বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

স্থায়ী সুখ


বেঁচে থাকার অদ্ভুত চ্যালেঞ্জটি হলো
ভবঘুরে বিশৃঙ্খলাকে পরাজিত করা নয়—
বরং তার মধ্যেই
নিঃশব্দে দীপ্তিমান হয়ে ওঠা।
মানুষকে তার নিজের
ক্ষুদ্র আত্মমুদ্রাটিকে ঘষে-মেজে
এতটাই উজ্জ্বল করতে হয়
যতক্ষণ না তা সূর্যে পরিণত হয়।

মানুষকে শিখতে হয়
মূল্যের গোপন নিয়মানুবর্তিতা—
পাঁজরের ভেতরে একটি বাগান লালন করা,
যেখানে ধৈর্য ফলের মতো পাকে
আর মর্যাদা জন্মায় ধীরে বেড়ে ওঠা বৃক্ষের মতো,
যার শিকড় শান্তভাবে সমঝোতা করে
সন্দেহের অন্ধকার মাটির সঙ্গে।

কারণ ঝড় আসবেই—
তারা সবসময়ই আসে।
দুর্ঘটনার মেঘ,
হঠাৎ ক্ষতির বাতাস,
বিভ্রান্তির অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি—
যেগুলো ঝরে পড়ে এমন আকাশ থেকে
যার কথা কোনো ভবিষ্যদ্বাণী কখনো বলেনি।

কিন্তু আবহাওয়ার চেয়েও গভীরে কোথাও
রয়েছে স্থির জলের এক নীরব কক্ষ,
যেখানে মন বসতে পারে অখণ্ড 
নীরবতায়, এক সন্ন্যাসীর মতো।

অন্তরের শান্তি বজ্রহীনতার নাম নয়।
এটি সেই নিঃশব্দ কর্তৃত্ব
যা বজ্রকে কথা বলতে দেয়
আত্মার ঘর ভেঙে না দিয়ে।

সামঞ্জস্য হলো এক অদৃশ্য সঙ্গীত
যা বিশৃঙ্খলাকে ধ্বংসের বদলে
নাচতে শেখায়।
আর যখন সেই সঙ্গীত যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে,
তখন জীবন নিজেই শুনতে শুরু করে।

ঝড়গুলো থমকে দাঁড়ায়।
তারপর এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে—
সেই একই অনিশ্চিত জীবন,
যে একসময় ভাঙা কাঁচের মতো প্রশ্ন ছড়িয়ে দিয়েছিল,
ধীরে ধীরে ফিরে আসে
তার পকেট ভরে আলো নিয়ে।

সে তখন অদ্ভুত সব উপহার আনতে শুরু করে—
অপ্রত্যাশিত সকাল,
দুর্ভোগের ভেতর লুকিয়ে থাকা হাসি,
আর ছোট ছোট সোনালি মুহূর্ত
যেগুলো নীরবে এসে পড়ে
ধৈর্যশীল মানুষের হাতে।

তখন সুখ আর সেই অতিথি নয়
যে কেবল সৌভাগ্যের ঋতুতেই আসে।
সে হয়ে ওঠে এক বিশ্বস্ত সহচর,
অস্তিত্বের প্রতিটি পর্বের পাশে হাঁটে—
বিজয়ের মুহূর্তে,
অপেক্ষার সময়ে,
এমনকি বেদনার রহস্যময় করিডোরগুলোর মধ্যেও।

কারণ যে মানুষ
অন্তরের সামঞ্জস্যের নিয়মানুবর্তিতা শিখেছে,
সে জীবনের বাইরের দিকে 
অনিয়ন্ত্রিত আনন্দ ভিক্ষা করে না।