রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

পরকীয়া


অন্ধকারকে ভরসার নিবিড়ে পেয়ে
জানলা গলে এক লাফ মেরে
আচমকা ঢুকে পড়ে যখন
অনুসন্ধিৎসু আকাশের চাঁদ
সটান পাথরের মেঝেতে
পৃথিবীর মানুষের ঘরে
.
ইচ্ছাটি ছিল কি তার
উচিতের তুল্যমূল্যে বুঝে নিতে -
.
এমনকি
তাকেও অসতী-প্রবণ ছেড়ে
মানুষ
আখেরে, ঠিক কি করে,
.
পলকে, অনুরণিত ইশারায় সাড়া দিতে,
শীতলতাকে
তৎপর পরিহারের অজুহাতে, রাতে,
অবধারিত দামালপনার অভিসারে
অবারিতে - ঝাঁপিয়ে পড়তে যেই পারে
নির্ঘুম লেপের নিশ্চিন্তির আদরে ?
.

শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

তালা বনাম চাবি


29.09.2015

.

সেদিন নারী ও সুরা,

বলতে আজ কোনও বাধা নেই,

ছিল প্রিয়তর !

.

কঠিন, আসক্ত মোহে, ভেসে

নিজে যথেচ্ছ যেতে যেতে, তোমায়

ভেবেছিলাম, সিঁদুরের বাধ্য বেহালে

বন্দী করে রেখেছি বেশ জড় !

.

কোনও তর্কে না গিয়ে,

খোকনের ছোট্ট হাতটুকু হাতে নিয়ে,

বিশ্বাসী পা যেদিন বাড়ালে, - একা হতে,

অবাঞ্ছিত প্রশ্ন করেছিলাম

- " যাচ্ছ আমার খোকন কে নিয়ে, কেন ? "

.

ক্ষণিকের তরে থেমেছিলে,

অতি সামান্য হেসে,

প্রায় হিস্ হিস্ স্বরে, বলেছিলে

- " ও তোমার ! - এমনটাই এতদিন জানো ? "

.

বোকাই তখন, আবার প্রশ্ন করেছি - " কেন ? "

শীতল, এক ঝলক চাহনি কেবল

জানিয়েছিল - " প্রেমকে আরও অধিক চেনো !

- যা সমানে সমানে জমে ভালো ! হায়,

- এ সত্য, অতঃপর যেন

ঠকেও - বিশ্বাসে চেনা যায় ! "

.

হয়তো জানোওনি কোনও দিন,

- একলা যে পিছনে পড়ে থাকে,

দুঃস্বপ্ন আর সুতীব্র অভিমান

কতটা তাড়া করে

নিজগৃহে পরবাসী তাকে,

অসহায় একাকীত্বের

সর্পিল

জড়িয়ে নেওয়ার ডাকে !

.

তুমি তেমন পাল্টাওনি অবশ্য

দু দশকে,

চাকরি কেবল

পাল্টে গেছে থেকে থেকে ।

হাড় মাস একলা কালি করে

জোয়ালে টেনেছ বাকি জীবনের গৎ,

আর তাই,

সুপুরুষ সন্তান - পেয়েছে তোমার ছায়ায়,

স্বাবলম্বী আদর্শে,

সোনালী সুখের ভবিষ্যৎ !

.

বড় কি আমিও হই নি কিছু,

পরে ?

ইচ্ছার অশালীন ভাষা,

( যেন ছিলামই এক অবিকল চাষা, )

সেই তারপর থেকে,

চিরতরে পাল্টে নেওয়ার হাত ধরে ?

.

তোমাকে আজকাল

ক্লান্ত দেখায়, বুঝি, প্রতি ভোরে !

'ভালোই তো বাসতে চেয়েছিলে'

- সে সত্য ভুলতে না পেরে,

আমাকেও

আত্মগ্লানি তাড়িয়ে বেড়ায় অবিরত !

এ ভরা বিকেলে সাধ হয়

অনেকটা সাহস বুকে ভরে

আরও একটিবার সামনে পৌঁছে যাই !

