মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২২

ঢং ঢং

#কলির_অন্ত_কেমন_হতে_হয় ??

যখন চারিদিকে হাহাকার আর মহামারী ।

যখন মানুষ মূলতঃ ধূর্ততাপ্রবণ, বিবেকহীন ও জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আপোষে বিশ্বাসী । 

মানুষ যখন সত্য ও সততায় ন্যূনতম আস্থাটুকুও রাখতে পারে না । 

মানুষের মনে আশার প্রতিটি আলো কমতে কমতে একসময়ে যখন পুরোটাই নিভে যেতে চায় !

মূল্যবোধের আশাতিরিক্ত অবক্ষয়ে, ভবিষ্যত বলতে মানুষ যখন কেবল অন্ধকার দেখতে থাকে । 

সরলতা আর বিশ্বাস বলতে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না যখন ।

যেদিকে তাকাও, খালি দুঃখ আর হতাশার ছবি করুণ হাতছানিতে পরিত্রাণ চাইতে থাকে ।

যখন অলখে ঘন্টা বেজে ওঠে আর সেই ঘন্টার তালে তাল মিলিয়ে, ঘন্টায় ঘন্টায়, পরিনত হতে থাকে গোচর ও নিভৃত সারথী, কোনও এক অন্য গোকুলে ।

শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২

মমত্ব

মাত্র একমাস আগেও
সে তোমার আদৌ পরিচিত নয় ।
তুমি এসে পড়েছ তার কাছে
সময়ের শঙ্খনিনাদ অনুসরণ করে
বাধ্য অকালবোধনে,

যে রহস্যের মায়ায় 
বিরল সুযোগের হাতছানিতে
স্রষ্টা, মানুষের ভিতর হতে,
আপন কমনীয় প্রতিরূপখানি
হুবহু প্রতিফলিত করে নেয়

সে নিবেদন-পরিসরে 
তুমি বাকরহিত হয়ে দেখতে থাকো
শ্রদ্ধা কিভাবে, দিনের পর দিন,
নিষ্ঠার প্রসাদে
সেবাকে
মহত্বের উচ্চতরতায় বিমূর্ত করতে পায় ।

বাস্তবে, সে তোমার কেউ ছিল না
মাত্র এক মাস আগেই,
যদিও, বাকি জীবনের জন্য
উপায় রাখেনি আর, ভাবতে -
"সে তোমার কেউ নয়" ।

রূপা কখনও সংবেদের দামে
সোনা অথবা হীরাকে ছাপিয়ে যায় ।

রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২

সমর্পণ

সমুদ্রের বিশালতাকে শ্রদ্ধা কর ?
ভালবাসো ?

সমুদ্রকে নিবিড়তর পেতে হলে 
ডুব-সাঁতার জানতে হবে ।
নাহলে ঢেউয়ের ধাক্কায়
বারবার আছাড় আর নোনাজল খাবে ।

পারের কাছের ঢেউ
ডুব-সাঁতারে একবার পেরিয়ে গেলে
তারপরেই অনেক বেশি দূর অবধি
অনায়াসে যেতে পাবে ।
ঘন্টার পর ঘন্টা ভেসে থাকতে হলে
তখন আবার চিৎ সাঁতারও জানতে হবে ।

পারের সাময়িক উচ্ছলতা 
আর অস্বচ্ছতাটি মনের যৌনতা তোমার 
আর তারপরের চিরন্তন
বিশালতা ও গভীরতাটি হলো 
পরাণের সংবেদ ।

সমুদ্রের বিশালতাকে শ্রদ্ধা কর ?
ভালবাসো ?
তোমার নিয়মে নয়,
ভালবাসলে, যে যেমনটি চায়
তার কাছে তারই নিয়মে পৌঁছাতে হবে ।
.

শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২

শাপমোচন

পরাণ-মন্দিরে 
বিবেকের শুদ্ধাচারে নয়, 

প্রেমের নামে মনের অন্ধকারে 
আসক্তির গর্ভে ধারণ করেছ 
অযোনিজ মোহ-সন্তান
জনম জনমের অশালীন ইতিহাসে ।

ফলতঃ অদূরে
দমবন্ধ হতে হয়েছে ভালবাসার
স্খলিতের অগভীরে বাসে ।

দোষী কর 
মুহুর্মুহু অভিযোগে যখন
পতিত বিরহের সকরুণ প্রকাশে,

সূর্য তখনো রোজ প্রতিভাসে
আর মুক্তির বিরল উড়ানরা 
প্রতীত শৌর্যে পরস্পরে হাসে

The Prohibition

গভীরতা
বিশ্বস্ত নির্ভরটি খুঁজে পায় 
নির্ভার প্রাণে, সংবেদের জোয়ারে

পার্থিব লাভ-সর্বস্ব মনের 
চিন্তার অস্থায়ী উচ্ছলতার 
পার-ঘেঁষা অবিশ্রান্ত ঢেউ 
আর ফেনার অস্বচ্ছতা হতে
যথারীতি অনেকটাই দূরে
অধিকতর সুনীলের অধিকারে

ঠিক যেভাবে,
যে অবধি শৃঙ্খলিত অগভীর স্তরে,
ভালবাসা অহরহ
কামনার সাথে সমানতালে
চটুলতার খেলা করে ।
সাগরের জলে বালি মেশে কেবল তীরে ।

প্রকৃতির এ অসামান্য মস্করা
সামান্য হ্রস্বরা 
এক জীবনে বুঝতে নারে ।

মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

ক্রীং ক্রীং

- "কী রে ? দরজায় দাঁড়িয়ে কেন ?"

- "একলা বাড়িতে । মায়ের স্কুল থেকে ফিরতে এখনো এক ঘন্টা দেরী আর বাবা তো সেই সাতটায় । তাই রাস্তায় লোকের আনাগোনা দেখে সময় কাটাচ্ছি ।"

- "তোর স্কুল ?"

- "আমি তো এক্ষুনি ফিরলাম ।"

- "এত দেরীতে ?"

- "ক্লাস টেনে পিরিয়ড বেড়ে গেছে । তোমার কলেজ নেই ?"

- "ও । এখন অন্য কাজ নেই যখন, তাহলে খেলবি ? আমার কলেজে আজ খেলায় নবীনবরণের ছুটি ।"

- "কি খেলবো ?"

- "ওই যে, রাতের আলো শেষবার সুইচ অফ করার পরে, বাবা-মা রা চুপিচুপি যে খেলাটা খেলে !"

- "ধ্যাৎ । ওটা তো বিয়ে হলে তারপরে খেলতে হয় ।"

- "তোকে প্রথমেই শেষ খেলাটায় পৌঁছে যেতে বললো টা কে ? আমি কি তাই বলেছি নাকি ? শুরুটা খুবই সুন্দর আর সম্পূর্ণ নির্দোষ । মনকে শুধু পরিষ্কার রাখতে হয় ।"

- "কোনটা ?"

- "আরে, ওই যে, শব্দদের চুপ করিয়ে দিয়ে, তারপরে নিজের জিভে ভেজানো ঠোঁটে আলতো করে বিপরীতের ঠোঁটটি ছুঁলেই, কেমন নিজে থেকেই, এক বুক থেকে অন্য বুকে, অদৃশ্য টেলিফোনে, দিব্যি বক-বকম কথা শুরু হয়ে যায় ! একটু আগে যে আর দশজনের মতই নিছক পর ছিল, সে হঠাৎই ভীষণ আপন আর একা নিজের হয়ে উঠতে শুরু করে ! 

এই খেলাটার মধ্যে কি কোনও অন্যায় থাকতে পারে, বোকা কোথাকার ? 

দরজা থেকে সর, ঢুকতে দে ঘরে । আগে থেকে মনে পাপ পুষে না রাখলে, এ খেলা খেলতে শেখায় কোনো ক্ষতি হয় না, বরং খেললেই ওমনি ধেই-ধেই খুশী জমে মনের ভিতরের-ঘরে আর সাত-পুরোনো নিজেকেও আচমকা কেমন যেন নতুন আর ভালো লাগতে শুরু করে । হাসি আর গান মুহুর্মুহু ফেরে ঠোঁটে।

এখনো অবিশ্বাস ? তাহলে বেকার বোকার মত দেরী করে লাভ নেই মোটে । নে তবে, দ্যাখ নিজে পরীক্ষা করে ।"
Mudrakkhar 9330705502