প্রেমে পূর্ণতা বলে কোনও সুনির্দিষ্ট মাত্রা থাকা সম্ভব নয় বাস্তবে ৷ জীবনের অপার দ্বান্দ্বিকতার পরিসরে প্রেম অপর একটি দ্বন্দ্ব মাত্র ৷ যে কোনও দ্বন্দ্ব একটি বিশেষ প্রকারের বহমানতার দ্যোতক, কোনও স্থিতি নয় ৷ প্রেমের লাভ বা লোকসান বা সফলতা-বিফলতাকে তাই সংজ্ঞায়িত করতে পারে না মানুষ ৷
দুটি মানুষ নদীর দুই পার হলে মাঝে জলের প্রবাহটি তাদের প্রেম ৷ জল বাড়ে, কমে, এমনকি দুপার ভাসাতেও পারে, তবে সে আটকে থাকে না কোনও পারেই ! পার দুটিকে অথচ সে অপার-প্রগতি ক্রমশঃ দীর্ঘায়িতই করে ৷
অপর মানুষটি যতটা নিকটে অথবা যতটা অস্বচ্ছতা-জনিত দূরেই অবস্থান করুক না কেন, মানুষ গতিশীলতার আকস্মিক সাহচর্যের কারণে, নিজেকে নিজেরই প্রযুক্ত ও অভ্যস্ত যে সংজ্ঞা, তাকে অবলীলায় পার করে, আচমকা নিজেতে নতুন আরোহন আবিষ্কার করে, অন্তরের আশ্চর্য ও অপরূপ নব-উন্মীলনে, প্রেমে পড়ার পরে ৷
প্রেম দুটি মানুষের পার্থিব সীমাকে পেরিয়ে সর্বদাই তৃতীয় একটি বৃহত্তর, প্রাণদায়ী, অবস্তু-অস্তিত্ব ৷ প্রেমের চেয়ে অধিক বিশ্বস্ত বন্ধু আর দ্বিতীয়টি নেই এ পৃথিবীতে মানুষের ৷ সাময়িক অথবা দীর্ঘায়িত - যেমনই হোক, পার্থিব প্রাপ্তি-মূল্যে নয়, বহমানতার আবশ্যিক আশীর্ব্বাদে, মানবজীবন প্রতিটি ক্ষেত্রে জনমের সার্থকতাকে কম-বেশি কিছু না কিছু খুঁজে পায়ই - প্রেমের সুবাদে ৷
প্রেমের ক্ষেত্রে যে কোনও হতাশা-জনিত বিলাপ যত না বিশেষ কোনও একটি মানুষকে খুইয়ে ফেলার কারণে, তদপেক্ষা শতগুণ অধিক - বাস্তবের বাধার কাছে আপন ভাবজগতের পরাজয়ে, আপন গতিশীলতার অফুরাণ সাহচর্যে উত্তরণের পথ-প্রদর্শক অনির্বাণ দীপশিখাটি, নিজেরই সুখাসক্তির মোহজনিত ভুলে, অযাচিত নিভিয়ে ফেলায় ৷
একবার নিজের ভুলে নিভিয়ে ফেললে, তাকে ফের আগের মত অথবা অধিকতর আলোর উৎসে ফিরে পেতে আবার শূন্য থেকে কসরত করতে হতেই পারে ৷
.