একজন অভিজাত মানুষ
দুর্গে জন্মায় না,
আবার উপাধিধারী হলেই
সে অভিজাত হয়ে ওঠে না।
সত্য, মানুষ ও নীতির প্রতি
আনুগত্যের গভীর উপলব্ধি থেকেই
একজন মানুষ অভিজাত হয়ে ওঠে। পরাজয়ের মুহূর্তেও মর্যাদা
একজন অভিজাতকে ত্যাগ করে না;
সে সর্বদা নিজের সততার প্রতি অবিচল থাকে
এবং কখনও আনুগত্য থেকে সরে যায় না।
নিষ্ঠাবান অভিজাতেরা
সাময়িক সুখের বিনিময়ে নিজেদের নীতি বিসর্জন দেয় না।
তারা জীবিকার জন্য নিজেদের হৃদয়ের কণ্ঠস্বর বিক্রি করে না,
কিংবা সময়ের স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে
নিজেদের নৈতিক বিধান পরিবর্তন করে না।
একজন অভিজাত
আনুগত্যকে আঁকড়ে ধরাকে
সম্পর্ক হিসেবে দেখে না;
বরং মানুষ, নীতি ও সত্যের প্রতি
প্রদত্ত এক অঙ্গীকার হিসেবে দেখে। আনুগত্যের পুরস্কার মিলুক বা না মিলুক—
একজন সত্যিকারের অভিজাত
সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেই চলে।
মর্যাদা গড়ে ওঠে ধীরে,
উচ্চাকাঙ্ক্ষার তাড়নার বিপরীতে।
তাই মর্যাদা ঝড় থামার অপেক্ষা করে,
তারপরই নিজের উপস্থিতি জানায়।
একজন অভিজাত কখনও
এমন বিলাসের সন্ধান করে না,
যা আত্মসম্মানকে অপমানিত করে।
অভিজাত ঝড় থেকে পালায় না;
সে উলঙ্গ, নিরস্ত্র, এবং
নিজের পরিচয় নিয়ে নির্লজ্জ না হয়ে—
নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
সে এমন এক সিংহাসন হারাতে পারে,
যা সে কখনও চায়নি;
কিন্তু এমন এক গুণ সে ধরে রাখে,
যা অল্প কয়েকজনেরই থাকে—
নিজের ভেতরের দিকে
লজ্জাহীন দৃষ্টিতে তাকাতে পারার ক্ষমতা।
নিষ্ঠাবান অভিজাতদের কাছে
কেবল আনুগত্যের শক্তিই নেই;
তাদের আছে ক্ষমতার কাছে
নত না হয়েও শৃঙ্খলাবোধ,
আর কাপুরুষ না হয়েও
নীরব থাকার সামর্থ্য।
ইতিহাসে অনেকেই হয়তো
একজন অভিজাতকে গুরুত্ব দেয় না,
ভিড়ের মাঝেও সে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে;
কিন্তু সময় তার রেখে যাওয়া পদচিহ্নে তাকে চিনে নেয়।
ক্ষমতা যেখানে ভেঙে পড়ে,
সেখানে আনুগত্যই রাজত্ব করে।
আর মর্যাদা চিরকাল অবিচল—
ছলনার প্রয়োগ আর ঘুষ গ্রহণে অক্ষম।
এটাই সেই একমাত্র মুকুট,
যা কোনো নির্বাসনই কেড়ে নিতে পারে না।