সে পথটাই বেছে নাও
যে পথ পৌঁছনোর দিকে তোমাকে তাড়া দেয় না,
যে পথ সময়কে
তার বাঁধনছাড়া দড়ি থেকে খুলে দেয়।
গন্তব্যকে অপেক্ষা করতে দাও—
তার ধৈর্য আছে,
তুমি দেরি করছ বলে
সে মিলিয়ে যাবে না।
বরং সেই পথ ধরো
যে তোমার পায়ের তালুকে শেখায়
ধুলোয় লেখা নতুন ভাষা,
যেখানে চাপের তলায় পাথর গুনগুন করে
আর প্রতিটি বাঁক চর্চা করে বিস্ময়।
এই পথে
মাইলফলকরা অঙ্ক মানতে অস্বীকার করে।
এখানে সূর্যাস্ত আসে না শেষ হিসেবে,
বরং যতিচিহ্ন হয়ে—
নিজেকে গড়ে তোলা এক বাক্যের
মাঝখানে রাখা কমা।
যখন গন্তব্য অবশেষে দেখা দেয়,
নিঃশব্দ, প্রায় লজ্জিত,
তখন তুমি বুঝতে পারো—
তুমি তো আগেই পৌঁছে গেছ
হাজারবার,
প্রতিবার বিস্ময় তোমার গতি কমিয়েছে,
প্রতিবার সৌন্দর্য কিছুই চায়নি
মনোযোগ ছাড়া।
তাই সেই পথটাই বেছে নাও
যে তোমাকে সম্পূর্ণ ব্যয় করে,
তোমার কোনো অংশকেই অব্যবহৃত রাখে না।
যাত্রা এমন পূর্ণ হোক
যেন গন্তব্য
শুধু একটি পরিশিষ্ট মনে হয়—
একটি বই
আলতো করে বন্ধ করে দেওয়া,
যে বই শেষ করতে
তুমি কখনোই চাওনি।