,
যে কেউ একজন
হঠাৎ না ব'লে হারিয়ে গেলে,
যে পড়ে রইলো
তার যেন কোনও আফশোষ 
বাধ্য অবশিষ্ট না রইতে পারে ।

নিয়তি যেন প্রবুদ্ধের দুয়ারে
ব'লে ব'লে, অসহায়ের মত হারে ।

প্রবাসী

যে কোনও বয়সে 
যে কোনও একটা কেউ
পরের অগোচরে থাকে যদি জীবনে, 
পরাণ যাকে
চুপচাপ প্রাণ ঢেলে ভালোবাসে,

ব্যাস, জীবন ওমনি গার্ডেন-গার্ডেন 
আর মনটা সবসময় ম-ম করে 
বিরল পাহাড়ি ফুলের সুবাসে !

যাপন তখন সব বাধাকে তুচ্ছ ক'রে, 
আগেভাগে পথ চলতে চায় 
আর কিছু-না-কিছু বলার ফাঁকে 
দোলের রঙের মত রহস্য মাখিয়ে
অন্যদের, দ্যাখ-না-দ্যাখ, ভূত বানিয়ে দিয়ে,
সদ্য-ভেজা গায়ে
থর-থর কাঁপনের কাব্য লিখে
নিজে প্রতিটিবার খিলখিলিয়ে হাসে ।

এ ধরায়
শুধু সুখী মানুষ-রা বেদম ভালবাসে ।
.

প্রবাস

যে কোনও একটা কেউ
থাকে যদি জীবনে, 
পরাণ যাকে
চুপচাপ প্রাণ ঢেলে ভালোবাসে,

ব্যাস, জীবন ওমনি গার্ডেন-গার্ডেন 
আর মনটা সবসময় ম-ম করে 
বিরল পাহাড়ি ফুলের সুবাসে !

 যাপন তখন সব বাধাকে তুচ্ছ ক'রে, 
আগেভাগে পথ চলতে চায় 
আর কিছু-না-কিছু বলার ফাঁকে 
রহস্যময় খিলখিলিয়ে হাসে ।

কারুবাসনা - ২

উভয়েই যুগপৎ আবির্ভূত ।
শুধালাম "কে তোমরা ?"

তারা বললেন -
"আমরা তোমার হতে এসেছি ।
তবে উভয়ে একসাথে নয় ।
যে কোনও একজন-কে পাবে ।
বল কাকে চাও ।
আমি 'সৃষ্টি' আর ও 'সুখ-বৃষ্টি' ।"

আমি বললাম "সুখ ! জানি তুমি কত মিষ্টি ।
কিন্তু তোমার পশ্চাৎ-টি আদপে তুমি নয় ।
বিচক্ষণ-মাত্রে বিলক্ষ্মণ জানে -
যে অপর, সদা-জাগ্রত, অস্তিত্ব
অপেক্ষায় রয়েছে সর্বক্ষণ, সেখানে, 
সে হলো দুঃখ-নামক চির-শত্তুর, 
মানুষ-মাত্রের 
চিরাচরিত আসক্তির বেকুব-অভিধানে ।
তোমার অধিকার নেই একটিবারও,
এ ধরায়, 
তার থেকে নিজেকে পৃথক ক'রে
একক অস্তিত্বে স্থিত হওয়ার ।
তুমি তাই ফিরে যাও বরাবরের মতন ।

সুখ, বাধ্য ফিরে গেলে, 
স্মিত হেসে সৃষ্টিকে বললাম
"গ্রহণ কর চরণে তোমার 
আমার সর্বান্তঃকরণে সমর্পণ ।
দাও উল্লাস আর বিতর কৃষ্টি ।
সার্থক হোক মানবজনম ।

শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩

বিনা-অক-ওয়াৎ

নিজেকে, আগে থেকেই, 
অধিক বোঝদার ধরে নিলে
মূ্র্খ প্রতিপন্ন হতে হয় আখেরে ।

নিজের বিরুদ্ধে শক্তিশালী লেখা 
নিজেরই ওয়ালে শেয়ার করতে 
কোন অবধি আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়, 
তা মাপার মত স্কেল নিজের কাছে মজুত থাকলে,
মাতব্বরির প্রবণতকে সংযত করা কে 
বিচক্ষণতা মনে হওয়ার 
সুযোগ অন্ততঃ পাওয়া যেত ।

খেলো, তবে 
হোঁড়ের মত মোটা দাগের না হলে
দেখতে সুন্দর লাগে 
আর শ্রদ্ধাও নষ্ট হতে হয় না । তাই না ?
বেলতলায় ন্যাড়া বিষ উগরে
কোন চাঁদ-বদনটি আর 
জিতে নিতে পারে ?

মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩

ছাড়া ছিল না

ভেবো না কখনো
প্রকৃতি তোমাকে শিকলে বাঁধতে চাইবে না ।
তুমি বার বার বাঁধা পড়ে যাবে,
কারণ, তার পদ্ধতি ও পথ 
তোমার চেতনে অধিকতম অচেনা ।

শরীর কারও জন্য চিরটাকাল রইবে না ।
অথচ শরীরে না পেলে
তোমার ঘুরে-ফিরে মনে হতেই হবে, যে -
আশ কিছুতেই পুরোটা মিটলো না ।

তোমার প্রারব্ধ
বহন করে এনেছো ইতিহাস হতে
একার এককে ।
আমি তাকে নিশ্চিহ্ন করতে পারি না ।
সে ভুল দৃষ্টিকোণে নিয়েই যাবে,
যে তোমাকে ঢেলে দেবে, অকারণে
নিদারুণ একাকিত্বের যন্ত্রণা ।
সে কষ্ট আমার আজও সহ্য হয় না ।

তোমারই নিকটে
উপেক্ষিত হবে আপন পরাণখানি,
যে তোমাকে দেখাতে পারতো
সত্যের সম্যক রূপ,
যার বরে চিনতে পারতে তুমি -
"যতটা নিকটে ছিলে সেদিন
তার থেকে আজ একচুলও কম না ।"

ভালবাসার অপমৃত্যু ঘটতে পারে
কেবল শরীরের স্তরে ।
শরীরের মত 
অযাচিতে বিশ্বাসঘাতক নয় ব'লে
ভাবতে পারা সহজও নয়, যে -
পরাণে তেমনটা খুব একটা ঘটে না ।

সুফলা ও বিফলা

ওটা-কে 
মোটেই ভালবাসা বলে না, বোকা !
ওটা ধোঁকা ।
নিজের ফ্রীজে পুরে রাখবে 
একটা জীবন্ত মানুষ কে
সময়মত, আশ মিটিয়ে খেতে ?

মা যেভাবে সন্তানকে বাড়তে দেয়
তেমনটি না করে,
একটা মানুষকে, অযথা হড়বড়ে
একার অধিকারে পেতে

মুঠোর মধ্যে এতটা পুরতে চেও না
যেন খাঁচার মধ্যে দমবন্ধ হতে হতে,

একদিন সে পালিয়ে বাঁচে 
হাঁপ ছেড়ে,
তারপর থেকে আবার
সহজে বুক ভরে শ্বাস নিতে

আর 
জীবনের অপার দিগন্তে
নতুন ক'রে স্বাধীন ডানা মেলে দিতে ।

সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩

শিল্প

একাধিক শয্যাসঙ্গে বরাবরের অরুচি
প্রশ্নহীন বিচক্ষণতা ও 
বিলক্ষণ আভিজাত্যের পরিচয় ।

তাব'লে ভালো-কে ভালবাসতে ভয় ?

গীতা হতে নির্লিপ্তির অভিজ্ঞান
শ্রদ্ধা-সহকারে অন্তরে অর্জিত হলে
ভালবাসার স্বতঃস্ফূরণ
শিশুর পারা স্বাভাবিক ও সহজ হতে হয় ।

প্রতিবন্ধ

হ্যাঁ গো,
এ কেমন মগের মুলুকের অধিকার তোমার ?
গুণ্ডা কোথাকার !

