বিভ্রান্তির স্থায়ী বিনাশ মানবজীবনে সহজ কর্ম নয় ! শারীরিক আকারটুকু মাত্র পাল্টে পাল্টে গেছে তার ৷ মৎসজনম হতে মানবজনম অবধি জন্মান্তরের লক্ষ-অতীত হতে অধীত অভ্যাস মানুষকে আজও বইতে হয় প্রবৃত্তি তথা প্রকৃতির নামে ! এ পৃথিবীতে একজন মানুষও প্রবৃত্তির প্রভূত-প্রকার আগ্রাসন হতে মুক্ত নয়, - মূর্খ অহমিকা যাকে মূলতঃ "ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র" নাম দেয় ৷
তবে, সুখবরটি হলো - বিবেক নামক একটি যন্ত্র রয়েছে প্রতিটি মানুষের পরাণে, যে আক্ষরিক অর্থেই বিবর্তন-পারগ ৷ ইচ্ছা যখন বিবেককে প্রয়োজনীয় শক্তিটি সরবরাহ করে, বিবেক তখন
কামের বিপরীতে প্রেমকে
ক্রোধের বিপরীতে তেজকে
লোভের বিপরীতে অর্জনস্পৃহাকে
মোহের বিপরীতে কারুবাসনাকে
অহঙ্কারের বিপরীতে আত্মবিশ্বাসকে
আর
মাদকতার বিপরীতে সহমর্মী মহানুভবতাকে
বিকশিত করতে পারে ৷ প্রবৃত্তির জলীয়-প্রবণ অধোগতি, বিবেকের জাদু-পরশে, বিপরীত মুখে ঊর্ধ্ব-দিশাপ্রাপ্ত হয় ৷ মানুষ তখন বুঝতে পারে - শক্তি আর বস্তুর মাঝে সে একটি দশা ভিন্ন অপর কিছুই নয় ৷
গড়পড়তা মানুষ প্রতিনিয়তই প্রবৃত্তি হতে বিবেকে আর বিবেক হতে প্রবৃত্তির সেবায় - ইচ্ছার প্রযুক্তিকে, অল্টারনেটিং কারেন্টের মত প্রায় নিয়ম ক'রে, পাল্টে পাল্টে যায় ৷ সত্যের চৌম্বকশক্তি বাধ্য নিষ্কৃয় থাকে তখন ৷ বিবেক সে চৌম্বক-ক্ষেত্রকে জাগ্রত করতে সক্ষম - ধনাত্মকতার অবিরত ডাইরেক্ট কারেন্টের মাধ্যমে ৷
গঠন আর ক্ষয় - বিপরীতমুখী হতেই হয় ৷ এ নিয়মকে ঠকানোর কোন উপায় মানুষের হাতে নেই ৷ আপন বিবেকের প্রতি একনিষ্ঠতা কার কতদূর দীর্ঘস্থায়ী, তার উপরে নির্ভর ক'রে, এ জগতে সে অনুসারে মানুষে মানুষে স্তরভেদ ঘটতে হয় ৷
প্রবৃত্তি কিভাবে বিবেক হতে ইচ্ছাকে প্রতিনিয়তই হরণ করে, তার যৎসামান্য নমুনাও থাকা ভাল - উদাহরণে ৷ যার যেমন ভাবে বোঝার সে তেমনটি বুঝে নিতেই পারে ৷
.