শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫

কেজানে

কবে থেকে আবার
মেঘের অভ্যাস হলো আমার
তোমারই মত, কেজানে। 

সর্বত্র শুকনো,
অথচ নিঃশব্দে 
ভিজে চুপসে যাচ্ছি ওখানে।

ঠিক আধ ঘন্টা পরে
কাউকে কিচ্ছুটি না বলে 
আসবে একবার দোকানে ?

গহীন

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো।

বৃষ্টি থেমেছে বেশ কিছুক্ষণ।
এখন বাজে সাড়ে পাঁচটা।
চা খাওয়া হয়ে গেছে একটু আগে।
হাতে কোনও কাজ নেই।
হঠাৎই তোমার কথা মনে পড়েছে খুব।
বুকটা কেন যে ফাঁকা লাগে এমন!
কতদিন গল্প করার অবসর জোটেনি আমাদের।
তুমি কি ব্যস্ত এখনও অমিত আর লাবণ্যকে নিয়ে?
আমাকে নিয়ে যাবে একদিন শিলং পাহাড়ে?
অনেকদিন গল্প জমে আছে।

শিলং-এ পৌঁছে,
আমরা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে হাঁটব—
পাথরের ফাঁকে বৃষ্টির জল থরথর করে কাঁপবে,
যেন আমাদের দম আটকে থাকা নিঃশ্বাসের প্রতিধ্বনি।

তুমি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে যাবে,
আমি অবাক হয়ে তোমার দিকে তাকাব,
তুমি শুধু চেয়ে থাকবে—
একটা দৃষ্টিতে এত শব্দ, এত আমন্ত্রণ
যে আমি মুহূর্তেই বুঝে যাব,
আজ আমাদের মাঝে পাহাড়ের থেকেও উঁচু কিছু দাঁড়াবে না।

মেঘ নেমে আসবে, আলো ম্লান হবে,
শুধু তোমার মুখের রেখাগুলো
আমার কাছে ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকবে।
তুমি কিছু বলবে না,
আমিও না—
কিন্তু আমাদের নীরবতা তখন
ভাষার চেয়েও উষ্ণ হয়ে উঠবে।

আমি এগিয়ে আসব,
তুমি সামান্য পেছিয়ে যাবে,
তবু আমার হাত ছাড়বে না।
আমাদের মধ্যে তখন
এক অদৃশ্য ঢেউ উঠবে—
যার শব্দ কেবল আমরা শুনব,
কিন্তু পাহাড়, মেঘ আর বৃষ্টি
চোখ বুজে সাক্ষী হয়ে থাকবে।

তারপর…
পর্দা নেমে যাবে না—
কারণ গল্পটা সেখানেই থেমে থাকবে না,
বরং সেই পাহাড়ের গোপন গুহায়,
মেঘের গাঢ় পরতের আড়ালে,
আমরা তৈরি করব এক অদৃশ্য সেতু—
যা শুধু আমরা দু’জন জানব,
আর সারাজীবন
গোপনে বহন করব আমাদের রক্তের গহীনে।


তুমি তো আমার ছিলে না

তারপরও থাকতে চেয়েছিলে।
তবু গেলে।

যেতে হতোই—
এটাই নিয়ম।

তুমি আমার ছিলে না।
কখনোই না।

তুমি ছিলে ঋতুর মতো—
সময়মতো আসো,
সময়মতো চলে যাও।

তোমার প্রস্থান
ছিল কেবল সময়ের কাজ,
যেমন সূর্য ডুবে যায়
কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই।

সমবেদনা ? অনুশোচনা ?
ভুল সময়ে ভুল মানুষের দ্বারে
ভুল আবেগ আশা করো না ।

সর্বশ্রেষ্ঠ

যে জানে নারীদেহের গুপ্ত নকশা,

সে পড়তে পারে চাঁদের রৌপ্য-ঘড়ি।
যেখানে জোয়ার ও ভাটার ভাষা
লিখে যায় সময়, অদৃশ্য কলমে।

কনডম রক্ষা করে কেবল মাংসের প্রাচীর,
সংযম রক্ষা করে আত্মার দুর্গ।
ল্যাটেক্স ছিঁড়ে যেতে পারে,
কিন্তু সংযমের প্রাচীর ভাঙে না কখনো।

শিশুর জন্ম হোক রাজাজ্ঞার মতো—
সুবর্ণ শঙ্খে বাজুক আনন্দের ডাক,
যেন কখনো না হয় জুয়াড়ির মুদ্রাহানির পারা
অপ্রস্তুত, অনাকাঙ্ক্ষিত, অবমাননায় ঢাকা।

সংযমই হল সেই অমৃতমন্ত্র,
যা প্রয়োজনানুসারে কামনাকে জয় ক'রে
প্রেমকে পূর্ণ করে ।

ভালোবাসার মর্যাদা

তুমি জীবনকে পূজা করো

পাথরের বেদী দিয়ে নয়,
বরং সেই নীরব শ্রদ্ধা দিয়ে
যা তুমি আরেকটি প্রাণকে দাও।

শ্রদ্ধা হল সবচেয়ে পবিত্র ধূপ,
যা অদৃশ্য হয়ে ওঠে আকাশে,
তবু সুবাসে ভরে দেয় সমগ্র দিগন্ত।

মানুষকে দেওয়া
সবচেয়ে উচ্চতম শ্রদ্ধা
শব্দে বলা যায় না,
সোনায় লেখা যায় না—
তা অর্পিত হয় প্রেমের
পবিত্র কর্মে।

সে প্রেম, যা অপরিচিতের মাঝে
মুদ্রার মতো ছড়িয়ে দেওয়া নয়,
বরং রক্ষিত,
দেওয়া হয় কেবল সেখানে
যেখানে আত্মা যোগ্য,
যেখানে হৃদয় বিনা লজ্জায় নত হয়।

কারণ বাছবিচারহীন প্রেম
প্রেম নয় মোটেও—
তা কেবল নূতন একটি আত্মপ্রবঞ্চনা।

এখানেই এর মর্যাদা:
দেহকে অর্পণ করা
শুধুমাত্র সেখানে
যেখানে আত্মা আগে থেকেই নতজানু।

অসুখী সেই নারী
যে কখনো এমন পুরুষকে খুঁজে পায়নি
যাকে সে
তার গভীরতম শ্রদ্ধা দিয়ে ভালোবাসতে পারে।