শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

হত্যা



বিপরীতের দ্বন্দ্বে

নতুনের আগমনী শুনতে পেয়েছিল ৷

তারা, ফলতঃ, কাছে এসে,

সরলতার উদাত্ত উপচার সম্বলে

হুড়মুড় করে ভালবেসে ফেলেছিল ৷




তেমনটা হলে যে বুকের নরম ছায়ায়

মাথাটিকে টেনে এনে আশ্রয় দিতেই হয়,

তাই, আর খুব বেশি কিছু না ভেবে

দুজনে উঠে পড়ে, লেগে,

একটা ঘরও বানিয়ে ফেলেছিল !




কালে কালে সম্পর্ক বললো -

"আমার যে ঘরের দাবী আছে !"

অগত্যা বিবাহও হলো !




ঘর হলে, থাকেই

নিয়ম করে রান্নাবাটি খেলা

আর ইচ্ছে-মত স্নানের সাঁতার !




কিন্তু, ঘরের পেছন-খিড়কিতে

একটা ধু ধু তেপান্তরের মাঠেরও যে

বড় বেশি প্রয়োজন ছিল

শৈশবকে তখনো বাড় জুগিয়ে বাঁচতে দিতে

বুকের শ্বাসে বিশ্বাসকে ভরপুর ভরে

হামেশা ঘরকে কাঁধে নিয়ে

আজীবন হাত ধরাধরি দৌড়ে যাওয়ার,

যেখানে পথ আর আকাশ

দুয়েরই সহসা শেষ রইতে নেই !




প্রকৃতি বললো -

"সে তো ভিতরে খোঁজার চর

বিনা অহেতুক আড়ম্বরে !"




মানতে রাজি হলো না মানুষের অহঙ্কার !

বললো - "আচ্ছা বেশ !

খেলা, তাহলে শুরু হয়,

কি না হয় - একবারটি দেখি ৷

আমারটা আমি নিজেই

সবচেয়ে ভাল বুঝে নিতে জানি !"




বিবেকের শিশুটির মুখে হাতচাপা দিয়ে

ধূর্ততা কুটিলতর চকচকে হলো ৷




মাঠে সতেজ সবুজের বদলে

বাটে উথলে উঠলো জলরঙা বিষ !

প্রসারের মুখোশ পরে

বেখেয়াল বুঝে, সুড়সুড় করে,

সংকীর্ণতা সাপের পারা ঢুকে এলো ৷




অন্তরের 'খেলা না-ভোলা' শিশুটির

এযাবৎ মায়াকে

চিরতরে কবরে শুইয়ে দিতেই,

অভিসার - ঘরের মায়াও

তাকে তুলে রেখে দিলো ৷




বিবাহ, অগত্যা, দ্বিচারিতার কাছে

উপযাজক হয়ে

ছাদহীন আশ্রয় ভিক্ষা নিতে

আত্মশ্রদ্ধা-শূন্য দুহাত বাড়িয়ে দিলো ৷