বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩

কৃষ্ণ করলে লীলা

অর্ধশিক্ষিত হলে প্রশ্ন করাই যায়
"পরকীয়া কীইবা এমন প্রবল দোষের হয় ?"

না, 
'এক'-এ আদপে দোষ ছিল না কোনও ।
তবে, দুই এর মানে, প্রথমতঃ,
অবশ্যই দুটি আলাদা নৌকা,
তোমাকে, বুদ্ধি খাটিয়ে, যাদের 
সমানতালে অধিকারে রাখতে
অতিচালাক পদ্ধতিদের নিশ্চুপ অনুসরণে
ক্রমাগত ম্যানেজ করে যেতেই হয় ।
তাহলে, 
বুদ্ধি খাটিয়ে ম্যানেজ করতে হ'লে,
বিবেকের নিয়ম নিঃশর্তে মেনে
ভালবাসার শর্তহীন সরলতা
আদৌ কি বেঁচে রইতে পায় ?

দ্বিতীয়তঃ,
একাধিক মানুষের স্যালাইভা ও রক্তরস
পাল্লা দিয়ে গ্রহণ করলে, 
সাত পুরুষের দেওয়া
আপন জিনটি ভেঙে গিয়ে, 
মানুষটির শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধশক্তি 
একটু একটু ক'রে
একদিন চিরতরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ।

সর্বোপরি, দুটি পৃথক মানুষের সাথে
সমানতালে, সম্পর্ক রক্ষা-কালে,
দুটি ভিন্ন মানুষের মনের ও আবেগের 
কম্পাঙ্কের এর সাথে 
পৃথক পৃথক স্তরে অনুরণন-প্রচেষ্টায়,
উভয়ের সাথে 
আলাদা ক'রে মানিয়ে নিতে,
কিছু না কিছু অভিনয়
বাধ্য হয়ে করতেই হয় ।
তখনকার মত বলতেই পারো
"সামান্য ব্যপার, ও তেমন কিছুই নয় ।"
শুধু এড়াতে পারবে না
বিবেক-বর্জিত আপন মনস্তত্ত্বের
ক্রমশঃ ভঙ্গুরত্বে
আত্ম-শ্রদ্ধা-বোধের অবধারিত লয় ।
কারণ
একাধিক অর্থ - আক্ষরিকে মেরুদণ্ডহীন,
একই মানুষের দুটি মেরুদণ্ড সম্ভব নয় ।

প্রসঙ্গতঃ,
লক্ষণরেখাটি থাকে কেবল এক-এর পরে ।
দুই ক্রমে দশ হওয়ার মাঝে
নতুন কোন প্রতিবন্ধকতার সম্ভাবনা নেই ।

কী হতে পারে আত্মশ্রদ্ধা কমে গেলে ?
কালে কালে পৌঁছে যেতেই হবে 
সেই নির্মম দৈন্যে,
যখন নিরুপায় ভিক্ষুকসম, 
ক্রমাগত নির্লজ্জ হাত পেতে চলেছ
পরমুখাপেক্ষী শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতিদের দরজায়,
কারণ, বিবেককে ঠকিয়ে 
নিজেকে শ্রদ্ধা করার উপায়,
হাস্যকর ভাবে, আর কিছুমাত্রও
নিজের কাছেই যে অবশিষ্ট নেই ।

যে মানুষটা একদিন 
দাপটে ভালবাসতে জানতো 
নিছক অবলীলায়,
হঠাৎই আবিষ্কার করতে হবে -
তার ক্রমশঃ কৃষ্ণবর্ণ লাশ 
ভারাক্রান্ত হয়ে বয়ে চলেছো সারাদিন ।
লোকে জানবে - "একদম মারিয়ে গেছে রে ।"
হাজার চেষ্টা করেও
তার উজ্জ্বল অতীতকে আর নূতন করে 
একটিবারও জাগানোর উপায় নেই ।

হে উচ্চশিক্ষিতের দিগগজ আত্মম্ভরিতা,
এবার, পার তো আবার প্রশ্ন কর
"পরকীয়ায় কী এমন ক্ষতি হয় ?"

ভাল তো বাসতেই হবে ।
মানবজীবনে গতির প্রগতি বিনা
উত্তরণের আর দ্বিতীয় উপায় কোথায় ?
ভালবাসার উদ্ভাস যদি 
লোভ ও মোহের বশে
ব্যক্তিগত শুদ্ধাচারকে ছেড়ে যায়,
তবে এরপরও চিরকাল,
ঋষির অভিশাপে, ভাগ্যবান ইন্দ্রের 
"হা ভগ-বান" হওয়াই দস্তুর, বাধ্য নিরুপায় ।