কাউকে কখনও তোমার মূল্য প্রমাণ করতে যেও না,
শুধু তাকে ছাড়া—
যে বাস করে তোমার পাঁজরের আড়ালে,
নিঃশব্দ সাক্ষী,
প্রাচীন শিখা,
তোমার সেই স্বরূপ যে তোমাকে চেনে
যখন তুমি নিজেকেই ভুলে যাও।
কারণ পৃথিবী
এক অস্থির আয়না—
ঝিলমিল করে, বদলে যায়, বিকৃত হয়,
তোমাকে বলে ভেঙে যেতে,
ছোট হয়ে যেতে,
কারও সুবিধার্থে নিজেকে গুটিয়ে নিতে।
কিন্তু তোমার আত্মা কখনোই তৈরি হয়নি
এমন কাঁপতে থাকা প্রতিফলনে মাপার জন্য।
তোমার মূল্য কোনও মুদ্রা নয়
যা করতালির বিনিময়ে লাভ করা যায়।
তোমার মূল্য কোনও মুখোশ নয়
যা গ্রহণযোগ্যতার জন্য পরে নিতে হয়।
তোমার মূল্য কোনও অনুরোধ নয়
কারও ক্ষণিক অনুমোদনের জন্য।
তোমার মূল্য
এক সার্বভৌম রাজ্য—
অজিত, অক্ষত,
ধার করা নয়।
এবং এই রাজ্যের দরজার চাবি
ধরে আছো শুধু তুমি।
যে মুহূর্তে তুমি
পৃথিবীকে নিজের যোগ্যতা দেখানো বন্ধ করো,
এক অদ্ভুত স্বাধীনতা
তোমার শরীর জুড়ে প্রবাহিত হয়—
সুর্যোদয়ের মতো তীব্র,
বজ্রের মতো নির্মল,
ভোরের শেষ তারার মতো শান্ত।
আর যখন তুমি
নিজের চোখে উঠে দাঁড়াও,
পৃথিবীকেও বাধ্য হতে হয়
তোমার দিকে উঠে আসতে।
স্ব-মূল্য সেই সূর্য
যার কোনও দর্শকের দরকার নেই।
সে জ্বলে কারণ তার জ্বালাই সত্য।
সে জ্বলে কারণ তার দহনই বাস্তব।
তাই কখনও নত হয়ো না
কারও বানানো গুরুত্বের দাঁড়িপাল্লায়।
কখনও সংকুচিত হয়ো না
কারও কাঠামোর ভেতর নিজেকে আটকাতে।
কখনও নামিয়ে দিও না
তোমার আত্মার দিগন্ত
তাদের সামনে
যারা নিজেদের সীমার বাইরে দেখতে পায় না।
প্রমাণ করতে হয়
শুধু তাকে—
যে আগুনের ভেতর দিয়ে
তোমার সঙ্গে হেঁটেছে,
যে কখনও ছেড়ে যায় না,
কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না,
এবং যে ক্রমাগত
আপন অন্তরের অন্তরালে
ক্রমাগত
আরও গভীর হয়ে ওঠে।