বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১
ম্যাচিং
মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১
মাতৃগরব
সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১
স্বতঃস্ফূর্ত
শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
পরার্থ ও স্বার্থ
বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১
Health Of Soul
The Difference
মঙ্গলবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২১
উদ্দীপ্ত
ভাষা বনাম শব্দ
সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১
সহজিয়া
বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১
আলিঙ্গন
বাসস্থান
বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১
লোভ
সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১
"প্রাপ্য বরাণ নিবোধত"
বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১
কোলের মায়া
মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১
সাফল্য
রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১
প্রত্যুত্তর
মর্যাদা-বোধ
সহজিয়া
শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১
দীপালিকা
শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১
অবুঝ নিমিত্ত
বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
শ্রাবণী পূর্ণিমা
শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১
সেয়ানে-সেয়ানে
শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১
Conservation
সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১
ইনফেকশন
সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
ভাগ্যের ভাগিদার
রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১
ত্বরণ
শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১
নেশা
সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১
শুদ্ধম স্মরণম
শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
অভ্যর্থনা
বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১
উড়াল
সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১
রোধ
শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১
হৈমন্তিকা
শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১
সত্যানুভব ও কল্পনা-শিল্প
সত্যের নদীখানিও চলে এঁকেবেঁকে ৷
অনুভবের ডিঙিটি সে বহমানতাকে
মৃদুছন্দা সারল্যের সুবাদে
ধীর গতিতে হলেও, বাইতে ঠিকই পারে ৷
শাশ্বতীরা
অবশেষে পৌঁছে যেতে পারে গন্তব্যে
শাশ্বত-র অভিসারে ৷
চাকচিক্যের বাগাড়ম্বরে পরিপূর্ণ
কল্পনার বজরা
সত্যের দিশায় কেবলই আটকে পড়ে ৷
"আমি"-র ঘূর্ণীতে
ঘুরে-ফিরে ঘুরতে থেকেই
দূর্মূল্য জীবন সমাপ্ত করে ৷
.
.
সততা
যা যা পারো নি দিতে, তা নিয়ে
কোনদিন কোনও অভিযোগ নেই আমার ৷
তবে, দিতে চাও নি কখনও যা
সে নিয়ে অবশ্যই অভিযোগ আছে ৷
তুমি কিন্তু পারতে
সরলতা আর উদারতাকে
অক্লান্ত স্বেচ্ছার কর্ষণে
ফুলের মত গেঁথে উপহার দিতে
ভালবাসার নিরবচ্ছিন্ন মালায় ৷
অধিকারের লোভ ক্ষমতার গরিমায়
তথাপি টেনেছে অক্ষমতাকে, পদে পদে,
অধিকতর কাছে ৷
.
বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১
কারুবাসনা
"তুমি লিখছো" - এটা তোমার কাছে
ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও
সময়ের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় !
"আমি" একটি অহমিকার অন্ধত্ব-পরিচয়
যে কুকুরের লেজের মত
ঘুরে ফিরেই, প্রসঙ্গে,
নিজেকে মূল প্রতিপাদ্য করে
নিছক কূপমণ্ডুকতার জানান দেয় ৷
"কতজনা আজ
কত প্রকারে বাহবা দিল তোমাকে" -
সেটাও একই হারে বর্জ্য, প্রাসঙ্গিক নয় !
"তোমার দৃষ্টি জীবনের অকাট্য বাস্তবে
কতদূর গভীর অবধি যায়" -
এটা কিন্তু অবশ্যম্ভাবী রূপে গুরুত্বপূর্ণ,
কারণ অনুভবের শিকড় যত গভীরে যাবে
বিরচিত লীপিমালা
কালের ঝড়কে তত সহজে সয়ে নিয়ে
শেষ অবধি টিকে যাবে ৷
এই কারণেই রবি ঠাকুর
বর্তমানের অনেক যশস্বী অপেক্ষা
আজও অধিকতর প্রাসঙ্গিক ৷
জীবনের কেবল উপরতলে
কল্পনার এক্কা-দোক্কা খেলায়
যতই মেধার পরিচয় রাখো না কেন,
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন কর -
"সময় কি তার বুকের অন্দরমহলে
তোমাকে আদপে জড়াবে,
নাকি, কেবল উপরিতল-চর্চা
সামুদ্রিক ফেনার লঘুত্বে
আপন আত্মঘাতী প্রবণতায়
এক বা বড়জোর দুই দশকেই
নিজেকে নিশ্চিহ্ন করা
অবধারিত রূপে সুসম্পন্ন করাবে ?
সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১
আত্ম-বিকাশ
বিক্ষিপ্ত চিরন্তন-অর্জনহীন ৷
অর্জন কেবল স্থিরলক্ষ্যে সম্ভব ৷
সময় মানুষের
একমাত্র ও আবশ্যিক মূলধন ৷
এ জগতে 'যোগ্যতা' এবং 'প্রাপ্য'
কোনও সীমিত মাত্রা নয়,
অর্জন-লভ্য মাত্র! ৷
উত্তীর্ণ হতে হলে
একটিমাত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া
আর সকল লক্ষ্য হতে
সর্বপ্রথমে, সচেতন ভাবে,
নিজেকে বিযুক্ত করতে পারা আবশ্যক ৷
তবে
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার
ন্যূনতম প্রয়োজনকে
অবহেলা করলেও হবে না,
কারণ, অগ্রগতির দৌড়কে
অপ্রতিহত করতে হলে
দুর্ঘটনাকেও পরিহার করতে হবে
প্রয়োজনীয় ধৈর্য সহকারে ৷
একমাত্র তবেই সম্ভব হবে
একটিমাত্র লক্ষ্যে
অবিচলিত ভাবে
সময়কে
একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের তেজে গলিয়ে
একটু একটু করে
নিরঙ্কুশ সাফল্যের মূর্তিখানি
পূর্ণ রূপে গড়ে তোলা ৷
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
Arise, awake and stop not till the goal is reached
."উত্তিষ্ঠত, জাগ্রত, প্রাপ্য বরাণ নিবোধত"
___________________Swami Vivekananda
Expansion by Arup Sarkar
লক্ষ্যহীনতা গতির মারক ৷
দিশাহীনের অবধারিত নিয়তি জড়তা
ও অপর কে প্রভাবিত করতে চাওয়া
হুজুগের মাদারী-খেল ৷
একাকীত্বকে ভয় না পেলে,
লক্ষ্যকে বাকি জীবন হতে একা করে,
একান্ত নিজের করে নিলে,
লক্ষ্যের জন্য নিয়ম করে, নিষ্ঠা সহকারে,
সময় দিলে,
সে একটু একটু করে
তোমাকে অপ্রতিহত গতির জগতে নিয়ে যাবে ৷
একাকিত্বের অন্তরে লুকিয়ে থাকা
চরৈবেতির আশীর্বাদ
জীবনে অঝোর ধারে বর্ষিত হবে ৷
ভয় কে জয় করে
আপন সম্ভাবনাদের যথার্থ সুযোগ দাও,
যত্ন করে আবাদ করতে
নিয়মিত জল ঢালো গোড়ায় !
নূতন চারা গজাবে চরিত্রে ৷
সম্ভাবনারা ক্রমশঃ
সামর্থ ও দক্ষতায় পাল্টে যাবে ৷
.
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ফানুস
বিবাহ নামক অনুষ্ঠানটি
পাশ্চাত্যের অনেক দেশেই
বাসি ও সাত-পুরোনো
"নির্বোধের গলার দড়ি" - ব'লে
বহুকাল আগেই বর্জিত হয়েছে ৷
বাঁচার মডেল পাল্টে পাল্টে গেছে ৷
যেভাবে, আবেগের নিরাপত্তা
ও বৈচিত্রের বহুবিধ সহবাসকে
মানুষ একাধারে সম্ভব করেছে -
তেমন একটি হলো, -
অভিনয়ের প্রয়োজনকে নস্যাৎ করে,
বলে কয়ে, বহু মানুষ
একদিন ছেড়ে একদিন ক'রে
সপ্তাহের তিনটি দিন
স্থায়ী সম্পর্ককে পূর্ণ সময় দিয়ে
গভীর দরদে ও শ্রদ্ধা-সহকারে
যে আদরে আগলে রেখেছে,
ঠিক তেমনই, সপ্তাহের দুটো দিন
মানবজীবনে
সাময়িক বৈচিত্রের প্রয়োজনকে
সমানতালে স্বীকৃতি দিতে,
নিয়মিত সঙ্গ পরিবর্তনকে
জীবনের প্রত্যক্ষ অংশিদার হিসেবে
ভনিতা-হীন উচ্চগ্রামে স্বস্তির চর্চায় রেখে,
বিশ্বাস-ঘাতকতার ব্যাজার প্রশ্নকে
জনসমক্ষে নির্মূল করে বসে আছে ৷
সপ্তাহের আর বাকি দুটি দিন
নিজের সাথে নিজে
সম্পূর্ণরূপে একা হওয়ার জন্য
"একান্ত ব্যক্তিগত" ডিক্লেয়ার করে দিয়ে
পরবর্তী আত্মবিকাশের সচেতন স্বার্থে
আপোষহীন আত্মবিশ্বাসে একার রেখেছে ৷
মানুষ নামক এই প্রাণীটি
কী ভীষণ ইন্টারেস্টিং না ?
এতসবের মাঝেও
স্থায়ী সম্পর্কটির তিনটি নির্দিষ্ট দিনে
সঙ্গীর যাপন ইতিহাসে
কোনও প্রকার বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ
ঘটনাচক্রে পেতে হলে,
ওমনি বিশ্বাসে নির্ভরতা খুইয়ে
যার-পর-নাই মুষড়ে পড়েছে,
চোখের জলের বন্যা বয়েছে,
নিজেকে একা, নিঃসঙ্গ
ও প্রবঞ্চিত অনুভব করে
মনোবিদের চেম্বারে
দিনের পর দিন সময় দিয়েছে ৷
মানুষ নামক এই প্রাণীটি
কী ভীষণ ইন্টারেস্টিং না ?