একশো বারের মধ্যে আশি বার
চঞ্চুহরণ প্রতিযোগিতার ফাঁকে
বোঝার আগেই তৎপর সাফল্যে
আচমকা আমার উপরে চেপে পড়ে, 
দাপটে ভালবেসে, সুখকে দুয়ে দুয়ে
পুরোটা নিংড়ে নেওয়ার সুযোগে
শেষ মুহূর্ত অবধি ময়দার মত ছেনে, 
জিতে, তারপরে "হাঃ হাঃ" ক'রে হেসে উঠে,
আলতো ক'রে জোড় ছাড়িয়ে 
নেমে যাবে তুমি প্রতিবার ?

আর অসহায় আত্মসমর্পণের দায়
তোমার বিরল মহিমায়,
বাধ্য হয়ে, ঠিক ততবার, একাই আমার ?
.

দায়

মানুষ 
ভেবে নিতে ভালবাসে -
জীবনে ঘটে যাওয়া যা কিছু
সবই নিয়তি-জনিতে "হয়" !

হওয়া আর করা -
উভয়ে পার্থক্য তবে কোথায় ?
.
কেউ কেউ ব্যতিক্রমী-মাত্র করে যায়,
হয়ে যেতে থাকাকে না মেনে, 
বিবেকে প্রত্যয়ের দীপ্ত অধিকারে ৷

স্বর্ণশস্যের খাদ কে 
চিরতরে নিবৃত্তি-আদেশ দিতে
আপন অঙ্গারকে 
প্রযোজ্য উত্তাপ-আকরে
নিজে জ্বলে লাল হতে হয়
ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতার অধিকারে !
.
2016

রিনিঝিনি

তীক্ষ্ণ-শ্রবণা ব'লে
জীবনের যত অবাধ্য শ্রাবণ 
তার কাছে প্রাপ্য কেবল
অবিরত, অসহযোগী অত্যাচার ।

সে মুক্তি চায় অমানবিক হাহাকার থেকে ।
মরীয়া হয়ে পথ খুঁজতে চায় 
জমজের সমীপে, সে মূক আর্ত-চিৎকার। 

বাধ্য হয়ে, ডাকতে থাকে কাউকে 
চুপিসারে, আগ্রাসী ধর্ষণের আমন্ত্রণে ।
পেতে ডাকে
একটি পাকাপাকি জন্মদাগের আশ্রয়
আর তীব্র শীতার্তের 
আচমকা বানভাসি উষ্ণতায় 
দ্রবিভূত হতে পারার প্রাণান্ত সুখে
রহস্যময়ী মধ্যরাত্রে
পড়শীদের ঘুম ভাঙানো সুতীক্ষ্ম শীৎকার ।
.

বসন্ত-বিধুর

পাওয়ারা শরীরে আবর্তিত হয় 
সর্বদা ক্ষণিকের তরে,
দীর্ঘতর পাওয়ারা থাকে মনে
আর দীর্ঘতম-দের বাস কেবল পরাণে ।

লক্ষ্য করলে দেখবে শরীরের অধিকার
সবচেয়ে সাময়িক আর অস্থায়ী ।
মনের অধিকার যদিবা অধিকতর,
পরাণে অধিকারের স্তরটি অনেক সূক্ষ্ম,
অথচ, একবার ঠিকঠাক জেগে উঠলে
আর চট করে হারাবার ভয় নেই ।

তবে পরাণে ভালবাসার অধিকার
ঠারে ঠারে অনুভব করতে গেলে
সংবেদের স্তরও যথেষ্ট উচ্চ হওয়া চাই 
আর তেমন যদি সত্যিই হয়, তবে
নীচের স্থুল দখলগুলো না পেলে
বসন্ত-কে রোদনভরা হতে হবে
এমন কি আছেই কথা, 
বল-না গো, ও শ্রীমতি বিস্ময় ?

রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩

ছুটির ডাক

একটা বিরল ছুটি
কাটাতে চাই তোমার সাথে আমি !
.
যেদিন 
আর কোনও তাড়া নেই
তীব্রতর সুখের !
.
যেদিন 
সময়ের ঘন্টা মিনিটগুলো
মুছে দেবে সব চাহিদার ক্লান্তি
মায়ের আঁচলের মত !
.
একটা বিরল ছুটি কাটাতে চাই
তোমার সাথে তেমন !
.
যেদিন 
কোনও অভাবী, নির্ধন-স্বভাব
হতাশা আবার জাগাবে না অন্তরে !
.
যেদিন
তোমাকে ফের হারানোর ভয়ে
বারবার চমকে উঠতে হবে না আমার !
.
একটা বিরল ছুটি কাটাতে চেয়েছিলাম
ঠিক তেমন ভাবে, তোমার সাথে 
আমি, - এ জীবনে !
.
যেদিন
জীবনকে শুধু ভালবাসতে ভাল লাগে ব'লে
ভালবাসব আমরা, - পারব নিশ্চিন্ত মনে !
.
যেদিন
তোমার আমাকে আর আমার তোমাকে
চিনতে বাকি থাকবে না - এতটুকুও !
.
ছুটির একটা বিরল অবসর - কাটাবে
আমার সাথে ?
মন সমুদ্রের 
ঢেউয়ের আওয়াজ সফল গুনতে শিখে,
চোখে অবিচলতার প্রশান্তি মেখে
ধরা পড়ে যাওয়ার নির্বিবাদ সুখে,
তৃপ্তির ইঙ্গিতবাহী পরাণের 
মেদুর সঙ্গীতে নিখুঁত সুর মিলিয়ে
সলজ্জ চোখে চোখ রেখে ?
.
2017

আড়ি থেকে পালিয়ে

পালিয়ে যাবে ভাবছো, অন্য কোথাও,

এযাবৎ জড়িয়ে থাকা 

সবকিছু-কে পিছনে ফেলে রেখে ?


কোথায়ই বা যাবে আর ?

দূর হতে দেখ যে বাহার

তাকে কাছে এসে ছুঁতে গেলেই

সেখানে আবার অধিকতর কাঁটার যন্ত্রণা ।

"নদীর ওপারে সর্বসুখ" - প্রমাণিত

চিরটাকাল একতরফা মিথ্যা কল্পনা ।


বরং এমনটা নিরাপদ, অথচ বেশ ভালো ।

পছন্দের হবি কে রোজ একটু একটু ক'রে

একদিন পুরোপুরি প্রফেশন বানিয়ে ফেল ।

তার মানে, নিজের ভালবাসাকে

সার হিসেবে ব্যবহার কর রোজের চাষে,

এমন ভাবে, যেন আজকের মনের বীজ

আগামীতে চারা হয়ে 

একটিবার সামান্য জন্ম নেয়

আর তারপরে, কালের নিয়ম মেনে,

ক্রমশঃ বৃক্ষে পরিনত হয়ে উঠে, একদিন

স্থায়ী ছায়ার শীতলতায়

তোমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য

ও একান্ত আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে ।


একটু ধৈর্য লাগবে, অবশ্য,

তবে, বাইরে আর না খুঁজতে চেয়ে,

নিজের দিকে একবার শুধু পুরোটা ফিরলে

চিন্তা নেই আর, জীবন থেকে

দীর্ঘশ্বাস আর অশ্রদ্ধা চিরতরে অন্তর্হিত হয়ে

পারিজাত-উদ্যান হবে ।

শনিবার, ৪ মার্চ, ২০২৩

আকাশে

কলম নথিবদ্ধ করে 
সেদিনের ভাবের টাটকা চলনটুকু তোমার ।
ব্যাজার মানুষ আবার বড্ড বেশি খোঁজে মানে ।

যেদিন যেদিকে যাও, 
তার রেশ পড়ে থাকে শব্দের প্রেয়সী-চয়নে,
কখনও আবার আঁকা ছবিতেও
আর গানে, পছন্দের শৈল্পিক টানে ।

স্থবিরের আসক্তি থাকে না সহসা স্নানে ।
তোমার নিয়ত অবগাহনে সৃষ্ট অনুরণন
আমাকে কেমন নিঃশব্দে অনুসরণ করায়,
তোমার, যেতে যেতে, হঠাৎ পিছন ফেরা-রা 
তা যেই টের পায়, ওমনি মুচকি হাসে, 
কারণ - হামেশা, অধিক স্বচ্ছ ভাবে জানে ।

