মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

সোজা কথা

অতি সাধারণ একটা মানুষও

দেদার ভালবাসতে পারে ৷

ব্যবসায়িক বিনিময় প্রথার উপরে 

নির্ভরশীল না হলে, হাত পাতার নেই দায় !

দাতার প্রতিদানে অনপেক্ষা 

ভালবাসাকে স্বাধীন ও শুদ্ধ আত্মনির্ভর করে ৷


প্রকৃতি থেমে নেই কখনো ৷

"তুমি পিছিয়ে, না এগিয়ে"

সেখানে নির্ণিত জীবনে সফলতার মান ৷


"ভালবেসে ঠকে গেছে" - যে বলে,

সে অধিকারের বৈশ্য অভিরুচি !

প্রকৃত দানের লাভের খাতায়

উদ্দীপনার জোয়ার 

অবিরত বাড়তেই থাকে সঞ্চয়ে,

তুমি যাকে লাগাতেই পারো

অপ্রতিহত ত্বরণের কাজে

যাপনের ভাঁজে ভাঁজে

আপন উজ্জ্বলতার বৈপ্লবিক জয়যাত্রায় ৷

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

সো-অহম

স্থির দৃষ্টিতে, বেশ অনেকক্ষণ,

সোজা তোর দিকে তাকিয়েছিলাম ৷

জানি, মানে বুঝিস নি তুই !

আমারও উপায় ছিল না !

সব আশ্চর্যে 

ঠৌঁটের গোড়ায় শব্দ জোগায় না ৷


ভাইটা বয়সে আড়াই বছর ছোট ছিল ৷

ছোটবেলা থেকে সখ - মিলিটারি হবে ৷

এমনই এক সকালে, সাত বছর আগে,

খবর এসেছিল 

বর্ডার থেকে আর কখনো 

নিজের পায়ে বাড়িতে ফিরবে না ৷


তুই ভালবাসতিস ব'লে, আর 

অন্য কাউকে মেনেই নিলি না ৷

অথচ তারপরও প্রাণ খুলে হাসতিস !

সে উজ্জ্বলতাকে, অদ্ভুত ব্যাপার,

আমাদের অন্তঃসলিলা বিয়োগ-ব্যথা দিয়ে

একবারও রোখা যেত না ৷


তারপর থেকে যেন, আরও বেশি ঘন ঘন

আমাদের বাড়িতে আসতিস ৷

ভাইয়ের অভাব জানতে দিবি না ব'লে ?

জানি না ৷


গতকাল, যে কসমেটিক জুয়েলারীটা

আমার জন্য এনেছিলি,

সেটা নিজে হাতে

আমার গলায় পরিয়ে দিতে

যখন ঘেসাঘেসি কাছে চলে এলি,

তোর শীতকালীন যত্ন নেওয়া পেলব ত্বকে

এসেন্স এর গন্ধে ঢাকতে না পারা,

না, এ পাঠে ভুল হতেই পারে না,

বহুদিনের স্মৃতিকে আচমকা নাড়া দিয়ে,

খুব স্পষ্ট করে,

কৈশোর-কাল থেকে আমার অতি-পরিচিত

ভাইয়ের ঘামের গন্ধ পেলাম ৷


প্রথমবারে, বিশ্বাস না হওয়াতে,

দুহাত দিয়ে বুকের কাছে টেনে

তোর নারী-শরীর

ফের ভাল করে বারবার শুঁকে 

অবশেষে, বাধ্য নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম ৷

বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

ধন্দ

আমার হাত দুটি ধরে

বিপরীত মুখে টানছে

একে একে, একা যত

সমর্পণের আকুতিরা !

তাদের জানা দুটিমাত্র ভিন্ন ভাষা -

"ভালবাসি" আর "শোবে এসো" !


এক দিক হতে - যে সততই নির্দোষ ভালবাসা,

( যার উদ্ভাস 

সৃষ্টি আর পুনর্জনমের আলোকে ),

অপর দিক হতে - সে ই সুখের মোহ, 

( যার অবশেষ-নিয়তি

অবক্ষয়ে অন্ধকারচ্ছন্ন লয় ) ৷

সে নিজেই খুঁজে পায় না তফাৎ -

আপন যুগল বিপরীতমুখিতার !


দুদিকই সমানতালে আশাবাদী,

পুরোটা অবশ্যই পেয়ে যাবে 

একার অধিকারে

কোনও এক বিরল সুসময়ে ৷


ছিঁড়ে যাচ্ছি প্রতিটিবার

ক্রমশঃ, আরও কিছুটা করে

বিভাজনের যন্ত্রণা সয়ে সয়ে ৷

বাধা হয়ে দাঁড়াবার মত

ছেঁড়ার আচমকা শব্দ 

জোটে না এ পীড়নে -

প্রতিবাদে বা আর্তনাদে ৷


একই জন্ম-নক্ষত্রের নয় ব'লে,

তারা কেউ বুঝবে না, এও জানি,

বাধ্য মৌনতার গগনবিদারী ভাষা ! 

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

চরৈবেদ

মাঝেমাঝেই নিজেকে এখনো

সদ্য হাঁটতে শেখা শিশুটি মনে হয় ৷

জীবনের কত যে অচেনা অজানা পথ

অনাবিষ্কৃত রয়ে যাওয়া আজও !

নিত্য-নূতনকে হেঁটে চিনে নিতে গিয়ে

'টাল-মাটাল পায়ের বেঁটে বামুন' -

বোধটি জাগে অন্তরে ৷


তোমার প্রতিটি ভুলও

প্রতিটি ঠিক এর সাথে, হাতে হাত ধরে,

সমানতালে শিক্ষক হতে পারে

পৃথিবীর মানুষের কাছে ৷


কেবল শরীরে 

বারংবার আটকে পড়ার পরে

নিজেও কি জানতে পারো,

আতিথেয়তার অতীব প্রত্যন্তে

কত যে নূতন দর্শন সম্ভব হতে পারে -

প্রতিনিয়তই,

কি ভাবে শিখিয়ে যাও যত্ন করে,

অনাগত তুমি,

যখনি অতিথি হতে পা বাড়াও

আমারই ঐকান্তিক ইচ্ছার তীব্রতায় 

ভালবাসার ফসল হয়ে,

ঢুকে এসে হাত পা ছড়িয়ে

আরাম করে বসো কেদারায়

আমার এ ভিতরের ঘরে ?

.

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

কেন এমনটাই

ভালবেসে ফেলি, কারণ - তোমার বর্তমানটিতে,

ব্যক্তিত্বে, অনুভবে আর ইচ্ছাশক্তির বিকাশে,

বিবর্তনের অমিত সম্ভাবনা দেখতে পাই ৷


তবে,

তোমাকে আরও উনিশটি নারীর পাশে

একযোগে নগ্নিকা রূপে দাঁড় করিয়ে দিলে

পৃথিবীর প্রতিটি সক্ষম ও অক্ষম পৌরুষ 

ভুল শুধরে নেবে ৷ বলবে -

"নাঃ, তোমাতে - এক্ষেত্রে অন্ততঃ

এমন কিছু আহামরি পার্থক্য নেই ৷"


শরীরটি স্থুল ব'লে, 

এমনই কম-দামী ব্যতিক্রম !

তোমার ত্রিমাত্রিকটিতে 

এরপরও আগ্রহ 

থাকতে কি হবেই হবে ভাই ?

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

আদেখলা

 কিছু দম্পতি বেয়াদব অতি 

হাভাতেপনায় সদা সম্মতি !

মানে না বড়, মানে না ছোট,

আদেখলাপনাটাই মনের মত 

তাদের ঘরে ভুলেও যেওনি যেন

"অশ্লীল" ব'লে পালাতে হবেই জেনো

শিক্ষার পাপ তাকে ভাববে যৌনতা

আসলে সে ছিল ঘোর নিমগ্নতা


ফসল তুলবে তাদের সন্তানরা 

ভালবাসতে শিখে বড় হলো যারা

তারা যেদিন অ্যাডাল্ট হবে

মানুষকে হাঁ করে তাকাতে হবে 

স্বার্থ যে সমাজে রোজ চারবেলা

সেখানে জাগাবে উদারতার মেলা

ভালবাসার চাষে ফের ভরতে ধরা

তাদেরই ডাক পড়বে ত্বরা

মনুষ্যত্বের সে ফেরিওয়ালারা 

জগতে ফেরাবে ফের বৃষ্টিধারা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০

শারদ-শুভ্র

ভাল তো বাসা বাসর গড়ার কালে,

হাতে হাত ধরে, দুজনে মিলে, 

পরাণ ভরে চাষ করবো ব'লে !

রোজ রোজ স্নান রইবে অপেক্ষায়,

প্রস্রবণের জলে, তুমি মাটি হলে !


বীজ ? সময় বুঝে নিজেই নিও চেয়ে

আগমনীর কাশ হলে,

না গিয়ে অভিমানের মিছিলে,

নিসিক্তির টানে - যদির গর্ভ জুড়ে 

ব্যাকুল দোলা জাগিয়ে দিলে !

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

অপার্থিব

খোঁজ ?


জীবন-শিল্পীর আপন নির্ঝরে 

উপর্যুপরি ভেজা রোজ রোজ !


ছিল না তেমনও সোজা 

কমাতে অপরে-আসক্তির বোঝ ৷


পাওনা গণ্ডা - মিঠাই মণ্ডা,

সে তো আম-জনতারও দোজ !

মিল

হিসেবে আগ্রহ ছিল না ! তবু

শুরুতে আসমান-জমিন ফারাক ছিল !


মাঝের খানাখন্দ

একে একে সব ভরাট হয়ে

কখন যেন ময়ূরপঙ্খীর অধিক

নমনীয় আর মসৃণ হয়ে গেল !


জীবন-নদী মনের আনন্দে তাই

ভাসতে ডেকে নিয়েছিল ৷

একে একে নাওয়ে উঠেছিল

যতনের জোরে জুড়ে যেতে যেতে 

অতীতের 

খাপছাড়া সংসারের টুকরোগুলো ৷

নির্ভর, ক্রমশঃ, সব পরিসরে

বাড়ার সুযোগটুকু পেয়েছিল ৷


ভালবাসা দুপারেই 

সমান হারে, অন্তর হতে,

অকৃপণ শুধু হতে চেয়েছিল ৷

.

