শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

স্বর্গ

দরোয়ান একটু সরে দাঁড়ালেন।

প্রথম লোকটার দিকে তাকিয়ে তিনি শুধু বললেন—
“ভিতরে যাও।”

লোকটা একবার চারদিকে তাকালো।
লাইনটা এখন আর আগের মতো শব্দ করছে না—
সবাই চুপ, যেন প্রত্যেকে নিজের ভেতরে কিছু একটা নতুন করে শুনছে।

সে ধীরে ধীরে দরজার ভেতরে পা রাখলো।

ভেতরে ঢুকেই সে বুঝলো—এটা কোনও আলাদা জায়গা নয়।
কোনও সোনার সিঁড়ি নেই, কোনও আলোর রাজ্য নেই, কোনও দেবদূতের ভিড় নেই।

বরং—
অসংখ্য ঘর।

প্রতিটা ঘর আলাদা, কিন্তু অদ্ভুতভাবে চেনা।
কোথাও রান্নাঘরে ঝগড়া হচ্ছে, কোথাও কেউ চুপ করে বসে আছে, কোথাও কেউ হেসে উঠছে হঠাৎ।
কোথাও কেউ কারও সামনে নির্ভয়ে কাঁদছে, অথচ কোথাও কেউ নিজের অদ্ভুত অভ্যাস নিয়ে লজ্জা পাচ্ছে না।

সে হাঁটতে হাঁটতে একটা দরজার সামনে থামলো।

দরজাটা চেনা, আধখোলা।

ভেতরে উঁকি দিয়ে সে দেখলো—
একটা ছোট্ট ঘর,
সকালের আলো,
একটা বিছানা…
আর ঠিক সেই রোজকার চেনা দৃশ্য।

তার স্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে,
ঠ্যাং তুলেছে তার কোমরের উপরে আর সশব্দে বায়ু রেচন করছে পরম নির্দ্বিধায়।

লোকটা থমকে গেল।

সে বুঝতে পারলো—
এটা কোনও নতুন দৃশ্য নয়।
এটা তার নিজের জীবন।

পেছন থেকে দরোয়ানের গলা ভেসে এল—
“দেখলে?”

লোকটা ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো।

দরোয়ান বললেন—
“স্বর্গে যা আছে,
তোমরা নিচে থাকতেই তা তৈরি করে ফেলতে পারো।
এখানে আমরা শুধু সেটা দেখাই—
যা সত্যি ছিল।”

লোকটা আর ভেতরে এগোল না।

সে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখলো,
তারপর ধীরে ধীরে পিছিয়ে এল।

দরোয়ান জিজ্ঞেস করলেন—
“থাকবে না?”

সে হালকা হেসে বললো—
“আমি তো ওখানেই আছি।”

তারপর সে ঘুরে দাঁড়ালো।

করিডরটা আবার আগের মতোই লম্বা,
লাইনটা আবার ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।

কিন্তু এখন একটা পার্থক্য আছে—
প্রত্যেকের চোখে একটু করে সংশয়,
আর একটু করে সত্যি।

প্রথম লোকটা সবাই কে পেরিয়ে বেরিয়ে এল লাইন থেকে—
কারণ এবার সে আর অপেক্ষা করছে না।

সে জেনে গেছে—
দরজাটা সামনে নয়,
দরজাটা সবসময়ই
তার জীবনের ভেতরেই ছিল।