উনি মধ্যবিত্ত—
কারণ তাঁর জীবনের অধিকাংশ দিনই
ছুটি।
না, ক্যালেন্ডারের লাল দাগে নয়,
না কোনও সরকারি ঘোষণায়—
তাঁর ছুটিগুলো জন্মায়
অদৃশ্য ক্লান্তির গর্ভে,
যেখানে কাজ নামক প্রাণীটি
প্রতিদিন একটু একটু করে
ঘুমিয়ে পড়ে।
সকাল হলে
তিনি উঠে বসেন—
ঘড়ি তাঁকে ডাকে না,
বরং সময় নিজেই
তাঁর সামনে বসে
চা খেতে খেতে হাই তোলে।
অফিস যাওয়ার রাস্তা
একদিন হঠাৎ
ঘাসে ভরে গেছে—
তার ওপর দিয়ে হাঁটলে
জুতোর ভেতর ঢুকে পড়ে
অপূর্ণ স্বপ্নের বীজ,
আর তিনি থেমে যান—
ভাবেন, আজও কি যাবো?
তারপর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত
একটা নরম বালিশের মতো
তাঁর পিঠে এসে পড়ে—
তিনি শুয়ে পড়েন
এক অদৃশ্য রবিবারের ভেতরে।
এইভাবে
সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার—
সব দিনগুলো
ধীরে ধীরে রং হারায়,
সবাই মিলে হয়ে যায়
এক দীর্ঘ ছুটির বিকেল,
যেখানে কাজের শব্দ
শুধু দূরের ট্রেনের মতো
শুনতে পাওয়া যায়,
কিন্তু কখনও এসে পৌঁছায় না।
লোকজন বলে—
তিনি মধ্যবিত্ত।
তাঁর আয় মাঝামাঝি,
তাঁর স্বপ্ন মাঝামাঝি,
তাঁর সাহসও মাঝামাঝি।
কিন্তু তারা জানে না—
তিনি আসলে
একজন স্থায়ী পর্যটক
নিজের জীবনের মধ্যেই,
যেখানে প্রতিটি অসমাপ্ত কাজ
একটি অদেখা পাহাড়,
আর প্রতিটি কালক্ষেপণ
একটি অচেনা সমুদ্র।
তিনি ছুটিতে থাকেন—
কারণ বাস্তবের সঙ্গে
তাঁর চুক্তি এখনও সই হয়নি,
কারণ দায়িত্ব নামের দরজাটি
তিনি প্রতিদিনই
খুলতে গিয়ে
আবার আলতো করে বন্ধ করে দেন।
তাই তাঁর জীবন—
এক দীর্ঘ, অনির্ধারিত অবকাশ,
যেখানে তিনি
কিছু না করেও
অদ্ভুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন,
আর কিছু করতে গিয়েও
অদ্ভুতভাবে বিশ্রাম নেন।
উনি মধ্যবিত্ত—
কারণ তাঁর ছুটিগুলো
কখনও শেষ হয় না,
আর তাঁর কর্মদিবসগুলো
কখনও শুরুই হয় না।