তোমার পুরানো দুহাতে

মেহেন্দির নতুন গয়না পরিয়ে দিতে

নতুন করে আর একবার হাত বাড়াই !

.

যদি সুযোগ, ভুল করেও, আবার দাও,

বিশ্বাস - নতুন করে যদি করো,

ক্ষমা - অক্ষমকে করে দিতে

লাল টিপ - কপালে যদি তখন ফের পরো,

দেখবে,

বলতে তোমাকে হবেই শেষে, হেসে,

.

- " খোকন !

কাকুটাকে - দ্যাখ, আজও পাগল কেমনতর !

গায়ের জোরে,

সেই - আমাদের হারিয়ে দিয়ে,

বাবা তোর হতেই হলো, শেষে আবারও ! "

.

https://youtu.be/z3UHfi9vpbc

.

.________________________

.


.

বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রসঙ্গঃ প্রেমহীনতা


পুরুষ প্রকৃতি মূলতঃ মন তথা যুক্তিবুদ্ধি জনিত লাভ লোকসানে অধিকতর নির্ভর করতে চায় ! অর্থাৎ যুক্তিবুদ্ধি তার সক্রিয়, সদাব্যস্ত, ডান হাত ! হৃদয়ে পরাণের অনুভবটি তার - সাথে অধিক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং মাঝে মাঝে শুধু সহযোগে কাজে লাগা বাঁ হাত !


অপরপক্ষে, নারীর ক্ষেত্রে ডান হাতটি সাধারণতঃ হৃদয়ের অনুভব আর বাঁ হাতটি একই ভাবে মস্তিকের মনন-জনিত যুক্তিবুদ্ধি !


এবারে, নারী হোক অথবা পুরুষ, একজন সুন্দর মানুষ হতে গেলে কিন্তু যতটা সম্ভব সব্যসাচী হতে শেখা - প্রাথমিক দায় প্রতিটি মনুষ্যজীবনের !


এ তো গেল আদর্শ মানুষের কথা ! বাস্তবে অনুভবের কার্যকারিতার ব্যপ্তি যুক্তিবুদ্ধি অপেক্ষা অনেক বেশি ! অনুভব-দক্ষতা যে কোনও সময়ে, চাইলে, যুক্তির পাঠ অল্প সময়ের মধ্যে আত্মস্থ করতে পারে ! পুরুষের যে কোন কাজ নারী এই কারণে অবলীলায় আয়ত্ব করতে পারে ! কিন্তু একজন আত্মগরবে লাফাতে থাকা যুক্তিবাদীর হাজার প্রচেষ্টার পরেও তার অনুভব দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিফল হওয়া - স্বাভাবিকের মধ্যে পড়তে হয় ! 


আবার অপরপক্ষে, অন্যের মনের কথাটি বুঝে ফেলার সামর্থে - নারী, পুরুষের চেয়ে, চিরটাকাল একশো কদম এগিয়ে ! 


এতটুকু আলোচনার পরে আশাকরি বোঝা কঠিন নয় যে ভালবাসা যেহেতু যুক্তির জগৎ নয়, বরং অনুভবের জগৎ, সেহেতু পুরুষের ভালবাসা নারীর সমকক্ষ হতে পারাটা মোটেই সহজ কাজ নয় ! পুরুষের ভালবাসা জনিত আবেগ মূলতঃ শারীরিক চাহিদা আর কল্পনার একটি অসম সংমিশ্রণে উদ্ভূত বিভ্রান্ত আবেগ, যে প্রবৃত্তিটি নারীর বাস্তব আকাঙ্খার অনুসারী হতে অধিকাংশে অপারগ !


অনুভব নারীকে প্রতিনিয়তই যে বহু রঙের বর্ণালীতে সাজায়, তাকে যথার্থ পাঠোদ্ধার করতে অক্ষম পুরুষ, অধিকাংশে, আপন আপন কল্পনায় নারীর এক অদ্ভুত অবাস্তব, তথা, অলীক রূপ কল্পনা করে নিয়ে, তার মোহটিকে মাত্র ভালবাসা ভাবতে বাধ্য হয়, ফলতঃ নিজে নিজের পিঠ চাপড়ায় ! 
অথচ, বাস্তবের নারী, শিল্পে, সাহিত্যে, পুরুষের আঁকা নারীর ছবির সাথে মিলাতে পারে না বাস্তবের নিজেকে !


