রাজযোগ, ভক্তিযোগ আর জ্ঞানযোগ
যে হারে সমাদৃত হয়েছে ভারতবর্ষের যোগের প্রচারক সাধুদের কাছে ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনে,
কর্মযোগ সে তুলনায় প্রভূত পরিমানে
বঞ্চিত ও অবহেলিত রয়ে গেছে । কর্মযোগের প্রকৃত শিক্ষা ও দৈনন্দিনে বাস্তব প্রয়োগ এই মুহূর্তে উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতবর্ষে বেশ প্রকট রূপে অপ্রতুল ।
ফুটো কলসিতে জল ভরে লাভ হয়নি । কর্মে অধ্যবসায়ের প্রসাদে আত্মবিশ্বাসে যে স্বতঃস্ফূর্ততা আসে, সেই আত্মশ্রদ্ধাবোধ-উদ্ভূত প্রবল তেজের অভাবে, গড় ভারতবাসী আজ বৃদ্ধ-ভিক্ষুক-সম, আত্মশক্তিতে গরিমাহীন ও বহুলাংশে, বাস্তব হতে, অলীক কল্পনার জগতে পলায়ন-প্রবণ ।
ত্যাগের প্রশ্ন সদা-সর্বদা আসে অর্জনের পরবর্তী ক্ষেত্রে । যথার্থ শক্তিমান মানুষ ভোগে দীর্ঘদিন সংযত তথা বিরত রইলে তাকে চলতি কথায় সাধু বলে । ভিক্ষুকের আবার ত্যাগ করার মত ধন কোথায় ? সন্ন্যাসী ও ভিখিরি সমার্থক হয়ে যাওয়ার সুযোগে, ত্যাগ এর শিক্ষা ও মাহাত্ম্য জনমানসে বাধ্য অনুদিত হয়েছে অর্জনহীনতার "আঙুর ফল টক" - এ ।
দুর্বলতার বাস্তবকে অস্বীকার করে স্বাভিমানের সংরক্ষণ অসম্ভব । কর্মযোগের সার্থকতম প্রয়োগ বাস্তবে ঘটে চলেছে আজও এ পৃথিবীর বর্তমান বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে ।
ভারতবাসীকে জগৎশ্রেষ্ঠ হতে হলে, সবার আগে, নিজের কলসির ফুটো বন্ধ করতে হবে ।
আপন ঠুনকো অহমিকার কূপমণ্ডূকতাকে পরিহার করে, বিনীত চিত্তে, সফল বিলিয়নিয়ারদের জীবনী অধ্যয়ন করে, তাদের দেওয়া প্রতিটি শিক্ষা ও নির্দেশ, যথোচিত ধৈর্য ও শ্রদ্ধা সহকারে, কায়মনোবাক্যে, আপন প্রাত্যহিকীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ও দ্রুততর অর্জন ও সাফল্যকে দৈনন্দিন সংস্কারে ও অভ্যাসে স্থায়ীভাবে খোদাই করতে হবে ।