শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮
বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮
বিধু-বদনী
পর্বতশীর্ষে সরোবর ।
এপার হতে বিপরীত তট ধোঁয়াশায় অদৃশ্য-গোচর !
মাঝখানে ভেসে আছে
অনাবিল দ্বীপ - মেঘে-ঢাকা সবুজের চরাচর !
যান্ত্রিক দূষণ হতে বহুদূরে,
উচ্চতরে, মুগ্ধতার সুচারু অবিনশ্বরে
সে মনসিজ উজান-দিঘী,
হংসমিথুনরা যেথা নির্ভয়ে চরে
শব্দের সৃজন-ছন্দ বরে
স্বপ্নিল সে জগতকে অহরহ শীৎকারে মেখে
প্রণয় তিয়াসের মরমী বাহুডোরে !
রাজহংসিনী সেথায় একাকী অপেক্ষায়
হৈমন্তিক উতলায় !
রূপান্তরের অপার্থিব দূত-সম
শৈত্যের অভিসারে চড়ে
পরিযায়ী বলাকার
হলো যে আসার সময় - এবারে !
সে বুঝি ভিন্ন গ্রহ হতে আসে ।
তার আগমন-মাত্রে
হূ হূ বেনোজলে বুক ভরে চাষে -
পুনরাবির্ভাবের সোঁদা সুবাসে
পরাণ-বীণায় দুরন্ত উজ্জ্বলতা ভাসে !
বসন্তের আগমনে
মসিতে শশীর কিরণ ঘোমটা খোলে !
আপনে, রচনে - আখরে আখরে,
সোনালী ফসল একে একে তুলে
গোলা ভরা নিশ্চিত তার হলে
"আসি" - ব'লে, পরিযায়ী আবার ফিরে যায়
পিছে রেখে অভিমানী রাজহংসীকে
বিরহের বাধ্য দীর্ঘশ্বাসে !
দিন যায় !
দিনকে বয়েই যেতে হয় কালে কালে ।
অগস্ত্য-যাত্রা ছিল না ব'লে
সুদিন ফের প্রতিবার ফিরেও আসে !
রাজহংসী-পরাণ সেই ফাঁকে
পারে না হয়তো লুটাতে নিজেকে
আপোষী স্বেদের মেদে
ক্ষণস্থায়ীদের গতানুগতিক বাসে
উচ্চকণ্ঠী শহুরে ভেদে
নিত্যতরতার কূল-মানহীন আশ্বাসে ।
জন্মান্তরের অবিচ্ছিন্নতার দূরভাষে
সে বরং অপেক্ষাদের
আত্ম-উন্মোচনী সুবাস অধিকতর ভালবাসে ।
অপেক্ষারা একমাত্র জানে
এ প্রপঞ্চে, প্রমাণের পরিমাণে, -
পরাণে ফেরা জাগরণী-উদ্ভাসে
পরিণতির মধু সিঞ্চন-ক্ষম পরিণাম
লভ্যে অভিষিক্ত হতে পারে
সুন্দরে অনুগমনের সে বিরল অবসরে
প্রস্তুতির আপোষ-শূন্য প্রয়াসে ।
.
মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
মৈত্রেয়ী
আজকের মোহ কালকে শূন্য, তাই,
মায়াকে তোমার যেতেই হবে কেটে !
কিনতে পাগল বেচতে ছাগল যাপন
দিকশূন্যরা পাবেই খুঁজে পাবে !
তারপরও যদি কালের আচম্বিতে
পথের সাথে বাধ্য পথের মিলে
দৃষ্টি আমার হয়তো তোমার মুখে
বৃষ্টি ধোয়া আঁখিটি চিনতে পাবে
তোমার তখন পাক ধরেছে চুলে !
স্মৃতি, আমার যদিও মনের ভুলে,
তোমার মাঝে "ন হন্যতের" রূপে
সত্যতাটি খুঁজতে হয়তো চাবে !
তোমার পরাণ সেদিনও যদি থাকা
খাপ খুলতে রাজিই নিরবধি,
গড়পড়তা এলিয়েদরা তবে
তোমার পালায় মিথ্যা প্রমাণ হবে ।
.
শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮
বাঞ্ছা
মুখে না বলেও
বুঝে নেওয়া কতদূর স্বচ্ছ হতে পারে
সে যুগলে একই সাথে শেখা !
সে আমাদের
নিয়ম করে দেখা হওয়ার কাল ।
.
প্রতিদিনের অবধারিত ইচ্ছাকে
বাস্তবের সত্যিতে লেখার
প্রথম সুযোগটি পেয়ে
প্রায় বছর দুই পেরোলে পরে
ফাঁকা ক্লাস ঘরে
যেই না ছুঁতে চাওয়ার
দুরুদুরু এগিয়ে আসা -
আকুলের প্রথম চঞ্চু-পরশের টানে,
ওমনি ছিটকে সরে, অস্বাভাবিক জোরে
চিৎকার করে উঠেছিলি ।
.
কিঞ্চিত শান্ত হলে, বলেছিলি -
"যা না রাস্তার ধারে - তাদের কাছে
যারা পয়সা ছুঁড়লেই ওমনি দেবে ।"
.
নিজেকে পুরো দিনটা ধরে
বড় অবাঞ্ছিত মনে হয়েছিল রে !
.
সেই একই তুই
বড়জোর, বছর কুড়ি পরে
ডেকে নিয়েছিলি
কত না স্বপ্নে সাজানো
তোদের নূতন ফাঁকা ফ্ল্যাটে !
গৃহপ্রবেশের তখনো বাকি, অথচ,
বেনিয়মের অভিসারে
অভিজ্ঞের গভীরতর দেওয়ার
চতুর সম্ভাবনায়
চকচক করে উঠেছিল অবাধ্য চোখ !
.
প্রতিবাদ আর সমর্পণের
ঠিক মাঝখান দিয়ে গলে গিয়ে
নিরুত্তাপে মুখ ফিরিয়েছিল বাধ্য শিকার !
.
জিতেছিল কে
ধিক্কারের প্রতিযোগিতায় রে সেদিন ?
কোন উপকারে অপেক্ষাদের কবরের উপরে
সেজেছিল সেদিনের অবাঞ্ছিত উপহার ?
.
.