নারীর স্পর্শের অনুপ্রেরণায় পুরুষ আপন অতীতের, নিজেতে আটকে পড়াকে অনেকটা পেরিয়ে, অধিক বিকাশের জগতে চলে যেতে পেরেছে - তেমন উদাহরণ গুনে শেষ করা কঠিন,অথচ, পুরুষের ভালবাসা নারীর স্বতঃস্ফূর্ততার আকাশকে প্রসারিত করতে পেরেছে এমন উদাহরণ - বড়ই হাতে গোনা !


মোটকথা, একই প্রেমের সম্পর্কটি হতে একটি নারীর প্রাপ্তি, বরাবরই, একটি পুরুষের প্রাপ্তির তুলনায় এতটাই অপ্রতুল, যে, আত্মনির্ভর মানুষদের মধ্যে, নারীর প্রতি আগ্রহে হাল ছেড়ে দেওয়া পুরুষের তুলনায়, পুরুষের সম্পর্কে হাল ছেড়ে দেওয়া নারীর সংখ্যা, চিরকালই বেশ কয়েক গুণ বেশি - পৃথিবীতে !


এক্ষেত্রেও "অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর" ধরণের আপাতঃ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে - এই প্রবণতার উপরতলটির আক্ষরিক অনুবাদটি পেরিয়ে, অন্তর্ণিহিত অভাবের অভিব্যক্তিটি সঠিক ধরতে পারা যথার্থ অভিবাদনযোগ্য বলে মনে হয় !

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রতিবার নতুন করে হতে শেখা

'ভালবাসার রেডিমেড' ব'লে হয় নি কিছু - কখনো !


আদপে - ভালবাসাকে ঘাড়টি ধরে
ক্রীতদাসত্বটি স্বীকার করিয়ে নেওয়া
মানুষের অধিকারে
সবচেয়ে স্থুল অনধিকারটিই হতে হয় !

 

স্বাধীনকে অহংকারের শিকলে বাঁধতে চাওয়ার
নিছক ওস্তাদিটিকে
পরাণের দরজা চেনাতে চাই না তাই আজও !

 

প্রতিটিবার
ভালবাসার সুবোধ ছাত্রটি হতে চেয়ে
নির্ভয়ের বরটি পেতে,
পূর্ণ ভরটিকে - সমাদরের আসন পেতে দিতে,

 

শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সংরাগে
হৃদয় পদ্মের প্রতিটি স্বতস্ফূর্ত পাপড়ি
একে একে মেলতে দিতে,

 

কোমলতম কোরকটি -
অবশেষে প্রকাশিত হতে,

 

সব জানাকে অজানায় বিসর্জন দিয়ে, ফিরে,
কেবল
ধৈর্য ও বিশ্বাসের ফুলেল সম্বলে
মৃত্যুর শান্তিময়তার তীরে
নবজন্মকে যেভাবে বরণ করতে হয়,

 

একে অপরের মুখোমুখি পুনর্বার নতজানু হয়ে
নবীনতম আবিষ্কারের বৈধতায়
পৌঁছে - তেমনই যাওয়া যেন থাকে, আমরণ !

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রতীতি

ক্রোধ, বিরক্তি আর
যতসব প্রতিকার-প্রীতি
একদিন নিরুত্তাপের
উদাসে ছুঁয়েই ফেলে ইতি !


তারপরে অবশিষ্ট থাকা
নিছক নির্লিপ্তিটুকুই নয় !
থম মেরে বাসা বাঁধে
দুরুদুরু, বরফ-শীতল ভয় ।


দায়ী - শার্দূলে হঠকারী নীতি !
মিলাতে যথাযথে লাভ, ক্ষতি,
পায়ে পায়ে অনুসারে নিয়তি
অমোঘের বরদ উদারতায় !