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
প্রদীপের_আলো
ভালবাসার ঘোরটি লাগা মাত্রই
তুমি অন্য একটা মানুষ হতে শুরু কর ৷
তুমি কি খেয়াল করেছ কখনো,
তোমার এযাবৎ অভ্যাসদের
বল্কল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চায়
সম্পূর্ণ নূতন আর একজন তুমি,
যাকে নিজেই চিনতে না
এই সবে মাত্র কিছু দিন আগে ?
ভালবাসা তোমাকে সুন্দর করে না
একথা আমাকে বিশ্বাস করতে বলো না ৷
তবে, ভালবাসার সাথে জোড় বাঁধতে চায়
যেমন কামনা, তেমনই শ্রদ্ধা ৷
যে রঙের স্থায়িত্ব যত কম অথবা বেশি
সে তেমন আবীরে রাঙায় তোমাকে ৷
প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি মানুষ
সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে
সুন্দরের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা ৷
তুমি কাকে কবে ভালবেসেছিলে
এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷
ভালবেসেছিলে ব'লে,
প্রবল আত্মবিশ্বাসের তোড়ে
অনুভব
প্রাণবন্ত গতিময়তা পেয়েছিল ব'লে,
উদ্ভিন্ন সুন্দর হতে পেরেছিলে,
খুঁজে পেয়েছিলে বাঁচার অনস্বীকার্য মানে,
আপন অন্তরের আকুলতা, ব্যকুলতাদের
সম্ভাব্য সর্বাধিক তীব্রতা সহ
জীবনকে সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছিল,
এটাই চিরাচরিত সত্য ৷
আর বাকি সব মিথ্যা জেনো ৷
এমনকি সে হতভাগা, নাছোড়, কেষ্টাও !
কোনও এক মহাপুরুষ কোনও একদিন
এই কারণে লিখেছিলেন -
"আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ
চুনি উঠলো রাঙা হয়ে" !
একটা নূতন দর্শন জন্মলাভ করেছিল এ ধরায়
এই সত্যটির প্রতি নির্ভরে, অস্তিত্ব-বাদ নামে ৷
মানো অথবা না মানো,
তোমার প্রেমের সার কথাটি হলো -
তুমি আসলে ভালবাসতে বড্ড ভালবাসো
আর ভালবাসলেই ওমনি চুটিয়ে ভাল থাকো ৷
ভাল থাকতে চাওয়া তো অন্যায় নয় কোনও ৷
আর এই ভালবাসতে চাওয়া
তুমি নামক মানুষটি তোমার এ জীবনের
প্রথম ও সর্বশেষ সত্য ৷
"কাকে ভালবেসেছিলে ?"
আরে ধুসস ! ওটা আবার কোনও প্রসঙ্গ নাকি ?
একবার নয়, যতবার খুশি পরীক্ষা করে নিও
আপন জীবনে -
"ভোগে ভালবাসা মরে, বিহনে ভালবাসা বাড়ে ৷"
.
https://youtu.be/TcCPQrrI1jM
.
.
শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
প্রবজ্যা
কি বললে ? "অবসর - অনেকদিন পর
আবার হয়তো কোনও একদিন
ডাকবেই অধিকতর কাছে ?"
তাহলে আর হতাশ কেন স্বর ?
কাজও ঠিকঠাক গোছানোই আছে !
চলে যাব স্টিয়ারিং এ হাত রেখে
সেদিনও - লং ড্রাইভে
তিস্তার পাশে পাশে
সেবকের সর্পিল বাড়ানো হাতে
উত্তেজনাদের নিশ্চিন্তে বন্ধক রেখে
পৌঁছে যেতে
ভালবাসার পাহাড়ি ঠিকানায়
ঘুরতে ঘুরতে, বার বার বাঁক পেরিয়ে
আরও উপরে উঠতে উঠতে,
অবশেষে - অদেখা উচ্চতরতায়,
চূড়ার যে বিন্দুতে এসে
সব দ্বিতীয়কে অদ্বৈতে মিশতে হয়
তার প্রকৃত প্রাকৃতকে ছুঁয়ে-ফেলায়
এ পুরোনো আমাদের
আবার নূতনের
অপূর্বে পাল্টে যেতে পারা কাছে ৷
বিশ্বাসকে নিজেতে পুরোটা ভরে রেখো !
তার চেয়ে অধিক
আর কি কোনও নির্ভরতা
এ ধরায় আমৃত্যু অবিকলে বাঁচে ?
ত্রিনয়ন
বড় হওয়ার ঠিক পরে পরে
তিনি একদিন কাছে বসিয়ে বলেছিলেন -
"যারা দেখবি - চাহিদামত শুতে পেলেই
পূর্ণ-তৃপ্ত বা চালু কথায় "বক-বক খুশি",
তারা জানবি
পশুজন্ম পেরিয়ে এসেছে অতি সদ্য !
গায়ে তাই গন্ধ পাবি মাঝে মাঝেই এখনও !
যারা দেখবি - ভালবাসার মানুষটিকে
ইচ্ছানুযায়ী চালাতে বদ্ধ-পরিকর
তারা জানবি ভিতরে ভিতরে শোষকও !
