বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮

বিধু-বদনী

পর্বতশীর্ষে সরোবর ।

এপার হতে বিপরীত তট ধোঁয়াশায় অদৃশ্য-গোচর !
মাঝখানে ভেসে আছে
অনাবিল দ্বীপ - মেঘে-ঢাকা সবুজের চরাচর !

যান্ত্রিক দূষণ হতে বহুদূরে,
উচ্চতরে, মুগ্ধতার সুচারু অবিনশ্বরে
সে মনসিজ উজান-দিঘী,
হংসমিথুনরা যেথা নির্ভয়ে চরে
শব্দের সৃজন-ছন্দ বরে
স্বপ্নিল সে জগতকে অহরহ শীৎকারে মেখে
প্রণয় তিয়াসের মরমী বাহুডোরে !

রাজহংসিনী সেথায় একাকী অপেক্ষায়
হৈমন্তিক উতলায় !
রূপান্তরের অপার্থিব দূত-সম
শৈত্যের অভিসারে চড়ে
পরিযায়ী বলাকার
হলো যে আসার সময় - এবারে !

সে বুঝি ভিন্ন গ্রহ হতে আসে ।
তার আগমন-মাত্রে
হূ হূ বেনোজলে বুক ভরে চাষে -
পুনরাবির্ভাবের সোঁদা সুবাসে
পরাণ-বীণায় দুরন্ত উজ্জ্বলতা ভাসে !

বসন্তের আগমনে
মসিতে শশীর কিরণ ঘোমটা খোলে !
আপনে, রচনে - আখরে আখরে,
সোনালী ফসল একে একে তুলে
গোলা ভরা নিশ্চিত তার হলে
"আসি" - ব'লে, পরিযায়ী আবার ফিরে যায়
পিছে রেখে অভিমানী রাজহংসীকে
বিরহের বাধ্য দীর্ঘশ্বাসে !

দিন যায় !
দিনকে বয়েই যেতে হয় কালে কালে ।
অগস্ত্য-যাত্রা ছিল না ব'লে
সুদিন ফের প্রতিবার ফিরেও আসে !
রাজহংসী-পরাণ সেই ফাঁকে
পারে না হয়তো লুটাতে নিজেকে
আপোষী স্বেদের মেদে
ক্ষণস্থায়ীদের
গতানুগতিক বাসে

উচ্চকণ্ঠী শহুরে ভেদে
নিত্যতরতার কূল-মানহীন আশ্বাসে ।

জন্মান্তরের অবিচ্ছিন্নতার দূরভাষে
সে বরং অপেক্ষাদের
আত্ম-উন্মোচনী সুবাস অধিকতর ভালবাসে ।

অপেক্ষারা একমাত্র জানে
এ প্রপঞ্চে, প্রমাণের পরিমাণে, -
পরাণে ফেরা জাগরণী-উদ্ভাসে
পরিণতির মধু সিঞ্চন-ক্ষম পরিণাম
লভ্যে অভিষিক্ত হতে পারে
সুন্দরে অনুগমনের সে বিরল অবসরে
প্রস্তুতির আপোষ-শূন্য প্রয়াসে ।
.