আমি একটি আলিঙ্গন চাই—
কিন্তু শুধু শরীরের নয়,
এমন কোনো সাধারণ আলিঙ্গনও নয়
যা ভদ্রতার হালকা ছোঁয়ায় গড়া,
যে উষ্ণতা আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই
আমার নাম ভুলে যায়—সেটাও নয়।
আমি চাই এমন এক আলিঙ্গন
যা সময়ের মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে দেয়,
ঘড়িগুলোকে অপরাধীর মতো তোতলাতে বাধ্য করে,
মুহূর্তগুলোকে নরম, গলে যাওয়া ফলে পরিণত করে
যা নিঃশব্দে ঝরে পড়ে অনন্তের মুখে।
আমি চাই এমন এক আলিঙ্গন
যা মাধ্যাকর্ষণের বোতাম খুলে দেয়,
যেখানে আমার হাড়গুলো দাঁড়িয়ে থাকার দায় ভুলে যায়,
আর আমি ভেসে থাকি—অর্ধেক স্মৃতি, অর্ধেক শ্বাস—
তোমার বাহুর নীরব স্থাপত্যের ভেতরে।
এমন এক আলিঙ্গন,
যা রাতকে বিভ্রান্ত করে দেয়,
অন্ধকার নিজের অন্ধকার হওয়া ভুলে যায়,
আর ধীরে ধীরে জ্বলে ওঠে তোমার স্পন্দনে—
যেন মহাবিশ্ব প্রায় বলে ফেলেছিল এমন এক গোপন কথা।
আমি চাই তা পৌঁছে যাক সেইসব জায়গায়
যেখানে আমি কখনো যাই না—
আমার কণ্ঠের আড়ালে বন্ধ দরজাগুলোয়,
‘হয়তো’-দের পরিত্যক্ত করিডরে,
আমার ছায়ার ভেতর লুকিয়ে থাকা ছোট্ট কাঁপতে থাকা শিশুটির কাছে।
আমাকে আঁকড়ে ধরো,
যতক্ষণ না আমার অতীত তার আঁকড়ে ধরা ছেড়ে দেয়,
যতক্ষণ না অনুশোচনা এমন এক ভাষা হয়ে যায়
যা কেউ আর বলে না,
যতক্ষণ না একাকীত্বও আমার মুখ ভুলে
অন্য কারো স্বপ্নে হারিয়ে যায়।
তোমার আলিঙ্গন যেন নিয়মগুলো নতুন করে লেখে—
যেখানে দূরত্ব ভেঙে পড়ে এক ফিসফিসে শব্দে,
যেখানে নীরবতা আর ফাঁকা নয়,
বরং অনুক্ত স্নেহে ভারী।
আমি চাই এমন এক আলিঙ্গন
যা ছেড়ে দেওয়ার পরেও শেষ হয় না,
যা রক্তের ভেতর রয়ে যায়,
নিঃশব্দে বদলে দেয় বেঁচে থাকার অর্থ।
আমি চাই একটি আলিঙ্গন—
তোমার থেকে—
এতটাই সম্পূর্ণ,
যে তুমি যখন শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেবে,
আমি আর পুরোপুরি আমি থাকব না,
তুমিও না।