সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২

খেলতে খেলতে

কাজটা যে বিশাল কঠিন - এমন নয় ।
আসক্তির উপরে 
ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ থাকলেই হবে ।

অন্য একটা মানুষের ভিতরে ঢুকে
হুবহু তারই মত করে
তাকে বুঝতে পারা কে 'অনুভব' বলে ।
মায়ের প্রাণ হামেশা পারে 
আর পারে বিরল শিল্পীরা,
নিজেরই আঁকার ছবি 
আঁকতে আঁকতে,
অথবা অভিনীত চরিত্রের মধ্যে
নিজে বার বার ঢুকে পড়ে ।

ধরে নাও - এমন মানুষ তুমি নিজে,
যার জীবনে কষ্ট অনেকই আছে,
কেবল যা নেই, আসক্তি-বিনে,
সে হলো দুঃখের দীর্ঘশ্বাস এবং ফলতঃ,
পরের প্রতি অভিযোগের পাহাড় ।

তুমি তারপরও যা পারো, সে হলো -
মনে মনে, কারণ সহযোগে
নিজের একটি দুঃখের ছবি এঁকে
তার মধ্যে ঢুকে পড়ে
তাকে অবিকল বাস্তবে অনুভব করতে 
আর তেমনটা সত্যি পারলে, দেখবে - 
না বলে হঠাৎই বন্যা ধেয়ে এল নয়নে,
ঠিক যেভাবে মঞ্চে কেঁদে ফেলেন শিল্পী
অবিকল ঝর ঝর ক'রে !
তফাৎ পাবে না তখন খুব একটা বড়
অন্যদের দুঃখের অভিজ্ঞতার সাথে ।
মানুষ ভাবতেই পারে, "আহা রে, না জানি
কোন অভিশাপ নেমে এল জীবনে ।"

পরে যদিও, ফের অতীতেরই মত
সুখী হয়ে শুতে যেতে পার রোজ রাতে ।

অপনোদন

নারীর পারা পুরুষও প্রেমে পড়ে ।

যে কোনও প্রকার প্রেমে পড়ার কালে
কোনও না কোনও ভাবে
অসহায়রূপে, বাধ্য পরিবাহিত হতেই হয়
পরিস্হিতির 
অথবা অপর মানুষটির ইচ্ছানুসারে ।

তুমিও প্রেমে পড়তে চেষ্টা করতেই পারো ।
তবে, দৃষ্টি স্বচ্ছতর হলে
আপন নিয়ন্ত্রণটি এতকাল পরে হঠাৎ 
অপরের হাতে অর্পণ-জনিত
অস্বস্তির কালে
বোড়ে সেজে, সেধে গজের গোড়ায় এলে
বেশ জোরসে হাসি পেয়ে যেতে পারে ।
তবু চেষ্টা তো কর ।

কর্তিত

"ও কথাটি আলো হয়ে
গেঁথে রয়ে যাবে বুকে অতঃপরে,
যদি একবার উচ্চারিত হতে পারে
মেঘের সুরে, হুবহু মন্দ্রস্বরে,
যথা-লগনের বকলমে
এবং সার্থক আকস্মিকতার উপচারে,"

সম্ভবত, ঠিক এমনটিই আশা করে
ঝড়-জলের প্রতিটি বাধা 
নীরবে পার করে
পায়ে পায়ে
এসে চলা আজও
অপ্রতিরোধ্য অনুসরণে
ক্রমশঃ নিকটতরে ।

নিশিথ-শিশিরের ভারে
ক্রমাগত সিক্ত হতে হতে
অসহায় বৃন্ত 
আরও কিছুটা নুয়ে এলে পরে,
শিকারকে শেষ অবধি 
কব্জায় পেয়ে যাওয়ার উপক্রম হ'লে,
সুদীর্ঘ অনাহার
একতরফা সয়ে, পার করে,
জিতে যাওয়ার উল্লাসে
কখন যে আপদের পারা
অবধারিত হেসে উঠবে 
শীতলতর শ্বাপদ
তোমার আমার রসায়ন হতে
অপ্রতিরোধ্য অভিসারে,
সে কে, কবে, কোন সুবাদে বলতে পারে ?
.