বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

ম্যাচিং

ভালবাসার হাতটি দরদে ধরে রাখা
শ্রদ্ধাকে যেমন মানায়
তেমন কেউই লভ্য নেই আর
এ পাশবিক-প্রবৃত্তি-ভরা পৃথিবীতে ।

ভোগ - মুখ্য, না গৌন হবে জীবনে
সে দায় একা তোমার !
তবে, ন্যূনতম ভোগ বিনা
সাধারণ মানুষের পক্ষে 
বাঁচা সহজ কথা নয় !

ভোগও কি পারে শ্রদ্ধার হাত ধরতে ?
হ্যাঁ, পারে ।
লোলুপতাহীন হতে অভ্যস্ত হলে,
হৃদয়ের হরসে, শ্রদ্ধার জাদু-পরশে,
ভোগ প্রসাদ হয়ে যায় ।

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

মাতৃগরব

মাকে দেখিনি কখনো 
কারণে, অকারণে, ঢলে পড়তে
বাবার গায়ে ।
অথচ আদর ঝরতে দেখেছি দৃষ্টিতে,
যখন পায়ে পায়ে চলে, 
প্রায় কপোত-কপোতীর মত
প্রতিটি কাজ 
জাগরণ হতে শয়ন অবধি
তালে-তাল ভাগ করে নেওয়ায় !

বাবার অনুপস্থিতিতে
বাকরহিত মাকে, কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে,
ঝরঝর করে কেঁদে ফেলতেও দেখেছি
আমারই অক্ষম কিশোরবেলায়,
নিভৃতির আকষ্মিক সুযোগের ধূর্ত
সদ্ব্যবহারে,
দেওর অথবা সন্তানের হোম টিউটরের
অযাচিত প্রেম নিবেদন-প্রয়াসের
অপ্রত্যাশিত আক্রমণে ।

সরাসরি চোখের উপরে চোখ রেখে
বলতে পারেননি সেদিন 
আমার স্বভাবে-শান্ত মা
"আমার এ শরীর-মন্দিরে
সুড়সুড়ানির অশুভ উদ্যোগে 
কোনও লম্পট কামুকের জন্য
কোনও প্রকার রোমাঞ্চিত আবাহন অথবা 
গুপ্ত প্রবেশাধিকার আদপে নেই ।"

ভালবাসা - শ্রদ্ধার সুসহযোগে
অপরাধ ছিল না সেদিনও !
তবে, প্রেমে পড়ার বাহানায়,
নিছক নগ্ন কামনার চরিতার্থতায়
একান্ত আপনজনটির সমান
শরীরের অধিকার দাবী করে বসা -
হাস্যকর রকমের বেঢপ 
একটি মানসিক স্থুলতা ও দূর্বলতা বলে
বিবেচনা করতো সেকালের সেকেলেও ।

না, আমার নিরহঙ্কারী মা 
আমাকে মুখোমুখি বসিয়ে,
তারপরে, বড় বড় বাক্য সাজিয়ে
চরিত্রের প্রকৃত শিক্ষা 
দান করেননি এযাবৎ কখনও ।

সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

স্বতঃস্ফূর্ত

আজ থেকে আরও একশো বছর পরে
সন্তানদের স্বার্থে, বিবাহ টিকিয়ে রাখতে
প্রতিবছরে একবার অন্তত সাত দিনের
দাম্পত্যে স্যাবাটিক্যাল লিভ-এর স্বাভাবিক প্রয়োজন
আইন করে মেনে নিয়েছে সরকার,
ধর, ঠিক বার্ষিক ভ্রমনেরই মত !

সুতরাং সংসারদের
আপন আপন মালিক অথবা মালকিনের
জিম্মায় নির্বিঘ্নে সঁপে রেখে, 
এমনকি প্রৌঢ়ত্বের পরিসরেও
ভালবেসে উদ্দাম হওয়ার স্বাধীনতা
ঝালিয়ে নিতে, তোমার আর আমার
জড় হতে বাধা নেই আবার মোহনায় !

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

পরার্থ ও স্বার্থ

সবার আগে নিজেকে ভালবেসে সুন্দরতর রূপে গড়তে অভ্যস্ত যে হয় না, সে ভালবাসার নামে, আজীবন, পরমুখাপেক্ষী ভোগের এক অলীক সৌভাগ্যের ধারণায় বাস করে এবং একতরফা দুঃখকে নিয়তি করে ! 

ভালবাসার প্রকৃত প্রকাশ সৃষ্টি ও বিকাশের বাস্তবে ! নিজের প্রতি অখণ্ড আগ্রহ ও যত্নের মাধ্যমে যথার্থরূপে শিখতে পারলে, একমাত্র তবেই পরের ক্ষেত্রে ভালবাসার মঙ্গলজনক প্রয়োগ সম্ভবপর হয় । তার আগে পরকে ভালবাসার অধিকার আসে না !

প্রেমের মধ্যে ভোগের আত্ম-স্বার্থ জনিত মোহ যে পরিমানে প্রবল থাকে, শুদ্ধ-পরহিতার্থী ভালবাসার অস্তিত্ব সে তুলনায় সেখানে প্রায় থাকে না বললেই চলে । 

অথচ, কোন কারণে, ভালবাসার মুখোশটি আচমকা খসে গেলে, প্রেমের নামে 'আখেরে শুতে চাওয়া'দের অস্তিত্ব-সংকটে পড়ে শার্দূল-মুখটি বাধ্য লুকাতেই হয় ।

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১

Health Of Soul

Are you more or less stagnating 
by feeling idle before every venture of spirit ? Have you got crippled by expectations from others ? Is only thoughts of others occupy you day and night ? Are you such criticism prone, that you often miss every chance of an aesthetic self creation ?

You are seriously ill then,
badly missing greens deep inside your soul.

Please get rid of your habit-habitat immediately and move out in fresh air to trace your desired individual path of growth. Serendipity kisses and embraces only those who somehow manage to move forward along the path of achiever's rise. 

The Difference

A weak mind waits for uncontrolled incidents of his life to keep happening as inevitable destiny.

A powerful mind, overcomes unforeseen hazards every time by his irresistible grit and makes his daily progress, in a definite direction, compulsorily happen.

A weak mind is thus controlled by his helpless fate

While, a strong mind inevitably controls the major part of his destiny by dint of his cool execution power.

Execution Power is a combination of lot of qualities manifested simultaneously in exact proportions. They are Victorious Will Power, Determination, Withdrawal From Instincts, Purposefulness, Sharp Focus, Zero Pendings tasks, etc. etc.

মঙ্গলবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২১

উদ্দীপ্ত

চেনা ঘরের পুরোনো কোণে
চিরাচরিত ব্যাঙ-থুপাথুপের 
গতানুগতিক ছক ভেঙে
বাইরে বেরিয়ে এসে
ভালবাসাকে 
সম্পূর্ণ অচেনা পরিপ্রেক্ষিৎ হতে
নিত্য নূতন পরিসরে
পরস্পরে আবিষ্কার করতে পারা 
খুব একটা সহজ কথা নয় ।

অথচ, একমাত্র তেমনটি হলেই
একঘেয়েমির আশু সম্ভাবনা পেরিয়ে
আপন পুরুষটিকে দীর্ঘদিন
প্রাণ ঢেলে ভালবাসতে পারে নারী !
উদযাপনের মাতালিয়া ঢেউ
শাড়ি, গাড়ি, বাড়ি, পেরিয়ে 
হামেশা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে ।
আশ-মেটানো সুখের উল্লাসে 
তোল-পাল-তোল দোল খায় ।

ভাষা বনাম শব্দ

হিমালয়ে আজও কত শত সাধুর নির্বিঘ্ন বসবাস - সে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব সাধারণ মানুষের অগোচরে । হিমালয় বহু প্রকার মাংসাশীদেরও আবাসস্থল । উভয়ের সাক্ষাৎও স্বাভাবিক । তবে, হিংসার আক্রমণ সম্ভব হতে পারে না নিয়ন্ত্রণ পেরিয়ে, কারণ - পশুদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও তাৎক্ষণিক প্রবণতার বিষয়ে সাধুরা সর্বদাই যথাবিহিত অবগত ।

যে দম্পতিদের মধ্যে উৎসুক নৈঃশব্দ্যের যত অমিল, তারা ততই বিশৃঙ্খলরূপে কোলাহল-মুখর, তথা অভিযোগ-উপদ্রুত ।

নৈঃশব্দ্যেরও বহুবিধ ভাষা হয়, সে মূলতঃ সুখী প্রাণের ভাষা ! সুখীদের শান্তি-কানন তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোলাহল-বর্জিত ।

সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

সহজিয়া

অসত্যে 
লাভ শেষ অবধি অধিক নাই ।

ঠিক বছর পনেরো আগে
এ পার্থিব শরীর, যেন অক্ষয়,
অনেক বেশি আকর্ষণীয় ছিল
বহুবিধ প্রত্যক্ষের সীমানায় !

অথচ বাধ্য চুলে রঙ মাখি আজ
আয়নাকে ভোলানোর বাহানায় !
তোমার অনাগত পরিনতি কি
আদৌ বিপরীতমুখী হতে চায় ?

পরাণের সজীবতা, তবু বিপ্রতীপে
বাড়তে নেই - এমন নয় !
অনুরাগের বর্ধমান আগ্রহে
তার সরাসরি প্রমাণ হামেশা পাই ।

ভুল বুঝো না তাই !
অনুভবের গভীরতর পরশে
তোমারও বিঘ্নহীন উত্তরণ 
অন্তিম-দিন অবধি যদি চাই !
.

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১

আলিঙ্গন


প্রথম যৌবনে
বক্ষযুগলের কোমলতা ও দৃঢ়তা
শুরু-শুরু তে
বিপরীতের পরশ-সুখের লোভে
একে অপরকে মুহূর্মুহূ আলিঙ্গন করে ।

মধ্যযৌবনে এসে 
তেমন অধিকাংশ পৌনঃপুনিকতা
বাহুল্য মনে হয় !

যে আগ্রহরা তারপরও বেঁচে থাকে, 
তারা বিচক্ষণতায় অতীব বিরল ।
শরীরে শরীর নয়, 
হৃদয়ে হৃদয়ের পরশের মাঝে
ভালবাসার উষ্ণতাটি 
শ্রদ্ধা ও যত্ন-সহকারে অম্লান রেখে,
জীবনকে যারা
সুদীর্ঘদিন চুটিয়ে উপভোগ করে যায় ।

বাসস্থান

পার্থিব-স্বার্থশূন্য অনুরাগও বিলকুল ঘর বাঁধতে পারে ! নজরে নজর মিলতেই স্বাধীন চৌহদ্দিটি তার স্বচ্ছ ধরা পড়ে প্রতিটিবার সচকিত হৃদয়ের উদ্বেলিত সুবাস বিনিময়ে । শুভদৃষ্টি, রোজ ভোরের প্রেরণায় ঘুরেফিরেই হাজির হয়ে, হাসিতে উদীয়মান অরুণের লালচে আভা ছড়াতেই থাকে । দৃষ্টিতে অপরের বর্তমান অনুভব ও ইচ্ছাকে ধারণের পরিসর যথাযথ রইতে পেলে, সে ঘর তুলতে তৃতীয় কোনও পক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে কোনও শক্ত-পোক্ত দেওয়ালের দরকার পড়ে না । 

পাকা দেওয়ালের বদ্ধতায় অবধারিত হাঁপিয়ে ওঠে বেচারা মানুষ । ছিটকে বেরোতে চেয়ে হাঁসফাঁস করে পরাণ । একবারটি বেরোলে, কেউ কেউ ফিরেও আসে পরে, পুরানো হাজতঘরে ! আবার কেউ কেউ এ জীবনে ভুলেও পিছু ফেরে না । 

একমাত্র শুদ্ধ অনুরাগে বাঁধা ঘর তাই বিরাগ-ভাজন কমই পারে হতে, এমনকি জীবনের শেষ শ্বাসটি অবধি !

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১

লোভ

নিজের হাতে বানানো
বিশালাকার ফানুসের তলে
আগুন জ্বলছিল ধক-ধক করে ।
ফানুসে ধোঁয়া ভরছিল মানুষ
একমনে মাঝরাতে
উথলে ওঠা জোছনায় !

তারপরে কী যে হলো,
জানলো না আর কেউ,
একাকী ওড়াতে গিয়ে,
ফানুসের তল ধরে
মানুষও গেল উড়ে,
বেহায়ার মত ছোট হতে হতে
সোহাগী চাঁদের হাতছানিতে
অন্ধকারে
আকাশের অবৈধ সুদূরে ।


সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১

"প্রাপ্য বরাণ নিবোধত"

রাজযোগ, ভক্তিযোগ আর জ্ঞানযোগ
যে হারে সমাদৃত হয়েছে ভারতবর্ষের যোগের প্রচারক সাধুদের কাছে ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনে,

কর্মযোগ সে তুলনায় প্রভূত পরিমানে
বঞ্চিত ও অবহেলিত রয়ে গেছে । কর্মযোগের প্রকৃত শিক্ষা ও দৈনন্দিনে বাস্তব প্রয়োগ এই মুহূর্তে উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতবর্ষে বেশ প্রকট রূপে অপ্রতুল ।

ফুটো কলসিতে জল ভরে লাভ হয়নি । কর্মে অধ্যবসায়ের প্রসাদে আত্মবিশ্বাসে যে  স্বতঃস্ফূর্ততা আসে, সেই আত্মশ্রদ্ধাবোধ-উদ্ভূত প্রবল তেজের অভাবে, গড় ভারতবাসী আজ বৃদ্ধ-ভিক্ষুক-সম, আত্মশক্তিতে গরিমাহীন ও বহুলাংশে, বাস্তব হতে, অলীক কল্পনার জগতে পলায়ন-প্রবণ ।

ত্যাগের প্রশ্ন সদা-সর্বদা আসে অর্জনের পরবর্তী ক্ষেত্রে । যথার্থ শক্তিমান মানুষ ভোগে দীর্ঘদিন সংযত তথা বিরত রইলে তাকে চলতি কথায় সাধু বলে । ভিক্ষুকের আবার ত্যাগ করার মত ধন কোথায় ? সন্ন্যাসী ও ভিখিরি সমার্থক হয়ে যাওয়ার সুযোগে, ত্যাগ এর শিক্ষা ও মাহাত্ম্য জনমানসে বাধ্য অনুদিত হয়েছে অর্জনহীনতার "আঙুর ফল টক" - এ ।

দুর্বলতার বাস্তবকে অস্বীকার করে স্বাভিমানের সংরক্ষণ অসম্ভব । কর্মযোগের সার্থকতম প্রয়োগ বাস্তবে ঘটে চলেছে আজও এ পৃথিবীর বর্তমান বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে ।

ভারতবাসীকে জগৎশ্রেষ্ঠ হতে হলে, সবার আগে, নিজের কলসির ফুটো বন্ধ করতে হবে । 

আপন ঠুনকো অহমিকার কূপমণ্ডূকতাকে পরিহার করে, বিনীত চিত্তে, সফল বিলিয়নিয়ারদের জীবনী অধ্যয়ন করে, তাদের দেওয়া প্রতিটি শিক্ষা ও নির্দেশ, যথোচিত ধৈর্য ও শ্রদ্ধা সহকারে, কায়মনোবাক্যে, আপন প্রাত্যহিকীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ও দ্রুততর অর্জন ও সাফল্যকে দৈনন্দিন সংস্কারে ও অভ্যাসে স্থায়ীভাবে খোদাই করতে হবে ।

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১

কোলের মায়া

শিকল বা খাঁচা ছাড়াই 
পাখি পুষতে পারে কেউ কেউ,
যে শুধু আদর বুলিয়েই
দায় সারে না,
মেলার মেলা ভীড়েও
পাখির প্রতি-প্রকার খিদের আগে 
হৃদয়ের কম্পাঙ্কে 
তার খবর ঠিক পেয়েই যায়

আর খাবারের সুবন্দোবস্তে
নির্ভরতা আর বিশ্বাসকে 
সযতন উপচারে,
নিয়ম করে, জনমভর ধরে রাখে ।

তেমনটি হলে, পাখি এমনও বলে -
"শরীর বা মন থাকলে 
কখনো কখনো খারাপ হবেই !
তখন খুব মায়ের গন্ধ 
আর কোল পেতে প্রাণ চায় !
তেমন মা তো নেই আর,
তাই বারবার এসে, নিশ্চিন্তির বাসে,
তোমার আঁচলে 
অবসর-মত মুখ আর বুক ঘষতে থাকা ।"

মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

সাফল্য

বাস্তববোধকে বাদ দিয়ে
জীবনের সংজ্ঞা রচনা কি আদৌ সম্ভব হয় ?

বাইরে তোমাকে দেখতে একরকম !
কথা বলতে শুরু করলে
শরীরের মত, মন ও প্রাণের 
বাইরের অবয়ব সম্মন্ধে 
মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায় !
তবে সেটুকু 
সমগ্র তোমার তুলনায় কিছুই নয় ।

এ জগতে, 
প্রাণীমাত্রেই ক্ষুধা নিয়ে জন্মায় !
ক্ষুধার মোচড়
আবর্তিত হয় শরীরে, মনে, পরাণে ।
আন্তর চাহিদাদের তুলনায়
উপরিতলের খোরাক সামান্যই হয় ।

প্রতিদিন, নানান বাহানায়,
তোমার ভিতরের চাহিদাদের পড়ে নিয়ে,
পাই-পয়সায় মিটিয়ে দেওয়ার 
সনির্বন্ধ ইচ্ছেকে আমি ভালবাসা বলি ।

তবে, সবসময়ই যে ত্রুটিহীন হতে পারা
সম্ভব অথবা আবশ্যিক, এমন নয় ।
তোমার পুঙ্খানুপুঙ্খ তৃপ্তির স্মৃতি
আমার হাসির উৎসমুখ !
আমাদের এযাবৎ বিবর্তনের ইতিবৃত্ত
সম্পর্কের উত্তরণে সাফল্যের সঞ্চয় !