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সুখ ও আনন্দ

মানুষ আত্মহত্যা কেন করে ?


কল্পসুখের মোহে 

ভালবাসার ভুল ব্যাখ্যায়

বাস্তব হতে সরে আসতে আসতে

একসময়ে পায়ের তলে

দাঁড়ানোর মত শক্ত মাটি

আর একটুও খুঁজে পায় না ব'লে ৷


মানুষ আত্মহত্যা কখন করে ?


স্বার্থপর স্বভাব,

অন্যের ইচ্ছাকে না বুঝে

আর গুরুত্ব না দিয়ে দিয়ে,

আনন্দের প্রতিটি উৎসকে খুইয়ে ফেলে,

কেবল আত্মকেন্দ্রিকতার নেশায়

সময়কে ঠকাতে ঠকাতে,

নিজেকে জীবনের কাছে

একদিন উপযোগহীন মিথ্যার সম্ভারে

পরিণত করে ফেলে ব'লে ৷

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিশ্ব-শ্রেষ্ঠ

এ জগতের চিরন্তন নিয়মে

প্রতিটি মানুষ 

এক একটি বিবর্তনশীল দশা মাত্র !

তুমি আমি সকলেই তাই ৷

স্থায়ী বলে আমাদের কিছুই নাই !

যার সবই অদূরে ক্ষয়িষ্ণু

তার কোনও অহঙ্কার কি সত্যিই মানায় ?


তবুও ব্যতিক্রম যে আছে !

কেবল রবীন্দ্রনাথ পূর্বসূরি ব'লে,

অনুভবের অগাধ ঐশ্বর্য্যে,

আমি দুই হাজার দুইশো বত্রিশ রকম উপায়ে

ভালবাসতে শিখেছি গীতবিতানের কাছে !


ভেবে দেখেছো কখনও ?


ভালবাসার সে নিত্য-নূতন রাজপ্রাসাদ রচনায়

তোমার সাড়া প্রতিবার চাইতে পারা -

আমার কাছ থেকে

ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা 

এ জগতে কোনও শক্তিধরের নাই ৷


হ্যা ! আমি অহঙ্কারী ৷

সারা পৃথিবীর 

আর কোনও ভাষার উত্তরাধিকারে

এই ঐশ্বরিক সম্পদের ছিঁটেফোঁটা আর কোথায় ?


কূপমণ্ডূক-কুল যুগ যুগ ধরে

অনভিজাতর সতত দৈন্যে, ব্যস্ত থাকুক 

অবনত-মুখে, 

দেশী ও বিদেশী অবাঙালীর পদলেহনে ৷

ক্রীতদাস-রুচিতে রাজাকার-সুলভ

জারজ-ধর্ম আবশ্যিক হতে হয় ৷


বস্তুতান্ত্রিকতার জগতে, স্থুলত্বের বেঢপ প্রতিযোগিতায়,

আর্থিক স্বীকৃতি যদি অপ্রতুলও হয়,

মানবিকতার এমন অফুরন্ত নির্ঝরে, 

অনুভবের সাবলীল পারাপারে,

সম্রাটের নীল রক্তের ব্যতিক্রমী আভিজাত্য,

অকপট আত্মশ্রদ্ধাশীলতার চাষে শুধু

গর্বিত বাঙালীর চৈতন্যে রইতে পায় ৷


সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

স্নান

অভিমানের পরে

মান-ভাঙানো আদরে

ভালবাসার লক-গেট

হু হু জোয়ারে খুলে গেলে,

হাসতে হাসতে 

আঁখির নরমে হারাতে

দুবাহু বাড়াতে

কী যে ভালই না লাগে !


অভিমান আমাকেই ভাঙাতে হবে ৷

কিন্তু তখন কম যাও নাকি

তুমি কিছু, প্রতিযোগিতার ভাগে ?


কে ভাসবে আর ভাসাবে

কার আগে ?

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অসম্পূর্ণ

ভরে আছে ঘর

থরে থরে জমিয়ে রাখা

টুকরো কাগজে ৷

প্রতিটিতে

অংশতঃ কবিতা লেখা !


অসম্পূর্ণের আড়ৎ !

শুরু হয়েছিল প্রবল আগ্রহভরে !

মাঝপথে শুকিয়ে গেছে কলমের কালি !


শুষ্কতা ছুঁতে পারে না যাকে

তার জন্য অধীর

প্রতিটি বধির অসমাপ্তি !


সে এসেছিল, থেমেছিল,

তাকিয়ে দেখেছিল,

তারপর ধীর পায়ে চলে গেছে ৷


কাঁচা পাণ্ডুলিপিদের তাই

সার্থক-জনম পরিগ্রহণ

রয়ে গেছে আজও অপেক্ষায় !

চাহিদা

তুমি চাও কেউ তোমাকে

ঠিকঠাক বুঝুক !
বুঝুক তোমার না বলা
ইচ্ছা আর অনিচ্ছাদের,
জীবন যেন সহজেই গতি পায় !

এই বোঝা
বুদ্ধি-বিচারের কাছে
অনন্ত বোঝা ৷

অনুভব প্রাণের পরশ,
মাতৃত্বের সহজাত ৷
যুক্তি-সর্বস্ব মনের লভ্য নয় ৷

তফাৎ বোঝ না আজও, তাই
বারেবার হারাও উপেক্ষায় ৷

আকাশ

নিজে থেকে, কাছে ডেকে,

পাত পেতে বেড়ে দিতে পারো 

সপ্ত ব্যাঞ্জন !


গ্রহণ তৃপ্তি দিলে - স্বীকৃত চমৎকার !

তারপরে উঠে পড়তেও

সামান্যই সময় লাগে !

যাকে যখন যেটুকু ভালবেসেছো

তার থেকে বড় সত্য

সৃজিত-সুন্দরে

সে মুহূর্তে কিছুই ছিল না আর ৷


সময় হাসিমুখে চলে গেছে এগিয়ে 

স্বাধীনতার অবিরত মহোৎসবে !

সেদিনের সেই গানটি অলখে

একটু একটু করে পুরানো হলেও

রয়েও গেছে স্মৃতির ইউ-টিউবে  

তোমার অন্তরে আদিগন্তকাল ৷


সত্যকে সহজিয়া মেনে নিলে,

বুঝতে পেলে -

ইচ্ছারা বাঁধা ছিল না যেমন

তোমার প্রকাশে সেদিন,

সে ও ঠিক তেমনই সুরে, 

মোহটুকু টুটে গেলে,

পায়ে পায়ে ফিরে যাবে ফের

স্বাধীনতার অবাধ মুক্তির দিশায় !


প্রতিটি ভালবাসা তাৎক্ষণিক সত্য !

মোহের লেজটি, অবশ্য, দীর্ঘকাল !

না হলে যে, 

হাঁপিয়ে উঠবেই ক্লান্ত জীবন ৷


উল্লাসের অনন্ত হাতছানি এড়িয়ে

পোষা ছাগলের মত

বাঁধা থাকতে আসেনি এ পৃথিবীতে 

কেউ চিরতরে কারও একার !

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

মধ্যপন্থা

ভালবাসতে গেলেই, এক পাওনাদার

কোন চুলো হতে যে এসে
ভূতের মত উদয় হবে !

পদে পদে প্রশ্ন করবে -
"লাভের খাতায় তাহলে বল
নূতন আর কি লেখা যাবে ?
পাওনা-গণ্ডাদের কোন কোন সুযোগে
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আউড়ে দিতেই হবে ?"

ভালবাসতে গেলেই
ভালবাসার উজ্জ্বলতাকে আড়াল ক'রে
কোথাকার এক উটকো পাওনাদার
প্রবলতর বিক্রমে
লাভ-ক্ষতির পাটিগণিত নিয়ে
বসে যাবে ৷

কত আর ক্ষুধার সাথে
লড়াই করবে সরল মানুষ ?
অধিকাংশে, শেষ অবধি,
পাটিগণিত, দাঁতকপাটি বের করে,
বিজয়-পতাকা হাতে তুলে ,
বীর-বিক্রমে
হারিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যাবে ৷

আর ভালবাসা ?
সে বেচারা
অনধিকারের বিদ্রোহে পরাজিত তখন,
নিরুপায় চুলোর দোরে ঠাঁই নিয়ে
অবশেষে বাকরুদ্ধের
বারংবার ডুকরে ওঠায় বর্তাবে ৷

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

চিরন্তন

প্রবৃত্তিরাই অসুর, 

অদূর এবং পরস্পরবিরোধী !

রিপুজাত তারা, অধোগামী ইচ্ছাকে

বহুবিভক্ত করে করে,

শত-ভঙ্গুরে - বাধ্য প্রতিবন্ধী

ও ক্ষয়িষ্ণু তোমাকে

আসক্তিতে ভুলিয়ে, 

প্রতি পদে নিঃশেষিত,

প্রকৃতির শৃঙ্খলিত দাসানুদাস

তথা যোগ্যতা-শূন্য ভিক্ষুক

প্রমাণ করতে 

বদ্ধপরিকর রয়ে গেছে !


স্রষ্টাও, যতটা বাইরে,

তার চেয়ে বেশি অন্তরে,

অনুভবে আছে !

সে তোমারই চিদাকাশে

দূরদৃষ্টির সুবাদে স্থিরলক্ষ্য,

এক ও অভেদ !

সুদূর ব'লে বক্রতায় বন্ধ-প্রান্ত নয়, 

সে ব্যতিক্রমী সরল, তাই অসীম ৷

প্রকৃতি-জাত

প্রতিটি প্রলোভনের বিরুদ্ধে

সংযমের ক্ষয়-মুক্তির অভ্যাসে

সে তোমাকে ঊর্ধ্বাচারীর 

অপার স্বাধীনতা চেনাতে আছে !