না আমি তোমার অনুকরণ নয়,
আর নয় বলেই, আমার মনের মেঘ
অচিরে ধেয়ে আসে
বিধুমুখী তোমার, লক্ষ্মীমন্ত চলনে সৃষ্ট 
জেটের ধোঁয়ার পারা 
সুদূরে হারানো রেখার পানে ।

তারপরে, অবশ্য, তুমিও জানো না
আর আমিও না,
আরও দূরের আকাশে মিলিয়ে যেতে যেতে
কি কথা হয় উভয়ে, বিরল নিভৃতে
উত্থানের অবধারিত সোপানে
বিনিময়ের বিবিধ ঐক্যতানে
সুসহযোগের সমর্পণী কানে-কানে ।

"মানুষ"- এই নামটি শ্রেষ্ঠতম কেন জানো ?
কেঁদে ফেলো না যেন নিজেকে চিনে !
মানুষই, আসলে,
শুধু ভালোবাসার তাগিদে জন্মাতে জানে ।
.

বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩

কৃষ্ণ করলে লীলা

অর্ধশিক্ষিত হলে প্রশ্ন করাই যায়
"পরকীয়া কীইবা এমন প্রবল দোষের হয় ?"

না, 
'এক'-এ আদপে দোষ ছিল না কোনও ।
তবে, দুই এর মানে, প্রথমতঃ,
অবশ্যই দুটি আলাদা নৌকা,
তোমাকে, বুদ্ধি খাটিয়ে, যাদের 
সমানতালে অধিকারে রাখতে
অতিচালাক পদ্ধতিদের নিশ্চুপ অনুসরণে
ক্রমাগত ম্যানেজ করে যেতেই হয় ।
তাহলে, 
বুদ্ধি খাটিয়ে ম্যানেজ করতে হ'লে,
বিবেকের নিয়ম নিঃশর্তে মেনে
ভালবাসার শর্তহীন সরলতা
আদৌ কি বেঁচে রইতে পায় ?

দ্বিতীয়তঃ,
একাধিক মানুষের স্যালাইভা ও রক্তরস
পাল্লা দিয়ে গ্রহণ করলে, 
সাত পুরুষের দেওয়া
আপন জিনটি ভেঙে গিয়ে, 
মানুষটির শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধশক্তি 
একটু একটু ক'রে
একদিন চিরতরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ।

সর্বোপরি, দুটি পৃথক মানুষের সাথে
সমানতালে, সম্পর্ক রক্ষা-কালে,
দুটি ভিন্ন মানুষের মনের ও আবেগের 
কম্পাঙ্কের এর সাথে 
পৃথক পৃথক স্তরে অনুরণন-প্রচেষ্টায়,
উভয়ের সাথে 
আলাদা ক'রে মানিয়ে নিতে,
কিছু না কিছু অভিনয়
বাধ্য হয়ে করতেই হয় ।
তখনকার মত বলতেই পারো
"সামান্য ব্যপার, ও তেমন কিছুই নয় ।"
শুধু এড়াতে পারবে না
বিবেক-বর্জিত আপন মনস্তত্ত্বের
ক্রমশঃ ভঙ্গুরত্বে
আত্ম-শ্রদ্ধা-বোধের অবধারিত লয় ।
কারণ
একাধিক অর্থ - আক্ষরিকে মেরুদণ্ডহীন,
একই মানুষের দুটি মেরুদণ্ড সম্ভব নয় ।

প্রসঙ্গতঃ,
লক্ষণরেখাটি থাকে কেবল এক-এর পরে ।
দুই ক্রমে দশ হওয়ার মাঝে
নতুন কোন প্রতিবন্ধকতার সম্ভাবনা নেই ।

কী হতে পারে আত্মশ্রদ্ধা কমে গেলে ?
কালে কালে পৌঁছে যেতেই হবে 
সেই নির্মম দৈন্যে,
যখন নিরুপায় ভিক্ষুকসম, 
ক্রমাগত নির্লজ্জ হাত পেতে চলেছ
পরমুখাপেক্ষী শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতিদের দরজায়,
কারণ, বিবেককে ঠকিয়ে 
নিজেকে শ্রদ্ধা করার উপায়,
হাস্যকর ভাবে, আর কিছুমাত্রও
নিজের কাছেই যে অবশিষ্ট নেই ।

