সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অবশিষ্ট

তোমার দরজায় গিয়ে
চার দিন ধরে 
অপেক্ষায় মুখ গুজে বসে থেকে থেকে
অবশেষে ফিরে এসেছিল
একটা রোগা, বখাটে সকাল ।
প্রত্যাখ্যানের তীর বুকে বেঁধার পরে
বাধ্য হয়ে প্রাণ ত্যাগ করেছিল ।

আজ তোমার কলমে 
নতুন ফুল রঙ-বেরঙে ফুটতে দেখে
নিশ্চিত হয়ে
তার জমিয়ে রাখা ভষ্মাধার
গঙ্গায় গিয়ে উৎসর্গে দিয়ে এলাম ।

কোয়ালিটি

জিততে যেও !
উত্তাল জোয়ারকে পুনর্বার জাগাতে হলে 
ভাটাকে তার আগে সাদরে ডেকে নিও ।
কাছে যদি আগেরবারের চেয়ে
আরও নিবিড়তর ক'রে পেতে চাও, তবে
বন্দী করো না তাকে 
একার অধিকারের ডোরে, বরং প্রতিবার
আবার আরও বেশি দৃরে গিয়ে,
পাগল হয়ে, প্রবলতর ফিরতে দিও ।

বুকের বাঁ দিকে আকুতির ঝড়ে
পরিমানের চেয়ে তীব্রতরতায় ধ্যান দিও ।
প্রলোভন আর কার্পণ্যের ফাঁদে ফেলে
তৃষ্ণা বাড়িয়ে নেওয়ার স্থুল চালাকি নয়,
আপন পরাণে তার স্বাচ্ছন্দ্যের আবাসনে
উদারতার মুক্ত বাতাস যেন বইতে পারে ।

সাহচর্যে, স্বাদের পদে পদে,
মুহূর্তদের আলোকময়ে জাগাতে চেও ।
খাঁটি সংবেদের সুবাদে 
বিরলতাকে চেনাতে থেকে
আগ্রহে তার বিনীত স্বেচ্ছাকে পাওয়া হ'লে
উষ্ণতার মেদুর আপ্যায়নে ঢেকে নিও ।

পরের গল্প তাকে তুলে রেখে, তৎপরতার
প্রথম সুযোগে, আগবাড়িয়ে ভালবেসো ।
গুণমান পাল্টে দিয়ে আর পাল্টে নিয়ে 
শেষ অবধি বিজয়ীর হাসি হেসো ।

যোজ্যতা

ভালবাসা মানে 
স্থবিরের আত্ম-কার্পণ্যকে জয় ।
ভালবাসা গতিশীলতার শুভনাম ।
আপন প্রসার-প্রসন্ন আগামীকে 
ভালবাসার বলে
বর্তমান নিজে, একটি একটি করে,
উন্নতির পরবর্তী ধাপ পেরিয়ে যায়।

আটকে পড় অপরিসীম যন্ত্রণায়
যখনই অবিশ্বাসের কাঁকর, জুতোয় ঢুকে,
পায়ে ফুটতেই থাকে তোমার ।

তা না হলে, কোনও দূরত্ব 
অথবা পাহাড়ের হিমালয়-সম উচ্চতা
আটকাতে পারে না তোমাকে,
ভালবাসা যখন বিশ্বাসের সাথী হয় ।

মানুষ পরকে ভালবাসে বেকুবের মত,
হরদম লক্ষ্যকে না বুঝেই ।
পর আর কীইবা এমন দেবে ?
আসলে সে হৃদয়ের আন্তঃসলিলে 
বাধ-ভাঙা জোয়ারের ডাক শোনে
ঊর্ধ্বস্তরে উত্তরণের
একান্তই আপন মঙ্গলকামনায় ।