মোহ হতে ভালবাসায় 

নিঃশর্ত সমর্পণের পানে 

মুখটি ঘুরিয়ে নিয়ে,

বসে না থেকে

চলবে যত নিরহঙ্কার আত্ম-তেজে,

ভেদের বিরুদ্ধে অভেদকে চেনাতে

স্বচ্ছতরতার অধিকারে

জাগ্রত-রূপে পাবে তাকে

আপন অন্তরে

গভীরতার সে অনাবিল প্রান্তরে

পায়ে পায়ে, ক্রমশঃ কাছে ৷


যুক্তিবাদ, সামান্য বুদ্ধিবলে,

জানবে না কখনো

কে তোমাকে অমর করেছে !

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

আভিজাত্য

বিদ্যুতের আলোয় 

মানায় না যাকে তেমন,

সে মোমবাতির নরম আলোটি পেলে 

দেখবে ঝলসে যাবে 

রূপের বৈভবে ৷


পরাণের ঘরে, রোজ আদর-ভরে,

একে একে সব মোমবাতি

ফের জ্বালিয়ে দেওয়াই নিয়ম,

উৎসবই যদি হবে !


তাৎপর্য পরীক্ষা করবে ?

করতেও পারো -

প্রিয়কে তবে 

ক্যাণ্ডেললাইট ডিনারে

একান্তে ভাগীদার ক'রে নাও - 

আগত বাস্তবে,


পালঙ্কের

ফুলের ঢেউয়ে উপচে ভেসে যাওয়ার

সুসময় আগত যবে যবে !

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

সঙ্গোপনে

শোষণ আর ধর্ষণ
বিবেককে না এড়াতে পেরে
একদিন লজ্জায় মুখ লুকাবে !
মানুষ নামক প্রতিটি প্রাণীর
ন্যূনতম বাঁচার তাগিদে
ভরা রইবে জঠর ৷
প্রেমসুধারস নতুন করে
সক্ষম হবে
প্রতিটি দীর্ঘকালীন শত্রুতা গলাতে ৷
নিশ্চিত নিরাপত্তার
হাত ধরে ঠোঁটে ঠোঁটে ফিরাবে
অকৃপণ হাসি !
"উলুবনে মুক্তো ছড়ানো"
আর "ভালবাসা"
সমার্থক শোনাবে না কোন কানে ৷


সে সমবেত আমন্ত্রণে সহযোগ দিতে
সে শুভক্ষণে
তোমাতে আমাতে দেখা হওয়াই যা বাকি ৷

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

ন হন্যতে

সম্ভাবনার প্রতিটি অঙ্কুর 
প্রাপ্য আহারটুকু না পেতে পেতে
অসহায় মরে যাওয়ার পরে

শরীর, মন, প্রাণ
সবাই একে একে জবাব দিয়ে দিলে

সব আশা ফুরিয়ে গেলেও
তারপরে যা অবশিষ্ট থাকতেই হয়

সে হলো আত্মা-উদ্ভূত
মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি

যে একবার উঠে দাঁড়ালে,
এক ধাক্কায় 
হাট করে খুলে দিতে পারে
সব বন্ধ দরজা জানালা,
ঝলসে দিতে পারে প্রতিটি অস্বচ্ছতা,
ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারে
বাধা-জনিত প্রতিটি ভয় ৷

আত্মবিশ্বাস 
প্রবল বিক্রমে ঘরে ফেরে ৷

অমরকে 
এভাবেই প্রতিটি ফিনিক্স জনমে
নতুন করে জিততে জানতে হয় ৷

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

স্থিত

বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়া সারা জীবন ধরে একপ্রকার অব্যহত থাকায়, ভালবেসে একের পর এক আগ্রহহীনতা পেতে পেতে, জীবন সম্মন্ধেই উৎসাহ বেশ কমে গেছে আজকাল পরমার ৷ মেয়েবেলার অবিশ্রান্ত খিলখিলিয়ে হাসি এখন অতীত স্মৃতি ৷

সরকারী চাকরীর সুবাদে খাওয়া থাকা নিয়ে চাপ নেই কোনও ৷ ভবিষ্যতেও থাকবে না ৷ তবে জ্যান্ত মানুষের তুলনায় রামকৃষ্ণ কথামৃত নিয়েই আজকাল সময় কাটে বেশি ৷ এর সাথে যোগ হয়েছে ছুটির দিনে সুযোগমত দক্ষিণেশ্বর বা বেলুড়মঠ যাওয়া !

সেদিনটা বেলুড়মঠের ছিল ! জি টি রোডে নেমে  গেটের কাছাকাছি আসতেই বিদ্যামন্দির পেরিয়ে হাতের বাঁদিকে খাবারের স্টল ৷ এক মোটা অবাঙালি আর তার সমানতালে স্ত্রী ব্যস্ত সুস্বাদু খাদ্যের সাথে মুখগহ্বরের সংযোগ ঘটানোয় !

পাশে দুই সন্তান, খাদ্য সম্মন্ধে সম্পূর্ণ নির্বিকার হয়ে, প্রবল ব্যস্ত নিজেদের খেলায় ! বয়স দুজনেরই সম্ভবতঃ আট এর কম ৷ খেলাটিও মনে হলো তাৎক্ষণিক আবিষ্কার ৷

বড়টি, ছোটটির মাথায় হাত দিয়ে যতদূর সম্ভব লাফিয়ে উঠছে "ভেলপুরী" বলে চেঁচিয়ে উঠে ৷ তারপর ছোটটি বড়র মাথায় হাত দিয়ে লাফিয়ে উঠছে "বাটাটাপুরী" বলে !

এরকম ক্রমান্বয়ে বার তিনেক হওয়ার পরে দুজনে দুজনকে জড়িয়ে হাসতে হাসতে প্রায় লুটিয়ে পড়ছে মাটিতে ! তারপরে ফের পরের রাউণ্ডের লাফানো শুরু !

অজান্তেই পরমার মুখে ফুটে উঠলো এক চিলতে হাসি ৷ হাঁটার দিশা গেটের দিক থেকে সামান্য বাঁদিকে সরে, ওদের কাছাকাছি এসে আটকে গেল ! 

একটু পরের দৃশ্য - প্রতিবার লাফানো শেষ হলে প্রাণ খুলে হাসছে তিনজন ৷ মোটা দম্পতি খাওয়া থামিয়ে পরমা আর নিজের সন্তানদের দেখছে, তারপরে বোকার মত হেসে ফেলছে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ! বাচ্চাদের অবশ্য ভ্রুক্ষেপ নেই ৷

পরমার হাসতে হাসতে হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো চোখ ! আরে ! তাহলে, ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের উপরে তো আদৌ নির্ভর করে না জীবনের আনন্দ ৷ বাঁচার উৎসাহকে পার্থিব স্বার্থের বাইরেও দিব্যি খুঁজে নেওয়া আজও যেতেই পারে !

পরমা আর এগোলো না বেলুড়মঠের গেটের দিকে ! পেছন ফিরলো ৷ বুকের মন্দিরে তবে কি সে দেখতে পাচ্ছে অবশেষে, অ, উ, ম, এর দিব্য অবতরণে, আনন্দ, প্রেম আর শান্তির নিরুদ্বেগ স্বতঃস্ফূরণ ? বাইরের পার্থিবকে তাই তৎক্ষণাৎ গৌন হতে হলো ? 

তাকে, তবে, আগলে রাখতেই হবে এ জাগরণ - এবার থেকে ৷ এ দীপশিখাকে আর হারাতে দেওয়া যাবে না কিছুতেই ৷

হঠাৎই গুনগুনিয়ে উঠছে মনে - একের পর এক পূজা পর্যায়ের রবীন্দ্রসংগীত ৷ পঞ্চাশোর্ধ পরমা প্রায় লাফাতে লাফাতে সোজা বাড়ি ফিরে এলো ৷

রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

একলা আষাঢ়

পাতার আড়াল খুঁজে
বারবার সরে সরে গিয়েও
অবাধ্য বৃষ্টির জলকে
যখন রোখা গেল না আর,
ধুয়ে অবশেষে যেই দিলোই
কবিতার অনাবিল স্নানে,

তখন পাখিটা সহসা 
নিগূঢ়ের অপর্যাপ্ত আসঞ্জন ছেড়ে
সাহসের ডানা মেলে
উড়ে গেল 
পাকা দালানের ঘুলঘুলির
নিশ্চিত আশ্রয়ে !

যদিও,
প্রপাতের পূর্বমুহূর্তটিতে 
হাজির হতে পেরে,
আর সামান্যই মাত্র বাকি তখন - 
জয়ের চুড়ান্ত প্রান্ত ছুঁতে,
বানভাসির মরীয়া অভিমানের !

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০

প্রজ্ঞা-পারমিতা

কিছুটা প্রাণোচ্ছল স্বেচ্ছা
আর বাদবাকিটা,
এমনকি, হয়তো সহবাস অবধি,
বাধ্য অনিচ্ছুক আপোষ
অপাংক্তেয় বিহ্বলে !

মানুষ আপ্রাণ বেঁচে চলেছে
দিনের পর দিন
ঠিক তার মাঝখানটি দিয়ে 
হেঁটে-চলে !

বাধ্যতা-রা 
কাউকে প্রবল বিব্রত করে,
কাউকে অপেক্ষাকৃত কম,
সময় - মাপকাঠি হাতে নিয়ে এলে !

ইচ্ছার স্বনির্ভরতা আর
পরাণের স্বাধীনতা সম্মন্ধে
যে অধিকতর ওয়াকিবহাল,
সে মুখের হাসিকে
ধরে রাখতে জানে অবিচল
তখনও -

অসময়-জনিত নিষেধ
অপরাপরদের পানে 
টুঁটি টিপে দম বন্ধ করে দিতে
আবির্ভূত হলে !

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

দ্বিমাত্রিকতার দ্বন্দ্ব

একটি অনুভূমিক
আর একটি উল্লম্ব পথ
চলে গেছে
প্রতিটি ইচ্ছুক প্রেমের মাঝ বরাবর !

অনুভূমিক পথটি অনায়াস ও হ্রস্ব !
এক হতে অপরের
অবয়বে পৌঁছেই শেষ হতে আছে !
পরদিন আবার 
প্রায় একই দৃশ্যের অবতারণায়
শুরু হতে শেষ 
আরও একটু যেন বেশি কাছে !