ভালবাসার অজুহাতে, ভালবাসার চেয়ে,
অধিকারের প্রয়োজন তাদের নিকটে অধিক ৷
এরা মানবজনমে অভিজ্ঞতর,
বুদ্ধির সুবিধাবাদী প্রয়োগের ক্ষেত্রদের
আগে থেকে চিনে রাখার অধিকারে ৷
যারা দেখবি তুলনামূলক ভাবে শান্ত ও মৌন
তারা অনুভবে সাধারণতঃ গভীর ৷
মুখে না বলেও মানুষকে পড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে
তারা বেশিরভাগই এগিয়ে ৷
ভাব বিনিময়ের জন্য দৃষ্টির ভাষাটি যথেষ্ট ৷
সমাজের ছড়ির শাসন পারে না রুখতে
ইচ্ছানুসারে প্রাণের সঙ্গমে
তাদের বানভাসি খুঁজে নিতে পারা !
নিচু হতে ক্রমশঃ উঁচুতে
তিনখানি স্তর !
প্রথমটি শরীর,
যেখানে আকাট ও সেয়ানায়
ভীড় সর্বাধিক ৷
দ্বিতীয়টি মন,
যেখানে অহমিকা আর
কর্তৃত্বের লড়াই প্রাণপণ
আর তৃতীয়টি পরাণ,
যে জীবনের আসল ক্ষীরটি
মেরে দিতে জানা ছুপারুস্তম ৷"
শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
Learn Before You Earn
Man often doesn't know how to love himself. Well its quite simple.
Who is the Lover ?
Its the conscious will.
Who is the Object ?
Its his ever distractive instincts
lying hidden
under the massive subconscious.
What's the purpose ?
Absolute control for obedient executions.
Well, first of all,
you have to have sheer passion to possess,
such that, your passionate will can project
a powerfully hypnotising call for your instincts,
to let the latter helplessly respond
and surrender unconditionally,
almost as a prey,
towards accepting precise discipline
and remain ever-ready to obey,
before you start the power game of life
at a much superior level of perfection.
Its a possible game of love between the two brain components of the same persons provided the passion is enough intense .
The conscious will,
at the pick of the brain,
that retains fixity of purpose,
as MALE
And the voluminous subconscious,
acquired so far as habit force,
that creates massive momentum,
as FEMALE
The clue is "If you once reach the bitch as an epitome of force and power, it will instantly fall in love and being mad to respond in the same vibe, will start licking the male to convey its ready obedience to receive inside whatever thrusted"
What yet awaits is to commence celebration !
Cheers !
.
https://youtu.be/VID289p3GTc
.
;)
.
শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
পরবাস
নারী হোক অথবা পুরুষ
এ জগতে প্রতিটি মানুষ
অবারিত আনন্দের সন্তান
পাখির মত
স্বাধীন জীবন আহরণে ৷
প্রতিটি দুঃখের কারণ
সে একা নিজে,
সুখের লোভে প্রবৃত্তির স্বতঃ-দাসত্বে
কর্মফলের নিয়তঃ অভিশাপে
আসক্তির একক অপরাধে, প্রক্ষিপ্ত পরবাসে ৷
.
বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
কথা দেওয়া
কথা দিলেই কথা থাকে,
না দিলে আর কিচ্ছুটি নয়,
এমনটাই
সর্বদা বুঝি হয় ?
কোনও কথা না দিয়েও
সম্পর্ক কি করে গড়ে ওঠে,
একটা মানুষের সাথে
আর একটা মানুষের সুর
যখন আপনিই মিলে যেতে চায় ?
যখন মন বলতে থাকে -
পরাণের অবাক গানে
সুরের সাথে সুর মিলে গেলে
আলাদা করে
মুখের কথা দেওয়ার
কথা ছিল কি কোনও
এমন অপার নির্ভরতায় ?
কথা দেওয়ার
আদপে দরকারই বা কি,
মানুষ যদি
স্বেচ্ছায় স্বচ্ছতা ধরে রাখে
আপন বিবেকে,
ভালবেসে মেনে নেয়,
না বলা কথাদের প্রতি
নিবিড় শ্রদ্ধায়,
একটিও কথার কথা
নিজের মুখে না দিলেও
অক্ষরে অক্ষরে কথা রাখার দায় ?
বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১
Choice
Man has a single life
That has only two options
To adopt anyone.
Either evolution or revolution.
Whenever you are not aware,
You helplessly surrender your life
Almost fully to your subconscious.
Your instincts readily take over
To pull you along the old, beaten track
According to the principle of
"Enjoy first to suffer at last".
You undergo your evolution
Along a circular path,
Pulling yourself round and round
Which you term 'your so-called destiny'.
If you volitionally prefer your conscious
To take charge
Of your days' minutes and hours,
You have to exert a bit harder.
Your fixity of purpose
Permits only those actions
That may reach you closer to your goal.
Your path of life becomes straight-lined
Just automatically
And you needn't repeat any same blunder twice.
You thereby deny the destiny
Ascribed by your sub-conscious
And redefine it by earned command
On higher freedom and ecstasy.
This is how you choose your revolution.
( Incidentally,
Do you know why the so-called
Revolution by Communism failed?
Well, it silently skipped the inner responsibly
Of self-transformation based on
Pure self-love.
And instead
To grab state power and then try to retain it
Its principal mission was
To make fool of the mass
By shrewdly preaching sheer hatred,
Hatred for individual self-interest
And development whatever,
As well as, hatred for the worthy class
Whoever had the capacity for
Creating wealth
By means of
Visualization and wiser translation of time
Into wealth.