পালাবার পথ নাই


সবকিছু ভুলে থাকা যায় !
সব যাতনা
সময় মুছে দেয় - একদিন !
যৌবনকেও - নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে
মুখ ফিরিয়ে
হারিয়ে যেতে হয় - পায়ে পায়ে !


একটাই বাধ্যতা
মুছতে পারে না মানুষ - আমরণ !
হেরেই যায় - না পেরে, প্রত্যন্ত অন্তরে !


সে বাধ্যতাটি সব চাপ পেরিয়ে
ভুস করে ভেসে ওঠে প্রতিটিবার !
সে হলো - বিবর্তন তৃষা !
ঊর্ধ্বতর সত্যের অনুধাবনে
উত্তীর্ণ হতে চাওয়ায়
বার বার হারাতে হয় নিজেকে
কোনও এক অচেনা খোঁজের সুদূরে
বাস্তবের বর্তমান হতে -
নিস্পৃহতার আদেশে
মায়ার সূতো - সব
একটি একটি করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছিঁড়ে !


তবে, বাধ্য বশীভূতে নয়,
এ যাতনা
একমাত্র তার বশে অনুগত থাকে
যার স্বেচ্ছার প্রতিনিয়ত আদরে
সাময়িক সুখের প্রতিটি অদূর
অস্বচ্ছতার দেওয়াল তুলতে ব্যর্থ হয়,


চরৈবেতি যাপন
আপনতর হওয়ার সুবাদে
আনন্দ সমাহারে যার নিত্য বাস করে !

.

শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

নির্জনে


তোর আর আমার অবগাহনের
উঠোনের মাঝখানটি দিয়ে বয়ে
আজও বেঁকেই যায় যে দিশা
অনাগতের সুবাসে ভরে দিয়ে

সময় - কোমল কিছু রাখা রোজ
তারে আদরের তরে রে অনবরত,
নদীর ভ্রমে ডোবায় ডোবা হলে
যদিও মোরা যুযুধান বহিরাগত !
.

 

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

অক্ষম


.

ফুটেছিলেম বাঞ্ছিত শরতে

 

চরণপার্শ্বের ঠাঁইটি চেয়ে

 

ভেস্তে দিলই বঞ্চিত পরাণ

 

আপনে না সমীপে পেয়ে !

.

..

..

.

প্লেটোনিক-প্রায়

সব ভালবাসাকে
ভোগের চাকরানীর চাকরিটি চিনিয়ে দিয়ে,
আবেগের
রসস্থ করে নেওয়ার কাজটুকু সারা মাত্র হলেই,
সটান, পর্দা সরিয়ে, নিচের-তলে নামার
ঘোরানো
একমাত্র লোহার সিঁড়িটি দেখিয়ে দিতে নেই !

 

জীবনের সব ভালবাসাকে
বেদপাঠ ছলে, ডাকতে নেই -
ক্লেদে - কাছাখোলা-মাখার
মাখতে মাখতে বিলাপাবেশে চাখার
চিরন্তনী বরাহ-তাণ্ডবে !

 

নিছক মানবধর্মী ব'লে
একটি দুটি অন্ততঃ রাখতেও হয় - আলগায় ছেড়ে
একটুকরো কষ্টের নিবিড়ে
বুকের সিন্দুকের সঙ্গোপনে - পরম যতনে !

 

জীবনের রান্নাঘর
রোজকার - তেল, নুন, ঘিয়ের ঘোরে
অবশেষে ফোঁপাতে নিলে,
সে বাধ্য বাস্তবের থেকে কখনো আড়ালে গিয়ে
একার গোপনে
নিছকই হাঁপ-ছাড়ার যৎসামান্য তাগিদে
সে একান্তের অসামান্যে
সিন্দুকটি - নতুন ক'রে খোলার অবসরে !