তা বেশ, তা বেশ !
কিন্তু কতদিন আর
ডাল মাখা ভাত
ভীষণই নূতন স্বাদের মনে হতে আছে ?

উল্লম্ব অপর পথটি 
যদিও চড়াইয়ের কষ্টের ডাক,
তবে সে পথ
খোদ প্রেমকে উত্তরণে ডাকে
নিজেদের ছাড়িয়ে,
মানুষ যখন পরিযায়ী হতে শেখে -
সম্পর্কের ক্রমবিকাশে,
হৃদয়ে - শুদ্ধ আত্মবিশ্বাসের সাহসে,
স্বাধীনতার বরে,
সম্পূর্ণরূপে তৃতীয়
সুন্দরতর কোনও জগৎ- এর
প্রত্যক্ষ আবিষ্কারে,
প্রতিনিয়তের বিবর্তনে,
ক্রমশই আপন তরুণতরকে
আপনে ঈশ্বর-রূপে
জন্ম দিতে পারার অগাধ আশ্বাসের
শ্বাসে শ্বাসে !

আর যে অলস-রা আটকে পড়েছে 
মূলতঃ অনুভূমিকে,
তাদের নিয়তি 
শেষ অবধি সমানতালে
বাধ্য হতাশা-দীর্ণ হতেও আছে !
.

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

প্রাণস্তত্ত্ব

ভীষণ ব্যস্ত জীবন সে এক
ঝলোমলো 
সবই যেচে জানাতো - সে যে
ভীষণ ভালো !

ভাল সে তো ছিলই সদা 
সর্বদিকে
সে হাসির বাঁশি জনে জনে মনে
পুষেই রাখে ৷

শিল্পী যেহেতু ছিলও সে সমানে
পরাণ ভরে
শিল্প অগত্যা পরাণ আঁকলে
কি আর করে ?

গানগুলি তার গান ছিল না
ধ্যান ছিল যে
আপন গোপনে সুরের শরে
উঠতো বেজে !

সে স্বর দোলা জাগাতো যার
অন্তরেতে
খুঁজো না তাকে ! পাগল ব'লেই না
উঠতো মেতে !

রবিবার, ৭ জুন, ২০২০

টান

এক যে আছে তেপান্তরের মাঠ,
কিচ্ছুটি না বলে, সকাল হলেই,
সন্তানের মত
রোজ এসে সেঁধিয়ে ঢুকে পড়বেই
আমাদের ঠিক মাঝ বরাবর !

আমাদের উতলে তখন
দূর হতে
বাধ্য হাতছানিটুকুই ভরসা !

ক্রমে ক্রমে সয়ে এলে,
মাঠ তারপরে আদুরে অভিমানে বলে -
"ছানি যে আজও পড়েনি ভালোবাসার চোখে
সে প্রমাণের দায়টি 
আর কে নেবে এমন করে বল ?"
.

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

আশ্রম

সে সময়টি এককালে ছিল ৷
এখন উঠেই প্রায় গেছে ৷
মহৎ সঙ্গীত-শিল্পীরা 
দশক অতিক্রান্ত নাড়া বাধতেন 
সুরের সাধনে গুরুর কাছে !

বিবাহকে নাড়া বাঁধাই মনে হয় আজও -
একের সুর অপরের শিক্ষায়,
শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার বিকল্প-শূন্য সহযোগে,
যুগলবন্দীর শিক্ষায় !

ছাত্র - প্রকৃতই হতে পেলে,
সম-পরিমানে ইচ্ছুক হলে,
সম্পর্কও প্রাপ্ত-বয়স্ক হতে জানে
সময়ের সাথে !

আত্মপ্রতারকের অন্ধত্বে অভিশপ্ত এ যুগ !
তেমন আঠেরোটি বছর
একে একে পেরিয়ে গেলে, 
তারপরে, বুকে হাত দিয়ে,
হতাশের হূতাশনে
বলুক তো একজনও
"শিক্ষা - শেষ অবধি বিফলে গেছে" ৷

সোনা-মন

নিজে দেখিনি কখনো,
তবে লোকে বলে -
অজগর খাদ্যের দিকে তাকালে
তার দৃষ্টিতে থাকে
সত্যিকারের ভালবাসার জাদু,
যা, খাদ্য প্রাণীটিকে এতই নিশ্চিত করে,
যে, সে নিজেই নিকটস্থ হয়ে
সাপের মুখে আশ্রয় খোঁজে !

মানুষও মানুষকে ভালবাসলে
না জেনে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে,
তাকে কোন না কোন ভাবে
গ্রাস করে
পুরোপুরি আত্মস্থ করতে চায় 
সুযোগ যোগে পেলে ৷

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

প্রশ্ন

সারা পৃথিবীর মধ্যে
সুন্দরতম জাতির নামটি বাঙালি,
এ আত্ম-শ্রদ্ধার বিরল সুবাস
বিশ্বাসের সুগভীরে 
তার কি সদা-সর্বদা জাগ্রত থাকে ?

জীবনকে, সুখ, দুঃখ ও দায়িত্বের
প্রতিটি পদে পদে,
কি ভাবে, একমাত্র সুন্দরের শর্তে
নিরন্তর যাপন করতে হয়,
সে শিক্ষাটি, আপন জীবনে,
এক যে ছিলেন অবিরাম মহামানব, 
আ মরি বাংলা ভাষায়, থরে থরে
উজাড় করে দিয়ে গেছেন

আমাদের নির্বিশেষে রবীন্দ্র-ধন্য হতে চাওয়া
আর পারার গর্বিত উত্তরাধিকারে,
মায়ের পরাণ-স্পর্শী ডাকে ?

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

সম্পর্ক

মানুষ তো অনেকই এলো গ্যালো,
একবার পাখিকে ভালবেসে
বাড়ি নিয়ে এসো !
ভালবাসলে খাঁচার পোষ্য করবে না তাকে,
বরং স্বাধীনতা দেবে,
অধিকতর মুক্ত বিচরণের অধিকার ৷

সে ভরসাটুকু পেলে
ঘরের সাথে বনকে জুড়ে
তাঁতি ওমনি তাঁত বুনতে লেগে যাবে !
শস্যদানা আহরণ শুরু হবে !
দিনের শেষে হিসাব মিলাতে গেলে
দেখবে একা তার নয়,
ভাগে কম পড়েনি এতটুকুও তোমার !

তবে মুখের কাছে পেলেও
অভিমানীর অপেক্ষা জেগে রবে
স্নেহ ভরে, তোমারই হাতে,
চামচটি তার ঠোঁটে বাড়াবার !

তারপরে, ক্লান্ত তার - প্রবল ঘুম পাবে !
সে কী ছটফটানি,
দাঁড়ের এ প্রান্ত হতে
বেদম হতে হতে 
ও প্রান্ত অবধি অবিরত তাড়ার !

তুমি তো রাক্ষস-সম তার তুলনায় ৷
তোমার হাতের একটি মাত্র ভুল চাপ
যে কোনও মুহূর্তে 
মরণকেও ডাকতে পারে তার ৷

তবে, নরমকে 
সাবধানে কাছে টেনে নিলে
যাচিত আশ্রয়টি পেয়ে গেলে
তুমিও জানতে পাবে
পাখিও কেমন তালে নাক ডাকে,
কোটরটি মিলে গেলে
আত্ম-অপরিচিত 
অপার হৃদয়েতে তোমার !

ঈশ্বর মালটাকে 
হাতি ঘোড়াই ভেবে গেলে আজীবন !
একবার পাখিকে ভালবেসে দেখো,
চিনতে পাবে
সততঃ বিশ্বাস আর নির্ভরের নির্ভার ৷

মস্তক বনাম হৃদয়

"আমি অতীব উৎকৃষ্ট আর
তুমি গর্হিত নিকৃষ্ট !"
অহমিকার 
এই একটি অবশিষ্ট প্রমাণই 
আমরণ অভীষ্ট !

পরিণামে 
প্রতিযোগিতার উপযোগিতা না পেয়ে,
সমানতালে না তেড়ে গিয়ে,
প্রণত
এখনো মৃদুহাস্যে স্থির উপবিষ্ট ?

( আরে শ্লা, বৃহন্নলা নাকি ? )
রইবে তথাপি শান্ত-শিষ্ট ?

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

বিস্ময়কর

ভালবাসা 
যুক্তি তর্ক বোঝেনি কোনদিন ৷
ভালবাসা 
"করতে হয়" আর "করতে নেই"-দের
তফাৎ চিনতে পারে নি তখনও !

তবুও, কি করে জানি,
অনুভবের তীব্রতরতায়
সত্যকে সে প্রতিবারই ছুঁয়ে দেয়
আর মিথ্যারা 
বুকে ঠাঁই পায় না তার 
শেষ অবধি কখনো !

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

ভরাট

হাওয়ারা গান করে !

সে গান বারুদ চেনে না !
সে গান পথিকের প্রাণ !
বাস তার - নিত্য পথ-প্রান্তরে !

পথিক দুঃখ কেনে না !
ভালবেসে ফুল 
বাঁচিয়ে রাখে তাকে
সঞ্জীবনীর আকুল মন্তরে -
ব্যাকুলের প্রসন্নতার তরে,

যে বিতান যতনে রেখেছে আজও শ্বাস,
বাতাস বয়ে আনে সে সুবাস
যে বাতায়ন-উন্মুক্ত ঘরে,

বাঁচে আজও যেথায় সে সুরে বিশ্বাস
হার-না-মানা অপেক্ষার বরে !
.

রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

মাত্রাভেদ

কত মানুষ মরে যাচ্ছে অনাহারে
কত শিশু অর্ধ্বাহারে
আর এক পাও হাঁটতে পারছে না !

তুমি পাগল হয়ে গেছো !
ছুটে যাচ্ছো সবদিকে !
করুণ আর্ত চিৎকারে
মানুষ ডাকছো আর বলছো -
"এখনো সময় আছে
ওদের বাঁচাও, 
একটু কাছে এসে হাত দুটি বাড়াও !"

এই তো সেই সময়,
যখন তুমি নিশ্চিত ভরসায় থাকো
আর কেউ না থাকুক
আমাকে পাশে পাবেই চিরকাল !