The true creators of fortune for man
Were termed as snatchers.
They tried to hypnotize only,
Through lousy debates, full of dubious phrases,
That may successfully camouflage
The invitation of
The era of the worst kind of slavery,
Thus Communism was
A fragile structure of External Revolution
Based on a hollow foundation
In absence of any
Concrete internal transformation
Of individuals
Who chiefly constituted the society and nation.)
মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১
তুরীয়
কেবল Wish টুকু নিয়ে
মানুষ দিনের পর দিন দিব্যি বাঁচে ৷
মানুষের সাথে একটু একটু করে
Wish ও সমানতালে বুড়ো হতে হতে
মরে যায় একদিন ৷
মানুষ সে অবধি বাঁচতে ভালবাসে
হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রসব যন্ত্রনায়
বাঙ্ময় কাব্যের অফুরন্ত সান্ত্বনার পরিসরে ৷
অতি সামান্য সংখ্যক মানুষে ইচ্ছাশক্তি বেড়ে
Wish পরিনত হয় Want এ,
যার পরে Want হতে পারে Need ৷
তারপরেও অবশ্য একটি threshold থাকে
অবচেতন হতে উদ্ভূত বাধার ৷
ইচ্ছাশক্তি সেই শেষ বাধাকেও
অতিক্রম করে যখন,
তারপর থেকে অলঙ্ঘ্য চেতনা
অবচেতন-উদ্ভূত আসক্তিদের অকেজো রেখে
ইচ্ছাকে অধিকার দেয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে
অবিরত কর্মে রূপান্তরিত হতে ৷
মানুষ যতবার পড়ে ততবার উঠে দাঁড়ায়
নতুন উদ্যমে,
আর ক্রমাগত পায়ে পায়ে যাত্রা করে
ইশ্বরের ঐশ্বর্য্য অর্জনের দিশায়
উত্তরোত্তর স্বাধীনতা ও মুক্তির পথে ৷
দেবত্ব
কেবল Wish টুকু নিয়ে
মানুষ দিনের পর দিন দিব্যি বাঁচে ৷
মানুষের সাথে একটু একটু করে
Wish ও সমানতালে বুড়ো হতে হতে
মরে যায় একদিন ৷
মানুষ সে অবধি বাঁচতে ভালবাসে
হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রসব যন্ত্রনায়
বাঙ্ময় কাব্যের অফুরন্ত সান্ত্বনার পরিসরে ৷
খূব সামান্য মানুষে ইচ্ছাশক্তি বেড়ে
Wish পরিনত হয় Want এ,
যার পরে Want হতে পারে Need ৷
তারপরেও অবশ্য একটি threshold থাকে
অবচেতন হতে উদ্ভূত বাধার ৷
ইচ্ছাশক্তি সেই শেষ বাধাকেও
অতিক্রম করে যখন,
তারপর থেকে অলঙ্ঘ্য চেতনা
ইচ্ছাকে অধিকার দেয়
অবিরত কর্মে রূপান্তরিত হতে ৷
মানুষ যতবার পড়ে ততবার উঠে দাঁড়ায়
নতুন উদ্যমে,
আর ক্রমাগত পায়ে পায়ে যাত্রা করে
ইশ্বরের ঐশ্বর্য্য অর্জনের দিশায়
উত্তরোত্তর স্বাধীনতা ও মুক্তির পথে ৷
শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
নিবিড় ইচ্ছা
মানুষ চাইলে, শক্তি ও সৌন্দর্যকে
সমন্বিত করতে পারে না
আপন অস্তিত্বে, অবধারিত উন্নয়নে ?
লোকে বলে -
তুমি যদি আজ থেকে জিমে যেতে শুরু কর,
ত্রিশ দিনের মাথায়, পার্থক্যের সম্মন্ধে,
আর কোনও সংশয় রইবে না তোমার ৷
ষাট দিনের মাথায় পরিবর্তনটির সম্মন্ধে
নিশ্চিত হবে তোমার প্রিয়তম জন ৷
নব্বই দিনের মাথায় সশব্দে মেনে নেবে
বাড়ির সকলে ৷
একশো আশি দিনের মাথায় তোমাকে
আলাদা পরিচয়ে চিনবে সারা পাড়া ৷
Certainty
Those who finally brought themselves
To the top of the world,
Whatever the stream may be,
Attained almost heavenly freedom on earth..
"They made it possible only through hard work"
Is merely half of the truth.
The rest half of the story is that
1. They transformed every challenge of tough toil into sheer jubilance by much higher spirit.
2. They were aware of the utility of taking wise breaks before getting fully exhausted.
3. They retained bliss of mind all along the journey by never losing patience and never becoming a victim of fear.
4. They rewarded every of their days' toil with personal celebration, however small it may be.
The Power of Today
They say
"Yesterday is history
Tomorrow is mistry
But today is a gift
That's why it is called the PRESENT".
Unwrap the gift very carefully
Layer by layer
To reveal the novelty inside.
Everyday gifts, once accumulated,
Turns into The Lifetime Reward
To establish you as an achiever in reality.
