বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর মন সবসময়ে একই রকম থাকে না—সে পূর্ণিমা–অমাবস্যার নিয়মে
নীরবে পাল্টে যায়,
কখনও রূপালি জোয়ারের মতো ভেসে ওঠে,
আবার কখনও ডুবে যায়
অতল অন্ধকারের গভীর পোকার মধ্যে।
তার মন কখনোই স্থির নদী নয়—
বরং এক চলমান নক্ষত্রপুঞ্জ,
যার প্রতিটি ঝলকই
অন্য এক মহাবিশ্বের গোপন সংকেত।
কখনও সে দীপ্ত,
কখনও তার আলো ক্ষীণ,
কখনও সে হিমশীতল দীঘির মতো অচঞ্চল,
আবার কখনও ঝড়ের ভিতর দাঁড়ানো বৃক্ষের মতো
নিজেকেই ছিঁড়ে ফেলে।
নারীর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু যে—
তার কাছে নারী খুলে দেয়
সবচেয়ে অন্ধকার ঘরের দরজা,
যেখানে জমে থাকে
ভাঙা স্বপ্নের ধুলো
আর নীরব আর্ত চিৎকার।
সে ভাগ করে প্রতিটি মনখারাপ,
প্রতিটি দুঃস্বপ্ন,
প্রতিটি অব্যক্ত নিঃশ্বাস—
যেন অমাবস্যার কুয়াশার ভিতর
একটি কণ্ঠ তাকে পথ দেখায়
সেই জগতে
যেখানে ভাষাও নেই,
সময়ও নেই—
শুধু অনুভূতির গোপন প্রতিধ্বনি।
এবার বল, তুমি আসলেই তার কে?
হয়তো তুমি তার ছায়া,
যে তার রূপ বদলালে নিজের আকারও পাল্টায়—
চাঁদ ঢেকে গেলে তুমি ম্লান,
চাঁদ ফুটলে তুমি উজ্জ্বল।
হয়তো তুমি তার নীরব আয়না—
যেখানে সে নিজের অচেনা মুখটি দেখে
আর ভাবে,
"এই কি আমি?"
হয়তো তুমি তার পুরনো জন্মের সহযাত্রী—
যে তার সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়
তারকারাজির ভাঙা পথে।
অথবা তুমি সেই গোপন শব্দ,
যা সে উচ্চারণ না করেও
চোখের ভেতর লিখে রাখে—
তার সবচেয়ে কাছের স্বীকারোক্তির মতো।
হয়তো তুমি কিছুই নও—
হয়তো তুমি সবকিছুই।
জানো কেন?
কারণ যে মানুষ
নারীর প্রতিটি অন্ধকার,
প্রতিটি মনখারাপ,
প্রতিটি বাসনার দাহ
ধরে রাখতে পারে বিস্ময়হীন হৃদয়ে—
সে শুধু বন্ধু নয়,
সে তার মনস্তরের গোপন গ্রহ—
যেখানে নারী নিজের সব রূপ
নিঃসঙ্কোচে রেখে আসে।
এবারও যদি না বোঝো,
জেনে রেখো—
নারীর হৃদয় কখনো ভুল বলে না।