 

জেটপ্লেনে চাপতে অভ্যস্ত অধীররা ভুলেই গেছে,
পরিণতির - অবিরত, অব্যর্থ শুভ পরিণয়ে,
বলার যাবতীয় কথা - সবই
আচমকা একদিন সকালে
এ জনমের তরে - চিরকালের মত
ফুরিয়ে যেতে পারে না, - ব'লে,
প্রাণের কপোত-বক্ষ
দিশায় - ঊর্ধ্বমুখী আবারো হলে,
আগে কখনো আর না লেখা চিঠিটি নিয়ে
যে কোন লুকোনো নিবাসে
আজও বহুদূরে পাড়ি দিতে পারে !

 

তেমন দূরের নিশানা
মানুষের প্রয়োজনও পড়তেই হয়,
মনের গাড়িটিও - শুধু পেট্রোলে চলে না, তাই,
নিজের মোবিল
নিজেকেই একা খুঁজতে বেরোতে হয় - ব'লে !

মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

তমসা

তোমাদের দেখে বুক কাঁপে শুধু !
নাচে না পরাণ ডালে ডালে !



বস্তিতে থাকার কথা নেই - পাকা ছাদ !
কল কারখানার নিশ্চয়তাও ধূলিসাৎ !
পকেটে টাকা নেই - কিছুদিন একটানা চলার !
প্রতিবেশীর যন্ত্রণা নিয়ে চিন্তা নেই !
মা বাবার শেষ সম্বল - অবশিষ্ট দীর্ঘশ্বাস !
প্রেমিকার বিশ্বস্ত হাতটিও গুটিয়েছে সেই কবেই !



অথচ, রাস্তার ধারে, বছরে বছরে বাড়ে - ভিড়
অস্তির বর্তমান-যাপন উদ্দাম নৃত্যে
কানফাটা আওয়াজের তালে তালে !



তোমাদের দেখে ভয় করে - আজকাল !
প্রশংসা নাকি ভর্ৎসনা
কি লক্ষ্য হওয়ার যথার্থ কথা ছিল - সেদিনও
পৃথিবীতে কলকাতার
ব্যতিক্রমী 'সিটি অব জয়' হওয়ার কালে ?

.

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বীরভোগ্যা

সুসময়ের সহযোগে
প্রেম কখনো তুঙ্গে ওঠেও !
কিন্তু, তারপরে বিনা আয়াসে
সে উচ্চতা ধরে রাখতে পারা যায় ?



মানুষরাও মুছে যায় একদিন
এ ক্ষণিকের জীবন হতে !



বাঁচার নাম তবুও -
"আপন নিয়তিকে
কষ্টের সব সীমা পার করে
বারবার ছাপিয়ে যাওয়া,
যেতে আপ্রাণ চাওয়া,



পরমুখাপেক্ষী অপেক্ষায় নয়,



আত্মনির্ভর-সুন্দরের বিকাশে
প্রকাশের অপ্রতিরোধ্য আলোকে
অভীষ্টকে জয়ের গরবে
অর্জনের অধিকারে" !

.
https://www.youtube.com/watch?v=tSjrsT8pTbQ
.

 


শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

পাওনা-দেনা

ভালবেসে যখনি ফেলা
সমর্পণে বাকির মেলা
সঙ্গ-লিপ্সার অভ্যস্ত অধিকারে !

 

বিনিময়-সুযোগ বিনা
ভোগে সুখটি চেনা
কে আর তেমন শেখাতেও পারে ?

 

স্বপ্নের অধিবাস অন্তরে,
পুষ্টি আর তৃপ্তি যে দ্বারে,
সম্ভাবনা ভালো করেই চেনে 

 

আকাঙ্ক্ষা তাই সঙ্গ যাচে
শরীর-পোড়া ক্ষীরের আঁচে
দোহনে খাবারটি কখন যে কেনে !

 

ভালোতে তবু আলো পড়ে
পরাণে প্রসারের সম্ভারে
নব অবগাহনে জাগে বেপথু উচ্চারণ !

 

শ্বাসে প্রশ্বাসে যুদ্ধ তখন
দিতে চেয়েই আকুল মগন
সে আনন্দে কে যে হবে নীরব সমর্পণ !