গরীয়সী ( একটি আলোচনা )
"বিদ্যা দদাতি বিনয়ম ! শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম !" - এই শ্লোকগুলিকে অতীতের বাতেলা মনে করে আর হামবড়া ইজমেদের অশ্রদ্ধার শিক্ষায়, অস্তমিত প্রতিভা-সম্ভাব্যের এ বন্ধ্যা যুগ ঠকে গেছে সবচেয়ে বেশি !
গুরুতরকে চিনে, প্রাপ্য গুরুত্বে তাকে অন্তরে বরণ - লঘুর উত্তরণের অব্যর্থ উপায় !
যাকে গুরুত্ব দিই সেই আখেরে গুরু ৷ এককথায়, প্রাণী হোক অথবা বিষয়, যার জীবনে গুরুত্বপূর্ণরা যত অধিক - সংখ্যায় ও মাত্রায়, সে গুরুর প্রতি যার শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠায় খাদ ন্যূনতম, তার চারিত্রিক ভিন্নতার কারণে তাকে সমাজের আত্মম্ভর গোষ্ঠি যদি যৎপরনাস্তি বর্জনও করে, তবুও, এ ধরাধামের অপ্রতিরোধ্যতার নিয়মে, সাফল্যের নিরিখে, কালে কালে, সে ই ততই ব্যতিক্রমীরূপে অনুসরণীয়, - যুগে যুগে, অবশেষে প্রমাণিত হতেই হয় !
অপরপক্ষে, গুরুতরকে অশ্রদ্ধা ও অবজ্ঞার চিরন্তন ফল প্রতিফলিত হয় - আপামর গুরুত্বহীনদের যাবৎ-জীবন অবসন্নতার কারাগারে যাপনের অসহায়তায় !
সম্পর্ক
কখনো হুবহু সচেতনে
আবার কখনো অন্যমনে
প্রবেশ তোমার করা যখন
ভাব-সমাধির ঘরে,
যখন তুমি মগ্ন থাক
আপন অন্তরে,
ব্যকুল পরাণ অবাক যখন
অচেনা আবিষ্কারে
কষ্ট বরণে স্বেচ্ছা মগনে
নূতন মানিক্য-রাজি,
ভেবো না তাকে - করুণা কারও,
রাখতে পারি বাজি !
জান কি তুমি, তোমার সাথে
কার্য্য-কারণে হাত মিলাতে
করতলও সমান কাজী ?
ভাগ্য রেখা সে কোন ফাঁকে
ভিন্ন পথের দিশা আঁকে !
আজ সকালে ? হ্যাঁ গো, আজই !
.
মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮
বাঞ্ছা
মুখে না বলেও
বুঝে নেওয়া কতদূর স্বচ্ছ হতে পারে
সে যুগলে একই সাথে শেখা !
সে আমাদের
নিয়ম করে দেখা হওয়ার কাল ।
প্রতিদিনের অবধারিত ইচ্ছাকে
বাস্তবের সত্যিতে লেখার
প্রথম সুযোগটি পেয়ে
প্রায় বছর দুই পেরোলে পরে
ফাঁকা ক্লাস ঘরে
যেই না ছুঁতে চাওয়ার
দুরুদুরু এগিয়ে আসা -
আকুলের প্রথম চঞ্চু-পরশের টানে,
ওমনি ছিটকে সরে, অস্বাভাবিক জোরে
চিৎকার করে উঠেছিলি ।
কিঞ্চিত শান্ত হলে, বলেছিলি -
"যা না রাস্তার ধারে - তাদের কাছে
যারা পয়সা ছুঁড়লেই ওমনি দেবে ।"
নিজেকে পুরো দিনটা ধরে
বড় অবাঞ্ছিত মনে হয়েছিল রে !
সেই একই তুই
বড়জোর, বছর কুড়ি পরে
ডেকে নিয়েছিলি
কত না স্বপ্নে সাজানো
তোদের নূতন ফাঁকা ফ্ল্যাটে !
গৃহপ্রবেশের তখনো বাকি, অথচ,
বেনিয়মের অভিসারে
অভিজ্ঞের গভীরতর দেওয়ার
চতুর সম্ভাবনায়
চকচক করে উঠেছিল অবাধ্য চোখ !
প্রতিবাদ আর সমর্পণের
ঠিক মাঝখান দিয়ে গলে গিয়ে
নিরুত্তাপে মুখ ফিরিয়েছিল বাধ্য শিকার !
জিতেছিল কে
ধিক্কারের প্রতিযোগিতায় রে সেদিন ?
কোন উপকারে অপেক্ষাদের কবরের উপরে
সেজেছিল সেদিনের অবাঞ্ছিত উপহার ?
শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৮
ভরন্ত
নিজেকে ভাগ করে করে মানুষ
অবিরাম আরও ছোট হয়েই গেছে !
নিজেকে ছোট ছোট হাতে
প্রথম থেকে নতুন করে জোড়ো !
জুড়তে যোগ্য সময় দিয়ে
অভঙ্গুরে গড়ো !
গড়তে চেয়ে খোঁজো
খুঁজতে চেয়ে ছোটো !
ছুটতে ছুটতে প্রাণের আনন্দে
দুহাত তুলে নাচো !
বাঁচো, ও মানুষ, দ্বিধাশূন্যে
উজ্জীবনকে জীবনে ভরে বাঁচো !
নিজেকে ভাগ করে করে মানুষ
অবিরাম আরও ছোট হয়েই গেছে !
নিজেকে ছোট ছোট হাতে
প্রথম থেকে নতুন করে জোড়ো !
জুড়তে যোগ্য সময় দিয়ে
অভঙ্গুরে গড়ো !
গড়তে চেয়ে খোঁজো
খুঁজতে চেয়ে ছোটো !
ছুটতে ছুটতে প্রাণের আনন্দে
দুহাত তুলে নাচো !
বাঁচো, ও মানুষ, দ্বিধাশূন্যে
উজ্জীবনকে জীবনে ভরে বাঁচো !
অতৃপ্তা চিরন্তনী
বাস্তবের নারীটি
ঠিক - কি, কেমন ক'রে চায়
সেদিকে আগ্রহের সীমা অদূর,
হে সুদূর পৌরুষ, বোধের বিষম পরিসরে
ভালবাসার তর্জমায়
নিছক কল্পনা আর
আবেগের ডানায় ভর করে
নারীর জন্য
স্বর্গের পারিজাত আনতে যাও ?
একটু দাঁড়াও ! অযাচিত করুণা ফেরাও !
কল্পনা-জনিত আবেগে ক্ষান্ত দাও !
.