Whatever purpose you undertake
Pursue it for at least first six months
And by then, you will certainly start
Experiencing the miracle
Of the six pack muscles
Of earned Habit Force.
You will start inventing
The_more_condensed_you,
The_more_bright_you,
The_more_spirited_you,
The_more_powerful_you,
Through the proper use of
Today, the Present,
To celebrate your existence to the brim.
Just no hurry or drifting please.
"Today" is the "one step at a time" foot-rest
That will reach you at the top of the ladder
Just in time.
শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১
বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১
মান ও হুঁশ
একই মানুষের মন, সময়ের ফেরে,
কখনো সবল, আবার কখনো দুর্বল হতে পারে ৷
সবল মন সচেতনের নিয়ন্ত্রণে থাকে ৷
সচেতন মন, মানুষকে ঢেলে সাজাতে পেরে,
পাল্টে পাল্টে যাওয়া উন্নত রূপে গড়ে ৷
সবল মনের প্রতিটি আত্মমুখাপেক্ষী কর্ম
একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে
নিরন্তর সরলরেখায় ধাবিত হয় ৷
সময়, কর্মের মাধ্যমে, রূপান্তরিত হতে থাকে
যোগ্যতাতে ও বস্তু-প্রকৃতির ধনে ৷
মানুষ, ক্রমশঃ, বয়স বাড়ার সাথে সাথে
আক্ষরিক অর্থে ধনী হতে থাকে
আর সৃষ্টির প্রাপ্য বরে আনন্দে ভরে ৷
দুর্বল মন আসক্তি তথা অবচেতন নিয়ন্ত্রিত
ও মূলতঃ ভোগ-সর্বস্ব ৷
আসক্তি, নিয়ত পরিবর্তনশীল ও বক্র-গতি
পরমুখাপেক্ষী সাময়িক সম্ভোগ-লক্ষ্যের মোহে
সময়কে কেবলই অপচয় করে চলে ৷
প্রতিটি ভোগের পরে
পড়ে থাকে না সঞ্চয় কিছুই,
বরং, ভোগাকাঙ্খা
যত অধিক ও বহুমুখী হতে থাকে
দুর্ভোগ সেই হারে জীবনে বাড়ে ৷
প্রাণ তার ইঁদুরের মত
প্রবৃত্তির জাঁতাকলে পড়ে, দমবন্ধ হতে হতে,
ছটফট ও অবিরত বিলাপ করে ৷
বিস্মরণ
কবিতার মেঘ ভেঙে
ভালবাসা অঝোরে ঝরে পড়লেই,
ভেজাবে বলে -
বলা নেই, কওয়া নেই, আমাকে
হিড়হিড়িয়ে রাস্তায় টেনে নিলে !
পরাণের ট্রামলাইন ধরে
হাত ধরাধরি হাঁটতে শুরু করলে
টুং-টাং বেজে ওঠে
পাতা-ঝরার ঝরণা চেনানো
অপার্থিব সেতার !
সুর চিনে নেয় কোমল ঋষভ,
প্রতিবার, অন্তরের অবধারিত মিলে ৷
চাষের বেগারে বেমানান যুগল
ধান ভাঙতে হয়তো ভাঙা কুলো ৷
জীবন তবু জোয়ারে টইটুম্বুর
দৃষ্টিকে দৃষ্টি ছুঁলেই
দুষ্টুমির অবধারিত খিলখিলে !
তালে থাক সকলের ভাঁড়ার ঠাসা ৷
বুঝি না কি ভাবে
এত খুশি জোটায় সামান্য তিলে ৷
হিসেব রেখো না শুধু
কি চেয়েছিলে, কি পেলে,
বরণডালাকে থরে থরে
কেমন যতনে সাজিয়েছিলে
আর না চাইতেই, হালকা ঢলে,
আপন প্রস্রবণ হতে, ঘন মধু,
কখন, কোন অবধি ঢেলে দিলে ৷
বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
আকাঙ্খা
তার অধিক আর কিচ্ছুটি নয় ৷
সর্ব রোমাঞ্চের সন্নিধানে
হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওইটুকুই শেষ অবধি চাওয়া !
আমি প্রতিবার খুন হতে চেয়েছি প্রেমিকের হাতে ৷
আমি চেয়েছি অস্ত্রের কষ বেয়ে
টপ টপ করে গড়িয়ে পড়ুক টাটকা রক্ত
আর ঘর ভরে যাক আঁশটে গন্ধে ৷
আমি চেয়েছি -
তার পরে স্থানুর মত পড়ে থাকুক নগ্ন শরীর ৷
আমার বলতে কোনও বাধা নেই -
প্রতিটি প্রেমের স্বপ্নের শেষে
আমি খুন হয়ে যেতে চাই
ফালা ফালা করে দেওয়া নির্মমতম ধর্ষণে !
আমুল বিদ্ধ হতে চাই
ক্ষিপ্রতার অপ্রতিরোধ্য বশীকরণে
মাংসল দৃঢ়তার অবর্ণনীয় ধারে ৷
মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১
ছোটগল্প - "প্রত্যয়"
রমিতা পা বাড়ানোর আগে শেষ বার পূর্ণদৃষ্টিতে তাকালো শমিতের দিকে ৷
অভিজ্ঞ দৃষ্টি আর আটকে গেল না চামড়ার স্তরে ৷ মানুষটার ভিতরকে স্পষ্ট দেখতে পেল রমিতা !