 

উৎসবের সুবাস হাসে
পূজার স্বেচ্ছা-উপবাসে
সুন্দরে - ইচ্ছার বাসরে অমল বাহার !

 

সে বিহার সময়কালে,
আহার পরিহারও হলে,
আপনে উজাড়ে জীবন-সার্থক উপহার !
.


.
https://youtu.be/Rw4IoJOOPVA
.

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

পরাগ রেণু


পেলব যখন তার হৃদয়টি
পূর্ণ সমর্পণ করে বসে
ভালবাসার তথাগত বাধ্যতায়

তোমার দৃষ্টি যদি নেশাগ্রস্ত
খাদকের লোলুপ তীব্রতায়
স্বচ্ছতা তখোনো না বিকোয়

তুমি তখন দেখতে পাও
শঙ্খের আপাতঃ কঠিন হতে
একটু একটু করে বেরিয়ে আসা
এক অতীব কোমল ভঙ্গুরতা,

যা সমর্পণ-মাত্র রক্তাক্ত হতে পারে
তোমার সাময়িক অনবধানে
যে কোনও মুহূর্তের তাৎক্ষণিকে,
একথা জেনেও, দ্বিধাশূন্য সে !

তুমি তখন অনুভব করো,
অথবা, করোও হয়তো না, - হঠাৎ
নাম না জানা পাখির একটি মাত্র পালকে
নিবেদিত নরমের ভারটি - করতলে তোমার !

তুমি একথা ভাল করে জানো
তাকে মুঠোবন্দী করে, তার
স্বাধীনতাকে কোনও ভাবে খর্ব করা -
বিশ্বাসঘাতকতায় - ব্যর্থতার নাম !

অথচ, সে পালকটিকে বাঁচাতেও যে হবে
প্রতিটি ঝড় জলের আগামী হতে,
যে দায় - চিরন্তনে, একমাত্র প্রেমিকের
নিয়তি-নিহিত, প্রেমের আয়ু-উপহার !

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আহ্নিক-গতি



বিব্রত, বিরক্ত, উৎকণ্ঠিত,

এইসব কত কিছুই যে হতে হওয়া

মনের, - আমাদের !

অহম ভাব - অভ্যাসে জোর করে ঢুকে পড়তেও চায় !

প্রতাপ প্রমাণ-জনিত চাপ অধিক হলে,

রক্তের রঙ - তুল্যমূল্যে বেশ গাঢ় তখন, তাই,

"হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা"-দের

অভ্যস্ত বলপ্রয়োগ-প্রবৃত্তির প্রতিপদে

চিন্তার - পাতার পর পাতা ভরানো লেখায়

একরকম অস্বস্তিকর খস খস শব্দ হতেই থাকে !


মন, আবার যখন, 'আমি'র অবাঞ্ছিত ভারকে

স্বেচ্ছায় নতুন করে নামিয়ে রেখে

"না ! ওভাবে নয়" - কে প্রবুদ্ধ মেনে নিয়ে

নিঃসঙ্কোচে সমর্পিত হতে পারে - পরাণে,

অনুভবও - তখন অনুগত ছাত্র হতে চেয়ে

অপেক্ষার প্রহরে, নাড়া বাঁধে

সত্যের স্বাভাবিক বোধনের কিংশুক জায়মানতায় !


সারস্বত প্রাণের টানে, -

সুন্দরের অবতরণ

অপরিহার্য হয়ে ওঠাটুকুই যখনো বাকি -

শব্দের দরদ-ভরা কলতানে,

ইচ্ছার কারুবাসনায় -

মানবজীবনের উদারে

ভালবাসার বিগলিত করুণায় !


পাঠক - নিজেকে ফিরতি পথে খুঁজে পায়

প্রসন্নতার অমায়িক আশীর্বাদে

কৃতজ্ঞতার স্বতঃস্ফূর্ত শঙ্খধ্বনিতে

স্বীকৃতির অযাচিত প্রেরণায় !


পৃথিবীতে কবিতা জন্ম নেয় !