নারী - বিফল প্রেমে আগ্রহ হারালে, তাকে
কুহকিনী, ছলনাময়ী, এইসব নামই তো দাও !
'অনুভব' - তোমার প্রবৃত্তির সীমায় নয়
ভিন্ন মাত্রায় একই গ্রহে পাশাপাশি বাস করে !
আপন উত্তেজনাটি একতরফা মুখ্য করে
মূর্খ, হেঁটে যত গেছ,
বেঁটেও তত হতে থেকেই যাও !
নিষিদ্ধ ছিল না বিনিময়, অথচ,
শেখোনি আজো দীর্ঘ সন্তরণ তাও !
.
কে তার ইচ্ছার পথটি চিনে -
তাকে ছুঁতে পারে উদ্দীপন-দক্ষতায় -
দেরী হয় না তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে কখনো
সে বার্তা ধরা পড়াও !
এর পরে একদিন অবশেষে
বিশ্বাস, - সিঁড়িতে উঠে এলে নির্ভরের বেশে
ভালবাসার শেষ কথাটি, তাই, ফেলেও ব'লে -
"সীতার গণ্ডী ভুলে
সহানুভবের গীতায় উদ্ধার হ'লে
তোমার গাণ্ডীবে আমাকে লব আর কুশ পেতে দাও !"
শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৮
প্রকৃতি ও উত্তরপুরুষ
অস্তিত্বে বিশাল বড় কেউ নয় - অহংকার করার মত ! সে সামান্য একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হাইড্রোজেন অণু !
তার অস্তিত্বের প্রথম পাঠে প্রকৃতি তাকে চিনিয়েছিল অক্সিজেন অণুদের । বলেছিল - "তারা তোমার নিবিড় অপেক্ষায় ! ভালবেসে নিজেকে পাল্টে নিও প্রতিবার । মিলনে দুই হতে এক হওয়া মাত্র, দেখবে - গলে জল হবে ! তারপরে আরও সব জলের হাত ধরে গড়িয়ে যেও অববাহিকার পথে । নদী হয়ো ! পর্বতকে স্পর্শের লোভ পরিহার কোরো ! ভুলেও তাকিও না সে নিষিদ্ধ ফলের পানে । সঙ্গমে আবিষ্ট থেকো - নদীর গন্তব্যে ! জনমের পর জনম ধরে, একই আচারে, নিম্নতরে বয়ে যাওয়ার অবশেষে, অসীমের সুখে, লবণাক্ত হতে শিখো সাগরের অকূলে আকুল মেশায় !
মিলনের ঠিক পূর্বক্ষণে, ধনাত্মক আধান যখন তোমার যোজনে, তখন আর অন্য কোনও দিকে তাকিও না যেন, সে অতীন্দ্রিয় অভিনিবেশকে যত সত্বর-সম্ভব সমর্পণ কোরো অক্সিজেনের কাতরে, ঋণাত্মক আধানকে তার অসহনীয় ঋণ হতে মুক্তি দিতে । আপন স্বাধীন অস্তিত্বও প্রতিবার ভুলে, গতির আপাতঃ মোহে, কেবলমাত্র ঢাল তলোয়ার শূন্য জগন্নাথ জলে মুক্তির চলচ্চিত্র দেখতে থেকো যুগল-চালচিত্রে । ভোগে ভোগান্তি দিলেও ভুলে ভাবতে চেও না এ জগতে - 'অর্জন', স্থির লক্ষ্যের কালে, সৃষ্টিতে স্রষ্টার সমান্তরালে, পৌঁছে দিতে পারে কোন সে সুন্দরের ঔজ্জ্বল্যের সুবাসিত পরিমলে !"
হাইড্রোজেন হাইড করে গেছিল বাঞ্ছাটি তাই জনমের পর জনম ধরে । হটাতই সে বার গতানুগতিকের অপ্রতিহত ঔদ্ধত্যের অঙ্গুলিহেলনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসলো তার অন্তর, মিলনের পূর্বরাগে, ধনাত্মক আধানকে নিছক ভোগে অবক্ষয়ী জলাঞ্জলি দেওয়ার ঠিক আগে । আর, তারপরেই সে নির্বাক প্রত্যক্ষে দেখলও - সে মুক্ত বিহঙ্গ চেতনের অপরূপ স্বাধীনতার অনুরাগে । সে চেতনা তাকে সংবেদনশীলতা উপহার দেয় প্রত্যাহারের বান্ধব-পরশে সমান্তরালে প্রতিক্রিয়ার দায় পেরিয়ে যেতে, - জন্ম জন্মান্তরের অবচেতনে অর্জিত, সঞ্চিত প্রবৃত্তিকে আত্মশ্লাঘা-মুক্ত, মাতৃ-প্রতিম, দরদী নিবৃত্তিতে !
আসক্তের কাছে যা অনাবশ্যক বাগাড়ম্বর, চেতনের কাছে তাই আশীর্বাদী অনাড়ম্বর ! আয়ন-যাপনে আকর্ষক যদিও বহুগুণ, প্রত্যাহারের নির্গুণে সৃষ্টির আনন্দ-বিহানে সে নিয়ত: ভরপুর ! প্রেম - বহু-গুণান্বিত দরশে, নিবৃত্তির হরসে, কেবলই সৃষ্টি-মুখর, প্রণতি যার অবিরত পরিণতি-সাক্ষর ।
তবুও রয়ে যাওয়া দুঃখ - একটিই । আজন্ম প্রাকৃত ঋণে, গর্ভ-ভারে ন্যুব্জ, পরাণসখি অক্সিজেনে, তারই উৎসাহে প্রতিটি উষসী জায়মান কালে, নৃত্যের যুগলবন্দী তালে, সে এই সামান্য সত্যের সুরটি আজও কোনও প্রকারে মিলাতে পারে নাই ।
..
শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮
অনলীক
দৃষ্টিভেদে ভেদ শ্রেষ্ঠ পরিলক্ষিত হয়
মানুষে মানুষে !
সুন্দরের সংজ্ঞা পাল্টে পাল্টে যায়
সৃষ্টির হরসে !
.
এক এক জন এক এক উত্তরণে
অনাবিলকে খুঁজে পায় !
ভিন্ন চারা, ভিন্ন রূপের ফুলে ফুটে
মনলোভা খবর পাঠায় !
.
যে গাছ যে ছন্দে বাড়তে চায়, তাকে
সেভাবেই ফলতেও দিও !