আমিও আপ্রাণ চাইছি,
বিশ্বাস কর,
পৌঁছাতে যে কোন প্রকারে
তোমার পাশটিতে !

কিন্তু, না হেরে তাকিয়ে আছি আপাততঃ
মাকড়সার ছলে আটকে পড়ে !

তুমিও তাকাচ্ছো চতুর্দিকে বার বার !
কিন্তু আমার কথা -
সাময়িক দুর্বল স্তর হতে,
এখনো প্রবল ভাবে বেঁচে থাকা তুমি
কিছুতেই আর শুনতে পাচ্ছো না !

বুধবার, ২০ মে, ২০২০

রমনী

অবয়বে স্পষ্ট সেই ছাপ !
মানসিকতাতেও তদনুরূপ প্রত্যয় !
নিষ্ঠার জগৎটি 
সন্দেহাতীত রূপে ঋদ্ধ
সেকথা আপন পাণ্ডিত্যে
ইতিমধ্যে প্রমাণিত ৷

গতজনমে মায়ের কোলটি বিদেশে ছিল !
হয়তো ইওরোপে অথবা অ্যামেরিকায় !
মানুষ যেখানেই জন্ম নিক
পূর্বাশ্রমে ফের ফিরতে চায় ৷

এ জনমে এখানে এসে পড়ে
ভালবেসে ফেলেছো
বাংলার কমনীয়তাকে !
তবে, যৌক্তিক সরলতার অতীত অভ্যাস
ভুল করে বারবার
অনুভবের বক্ররৈখিক মনস্তত্ত্বকে সামলে নিতে ৷

একলা হয়ে পড়া তাই !

অথচ নিজে ভালবাসা
আর ভালবাসা সমানহারে পাওয়া
মানুষমাত্রেরই চাই !

হে বিচক্ষণ,
পরের ইচ্ছাকে বোঝার পাঠে
যেটুকু বাকি রয়ে গেছে
সেটুকু, অবসর বুঝে,
সমাপ্ত করে নাও !

তারপরে ভয় পেও না আর !
বিনিময়রা সুখী আর
দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার
অপেক্ষায় আছে আজও ৷
যোগ্য সহযোগও আছে,
বর্তমানে যদিও অচেনা 
নিদারুণ অনাগ্রহে আর উপেক্ষায় ৷

শুধু মনে রেখো
সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে - পাওয়া অপেক্ষা
দেওয়ার ভূমিকাটি 
সর্বদাই বেশ কয়েক গুণ বেশি,
যে দেওয়া - আপন পছন্দের হুজুগে মোটেই নয়,
তার না বলা প্রয়োজন 
প্রতি পদে বুঝে,
না চাইতে, যোগান দিতে হয়,
যেন তোমার সান্নিধ্যে এসে 
ইঁটের দালানটিকে মনে হতেই হয়
মায়ের পরশ-মাখানো 
আপন ঘরের কোমলতম আশ্রয় ৷

তারপরে ?
আত্মবিশ্বাসে 
আবেগের জগতেও
জিততে চাওয়ার ইচ্ছেটি শুধু
ফেরৎ চাই !

হে অপরূপা ! এ জগৎ
তোমাকে শুধু সুখী দেখতে চায় ৷
.


মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

মোড়

থাকতে আসেনি জেনেও
ডেকেছিল তাকে 
কোন এক শীতের দুপুরে
প্রৌঢ় বটগাছের তলে,
যেখানে সকালের ঝাড়ুদারের
পৌঁছাতে ভুল হয়ে যায় !

যেখানে শুকনো পাতার উপর দিয়ে
তার পায়ে পায়ে এগিয়ে আসার আওয়াজ
বাকি জীবনের স্মৃতিতে রয়ে যেতে
বুক অবধি নির্বিঘ্নে পৌঁছে যায় !




আরোপ ও সহায় ( একটি তুলনা )

"অহমিকা-জনিত আমি" -
ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম -
একথা - প্রায় প্রতিটি মহত্ব-লোভী
অনুভব-দৈন্যের মনে হতে হয় ! 

তার দায় থাকে,
যাকে সে ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র বলে মনে করে,
সেই অধিকাংশই বর্জ্য,  নিছক বাগাড়ম্বরকে 
মানুষের শ্রদ্ধা আদায়ের একমাত্র মাধ্যম ভেবে 
নানারূপে বিজ্ঞাপিত করার
এবং বুদ্ধির অপপ্রয়োগে
যথাসম্ভব বলপূর্বক আরোপ করার ৷

অশ্রদ্ধা ও ক্লেদ-প্রীতির
বাজারমুখী, 
তার্কিক প্রতিযোগিতাদের
নিয়ম করে
ব্যাজার-মুখো বৈশ্যদের দখলে যেতে হয় !

পৃথিবী অথচ এমন মানুষদেরও আধার
যারা অযথা চিৎকারে ব্যস্ত নয় !
যারা বলার চেয়ে শুনতে ভালবাসেন !
নিতান্তই বলতে হলে
মানবিক ভারসাম্যে 
অনভিজাত স্খলন থাকে না কোনও ৷

যাদের আপন শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার
কোন তাড়া কোনকালেই নেই,
অথচ, যাদের মধুর সংস্পর্শে এলে
মানব প্রকৃতিতে আত্মবিশ্বাস,
প্রশান্তি আর আনন্দের
পুনরুত্থান হয় -
বিবেকের স্বতঃস্ফূরণে,
সত্যানুভবের অমায়িক সাহচর্যে !

মহত্ব - বাধ্য অনুসরণ করে যাদের ৷

রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

হাসি

"আজকের আকুল গলাগলি
কাল তুমুল গালাগালিতে পাল্টে যায়,
আপন ক্ষুদ্র স্বার্থটি 
না চরিতার্থ হতে পেলে !" -
এই একঘেয়ে সংজ্ঞা দেখতে দেখতে
মানুষ সম্পর্কে আগ্রহ
বর্ষার হাওয়া-পাওয়া মুড়ির মত 
মিইয়ে বসে আছে !

"কেউ অসুন্দরকে ছুঁড়ে দিলেই
আমাকেও ওমনি লুফে নিতে হবে না !
বরং সে গতিপথ হতে
প্রত্যুৎপন্ন নিজেকে সরিয়ে নিয়ে,
আমার অনন্ত জাগৃতি 
ঘুমিয়ে পড়বে বরং
তৎক্ষণাৎ সে মনুষ্যেতর স্তরের প্রতি
ব্যতিক্রমী নির্লিপ্তিতে ! 

আমার মনের খুশি, মুখের হাসি,
যার প্রতি কেবল সুন্দরের ন্যূনতম উচ্চতার অধিকার,
তাকে একবারের জন্য হলেও 
নিম্নাকাঙ্খী কটুকে স্পর্শ করতে দেব না !"
 - আত্মবিশ্বাসে এই নিভৃত সংবদ্ধতা, 
 - রুচির এমন দৃঢ়চেতা প্রতিফলন,
একজন অন্ততঃ মানুষের যাপনে
খুঁজে যাওয়া - বহুকাল ধরে !

মেঘ না চাইতেই জল
লজ্জায় লাল হওয়া লুকাতে
বুঝতে না দিয়ে, মুহূর্তে কথা পাল্টে নিলে,
দু-অক্ষরের ডাকনামে 
বুক-ভরা আদর উপচে পড়তে চায় !

ওই যে সুনীল কবেই বলেছিলেন -
"সুন্দর লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজেরই আড়ালে ৷
মানুষ দেখে না ৷"

ভাগ্যিস, কোন আঁতেল, 
কোন এক বিকাল-বৈকল্যে, 
আপন উঁচু নাকটি নাড়াতে নাড়াতে
মন্তব্য করেছিলেন -
"নাঃ, তেমন রাবীন্দ্রিক নয় !"
আহা, শাপে তো বরও হয় !
.

.

শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

নির্দোষ শুচি

পুকুরে স্নান করে যে রোজ
তার মাঝে মাঝে জাগে সাধ
নদীতে নাইতে যেতে !

আবার নদীতে প্রাত্যহিকি যার,
তাকে ডাক পাঠায় সমুদ্র,
হামেশা মনখারাপ হলেই !

তোমার সমুদ্রের পারে শৈশব !
মহাসমুদ্রের
কোন পার হয় না বলে
পারাণী তোমার নিয়তিকে
টেনেছে গ্রামে !

তুমি নির্বাকে আবিষ্কার কর
বাঁশবনগামীদের
কাকভোর থেকে লাইন -
চুপিসারে জলশৌচের !
একটু বেশি আলো ফুটতেই
এঁটো বাসনের ঝনঝন আর
পাড়ার বৌদিদের কিচির মিচির !
অল্প কিছুটা কালচে সবুজ জল আর
বেশিরভাগটাই পচা পানায় ঢাকা,
পার বরাবর গাছে ছাওয়া
গ্রামের পুকুর ৷

বেলা বাড়তে বাড়তে যখন
সাড়ে বারোটা,
প্রেমিকা সরল দৃষ্টিতে তাকিয়ে
মিষ্টি করে হেসে,
হাতে নূতন গামছা ধরিয়ে দিয়ে বলে -
"যাও, এবার কয়েকখান ডুব দিয়ে এসো,
তোমার তো আবার সমুদ্রের অভ্যাস !"

হ্যাঁ, এ বিষয়ে সামান্য মাত্রও সন্দেহ নেই
যে, সুরূপা মেয়েটি তোমাকে
সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালবেসেছে !

তবু কেন যে ওয়াক আটকানো যায় না ?
কেন মনে হয়
"কোনও রকমে, পড়ি কি মরি,
পালাতে পারলে বাঁচি" ?

বেলা বাড়তে থাকে আরও !
ভাত বাড়ার তাড়া
পাঠাতে ব্যর্থ হয় সাড়াকে
অরুচির অবগাহনে ৷
.

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

আষাঢ়ে গপ্পো

কলকে, না হয়, নাই পেলো কল্পনা,
অপেক্ষায় রয়ে - বাস্তব-নিরূপণ !
বিষয়টি যদি আকর্ষণীয়, ওহো !
অধিকই প্রিয় সাময়িকেও তখন !