ভালবাসা, বরং বড্ড সাদামাটায়,
যতটা বাস্তবের গভীরে অনুভবের বিষয়
শৈল্পিক ভূষণ-ভারের অলীক আয়োজনে
কল্পনা-বিলাসের তেমনটি নয় ।
.

রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১

প্রত্যুত্তর

সেদিন অঝোর বরষণ
আর আমার হাতে ধরা ছিল
তোমার পছন্দের সিনেমার দুটো টিকিট !
আসবে কথা দিয়ে
একঘন্টা অপেক্ষার পরেও আসোনি ।

তুমি বেড়াতে যাবে বলেছিলে
সমীরদের সাথে ডায়মণ্ড হারবারে ।
আমি লুকিয়ে জেনে নিয়ে
ঠিক সময়ে ভিড়ে গেছিলাম দলে ।
তুমিই আসোনি দেখে
উতলা হয়ে ফোন করাতে
শুধু বলেছিলে "কাজ আছে, তাই পারিনি ।"

শ্রাবণীর শুভ পরিণয়ে
পৌঁছাতে চেয়েছিলাম তোমার বাইকে চড়ে ।
তুমি বলেছিলে - সেদিনই, কেন কে জানে,
বাইক চালাতে ইচ্ছে মোটেও করেনি ।

তুমি তারপরেও, নিঃসন্দেহে 
খুবই ভালো বন্ধু ছিলে আমার !
হতাশ আমি, দীর্ঘশ্বাস অস্বীকার করে 
নূতন উদ্যমে
তোমার 'কেবল বন্ধুত্বের' অনগ্রসর পরিসরে
ধাক্কা খেতে খেতে
নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুতে পারিনি ।

মর্যাদা-বোধ

তোমাকে প্রতিবার 
অবহেলা-জনিত তাচ্ছিল্যের উদযাপনে
এক এর পর এক পুড়িয়ে মারা
অভিপ্রায় ছিল না কোনওদিন !
প্রতিটি আগ্রহী চুম্বনে 
আমি তোমাকে 
নিসিক্তির চরমতমে
তারিয়ে তারিয়ে আত্মস্থ করতে চাই ।

তাই, যতই ব্যস্ততার মধ্যেই থাকি,
বহুক্ষণ সংযমকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরে
যখন প্রতিটিবার 
তুমি অবশেষে তীব্রতম পায়,

তখন নির্দ্বিধায় সবকিছু ফেলে রেখে,
কারোর কাছে 
পরবর্তীর ঠিকানা না রেখে এসে,

একান্তের নৈঃশব্দ্যে
মুখাগ্নির নির্জন আহুতিতে, 
ও আমার অর্ধশতাব্দী যাবৎ
অবসরের বিশ্বস্ততম অনুবাদ,
তোমাকে নিরাভরণে চাই ।

সহজিয়া

অনুরাগের
অকস্মাৎ ঘনীভবনের
তেমন যৌথ লগনে
ইশারার প্রশ্রয়টুকু বাদে
তোমার যদি
ফের আপোষী মৌনতা বরণ,
তবে নিশ্চিত জেনো পরের বার
পার পাবে না আর সে লগন !

সোহাগ বাধ্য রওনা দেবেই
মন্থনাভিমুখে,
ঠিক যেমন করে
পরাণের একান্ত-আপন
নিছক দয়িতের অধিকারে
গোপনের 
তিরতির কম্পন থেকে
কুসুমিত করতে সক্ষম
তোমার অবধারিত সমর্পণ

আর তারপর 
দৃঢ়তার অনমনীয় দিক-নির্দেশে
দ্রবীভবনের উত্তরোত্তর সহযোগে
মসৃণতার রথে চেপে
গতির চুড়ান্তে উত্তরণে
নিবিড় সুখের অসহ্য শিহরণ ।

অবশিষ্ট তো শুধু 
বিনিয়োগের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে
আত্মবিশ্বাসের পুনরুদ্ধারে
শীৎকারের 
অন্তর্ভেদী বিজয়-বর্ণন ।

শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১

দীপালিকা

ভালবাসতে জানো ব'লে
এমন ঘন সবুজ থাকতে পারো ।

সবুজ মানেই অপ্রতিহত বাড় !
বাড়তে বাড়তে, মেলতে মেলতে,
আপন অজান্তেই
কাঁধে হাতটি আলতো করে রেখে
কখন একদিন ছুঁয়ে ফেল 
যতনের মন্দিরে স্থাপিত অভীষ্টকে,
বাধা - কোনও মতে আর না মানার জেদে
নরমের শরমের !

সচকিত যখন
পিছু ফিরে আকুল নয়নে চায়, 
বাধ্য হাঁটু মুড়ে শুধায় -
"আরে, কত যে খুঁজছি উচাটনে,
জানেন ?
পরাণের পুষ্পরাগে
সে কেমনতর এককে বিবর্তন
এ অবধি যে অরণ্যে হারিয়েছিলেন ?"

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১

অবুঝ নিমিত্ত

প্রেম বলতে আমরা সাধারণত যে জৈবিক-প্রেম বুঝি, শরীর-জনিত লাভ-লোকসানের বহু-বিচিত্র হিসেবের পরিসর অবধি তার কল্পনা-খচিত আবেগের চুড়ান্ত দৌড় ! তার বাইরে সে অচেতন ও অচল ।

এই জৈবিক-প্রেম, পরমুখাপেক্ষা দোষে দুষিত হওয়ার কারণে, প্রতিটি অভীষ্ট লাভের পরমুহূর্তেই অধিকতর অশান্ত ও অতৃপ্ত হতে থাকে এবং অধিকার-বোধের তুরন্ত বাড়বাড়ন্তে, সাময়িক-তৃপ্তিদায়ক মানুষটিকে, চিরতরে ক্রীতদাসে পরিনত করার বহুবিধ পন্থা খুঁজে খুঁজে মরতে থাকে ! তাই জৈব-প্রেমের জগতে কেবলই একতরফা অভাব, তৃষ্ণা, হতাশা ও বিষাদের গল্প, এত ক্ষুদ্র পরিসরে স্থায়ী তৃপ্তির আখ্যানের সফল রচনা অবাস্তব ও অসম্ভব ব'লে । 

প্রকৃতপক্ষে, প্রতিটি জৈবাসক্ত প্রেম, ব্যক্তি-বস্তুর পার্থিব বাস্তবের অদূর সীমানায় অপার্থিব আনন্দকে ব্যর্থ খুঁজে মরে - আপন আসক্তি-দোষে, দীর্ঘ-দুর্ভোগের অভ্যস্ত অভিশাপে ।

লক্ষ্যটি কোনও মানুষ হোক অথবা না হোক, শুদ্ধ ভালবাসা - চিরন্তন স্বয়ংসিদ্ধা, আত্ম-উদ্ভাসের অফুরন্ত স্বাধীনতায় ! তার মুক্ত স্বভাবে প্রাণীজগতের চোষা-চাটা-ঘষার জৈবিক আঠায় আটকে পড়ার প্রয়োজন পড়ে না ব'লে, সে অধিকতম ক্ষেত্রে, ব্যাঙের কূপ হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে রেখে, উন্মীলিত-চেতন ও সদাহাস্যোজ্জ্বল রইতে পারে । ভালবাসা, মূলতঃ সেই জগতের বাসিন্দা, যে জগতে ব্যক্তি-প্রেম ঈশ্বর-প্রেমের প্রায় নৈর্ব্যক্তিক হতে পারে ।

বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

শ্রাবণী পূর্ণিমা

বকবক করতে খুব ভালবাসি,
তবে, সে বেশির ভাগই নিজের সাথে ।
বকবক গুলোর 
একমাত্র সাক্ষী হয় তখন সঙ্গের কলম ।

প্রিয়বন্ধুর সাথে 
বহুদিন বাদে দেখা হয়ে গেলে
আবার অন্য রকমের ইচ্ছা জাগে ।
মনে হয়, একমুখ হেসে, ধাঁ করে গিয়ে
সটান জাপটে ধরি সুখী বুকে
আর তারপরেই
নিঃশব্দে কল খুলে দিই 
সামনের মানুষটির এযাবৎ জমে জমে, 
অতঃপর, পড়ি কি মরি উছলে ওঠা
যাবতীয় বকবকের
আর আপন অন্তর্মুখী স্বভাবের গুহায়
ফের ঢুকে পড়তে পারার সুযোগে
একান্ত মনোযোগ সহকারে
পান করতে শুরু করি 
সে স্বতঃস্ফূর্ততার অমৃত-সুধা !

হ্যাঁ ! আবেগ-মাখানো শব্দরা 
মানুষের বুকের গভীর হতে
যখন বেরিয়ে আসতে শুরু করে
বাঁধভাঙা উচ্ছাসে,
তখনই কিছু না কিছু অমৃতগন্ধ
সে বহন করেই থাকে ।

না, নিজের কথা আগ বাড়িয়ে বলতে,
বকবক করতে যেতে, 
একদম ইচ্ছে করে না তখন ।
শ্রবণে শ্রাবণের সার্থক বানভাসি
কজনই-বা প্রাণ খুলে অনায়াস সাঁতারে
উপভোগ করতে জানে ?
.

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১

সেয়ানে-সেয়ানে

তোমাকে বলিনি কখনো
মানুষ অন্য ভাষাতেও কথা বলে
যার সব শব্দার্থ জানতেই হবে
এমন দিব্যি কেউ দেয়নি তোমায়,
এমনকি তোমারই বিষয় হলেও নয় !

তেমন সময়ে, ভুল বুঝে, ধৈর্য হারিয়ে
একা এগিয়ে যেতে যেতে
মোড়ের মাথায় পৌঁছে গেলেও
পিছু না ফিরে
মৃদু হেসে অপেক্ষা কোর ।

রাস্তা যেখান থেকে 
চিরতরে ভাগ হতে চায়
সে পানে পা আর বাড়িও না ।
এরপরও এগিয়ে গেলে
অধীরকে বধিরে পাবে,
আকুল পিছুডাক 
শেষ অবধি প্রাণে পৌঁছাবে না ।

শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১

Conservation

Is there a relation between Energy and Time ?

We are generally used to accept 'Time' as a constantly flowing entity, abundantly available as life, though every such mere chance called life, must finish only within a few decades. Well, may Time be conserved, drop by drop, as personal assets ? Yes it may, through individual outputs or achievements, converted as worth.

Well then, why we often fail to conserve Time ?  Its due to our frivolous indulgence to voluntary wastage of Energy. Its due to the absence of a volitional learning of how energy may be conserved only for ( one at a time ) single central purpose.

The most powerful dialect of the two principal volatilities that we have as life are Energy and Time. Conservation is, thus, a higher sense that we need to miserly develop as a habit, for the best utilisation of both. 

The hardcore truth of life is that, its only the 'Sense of Strict Conservation' that may permanently preserve both Energy and Time as personal assets through a longer series of unabated and individual productive outputs.

সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১

ইনফেকশন

মোটা-মাসি অনেকক্ষণ থামছে না ৷ 
থেবড়ে বসে মাজছে ঘেমো শরীর
রাস্তার ধারের কলতলায়
সান্ধ্য কলকাতায় ৷
ব্যাস, মূল দৃশ্যটি
এর অধিক আর কিছুই না ৷

তুমি ঝাঁজিয়ে উঠলে তখনি
"আরে থামবে ?
এটাকে মোটেই কবিতা বলবো না ৷"

লো-কাট ব্লাউজের স্বভাবসিদ্ধ কারুণ্যে
কালো পাথরের উদ্ধত বিভাজিকা বেয়ে
নামতে থাকা মসৃণ জলে
মাঝে মাঝেই কেমন ছলকে উঠছে
চতুর্দশীর চাঁদের অবাধ্য যুবতী প্রভা,
পথচলতি কারোর 
চোখের লালা না ঝরা কে 
সে দৃশ্য
যে একটিবারও রেয়াত করছে না,
সে কথা মাসি নিজে আদপে বুঝছে না -
তেমনটি কিন্তু ভুলেও ভেবো না ৷

নারীর কোন অবলীলার লীলা
পৌরুষের অগতিতে 
কখন যে কি পরিমানে বাড়াতে পারে -
"যেমনি নধর - ওমনি গতির প্রেরণা",
মোটা-মাসির পাকা লোম বেয়ে
ভেসে যাওয়া 
অতীতের প্রসন্ন শ্রাবণের কল্যানে
সে খবর 
বহু আগেই শতাধিক বার কেনা ৷

শব্দের শয়তানি শেষ হলে পরে
তুমি প্রায় বাকরুদ্ধ এবার 
এবং চোখে পাক্কা কবিতার মত হাসিও
কিছুতেই লুকানো গেল না !

প্রতিবাদরা প্রতিস্থাপিত,
প্রতিস্থাপক - যথারীতি প্রচ্ছন্ন ঘামে বোনা !
শ্বাসের ঘনত্বে 
জ্বরের পুনরাবর্তনের পূর্বাভাস !
তার একটু পরেই অন্যমনস্ক প্রতিবেদন - 
"ল্যাঠাটা চুকেছে কাল রাত থেকেই, 
সর্বাঙ্গে তবুও নাছোড় ব্যথা,
একটু টিপে দিও তো জোড়া হাতে,
উপরে চড়ে, মাখো মাখো করে !

রাত হলো, চল শোবে না ?"
.

সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

ভাগ্যের ভাগিদার

দীর্ঘশ্বাস আর হা-হুতাশ দের একটু বেশি কাছাকাছি গেলে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হতে হয় ৷ 

মনস্তত্ত্বের সাথে দর্শন নিয়ে অধ্যয়নের গভীরে যাদের নিয়মিত যাতায়াত আছে, তারা হামেশা জানতেই পারে যে, মানুষের ভাগ্যের উদ্ভব ঘটে আপন চরিত্রের গভীর হতে, অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ দুর্ভাগ্যের কারণ লুকিয়ে থাকে মানুষের বিশেষ বিশেষ চিন্তার প্রবৃত্তিতে এবং তদনুযায়ী বিশেষ কিছু stereo-typed action ও reaction এর অভ্যাসে ৷ এই বিশেষ প্রবৃত্তিরা তার প্রারব্ধ আসক্তিও হতে পারে, অথবা এ জনমের বিভ্রান্ত অর্জনও হতে পারে ৷

বিশেষ দুর্ভাগ্যটি হতে মুক্তির উপায় হলো, নিমিত্ত অভ্যাসটিতে সচতন নির্লিপ্তি তথা প্রশ্রয়হীনতা এবং বিপরীতমুখী অভ্যাসের নব সংযোজন - আপন চরিত্রে ৷

এবারে মজার কথাটি হলো, মানুষটিকে এই কথাটি ধরে কথা বোঝাতে গেলে, সে আপনাকে তেড়ে মারতে আসতে পারে, কারণ ঐ বিশেষ কু-অভ্যাসটিকে সে যেহেতু আপন ব্যক্তিত্বের গর্বিত ভাগীদার হিসেবে লালন ও পরিচর্যা করে এসেছে এতদিন, সুতরাং তার পক্ষে মেনে নেওয়া সমূহ কঠিন, যে ঐ বিশেষে দুর্ভাগ্য-সূচক কু-অভ্যাসটি ছাড়াও, সে, এই পৃথিবীতে, অতি সহজে, সুন্দরতর রূপে দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে ৷

আপনাকে বরং হতাশ হয়ে তাই দেখতে হবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে, যে - দুই হাজার টাকা fees দিয়ে, সে psychiatric medicine খেয়ে ঝিমাতে পারে, দিনের পর দিন, কিন্তু ওষুধ বিনি পয়সায় হাতের কাছে পেলেও, কোনওমতেই তাকে গ্রহণ না করে, বরং নির্দ্বিধায় আপন বিষের জ্বালায় বাকি জীবন জ্বলতে অধিক প্রবৃত্ত হতে পারে ৷

মানুষের অজ্ঞতা এই উপায়ে আপন ভাগ্য বা কপালকে না পাল্টানোর চেষ্টা ক'রে, অসহায় রূপে মেনে নিয়ে, দিনের পর দিন বরং অধিকতর reinforce করার চেষ্টা করে ৷

রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

ত্বরণ

যখন খুঁজতে, খুঁজতে, খুঁজতে,
ক্লান্ত হয়ে, আর বিভ্রান্ত না হতে,
অবশেষে ডুব দাও আপন গভীরে,
পাগলের মত খুঁড়তে শুরু কর নিজেকে

তখন আমার মৌনতার অবসর !
তখন আর তোমার কাছে গিয়ে
জানান দিতে চাই না আপন উপস্থিতির !
বলি না - "পাশেই আছি তোমার" !
বিরক্ত করি না যেচে,

কারণ - সব মানুষেরই সৌভাগ্যে
বিশেষ বিশেষ সময়ে
রইতে হয় কিছু পথ একলা হাঁটবার ৷

শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১

নেশা


বয়সের সাথে সাথে মানুষের পরিনতি বা পরিপক্কতা বৃদ্ধি পায় ৷ আমরা তাকে ইংরেজিতে ম্যাচিওরিটি বলে থাকি ৷ কোনও কোনও বালক, বালিকার মধ্যে এমন অদ্ভুত ম্যাচিওরিটি দেখা যায়, যা তার বয়সের সাথে আদৌ খাপ খায় না ৷ 

এরা খুব অল্প বয়স থেকে প্রতিটি ক্ষনস্থায়ী, অদূর ও ক্ষুদ্র স্বার্থকে অবাক নির্লিপ্তিতে পাশ কাটিয়ে যেতে থাকে, এক এর পর এক, কোনও এক সুদূরের প্রতি স্থির লক্ষ্যে, অন্য সকল সমবয়সীদের থেকে একদিন অনেক বেশি বড় হয়ে, ধরা ছোঁওয়ার ঈর্ষণীয় বাইরে চলে যেতে যেতে ৷

মানব হতে মহামানবের প্রকাশ-সম্ভাবনা জাগরিত হতে পারে কেবল জাগতিক প্রলোভনের বিরুদ্ধে শক্তির সংরক্ষণের দ্বারা, অপচয় প্রতিরোধে - কঠিনতম সংযম-ক্ষমতার উপরে আপোষহীন নির্ভরে ৷ 

অপরপক্ষে, প্রতিটি সুখের দিশা - মধ্য-চিত্তের করুণ বিবশতার বহমান নিত্যে লঘুত্বের নেশাই হয়েছে কেবল, তেজোদ্দীপ্ত শক্তির প্রণম্য দিশা হতে পারে নি কোনওদিন ৷
.

সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১

শুদ্ধম স্মরণম

প্রেম যদিও স্বভাবে আপাদমস্তক চোর,
প্রতিটি প্রেমের মাঝে
কিছু না কিছু ভালবাসার শুদ্ধতার বাস,
বাঁশির সুরে প্রণতি যেমন
সারস্বত বীণার অনুনাদ-প্রয়াস ৷

প্রাণ ঢেলে ভালবাসলেও
মানুষটিকে প্রেমের টানে
শিকড়-সমেত উপড়ে ফেলা
শেষ অবধি পারে না অভীষ্ট হতে ৷
যথার্থ আত্মশ্রদ্ধাবোধ
একটিই মূলকে অনুমতি দেয়
জীবনের সুগভীরে স্থিরতা ও স্থায়িত্বকে
প্রত্যয়ী সম্মান জানাতে ৷

শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১

অভ্যর্থনা

দরজা খোলাই ছিল ৷
জাঁকজমক খুব বেশি ছিল না হয়তো,
তবে, পর্যাপ্ত পরিমাণ আন্তরিকতা ছিল
পরাণের আরাম কেদারার আহ্বাণে ৷

তুমি পারোনি 
অহমিকা আর অধিকারবোধের
বিশাল ওই অস্বচ্ছ বপুকে দরজার বাইরে 
জুতোর মতন খুলে রেখে আসতে ৷
দক্ষ কৌশলীর
ঢুকতে গিয়ে তাই এক্সিডেন্ট হলো ৷

আটকে পড়ার পরমুহূর্তে, সচেতন হয়ে,
অভ্যাসকে বর্ষতির মত
ঘরের বাইরে টাঙিয়ে আসলেও হতো ৷
কিন্তু আসক্তি এতটাই তীব্র, যে -
তোমাকে সর্ব-সমেতই ঢুকতে হবে ৷
প্রবেশ-দ্বারে অপরিমিত প্রশস্তি 
খুঁজে না পেয়ে পেয়ে, অবশেষে,
ইচ্ছার তীব্রতার 
বিনাশ-কাল সমাগত হতে হলো ৷

সেই কারণে নির্দোষকে "মৃতদেহ" ব'লে
অভিশাপ দিয়ে চলা অবধারিত - নিয়তির ৷
"গতিকে যতির অভিশাপ হতে মুক্ত করতে
দৃষ্টি স্বচ্ছতর হোক" - এই মৌন প্রার্থনা
তারপরও
অসহযোগী ছিল না কখনও 
চিরহরিৎ-প্রবণ অভিকর্ষ-প্রান্তরে ৷
অভিমানী অবান্তরের যদিও কোনও
উপায় ছিল না আর সে কথাটি জানার ৷
.

বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১

উড়াল

সজ্ঞানে টানতে থাকা
তোমার বিবশ হাত দুটি ধরে

তবে আমার কাছে নয়
জীবনের সত্য-সমূহের নিকটতরে
যেন ঘর্ষণে চোখের ছানি 
ক্রমশ ফিকে হতে বাধ্য হয়
একটু একটু করে

যেন প্রবৃত্তি-তাড়িত দাসত্বের
ক্রমাগত আবর্তন হতে
মুক্তির দিশাটি একটিবার চিনতে পেরে
ক্রমশঃ কমে আসে ভুলের গড্ডলিকা আর
যাপন-পথটি সরলরৈখিক হতে পারে

যেন অবদমিত রোমাঞ্চের বাঁধা ছকে
ভোগের ভোগান্তিতে 
নতুন ক'রে আর না ফেঁসে 
বারংবার হতাশায় পৌঁছানোর 
অবধারিত নিয়তি
অস্তিত্ব হারায় চিরতরে 

যেন হাসতে পার দিল খুলে, উচ্চ-স্বরে,
খোদ আপন উত্তরণের সুবাদে
জয়ীর পতাকা অনেকটা উঁচুতে তুলে ধ'রে

যেন শিকল-ভাঙা পরী 
সুন্দরের অন্বেষণে
মুক্তাকাশে 
ভালবাসার জোড়া-ডানা মেলে
স্বাধীনতার নির্বিবাদে
ফের যেমন খুশি 
নিশ্চিন্তে উড়ে যেতে পারে 
.

সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১

রোধ

কাল না একটা কাণ্ড করেছি ! 
.
হাসান কাকু গত বছর বাবাকে যে মোটা ডাইরিটা দিয়েছিল, বাবা, এতদিন হল, তার মধ্যে একটা শব্দও লেখেনি ! আচ্ছা, ডাইরিটার বুঝি কষ্ট হয় না, কেউ সারাদিনে একবারও তার দিকে মনযোগ না দিলে ? আমি না, তাই ওকে নিয়ে চলে এসেছি আমার বইয়ের তাকে ! বাবা তো খেয়ালও করে না ! আর আমিও তো এখন ক্লাস সিক্স এ ! দ্যাখ, সব কথা এখন কেমন নিজে লিখতে পারি !
.
আমি তো জানি, আমি আগে পেনসিল নিয়ে আঁকিবুঁকি কাটতে শুরু করলেই তুই যেমন এক লাফে আমার পাশে এসে দাঁড়াতি, এখনও তেমনই করবি ! ব্যাস ! তাহলেই আমি আবার যখন যা মনে আসবে - বলতে পারব তোকে !
.
গত বছর মা যখন মরে গেল, আমার না কান্না পায় নি ! সবাই বলছিল প্রেশার বেশি ছিল বলে এত অল্প বয়েসে হার্টফেল করে গেল ! আমি ভাবছিলাম যতবারই নিয়ে যাক না কেন, যেখানেই হোক, সেরে গেলে আবার ঠিক ফেরৎ দিয়ে যাবে ! বাবা কিন্তু খুব কেঁদেছিল শ্মশান থেকে আসার পরে ! আমাকে নিয়ে যায় নি ! তবে শ্রাদ্ধের আগের দিন ন্যাড়া করে দিয়েছিল - আমাকে !
.
তার কয়েক দিন পরে ফারুক কাকু, পরেশ কাকু আর মদন কাকু সন্ধ্যাবেলা বাবাকে বড় ঘরে নিয়ে গিয়ে, অনেক ক্ষণ ধরে কী যেন বোঝালো ! বার বার আমার নাম করছিল, - এটা শুনতে পেয়েছিলাম ছোট ঘর থেকে ! আর তার দুই মাস পরে বাবা একদিন, আচমকা আমাকে না বলেই, সেই, আমাদের দূর সম্পর্কের সন্ধ্যা মাসিকে সাথে করে নিয়ে এলো সন্ধ্যাবেলা ! সন্ধ্যা মাসির মাথায় দেখি মায়ের মত সিঁদুর ! তারপর থেকে সন্ধ্যা মাসি আমাদের সাথেই থাকে !
.
সুহাসিনী জ্যেঠিমা আমার বালিশটা ছোটঘরের তক্তায় এনে ফেলে আমাকে বলেছিল, - "প্রতীক, সোনা বাবা আমার ! তুমি তো বড় হয়ে গেছ এখন ! আরও বড় হতে গেলে আর মা বাবার সাথে শুতে নেই !  তুমি এখন থেকে এই ঘরে শোবে !"
.
তখন থেকে আমি ছোট ঘরে শুই - একা ! তাই কত সুবিধা হয়েছে দেখ, সবাই ঘুমাচ্ছে আর আমি এখন কি করছি !

তোকে না, চুপি চুপি একটা কথা বলি ! আমি তার দুদিন পরে, খুব ভোরে, একটু আলো ফুটতে, লুকিয়ে লুকিয়ে বড় ঘরে গেছিলাম ! মায়ের বালিশে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিল সন্ধ্যা মাসি ! মুখটা, কেমন যেন হাসি হাসি !
.
আমার তখন মায়ের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল রে ! খুউব ! আমি তারপরেই মায়ের নতুন ছবিটাতে, চোখ মুছিয়ে দিতে দিতে, অনেকবার বলেছি, "মা তুমি কেঁদো না, একদম কষ্ট পেয়ো না ! কেমন ! আজ থেকে আমি আমার বালিশের দেওয়ালের দিকের অর্ধেক টা তে শোব ৷ আমার ওতেই হয়ে যাবে ৷ বাইরের দিকের অর্ধেকটাতে তুমি মাথা রেখে শুয়ো ! আর, এখন থেকে আমার কাছে ছোটো ঘরেই থেকো ! যারা বেশি কাঁদে তারা বোধহয় পারেও - তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে !"
.
তারপর মুস্কিলও হয়েছিল একটা ! মাঝে মাঝেই, কেউ না কেউ খপ করে ধরে ফেলে - আমাকে ৷ তারপর চুপি চুপি জিজ্ঞাসা করে আমি সন্ধ্যা মাসিকে মা বলে ডাকি কিনা ! আমাকে তখন কোনও রকমে ওদের হাত ছাড়িয়ে পালাতে হয় !
.
ওরাও কিছুতেই ছাড়তে চায় না আমাকে ৷ আচ্ছা তুই-ই বল কেমন বোকা ওরা ! আমি নিজের মাকে নিজেই আরও কষ্ট দিতে পারি ? মা কখন, কেন কষ্ট পায় - সেটা ওরা কেন যে একজনও বোঝে না ?
.
সেদিন অবশ্য আমিও বুঝতে পারি নি কিছু - রাতের অন্ধকারে ! খালি সবাই যখন "কি হয়েছিল বল ! কি হয়েছিল বল !" - বলে, বার বার, জোর করছিল - বাবাকে, তখন বাবা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাতে তাকাতে বলেছিল - বাবার মুখের ভিতরে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে রেখে, ওরা প্রথমে মা আর তোর হাত দুটো পিছমোড়া করে বেঁধে দিয়েছিল ৷ তারপর তোদের মুখে আর চোখে ডাক্তার বাবুদের চিটিং প্লাস্টার আটকে দিয়েছিল ! তারপর একটা বোরখা বের করে পরিয়ে দিয়ে, ওদের একজন তোকে কাঁধে তুলে নিতেই সবাই একসাথে চলে গেছিল !
.
সবাই যখন মায়ের হাতের বাঁধন খুলে, চিটিং প্লাষ্টারগুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলল মুখ আর চোখ থেকে, তখন মায়ের দেওয়ালে মাথা ঠুকতে ঠুকতে - সে কী কান্না ! কেউ থামাতেই পারছিল না ! মা খালি বলছিল - " চোদ্দ বছরের মেয়েটাকে ওরা কী কষ্টই না দেবে ! মেয়েটা খালি গোঙাবে আর মা মা বলে ডাকবে ! আর তাতে সবার আরও নেশা বেড়ে যাবে ! কেউ একটুও বাঁচাতে তো আসবেই না ! বরং কাঁদলেই ওরা আরও মারধোর করবে ! কোথায় কোথায় নরম জায়গাগুলোতে, খুঁজে খুঁজে, জোরে জোরে মারবে ! খামচে রক্ত বের করবে, - যার যেমন ইচ্ছা ! কী অত্যাচারই না করবে ! মেয়েটা হয়তো অজ্ঞান হয়ে যাবে - যন্ত্রণায় ! তবুও ছাড়বে না ওরা, তারপরও, অচেতন শরীরটাকে ! কতগুণ বেশি নিষ্ঠুর হতে পারে মানুষ - হায়নার থেকে !
.
আমি কি করব এখন ? কত ভরসা করত মাকে ! কত শ্রদ্ধা করত বাবাকে ! কী ভালটাই না বাসত সবাইকে ! কী পেল করে ? আসলামের বৌটা কবেই বলেছিল - দিদি, বাঁচতে চাও তো পলায়ে যাও এ দ্যাশ ছেড়ে ! সুখের মায়ায় পড়ে তখন কান দিই নি সুপরামর্শে ! হায় ! কী পাপের পাপী ! এখন পারলাম না বাঁচাতে ফুলের মত সন্তানটারে !"
.
আমি না, এখন বড় হয়ে গেছি, জানিস ! অনেকটা বেশি ! অনেক নতুন নতুন কায়দা করতে পারি ! যেমন, ইস্কুলের পম্পা দিদিমনি কাল বলছিল, - স্বামী বিবেকানন্দ নাকি দেওয়ালে একটা পেন্সিলের ফোঁটা দিয়ে, তার দিকে তাকিয়ে ধ্যান করতেন ! ব্যাস, আমিও বাড়িতে ফিরে ছোটঘরে এসে, সুইচ বোর্ডের ঠিক পাশে চুনকামের যে সরু লম্বা লম্বা নীল দাগগুলো ছিল, ওগুলোতে নজরে পড়তেই, দেখতে পেলাম -  তোর চুলগুলো যেন ! তারপরই ব্যাস ! বিবেকানন্দের মত বেশ কিছুক্ষণ সোজা তাকিয়ে থাকতেই, একটু একটু করে দেখতে পেলাম চুলের নীচে কপাল ! তার নীচে - তোর চোখদুটো, নাক, ঠোঁট, থুতনি - তোর মুখের সবটা ! আর আমি পুরোটা চিনতে পেরেছি যেই, ওমনি, তোর মুখে সেই - খুব মিষ্টি হাসিটাও ! 
.
তারপর থেকে কতবার দেখেছি ! পরশু, সন্ধ্যামাসি দানাদার কিনে নিয়ে এসেছিল অনেকগুলো ! আমি আজ সকালে ফ্রিজ খুলে দেখে এসেছি - দুটো দানাদার এখনও পড়ে আছে প্যাকেটে ! আর, সেই জন্যই তো বলছি - একটা কাজ করবি ? না ! তোকে তেমন কিচ্ছুটি করতে হবে না ! সব আমিই করব, শুনেই দ্যাখ ! অতটাও ছোট নেই এখন !
.
চান করে নিয়েছি আজ কাউকে না বলে, ভোর হওয়ার আগেই ! সন্ধ্যামাসির সকালের পূজো হয়ে যাওয়ার পরে, চুপিচুপি বাতাসা নকুলদানা দেওয়ার ঠাকুরের ছোট্ট থালাটা গেঞ্জির মধ্যে লুকিয়ে এনে, তাতে, ফ্রিজ থেকে দানাদার দুটো দিয়ে, - তোর পাশে, পড়ার টেবিলে রাখব ! আর চট করে তুলে আনব কয়েকটা দুব্বো ঘাস - বাগান থেকে ! 
.
এরপর, পাশে, আশুতোষদের বাড়িতে আশুতোষের দিদি যখন ভাইফোঁটা দেবে, তখন ওদের মা শাঁখ তো বাজাবেই ! আর যেই না বাজাবে, ওমনি আমি চট করে আমার কপালটা নিয়ে এসে আলতো করে ঠেকাব দেওয়ালে -ওই খানে, যেখানে হাসছিস তুই ! ব্যাস, তখন তোর তিন বার ফোঁটা দিয়ে দিতে আর কী অসুবিধা থাকবে - বল ! দ্যাখ, বড়দের মত বুদ্ধি হয় নি ?
.
আর একটা কথা আছে ! বলি ? তুই আমাকে ফোঁটা দেওয়ার পরে অনেকক্ষণ যে আলতো করে ধরে থাকতিস, তখন আমার কি মনে হত জানিস ? সেটা তোকে কখনও বলি নি কিন্তু ! 
.
মনে হত - দুটো ইয়াব্বড় ডানা তুই কাউকে জানতে না দিয়ে লুকিয়ে রাখিস পিঠে ! আমাকে ফোঁটা দেওয়ার পরে যখন অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকিস, একমাত্র তখনই - আসলে, তুই সত্যি সত্যি পরী হয়ে যাস ! কত কত দূরের আকাশে ঘুরিয়ে নিয়ে আসিস - আমাকে ! আর আমার কী দারুণ লাগে রে, - তখন !
.
এই দিদি ! বল না ! তোর তো মনে আছে ! ধরবি ? আমাকে আজকে আবার অমন করে জড়িয়ে ? শুধু একবার ! ব্যাস ! তাহলেই হবে !
.
আমার খুব ইচ্ছে করে !
.
01.01.2016

শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

হৈমন্তিকা

বড় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসে হেমন্তের বিকেল ! লাঞ্চ করতে দেরী হয়েছিল ৷ তারপরে একটু চোখ লেগে আসতেই বেলা শেষ ৷ আচমকা দেখি ঘরে নেই আর কেউ ৷ খুঁজতে খুঁজতে, বাগানে নামতেই ভিজিয়ে দিল অসময়ের হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি ৷ "তুমি কই ? তুমি কই ?" - দৃষ্টি উতলা হয়ে কয়েক পা এগোতেই দূর থেকে চিকচিক করে উঠলো তোমার হাতে বড়পিসির দেওয়া ফঙ্গবেনে আংটি-টা ৷ একটু কাছে যেতেই দেখি শিমুল-তলে চুপ করে দাঁড়িয়ে তুমি, স্থির দৃষ্টি পাশের বড় ফুলের টবে, শামুক-দ্বয়ের জোড়-লাগা সাময়িক অনন্তের পানে !

বুঝলাম, সপ-সপে হয়ে ভিজে চলেছ নরম জলের অনুযোগে ৷ 

অতঃপর আর দেরী করার নির্বুদ্ধিতা সহ্য হতে নেই ৷ পিছন থেকে নিঃশব্দে গিয়ে, পাঁজকোলা করে তুলে নিয়ে সোজা উইপিং ক্যালিপ্টাসের ঘন আড়ালে গিয়ে তোমাকে ফের দাঁড় করিয়ে দেওয়া 

আর তারপরে, আপোষে, অ্যাক্রোব্যাটিক্সের ছান্দিক দ্বন্দ্বের সুঠাম তালে, শামুক-সুলভ মসৃনতায় সুনিবিড় অবগাহন শুধু বাকি ৷

শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১

সত্যানুভব ও কল্পনা-শিল্প

সত্যের নদীখানিও চলে এঁকেবেঁকে ৷

অনুভবের ডিঙিটি সে বহমানতাকে

মৃদুছন্দা সারল্যের সুবাদে

ধীর গতিতে হলেও, বাইতে ঠিকই পারে ৷


শাশ্বতীরা 

অবশেষে পৌঁছে যেতে পারে গন্তব্যে

শাশ্বত-র অভিসারে ৷


চাকচিক্যের বাগাড়ম্বরে পরিপূর্ণ

কল্পনার বজরা

সত্যের দিশায় কেবলই আটকে পড়ে ৷ 

"আমি"-র ঘূর্ণীতে 

ঘুরে-ফিরে ঘুরতে থেকেই 

দূর্মূল্য জীবন সমাপ্ত করে ৷

.