কল্পনার মত করে নয়, কবি, নিগূঢ়
চাহিদা চিনে বাস্তবে ভালবাসিও !
.
বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮
আপাতঃ ও প্রকৃত
নিঃশব্দে জানো - অর্থবল
উদারতম পরিসরে
একা তোমার নির্দেশে নতজানু আছে
আর ভিক্ষুক মানসিকতা
বন্ধক দিতে রাজি আপন হৃদয়
আগবাড়িয়ে, অনুদানের কাছে !
তুমি তাই সশব্দে পয়সা ছড়াও
আর মানুষ তোমার মহত্ত্বের ছায়ায়
কৃতজ্ঞ উলুধ্বনির যৌথতায় বাঁচে
জমতে থাকা তোমার গুদামঘরে
একটিমাত্র অঙ্গুলিহেলনের অপেক্ষায় -
বিবেকে ক্রীতদাস তারা - অজস্র হারে
সরাসরি বাজারে বেচতে নিজেকে,
ক্ষমতার হাতকে শক্ত করতে আরও,
করে যেতে, বিনীত চিত্তে, বারে বারে
নিয়ম করে, নতুন হারে, উৎপন্ন হতে
তোমার মালিকানায় অধিকৃত
অদৃশ্য কারখানার বেদরদী আঁচে !
.
শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮
পাখি ও পেখম
মজুতে
গোলাভরা, সুবাসিত, রাশি রাশি ধান !
মানুষ তবু ঘর ছাড়ে পায়ে পায়ে ৷
অজানার অন্বেষণ যেই
সুদূরে ডেকে নিয়ে যায় তাকে
বহতা নদীজলে
একবার ভুস করে ডুবটি দিয়ে
স্বচ্ছতার বরে
স্নিগ্ধতায় ভিন্ন প্রসন্নতা পেলে,
ফিরে যেতে ফের, সময় হলে,
বুকে ভরে পরাণের একান্ত অনুপান !
সব ঘরেরই - কালে কালে
বাপের বাড়ির দায়ে পরিনতি-অভিযান !
মাতার বিবশতা জানে
পিতার ঠিকানা আদি নাও হতে পারে,
সন্তানসমের অঞ্জলিতে, গ্রহণের নিমিত্তিতে,
যদিও জমার কথা - বায়নায়
আহরণ নিবারণী সুগভীর অভিমান !.
শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮
বিজয়া
কি পাই, কি পাই, - অপেক্ষারা
ভিখারি করেছে শুধু - আমাদের
অবিরত অভাববোধের ভারে !
তোমাকে বসিয়ে রেখেছে পথের ধারে
আমারও তৎসম শূন্যতা, বক্ষে,
উদর-প্রান্তে, অধর-প্রান্তরে !
পরকে দোষী করে
বৃথাই পার পেতে চাওয়া বারেবার
ব্যর্থ অভিনয়ের দ্বারে !
পৃথিবীতে দুর্বলই নিয়মানুসারে হারে !
ভরসা যদি পারো, তবে হাত ধর !
চল, আমরা উঠে দাঁড়াই আবার
আপনহিতকরে, ভিক্ষুক চাহিদাদের
অদূর সীমাটি পার করে
অর্জনের নিষ্ঠাশীল দ্যোতনায়
কষ্টকে স্বেচ্ছার আমন্ত্রণ-ঔদ্ধত্ব্যে,
পাওয়াকে নিশ্চিত করার দুর্লভ নিয়ন্ত্রণ
সার্থক শিকারে,
সুন্দরকে
নিরন্তর করার অকৃত্রিম শপথে,
ঊর্ধ্বচেতার আত্মবিশ্বাসী অট্টহাস্যে
আজন্ম অধিকারে !
বন্ধ্যা সৌজন্য-মাত্র ছেড়ে
চল, ভালকে প্রবলতর ভালবাসতে
নূতন করে শিখি - পরাণ ভরে !
.
রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৮
মুখোমুখি
যুক্তি-বুদ্ধির প্রমাণ-প্রমুখ সব মাপজোকদের
পোঁটলায় শক্ত-মত বেঁধে
মাঝে মাঝে সটান ছুঁড়ে যেই দিই
যাবতীয় লাভ-লোকসান সহ
জীবনের গণ্ডি হতে
ন্যূনতম বিরাশি ক্রোশ দূরে
তখন মুক্ত আমি ! মস্তিষ্ক-সর্বস্ব
সৃষ্টি হোক অথবা সমালোচনা,
কারোরই আর বিশেষ দাপট অবশিষ্ট নয় !
ট্রেনের সিঙ্গেল সিটে পা ছড়িয়ে
একার প্রসন্ন ভরসায় জানলার এপারে বসে
আর ওপারেতে ক্রমাগত
পাল্টে পাল্টে যেতে থাকা বর্ণালী -
আমারই অতি প্রিয় মানুষগুলোর
নিবিড় নিষ্ঠায় সৃজিত
বিরামহীন অজন্তা ইলোরার স্থাপত্যে,
দেওয়াল পেরিয়ে দেওয়াল পরিক্রমায়,
দরদী অনুভবের শিল্পিত চালচিত্রে
প্রতিবিম্বিত হতে থাকা
পরাণানুপানের মেদুর অব্যয় !
নিছকই ভ্রমণরত
মুক্তির সে অবাধ অবাধ্যতায়
হারিয়ে যেতে যেতে
ভাললাগারা তখন
বিনা দ্বিধায় ঘনীভূত হতে পারে
পরতে পরতে
ভালবাসার ছাঁচে তুলতে থাকা
ক্যাডবেরি ক্যারামেলের বৈধতায়,
তেমন অবসরে - যেথা
প্রতিক্রিয়াদেরও নেই তাৎক্ষণিকের বেগতিক দায় !
.
শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮
বিপন্ন শর্বরী
আটকে পড়ে থাকা অসহায়তায়
প্রকৃতির নিষ্করুণ জালে !
কবে কি পেয়েছ কোন কালে
হিসেবও নেই তার !
শুধু জানো - ফেলেছ ভালবেসে ।
সুতরাং উপায় নেই আর
তোমার আবশ্যিকের অনুসরণে
সে সত্য কোনও মতে এড়াবার !
বাধা আরও আছে
রয়ে আংশিকের অনধিকারে !
পারো না বাহির হতে
হাতের চূড়টি কেবল খুলে দিতে
অথবা গলার সাতনরী হার !
