শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

জীবন-গান

যতটা কাছে এলে, অনায়াসে
ছুঁয়ে ফেলা যায় চামড়ার হাত দিয়ে,
ততটা কাছে এযাবৎ আসিনি ।
ভালবাসবে না তা ব'লে, পরাণবাসিনী ?

উত্তর আর দক্ষিণ মেরু
একে অপরকে, একটিবার ছুঁয়ে দিলে
যাবতীয় চৌম্বকত্বের ওখানেই অবসান ।
তেমন না হলে 
গাঢ় হতেই হবে এমনতর গহন অভিমান ?

যতক্ষণ তেমনটা না হয়ে
বজায়ে থাকে ন্যূনতম দূরত্বখানি,
ততক্ষণ প্রবল অনুরাগের টান
আর যখনই
সেই আকর্ষণের চৌম্বকক্ষেত্রের মাঝে
ছলকে পড়ে মন আর পরাণ,
তখনই আগ্রহের প্রাবল্যে 
স্থবিরতার তৎক্ষণাৎ অবসান,
তথা, আপন বিকাশের সমুখে হাজির
দুর্লভ অগ্রগতির আমন্ত্রনী সোপান ।
জীবন যে নিয়মে হয়ে উঠতে পারে
সুন্দরের দিশায় 
অভিনবের সার্থক অভিযান ।

চিরাচরিতে ফের থেমে পড়তে, 
না, চলতে অনন্ত উদ্ভাসের পথে,
চেয়েছিলে কেমনতর পরিণাম ?
.

বরাদ্দ

রাস্তা যখন ক্রমশই আরও সরু
আর আরও খাড়া হতে চায়,
তখন সমতলগামীদের
সংযত হয়ে, বাধ্য থেমে পড়তে হয় ।
তা না হলে, অদূরে, হাজার ফুট নীচে
পাহাড়ের কোলে, প্রপাত ধরণীতলে
নিয়তি হয় ।

কেবল অভিজ্ঞতা, ইতিমধ্যে,
প্রয়োজনীয় রূপে দক্ষ করেছে যাদের
তারা, এরূপ পরিস্হিতিতেও 
না থামার বিশেষ প্রকার সুবিধা পায় ।

সব পথ কি
সকলের সমীপে সমান শুভ হয় ?

আহ্লাদ

খাদ্য, একবার যত্ন ক'রে সাজিয়ে, 
ফের প্লেট সরিয়ে নিলে
যাদের ক্ষুধা অপ্রতিরোধ্য স্তরে পৌঁছে যায়,
সকল মানুষকে 
সেই একই গোত্রে ফেলতে চাইলে
অপেক্ষায় রইতে পারে বিশাল ধোঁকা ।

কারও কারও জন্য, বরং
অনবধানের পরিসরে 
পৈতের মত, তল থেকে ফস্কে রেরিয়ে পড়া
অতি তুচ্ছ একটি ওপরচালাকি
বরাবরের জন্য
হাট ক'রে খুলে দেয় 
বিপরীতের গোপনতম প্রবৃত্তির পরিচয়,
যা বাকি জীবনের জন্য
চিনে রাখতে, 
যত্ন সহকারে, সেদিনই শেষ শেখা ।

সুবর্ণ সুযোগ, সম্ভবতঃ, 
বারবার আসে না দুয়ার অবধি ।
শ্রদ্ধাহীন হওয়ার কারণে,
সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ 
একার হাতে নেওয়ার প্রবল লোভে,
বারণ বিনে, বিপদ চিনতে না পারা যার, 
অযাচিত উপহার
চিরতরে হারিয়ে ফেলার আগে, বোকা ।