.

সততা

যা যা পারো নি দিতে, তা নিয়ে

কোনদিন কোনও অভিযোগ নেই আমার ৷

তবে, দিতে চাও নি কখনও যা

সে নিয়ে অবশ্যই অভিযোগ আছে ৷


তুমি কিন্তু পারতে

সরলতা আর উদারতাকে

অক্লান্ত স্বেচ্ছার কর্ষণে

ফুলের মত গেঁথে উপহার দিতে

ভালবাসার নিরবচ্ছিন্ন মালায় ৷


অধিকারের লোভ ক্ষমতার গরিমায়

তথাপি টেনেছে অক্ষমতাকে, পদে পদে, 

অধিকতর কাছে ৷

.


বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১

কারুবাসনা

"তুমি লিখছো" - এটা তোমার কাছে

ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও

সময়ের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় !

"আমি" একটি অহমিকার অন্ধত্ব-পরিচয়

যে কুকুরের লেজের মত

ঘুরে ফিরেই, প্রসঙ্গে,

নিজেকে মূল প্রতিপাদ্য করে

নিছক কূপমণ্ডুকতার জানান দেয় ৷


"কতজনা আজ 

কত প্রকারে বাহবা দিল তোমাকে" -

সেটাও একই হারে বর্জ্য, প্রাসঙ্গিক নয় !


"তোমার দৃষ্টি জীবনের অকাট্য বাস্তবে

কতদূর গভীর অবধি যায়" -

এটা কিন্তু অবশ্যম্ভাবী রূপে গুরুত্বপূর্ণ,

কারণ অনুভবের শিকড় যত গভীরে যাবে

বিরচিত লীপিমালা

কালের ঝড়কে তত সহজে সয়ে নিয়ে

শেষ অবধি টিকে যাবে ৷


এই কারণেই রবি ঠাকুর 

বর্তমানের অনেক যশস্বী অপেক্ষা 

আজও অধিকতর প্রাসঙ্গিক ৷ 


জীবনের কেবল উপরতলে

কল্পনার এক্কা-দোক্কা খেলায়

যতই মেধার পরিচয় রাখো না কেন,

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন কর -

"সময় কি তার বুকের অন্দরমহলে

তোমাকে আদপে জড়াবে,

নাকি, কেবল উপরিতল-চর্চা

সামুদ্রিক ফেনার লঘুত্বে

আপন আত্মঘাতী প্রবণতায়

এক বা বড়জোর দুই দশকেই

নিজেকে নিশ্চিহ্ন করা 

অবধারিত রূপে সুসম্পন্ন করাবে ?

সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১

আত্ম-বিকাশ

বিক্ষিপ্ত চিরন্তন-অর্জনহীন ৷

অর্জন কেবল স্থিরলক্ষ্যে সম্ভব ৷


সময় মানুষের 

একমাত্র ও আবশ্যিক মূলধন ৷

এ জগতে 'যোগ্যতা' এবং 'প্রাপ্য'

কোনও সীমিত মাত্রা নয়,

অর্জন-লভ্য মাত্র! ৷


উত্তীর্ণ হতে হলে

একটিমাত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া

আর সকল লক্ষ্য হতে

সর্বপ্রথমে, সচেতন ভাবে, 

নিজেকে বিযুক্ত করতে পারা আবশ্যক ৷


তবে

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার 

ন্যূনতম প্রয়োজনকে 

অবহেলা করলেও হবে না,

কারণ, অগ্রগতির দৌড়কে

অপ্রতিহত করতে হলে

দুর্ঘটনাকেও পরিহার করতে হবে 

প্রয়োজনীয় ধৈর্য সহকারে ৷


একমাত্র তবেই সম্ভব হবে

একটিমাত্র লক্ষ্যে

অবিচলিত ভাবে 

সময়কে 

একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের তেজে গলিয়ে

একটু একটু করে

নিরঙ্কুশ সাফল্যের মূর্তিখানি

পূর্ণ রূপে গড়ে তোলা ৷

মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

Arise, awake and stop not till the goal is reached

 ."উত্তিষ্ঠত, জাগ্রত, প্রাপ্য বরাণ নিবোধত" 

___________________Swami Vivekananda


Expansion by Arup Sarkar


লক্ষ্যহীনতা গতির মারক ৷

দিশাহীনের অবধারিত নিয়তি জড়তা

ও অপর কে প্রভাবিত করতে চাওয়া

হুজুগের মাদারী-খেল ৷


একাকীত্বকে ভয় না পেলে,

লক্ষ্যকে বাকি জীবন হতে একা করে,

একান্ত নিজের করে নিলে,

লক্ষ্যের জন্য নিয়ম করে, নিষ্ঠা সহকারে,

সময় দিলে,

সে একটু একটু করে

তোমাকে অপ্রতিহত গতির জগতে নিয়ে যাবে ৷

একাকিত্বের অন্তরে লুকিয়ে থাকা 

চরৈবেতির আশীর্বাদ 

জীবনে অঝোর ধারে বর্ষিত হবে ৷


ভয় কে জয় করে

আপন সম্ভাবনাদের যথার্থ সুযোগ দাও,

যত্ন করে আবাদ করতে

নিয়মিত জল ঢালো গোড়ায় !

নূতন চারা গজাবে চরিত্রে ৷

সম্ভাবনারা ক্রমশঃ 

সামর্থ ও দক্ষতায় পাল্টে যাবে ৷

.

রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ফানুস

বিবাহ নামক অনুষ্ঠানটি

পাশ্চাত্যের অনেক দেশেই

বাসি ও সাত-পুরোনো

"নির্বোধের গলার দড়ি" - ব'লে

বহুকাল আগেই বর্জিত হয়েছে ৷


বাঁচার মডেল পাল্টে পাল্টে গেছে ৷


যেভাবে, আবেগের নিরাপত্তা

ও বৈচিত্রের বহুবিধ সহবাসকে

মানুষ একাধারে সম্ভব করেছে -


তেমন একটি হলো, -


অভিনয়ের প্রয়োজনকে নস্যাৎ করে,

বলে কয়ে, বহু মানুষ

একদিন ছেড়ে একদিন ক'রে

সপ্তাহের তিনটি দিন

স্থায়ী সম্পর্ককে পূর্ণ সময় দিয়ে

গভীর দরদে ও শ্রদ্ধা-সহকারে

যে আদরে আগলে রেখেছে,


ঠিক তেমনই, সপ্তাহের দুটো দিন

মানবজীবনে 

সাময়িক বৈচিত্রের প্রয়োজনকে

সমানতালে স্বীকৃতি দিতে,

নিয়মিত সঙ্গ পরিবর্তনকে

জীবনের প্রত্যক্ষ অংশিদার হিসেবে

ভনিতা-হীন উচ্চগ্রামে স্বস্তির চর্চায় রেখে,

বিশ্বাস-ঘাতকতার ব্যাজার প্রশ্নকে 

জনসমক্ষে নির্মূল করে বসে আছে ৷


সপ্তাহের আর বাকি দুটি দিন

নিজের সাথে নিজে

সম্পূর্ণরূপে একা হওয়ার জন্য

"একান্ত ব্যক্তিগত" ডিক্লেয়ার করে দিয়ে

পরবর্তী আত্মবিকাশের সচেতন স্বার্থে

আপোষহীন আত্মবিশ্বাসে একার রেখেছে ৷


মানুষ নামক এই প্রাণীটি 

কী ভীষণ ইন্টারেস্টিং না ?


এতসবের মাঝেও 

স্থায়ী সম্পর্কটির তিনটি নির্দিষ্ট দিনে

সঙ্গীর যাপন ইতিহাসে

কোনও প্রকার বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ 

ঘটনাচক্রে পেতে হলে, 

ওমনি বিশ্বাসে নির্ভরতা খুইয়ে

যার-পর-নাই মুষড়ে পড়েছে,

চোখের জলের বন্যা বয়েছে,

নিজেকে একা, নিঃসঙ্গ 

ও প্রবঞ্চিত অনুভব করে

মনোবিদের চেম্বারে

দিনের পর দিন সময় দিয়েছে ৷


মানুষ নামক এই প্রাণীটি 

কী ভীষণ ইন্টারেস্টিং না ?

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রদীপের_আলো

ভালবাসার ঘোরটি লাগা মাত্রই

তুমি অন্য একটা মানুষ হতে শুরু কর ৷

তুমি কি খেয়াল করেছ কখনো,
তোমার এযাবৎ অভ্যাসদের
বল্কল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চায়
সম্পূর্ণ নূতন আর একজন তুমি,
যাকে নিজেই চিনতে না
এই সবে মাত্র কিছু দিন আগে ?

ভালবাসা তোমাকে সুন্দর করে না
একথা আমাকে বিশ্বাস করতে বলো না ৷

তবে, ভালবাসার সাথে জোড় বাঁধতে চায়
যেমন কামনা, তেমনই শ্রদ্ধা ৷
যে রঙের স্থায়িত্ব যত কম অথবা বেশি
সে তেমন আবীরে রাঙায় তোমাকে ৷

প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি মানুষ
সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে
সুন্দরের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা ৷
তুমি কাকে কবে ভালবেসেছিলে
এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷
ভালবেসেছিলে ব'লে,
প্রবল আত্মবিশ্বাসের তোড়ে
অনুভব
প্রাণবন্ত গতিময়তা পেয়েছিল ব'লে,
উদ্ভিন্ন সুন্দর হতে পেরেছিলে,
খুঁজে পেয়েছিলে বাঁচার অনস্বীকার্য মানে,
আপন অন্তরের আকুলতা, ব্যকুলতাদের
সম্ভাব্য সর্বাধিক তীব্রতা সহ
জীবনকে সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছিল,
এটাই চিরাচরিত সত্য ৷

আর বাকি সব মিথ্যা জেনো ৷
এমনকি সে হতভাগা, নাছোড়, কেষ্টাও !

কোনও এক মহাপুরুষ কোনও একদিন
এই কারণে লিখেছিলেন -
"আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ
চুনি উঠলো রাঙা হয়ে" !
একটা নূতন দর্শন জন্মলাভ করেছিল এ ধরায়
এই সত্যটির প্রতি নির্ভরে, অস্তিত্ব-বাদ নামে ৷

মানো অথবা না মানো,
তোমার প্রেমের সার কথাটি হলো -
তুমি আসলে ভালবাসতে বড্ড ভালবাসো
আর ভালবাসলেই ওমনি চুটিয়ে ভাল থাকো ৷
ভাল থাকতে চাওয়া তো অন্যায় নয় কোনও ৷
আর এই ভালবাসতে চাওয়া
তুমি নামক মানুষটি তোমার এ জীবনের
প্রথম ও সর্বশেষ সত্য ৷

"কাকে ভালবেসেছিলে ?"
আরে ধুসস ! ওটা আবার কোনও প্রসঙ্গ নাকি ?
একবার নয়, যতবার খুশি পরীক্ষা করে নিও
আপন জীবনে -
"ভোগে ভালবাসা মরে, বিহনে ভালবাসা বাড়ে ৷"
.
https://youtu.be/TcCPQrrI1jM
.
.

শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রবজ্যা

কি বললে ? "অবসর - অনেকদিন পর

আবার হয়তো কোনও একদিন

ডাকবেই অধিকতর কাছে ?"


তাহলে আর হতাশ কেন স্বর ?

কাজও ঠিকঠাক গোছানোই আছে !


চলে যাব স্টিয়ারিং এ হাত রেখে

সেদিনও - লং ড্রাইভে

তিস্তার পাশে পাশে

সেবকের সর্পিল বাড়ানো হাতে

উত্তেজনাদের নিশ্চিন্তে বন্ধক রেখে


পৌঁছে যেতে

ভালবাসার পাহাড়ি ঠিকানায়

ঘুরতে ঘুরতে, বার বার বাঁক পেরিয়ে

আরও উপরে উঠতে উঠতে,

অবশেষে - অদেখা উচ্চতরতায়,

চূড়ার যে বিন্দুতে এসে

সব দ্বিতীয়কে অদ্বৈতে মিশতে হয়

তার প্রকৃত প্রাকৃতকে ছুঁয়ে-ফেলায় 

এ পুরোনো আমাদের

আবার নূতনের

অপূর্বে পাল্টে যেতে পারা কাছে ৷


বিশ্বাসকে নিজেতে পুরোটা ভরে রেখো !

তার চেয়ে অধিক

আর কি কোনও নির্ভরতা

এ ধরায় আমৃত্যু অবিকলে বাঁচে ?

ত্রিনয়ন

বড় হওয়ার ঠিক পরে পরে

তিনি একদিন কাছে বসিয়ে বলেছিলেন -


"যারা দেখবি - চাহিদামত শুতে পেলেই

পূর্ণ-তৃপ্ত বা চালু কথায় "বক-বক খুশি",

তারা জানবি 

পশুজন্ম পেরিয়ে এসেছে অতি সদ্য !

গায়ে তাই গন্ধ পাবি মাঝে মাঝেই এখনও !


যারা দেখবি - ভালবাসার মানুষটিকে

ইচ্ছানুযায়ী চালাতে বদ্ধ-পরিকর

তারা জানবি ভিতরে ভিতরে শোষকও !

ভালবাসার অজুহাতে, ভালবাসার চেয়ে,

অধিকারের প্রয়োজন তাদের নিকটে অধিক ৷

এরা মানবজনমে অভিজ্ঞতর, 

বুদ্ধির সুবিধাবাদী প্রয়োগের ক্ষেত্রদের 

আগে থেকে চিনে রাখার অধিকারে ৷


যারা দেখবি তুলনামূলক ভাবে শান্ত ও মৌন

তারা অনুভবে সাধারণতঃ গভীর ৷

মুখে না বলেও মানুষকে পড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে

তারা বেশিরভাগই এগিয়ে ৷

ভাব বিনিময়ের জন্য দৃষ্টির ভাষাটি যথেষ্ট ৷

সমাজের ছড়ির শাসন পারে না রুখতে

ইচ্ছানুসারে প্রাণের সঙ্গমে

তাদের বানভাসি খুঁজে নিতে পারা !


নিচু হতে ক্রমশঃ উঁচুতে 

তিনখানি স্তর !

প্রথমটি শরীর, 

যেখানে আকাট ও সেয়ানায়

ভীড় সর্বাধিক ৷

দ্বিতীয়টি মন, 

যেখানে অহমিকা আর

কর্তৃত্বের লড়াই প্রাণপণ

আর তৃতীয়টি পরাণ,

যে জীবনের আসল ক্ষীরটি

মেরে দিতে জানা ছুপারুস্তম ৷"

শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১

Learn Before You Earn

Man often doesn't know how to love himself. Well its quite simple.


Who is the Lover ? 

Its the conscious will.


Who is the Object ? 

Its his ever distractive instincts 

lying hidden 

under the massive subconscious.


What's the purpose ?

Absolute control for obedient executions.


Well, first of all, 

you have to have sheer passion to possess, 

such that, your passionate will can project

a powerfully hypnotising call for your instincts, 

to let the latter helplessly respond 

and surrender unconditionally, 

almost as a prey, 

towards accepting precise discipline

and remain ever-ready to obey, 

before you start the power game of life 

at a much superior level of perfection.


Its a possible game of love between the two brain components of the same persons provided the passion is enough intense .


The conscious will, 

at the pick of the brain,

that retains fixity of purpose,

as MALE


And the voluminous subconscious,

acquired so far as habit force, 

that creates massive momentum,

as FEMALE


The clue is "If you once reach the bitch as an epitome of force and power, it will instantly fall in love and being mad to respond in the same vibe, will start licking the male to convey its ready obedience to receive inside whatever thrusted"


What yet awaits is to commence celebration !

Cheers !

.

https://youtu.be/VID289p3GTc

.

;)

.

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

পরবাস

নারী হোক অথবা পুরুষ

এ জগতে প্রতিটি মানুষ 

অবারিত আনন্দের সন্তান

পাখির মত 

স্বাধীন জীবন আহরণে ৷


প্রতিটি দুঃখের কারণ 

সে একা নিজে,

সুখের লোভে প্রবৃত্তির স্বতঃ-দাসত্বে

কর্মফলের নিয়তঃ অভিশাপে

আসক্তির একক অপরাধে, প্রক্ষিপ্ত পরবাসে ৷

.

বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১

কথা দেওয়া

কথা দিলেই কথা থাকে,

না দিলে আর কিচ্ছুটি নয়,

এমনটাই 

সর্বদা বুঝি হয় ?


কোনও কথা না দিয়েও

সম্পর্ক কি করে গড়ে ওঠে,

একটা মানুষের সাথে

আর একটা মানুষের সুর

যখন আপনিই মিলে যেতে চায় ?


যখন মন বলতে থাকে -

পরাণের অবাক গানে 

সুরের সাথে সুর মিলে গেলে

আলাদা করে 

মুখের কথা দেওয়ার 

কথা ছিল কি কোনও

এমন অপার নির্ভরতায় ?


কথা দেওয়ার 

আদপে দরকারই বা কি,

মানুষ যদি 

স্বেচ্ছায় স্বচ্ছতা ধরে রাখে

আপন বিবেকে,

ভালবেসে মেনে নেয়,

না বলা কথাদের প্রতি 

নিবিড় শ্রদ্ধায়,

একটিও কথার কথা 

নিজের মুখে না দিলেও 

অক্ষরে অক্ষরে কথা রাখার দায় ?

বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

Choice

 Man has a single life

That has only two options

To adopt anyone.

Either evolution or revolution.


Whenever you are not aware,

You helplessly surrender your life

Almost fully to your subconscious.

Your instincts readily take over

To pull you along the old, beaten track

According to the principle of

"Enjoy first to suffer at last".

You undergo your evolution

Along a circular path,

Pulling yourself round and round

Which you term 'your so-called destiny'.


If you volitionally prefer your conscious

To take charge

Of your days' minutes and hours,

You have to exert a bit harder.

Your fixity of purpose

Permits only those actions

That may reach you closer to your goal.

Your path of life becomes straight-lined

Just automatically

And you needn't repeat any same blunder twice.

You thereby deny the destiny

Ascribed by your sub-conscious

And redefine it by earned command

On higher freedom and ecstasy.

This is how you choose your revolution.


( Incidentally,

Do you know why the so-called

Revolution by Communism failed?


Well, it silently skipped the inner responsibly

Of self-transformation based on

Pure self-love.


And instead

To grab state power and then try to retain it

Its principal mission was

To make fool of the mass

By shrewdly preaching sheer hatred,

Hatred for individual self-interest

And development whatever,

As well as, hatred for the worthy class

Whoever had the capacity for

Creating wealth

By means of

Visualization and wiser translation of time

Into wealth.

The true creators of fortune for man

Were termed as snatchers.


They tried to hypnotize only,

Through lousy debates, full of dubious phrases,

That may successfully camouflage

The invitation of

The era of the worst kind of slavery,


Thus Communism was

A fragile structure of External Revolution

Based on a hollow foundation

In absence of any 

Concrete internal transformation

Of individuals

Who chiefly constituted the society and nation.)



মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১

তুরীয়

কেবল Wish টুকু নিয়ে 

মানুষ দিনের পর দিন দিব্যি বাঁচে ৷

মানুষের সাথে একটু একটু করে

Wish ও সমানতালে বুড়ো হতে হতে 

মরে যায় একদিন ৷

মানুষ সে অবধি বাঁচতে ভালবাসে 

হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রসব যন্ত্রনায়

বাঙ্ময় কাব্যের অফুরন্ত সান্ত্বনার পরিসরে ৷


অতি সামান্য সংখ্যক মানুষে ইচ্ছাশক্তি বেড়ে

Wish পরিনত হয় Want এ,

যার পরে Want হতে পারে Need ৷

তারপরেও অবশ্য একটি threshold থাকে 

অবচেতন হতে উদ্ভূত বাধার ৷


ইচ্ছাশক্তি সেই শেষ বাধাকেও 

অতিক্রম করে যখন,

তারপর থেকে অলঙ্ঘ্য চেতনা 

অবচেতন-উদ্ভূত আসক্তিদের অকেজো রেখে

ইচ্ছাকে অধিকার দেয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে

অবিরত কর্মে রূপান্তরিত হতে ৷


মানুষ যতবার পড়ে ততবার উঠে দাঁড়ায়

নতুন উদ্যমে, 

আর ক্রমাগত পায়ে পায়ে যাত্রা করে

ইশ্বরের ঐশ্বর্য্য অর্জনের দিশায়

উত্তরোত্তর স্বাধীনতা ও মুক্তির পথে ৷

দেবত্ব

কেবল Wish টুকু নিয়ে 

মানুষ দিনের পর দিন দিব্যি বাঁচে ৷

মানুষের সাথে একটু একটু করে

Wish ও সমানতালে বুড়ো হতে হতে 

মরে যায় একদিন ৷

মানুষ সে অবধি বাঁচতে ভালবাসে 

হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রসব যন্ত্রনায়

বাঙ্ময় কাব্যের অফুরন্ত সান্ত্বনার পরিসরে ৷


খূব সামান্য মানুষে ইচ্ছাশক্তি বেড়ে

Wish পরিনত হয় Want এ,

যার পরে Want হতে পারে Need ৷

তারপরেও অবশ্য একটি threshold থাকে 

অবচেতন হতে উদ্ভূত বাধার ৷


ইচ্ছাশক্তি সেই শেষ বাধাকেও 

অতিক্রম করে যখন,

তারপর থেকে অলঙ্ঘ্য চেতনা 

ইচ্ছাকে অধিকার দেয়

অবিরত কর্মে রূপান্তরিত হতে ৷


মানুষ যতবার পড়ে ততবার উঠে দাঁড়ায়

নতুন উদ্যমে, 

আর ক্রমাগত পায়ে পায়ে যাত্রা করে

ইশ্বরের ঐশ্বর্য্য অর্জনের দিশায়

উত্তরোত্তর স্বাধীনতা ও মুক্তির পথে ৷

শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১

নিবিড় ইচ্ছা

মানুষ চাইলে, শক্তি ও সৌন্দর্যকে

সমন্বিত করতে পারে না 

আপন অস্তিত্বে, অবধারিত উন্নয়নে ?


লোকে বলে -

তুমি যদি আজ থেকে জিমে যেতে শুরু কর,


ত্রিশ দিনের মাথায়, পার্থক্যের সম্মন্ধে, 

আর কোনও সংশয় রইবে না তোমার ৷


ষাট দিনের মাথায় পরিবর্তনটির সম্মন্ধে

নিশ্চিত হবে তোমার প্রিয়তম জন ৷


নব্বই দিনের মাথায় সশব্দে মেনে নেবে

বাড়ির সকলে ৷


একশো আশি দিনের মাথায় তোমাকে

আলাদা পরিচয়ে চিনবে সারা পাড়া ৷

Certainty

Those who finally brought themselves

To the top of the world, 

Whatever the stream may be,

Attained almost heavenly freedom on earth..

"They made it possible only through hard work"

Is merely half of the truth.


The rest half of the story is that

1. They transformed every challenge of tough toil into sheer jubilance by much higher spirit. 

2.  They were aware of the utility of taking wise breaks before getting fully exhausted. 

3.  They retained bliss of mind all along the journey by never losing patience and never becoming a victim of fear. 

4.  They rewarded every of their days' toil with personal celebration, however small it may be.


The Power of Today

They say

"Yesterday is history

Tomorrow is mistry

But today is a gift

That's why it is called the PRESENT".


Unwrap the gift very carefully

Layer by layer

To reveal the novelty inside.

Everyday gifts, once accumulated,

Turns into The Lifetime Reward

To establish you as an achiever in reality.


Whatever purpose you undertake

Pursue it for at least first six months

And by then, you will certainly start

Experiencing the miracle 

Of the six pack muscles 

Of earned Habit Force.


You will start inventing

The_more_condensed_you,

The_more_bright_you,

The_more_spirited_you,

The_more_powerful_you,

Through the proper use of 

Today, the Present,

To celebrate your existence to the brim.

Just no hurry or drifting please.

"Today" is the "one step at a time" foot-rest

That will reach you at the top of the ladder

Just in time.


শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১

Kindness


 

Sacrifice


 

Pain


 

নির্মেদ


 

ভালবাসার সংজ্ঞা


 

বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১

মান ও হুঁশ

একই মানুষের মন, সময়ের ফেরে,

কখনো সবল, আবার কখনো দুর্বল হতে পারে ৷


সবল মন সচেতনের নিয়ন্ত্রণে থাকে ৷

সচেতন মন, মানুষকে ঢেলে সাজাতে পেরে,

পাল্টে পাল্টে যাওয়া উন্নত রূপে গড়ে ৷

সবল মনের প্রতিটি আত্মমুখাপেক্ষী কর্ম

একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে 

নিরন্তর সরলরেখায় ধাবিত হয় ৷

সময়, কর্মের মাধ্যমে, রূপান্তরিত হতে থাকে

যোগ্যতাতে ও বস্তু-প্রকৃতির ধনে ৷

মানুষ, ক্রমশঃ, বয়স বাড়ার সাথে সাথে

আক্ষরিক অর্থে ধনী হতে থাকে 

আর সৃষ্টির প্রাপ্য বরে আনন্দে ভরে ৷


দুর্বল মন আসক্তি তথা অবচেতন নিয়ন্ত্রিত

ও মূলতঃ ভোগ-সর্বস্ব ৷

আসক্তি, নিয়ত পরিবর্তনশীল ও বক্র-গতি

পরমুখাপেক্ষী সাময়িক সম্ভোগ-লক্ষ্যের মোহে

সময়কে কেবলই অপচয় করে চলে ৷

প্রতিটি ভোগের পরে

পড়ে থাকে না সঞ্চয় কিছুই,

বরং, ভোগাকাঙ্খা 

যত অধিক ও বহুমুখী হতে থাকে

দুর্ভোগ সেই হারে জীবনে বাড়ে ৷

প্রাণ তার ইঁদুরের মত

প্রবৃত্তির জাঁতাকলে পড়ে, দমবন্ধ হতে হতে,

ছটফট ও অবিরত বিলাপ করে ৷


বিস্মরণ

কবিতার মেঘ ভেঙে 

ভালবাসা অঝোরে ঝরে পড়লেই,

ভেজাবে বলে -

বলা নেই, কওয়া নেই, আমাকে 

হিড়হিড়িয়ে রাস্তায় টেনে নিলে !


পরাণের ট্রামলাইন ধরে 

হাত ধরাধরি হাঁটতে শুরু করলে

টুং-টাং বেজে ওঠে 

পাতা-ঝরার ঝরণা চেনানো 

অপার্থিব সেতার !

সুর চিনে নেয় কোমল ঋষভ,

প্রতিবার, অন্তরের অবধারিত মিলে ৷


চাষের বেগারে বেমানান যুগল

ধান ভাঙতে হয়তো ভাঙা কুলো ৷

জীবন তবু জোয়ারে টইটুম্বুর

দৃষ্টিকে দৃষ্টি ছুঁলেই

দুষ্টুমির অবধারিত খিলখিলে !


তালে থাক সকলের ভাঁড়ার ঠাসা ৷

বুঝি না কি ভাবে 

এত খুশি জোটায় সামান্য তিলে ৷


হিসেব রেখো না শুধু

কি চেয়েছিলে, কি পেলে,

বরণডালাকে থরে থরে 

কেমন যতনে সাজিয়েছিলে

আর না চাইতেই, হালকা ঢলে,

আপন প্রস্রবণ হতে, ঘন মধু,

কখন, কোন অবধি ঢেলে দিলে ৷

বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

আকাঙ্খা

তার অধিক আর কিচ্ছুটি নয় ৷

সর্ব রোমাঞ্চের সন্নিধানে

হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওইটুকুই শেষ অবধি চাওয়া !


আমি প্রতিবার খুন হতে চেয়েছি প্রেমিকের হাতে ৷

আমি চেয়েছি অস্ত্রের কষ বেয়ে

টপ টপ করে গড়িয়ে পড়ুক টাটকা রক্ত 

আর ঘর ভরে যাক আঁশটে গন্ধে ৷

আমি চেয়েছি -

তার পরে স্থানুর মত পড়ে থাকুক নগ্ন শরীর ৷


আমার বলতে কোনও বাধা নেই -

প্রতিটি প্রেমের স্বপ্নের শেষে

আমি খুন হয়ে যেতে চাই

ফালা ফালা করে দেওয়া নির্মমতম ধর্ষণে ! 

আমুল বিদ্ধ হতে চাই 

ক্ষিপ্রতার অপ্রতিরোধ্য বশীকরণে

মাংসল দৃঢ়তার অবর্ণনীয় ধারে ৷


মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

ছোটগল্প - "প্রত্যয়"

রমিতা পা বাড়ানোর আগে শেষ বার পূর্ণদৃষ্টিতে তাকালো শমিতের দিকে ৷ 


অভিজ্ঞ দৃষ্টি আর আটকে গেল না চামড়ার স্তরে ৷ মানুষটার ভিতরকে স্পষ্ট দেখতে পেল রমিতা ! 


সেখানে খাপছাড়া কাঁচা পাকা দাড়ি ৷ অবিন্যস্ত উস্কোখুস্কো চুল ৷ কোঁচকানো নোংরা জামা পরিধানে ৷ সে জামা কিছুটা শুকনো, বাকিটা ভুল চারণ থেকে ছিটকে আসা কাদা লেগে ভেজা ৷ সে কাদায় হালকা দুর্গন্ধ পাঁকের ৷


শমিত অথচ বাইরে ফুলবাবু সেজে থেকে, তখনো ভেবে চলেছে যে সবাই তাকে দেখছে - সে যেমন দেখাতে চাইছে সবাইকে, অবিকল তেমন ৷ রমিতা নিশ্চিন্ত হলো - তার সিদ্ধান্তে ভুল নেই আর কোনও ৷ অন্তরের পরিচ্ছন্নতা যার কাছে বাতুলতা, তাকে কোনও নিকট সম্পর্কে রাখতে চাওয়া একমাত্র আপন হীনমন্যতারই উদযাপন হতে পারে ৷


পায়ের পাতায় দৃঢ়তা অনুভব করলো রমিতা ৷ নাঃ ৷ আর যাই হোক, হীনমন্যতা যায় না তার স্বতঃস্ফূর্ত আত্মশ্রদ্ধার সাথে ৷ পথের বাড়ানো আকুল দুই হাত চাইছে তার সাড়া ৷ 


যাত্রা শুরু করলো বিশুদ্ধ আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তার মোহ ছেড়ে, আরও একবার, সম্পূর্ণ অজানার জগৎ হতে, সুন্দরতরকে দৃঢ়-নিশ্চিত লক্ষ্যে অধিকতর আপন করে নিতে ৷

বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

অতল

খুব দ্রুত মেরে ফেলতে চাইলে

প্রেমের কৌমার্য 

যত দ্রুত সম্ভব হরণ ক'রে

সর্বাগ্রে নির্বিকল্প খাদক হতে হয়,


খেতে, খেতে, খেতে, যতক্ষণ না 

খাওয়ার ন্যূনতম আগ্রহটুকুও

বেমালুম হারিয়ে যেতে পারে ৷

"বিলক্ষণ বিচক্ষণ প্রেম" -

আর বলে কারে !


ভালবাসা দীর্ঘতম হয় শুধু-মাত্র বন্ধনহীনের ৷

জানলাটি সামান্য ফাঁক করে রাখতে হয়,

যেন, সে ঠিক সময়মত চমকে দিয়ে

শিরশিরানো ফিসফিসিয়ে

প্রতিটিবার বলতে পারে -


"আগলদের এবার

পরতে পরতে ঢিলে করে দিলেই,

দূরত্ব যত, পড়তে হবে - খসে !

ঝোড়ো বাদল ওমনি ঝাঁপাতে পারে 

এক্কেবারে ভিতর-ঘরে ৷"

মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

অভিসনদ

সদরের সিংহদুয়ারটি পেরিয়ে

পায়ে পায়ে ঢুকে এলে ভিতর-ঘরে,

সে অভিযানে না আছে প্রতিহারীর বাধা 

না আছে তারপরে দেওয়াল কোনও !


আছে ফুলের বাগানের পাশে 

সমানতালে বনজ সুঘ্রাণ !


আছে বিশাল পিপুলের তলে 

নদীর বিরামহীন হাওয়া

যেখানে ক্লান্ত পান্থ

তৃপ্তির দীর্ঘ "আহ্ কে দীর্ঘায়িত করতেই পারে ৷


আছে পাতা-ঝরা অপেক্ষায় স্খলিত বিতান

পরতে পরতে উন্মোচিত হতে

পরাণের নিভৃতি-অবগাহন 

স্বেচ্ছায় সুলগন এগিয়ে দিলে ৷


আছে সুদূরের-সৌরভ আলোকিত দিশা

উন্মোচন, জলের অতলে, 

কাম্য স্বচ্ছতাটি খুঁজে পেলে ৷


আচ্ছা বলতে পারো

অনাবিল স্বেচ্ছা কেন এ হেন অনুদার তোমার ?

আতিথি-সৎকার ও উন্মুখ প্রতি-প্রবেশ 

দাবী করে অভিন্ন রূপকথা ?


ফটকের বাইরে একটানা দাঁড়িয়ে থেকে, 

অচেনা স্বৈরিণীর সুরে

শরীরের একঘেয়ে নাম ধরে হেঁকে হেঁকে,

সাড়া না পেয়ে

রাত্রি-শেষের ওকাম্পোর মত 

ঘাম মুছতে মুছতে, হেঁটমুণ্ড অশ্রুভারে

অবশেষে নিশ্চুপ হয়ে গেলে !

শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

সরলতা বিনা

ফেসবুকে পরিচিতি ! ক্রমে ক্রমে আকর্ষণ দুর্বার !

দুজনেই আগ্রহের আতিশায্যে

উভয়ের প্রতি লাইক কমেন্টে সুনিবিড় ও ভিন্নমাত্রিক !

সামনাসামনি দেখা অথচ নেই !

শুধু গড়িয়ে চলছিল এক এর পর এক

একাকী অপেক্ষাদের অলস বছর !


আচমকা এক ভোরে চায়ের দোকানে মুখোমুখি ৷

বুক থেকে ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে

এযাবৎ জমিয়ে রাখা উদ্বেল কথাদের বুদবুদ ৷

কিন্তু যেচে আপন পরিচিতি দেওয়া, অথবা

"আপনি অমুক না ?" দিয়েও

শেষ অবধি কেন যে শুরু হলো না বাক্যালাপ !

অভিমান কি ভর করে এল ওমনি একরাশ -

"ও যখন চিনতে পারছে না, তখন আমিই বা কেন ?"


উভয়েরই একসময়ে ফুরালো চা খাওয়া !