তোমার দিতে হলে
প্রবেশ-পত্র শুধু দিতে হবে
অন্তরে, অকাতর জোয়ারে
সুখের সখ্য-বিবশে
পূর্ণ অধিকৃত হওয়ার অধিকার !
কালের কল অযাচককে টানে
চরৈবেতি নিয়মে !
তুমি হাঁসফাঁস কর জালের বিষময় তলে
আর
সকরুণ বেণু বেজে ওঠে বার বার -
"হে অনাগত ! নও যে এ পরাণে বহিরাগত
সেটুকু যদি না বোঝো
মেনে নিতে হবে শুধুমাত্র বাঁচতে চাওয়াকে
নিঃসম্বলের হার ।
বাঁচিয়ে রাখা আজও উপহার !
ফেরো সহাস্যে, হে,
এ সবরমতী তীরে, নির্জন কুটিরে
বৃতি-আবৃত সুবাসে
নিঃসংশয়ে - একটিমাত্র বার !"
.
বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৮
চম্পক তীব্রতা
নারীজনম হলে - স্বভাবে সংযম !
পুরুষের প্রবণতা হতে পার্থক্যে অবস্থিতা !
তবে
ভাল একবার বেসে ফেললেই
ওমনি ফুঁসে উঠলো নদী,
ছিঁড়ে গেল এযাবৎ ঘাটের সাথে
প্রতিটি বাঁধন,
ভেসে চলার নিয়ন্ত্রণ-হীনতায়
সে তখন নিবিড় উন্মাদ
রহস্যময়ী, চির-অপরিচিতা !
বৃক্ষ তাই হতে পারেনি সে -
তার শিকড় - গভীরকে
স্থিরতার মুষ্টিতে কখনো
আঁকড়ে রাখতে পারেনি ব'লে ।
অবশ্য, চায়নিও
সুন্দরতরে সমর্পণ-তৃষায়
স্রষ্টার অলঙ্ঘ্যের বিনীত অনুসরণে
অনাদি অপেক্ষার গর্ভ-কারণে
- যেমনটি লতা !
.
মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৮
দীক্ষা
পেলে কি হতে পারতো
সে কথা খুব ঘন ঘন আর ভাবি না এখন !
.
না পাওয়াদের পরতে পরতে বরং
অভিমানদের আহ্লাদিপনাকে প্রশ্রয় দিই আর
দীর্ঘশ্বাসদের থরে থরে সাজাই !
তোমার করুণা আমাকে ভাবতে পারে - বড় একা !
অথচ, আসলে, আমি আদৌ আর একা নই
আমি যে ভালবাসার সোহাগে পদে পদে পাশে রই !
.
অবসাদ আমার উত্তেজনাদের শান্ত করে !
উপরতলের সাময়িক বুদবুদের
ফেনিল অস্বচ্ছতাকে পেরিয়ে
বিরহ
দৃষ্টিকে জীবনের গভীরে নিয়ে যায় !
.
সে এক ভীষণই অন্য জগৎ, জানো !
শেখার কত যে নূতন,
যদিও তারা জলের অনেকটা তলায় !
.
সেখানে স্থিরতার নিয়মাবলী লেখা আছে !
লেখা আছে - সরলরৈখিক হলেও
কোথাও তীক্ষ্ণ বাঁক থাকতে নাই !
.
জীবন - গভীরকে ভালই বাসে বরাবর !
বুঝিনি আগে,
অথচ পরাণটি মেলতে পারলে - আমাকেও
অনেকটা মায়ের মত
কোমল নমনীয়তায় দুহাত ব্যকুল বাড়ায় !
তুমি তো তখন অনেকই দূরে
তাই জানতেও পারো না
ভালোবাসায় তখনো আগুণ যথেষ্টই রয় বেঁচে
তোমার সোহাগিনীকে কষ্টের পরীক্ষায়
পুড়িয়ে পুড়িয়ে
কি ভাবে আরও শুদ্ধতায় নিখাদকে ছুঁতে দেয় !
.
পেলে কি হতে পারতো
সে কথা খুব ঘন ঘন আর ভাবি না এখন !
.
না পাওয়াদের পরতে পরতে বরং
অভিমানদের আহ্লাদিপনাকে প্রশ্রয় দিই আর
দীর্ঘশ্বাসদের থরে থরে সাজাই !
তোমার করুণা আমাকে ভাবতে পারে - বড় একা !
অথচ, আসলে, আমি আদৌ আর একা নই
আমি যে ভালবাসার সোহাগে পদে পদে পাশে রই !
.
অবসাদ আমার উত্তেজনাদের শান্ত করে !
উপরতলের সাময়িক বুদবুদের
ফেনিল অস্বচ্ছতাকে পেরিয়ে
বিরহ
দৃষ্টিকে জীবনের গভীরে নিয়ে যায় !
.
সে এক ভীষণই অন্য জগৎ, জানো !
শেখার কত যে নূতন,
যদিও তারা জলের অনেকটা তলায় !
.
সেখানে স্থিরতার নিয়মাবলী লেখা আছে !
লেখা আছে - সরলরৈখিক হলেও
কোথাও তীক্ষ্ণ বাঁক থাকতে নাই !
.
জীবন - গভীরকে ভালই বাসে বরাবর !
বুঝিনি আগে,
অথচ পরাণটি মেলতে পারলে - আমাকেও
অনেকটা মায়ের মত
কোমল নমনীয়তায় দুহাত ব্যকুল বাড়ায় !
তুমি তো তখন অনেকই দূরে
তাই জানতেও পারো না
ভালোবাসায় তখনো আগুণ যথেষ্টই রয় বেঁচে
তোমার সোহাগিনীকে কষ্টের পরীক্ষায়
পুড়িয়ে পুড়িয়ে
কি ভাবে আরও শুদ্ধতায় নিখাদকে ছুঁতে দেয় !
.
রবিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৮
কৈফিয়ৎ নাই
অর্কেস্ট্রা_________রণদেব দাসগুপ্ত
আমাদের একটা অর্কেস্ট্রা চাই
যারা একা একা গান গাইতে চায়
যারা একা একা ছবি আঁকতে পারে
একা একা কবিতা সাজাতে জানে যারা তাদের সেলাম _
কিন্তু আমাদের একটা অর্কেস্ট্রা চাই
মধ্যরাতে ফুটপাথে পুলিশ যাদের লাথি মারে
উড়ালপুলের নিচে
যাদের গ্রাম ফ্যালফ্যালে চোখ
যাদের অবোধ হাসি দা ভিঞ্চি আঁকেননি কখনো
তাদের জন্য একটা অর্কেস্ট্রা চাই আমাদের
নরম শিউলির গন্ধে সবার ভোর লিখতে চায় যারা
আরতি আজান আর ক্যারল ডিঙিয়ে
যারা শুধু ভাত গাইতে চায়
গরম রুটির বুকে লিখতে চায় পৃথিবীর নাম
তাদের জন্য একটা অর্কেস্ট্রা চাই
ছেলেটির ঘুমচোখে দিগন্ত জাগুক
মেয়েটির এলোচুল আগুন জ্বালাক
স্ফটিকের মতো দিন ডেকে নিক বৃন্দগান
সমস্ত বাদ্যযন্ত্রে ছুঁয়ে যাক যৌথ স্বরলিপি
আমাদের আশ্চর্য অর্কেস্ট্রায় বেজে উঠুক প্রেম ও পতাকা
তুলি ও কলম আছে কন্ঠ আছে ক্যানভাসও আছে
মঞ্চ আছে , যন্ত্রণাও আছে
শুধু একটা অর্কেস্ট্রা চাই আমাদের ।~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~.
কৈফিয়ৎ নাই_____Arup Sarkar
অর্কেষ্ট্রা ছিল না কোনদিন
এমন তো নয় ! ছিল !
সাড়া - বিবেকে বিবেকে জেগেছিল !
স্লোগানে স্লোগানে প্লাবনের তোড়ে
সর্বহারার জয়গান
একদিন বাঙালির সর্বাঙ্গে বেজেছিল !
কত কত তরুণ, যুবক,
তাদের ঘাম, রক্ত, প্রেম আর
জীবনের অমূল্য সময়
বিনা দ্বিধায় উৎসর্গ করে গেছে
বছরের পর বছর ধরে
অকপট বিশ্বাসে !
তাদের প্রৌঢ়ত্বে আজ
দশকের পর দশক ধরে
বাড়তে থাকা প্রবঞ্চনা - সঞ্চয়ে শুধু,
অর্কেষ্টার
অভিযোগের অজুহাত-তীর
একতরফা
অপরে তাক করে রাখার চতুর অভীপ্সায়
সুদূর কারণের অস্বচ্ছতার কারণসুধায়
জনগনকে মাতালে-বেতাল রাখতে পারার
নিগূঢ় অভিসন্ধিতে
আপন অকর্মন্যতা আড়াল করে,
ধূর্তের যেনতেন প্রকারেণ
গদিটি কেবল দখলে রাখার নীতিতে
সাধারণ মানুষের
চৌঁত্রিশ বছরের বিশ্বাস উজাড় করে দেওয়া
নেতৃত্বের সুযোগ দুহাত ভরে পেয়েও
প্রকৃত বিপ্লবে
ফলহীনতার চরম শঠতায়,
যুগের পরাবর্তে
ইতিহাস হতে বাস্তবের শিক্ষায়
একালের জনমানসে
মুখোশ-সর্বস্ব মাকালের
ক্ষমতালোভী বাতেলার প্রতি
অতি স্বাভাবিক আগ্রহশূন্যতায়
কালের করালে
অসৎ এর অসত্যের পরম্পরায়
হে বন্ধু, বিবেকের নিরুপায়ে
দীর্ঘশ্বাসের নির্লিপ্তি শুধু ছায় !.
শুক্রবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৮
হে মানবজীবন
আমি তো বলিনি
ভাল না বেসেও
পরাণাবাসকে
আলো-সুবাসিত রাখা যায় !
.
আমি কি ঠেলেছি
অন্তর্যামীর পারা
তোমাকে
হামি দিতে নিরুপায় ?
.
আমি তো বলেছি
যত খুশি, যত ভাবে খুশি, ছুঁতেই পারো
শুধু যদি চাওয়া বিকাশের
যৎসামান্য ঊর্ধ্বলোকে, সুন্দরতর !
.
মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১৮
প্রীতিস্পর্ধ
হে চিরপরিচিতা, হে সমর্পিতা,
তোমাকে যে কথা আজও হলো না বলা,
প্রথমে জানতে হয় - কেমনে কাছে
আর কোন প্রবীণ দীনে - আরও দূরে !
বোধকে বোঝের ভ্রমে
মানব জনমের দোষ ভেবে নিও না সহসা !
প্রকৃতি হতে পুরুষেই বিবর্তন-দিশা !
বিপরীতে, ক্ষয়ে কোন ক্ষেত্রে নয়,
সৃষ্টি হতে একমাত্র মহাশূন্যে
শক্তিতে পরিণত হয় যে মেশা !
তাই তোমার শ্বাস দীর্ঘতর যুগে যুগে
মাটির মূলকে খুঁজে না পেয়ে স্থূলে!
সে রাখেনি আসক্তি-শিকড়,
আসেনি সেখানে চিরস্থায়ী
রয়ে যেতে মেতে ভুলে !
যাকে পেয়ে দোঁহে
পাওয়ার সুখ পারেনি অনন্ত হতে
তাকে খুঁজেছিলে হয়তো সাময়িক মোহে !
আর যাকে আকুল নিবিড়ে -
সে অস্তিত্ব - মাংসল পারে নি হতে !
তার নিবাস সূক্ষ্মতরে, হে প্রিয়া, তাই
অধোগতি মতি হলে - নিরুপায় মানা ছুঁতে !
অবিরত সূর্যালোক বরষে
আত্মবিশ্বাসের সুকোমল হরষে
একার একাকিত্ব-হরণী প্লাবন যে সে
সমকালীন চন্দ্র-দোষে দুলে
অনুভবের বরে
স্বরচিত অক্ষয় বিরামাগারে
তোমারই
চিরস্বাধীনতা-বিলাসী অন্তঃপুরে !
.
অথঃ মানবিকতা-কথা
প্রতিটি আঘাত - অতি আবশ্যিক ভাবে
প্রত্যাঘাতের বীজটিও বোনে,
জমিয়ে রাখে সময়ের করালে,
ফিরে পেতে - পূর্ণতর শক্তিতে
একদিন হেরে যেতে - আবার
নিয়তির
দাবার গুঁটি পাল্টে দেওয়ার কালে !
.
অথচ মার খেয়ে,
দীর্ঘদিন যাবৎ মার খেতে খেতে
সহনশীলতার ব্যায়ামে
সহ্যকে শক্তিতে পাল্টে নেওয়ার সকালে -
.
