রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩

তোমাকে

অহমিকাহীন ব্যক্তিত্বের আভিজাত্যের স্তর একদমই অন্যরকম । তুমি যখন মানুষকে আদর কর, যত্ন কর,


তার মধ্যে 'তোমার কোনও আত্মস্বার্থ, ব্যক্তিগত লাভ লোকসান, প্রতিদান জনিত দেনা-পাওনার হিসেব, দিতে পারার অহমিকা'


 - এসব কিছু বিন্দুমাত্রও মিশে থাকে না ব'লে, তোমার ভালবাসার স্বাদটি বড়ই অদ্ভুত উদার ও অসম্ভব রকমের নরম আর মিষ্টি । তোমার সেবা যারা যখনই পায়, তারা সেইজন্য যথার্থই স্বর্গ-সুখ উপভোগ করে !


এতটা দেওয়ার ক্ষমতা-জনিত আশীর্বাদ স্রষ্টা খুবই বিরল ক্ষেত্রে মানুষকে দান করেন । তুমি যতটা পেয়েছ,  সে আমি যখন অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি সামান্য দূর থেকে, আমার বড় গর্ব হয় তখন, বুক ফুলে ওঠে ভরপুর সুখে, - তোমার মত একজন মানুষ এই পৃথিবীতেই একটু দূরে ভরপুর বেঁচে আছে ব'লে । শ্রদ্ধাকে পাশে পেলে, একমাত্র তবেই ভালবাসা হাঁপ ছেড়ে বাঁচে স্থায়িত্বের শান্তি খুঁজে পেয়ে ।


আসলে, স্বর্গ ও নরক ব'লে দুটো আলাদা জায়গা ছিল না কখনো । দুটোই মানুষ নিজে সৃষ্টি করে নেয় আপন গুণে অথবা দোষে, নিজে ঈশ্বরের মত অথবা অসুরের মত হয়ে, আমাদেরই আসেপাশে ।

.

শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩

মাস্টারনি

আগে থেকেই বহুল স্বীকৃত, তবে
আপাত নির্লিপ্তির কৃত্রিম ত্রাসে
আরও তুখোড় কবি ক'রে দিল 
নেহাৎই তৎসম প্রতিশ্রুতির বিবশে ।

কতটা কাছে পরাণ এগিয়ে আসে
পরস্পরের আগ্রহী প্রতিভাসে,  
- সে ইতিহাস আজো নিয়মিত ভাসে 
পরাণের অবধারিত সুবাসে।

বুঝতে না দিয়ে তাই চুপচাপ হাসে
আজও বাধ্য অনুসরণ করা -
আপন ছন্দে একক নৃত্য সারা
সময়ের অপসৃয়মান রাসে । 

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩

আন্তর বাস

অধিক নিকটে বাস হলে
ধীরে ধীরে, একদিন 
সুন্দরের অবকাশ কমে যায় ।

নূতন করে চোখাচোখি-তে
রোমাঞ্চের রং আঁকতে
মাঝে মাঝে দূরে যেতেই হয় ।

সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩

বেঁচে নেওয়া

বাস্তবে যেখানে তুমি, ঠিক সেখানেই আমি,
কখন যে ভাঙছি আড়মোড়া
কোন বিশ্বস্ত দাবীদারের কোমরে 
আলসেমির ঠ্যাং যখন খুশি তুলে,
ওকে "দৈনন্দিন অভ্যাস" শুধু বলে ।

আমাদের আর একটা জগত আছে দূরে
শুধমাত্র সমর্পণে সার্থকতর বাঁচার, 
নহবতের সুরে আর তালে,
মেঘের রাজ্যে,
যেখানে আসন পেতে
অধীর আপেক্ষায় থাকে হৃদয় আমার
মিলনে উজ্জ্বলতর হতে
তোমার পরাণের সুশীতল ছায়াতলে ।

ছোঁবে না এসে সুরধুনী-চালে
ধবধবে সাদা তুলোর আঙুলে ?
কথা একবার দিয়ে ফেললে,
প্রতিবার নূতন করে
রাখতে মরীয়া না হলে বুঝি চলে ?

শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩

কী মেলে

নিজের বিবেক কে 
ঠকাতে হয় সকলের আগে,
লোভের বশে
পরের উপরে চালাকি করতে গেলে ।

ঠকিয়ে পার্থিব লাভ যা পেলে,
সে কেবল সাময়িকই হতে পারে ।
অথচ, বিনিময়ে চিরতরে
নিজের অধিকার হতে
আপন উত্তরণকে 
নিমেষে, চিরতরে হারিয়ে যেতে দিলে ।

ফলতঃ, অবশিষ্ট জীবন,
আপন সম্ভাবনার শবটিকে
উল্লেখযোগ্য-অস্তিত্বহীন 
অকেজো ভূতের মত
কাঁধে নিয়ে নিরন্তর ঘুরতে থেকে 
আরও অনেক অপদার্থের মত
অবসন্নতার একঘেয়ে প্রসার ঘটালে ।

যাদের দৃষ্টির পর্যবেক্ষণ-প্রয়াসে
মানুষের বাইরের অবয়ব ভেদ করা
মোটামুটি সহজেই চলে,
তারা 'আপন অতীত বয়ে বেড়ানো'
এইসব জীবন্ত লাশদের 
নিজেরই আসেপাশে 
অসংখ্যবার 
বিভিন্ন অবতারে দেখতে পেলে ।
.

শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩

আলোর চিঠি

ভালবাসা তার স্বকীয় উজ্জ্বল তুলিতে
যখন যে ছবি এঁকে রেখে গেছে
কালের মানসপটে
সে এক আলোকময়তার ইতিবৃত্ত ।

তার যথার্থ মূল্য
অনুধাবনে নেই যাদের নিরেট ঘটে

তাদের দাঁড়িপাল্লাটি খাটো বটে ।
শুধুমাত্র শয্যার একতরফা লজ্জায়
বাধ্য ইতস্তত দীর্ঘশ্বাসে
ঘন ঘন তাদের
একজীবনে সাফল্যের অভিঘাত রটে ।
.

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩

দুরন্ত

ধরে নাও, অবশেষে দেখা হলো । 
অজস্র ভীড়ের মধ্যে থেকেও 
চিনতে অসুবিধা এতটুকুও হলো না ।

অতঃপর অপেক্ষা - 
একটি মাত্র ছোট্ট ইশারা বুঝে 
তৎপর অনুসরণের । 
এত মানুষের মধ্যে 
তৃতীয় আর কেউ জানতেই পেল না, 
ভীড় কে হালকা করতে করতে 
একসময়ে
অবধারিত নির্জনে পাল্টে নিতে হয় 
কোন সুরের মিলের জাদুর খেলায় !

দাঁড়িয়ে মুখোমুখি হওয়ার পরে
দৃষ্টি স্হির হলো দৃষ্টিতে
পরবর্তি প্রকল্পের উদ্দেশ্যে ।
কিছুক্ষণ যাবৎ পরষ্পরে
চৌম্বকত্বের তীব্র আবর্তনে পড়ার পরে,
একজনের দুইবাহু উঠলো অপরের পানে,
অবধারিত আবাহনে

আর তার সাথে সাথেই
অপরজন 
সপাটে ঝাঁপিয়ে পড়লো এসে বুকে ।
দীর্ঘ দিনের বাঁধ ভাঙলো 
অপেক্ষারত সোহাগের জোয়ার,
অথচ, শব্দরা মৌন তখনো পরম সুখে ।

বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩

বিরহ

তোমার আর আমার 
পরষ্পর-মুখী প্রশ্ন-চিহ্ন-রা 
বরাবর একই বিন্দুতে এসে মিলে যায়।

বিন্দুটি হলো - 
আমাদের দুজনের মাঝে যে gap,
সেখানে যে brigde তৈরী হচ্ছে
সেই কবে থেকে, দুজনেরই ইচ্ছায়,
একদিন সুসময়ের নীরব অপেক্ষায়,

মাঝে মাঝে খুব ভয় হয়,
সে নির্মাণ, 
আমাদেরই ভালবাসার 
অতঃপর উত্তরণের তাগিদে,
নিত্য বিনির্মাণ হওয়ার বাধ্য কারণে,
শেষ হতে যদি 
আরও অনেকদিন দেরী হয়ে যায় !
.