এবার উত্তেজনা থিতিয়ে আসার মোচড়ানো ব্যথা ৷

ধীর পায়ে এঁটো ভাঁড় জঞ্জালের ডাব্বায় ফেলে,

দৃষ্টির আকুতিকে সম্বরণ করে,

অতঃপর, নিয়তিতে যেমনটি নির্দিষ্ট ছিল -

সেই অযাচিতকে বাধ্য মেনে নিয়ে, সঙ্গীর বাইকে চড়ে

ক্রমশঃ ছোট হতে হতে অনির্দিষ্টে মিলিয়ে যাওয়া ৷

বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

পবিত্রতা

 এ পৃথিবীতে কে কত ভাগ ভালবাসে আর কত ভাগ নিখাদ শুতে চায়, সে তথ্য ছেঁকে আলাদা করে বিছিয়ে দিলে বেশ সমস্যায় পড়ে যেতে পারে অধিকাংশ মানুষ ৷ দেনা-পাওনার হিসেব ? আর সেই নিয়ে মাঝে মাঝেই একটানা ঘেউ ঘেউ ও কেঁই কেঁই, অথবা দীর্ঘশ্বাস যোগে, সম্পর্কটি অতৃপ্তিতে অতীব বিষাদময় ? এটাকে ভালবাসা বলে ?


না, এ হচ্ছে মুখোশ অথবা নিছক মধ্যচিত্ততা ! ভালবাসার উদ্দেশ্য কোনও ক্ষুদ্র স্বার্থ কদাপি নয় ৷ কোনও প্রকার ধান্দাবাজি লুকানো না থাকলে, কাউকে কৃতার্থ করবে বলে ভালবাসে না মানুষ ৷ 


যে, যাকে ভালবাসে, তাকে আপন শ্রদ্ধার উৎকর্ষে, আত্মবিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মাত্র ৷ তার বেশি আর কিছু নয় ৷


মানুষ ভালবাসে, ঐশ্বরিক ব্যপ্তি ও মহানুভবতাকে আপন হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্তে সরাসরি চুটিয়ে উপভোগ করতে ৷ শতকরা একশো ভাগ ব্যক্তিগত স্বার্থে, অবচেতনে আপন জ্যোতির্বলয়ে আকস্মিক প্রসারণ-প্রবণতা অনুধাবন করে ৷


এক্ষেত্রে, যে ভালবাসছে সে ই স্পষ্ট প্রকৃষ্ট ৷ যাকে ভালবাসছে, তার গুণ-বিচার, পরিপ্রেক্ষিতের স্বার্থে, আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ প্রাপকের যোগ্যতা অথবা যৌক্তিকতা বরং অপ্রাসঙ্গিকতায় ঝাপসা হতে পেলে ভালবাসার সত্যরূপটি স্বচ্ছতর হওয়ার অধিক সুযোগ পায় ৷


ভালবাসা, এইকারণে ঋণগ্রস্ত হয় না অথবা করে না কখনও ৷ যে ভালবাসা পেল, তারও কৃতজ্ঞতার অবকাশ থাকে না, কারণ ভালবাসার বিচরণ কৃতজ্ঞতার গোচারণ অপেক্ষা অনেকটা ঊর্ধ্বস্তরে ! 


ভালবাসলে, অনাবিল শ্রদ্ধা, আনন্দময় আস্থার সুবাসে, আপন আত্মপ্রসারের সাথে, বিশ্বস্ত যোগসূত্রটি নিঃশব্দে গড়ে নিতে পারে ৷ যে ভালবাসে, সে আত্মিক সম্পদে নিজেকে ছাপিয়ে যেতে শুরু করে বন্যার বন্যতায় ৷


শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

 The Call

_________Arup Sarkar

.

Man often visualised revolution

As an external purpose only.

Theoreticians toiled a lot to implement, 

Couldn't sustain and finally were Compelled to let go.


Revolution yet 

Remains the most important term

In human life, provided

It is sensed deep within

As a constant roar for liberation

From one's own limitations.


Life claims -

"You lose freedom of choice for consumption

If you don't earn and store beforehand."

Do we still have to confuse priorities ?

What should be

The primary purpose of human life ?

Creation first or consumption ?


If it is swallowing, then

We are no better than any animal.

If it is resurrection,

Then we are, at least, wiser than, but

Is it possible without love ?


We earn capabilities

Whenever we create ourselves and grow.

The objects of our love may vary

But they are still 'means' only.

The principal fuel of our self-creation

Is the inner sun, we miserly hide

At our individual fountain of love

That awaits a liberation

To flood all barriers of

Sadness driven stagnancy.


Do we hear the tune of the flute ?

Can we,

That has ever been inviting us

To the paradise of revolution

Individual by individual ?

Do we ever feel due urge inside

For the bake and call and turn bright

To transform into deeper green

While growing gloriously in spirit

Even far tall ?

.

https://go2arup.blogspot.com/2019/12/the-call.html

.

শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

আনন্দম

ভালবাসি ব'লে

আমার বহু-মাত্রিক চেতনার রঙে

তোমার পান্নারা হতে পারে অবিশ্বাস্য সবুজ,

চুনীরাও ওঠে রাঙা হয়ে ৷


ভালবাসা বিপ্লবের চিরকালীন বীজ-মন্ত্র ব'লে 

আমার এ সাত-পুরানো দৃষ্টিতে 

নূতন সৃষ্টির খেলা উৎসারিত রোজ রোজ,

তোমাকে, অবাক বিষ্ময়ে,

আরও বেশি প্রাণ ভরে শেখার সুযোগে ৷


ভালবাসার স্বর্গীয় মহিমায়

অনবরত খই ফুটতে থাকা পরাণ হতে

উত্তরণের মই অনায়াসে পৌঁছেই যায় 

বীমা-হীন আকাশের অশেষ সীমানায় ৷


ভালবাসি বলে তুমুল বাঁচি - 

একথা তুমিও যদিও ভালই বোঝো,

সাপের প্যাঁচে জড়িয়ে ধরে

এ স্বাধীনতাকে হরণের দিশা

বারবার খুঁজে পেতে চাও তবু -

আপন বীর্য-গন্ধী অমার স্খলিত অগভীরে !


পাথেয় যে অশেষের-আলো, 

তাকে, এ জনমে, কোনও অদূর অন্তে, 

পুনর্বার হারাতে পারবো না ব'লে,

আমার এ অমৃত-সর্ত উপার্জনে

সাময়িকের ভাষায় ভাসার মত

কোনও প্রসারণ-উন্মুখ ডানা নেই ৷


বিশুদ্ধ আত্মনির্ভরের অবারিতে

ভালবেসে নিরন্তর উৎরে যেতে যেতে,

এক বারের জন্যও, 

কোনও প্রকার পরনির্ভর মানার 

ঠিকানা-চেনা হানার ফরমান, 

বহুকাল হলো, এ চত্তরে আর জানা নেই ৷

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

এ দুর্লভ প্রেম

নিজেকে সম্যক খুঁজে পাওয়া 

পরকে অপর করা সুনিবিড় আগ্রহের ফাঁকে !


ভালবাসার জোয়ারকে 

শেষ অবধি আটকে রাখার মত বাঁধ

কোনওদিন তৈরী করতে পারে নি এ ধরা ৷


শুধু অনুভবের প্রতি বিশ্বাসের শক্তিতে

তিলে তিলে গড়ে তোলা

আপন উন্নততর সংস্করণ 

খুঁজে নেবেই উত্তীর্ণ সুন্দরের দিশা

মানবজনমের পরম্পরায় !

সে উদ্ভিন্ন রূপ দেখে 

অবাক বন্ধু-রা ফেটে পড়তে চাইবে

বাহবা আর হাততালি তে !


প্রণতি জানিও, 

আপন হৃদয়ের নির্ঝরের সামনে

হাঁটু মুড়ে বসে, খোদ নিজেকে, 

রবি ঠাকুরের কথায় - 

যে তোমার "এযাবৎ অনাগত দূরের আমি" !

কৃতজ্ঞ থেকো সমর্পণে 

অবিরাম আপন বিবর্তন-স্পৃহার ডাকে !


যাকে ভালবেসেছিলে

সে তোমার বিকাশে অধিক গুরুত্বপূর্ণ 

বা মহান কারক না হতেই পারে ৷ 

হৃদয়ের আলো 

একবার অন্তর হতে বিচ্ছুরিত হলে 

আর কি সহজে নেভে পিছু-ডাকে ?

ভ্রমর চিনলো অথবা হয়তো চিনলোই না, 

ফোটার সময়ে ফুল কি অনিশ্চয়তায় কাঁপে ?

.

রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

সহযোগ

সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে নি কোনওদিন !

সুযোগ যে হারায়, সে চিরতরে হারায় ৷

লাভের লোভে

মানুষ সর্বদা অনাবশ্যক তাড়ায় থাকে ৷

তার পক্ষে তাই

অবসরের প্রকৃত উপযোগিতাদের চেনা দায় ৷


একবার নিজের পানে তাকাও ! 

প্রতিটি অবসর কি 

জহুরীর অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে থাকে, 

দৈনন্দিন বাধ্যতাদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে

জীবনের গভীরতর তলে ডুব দিয়ে

তোমাকে বিরল মনি-মানিক্যদের খুঁজে দিতে ?


আপন গভীরে 

তার দৃঢ়তাকে পুরোটা পাওয়ার পরেও

আত্মকেন্দ্রিক বিহ্বলতা পেরিয়ে

খুঁজে পেয়েছো এ অবধি কখনও

তেমন অবসরের নিশ্চিন্তি - আপন আত্মবিশ্বাসে,

কোমল ও কঠিনের নান্দনিক দ্বন্দ্বের

তাৎক্ষণিক প্রগাঢ় অনুভবে, সুরের মিলটি হয়ে গেলে,

দৃষ্টিকে দৃষ্টির বাহুমূলে ডেকে নিয়ে

কেবল অধর-সুধার দরদী বিনিময়ের

ধৈর্যশীল আদরের ভরসায় 

তাকে তৃপ্তির আপ্লুত-স্তরে পৌঁঁছে দিতে পারায় ?


অবসর কি কখনো 

আমি হতে বিশুদ্ধ তুমি-র

দূরদর্শী লক্ষ্য অবধি পৌঁছে যেতে যেতে

ধৈর্যকে সংযমী উত্তরণে বাড়ায় ?

মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

দেনা-বিনা

কামনা-বাসনার অপর নামটি দেনা ৷


একজনের নাম একাকিত্ব বা অতৃপ্ত কামনা আর

অপরের নাম ভালবাসা,

যুযুধান দূরত্বে বাস করে দুইজনা ৷

দুজনে এত অধিক বিকর্ষণ, যে

কখনো কেউ কারও সামনেই আসে না ৷


একাকী হতে পারে বুঝি সে কখনো,

হিসেব করে ভালবাসে না বলে

ফুরিয়ে ফেলার ভয়

যাকে কদাপি স্পর্শ করে না ?


তাকে, এ ধরা, না দিয়ে দিয়ে

কি করে ঠকাবে,

বাসনা জমিয়ে প্রবল করে

সুযোগ-মত চাইবে বলে,

যে একবারও অপেক্ষায় থাকে না ?


একা ভাবলে তাকেই,

যে সম্রাট-সুলভ চরৈবেতি  

সামান্য-সাময়িকীর লোভে

পরের দুয়ারে কৃপাপ্রার্থী হতেই জানে না ?


সিক্ততা

ভিজছিলে রাস্তার ধারে অসহায়ে,

সেদিন অঝোর বর্ষা !

কারা যেন দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছিল দেখেও !

একটা কাক-ভেজা রাস্তার কুকুর

আরও বেশি ভিজে যাবে জেনেও

যেচে এসে দাঁড়িয়েছিল প্রায় পাশে !

সহযাপনে ?

কুকুরটা দেখতে বেশ ফর্সা !

তোমার জলে ভেজা ঠোঁট

আটকাতে পারেনি 

তেমন সঘন ররষণ মাঝেও

সুস্পষ্ট একচিলতে হাসির বরষা !


আচমকা ঝাপসায় 

স্পষ্ট হলো একটি ছায়ামূর্তি আর ছাতা ৷

কাছে আসতেই এক ধমক -

"এভাবে গরুর মত ভেজে কেউ ?

ধর, ধর ছাতাটা !"

কাঁপা হাতে ছাতাটা ধরতেই

মূর্তি, ছায়ামূর্তি হয়ে, ফের পুরোটা ঝাপসা !


মনে কি পড়লো তখনো, ও লো সখি,

এই অবলা-অবেলায়

সেই ছোটবেলায় হৈ হৈ করে খেলা - ধাপসা ?

.

সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১

আঘাত

নিজেকে এবং তৎসহ তোমাকে

বুদ্ধি-সর্বস্ব চতুর ও লোভী হওয়ার পথে, ফলতঃ 

ক্রমশঃ নিষ্প্রাণ-অননুভবী হতে দেখলেই,

ঝন-ঝন শব্দে 

প্রতিবার পুরোটা না ভেঙে ফেললে,

গড়তে পারা সম্ভবই না - সম্পর্কের নিবেদনকে

নবরাগের ভোরে অনাবিল সুন্দরতরে

অপ্রতিরোধ্য ভালবাসার যোগ্য করে ৷


প্রস্তুত রেখো তাই চেতনে -

"নূতন পাতা যতদিন গজাতে পারে ভালবাসার

গাছ ঠিক ততদিনই বাঁচতে পারে, 

না হলে অবধারিত মরে ৷"


ফিনিক্স-রক্ত না বইলে ধমনীতে

মানুষ কেবল মরার ভয়ে 

বাঁচাকে - নিজে, নিরন্তর আপোষে,

প্রায় রোজই গলা টিপে একবার করে মারে ৷


রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

বেঘোর

"নাভির নিচে 

তেমন অমৃতকুম্ভ ছিল না কোনওদিন

সুখকে চিরতরে অমর করে দেওয়ার

গ্যারেন্টি সহকারে,

কোনও মহত্তম ঈশ্বরের ব্যতিক্রান্ত বরে !"


তনুর বহু-ব্যবহারে দীর্ণ তুমি

সে কথা হাড়ে হাড়ে জেনেও,

কোন লোভের আপোষে 

পড় না আজও সে সত্য-গাথা 

বিবেকের সাথে সমানতালে উচ্চস্বরে ?


তোমার যাবতীয় ব্যথা, কথকতার প্রবণতা,

সবই ঘুরে ফিরে একমাত্র সাময়িক ভোগের তরে ?


ভালবাসতে পারার অধিকারে 

নিজেকে উত্তীর্ণ কর নি বাস্তবে 

অনুভবের শিখরে - অর্জিত আভিজাত্যে ?

পদে, বিপদে, যে ভালবাসায় অদম্য বিশ্বাস

রাজি ছিল জীবনকে সতত উদ্ধারে,

কেন সে উচ্চতর স্থিতি তবে 

অস্থায়ীর পায়ে পায়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে

প্রতিনিয়তঃ নির্লজ্জের পারা কেঁদে মরে ?


সাহসী সত্যকে আর অস্বীকার না করে

পারলে মেনে নিও -

"শরীরে তোমার তেমন রসদ ছিল না কখনো

যা পুরুষকে নিশ্চিত রূপে, অদৃশ্য বকলেসে, 

প্রতিটি ক্ষেত্রে আজীবন বেঁধে রাখতেই পারে ৷"


শুধু পুরুষ কেন, যে কোনও মানুষ, আজও,

শ্রদ্ধায় নতজানু থেকে যেতে পারে, দ্বর্থহীন সমর্পণে,

শুদ্ধ ভালবাসার 

অক্লান্ত সহযোগের শর্তহীন আদরে ৷

শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

অচেনা

হ্রস্ব বালির চর

আর পাঁকাল খাঁড়ির

বিবিধ বিন্যাস-চেনা যাপনে,

নদীর পক্ষে

মোহনায় পৌঁছানোর আগে

সম্ভব কি হতে পারে

কল্পনা করা

চিন্তার যে কোনও বিস্তারে,

.

সাগরের

দুই অদৃশ্য বাহুর মাঝে 

আদিগন্ত প্রসারিত বক্ষে

ঝাঁপ দিয়ে পড়ার সুখ

সুদীর্ঘ অপেক্ষার শেষে

ঠিক কতটা পরিমান হতে পারে ?

বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

দায়

প্রেম আর কর্ম-জগৎ

দুই-ই মানুষের পূজার উপাদানে 

মূলতঃ সমর্পণ চায় ৷


দ্বন্দ্বটি যেখানে, সে হলো -

কেউ কারও হতে লঘু নয় ৷

একজনকেই নিতে হয়

সময়ের ভেদে উভয়ের একক দায় ৷


কোনও এক শারদ প্রভাতে

বাঁশিকে গোকুলে নামিয়ে রেখে

বার-বার কানাইকে তাই

পায়ে পায়ে

হস্তিনাপুরের পানে চলে যেতে হয় ৷


সে চিরন্তনীর বয়ান

কবির অবিশ্বাস্য কলম

আজি হতে শতেক বরষ আগে

কতই না অক্লেশে রচনা করে যায় !

.

.

বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১

পরিচয়-সঙ্কট ( Identity Crisis )


অকারণ ভয় আর অন্ধ-সংস্কার

যুগে যুগে পরমুখাপেক্ষী করেছে মানুষকে !


আর সেই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে

শার্দূল কর্তৃত্ব-লোভ, কেবল ধূর্ততার অধিকারে,

মানুষকে, গলায় বকলেস বেঁধে,

একটি মনুষ্যেতর পরিচয়পত্র মাত্র ঝুলিয়ে,

চারপেয়ে তে পাল্টে, হিঁচড়ে টেনে নিয়ে চলেছে

গড্ডলিকা প্রবাহে,

আপন স্বার্থসিদ্ধির এক এর পর এক দিশায়, 

রাজনীতি আর ধর্মের সুবিধাবাদী মুখোশ

নিজে আগে পরিপাটি করে সর্বাঙ্গে গলিয়ে নিয়ে !