সেখানে খাপছাড়া কাঁচা পাকা দাড়ি ৷ অবিন্যস্ত উস্কোখুস্কো চুল ৷ কোঁচকানো নোংরা জামা পরিধানে ৷ সে জামা কিছুটা শুকনো, বাকিটা ভুল চারণ থেকে ছিটকে আসা কাদা লেগে ভেজা ৷ সে কাদায় হালকা দুর্গন্ধ পাঁকের ৷
শমিত অথচ বাইরে ফুলবাবু সেজে থেকে, তখনো ভেবে চলেছে যে সবাই তাকে দেখছে - সে যেমন দেখাতে চাইছে সবাইকে, অবিকল তেমন ৷ রমিতা নিশ্চিন্ত হলো - তার সিদ্ধান্তে ভুল নেই আর কোনও ৷ অন্তরের পরিচ্ছন্নতা যার কাছে বাতুলতা, তাকে কোনও নিকট সম্পর্কে রাখতে চাওয়া একমাত্র আপন হীনমন্যতারই উদযাপন হতে পারে ৷
পায়ের পাতায় দৃঢ়তা অনুভব করলো রমিতা ৷ নাঃ ৷ আর যাই হোক, হীনমন্যতা যায় না তার স্বতঃস্ফূর্ত আত্মশ্রদ্ধার সাথে ৷ পথের বাড়ানো আকুল দুই হাত চাইছে তার সাড়া ৷
যাত্রা শুরু করলো বিশুদ্ধ আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তার মোহ ছেড়ে, আরও একবার, সম্পূর্ণ অজানার জগৎ হতে, সুন্দরতরকে দৃঢ়-নিশ্চিত লক্ষ্যে অধিকতর আপন করে নিতে ৷
বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১
অতল
খুব দ্রুত মেরে ফেলতে চাইলে
প্রেমের কৌমার্য
যত দ্রুত সম্ভব হরণ ক'রে
সর্বাগ্রে নির্বিকল্প খাদক হতে হয়,
খেতে, খেতে, খেতে, যতক্ষণ না
খাওয়ার ন্যূনতম আগ্রহটুকুও
বেমালুম হারিয়ে যেতে পারে ৷
"বিলক্ষণ বিচক্ষণ প্রেম" -
আর বলে কারে !
ভালবাসা দীর্ঘতম হয় শুধু-মাত্র বন্ধনহীনের ৷
জানলাটি সামান্য ফাঁক করে রাখতে হয়,
যেন, সে ঠিক সময়মত চমকে দিয়ে
শিরশিরানো ফিসফিসিয়ে
প্রতিটিবার বলতে পারে -
"আগলদের এবার
পরতে পরতে ঢিলে করে দিলেই,
দূরত্ব যত, পড়তে হবে - খসে !
ঝোড়ো বাদল ওমনি ঝাঁপাতে পারে
এক্কেবারে ভিতর-ঘরে ৷"
মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১
অভিসনদ
সদরের সিংহদুয়ারটি পেরিয়ে
পায়ে পায়ে ঢুকে এলে ভিতর-ঘরে,
সে অভিযানে না আছে প্রতিহারীর বাধা
না আছে তারপরে দেওয়াল কোনও !
আছে ফুলের বাগানের পাশে
সমানতালে বনজ সুঘ্রাণ !
আছে বিশাল পিপুলের তলে
নদীর বিরামহীন হাওয়া
যেখানে ক্লান্ত পান্থ
তৃপ্তির দীর্ঘ "আহ্ কে দীর্ঘায়িত করতেই পারে ৷
আছে পাতা-ঝরা অপেক্ষায় স্খলিত বিতান
পরতে পরতে উন্মোচিত হতে
পরাণের নিভৃতি-অবগাহন
স্বেচ্ছায় সুলগন এগিয়ে দিলে ৷
আছে সুদূরের-সৌরভ আলোকিত দিশা
উন্মোচন, জলের অতলে,
কাম্য স্বচ্ছতাটি খুঁজে পেলে ৷
আচ্ছা বলতে পারো
অনাবিল স্বেচ্ছা কেন এ হেন অনুদার তোমার ?
আতিথি-সৎকার ও উন্মুখ প্রতি-প্রবেশ
দাবী করে অভিন্ন রূপকথা ?
ফটকের বাইরে একটানা দাঁড়িয়ে থেকে,
অচেনা স্বৈরিণীর সুরে
শরীরের একঘেয়ে নাম ধরে হেঁকে হেঁকে,
সাড়া না পেয়ে
রাত্রি-শেষের ওকাম্পোর মত
ঘাম মুছতে মুছতে, হেঁটমুণ্ড অশ্রুভারে
অবশেষে নিশ্চুপ হয়ে গেলে !
শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
সরলতা বিনা
ফেসবুকে পরিচিতি ! ক্রমে ক্রমে আকর্ষণ দুর্বার !
দুজনেই আগ্রহের আতিশায্যে
উভয়ের প্রতি লাইক কমেন্টে সুনিবিড় ও ভিন্নমাত্রিক !
সামনাসামনি দেখা অথচ নেই !
