মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩

সখের কাব্য নয়

যার সাথে একই বিছানায় নিয়মিত শোয়ার অভ্যাস, তার সাথে সম্পর্কটিকে স্বার্থহীন করা সম্ভব নয় । অথচ প্রতিটি মানুষের পরাণের আকাশ, অবচেতনে অথবা সচেতনে,অন্ততঃ একটি স্বার্থহীন ভালবাসার মাঝে মুক্তির, তথা চির-আকাঙ্খিত অনন্তের সুরটিকে খুঁজে পায় ।

কেউ এ সুরটি খুঁজে পেতে পারে দেশের কাজে, কেউ পায় পাড়ার শিশুটিকে কারণে অকারণে আদর করায় । কেউ তেমনই পায় বাড়ির বাগানের কাজে । 

যৌন-প্রবণতার অবধারিত অস্তিত্বের কারণে, নারী-পুরুষের মাঝে স্বার্থহীন ভালবাসা, মনে হয়, সবচেয়ে কঠিন কাজ - এ পৃথিবীতে । এমনই কঠিন, যে কল্পনাতে আনাও অধিকাংশের পক্ষে দায় । তবে যার বা যাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের সৌকর্যে তেমনটি সম্ভব হতে পারে, শুধু সে বা তারা এ ধরার বাস্তবে, সশরীরে বাস করেও, অমৃতের (Nectar) প্রগাঢ় স্বাদ নিয়মিত আহরণ করে যায় ।

প্রসঙ্গতঃ, কাজটি যতটা সহজ নয়, ঠিক ততটাই অসম্ভবও নয় ।

অপাচ্য স্বাধীনতা

একটা গোটা সমুদ্রকেও
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হেরে যেতে হবে,
সুভাষ বাঙালির রক্তে যে বিরল পরিমাণ 
বীরত্বের আভিজাত্য দিয়ে গেছে, তার কাছে ।

বাঙালির 
সুভাষকে প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া
অথচ, বাকি রয়ে গেছে ।
অমোঘ নিয়তি সুভাষকে তাই 
চোরদের কাছে হেরে, মরে, বাঁচতে দিলই না ।

আজও অপেক্ষায়, স্থির-নেত্রে, 
একটু আড়ালে, আবছা আলোয় একা দাঁড়িয়ে
চিরন্তন ও অবধারিত নেতা বাঙালি জাতির !

নিভে যাবে তার সে অবিশ্বাস্য সঞ্চারণে
ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠা 
অপ্রতিরোধ্য বিবেকের আগুন ?
লুকিয়ে পড়বে মানবিক দায়িত্ববোধ ?
লুটিয়ে পড়বে সুবিধাবাদের পায়ের তলায়
বাঙালি জনমানস ?
নেশাসক্ত-ঘুমের মধ্যে মারা যাবে 
সংঘবদ্ধ, অসমসাহসী প্রতিরোধ ?

ঈর্ষার কাঁকড়াপনা ছেড়ে, উঠে দাঁড়িয়ে,
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে,
বাঙালির দরাজ বীরত্ব
আর একবার যাবে না সম্মুখ-সমরে ?

আর কি কোনও চেতন জাতি আছে,
বাঙালির মত, যে
দিকে দিকে শার্দূল রাজনীতির 
নিরন্তর দুর্নীতির অভিশাপ হতে
দেশমাতৃকাকে শেষ অবধি মুক্তি দিতে পারে ?

বাঙালির রক্ত আরও একবার গর্জে উঠবে না 
সত্য কে চিনে ?