শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮
বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮
বিধু-বদনী
পর্বতশীর্ষে সরোবর ।
এপার হতে বিপরীত তট ধোঁয়াশায় অদৃশ্য-গোচর !
মাঝখানে ভেসে আছে
অনাবিল দ্বীপ - মেঘে-ঢাকা সবুজের চরাচর !
যান্ত্রিক দূষণ হতে বহুদূরে,
উচ্চতরে, মুগ্ধতার সুচারু অবিনশ্বরে
সে মনসিজ উজান-দিঘী,
হংসমিথুনরা যেথা নির্ভয়ে চরে
শব্দের সৃজন-ছন্দ বরে
স্বপ্নিল সে জগতকে অহরহ শীৎকারে মেখে
প্রণয় তিয়াসের মরমী বাহুডোরে !
রাজহংসিনী সেথায় একাকী অপেক্ষায়
হৈমন্তিক উতলায় !
রূপান্তরের অপার্থিব দূত-সম
শৈত্যের অভিসারে চড়ে
পরিযায়ী বলাকার
হলো যে আসার সময় - এবারে !
সে বুঝি ভিন্ন গ্রহ হতে আসে ।
তার আগমন-মাত্রে
হূ হূ বেনোজলে বুক ভরে চাষে -
পুনরাবির্ভাবের সোঁদা সুবাসে
পরাণ-বীণায় দুরন্ত উজ্জ্বলতা ভাসে !
বসন্তের আগমনে
মসিতে শশীর কিরণ ঘোমটা খোলে !
আপনে, রচনে - আখরে আখরে,
সোনালী ফসল একে একে তুলে
গোলা ভরা নিশ্চিত তার হলে
"আসি" - ব'লে, পরিযায়ী আবার ফিরে যায়
পিছে রেখে অভিমানী রাজহংসীকে
বিরহের বাধ্য দীর্ঘশ্বাসে !
দিন যায় !
দিনকে বয়েই যেতে হয় কালে কালে ।
অগস্ত্য-যাত্রা ছিল না ব'লে
সুদিন ফের প্রতিবার ফিরেও আসে !
রাজহংসী-পরাণ সেই ফাঁকে
পারে না হয়তো লুটাতে নিজেকে
আপোষী স্বেদের মেদে
ক্ষণস্থায়ীদের গতানুগতিক বাসে
উচ্চকণ্ঠী শহুরে ভেদে
নিত্যতরতার কূল-মানহীন আশ্বাসে ।
জন্মান্তরের অবিচ্ছিন্নতার দূরভাষে
সে বরং অপেক্ষাদের
আত্ম-উন্মোচনী সুবাস অধিকতর ভালবাসে ।
অপেক্ষারা একমাত্র জানে
এ প্রপঞ্চে, প্রমাণের পরিমাণে, -
পরাণে ফেরা জাগরণী-উদ্ভাসে
পরিণতির মধু সিঞ্চন-ক্ষম পরিণাম
লভ্যে অভিষিক্ত হতে পারে
সুন্দরে অনুগমনের সে বিরল অবসরে
প্রস্তুতির আপোষ-শূন্য প্রয়াসে ।
.
মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
মৈত্রেয়ী
আজকের মোহ কালকে শূন্য, তাই,
মায়াকে তোমার যেতেই হবে কেটে !
কিনতে পাগল বেচতে ছাগল যাপন
দিকশূন্যরা পাবেই খুঁজে পাবে !
তারপরও যদি কালের আচম্বিতে
পথের সাথে বাধ্য পথের মিলে
দৃষ্টি আমার হয়তো তোমার মুখে
বৃষ্টি ধোয়া আঁখিটি চিনতে পাবে
তোমার তখন পাক ধরেছে চুলে !
স্মৃতি, আমার যদিও মনের ভুলে,
তোমার মাঝে "ন হন্যতের" রূপে
সত্যতাটি খুঁজতে হয়তো চাবে !
তোমার পরাণ সেদিনও যদি থাকা
খাপ খুলতে রাজিই নিরবধি,
গড়পড়তা এলিয়েদরা তবে
তোমার পালায় মিথ্যা প্রমাণ হবে ।
.
শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮
বাঞ্ছা
মুখে না বলেও
বুঝে নেওয়া কতদূর স্বচ্ছ হতে পারে
সে যুগলে একই সাথে শেখা !
সে আমাদের
নিয়ম করে দেখা হওয়ার কাল ।
.
প্রতিদিনের অবধারিত ইচ্ছাকে
বাস্তবের সত্যিতে লেখার
প্রথম সুযোগটি পেয়ে
প্রায় বছর দুই পেরোলে পরে
ফাঁকা ক্লাস ঘরে
যেই না ছুঁতে চাওয়ার
দুরুদুরু এগিয়ে আসা -
আকুলের প্রথম চঞ্চু-পরশের টানে,
ওমনি ছিটকে সরে, অস্বাভাবিক জোরে
চিৎকার করে উঠেছিলি ।
.
কিঞ্চিত শান্ত হলে, বলেছিলি -
"যা না রাস্তার ধারে - তাদের কাছে
যারা পয়সা ছুঁড়লেই ওমনি দেবে ।"
.
নিজেকে পুরো দিনটা ধরে
বড় অবাঞ্ছিত মনে হয়েছিল রে !
.
সেই একই তুই
বড়জোর, বছর কুড়ি পরে
ডেকে নিয়েছিলি
কত না স্বপ্নে সাজানো
তোদের নূতন ফাঁকা ফ্ল্যাটে !