গল্প করো ! সংজ্ঞা বলো তবে !
বলতে পারো কাকে বলে - চুম্বন ?
.
ভেবেছ ভবে সহজতম এ যে,
আত্ম-স্বার্থ-মুক্ত যে নিবেদন,
ছিনিয়ে নেওয়ার ভাগেতে শূন্য রেখে
কেবলই যুগল পরাণে দ্রবিত গলন ?

অভ্যস্ত অহং সযত্নে যদি পোষা
পড়বে তবে ধরা তদ্বিধ চলন,
কঠিনে-তরলে দ্রাবক-ধর্ম ভেদে 
হাস্যস্পদে পিছিয়ে পড়া যখন !
.
ছন্দ প্রবন্ধে একবার কেটে গেলে,
রয়ে আনমনে তখনও উচাটন
ঝালার চুড়ায় বেতালার অনুনাদে 
অমিয়ে-গরল - অঝোর সে শ্রাবণ !

খুলতে অথচ পেলে গভীরে বৃৃৃৃৃতি 
দন্দ্বোজ্জ্বলে ঈড়া-পিঙ্গলা জাগরণ, 
প্রকৃতি-পুরুষে, আপন অর্ধ-হারে
নির্নিমেষে অভেদ-ধর্মী দরশন !

বিনীত কোমলে সহজলভ্য হওয়া
সমর্পনে অকল্পনীয় অনুরণন,
বিশ্বাসে যদি দুঃসাহসী মধুর
সুন্দরতমে বরণ - সে শিহরণ !
.
~~~~~~~~~~~~~~~
.

বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

তুমি, সে ও সখা

মাটিতে পা আটকে থেকে নয়,
ধুলো আর কাদা ছেড়ে
পাখির উড়ানে একটু উপরে
পরাণ রয়ে গেছে মনের অপেক্ষায়

শরীর বড় সতীন, তাই,
অথবা তুমিই তোমার দিকে
তাকিয়ে দেখতে চাওনি,
হওনি ঊর্ধ্বতরে সহায়

আর সুযোগ দাওনি 
জানলা গলে হাত বাড়িয়ে
নিজেকে নিজে ছুঁতে !

তুমি নামক একটি দোলাচল,
চিরটাকাল বিহ্বল,
অথচ, হেঁটে গেছে পথে পথে
নিজেকে ভিক্ষুক জেনে
তুমি-রাজার পিছু পিছু
হাতটি পেতে !
.

.

উন্মোচন

ভালবাসার শ্বেত-শুভ্র ক্ষরণ
বুকে উথলে ওঠায়, ব্যাকুল তখন,
যেতে চেয়েছিলে গভীর বনে !
ছুঁতে চেয়েছিলে বিনিময়কে
নিবিড়ের শৈল্পিক দ্যোতনায় ৷

"তাই সই !" - বলে 
হাতখানি ধরা তোমার
বনের মাঝে, পথ হারাতে হারাতে,
পৌঁছে দিয়েছিল তোমাকে
পর্বত-শীর্ষে,
আপাতঃ সংজ্ঞাহীন দণ্ডীকে
শীর্ষসুখের প্রবুদ্ধ সংজ্ঞায় ৷

তুমি চেয়েছিলে 
শুধু-মাত্র ভেসে যাওয়া !
তার থাকা - কেবলই ধরে রাখা,
অবিরত, ভিন্ন মাত্রার দায় !
.

সোমবার, ১১ মে, ২০২০

যেও না

"লাবন্য হঠাৎই ঝরে যায়
পেটে পুরুষ সন্তান এলে ৷
আর মেয়ে হওয়ার হলে,
ঘাম-তেল চোঁয়ানো শুরু
গাল বেয়ে !" -
এমনটা জেনে গেছিল সে
মা-মাসিদের যৌবনকালে ৷

তারপরে যৌবন এলে ভালবাসাও এল !
তারও ভিতরটি একদিন ভার-ভার হতে হলো !
একছুটে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই
নিজেকে দেখে চমকে গেল সে !
"এ কোন লাবন্যময়ী ? এতও সুঘ্রাণ তুলে রাখা ছিল শরীরের তাকে ?"

অতঃপর পেরোনো
একটি একটি করে স্বপ্নের দিন
আর অসংখ্যবার লুকিয়ে
চোরা চাউনিতে দেখা আয়নাকে ৷

তখন ভরা অষ্টম-মাস,
হঠাৎ কি সন্দেহ হলো
ডাক্তার টেষ্ট করতে দিলো !
রেজাল্ট শোনালো -
"গর্ভধান হয়েছিল কখনো !
মৃতবৎসায় হতে হবে ফের একা -
অশনি-দুর্বিপাকে ৷"
.

বুধবার, ৬ মে, ২০২০

হলে

মেনে নিলাম - 
সাময়িকে সুতীব্র তৃপ্তি পাবে,
তল-দল যেদিন অভিযোগহীন
ভরন্ত-সুখের বৈভবে !

অতঃপর ?
একবার খেলে বুঝি বাকি বাঁচার আত্মার্থে
ক্ষুধা জাগবে না আর ?
জোগানদার - জীবনভরের ক্রীতদাস রয়ে যাবে ?

আরোহনটি রইবে না 
উচ্চতার পূর্ব-শৃঙ্গে আগামীকালই,
বেচারা খালিপেটটি
আবার যখনি মোচড়াবে ৷
অথচ তুমি 
অভীষ্ট রক্তের স্বাদ পাওয়া
শ্বাপদ - ইতিমধ্যে তখন !
প্রবৃত্তিতে - মানুষ বরং কম ৷

আজ কি বলতে পারো
হতাশা - নৃশংসতার নিরিখে,
জীবনকে, অবতরণের অভিসারে,
পাশবিকতার কেমন নূতনকে চেনাতে
কোন পরাক্রমে অগ্রসর হবে ?

রবিবার, ৩ মে, ২০২০

সুইসাইড্যাল

বলবে - "আত্মহত্যা মহাপাপ" !
অথচ বলতে বলতে
একদিন শেষে 
নিজে আত্মহত্যার পথই বেছে নেবে ৷

করবে, কারণ - পিছিয়ে পড়েছিলে ! 
দাঁড়িয়ে পড়েছিলে একদিন
পিছনে ফিরে
পাওয়ার সুতীব্র বাসনায়,
জীবন যখন, ফাঁকি দিয়ে,
সময়ের হাত ধরে,
একতরফা সামনে এগিয়ে গেছে ৷

না পাওয়ার আশীর্বাদ পেয়ে
ছোট থেকে বড় হয়েছে যারা,
যেহেতু তোয়াক্কাও করে না 
না-পাওয়ার,
তাই স্বাধীনতর তারা,
ভরপুর বাঁচতে শেখে -
কেবল দেওয়ার শ্বাসে নির্ভর করে ৷

প্রতিটি দেওয়া মানে -
সদ্য পরাণে গজানো
আরও একটি সবুজ পাতা,
যে স্বয়ম্ভর বিনির্মাণ, সুখের মোহকে
শুদ্ধ আনন্দে সংশ্লেষিত করতে পারে,
প্রতিদানাকাঙ্খাহীন হলে ৷

দেওয়া, পাওয়ার মত,
পরের অধীন নয় ব'লে
থেমে পড়তে হয় না তাদের -
আটকে প'ড়ে 
সুখ-স্বপনের মোহ-জালে !

হুঁশ ফেরে না তবু বিকলের -
নিত্য-ব্যর্থ অলস বিকালে ৷
.

শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

ঝাড়ুদার

মনে পড়ে একবারও
বিকেলে,
ফেরার সময়টি ফিরে এলে ?
সাথে নিতে চায় বিমূঢ় অপেক্ষারতকে 
কোন একদিন চোখ মেরে -
"এবারে নিশ্চিন্তে চলে আয় !" - ব'লে ?

চেনায় অচেনাকে বাড়ির গেট, উঠোন
আর দেয়ালে টাঙানো
স্বামীজী, রবীন্দ্রনাথ ?

তাকিয়া টান টান করে বসতে বলে ?
ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে
একটু পরেই
এগিয়ে ধরে চায়ের কাপ ?

গল্পের সরণী ধরে 
এঁকেবেঁকে এগোতে এগোতে
তারপরে একসময়ে,
অন্যমনস্ক বিহ্বলে
বুকের অ্যালবামখানি পরতে পরতে খুলে
চেনায় আঁচলে চাপা দিয়ে রাখা, 
একাকিত্বের 
আর এক দীর্ণ ঘরদালান
আর তার সাথে 
আর না ঢেকে রাখতে পেরে
ছুঁতে দেয়, প্রশ্রয়ে ভ'রে,
জমে আছে যেখানে যত
আবর্জনার ভার ?

সুযোগ দেয় আজন্ম ঝাড়ুদারকে
অন্ততঃ একটিবার
ভোরের পাখি ডাক না পাঠানো অবধি
যত্ন করে ধুলো ঝেড়ে দিতে ?

বিদায়-লগনটিও 
একসময়ে যথানিয়মে পেরিয়ে গেলে 
পরাণ 
যতনে সামলে রাখে -  সুগন্ধে
বাসি হতে বিরূপ ফুলের হার ?

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

অপেক্ষায়

তুমি কি খেয়াল করেছো কখনো
কী আশ্চর্য সেই ঘটনাটি
নিঃশব্দে ঘটেই যায়,

দৃষ্টি যখন, মরীয়া অপেক্ষার পরে
হাত বাড়িয়ে
দৃষ্টির হাতদুটি ধরে,
জীবনে প্রথমবার
অথবা আবার অনেক দিনের পরে 
অথবা আকস্মিক প্রশ্নের নিঃশব্দ উত্তরে ?

চার চোখ, মুহূর্ত-মধ্যে,
চারটি স্তম্ভের আকার ধারণ করতেই,
তাদের মাঝ বরাবর
উঠে যায় 
বহির্জগতের কাছে অদৃশ্য
অস্বচ্ছতার দেওয়াল !

তুমি খেয়াল করেছ কখনো 
অনুভব নিমেষে ঘর গড়ে নিয়ে
বিশ্বের কোলাহল কে এড়িয়ে যাওয়া
কেমনতর
নির্জনতার গোপন উপহার দেয় ?

প্রাণ - প্রাণকে 
রোমাঞ্চিত নিরাভরণে ছুঁতে পাওয়ার
সহজতম সুযোগে
নির্বিবাদে
ততটা কাছে চলেই আসে,
যে সুবাদে - চাতক "দুই"
বিশ্বস্ত অভিসারে, পরম নির্বিঘ্নে
"এক" হতে পারায় অবগাহন করে ৷

তুমি কি সেই ডাক-হরকরাকে
খেয়াল করেছ কখনো,
দৃষ্টির যৎসামান্য বিদ্যুৎ-প্রভা
তোমার আর আমার চৌম্বক-ক্ষেত্রকে 
মাঝখানে পেয়ে গেলে
কী সমূহ পরিমান 
প্রলয়-বরষণটি ঘটাতে পারে ?

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

আত্মকীয়া

কোমরের উপরে ঠ্যাং তুলে
ঘুমিয়ে থাকতে পেরে গেছি,
পরষ্পরের কাছে মূখ্যতঃ অপরিচিত 
আমরা সদা-মুখোমুখি দুজন,
নাকডাকার সাথে বায়ু-নিংসরণকে
সুনিপুন ভাবে মিলিয়ে দিতে পারার সুবাদে

আর ছন্দ মিলিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারার 
অশালীন নির্বিবাদে,
অভ্যস্ত পরকীয়া-বৈভবে
ক্রমাগত আউড়ে গেছি

"তুমুল প্রেমের তোড়ে
একদিন শীৎকার-রবে
চার চোখে প্রাণভরে দেখা হবে

জেগে উঠব যবে ৷"
.

.

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

ভিতর-পানে ফোটার টানে

বৃষ্টি যেদিন ঝড় পোহালো
সে ছিল প্রবল শ্রাবণ
ঢেউ তখনো বাড়ছে সবে,
বাকি - ডাকতে পারা প্লাবন !

থাকতে পারা সে উজানে
যদি বিজনে আপনে স্থির
সুর তবে চিনে ফেলেছে পাগল !
আগল হবে তবু অস্থির ?

আগল হবে বুঝি অস্থির ?
.

.

হে কবিতাময়

যে লক্ষাধিক গল্পরা, জন্মমাত্রে
অবিরত ধায় নীরব অভিসারে
তোমার বুকের উষ্ণ প্রস্রবন হতে,

এ পৃথিবীতে কেউ কেউ
কান খাড়া করে রাখে