যে মানুষটা একদিন 
দাপটে ভালবাসতে জানতো 
নিছক অবলীলায়,
হঠাৎই আবিষ্কার করতে হবে -
তার ক্রমশঃ কৃষ্ণবর্ণ লাশ 
ভারাক্রান্ত হয়ে বয়ে চলেছো সারাদিন ।
লোকে জানবে - "একদম মারিয়ে গেছে রে ।"
হাজার চেষ্টা করেও
তার উজ্জ্বল অতীতকে আর নূতন করে 
একটিবারও জাগানোর উপায় নেই ।

হে উচ্চশিক্ষিতের দিগগজ আত্মম্ভরিতা,
এবার, পার তো আবার প্রশ্ন কর
"পরকীয়ায় কী এমন ক্ষতি হয় ?"

ভাল তো বাসতেই হবে ।
মানবজীবনে গতির প্রগতি বিনা
উত্তরণের আর দ্বিতীয় উপায় কোথায় ?
ভালবাসার উদ্ভাস যদি 
লোভ ও মোহের বশে
ব্যক্তিগত শুদ্ধাচারকে ছেড়ে যায়,
তবে এরপরও চিরকাল,
ঋষির অভিশাপে, ভাগ্যবান ইন্দ্রের 
"হা ভগ-বান" হওয়াই দস্তুর, বাধ্য নিরুপায় ।

বুধবার, ১ মার্চ, ২০২৩

ভাঙতে চেও, থামতে না

বিপ্লব করবে ? অফুরন্ত সুযোগ আছে । শুধুমাত্র পরমুখাপেক্ষী স্লোগানে ভুলো না । বিপ্লব কদাপি বাইরে দীর্ঘকাল টেকে না ।

তোমার প্রবৃত্তিরা তোমারই অভ্যাস-অর্জিত সুবিধাবাদী সহচর মাত্র । যে বস্ত্র পরিধান করে রয়েছো, তাকে যেমন যে কোনও সময়ে খুলে রাখা যায়, তোমার প্রবৃত্তিরা হুবহু তেমনটাই । 

অথচ, তোমার অহমিকারা সুদীর্ঘকাল যাবৎ তোমারই অশালীন প্রশয়-পাওয়া প্রবৃত্তিদের আপন অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ভেবে চলেছে, বোকা পাঁঠার অধম-প্রবণ মেনে নেওয়ায় । যেদিন বুঝতে পারবে যে তারা আদপে তুমি নিজে নয়, সেদিন জানবে বর্ধিষ্ণুতার আলোকে শৃঙ্খলমুক্ত স্বাধীনতার উজ্জ্বলতর সুদিন সমাগত তোমার ।

মানুষের সীমাবদ্ধতা, তথা অক্ষমতারা লুকিয়ে থাকে তার প্রবৃত্তি-প্ররোচিত আচ্ছন্নতাদের অন্তরালে, আখেরে ক্রমাগত-সম্ভোগপ্রবণ সৃষ্টিহীনতার এক একটি চর্বি-সার কলুর বলদে ।

এই প্রবল নেশাকে কাটাতে পারে একটিই যৌথতার অবধারিত দ্বন্দ্ব । সে হলো - 

একদিকে ইচ্ছাশক্তি আরোপিত তেজোময় চেতনায়  প্রবৃত্তিদের প্রতি সৃষ্ট আপোষহীন নির্লিপ্ততা

এবং তার সাথে, অপর দিকে  

স্থিরলক্ষ্যে, প্রবল ক্রিয়াশীলতার দ্বারা অর্জিত যথার্থ আত্মনির্ভরতার অবিচলিত ইতিহাস ।

আলো কে স্থায়ীরূপে ধারণ সম্ভবপর হয় কেবলমাত্র আত্মমুখাপেক্ষিতার চাষে । শুরু করতে হ'লে, এবারে সত্যিকথাটা নিজের কাছে চুপিচুপি একবার অন্ততঃ স্বীকার করেই ফেল । দ্বিতীয় কাউকে জানাতে হবে না ।

বর্তমানে, আন্তর্জগতে, কোনটি তোমার সঠিক ঠিকানা ?
.