সুদীর্ঘ দৈন্যের পরম্পরা মুক্তি দেবে না সহজে ৷

এ চারপেয়ে-যাপনের দুর্ভোগ

সাহসে-পঙ্গু মানুষকে 

এখনো অনেকদিন ভোগাবে ৷


তারপরে একদিন ফের

সকালের মত সকাল আসবে

একে একে সকলের জন্য,

মানুষ যেদিন মুখোশের আড়ালে থাকা

প্রতিটি কুটিলতাকে ঠিক-ঠাক বুঝতে পেরে,

তার অপ্রয়োজনীয়ের ভারকে 

ঠিক কমিউনিজমের মত

জীবন হতে খুলে, ছুঁড়ে, 

চিরতরে সংস্পর্শের বাইরে ফেলে দেবে ৷


"ভালবাসা ছাড়া 

আর কোনও নৈতিক নিরাপত্তার

প্রয়োজন নেই আদপে মানুষের" -

একথা খোলাখুলি উচ্চারণে

যেদিন আর ভয় থাকবে না কোনও,

নিছকই ফাঁকা বুলি-সর্বস্ব 

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভেদাভেদের

যত্ন করে সাজানো জটিলতার পসরাকে সেদিন

তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তেই হবে,

মানুষ যেদিন ফের 

শুধু আপন দুই পায়ের জোরে

নতুন ক'রে, গর্ব-ভরে, 

হাসতে হাসতে আবার উঠে দাঁড়াবে ৷ 


মানবিকতার অফুরাণ ঐশ্বর্য্যে, মানুষের পরিচয়ে -

ঠিক যেমন রাজকীয় সৌন্দর্য ফুটে ওঠার কথা,

শুদ্ধ আত্ম-নির্ভরতাকে স্থায়ী রূপে অন্তরে পেয়ে

মানুষ ও তার স্বাধীনতা, সেদিন,

ঠিক তেমনই অপ্রতিহত ঔজ্জ্বল্যে অটুট হবে ৷

মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

পার্থক্য

তুমুল তর্ক, চুল ছেঁড়াছেঁড়ি ঝগড়া, 

হতাশা, রাগ, অভিমান 

আর হাজারো গণ্ডা অভিযোগেের মধ্যেও

আদরের মখমলি চাদরে, রোজ নিয়ম করে,

মুড়ে রাখতে ও থাকতে পারার নাম 

"ঘর" ৷


ইঁট, কাঠ, সিমেন্ট দিয়ে তৈরী হয়

মানুষের জন্য যে বাসস্থান

তাকে "বাড়ি" বলে ৷


বাড়িকে ঘরে পাল্টে নিতে 

সেই ধরণের ভালবাসাটি লাগে,

যে, কোনও এক অন্তিমে,

ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে,

বাধ্য হার মেনে নিয়ে, 

একবারের জন্য হলেও

ফুরিয়ে ফেলে না নিজেকে কখনও !

.

স্বাধীনতার সুখ

 গাছ কে 

কাছ থেকে দেখেছ কখনও অরুণেশ ?


আলো আর জল ঠিক মত পেলে

সবুজের অভিনিবেশ 

কী অপরূপ রূপ ধারণ করতে পারে, 

একবার, খুব ভাল করে দেখে জানিও ৷


অনেক মিল - গাছের সাথে মানুষের ৷

জল আমি আহরণ করে নিতে পারি

রোজ রোজ, - দূরত্বের সুবিধাটুকু নিয়ে,

তোমাকে নিত্য নতুন রঙে 

শর্তহীন ভালবাসায় রাঙিয়ে নিলে

বুকের ঝরণার স্বতঃস্ফূর্ততার অঝোরে ৷

আমাকে থামাতে 

হাজির নেই যেখানে সাক্ষাৎ তুমিও ৷


ত্বককে ছোঁওয়া নাইবা হলো ৷

তোমাকে প্রলুব্ধ যদিবা করে

আমার প্রয়োজন না পড়তেও পারে কখনো ৷


আমার ভিতরের সবুজকে

অধিক ক্লোরোফিলে ভরে রাখতে ইচ্ছা হলে,

যেমন ব্যস্ত রয়েছ আজও -

আপন আলোর অকৃত্রিম প্রকাশে, 

আপন অভ্যাসে

তেমনটি দরাজ রেখো যত্ন


আর

দূর হতে, যদি পারো,

আমার নিবিড় সোহাগ মেখো তখনো !

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

ঘাপলা

ভালবাসা - সুযোগ-সন্ধানী বড় কম নয় ৷

ইতিউতি চায় আর ওৎ পাতে ৷

দৃষ্টিতে দৃষ্টির সম্মতি মিলে গেলেই

হাত ধরে ওমনি একছুট -

'রে' থেকে সটান 'ধা'-এর পানে !

ঘরে ঢুকে ছিটকিনিটি দিয়ে দিলেই


স্বতস্ফূর্তের নিরাপত্তায়

সাময়িক দম ফিরে পাওয়ার বিরতি,

তারই সাথে, দাম্পত্যের 

চিরকালীন-এঁড়ে অনুশাসন হতে

চুরি করে জিতে নেওয়া দুর্লভ যতি,


ভালবাসা

আড়বাঁশির নিখাদ ব্যাকুলতার সুর হতে

অগতির-গতি লেহ্য-প্রেমে পাল্টে নেওয়ার মুখে, 

এইবার, পরিপাটি সমর্পণ-সুখে

বিছানার কলকে-কাটা থালায় 

নিজেকে থরে থরে বিছিয়েই দেবে,


অতৃপ্তি-অধীর এ জীবন 

অপেক্ষার বিরহী ফাঁকে ফাঁকে 

সোহাগের সিক্ততা আচমকা পরিপাটি পেলে,

আমে-দুধে 

শেষ অবধি, সঘন মিলে গিয়ে,

অন্তরে

উষ্ণতার আকাঙ্খিত সুসহযোগের,


দৈনন্দিনতার মাঝে 

সহসা ফুঁড়ে ওঠা টগবগে 

নিবিড় উদ্দীপনাকে

হুবহু খুঁজে নিতে পারা চলে ৷

.

বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

অনুভব

 শহরের থেকে বেরিয়ে, কিছুটা দূরে,

একটি গাছের তলে বসে

বছর পঁচিশের এক যুবক

আপন মনে পা ছড়িয়ে

নিজের ভাষায় গান গাইছিল ৷


বছর সতেরোর এক তরুণী

রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে

অদ্ভুত সুরটি শুনে 

বাধ্য দাঁড়িয়ে পড়েছিল ৷


ভাষাটি অজানা হলেও

ভাবের তরঙ্গে ভাসা 

পড়েনি আটকে ৷

সুরটি গুনগুন করতে করতে

তরুণীটি একসময়ে, সাহস করে,

নিজের পছন্দ মত 

শব্দ বসিয়ে নিল সে সুরে ৷


এরপরে 

একে অপরের দিকে তাকিয়ে

দুজনে হেসে ফেলেছিল,

দৃষ্টির ভাষা পড়তে

অসুবিধা হয়নি কারও - 

আচমকা বুঝতে পেরে ৷


দুজনে, একটু পরে, 

বেশ মজা পেয়ে

আর একটু নিকটবর্তী হয়ে, 

মুখোমুখি বসে, একই সুরটিতে

ফের নিজের নিজের ভাষায়

আগের মত গান ধরেছিল ৷


তৃতীয় জন

ততক্ষণে থমকে দাঁড়িয়েছিল ৷

দুটি ভাষাই তার জানা ৷

আক্ষরিক অনুবাদ 

আর ভাবানুবাদের মধ্যে

কোনটি সুন্দরতর,

সেদিনই প্রথমবার তার কাছে

বরাবরের জন্য

হঠাৎই স্বচ্ছ হতে পেরেছিল ৷

.

Check yourself ? 

Well  :)

.

https://youtu.be/PccTGESPppE

.

https://youtu.be/dD3Oa0y8n70

.

শনিবার, ১২ জুন, ২০২১

গল্প হলেও সত্যি

পনেরো বছর অতিক্রান্ত

অভি আর রিমঝিম বিবাহিত দম্পতি ৷


দুজনেই চাকরি করে ৷

অভি রোজ সকালের চা করে 

রিমঝিম কে ডাকে ৷

রিমঝিম ঘরঝাঁট দিতে দিতে

অভি রাতের বাসন মেজে নেয় ৷

রিমঝিম বাথরুমে যায় যখন, স্নান সেরে নিতে,

অভি, ডাণ্ডা দিয়ে, পুজোর জায়গা সহ

চারটি ঘর মুছে রাখে ৷

রিমঝিম স্নান সেরে এসে পুজোয় বসে ৷

তারপরে রান্না ঘরে যায় ৷


এরপরে একটানা কাজ রিমঝিমের ৷

লক ডাউনে যদিও দুজনেরই ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম,

রিমঝিমের সব কাজ শেষ হতে

দুপুর আড়াইটে পেরিয়ে যায় ৷

ফাঁকেতালে থাকে

ছেলে, মেয়ে, আর অভির জন্য

লাঞ্চ বেড়ে দেওয়া ৷


রান্নাঘর ধুয়ে, ভাতের থালা হাতে

রিমঝিম যখন অভির কাছে

অবশেষে পৌঁছায় কিছুটা টলমল পায়ে,

অভি ততক্ষণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ৷


থালাটি রিমঝিমের হাত থেকে টেনে নিয়ে

ডাল, ভাজা, তরকারি, মাছ দিয়ে

একটু একটু করে ভাত মাখতে থাকে ৷

তার পরে গ্রাসে গ্রাসে আদর

বিশ্রান্ত প্রিয়তমার মুখে তুলে দিলে,

রিমঝিমের এযাবৎ ক্লান্তি কেটে গিয়ে

একটু একটু করে রঙ পাল্টানোর সাথে

মুখে অনাবিল হাসি ফের ফুটতে পায় ৷


না না, অভি অথবা রিমঝিম,

কেউই অবাঙালী অথবা বিদেশী নয় ৷

.

প্যারাসাইট

 "কবিতাকে শরীর দেব" -

 

শালা, এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করা মাত্রই

আমার বাম দিকে আর ডান দিকে

ওমনি খাড়া হয়ে গেল যুযুধান দুই পক্ষ

আকস্মিক বাঙালিয়ানার প্রতিযোগিতায়

ঘেউ ঘেউ আস্ফালনে - 

তুমুল বাক-বিতণ্ডা সহযোগে ৷


বাম-পক্ষ বললো - "ও যে রাজি হলো শরীর দিতে,

তা, কবিতা কবে চাইলো নির্লজ্জের মত 

ওরই কাছে বহুমূল্য শরীর ?

কী প্রমাণ আছে তেমন অঙ্গ ওরই একার আছে, 

দেখাতে হবে আগে ৷"


ডান-পক্ষ বললো "ও কত বড় কবি ?

কটা পুরষ্কার রেখেছে বগলে, যে ঘটা করে

ঘোষণা দিতে হবে - "কবিতাকে অবয়ব দেওয়ার" ?

কী এমন দৃষ্টান্তমূলক শরীর ও দিয়েছে

অতীতে কবিতায় ?


দুপক্ষ অতঃপর একযোগে চেঁচিয়ে উঠলো -

"একজনের কেন হবে এত একতরফা বাড় ?

সমবন্টনে প্রতিভার কী মূল্য আছে ?"


ঝগড়া, বাঙালীর নিয়মে, 

দ্রুত হাতাহাতির ঠিক আগের স্তরে পৌঁছে যেতেই,

'লড়াই যথারীতি জমে গেছে' - এ বিষয়ে

পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে, 

টুক করে, ছোট, বড়, মেজ,

সকল পরমুখাপেক্ষী বগলের তল দিয়ে গলে,

আমি আর কবিতা 

আত্মমুখাপেক্ষিতায় তুমুল আস্থা রেখে,

হাসতে হাসতে, নাচতে নাচতে, 

সটান পাগার পার ৷

বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

ভারী ও হালকা

মুক্তি - কোনও জনমে পর-নির্ভর নয় ৷

আসক্তির বন্ধন ছিন্ন করে 

মুক্তিকে খুঁজে পেতে হয় ৷

পথটি অন্তরে আরোহনের ৷


আসক্তি আত্মস্বার্থের নামান্তর ৷

আত্মস্বার্থকে অবশেষে একদিন

সংকীর্ণতার অভিশাপে 

নিজেরই ভারাক্রান্ত নিকটে 

পরবাস-সম হওয়া ভিন্ন উপায় নেই ৷


ভালবাসা, অপর পক্ষে, শুদ্ধ পরার্থে

আসক্তির বিপরীত দিশায়

আনন্দের ঔদার্যে, 

অবিরাম উৎসবে নিশ্চিত করে 

উৎকণ্ঠাহীন উড়ানের বরাভয় ৷

.

ফেরা

বেশ কিছুদিন যাবৎ

কিছুতেই বোঝাতে পারি না তোমাকে আর,

এই যে নিঃস্ব, রিক্ত, বর্তমানটুকু কে

"একমাত্র তুমি" বলে ধরে বসে আছো,

এটা আদৌ আসল তুমি নয়,

তোমার একটি পরিবেশ-জনিত 

প্রক্ষিপ্ত বিকার মাত্র ৷


তুমি, আসলে, তোমার তেজোদ্দীপ্ত রূপকে ভুলে

দিব্যি আছো, দিনের পর দিন, ভেড়াবৃত সিংহী ৷

মানায় না তোমাকে - এই মেনে নেওয়া "হায় হায়" !


তোমাকে একটিবার, সম্পূর্ণ একা,

নিজের পায়ে হেঁটে হ্রদের পাশে যেতেই হবে

আপন প্রতিবিম্ব প্রত্যক্ষ করে

সুদূর কাঁপানো গর্জনে 

ফের নিজেকে ফিরে পেতে 

আত্মবিশ্বাসীর অপরাজেয় সত্ত্বায় ৷

.

তান

ইচ্ছাশক্তি - নারী-পুরুষে

অসীম বিশ্ব-শক্তির 

একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ ব'লে

সে স্বভাবে স্বাধীন এবং অনন্ত,

মানবজীবনে লভ্য একমাত্র পুরুষকার ৷


শরীর, মন ও প্রাণ-জনিত 

অবশিষ্ট একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ মানুষের

মূলতঃ প্রকৃতির প্রতিরূপ 

এবং স্বভাবে পরমুখাপেক্ষী নারী-স্বরূপ ৷


যে মানব-জনমে

পুরুষকার প্রকৃতির দাস,

সে যাপন বাধ্য বৃত্তাকারে গতির অগতি, 

উন্মেষহীন,

কলুর বলদের পারা 

দীনের দিনগত পাপক্ষয়-জনিত

হতাশার স্তুপ ৷


যে জীবনে 

প্রকৃতি ইচ্ছার স্থির লক্ষ্যে অনুগত সহচরী,

সে আসক্তি-মুক্ত চরৈবেতি 

ক্রমাগত সরলরৈখিক উত্তরণে

সার্থক-জনম ও মহান মুক্তির জয়গান ৷

.

বুধবার, ৯ জুন, ২০২১

Fluidic

Water, trapped wherever,

Waits and waits

To spill out someday

By a lifetime love

As the call finally taps

To instantly catch the flow....

To roll over

Towards an overwhelming exploration

But, of course, in full swing

And without any regret along the go.


Water just seems to be like a woman

Who's dreaming all through her life

To uproot herself from all useless past

For a final abundance to humbly abide.

.


.

সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

স্রোতস্বিনী

 উৎসটি তথাপি নিবেদিত কিনা

সেকথা কেউ এভাবে, বাইরে নামিয়ে এনে, 

বেবাক খুলে ফেলে পরীক্ষা করে ?

ফেরার পথটিই, 

হতচ্ছাড়া, সবার আগে চুরি করে নেবে,

এমনটি জানলে

কেউ কি আর সখ করে এসে বিপদে পড়ে?


সরল মানুষের

লজ্জার মাথা খেয়ে

এখনও কী পরিমান বোকার ঠকা বাকি,

'নিবারণ' - ব'লে এই যে বাধ্য ফিরে ফের ডাকি,

সে উচ্চারণকে লুকিয়ে কি করে রাখি 

সমস্বরের অনুনয় হতে,

এ জাগরণ-ব্যপী উৎকণ্ঠাদের ঘরে ঘরে ?

রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

কৃপণ

চিরটাকাল গলা-জড়াজড়ি বন্ধুত্ব

অভিমান আর অভিযোগে !

নিয়ম করে চোখে হারাতে থাকে

একে অপরকে

মাসের পর মাস, বছরের পর বছর !


তৃষ্ণা উভয়েরই পায় - দীর্ঘ শুষ্কতার দহনে ৷

শুকিয়ে আসে যখন গলা, 

একে হাত রাখে অপরের কাঁধে, 

না বলেই বুঝে নেয় !


ভালবাসা স্বভাবে কৃপণ ! সচরাচর দূরে থাকে ৷

কেবল কালেভদ্রে আসে জোয়ার ঠেলে দিলে !

একবার পৌঁছে গেলে 

তুমুল ভিজিয়ে যায় হেসে-খেলে ৷


অভিমান আর অভিযোগে আকর্ষণ অত্যধিক !

একের নিশ্বাস অপর-জন প্রশ্বাসে পেলে

বর্তে যায় !

পার্থক্য শুধু সৌন্দর্যবোধের 

হামেশা না খেয়াল করা একটি সূক্ষ্ম মাত্রায় !


ভালবাসার চৌম্বকক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়ে তার ?

ঝাঁপিয়ে আসার কালেও অভিযোগ হতে তাই, 

যৎসামান্য হলেও, অভিমানের পানে বেঁকে যায় ?

.

