শীতের শিশির পেয়ে
যে ধবধবে সাদা পিটুনিয়ারা
উপচে যেতে চেয়ে
প্রায়ই আঁটতো না খোলা মুঠোয়,
তারা গ্রীষ্মের পরশে, কুঁচকে গিয়ে,
আমড়ার থেকে ছোট হয়ে গেছে সাইজে ৷
যত ঘন-লাল পাতা-বাহার
বৈচিত্রের অভিনবত্বে ভরে রাখতো
এক এর পর এক বারান্দার টব,
তারা, একে একে, লাল রঙ সম্পূর্ণ খুইয়ে ব'সে
এখন নিছকই সবুজ-সর্বস্বে
এক-একটি অতি সাধারণ গাছ !
যে বেগনভেলিয়ারা লড়ে যেত
একে অপরের সাথে
রঙের অভিনবত্বে - তীব্রতার প্রতিযোগিতায়,
তারা এখন ক্রমশই ম্যাড়ম্যাড়ে,
রঙ জ্বলে যাওয়া শুকনো কাগজ-ফুল ৷
তবে প্রতিটি গাছের মধ্যে যা লক্ষ্যণীয়,
সে হলো - অবধারিত ভাবে তাদের অন্দরে
জাগছে নূতন কোষ,
ঠিক প্রতিটি মানুষের অচেতনে
অথবা অবচেতনে শরীর জাগছে যেমন
নতুনের ঢেউয়ে
মৃত কোষদের সাফ করে দিতে দিতে !
শীত গ্রীষ্মের এই পরম্পরার খেলায়
প্রকৃতির আপত্তি নেই তো তেমন কোনও !
শুধু আনন্দের পরে বিরহকে
তুমি সহজ ভাবে মেনে নিলে না ব'লে,
হিসেবের খাতায় মাপতে না পারা
পরাণের ধন - হাসিরা
আঙুলের ফাঁক গলে হারিয়ে গেল প্রতিটিবার
সেই প্রথম দিন থেকে আজ এ অবধি,
যেমন ধর, কাজের মেয়ে
সুযোগ বুঝে আজই প্রেমের ছুটি নেওয়ায়,
সক্কালে উঠেই, ডাঁই করা বাসন মাজার,
সারা বাড়ি ঝাড়ু দেওয়ার আর
হাঁপাতে হাঁপাতে ঠাকুর ঘর অবধি মোছার
সুখটি উপহার দিলো
সুগৃহিণী-সুলভ আহা-মরি ১লা বৈশাখে !
.
রবি কিন্তু তারপরেও
লভ্যে - নিটোল ও ভরাট রয়ে গেছে
আগের মতই অকৃত্রিম অবিচলে !
.
.