রবীন্দ্রনাথ যতটা দার্শনিক ছিলেন তদপেক্ষা সহস্রগুণে আধ্যাত্মিক ছিলেন । তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল - বিদ্যালব্ধ বোধ ও নিছক কল্পনার উপরে নির্ভর না করে, কেবল অনুভবের দুরন্ত ব্যপ্তির উপরে ভরসায়, অনুভব-নিয়ন্ত্রিত কল্পনার সুসহযোগে, সাহিত্য-জগতে, সৃষ্টির অবাধ স্বাধীনতাকে উপভোগ করার । স্রষ্টার সাথে সৃষ্টের নিয়ত দ্বান্দ্বিক প্রেম ও বিরহের উপাখ্যান আর কেউ রচনা করেননি তার মত বৈচিত্রে । এই কাজটি সুসম্পন্ন করার জন্য যেটি প্রথম প্রয়োজন ছিল, সে হলো সর্বদা সত্যের অতি নিকটে অবস্থান করা, যেটি সম্ভবপর হয়েছিল প্রচলিত ধর্মদের থেকে যোজন দূরত্ব বজায়ে রেখেও, তার সুতীব্র আধ্যাত্ম-প্রীতির কারণে ।
অনুভবের গভীরতার পরিসরে এরূপ চর্চার সুযোগটি কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে পাওয়া সম্ভব নয় ব'লে, এ যুগের মোল্ডেড সাহিত্যচর্চায় এই প্রবৃত্তিটির অনুসারীও প্রভূতরূপে দুর্লভ ।
.