এ দুরন্ত মানব-জীবন

"গড় মান" - বলে একটি প্রথম বন্ধনী চিরকাল রয়ে  যাবে পৃথিবীতে ৷ এই মানে বাঁধা পড়ে থাকবে সেই পরমুখাপেক্ষী মানুষেরা, যারা নিজেদের দিকে সৃজনশীল দৃষ্টিতে তাকাতে জানে না ৷ যারা অলীক ভবিতব্যের দিকে তাকিয়ে থেকে, কলুর বলদের চেতনায়, জীবনভর দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে ৷ একটি মানবজীবনের অন্তরে কী বিশাল সম্ভাবনা রইতে পারে - তাকে বাস্তবে প্রতিনিয়ত আবিষ্কারে ও সদব্যবহারে সমূহ অক্ষম এরা ৷


চেতনার তারতম্যে এর বাইরে যারা, একমাত্র তারাই খুঁজে পাবে - দৈনন্দিন জীবনের ঘন্টায় ঘন্টায়, কেবল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কিরূপে সঠিক কর্মটি নির্বাচন মানুষের প্রাথমিক দায়িত্ব হতে পারে ৷ 


কর্ম নির্বাচন একবার হয়ে গেলে, তাকে সার্থক রূপে কার্যকর করারও শতাধিক পদ্ধতি রইতে পারে ৷ এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম পদ্ধতিটি অবলম্বন করা চেতন মানুষের দ্বিতীয় দায় ৷


তৃতীয় দায়টি হলো - জীবনের ন্যূনতম সময় খরচ করে শ্রেষ্ঠতম কর্তব্যটি, নিয়মিত রূপে, এমন ভাবে সম্পাদন করা, যাতে সে আপন উৎকর্ষকে ভরপুর উপভোগ করতে পারে ৷


অতঃপর চতুর্থ দায়টি অবধারিত ভাবেই হতে চায় - অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কর্মে, পূর্ব প্রকারে, সচেতন মনোনিবেশ-সক্ষমতা অর্জন করতে পারা ৷

শনিবার, ২৯ মে, ২০২১

ধায় যেন মোর

ভালবাসা আর অধিকারবোধ

মূলতঃ শত্রু - একে অপরের,

তীব্র বিপরীতমুখিতায় ৷


ভালবাসা মানুষকে 

আত্মমুখাপেক্ষী স্নানে 

নিরন্তর সতেজ আর সবুজ করে ৷

বাড়তে থাকে সে অবগাহনে

ঐকতানের প্লাবন, দিনে দিনে

অবিরাম প্রাণোচ্ছলতায় ৷


অধিকারবোধ - অবশ্যই পরমুখাপেক্ষী !

কুক্ষিগত করার 

একতরফা সংকীর্ণ লোভ এর অধিক 

আর কিছু নয় ৷

"আমি আর আমার" - এর আবর্ত হতে

কোনও মতে, "আমরা"তে, 

স্থায়ী উত্তরণের পথটি না খুঁজে পেয়ে,

অতৃপ্ত মানুষ তাই

প্রভুত্ব-লিপ্সার নিদারুণে, অসহায় হীনমন্যতায়,

কালে কালে ক্রমশঃ শুকিয়ে যায় ৷


ভাল যে বাসতে জানে, সে আগে ভাগে,

অনুরণন-সামর্থে, দিনের প্রতিটি মুহূর্তের 

সচেতন কার্মিক রূপান্তর ঘটাতে পেরে,প

ভালবাসার জোরে 

যাপনকে আপনতর করে পায় ৷

তারপরে, বিবিধ আপনের সংসর্গে

পরিবৃত হয়ে নির্মল আনন্দের সহবাস করে ৷

আত্ম-সৃষ্টির চমৎকার, শিল্পের আরাধনায়

এমনই সর্বাঙ্গ-সুন্দর বিনীতের পরিনয় ৷


পৃথিবীর যত ক্রমাগত সম্ভোগ-লোভীর 

অবধারিত ভিখিরিপনার

এ স্বর্গীয় উৎসবে 

দুর্ভাগ্যক্রমে প্রবেশাধিকার নেই ৷

.



শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

অনাগত

আজ যত দায়িত্বের ভার

কাল সে খোয়াবেই সার,

আগলে রাখা ছানাপোনারা

যেদিন সবে মেলবে ডানা

পুরোনা ঘরকে ছেড়ে, 

জীবনকে দিতে দুহাত ভরে

নূতন প্রেমের বিহ্বল নজরাণা !


অপেক্ষারা শেষ হবে তবে ৷

ঝাড়া হাত পায়ে তৈরী ভবে, 

দৌড়াবি সেদিন আমার সাথে 

পৌছাতে পর্বতদের পাশে

প্রান্তিক মাঠে, সবুজ যেখানে

থাকেই বারোমাস ভরে ?


হবি রাজি গন্ধর্ব মতে

উদযাপনকে খুঁজে পেতে,

দেনার দায়কে মুক্ত করে

বিরলতম অভিসারে,

একে অপরের নামটি ধরে, 

শুধু আশ মিটিয়ে চিল্লাতে ?


অবাক হয়ে দেখবি তখন

অনাগত সন্তানদের যতন,

প্রতিধ্বনির নিনাদে চড়ে 

চারপাশ হতে ঘুরে ঘুরে

আমাদেরই সুরে সুর মিলিয়ে

জড়াবে কেমন সে সাক্ষাতে ৷

বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১

অমোঘ

ঝড়ের সাথে মিশে যাচ্ছে কালো ধোঁয়া ৷

পুড়ছে শরীর ৷

একটা জলজ্যান্ত মানুষ

আর একটু পর থেকেই চিরতরে নেই হয়ে যাবে ৷


শেষ হয়ে যাবে

এতদিন ধরে চর্চিত বাসনা কামনারা

ক্রন্দনরোল যেই বিষণ্ণ বিদায় দেবে ?


একটি নাটকের সাময়িক যবনিকাপতন ৷

কালো পর্দা উঠবে আবার ৷

যেখানে শেষ হলো আজ

ঠিক তার পর থেকে

সব কামনা বাসনার সঞ্চয় সহযোগে

পরের অঙ্ক

আবার প্রথম থেকে শুরু হবে ৷


ভাল-মন্দে কর্মের সমাহার 

আর তার যাবতীয় দায়

এতই সহজেই কি নিশ্চিহ্ন হতে পাবে ?

বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

অপর্ণা

 মানুষ অভিযোগ করতে পারে -

"মৌন, - স্বভাব-দুখী ব'লে" !


অভিমান-জনিত শব্দাধিক্য - 

সবই অবশ্য ফাঁকা-কালে ৷

অপর্ণা-যাপন অবশেষে ভরন্তে শান্তি পেলে,

বাইরে আর কোনও আওয়াজ পৌঁছায় না ব'লে, 

বোঝানো যাবে না -


কী সুখে মজে থাকার 

লগন আসে এ উথলানো অন্তরে,

পরাণ কলস তোমার 

একবারটি প্রাপ্য সোহাগ পেয়ে 

ফের আহ্লাদে টইটুম্বুর হলে ৷

বরণমালা

ভালবাসলে 

যে প্রবৃত্তিটি সবার আগে সক্রিয় হয়

তার নাম অনুভব !


বুদ্ধি কেবল আপন অভিজ্ঞতার সামর্থে

পরকে বুঝতে চায়, অথচ,

অনুভব পরের দৃষ্টিকোণ হতে অপরকে বোঝায় !


ভাল কি কেবল বিপরীত লিঙ্গ হলে

তবেই বাসতে হয় ?


লিঙ্গ-নির্বিশেষে 

প্রতিটি মানুষের ভালবাসার জন্য

যে নিকটতম উপাদানটি অহরহ থাকে পাশে,

তার নাম সময় ৷


সময়কে নিবিড় হৃদয়ে ভালবাসতে পারলে

সে তার আপন অবগুণ্ঠন তুলে

অনন্ত রসদ মানুষের হাতে তুলে দেয় ৷

সময়ের কাছে লুকানো থাকে,

সুযোগের নামে, আত্মবিশ্বাসের শ্রেষ্ঠ বীজ

প্রতিদিনের ঘন্টায় ঘন্টায় ৷


সময় থেমে থাকে না কখনো ৷

সুযোগটি ঠিক সময়ে গ্রহণ করতে না পারলে

সুযোগ চলেও যায় ৷

সময়কে ভালবাসলে, তবেই

সে কখন কোন সুযোগটি দিয়েছিল

ধরতে পারা যায়, নচেৎ নয় ৷


মানুষ, অথচ, কাছের উপহারকে অবহেলা করে

কেবলই দূরে তাকিয়ে থাকতে ভালবাসে

আর অদৃষ্টকে দোষারোপ করে ৷

যে ফুল ছড়ানো ছিল পায়ের কাছে

তাকে অঞ্জলিতে তুলে মালায় গাঁথতে ভুলে যায় ৷

সঠিক সময়ে বিশেষ কর্মটির নিরন্তর কার্পণ্যে

আত্মবিশ্বাসের বরমাল্যটি ওঠে না গলে ৷

সৌভাগ্য হারাতেই থাকে পদদলনের উপেক্ষায় ৷

.

রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

Freedom

You may lead or lag in reality

But the choice remains self-made everytime.


Options remain always on, too,

Between a sterio type compromise

With awareness

And an intelligent reconsideration 

Of every judgement,

Such that, doing things in a superior way

May let you reach your central purpose

With better agility and accuracy.


You, thus, ceaselessly mould

An improved version of yourself

And enjoy the marvel of your

Performances-oriented existence Simultaneously.


There is nothing wrong

In availing the scope of telling yourself -

"You are just brilliant, my dear,

And leave me no higher option

Than madly loving you."


At the end of the day

Life may remain an exciting game and

Happiness ? Is it actually a parasite ? 

Did it ever last longer

Being outsourced ?


Well, happiness is

Really a cool and delicious experience

That need not wait for others

So long 

You remain a performer inside.

বুধবার, ১৯ মে, ২০২১

কারা করবো জয় ?

তিনি চেয়েছিলেন

সমাজে অবশিষ্ট রইবে না

প্রতিভার এমন কোনও উচ্চশৃঙ্গ পর্বত

যার শুভ্র উচ্চতার পরিপ্রেক্ষিৎ হতে 

তত্ত্বের অন্তঃসারশূন্যতাটি

সহজেই প্রতিভাত হতে পারে !

প্রতিভামাত্রের জন্য তাই 

ক্ষমতার পরবর্তী আদেশ ছিল -

"হয় অনুগমন নতুবা মরণ" ৷


তত্ত্বটি ঠিক কি ছিল ?


তত্ত্বটি হলো - 

পর্বত, সমতলভূমি আর সাগরের সমন্বয়

একা প্রকৃতিতে থাকলে, থাক বরং,

মানবসমাজ কেবল সর্বহারা শ্রমিক ও কৃষকদের

সমতলভূমিতে গঠিত হতে হবে ৷

পর্বত ও সমুদ্রের আদৌ কোনও প্রয়োজন নেই ৷


সেইমত চললো ক্ষমতার বুলডোজার ৷

ফলে যা হবার তাই হলো !


নতুন প্রতিভাদের অঙ্কুরোদগমের পরমুহূর্তে

তাদের পঙ্গু-করণ নিয়মিত হলো 

বুলির আগ্রাসনে, 

পোষ্য শেফার্ডের সীমিত শিক্ষায় ৷

পাহাড়দের ভেঙে ভেঙে

ভরাট করা হলো সমতলের গর্ত ও খাঁড়ি ৷


উচ্চতার পার্থক্য বাধ্য হারিয়ে গেলে,

ঝাঁপিয়ে পড়ে আর না বইতে পেয়ে, 

প্রথমেই যাকে স্থবির হতে হলো, তার নাম - জল ৷


নদীরা শুকালো একটু একটু করে !

সমাজের যত শস্য-শ্যামলা উর্বর জমিন 

আর তার সবুজ সম্ভাবনারা

শুদ্ধ প্রাকৃতিক জলের আস্বাদন না পেতে পেতে

ক্রমশঃ রূপান্তরিত হলো 

ম্যাড়ম্যাড়ে হলুদ মরুভূমিতে ৷


ইতিহাস আজও বলে - কোনও এক কালে

সে সব দেশের গর্বিত ফলনে ছিল

টলস্টয়, সোলঝেনিৎসিন, রবীন্দ্রনাথ 

অথবা এই সেদিনের সত্যজিৎ রায় ৷


তার ধূর্ত শব্দ-সম্মোহনের জাদুর প্রভাবে

আজও ফেঁসে বসে আছ তুমি ৷

বাকি দুনিয়াও ছুঁড়ে ফেলে দিলে

আপন পঙ্গু সন্তানকে, এ প্রজন্মের নামে তাই 

ধিক্কার দাও, হে মহান বিপ্লবী ?

আজও, আপন বিবেকের মুখোমুখি না হয়ে, 

বিপ্লবের নামে,

বন্ধ্যাত্ব নতুন করে বাড়ানোর স্বপ্ন দেখতে চাও ?

রবিবার, ১৬ মে, ২০২১

কাঁঠালের আঠা

প্রেমে পড়ে মানুষের যা যা দিতে পারা

সে সব একমাত্র ক্ষণস্থায়ীই হতে পারে

যদি হয় শুধুমাত্র স্পর্শযোগ্য - বাস্তবে ৷


ফুরোবার আগে, অমলিন আগ্রহের প্রমাণে, 

ফের প্রতিবার নতুন করে ভরে দিতে হলে,

জীবনের আর বাকি সব দায় অস্বীকার করে,

প্রথমেই ক্রীতদাসের মত পরমুখাপেক্ষী আত্মনিগ্রহে

একটি অদৃশ্য পরাধীনতার শৃঙ্খল 

মানুষকে স্বেচ্ছায় বরণ করে নিতে হবে ৷


মানব-জীবনের 

এতদূর সংকীর্ণ ও পরাধীন স্তরে যাপন 

নিছকই কূপমণ্ডূক-সম 

এবং কদাপি কাম্য হওয়া সমিচীন নয় ৷


ভাল আমরা তখনই লাগাম খুলে বাসি

যখন বুক ভরে সবুজের

সাহসী নূতনত্বকে নির্দ্বিধায় অনুমোদন করি ৷

নিত্য-উদ্যত সুকোমল অনুভবের বিস্মিত বৈভবে

যখনই প্রতিনিয়ত অলঙ্কৃত করি আপন পরাণ,

সে কিন্তু সারা জীবনের জন্য 

গতানুগতিকতা হতে উত্তরণের উৎসবে,

স্থির গতিকে ত্বরণে পরিবর্তনের অভ্যাসে,

সঞ্চিত হতে থাকে

নিজেকে ইচ্ছানুযায়ী ছাপিয়ে যেতে পারার 

বর্ধিত আত্মবিশ্বাসে, - একান্ত আপনার ধন হয়ে !


পাওয়ার অনভিজাত আকাঙ্খাটুকুই 

অথচ পরমুখাপেক্ষী দাসত্বে 

পিছনে টেনে ধরে বার বার

স্বতঃস্ফূর্ততাকে !


আমরা কি তাব'লে পারি না

সব পাওনাদের দেনার পাট

আসক্তি হতে চরম ঔদাসিন্যে চুকিয়ে দিয়ে,

মূল লক্ষ্যে ধ্যানময়তা বৃদ্ধিতে নিমগ্ন হতে,

একনিষ্ঠতার প্রতিজ্ঞায় - উদ্ভূত তেজে

ভালবেসে, আপন অন্তর-কমলটি কে

সহস্রদলে প্রস্ফূটনের উল্লাস-সুখ অবিরাম দিতে ?

সোমবার, ১০ মে, ২০২১

তিক্ত বাস্তব

শুদ্ধ-আত্মমুখাপেক্ষী, রবীন্দ্রনাথ, জীবনভর ব্যাপৃত ছিলেন অনুভবের বিষ্ময়কর সৌহার্দ্যে মানবজীবনের বহুরূপী সত্য তথা আত্ম-আবিষ্কারের শৈল্পিক চর্চায়, যা নিছক বুদ্ধি অথবা কল্পনার দ্বারা কোনওমতেই সম্ভব নয় ৷ 

বেচারা, গড়পড়তা বাঙালী বুদ্ধিজীবীরা, বুদ্ধির সাথে অনুভবের পার্থক্যটিকেই স্বচ্ছ রূপে অনুধাবনে ও ধারণে সমর্থ নয় ব'লে, আজও আবদ্ধ -  শৈশব-জনিত অদূরদর্শিতার যথাবিহিত বেড়াজালে, "মন" নামক একটি ধোঁয়াটে পরিসরে তৃপ্ত থেকে, প্রাণ বা পরাণের প্রতি বিমাতৃসুলভ অবজ্ঞার, অভ্যাস-জনিত আসক্তির, নিরলস চর্চায় ৷


মূলতঃ, পরমুখাপেক্ষী উন্নাসিকতার বাধ্য দৈন্যে, অধিকাংশই তাই জীবনভর ব্যস্ত - 


একদিকে, কুসমালোচনার মাধ্যমে দল ভারী করার মরীয়া প্রয়াসের কিঞ্চিৎকর সামর্থে, আপন অহমিকাটুকুর নিরন্তর পদলেহনে 


এবং 


অপরদিকে, সমান হারে, সুযোগ পাওয়া-মাত্রই, হাস্যকর জ্ঞান মেরে দেওয়ার দ্বারা, কূপমণ্ডূকের আত্মপ্রসাদ সঞ্চয়ে ৷


হ্যাঁ, নিঃসংশয় না হয়ে উপায় থাকে না আর, গড়পড়তা বেচারাম বুদ্ধিজীবীর অদূর সীমা আজও এই স্তরেই বাধ্য কিলবিল করে ৷

.

রবিবার, ৯ মে, ২০২১

পান্থজনের সখা

সময় একটি অপ্রতিরোধ্য মাপক ও বিচারক ৷ সে শুধু এগিয়েই চলেছে একটি নির্দিষ্ট গতিতে ৷ থামার কোনও প্রশ্ন নেই তার ৷


মানবজীবনে সময়ের অর্থ সাময়িক সুযোগ ৷


অলস, অসংবদ্ধ ও মূখ্যতঃ ভোগবাদী মানুষের কাছে সময় মানে - নিরবচ্ছিন্ন অপচয় ও তদজনিত ঋণগ্রস্ততার কারণ ৷


সচেতন মানুষের কাছে সময় মানে - অক্লান্ত কর্ম-সহায়ে, সুযোগের বিচক্ষণ সদ্ব্যবহারে, সময় অপেক্ষা অধিকতর গতিময়তা, - যা তার উপার্জন-সমষ্টিকে প্রতিনিয়তই পাল্টে ফেলতে থাকে, আত্মিক ও পার্থিব স্তরে, অর্জিত সম্পদে ৷


সে সম্পদ, কর্মফলের সৌজন্যে, মানবজীবনে হয়ে ওঠে, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে, তার প্রশ্নাতীত কর্তৃত্ব ও কৃতিত্বের কারক এবং নশ্বর এ মানব-জীবনে একটি ঐশ্বরিক উচ্চতার অমর ইতিহাস ৷


যেমন পঁচিশে বৈশাখ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৷

.



.