সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫

অপরিণামদর্শী

অপরিণামদর্শী 

সূর্য ডুবতে এসেছে
ক্ষণিক আগের নিস্তব্ধতায়।
নদীর জল তাই সিঁদুরে লাল,
মাঠের ঘাসে পড়ে থাকা আলো
শেষ বিকেলের মতো ক্লান্ত।

তোমার দৃষ্টিতে সেই চিরচেনা
প্রচ্ছন্ন বিষাদ খেলা করে—
যেন বহু দূর থেকে ভেসে আসে
অমলিন অভিমানের সুর।
প্রেমিকের সংযম আবারও
প্রত্যাখ্যান করেছে সমস্ত নিবেদন,
যেন হৃদয়ের দরজায় বসানো তালা
অদৃশ্য শক্তিতে জেগে থাকে
কোনো অনুচ্চারিত ভয়ের ভিত থেকে।

বয়স বাড়ছে জীবনের
অসহায় অসহযোগে;
দিনগুলো যেন ক্রমে
ঝরে পড়া পাতার মতো
অকারণেই মলিন হতে থাকে।
চোখের নদীতে
জল আর অবশিষ্ট নেই—
নীরব শুষ্কতার গভীরে
শুধু হাহাকার জেগে থাকে
অসমাপ্ত কথার মতো।

তবুও প্রশ্ন জাগে—
প্রেমকে এত নিষ্ঠুর হতে হয় কেন
ভালবাসা যখন গভীরে নামে?

আরো নরম হওয়ার কথা ছিল
হৃদয়ের, আরো সহানুভূতিশীল,
কিন্তু প্রেম কখনও কখনও
নিজের ভারে নিজেকেই ছাপিয়ে যায়—
কখনো দহন, কখনো দোলা,
কখনো সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গতার ছায়া।

হয়তো প্রেমের গভীরতাই
তাকে কঠিন করে তোলে,
হয়তো যাদের হারাবার ভয় বেশি
তারা-ই সবচেয়ে কম প্রকাশ করে
অনুভবকে।