"তোমার মারে
নতুন কিছু আর হওয়ার নেই - আমার"
.
সেকথা
পাল্টা প্রত্যয়ে ঘুরিয়ে ফেরত দিলে
হীনমন্যতা আরোপে
তার আত্মবিশ্বাসকে অবধারিত পতনের দিশায়
ঠেলে দেওয়া যে যায়
- সেকথা ইতিহাস ঘেঁটে সুযোগ-মত জেনো !
.
এরপরে, খুব বেশি কিছু করার থাকে না আর !
একবার চোখ পাকিয়ে "চোপ" বলে বকে দিলে
যত বড় নামডাক থাক তার বোকার বাজারে,
তোমার বাঁশে
আপনে ডুবন্ত আবিলে - সে
ল্যাজটি গুটিয়ে কেটে পড়ে অন্য বিলে !
.
তার তূণের সব অস্ত্র ফুরিয়ে দিলে
তোমার হাতের একটি মাত্র ঘাসের টুকরোও
ব্রহ্মাস্ত্র হতে হয় - রাজার বাধ্য মাতে
বোড়ের অতি সামান্য সে চালে !
.
মানুষ, সেই কবে থেকে
কত কত বড় বড় ভাষণ রচনা করে !
বোঝে না - এ সামান্য সূত্র
দোসরা অক্টোবরের সকালে !
রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
পরকীয়া
অন্ধকারকে ভরসার নিবিড়ে পেয়ে
জানলা গলে এক লাফ মেরে
আচমকা ঢুকে পড়ে যখন
অনুসন্ধিৎসু আকাশের চাঁদ
সটান পাথরের মেঝেতে
পৃথিবীর মানুষের ঘরে
.
ইচ্ছাটি ছিল কি তার
উচিতের তুল্যমূল্যে বুঝে নিতে -
.
এমনকি
তাকেও অসতী-প্রবণ ছেড়ে
মানুষ
আখেরে, ঠিক কি করে,
.
পলকে, অনুরণিত ইশারায় সাড়া দিতে,
শীতলতাকে
তৎপর পরিহারের অজুহাতে, রাতে,
অবধারিত দামালপনার অভিসারে
অবারিতে - ঝাঁপিয়ে পড়তে যেই পারে
নির্ঘুম লেপের নিশ্চিন্তির আদরে ?
.
শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
তালা বনাম চাবি
29.09.2015
.সেদিন নারী ও সুরা,
বলতে আজ কোনও বাধা নেই,
ছিল প্রিয়তর !
.
কঠিন, আসক্ত মোহে, ভেসে
নিজে যথেচ্ছ যেতে যেতে, তোমায়
ভেবেছিলাম, সিঁদুরের বাধ্য বেহালে
বন্দী করে রেখেছি বেশ জড় !
.
কোনও তর্কে না গিয়ে,
খোকনের ছোট্ট হাতটুকু হাতে নিয়ে,
বিশ্বাসী পা যেদিন বাড়ালে, - একা হতে,
অবাঞ্ছিত প্রশ্ন করেছিলাম
- " যাচ্ছ আমার খোকন কে নিয়ে, কেন ? "
.
ক্ষণিকের তরে থেমেছিলে,
অতি সামান্য হেসে,
প্রায় হিস্ হিস্ স্বরে, বলেছিলে
- " ও তোমার ! - এমনটাই এতদিন জানো ? "
.
বোকাই তখন, আবার প্রশ্ন করেছি - " কেন ? "
শীতল, এক ঝলক চাহনি কেবল
জানিয়েছিল - " প্রেমকে আরও অধিক চেনো !
- যা সমানে সমানে জমে ভালো ! হায়,
- এ সত্য, অতঃপর যেন
ঠকেও - বিশ্বাসে চেনা যায় ! "
.
হয়তো জানোওনি কোনও দিন,
- একলা যে পিছনে পড়ে থাকে,
দুঃস্বপ্ন আর সুতীব্র অভিমান
কতটা তাড়া করে
নিজগৃহে পরবাসী তাকে,
অসহায় একাকীত্বের
সর্পিল
জড়িয়ে নেওয়ার ডাকে !
.
তুমি তেমন পাল্টাওনি অবশ্য
দু দশকে,
চাকরি কেবল
পাল্টে গেছে থেকে থেকে ।
হাড় মাস একলা কালি করে
জোয়ালে টেনেছ বাকি জীবনের গৎ,
আর তাই,
সুপুরুষ সন্তান - পেয়েছে তোমার ছায়ায়,
স্বাবলম্বী আদর্শে,
সোনালী সুখের ভবিষ্যৎ !
.
বড় কি আমিও হই নি কিছু,
পরে ?
ইচ্ছার অশালীন ভাষা,
( যেন ছিলামই এক অবিকল চাষা, )
সেই তারপর থেকে,
চিরতরে পাল্টে নেওয়ার হাত ধরে ?
.
তোমাকে আজকাল
ক্লান্ত দেখায়, বুঝি, প্রতি ভোরে !
'ভালোই তো বাসতে চেয়েছিলে'
- সে সত্য ভুলতে না পেরে,
আমাকেও
আত্মগ্লানি তাড়িয়ে বেড়ায় অবিরত !
এ ভরা বিকেলে সাধ হয়
অনেকটা সাহস বুকে ভরে
আরও একটিবার সামনে পৌঁছে যাই !
তোমার পুরানো দুহাতে
মেহেন্দির নতুন গয়না পরিয়ে দিতে
নতুন করে আর একবার হাত বাড়াই !
.
যদি সুযোগ, ভুল করেও, আবার দাও,
বিশ্বাস - নতুন করে যদি করো,
ক্ষমা - অক্ষমকে করে দিতে
লাল টিপ - কপালে যদি তখন ফের পরো,
দেখবে,
বলতে তোমাকে হবেই শেষে, হেসে,
.
- " খোকন !
কাকুটাকে - দ্যাখ, আজও পাগল কেমনতর !
গায়ের জোরে,
সেই - আমাদের হারিয়ে দিয়ে,
বাবা তোর হতেই হলো, শেষে আবারও ! "
.
https://youtu.be/z3UHfi9vpbc
.
.________________________
.
বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
প্রসঙ্গঃ প্রেমহীনতা
পুরুষ প্রকৃতি মূলতঃ মন তথা যুক্তিবুদ্ধি জনিত লাভ লোকসানে অধিকতর নির্ভর করতে চায় ! অর্থাৎ যুক্তিবুদ্ধি তার সক্রিয়, সদাব্যস্ত, ডান হাত ! হৃদয়ে পরাণের অনুভবটি তার - সাথে অধিক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং মাঝে মাঝে শুধু সহযোগে কাজে লাগা বাঁ হাত !
অপরপক্ষে, নারীর ক্ষেত্রে ডান হাতটি সাধারণতঃ হৃদয়ের অনুভব আর বাঁ হাতটি একই ভাবে মস্তিকের মনন-জনিত যুক্তিবুদ্ধি !
এবারে, নারী হোক অথবা পুরুষ, একজন সুন্দর মানুষ হতে গেলে কিন্তু যতটা সম্ভব সব্যসাচী হতে শেখা - প্রাথমিক দায় প্রতিটি মনুষ্যজীবনের !
এ তো গেল আদর্শ মানুষের কথা ! বাস্তবে অনুভবের কার্যকারিতার ব্যপ্তি যুক্তিবুদ্ধি অপেক্ষা অনেক বেশি ! অনুভব-দক্ষতা যে কোনও সময়ে, চাইলে, যুক্তির পাঠ অল্প সময়ের মধ্যে আত্মস্থ করতে পারে ! পুরুষের যে কোন কাজ নারী এই কারণে অবলীলায় আয়ত্ব করতে পারে ! কিন্তু একজন আত্মগরবে লাফাতে থাকা যুক্তিবাদীর হাজার প্রচেষ্টার পরেও তার অনুভব দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিফল হওয়া - স্বাভাবিকের মধ্যে পড়তে হয় !
আবার অপরপক্ষে, অন্যের মনের কথাটি বুঝে ফেলার সামর্থে - নারী, পুরুষের চেয়ে, চিরটাকাল একশো কদম এগিয়ে !
এতটুকু আলোচনার পরে আশাকরি বোঝা কঠিন নয় যে ভালবাসা যেহেতু যুক্তির জগৎ নয়, বরং অনুভবের জগৎ, সেহেতু পুরুষের ভালবাসা নারীর সমকক্ষ হতে পারাটা মোটেই সহজ কাজ নয় ! পুরুষের ভালবাসা জনিত আবেগ মূলতঃ শারীরিক চাহিদা আর কল্পনার একটি অসম সংমিশ্রণে উদ্ভূত বিভ্রান্ত আবেগ, যে প্রবৃত্তিটি নারীর বাস্তব আকাঙ্খার অনুসারী হতে অধিকাংশে অপারগ !
অনুভব নারীকে প্রতিনিয়তই যে বহু রঙের বর্ণালীতে সাজায়, তাকে যথার্থ পাঠোদ্ধার করতে অক্ষম পুরুষ, অধিকাংশে, আপন আপন কল্পনায় নারীর এক অদ্ভুত অবাস্তব, তথা, অলীক রূপ কল্পনা করে নিয়ে, তার মোহটিকে মাত্র ভালবাসা ভাবতে বাধ্য হয়, ফলতঃ নিজে নিজের পিঠ চাপড়ায় ! অথচ, বাস্তবের নারী, শিল্পে, সাহিত্যে, পুরুষের আঁকা নারীর ছবির সাথে মিলাতে পারে না বাস্তবের নিজেকে !
নারীর স্পর্শের অনুপ্রেরণায় পুরুষ আপন অতীতের, নিজেতে আটকে পড়াকে অনেকটা পেরিয়ে, অধিক বিকাশের জগতে চলে যেতে পেরেছে - তেমন উদাহরণ গুনে শেষ করা কঠিন,অথচ, পুরুষের ভালবাসা নারীর স্বতঃস্ফূর্ততার আকাশকে প্রসারিত করতে পেরেছে এমন উদাহরণ - বড়ই হাতে গোনা !
মোটকথা, একই প্রেমের সম্পর্কটি হতে একটি নারীর প্রাপ্তি, বরাবরই, একটি পুরুষের প্রাপ্তির তুলনায় এতটাই অপ্রতুল, যে, আত্মনির্ভর মানুষদের মধ্যে, নারীর প্রতি আগ্রহে হাল ছেড়ে দেওয়া পুরুষের তুলনায়, পুরুষের সম্পর্কে হাল ছেড়ে দেওয়া নারীর সংখ্যা, চিরকালই বেশ কয়েক গুণ বেশি - পৃথিবীতে !
এক্ষেত্রেও "অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর" ধরণের আপাতঃ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে - এই প্রবণতার উপরতলটির আক্ষরিক অনুবাদটি পেরিয়ে, অন্তর্ণিহিত অভাবের অভিব্যক্তিটি সঠিক ধরতে পারা যথার্থ অভিবাদনযোগ্য বলে মনে হয় !
মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
প্রতিবার নতুন করে হতে শেখা
'ভালবাসার রেডিমেড' ব'লে হয় নি কিছু - কখনো !
আদপে - ভালবাসাকে ঘাড়টি ধরে
ক্রীতদাসত্বটি স্বীকার করিয়ে নেওয়া
মানুষের অধিকারে
সবচেয়ে স্থুল অনধিকারটিই হতে হয় !
স্বাধীনকে অহংকারের শিকলে বাঁধতে চাওয়ার
নিছক ওস্তাদিটিকে
পরাণের দরজা চেনাতে চাই না তাই আজও !
প্রতিটিবার
ভালবাসার সুবোধ ছাত্রটি হতে চেয়ে
নির্ভয়ের বরটি পেতে,
পূর্ণ ভরটিকে - সমাদরের আসন পেতে দিতে,
শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সংরাগে
হৃদয় পদ্মের প্রতিটি স্বতস্ফূর্ত পাপড়ি
একে একে মেলতে দিতে,
কোমলতম কোরকটি -
অবশেষে প্রকাশিত হতে,
সব জানাকে অজানায় বিসর্জন দিয়ে, ফিরে,
কেবল
ধৈর্য ও বিশ্বাসের ফুলেল সম্বলে
মৃত্যুর শান্তিময়তার তীরে
নবজন্মকে যেভাবে বরণ করতে হয়,
একে অপরের মুখোমুখি পুনর্বার নতজানু হয়ে
নবীনতম আবিষ্কারের বৈধতায়
পৌঁছে - তেমনই যাওয়া যেন থাকে, আমরণ !
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