গৃহপ্রবেশের তখনো বাকি, অথচ,
বেনিয়মের অভিসারে
অভিজ্ঞের গভীরতর দেওয়ার
চতুর সম্ভাবনায়
চকচক করে উঠেছিল অবাধ্য চোখ !
.
প্রতিবাদ আর সমর্পণের
ঠিক মাঝখান দিয়ে গলে গিয়ে
নিরুত্তাপে মুখ ফিরিয়েছিল বাধ্য শিকার !
.
জিতেছিল কে
ধিক্কারের প্রতিযোগিতায় রে সেদিন ?
কোন উপকারে অপেক্ষাদের কবরের উপরে
সেজেছিল সেদিনের অবাঞ্ছিত উপহার ?
.
.
গরীয়সী ( একটি আলোচনা )
"বিদ্যা দদাতি বিনয়ম ! শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম !" - এই শ্লোকগুলিকে অতীতের বাতেলা মনে করে আর হামবড়া ইজমেদের অশ্রদ্ধার শিক্ষায়, অস্তমিত প্রতিভা-সম্ভাব্যের এ বন্ধ্যা যুগ ঠকে গেছে সবচেয়ে বেশি !
গুরুতরকে চিনে, প্রাপ্য গুরুত্বে তাকে অন্তরে বরণ - লঘুর উত্তরণের অব্যর্থ উপায় !
যাকে গুরুত্ব দিই সেই আখেরে গুরু ৷ এককথায়, প্রাণী হোক অথবা বিষয়, যার জীবনে গুরুত্বপূর্ণরা যত অধিক - সংখ্যায় ও মাত্রায়, সে গুরুর প্রতি যার শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠায় খাদ ন্যূনতম, তার চারিত্রিক ভিন্নতার কারণে তাকে সমাজের আত্মম্ভর গোষ্ঠি যদি যৎপরনাস্তি বর্জনও করে, তবুও, এ ধরাধামের অপ্রতিরোধ্যতার নিয়মে, সাফল্যের নিরিখে, কালে কালে, সে ই ততই ব্যতিক্রমীরূপে অনুসরণীয়, - যুগে যুগে, অবশেষে প্রমাণিত হতেই হয় !
অপরপক্ষে, গুরুতরকে অশ্রদ্ধা ও অবজ্ঞার চিরন্তন ফল প্রতিফলিত হয় - আপামর গুরুত্বহীনদের যাবৎ-জীবন অবসন্নতার কারাগারে যাপনের অসহায়তায় !
সম্পর্ক
কখনো হুবহু সচেতনে
আবার কখনো অন্যমনে
প্রবেশ তোমার করা যখন
ভাব-সমাধির ঘরে,
যখন তুমি মগ্ন থাক
আপন অন্তরে,
ব্যকুল পরাণ অবাক যখন
অচেনা আবিষ্কারে
কষ্ট বরণে স্বেচ্ছা মগনে
নূতন মানিক্য-রাজি,
ভেবো না তাকে - করুণা কারও,
রাখতে পারি বাজি !
জান কি তুমি, তোমার সাথে
কার্য্য-কারণে হাত মিলাতে
করতলও সমান কাজী ?
ভাগ্য রেখা সে কোন ফাঁকে
ভিন্ন পথের দিশা আঁকে !
আজ সকালে ? হ্যাঁ গো, আজই !
.
মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮
বাঞ্ছা
মুখে না বলেও
বুঝে নেওয়া কতদূর স্বচ্ছ হতে পারে
সে যুগলে একই সাথে শেখা !
সে আমাদের
নিয়ম করে দেখা হওয়ার কাল ।
প্রতিদিনের অবধারিত ইচ্ছাকে
বাস্তবের সত্যিতে লেখার
প্রথম সুযোগটি পেয়ে
প্রায় বছর দুই পেরোলে পরে
ফাঁকা ক্লাস ঘরে
যেই না ছুঁতে চাওয়ার
দুরুদুরু এগিয়ে আসা -
আকুলের প্রথম চঞ্চু-পরশের টানে,
ওমনি ছিটকে সরে, অস্বাভাবিক জোরে
চিৎকার করে উঠেছিলি ।
কিঞ্চিত শান্ত হলে, বলেছিলি -
"যা না রাস্তার ধারে - তাদের কাছে
যারা পয়সা ছুঁড়লেই ওমনি দেবে ।"
নিজেকে পুরো দিনটা ধরে
বড় অবাঞ্ছিত মনে হয়েছিল রে !
সেই একই তুই
বড়জোর, বছর কুড়ি পরে
ডেকে নিয়েছিলি
কত না স্বপ্নে সাজানো
তোদের নূতন ফাঁকা ফ্ল্যাটে !
গৃহপ্রবেশের তখনো বাকি, অথচ,
বেনিয়মের অভিসারে
অভিজ্ঞের গভীরতর দেওয়ার
চতুর সম্ভাবনায়
চকচক করে উঠেছিল অবাধ্য চোখ !
প্রতিবাদ আর সমর্পণের
ঠিক মাঝখান দিয়ে গলে গিয়ে
নিরুত্তাপে মুখ ফিরিয়েছিল বাধ্য শিকার !
জিতেছিল কে
ধিক্কারের প্রতিযোগিতায় রে সেদিন ?
কোন উপকারে অপেক্ষাদের কবরের উপরে
সেজেছিল সেদিনের অবাঞ্ছিত উপহার ?
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)