সুযোগ পাওয়া মাত্র
আপন সীমিত সামর্থে
তাদের সুন্দরতরে মূর্ত হতে দিতে !

তেমন মানুষদের থেকে 
সাবধানে থেকো !

তোমারই একান্ত নিজস্ব সুরটি বেয়ে,
যুগলবন্দীর নন্দনতত্ত্ব মেনে 
আকাঙ্খিত স্বতঃস্ফূর্ততাটি,
সতত প্রতিদানে,
সাড়ার সাড়ম্বর স্বয়ম্বরে
হাজিরাটুকু দিলেই,

তারা, তোমাকে চড়াইয়ের পথে
কষ্টের বিনিময়ে অভিযোজনের রথে -
প্রবৃত্তির অভ্যস্ত বিচরণ-ভূমি হতে বহুদূরে
পুনর্জনমের মরমিয়া প্রসূতিসদনে
শেষ অবধি ভুলিয়ে নিয়ে চলেই যায় !

ভালবাসা - সিদ্ধার্থ হলে
কেবল তোমার ভালোর অধিকে
আপন স্বার্থে সামান্যমাত্র আপোষও 
চাইতে কী উপায়েই বা পায় ?
.

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০

লেখা-রা

সে অন্তরালের আকুতি
নজরে এলে 
হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হয় !

তোমার কলম
প্রতিবার খুঁজে ফেরে
অন্য আর একজন,
অনেকটা তোমার মতন,
তবে পুরোটা মোটেও নয়,

যেমনটি চেয়েছিলে হতে -
খুব যে স্বচ্ছ নিজেও দেখতে পাও
তাও কি নিশ্চিতে বলা যায় ?

তবু যেমনটি হলে
নিজেকে দেখে
নিজেই
বিষ্ময়ে হাততালি দিয়ে উঠলে
নিজের
নিতান্তই স্বাভাবিক মনে হয় !

জারণ

বিভ্রান্তির স্থায়ী বিনাশ মানবজীবনে সহজ কর্ম নয় ! শারীরিক আকারটুকু মাত্র পাল্টে পাল্টে গেছে তার ৷ মৎসজনম হতে মানবজনম অবধি জন্মান্তরের লক্ষ-অতীত হতে অধীত অভ্যাস মানুষকে আজও বইতে হয় প্রবৃত্তি তথা প্রকৃতির নামে ! এ পৃথিবীতে একজন মানুষও প্রবৃত্তির প্রভূত-প্রকার আগ্রাসন হতে মুক্ত নয়, - মূর্খ অহমিকা যাকে মূলতঃ "ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র" নাম দেয় ৷

তবে, সুখবরটি হলো - বিবেক নামক একটি যন্ত্র রয়েছে প্রতিটি মানুষের পরাণে, যে আক্ষরিক অর্থেই বিবর্তন-পারগ ৷ ইচ্ছা যখন বিবেককে প্রয়োজনীয় শক্তিটি সরবরাহ করে, বিবেক তখন

কামের বিপরীতে প্রেমকে

ক্রোধের বিপরীতে তেজকে

লোভের বিপরীতে অর্জনস্পৃহাকে

মোহের বিপরীতে কারুবাসনাকে

অহঙ্কারের বিপরীতে আত্মবিশ্বাসকে

আর
মাদকতার বিপরীতে সহমর্মী মহানুভবতাকে

বিকশিত করতে পারে ৷ প্রবৃত্তির জলীয়-প্রবণ অধোগতি, বিবেকের জাদু-পরশে, বিপরীত মুখে ঊর্ধ্ব-দিশাপ্রাপ্ত হয় ৷ মানুষ তখন বুঝতে পারে - শক্তি আর বস্তুর মাঝে সে একটি দশা ভিন্ন অপর কিছুই নয় ৷

গড়পড়তা মানুষ প্রতিনিয়তই প্রবৃত্তি হতে বিবেকে আর বিবেক হতে প্রবৃত্তির সেবায় - ইচ্ছার প্রযুক্তিকে, অল্টারনেটিং কারেন্টের মত প্রায় নিয়ম ক'রে, পাল্টে পাল্টে যায় ৷ সত্যের চৌম্বকশক্তি বাধ্য নিষ্কৃয় থাকে তখন ৷ বিবেক সে চৌম্বক-ক্ষেত্রকে জাগ্রত করতে সক্ষম - ধনাত্মকতার অবিরত ডাইরেক্ট কারেন্টের মাধ্যমে ৷

গঠন আর ক্ষয় - বিপরীতমুখী হতেই হয় ৷ এ নিয়মকে ঠকানোর কোন উপায় মানুষের হাতে নেই ৷ আপন বিবেকের প্রতি একনিষ্ঠতা কার কতদূর দীর্ঘস্থায়ী, তার উপরে নির্ভর ক'রে, এ জগতে সে অনুসারে মানুষে মানুষে স্তরভেদ ঘটতে হয় ৷

প্রবৃত্তি কিভাবে বিবেক হতে ইচ্ছাকে প্রতিনিয়তই হরণ করে, তার যৎসামান্য নমুনাও থাকা ভাল - উদাহরণে ৷ যার যেমন ভাবে বোঝার সে তেমনটি বুঝে নিতেই পারে ৷ 
.

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

পঙ্কজ

মানবিকতায় সমৃৃৃদ্ধতর মানুষ ? 
না, নিছক একটি রঙ ?
যদি ভুলে যাও -
কি তোমার প্রথম পরিচয়,
তবে সে সমস্যা একান্তই
তোমার একার ! আর কারও নয় ৷

তুমি না চাইতেই পারো ৷
জীবন, বাঁচার তাগিদে,
তবুও খুঁজবেই সে পথ,
রং এর অন্ধ নেশা ভুলে,
প্রয়োজনে পায়ে দলে,
যে পথে মানুষকে 
একাধিকবার উঠে দাঁড়াতে হয় !

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

উদ্বৃত্ত

আপেলে 
প্রথম কামড়টি দেওয়ার
অব্যবহিত পরেই প্রমাদ গনলো সে !
বললো "পৃথিবীর সব পুরুষ
আমার সামনে এসে দাঁড়াও ৷"

সবাই একত্র জড়ো হলে,
সে জানতে চাইলো -
"কে বেশি সুন্দর, বল,
সত্য না নারী ?"

দুই ভাগে হলো পুরুষের দল ৷
যে অধিকতর 
নারীকে সুন্দরতর মেনেছিল
সে তাদের দিকে
আপেলের না খাওয়া অবশিষ্ট অংশটি
নির্দ্বিধায় ছুঁড়ে দিয়ে,

অপরপক্ষকে
পরকীয়ার সুনিশ্চিত অবসর জেনে
পরম আশ্বস্ত হলো ৷

সমঝোতা

দিনের আলো সন্ধ্যার ডাকে 
ফিরে যেতেই
তার সাথে মুছে যায়
প্রকৃতির নাক, মুখ, চোখ,
গলা, বুক,
একে একে হাত আর পা !


তবুও নদীর জলে আলো ছলকায় -
আলোছায়া আকৃতিময়ে ৷
পুরুষের চোখ -
সে আকালের ত্রিবেণীতেও
বর্ষণ থেমে গেলে
জলের হৃদয়ের তমিশ্র অববাহিকায়
উন্মুখ ব-দ্বীপখানি
চকচক করছে - দেখতে পায় ৷


উন্মুখতরের দূরদর্শিতা
সামনে সাজিয়ে ফে
লেছে তাই 
প্লেট আর গ্লাস - প্রস্তুতিপর্বে

আর সাওয়ারীর চমকিত মরমে
যুগলবন্দী ধরমে
পশেছে অপেক্ষমান সাড়া,
সঙ্গত লগনে, চেনা দোতারার
আত্মপ্রত্যয়ী সঙ্গত-ইশারায় ৷

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

সুসময়

এমন সুযোগ এসেছে
অনেক অনেক দিন পরে !
সর্ব প্রকারের দূষণরা 
হেরে গেছে, একে একে, অবশেষে ৷

চল, মাস্ক বেঁধে উঠে পড়ি !
হাঁটতে চাইলে - অনন্ত পথ 
ফিরেছে অবশেষে, অপেক্ষায় !
যানবাহনের বাধাও অন্তর্হিত ৷
ডাকছে যখন
ভয় পেতে নেই এমন সুসময়ে ৷

হাঁটতে হাঁটতে, হাঁটতে হাঁটতে,
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসুক !
রাত কে দিন করে 
পুলিশের জিপ চলে যাক 
একটু পরে পরেই
গড়ের মাঠের পাশ দিয়ে !
প্রশ্ন করার মানুষ কেউ থাকবে না !

চল, প্রথমে চুপচাপ পাশাপাশি বসি ৷
সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং এর 
নতুন নিয়মটি 
এক্কেবারে হুবহু মেনে বসা হলে, তারপরে
অন্ধকারকে কাঁপিয়ে দিয়ে
আবার শিশুর শুরুর মত
প্রাণ খুলে হা হা করে বেশ হাসি ৷

বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০

করোনা ব'লে কি ........

শব্দরা 
হঠাৎই ফুড়ুৎ করে উড়ে যায়,
কেমন নিশ্চিন্তে ছুটি নেয়,
সময় দায়ভার নিলে ৷

এই যেমন ধর - এই তো সেদিন 
সেই যে হিজলবনে হরিণ !
তুমি তোমার
চাঁদের জোয়ারে সকাল ছলকে দেওয়া
হাসির ঝরণা মেলে, 
অক্ষরগুলোকে
এক পা এক পা করে এগোতে দিয়ে,
উচ্চারণ করেছিলে - "স ঙ্গ ম র তা" !

আমিও ওমনি বলে উঠেছিলাম - 
"কিচ্ছু হলো না - শব্দচয়ন ! 
টলটল জল-ভার চলেছিল দীর্ঘ বয়ে !
অবশেষে, হাপ ছেড়ে, দ্যাখো,
কত না নিশ্চিন্তে - আহা
পরম নির্বিঘ্নে সমর্পিতা !"

আর তারপরেই তোমার দৃষ্টি 
হরিণীর দীঘলকে ছুঁতেই
আর আমার বুকেও
"আয় তবে সহচরী"র গুনগুন যেই,

তারপরে
সেই যে প্রায় চল্লিশ মিনিট
একটাও শব্দের আর দরকার না পড়ে,
( মনে কি পড়ে )
কেমন সমানতালে পাল্লা দিয়ে 
নিশ্চিন্ত ছিল - 
সেই যে সে চুপ করে যাওয়া !

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

আকাল

দুর্ভিক্ষরা 
প্রত্যেকে নবজাতক ব'লে
দামাল হতে হতে
একসময়ে তুমুলু ক্ষুধার্ত হয়,
মুচড়ে ওঠে 
জন্মাবধি উপোষের অনিমিখ ,

মেহমানের বহিরাঙ্গ কারুকাজে -
যদিও, যতই না হোক জামদানী,
শ্বাপদ তাক করে ওৎ পেতে, 
অবরূদ্ধ শ্বাসে রয় চেয়ে !
এক পা এগোয় আর
এক পা পিছোয় !
তাপিত মরু চেনে না - বয়স,
সময় ও পরিচিতির আগল !
কেবল জানে
নিংড়ে শুষে নিতে হবে কলিজাখানি !

কোনও বেঘোর-অবসরে একবারটি
একা পেয়ে গেলে, ওমনি
সব ভনিতার পরিধান ছেড়ে, সরাসরি
ফেলবে গপ করে খেয়ে
আর কিছুদিন মাত্র পরে,
বেশ জানি !

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

আহুতি

Let me burn myself within you
to celebrate Eternal Oneness.

Let love, obviously being 
the only available device,  dissolve and eliminate 
all differences whatever.
~~~~~~~~~~

