প্রতিটি জীবন মহাকাব্যিক হতে চায়।
“নিজেকে যত নিয়মের লৌহদ্বারে আবদ্ধ করতে শেখো,
জীবন ততই তোমার সামনে তার নক্ষত্রপথ খুলে দেয়।
কারণ উত্তরণ কোনও আকস্মিক আশীর্বাদ নয়—
এটি এক যোদ্ধার দীর্ঘ অরণ্যযাত্রা,
যেখানে প্রতিটি গাছের ছায়া
তোমার পূর্ব পরাজয়ের স্মারক।”
দিনের ভোরে তুমি যখন
নিজের ভিতরের সুখলোভকে পরাস্ত করো—
অলসতার মধুর ডাক,
স্বপ্নপূরণের সামনে দাঁড়ানো
শত ছদ্মবেশী দ্বিধার প্রতারণা—
সেই মুহূর্তে তোমার ললাটে লেখা হয়
নতুন এক ভাগ্যের অদৃশ্য মন্ত্র।
আর যখন তুমি অন্ধকারকে উপেক্ষা করে
একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপও সামনে নাও—
বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তা লিখে রাখে।
তাদের দিগন্তজুড়ে যে মহাজাগতিক শৃঙ্খলা,
তার শীতল স্রোতে প্রতিধ্বনিত হয় তোমার সহযোগ,
আর সে অনুরণিত হয় বলেই
ফিরিয়ে দেয় তোমাকে
এক মহিমান্বিত প্রতিফলন।
“উত্তরণ কোনও পুষ্পমাল্য নয়—
এটি যুদ্ধক্ষেত্রের ধূলিধূসর মাটি,
যেখানে তুমি নিজের বিরুদ্ধে
নিজের অস্ত্রেই জয় ছিনিয়ে আনো।”
জীবন কখনও তোমাকে পুরস্কার দেয় না
তোমার প্রার্থনার পরিমাণ গণনা করে;
সে গণনা করে তোমার যুদ্ধের কঠোরতা,
তোমার অঙ্গীকারের ধার,
তোমার প্রত্যাবর্তনের সাহস।
কারণ শেষ পর্যন্ত—
মহাবিশ্ব নত হয় না
কোনও করুণ মিনতির ভিক্ষুকের কাছে,
নত হয়
সেই মানুষটির সামনে,
যে নিজের ভিতরের পশুকে শাসনে রাখে
এবং নিজের ভিতরের দেবতাকে মুক্ত করে।
যেদিন তোমার শৃঙ্খলা হয়ে ওঠে
নিজের সিংহাসনে বসা সম্রাট,
সেদিন জীবনও
তার দরবার খুলে দেয় তোমার সম্মুখে—
অলংকৃত, আলোকিত, এবং অনিবার্য।
এ সত্য চিরন্তন—
তুমি নিজেকে যতটা গড়ো,
জীবন ঠিক ততটাই তোমার সামনে
বিস্তার ঘটায় তার নক্ষত্রলোকের।