মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২

বেলাইন

একদিন সাচ্চা ভালবেসেছিল 
আর তাই নিত্য নূতন সম্প্রসারণে
নিজেকে উপভোগ করেছিল 
উদ্ভিন্ন সৃজনে,
নব কলেবরের নিরন্তর কলরবে ।
সে ছিল অঝোর বৃষ্টিতে
হাতে হাত ধরে দৌড়ে যাওয়া
উদ্দাম আনন্দের দিন ।

তবে, সে সাচ্চা প্রেমের ফাঁকে
লুকিয়ে ছিল যে না ফিরতে জানা
বেলাগাম অধিকারবোধ,
সময়েরর সাথে সাথে 
দাম্পত্যের প্রথম মাতে
শরীরের দেরাজ খুলতে শিখে গিয়ে,
তারা কালে কালে 
ব্যতিব্যস্ত ও অপ্রতিরোধ্য হলো ।

বিপরীতে যেহেতু ছিল না সাড়া 
দুনৌকা-জনিত আপোষে কোনওদিন,
ফলতঃ, একতরফা অবদমিত কামনা
উদভ্রান্ত করে তুললো আপন যাপন ।
অতৃপ্ত বাসনার মরীচিকা ভুলিয়ে নিল
অবধারিত কিংকর্তব্যবিমূঢ়তায় ।

পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে
বিচক্ষণতায় পাল্লা দিয়ে
নিজেকে বিলক্ষণ পাল্টে নিতে না পেরে,
কবি অতঃপর একটু একটু করে ডুবে গেল
ব্যর্থ কবিতার 
দ্বর্থক অনর্থের অনাবশ্যক চোরাবালিতে ।

সলতে ফুরিয়ে এলো অনুভবের আলোর,
ফিরে ফিরে আসা অমাবস্যার রাতে
অক্লান্ত দীর্ঘশ্বাসে ক্লান্ত উষার
ঊষর প্রতীক্ষায় ।

প্রসারতা

'প্রেম' শব্দটির প্রচলিত অর্থের আসেপাশে 
কোথায় যেন একটা হালকা আঁশটে গন্ধ
পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েই যায় ।

'ভালবাসা' শব্দটি সে তুলনায়
বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগ ও সহমর্মিতার বেশ কাছাকাছি ।

'অনুরাগ' শব্দটির ব্যপ্তি সম্ভবতঃ অধিক ।
অনুরাগ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নাও হতে পারে ।
তবে, তেমন গভীর আগ্রহ ও আকর্ষণ
অপ্রতিরোধ্যরূপে অনুভব করা বিনা
জীবনকে 
সুন্দরতরে উন্মোচন কদাপি সম্ভব নয় ।

একমাত্র অনুরাগের তীব্রতায় মানুষ 
নিজেকে প্রয়োজনানুসারে বিনির্মাণ ক'রে
স্বতঃপ্রণোদিত নবজনমের বিকাশে
অতীতের যে কোনও অসম্ভব ও দুর্লভকে 
পরবর্তীতে, পরিবর্তিত স্তরে, একটু একটু করে 
ক্রমশঃ বাগে আনতে পেরে 
অবশেষে একদিন 
সম্ভবে পরিনত করতে সক্ষম হয় ।

এ জগতে যে কোনও মানুষ
আন্তরে বান্তর হতে চাইলে নিবিড়তরে,
একদিন বাস্তবে, অতীতের
অসহায় সীমাবদ্ধতাদের ছুঁড়ে ফেলে 
হাসতে হাসতে এক জনমে
ফিনিক্স এর মত, আপন অস্তির 
একাধিকবার
সুন্দরতর সংজ্ঞা রচনা করতে পারে ।
.

শুরুর বাঁশি

লক্ষ্য একবার স্থির তথা অবিচল হলে
অতঃপর সব বিভ্রান্তির ঘুরপথ ছেড়ে
কর্মের অভিমুখটি
সোজা এবং সরাসরি হতে হবে ।

এগোতে গেলে বাধাও থাকবেই ।
প্রতিটি বাধার উপরে রিসার্চ এর কাজ
যত দ্রুত সম্পন্ন হবে,
তত সহজে তাকে অতিক্রম করা যাবে ।

এই বোধটুকু স্বচ্ছ হলেই 
চরৈবেতি, তথা গতি, দিব্যি স্বাধীনতা পাবে ।

ওহো, ভালো কথা !
তুমি কি দম নেওয়ার জন্যে দাঁড়িয়ে পড়েছো ?
নাকি, তোমার ভোগের আর দুর্ভোগের বাকিরা
মোটেই ছাড়তে রাজি নয় তোমাকে এখনও ?