আহুতি
———

অনুমতির অপেক্ষা করে না
হৃদয়বীনাখানি !
বেজে ওঠে সাড়ার উতলে,
সুরের বাঁধভাঙা আদর 
তোমায় প্রতিবার খুঁজে পেলে !

তেমনই নতুনের জাদু 
চমকিত বিস্ময়ে এনে ফেলে
অসময়ে ফিরে এসে
আবারও দেখিয়েই গেলে !
.

ভেদ ও অভেদ

ঘাতক অনিশ্চয়তার রবাহুত অভিসারে 
আশঙ্কাকে পারে
অবিলম্বে নিশ্চিহ্ন করতে
প্রকৃত নির্ভর, - ইত্যবসরে !

ভালবাসার কোমলতার কাছে
অভেদের বরে,
আপাতঃ অদূরদর্শীর
শর্তহীন সমর্পণের উৎসারে,
অহমিকার ভেদ-ভাব
আত্মস্বার্থের অভিশাপ বইতে থেকে, 
প্রতিটিবারের অবশেষে 
পৃথিবীর ইতিহাসে বাধ্য হারে ৷

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০

কৃতিত্ব

স্রষ্টার স্বাধীন রচনা তুমি !
আকৃতির কৃতিত্ব দাবি কর ?

বিশ্বসুন্দরীও হতে পারো !
তবুও তোমার নিছক শারীরিকে
এমন কোন বিরল সম্পদ নেই
যার অমোঘ আকর্ষণে
পৃথিবীর সব পুরুষকে
একাদিক্রমে বশীভূত করতে পারো !

এ সত্য নিঠুর ও তিক্ত হতে পারে !
বাস্তবকে পারলে বিশ্বাস কোরো ৷

অসীম সম্ভাবনার আকর
অনাবিষ্কৃত রেখেছো আজও
পরাণে, অনুভবের উৎকর্ষে তোমার !
বাহিরকে অস্বীকার না করেও
অন্তরে প্রতিজনে লভ্য - 
সত্যদ্রষ্টা বিবেকের বরাভয় !

প্রকৃত শিল্পীর 
প্রাকৃত আগ্রহ নিশ্চিতে পেতে
আত্মবিশ্বাসের ত্রুটিহীন স্তরে
নিষ্ঠা-ভরে
আপন রঙের সমাহারে,
সত্যের অনাদি জ্যোতি
আংশিকে চিত্রিত, অবশ্য, 
চাইলে আজও করতেই পারো ৷
.

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০

অন্তর্দর্শী

কেন এসেছিলে ? হেতু বলতে হবে !
বল - কেন, কেন, কেন ?

মানুষ যুগ যুগ ধরে
ভালবাসার অজুহাতে
হ্রস্ব স্বার্থের প্রবল উল্লাসে
একতরফা শরীরই ছেনে গেছে !

তৃপ্তি মাত্রে তার 
উদারতার উচ্চতার স্খলন,
পুঙ্খানুপুঙ্খতরে 
বাসি হওয়া প্রতিবারে,
ফলতঃ, টাটকা সুবাসের অভাবে 
লাভ-লোকসানের
ক্রমশঃ দীর্ঘতর দড়ি-টানাটানি
কোন সুমহান কর্তব্যের হিতে ?

উত্তরণ-শূন্য আহরণের গতে
নতুন করে কলুর বলদ হতে
তোমারই তাহলে কোন
ব্যতিক্রমী প্রয়োজন ছিল
উৎকর্ষ-বরণী এ পৃথিবীতে ?
.

.

বিস্মৃতা

নির্দায়-বিলাসিনীর
পূর্বরাগকে বারেবার ভুলে যাওয়া
স্নিগ্ধতাকে করেছে মাতাল ৷

নেশার চিরন্তন দাবী -
খেতে হবে যে খাবি, 
তাই অবশ্যই চাই
অধীরতার উত্তাল হাওয়া !

প্রেমের পথে প্রতিটি মহরৎ
প্রতিটিবার, সে সুবাদে,
নেমে গেছে সরাসরি নীচে 
দুলতে দুলতে বেহুঁশ
উসখুসের শিকারাতে !

অথচ, সমর্পণের পথ
চিনেছে যেদিন শ্রদ্ধার রথ,
স্বর্গের ঘোড়া মেলেছে
হৃদয় হতে ঊর্ধ্বাচারী
ভালবাসার ডানা,

ও দোলন-দরদী হাসনুহানা,

ভৈরবী-ভরা ভোর 
নিয়েছে ডেকে যাকে
প্রবল মাঝরাতে ৷
.


.

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০

তাপিত

জোর করে খাপ খোলালে
ভাল লাগে না আজকাল আর ৷
অভিমান বরং করে দিতে চায় 
অনুভবের কোমলকে - নুলো ৷

সঠিক চেনায় - সুর মেলাতে পারার
আসল চমৎকার !
অশ্রদ্ধার ঔদ্ধত্য শেখায় চ্যালেঞ্জে 
শুধুই বর্জ্যগুলো !

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০

চৈত্র-পবনে

বোকার পারা ঠকতে ঠকতে 
সত্যিই ভূত হয়ে যাই !

প্রতিটি মুহূর্ত - মানবজীবনে
ভিন্ন ভিন্ন দিশার দ্বারে
সুযোগের সমাহার হয়ে আসে

যে সুযোগরা, সার্থক অনুধাবনে,
শিকারীর ক্ষিপ্রতা ও
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ত্বের পরীক্ষা চায় !

ভোগে ভুগতে থাকা 
আমাদের আচ্ছন্ন চেতনা 
সঠিক সময়ে পায় না খুঁজে
প্রয়োজনীয় হুঁশ !
সৃষ্টির আনন্দরা তাই, হাসতে হাসতে,
আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে
মহাশূন্যে হারিয়ে যেতে থাকে
রোজ রোজ

আর জীবন ক্রমাগত হেরে যেতে থেকে
আখেরে জড়ই রয়ে যায় 
হতাশের শামিয়ানায় !
.

.