সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০২২

দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা

রবীন্দ্রনাথ যতটা দার্শনিক ছিলেন তদপেক্ষা সহস্রগুণে আধ্যাত্মিক ছিলেন ।  তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল - বিদ্যালব্ধ বোধ ও নিছক কল্পনার উপরে নির্ভর না করে, কেবল অনুভবের দুরন্ত ব্যপ্তির উপরে ভরসায়, অনুভব-নিয়ন্ত্রিত কল্পনার সুসহযোগে, সাহিত্য-জগতে, সৃষ্টির অবাধ স্বাধীনতাকে উপভোগ করার । স্রষ্টার সাথে সৃষ্টের নিয়ত দ্বান্দ্বিক প্রেম ও বিরহের উপাখ্যান আর কেউ রচনা করেননি তার মত বৈচিত্রে । এই কাজটি সুসম্পন্ন করার জন্য যেটি প্রথম প্রয়োজন ছিল, সে হলো সর্বদা সত্যের অতি নিকটে অবস্থান করা, যেটি সম্ভবপর হয়েছিল প্রচলিত ধর্মদের থেকে যোজন দূরত্ব বজায়ে রেখেও, তার সুতীব্র আধ্যাত্ম-প্রীতির কারণে ।

অনুভবের গভীরতার পরিসরে এরূপ চর্চার সুযোগটি কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে পাওয়া সম্ভব নয় ব'লে, এ যুগের মোল্ডেড সাহিত্যচর্চায় এই প্রবৃত্তিটির অনুসারীও প্রভূতরূপে দুর্লভ ।
.

সিদ্ধকাম

পুড়বে ব'লে অপেক্ষায় থাকে বেচারা হৃদয় ।

পুড়তে পেলে, না বলতেই
হরপা বান ডাকে নয়ন-যুগলে।
অনুভব গভীরতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, তাই
যতবার পোড়ে, ঠিক ততবার 
দীর্ঘকালের জমা অনুর্বরতার আস্তরণ
প্রবল উজানে ধুয়ে সাফ হয়ে যাওয়ার পরে
ভাবের ঘরে অঙ্কুরের নব উন্মেষের ভোরে
জীবন উজ্জ্বলতাকে ফের খুঁজে পায় ।
পোড়া-কপাল জনমটি সার্থক হতে পারে তখন ।

মন বিভিন্ন রুচির হতেই পারে,
পরাণের নিয়মটি সকলেরই এক ।
পুড়তে চেয়ে, সুযোগ তেমন না পেয়ে,
সেই কোন কাল থেকে,
অজান্তে, করজোরে, অধীর অপেক্ষায় রয়েছে 
অধিকাংশ মানুষের পরমহংস হৃদয় ।