অন্বেষা

অহমিকার, আপন চাতুর্যে 
ঔদ্ধত্যকে লুকানোর মত
আড়াল যেমন 
কদাপি শেষ অবধি লভ্য নয়,
ঠিক তেমনই
স্থায়ী পরিনতি পেতে হলে 
ভালবাসার নিষ্ঠা-সহকারে 
এগোতে থাকা চাই ।

গভীরতার দিশায়
ক্রমশঃ অপরাজেয় হওয়ার পথে 
ভালবাসা পায়ে পায়ে এগোতে পারে
বলিষ্ঠ একজোড়া পায়ের জোরে,
একটি পা যদি হয় আপোষহীন শ্রদ্ধার
আর অপর পা-টি তাকে
সাময়িক প্রলোভনের বিরুদ্ধে
সংযমের বিশ্বস্ত কমনীয়তায় 
যোগ্য সহযোগ যদি দিতে পারে !

মানুষ, অবশ্য, যে কোনও দিন
মনুষ্যেতরদের সাথে পার্থক্য ভুলে,
ভালবাসা অপেক্ষা কামনা-কে 
অধিক গুরুত্বপূর্ণ মানতেই পারে ।
.

বিকাশ

প্রতিটি মানবজীবন এক একটি অসম্পূর্ণ সম্ভাবনার গল্প, যে সম্ভাবনাটি একদিন বাস্তবায়িত হতে কেবলমাত্র সহানুভূতি ও সংবেদনশীল সাহচর্য চায় । আর কিছু নয় । 
প্রতিটি মানবজীবনে, যথোচিত ভালবাসাটুকুর অভাবে, এভাবেই, এক একটি অনাবিষ্কৃত সোনার খনি জীবনভর লুকিয়ে রয়ে যেতে পারে ।

একটি বীজকে প্রয়োজনীয় সার, মাটি ও জল দিলে, কি ভাবে সে অঙ্কুরিত হয় এবং তারপরে কতদূর অবধি ধৈর্য ও অধ্যবসায় সহযোগে যত্ন নিলে, সেই অঙ্কুরটি একদিন পুষ্প ও ফল-শোভিত বৃক্ষে পরিনত হয়, এই পাঠটি মানবজীবনের শ্রেষ্ঠতম পাঠ ।

কোনও প্রকার আরোপিত সমালোচনা, স্বেচ্ছাচারিতা, কর্তৃত্ব অথবা আদেশ-প্রবণ মূর্খ অহমিকা এই শিক্ষার সহযোগী নয় ।

মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৩

চুপকে-চুপকে

তোমার আবেগী অনুভব
তোমার একার সাগ্রহী পরিবহন ।
আমারটি যথারীতি
আমারই ছন্দানুবর্তী যেমন ।
আকাশ ভর্তি চিঠি মাখা ফানুস, কিন্তু
মানুষ দুটির মধ্যে দেখা নেই দীর্ঘদিন
বাস্তবের এই পৃথিবীতে ।

অবাক দৃশ্য-নন্দন !
সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি আবেগের আলাপন
অদৃশ্য প্রেমের যোগসূত্রে
আপন চুমুকের পরতে পরতে
দিনের পর দিন চাখতে পারে
পরাণবীণা-জুড়ে
কোন অবধি নৈকট্যের 
সুনিবিড় প্রকরণ !

শরীর-বিনে রোদন-জনিত দূষণ - 
অবিমৃষ্যকারিতাই হতে পারে
এমন বিনিময়ে,
লগন না পেরোলেই-বা বোধন ।

শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩

বিশ্বাস

প্রতিটা মানুষের মধ্যে একজন 'অপ্রতিরোধ্য' বাস করে । 

সে সাধারণতঃ ঘুমিয়ে থাকে, প্রায় বছরভর, অনেকটা কুম্ভকর্ণের মত । যেদিন জাগে, সেদিন সে ঘুম ভাঙা মাত্রই উঠে পড়ে আর এগোতে শুরু করে । তখন তাকে আর থামানো যায় না কোনওভাবে । 

সে বিশালদেহী ও মূলতঃ রাক্ষস প্রকৃতির, তবে অনুগামী-অন্তপ্রাণ ।  সহমর্মিতা-হীন লাভ-লোকসানের যুক্তিদের আদপেই পাত্তা দেয় না সে, কেবল আপন বিবেকের কথা শোনে ।

সে থামতে বা বিশ্রাম নিতে জানে না । সাহসের আপোষহীন উৎস হওয়ার কারণে, ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়া তার একদমই আসে না । 

