অভিমান একটি নিঃশব্দ অপেক্ষার নাম,
যেখানে শব্দের কোনো দরকার পড়ে না,
কোনো উচ্চারণের প্রয়োজন হয় না।
সে বসে থাকে নিস্তব্ধ ঘরে,
একাকী প্রদীপের মতো,
যার আলো শুধু নিজের ভেতরটুকুই উন্মোচন করে।
অভিমান ঝড় তোলে না,
সে সমুদ্রের মতো উন্মত্ত নয়,
বরং হিমশীতল হ্রদের মতো—
উপরে শান্ত, ভেতরে অসংখ্য ঢেউ।
এই নিস্তব্ধতাই হলো তার ভাষা,
এই অচঞ্চলতা—তার সবচেয়ে প্রবল অভিযোগ।
এর দৈর্ঘ্য নির্ভর করে
অপরপক্ষের অনুভূতির গভীরতায়।
যদি ভালোবাসা সত্যিই অটল হয়,
তবে একটি ছোট্ট স্পর্শেই
অভিমান গলে যায় সকালের কুয়াশার মতো।
কিন্তু যদি ভালোবাসা কেবল মুখের কথা হয়,
তাহলে অভিমান জমাট বাঁধে—
বরফের দেয়াল হয়ে,
যা যত সময় পায়,
ততই উঁচু হয়, অদম্য হয়।
অভিমান হলো ভালোবাসার গোপন পরীক্ষা,
যেখানে বোঝা যায় কে আসলে কতখানি নিবেদিত।
যদি কেউ আন্তরিকতার আগুনে উষ্ণ হয়,
তবে সে অপেক্ষার ভেতর দিয়ে ছুটে আসে—
একটি হাসি, একটি ক্ষমাপ্রার্থনা,
একটি নির্ভেজাল চোখের দৃষ্টি নিয়ে।
তখন অভিমান গলে যায়
অশ্রুর লবণাক্ত স্বাদে,
এবং হৃদয় আবারও খুঁজে পায় তার পুরনো আশ্রয়।
কিন্তু যদি ভালোবাসার ভিত দুর্বল হয়,
যদি আগ্রহ ফিকে হয়ে আসে,
তাহলে অভিমান দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়,
পরিণত হয় স্থায়ী দূরত্বে।
তখন অপেক্ষা আর কারো প্রত্যাবর্তনের জন্য নয়,
বরং নিজের ভিতরেই
একটি শোকগাথা রচনা করার জন্য।
অভিমান আসলে এক নীরব আর্তনাদ,
যেখানে শব্দহীন চিৎকার
ভালোবাসার অস্তিত্বকে প্রশ্ন করে।
এটি হলো প্রত্যাশার সবচেয়ে সূক্ষ্ম প্রকাশ—
কারণ অভিমান ছাড়া ভালোবাসা কখনো সম্পূর্ণ হয় না।
অভিমান মানে—
“তুমি কি আমাকে খুঁজবে?” এই প্রশ্ন,
“তুমি কি আমার চোখের জলে তাকাবে?” এই আর্তি,
“তুমি কি আমার নীরবতার ভেতর লুকানো ক্ষত অনুভব করবে?” এই দাবি।
অভিমান তাই নিঃশব্দ অথচ মহাশক্তিশালী—
এটি ভালোবাসাকে পরীক্ষা করে,
উদাসীনতাকে উন্মোচন করে,
আর সত্যিকারের আত্মীয়তাকে
নতুন আলোয় ভরিয়ে তোলে।
শেষে অভিমান শেখায় একটাই কথা—
যদি ভালোবাসা গভীর হয়,
তাহলে কোনো অপেক্ষাই অনন্ত নয়।
আর যদি ভালোবাসা পলকা হয়,
তাহলে অপেক্ষা যত দীর্ঘই হোক,
তার শেষে থাকে শুধু নীরব বিদায়।