সে যাকে ভালবাসে তার প্রতি শেষ রক্তবিন্দু অবধি অনুগত থাকে । এ জগতে ভালবাসাকে যারা প্রকৃতই বোঝে, তারা তার সঙ্গ পেলে, সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করে । কেউ কেউ রাহুর আত্মবিশ্বাস ব'লে ডাকে তাকে ।

শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩

ভেবেছিলে

কোনও এক শনিবারে
বর অফিসে ব্যস্ত রয়ে গেলে,
খবর দিলে, আচমকা এসে
আশ মিটিয়ে 
লণ্ডভণ্ড করবো তোমাকে ।

পুরোটা নিংড়ে 
ভরপেট অবধি হয়ে গেলে 
বায়না করবো বড় এক কাপ কফির ।

তুমিও ফের হাতখোঁপা বেঁধে
"বেদম পাজি" ব'লে, উঠে পড়ে,
হাসতে হাসতে হারিয়ে যাবে
আলুথালু বেশে
রান্নাঘরের ক্ষণিক আড়ালে ।

সুখ কবে আর উজাড়ে ধরা দেয় 
প্রাপ্তির কালে
একটু জবরদস্তি মিশিয়ে না দুয়ে নিলে ?

ছায়া

বেলা পড়ে এলে, ছায়ার মায়া কাটিয়ে,
খেলার অদম্য টানে,
আজও একটা স্টেশন ছেড়ে চলে যাব ।
শেষ বারের মত কিনা কে জানে,
কথা যখন আছেই অন্য 'আমি'-র সাথে
প্রথম আলাপের - অন্য কোনখানে ।

স্টেশন মানেই তো স্থবির,
কোনও না কোনও পুরোনো আসক্তি হবে,
কবীর খুঁজেই পায় না যার মানে 
পরাণ-উথলে-ওঠা চেতনার গানে ।

ওরা রয়ে যাবে চির-বিস্মৃত
নতুন ঋতুতে প্রতিবার 
বিস্মিত অপেক্ষায় সেজেগুজে,
নতুনে পাল্টে নিতে
সংকুলান খুঁজবে না শর্তহীন শ্মশানে ।

সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩

অন্বেষণ

কে যে খোঁজে জীবনকে কোন স্নানে ! 
কে যেন পৌঁছেছিল তবে, কোন অবসরে, 
কার বিরল সন্নিধানে ? 

আজ যে পরিবেশন
অনায়াসে তৃপ্ত রাখতে রাজি,
কাল সে বাজি হারাবে সময়ের গর্ভে , 
পাবে না খুঁজে চাতক পরাণ
সে পুষ্পরাজি, তেমন পরিবেশে, 
আর অন্য কোনওখানে । 

সময়কে তবু
প্রতি আনায় একমাত্র সে-ই
সঞ্চয় করতে পারে, 
যাপনকে যে, পরতে পরতে,
প্রতিনিয়তই কি ভাবে
নির্দ্বিধায় মুড়ে ফেলতে হয়, 
নিখাদ ভালবাসায়, দিব্যি জানে। 

বেকুব মানুষ, অবশ্য, 
ঘুরেফিরেই শরীরের গুহায়
খুঁজতে ঢোকে, অতৃপ্ত অন্বেষণে,
ভালবাসার সার-শূন্য মানে।

রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৩

এগ্জিউবারেন্স ( Exuberance )

স্রষ্টা অকৃপণ আদপেই নন ।
এমন কোনও মানুষ হতে পারে না
এ পৃথিবীতে, যার কোনও না কোনও দিকে
বিশেষ কোনও প্রতিভা নেই ।
তবে, প্রতিভা ও সাফল্যের মাঝে
যে দেওয়ালটি হামেশা বাধা হয়ে দাঁড়ায়
সে হলো মানুষটির নিজের হাতে গড়া,
ভোগের লোভ-জনিত, 
অনিয়মিত ও নিয়মিত আপোষ ।

ফুটো কলসি, হাজার চাইলেও, 
উচ্চতর প্রাণশক্তিকে
ধারণ ও সৃজন করতে পারে না আর ।
নীতির ভুলে, কাদায় আটকে পড়াকে
তাই নির্লজ্জের মত হাসতে হাসতে
অবধারিত ক'রে নেয় জন-জনার্দন ।

শুদ্ধতার বলে চর্চিত ও উত্তীর্ণ
একের পর এক তূরীয় আনন্দ, 
জীবনভর তাই,
অধরাই রয়ে যায় সখেদ মানুষে ।