শুধু গড়িয়ে চলছিল এক এর পর এক
একাকী অপেক্ষাদের অলস বছর !
আচমকা এক ভোরে চায়ের দোকানে মুখোমুখি ৷
বুক থেকে ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে
এযাবৎ জমিয়ে রাখা উদ্বেল কথাদের বুদবুদ ৷
কিন্তু যেচে আপন পরিচিতি দেওয়া, অথবা
"আপনি অমুক না ?" দিয়েও
শেষ অবধি কেন যে শুরু হলো না বাক্যালাপ !
অভিমান কি ভর করে এল ওমনি একরাশ -
"ও যখন চিনতে পারছে না, তখন আমিই বা কেন ?"
উভয়েরই একসময়ে ফুরালো চা খাওয়া !
এবার উত্তেজনা থিতিয়ে আসার মোচড়ানো ব্যথা ৷
ধীর পায়ে এঁটো ভাঁড় জঞ্জালের ডাব্বায় ফেলে,
দৃষ্টির আকুতিকে সম্বরণ করে,
অতঃপর, নিয়তিতে যেমনটি নির্দিষ্ট ছিল -
সেই অযাচিতকে বাধ্য মেনে নিয়ে, সঙ্গীর বাইকে চড়ে
ক্রমশঃ ছোট হতে হতে অনির্দিষ্টে মিলিয়ে যাওয়া ৷
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১
পবিত্রতা
এ পৃথিবীতে কে কত ভাগ ভালবাসে আর কত ভাগ নিখাদ শুতে চায়, সে তথ্য ছেঁকে আলাদা করে বিছিয়ে দিলে বেশ সমস্যায় পড়ে যেতে পারে অধিকাংশ মানুষ ৷ দেনা-পাওনার হিসেব ? আর সেই নিয়ে মাঝে মাঝেই একটানা ঘেউ ঘেউ ও কেঁই কেঁই, অথবা দীর্ঘশ্বাস যোগে, সম্পর্কটি অতৃপ্তিতে অতীব বিষাদময় ? এটাকে ভালবাসা বলে ?
না, এ হচ্ছে মুখোশ অথবা নিছক মধ্যচিত্ততা ! ভালবাসার উদ্দেশ্য কোনও ক্ষুদ্র স্বার্থ কদাপি নয় ৷ কোনও প্রকার ধান্দাবাজি লুকানো না থাকলে, কাউকে কৃতার্থ করবে বলে ভালবাসে না মানুষ ৷
যে, যাকে ভালবাসে, তাকে আপন শ্রদ্ধার উৎকর্ষে, আত্মবিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মাত্র ৷ তার বেশি আর কিছু নয় ৷
মানুষ ভালবাসে, ঐশ্বরিক ব্যপ্তি ও মহানুভবতাকে আপন হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্তে সরাসরি চুটিয়ে উপভোগ করতে ৷ শতকরা একশো ভাগ ব্যক্তিগত স্বার্থে, অবচেতনে আপন জ্যোতির্বলয়ে আকস্মিক প্রসারণ-প্রবণতা অনুধাবন করে ৷
এক্ষেত্রে, যে ভালবাসছে সে ই স্পষ্ট প্রকৃষ্ট ৷ যাকে ভালবাসছে, তার গুণ-বিচার, পরিপ্রেক্ষিতের স্বার্থে, আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ প্রাপকের যোগ্যতা অথবা যৌক্তিকতা বরং অপ্রাসঙ্গিকতায় ঝাপসা হতে পেলে ভালবাসার সত্যরূপটি স্বচ্ছতর হওয়ার অধিক সুযোগ পায় ৷
ভালবাসা, এইকারণে ঋণগ্রস্ত হয় না অথবা করে না কখনও ৷ যে ভালবাসা পেল, তারও কৃতজ্ঞতার অবকাশ থাকে না, কারণ ভালবাসার বিচরণ কৃতজ্ঞতার গোচারণ অপেক্ষা অনেকটা ঊর্ধ্বস্তরে !
ভালবাসলে, অনাবিল শ্রদ্ধা, আনন্দময় আস্থার সুবাসে, আপন আত্মপ্রসারের সাথে, বিশ্বস্ত যোগসূত্রটি নিঃশব্দে গড়ে নিতে পারে ৷ যে ভালবাসে, সে আত্মিক সম্পদে নিজেকে ছাপিয়ে যেতে শুরু করে বন্যার বন্যতায় ৷
শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১
The Call
_________Arup Sarkar
.
Man often visualised revolution
As an external purpose only.
Theoreticians toiled a lot to implement,
Couldn't sustain and finally were Compelled to let go.
Revolution yet
Remains the most important term
In human life, provided
It is sensed deep within
As a constant roar for liberation
From one's own limitations.
Life claims -
"You lose freedom of choice for consumption
If you don't earn and store beforehand."
Do we still have to confuse priorities ?
What should be
The primary purpose of human life ?
Creation first or consumption ?
If it is swallowing, then
We are no better than any animal.
If it is resurrection,
Then we are, at least, wiser than, but
Is it possible without love ?
We earn capabilities
Whenever we create ourselves and grow.
The objects of our love may vary
But they are still 'means' only.
The principal fuel of our self-creation
Is the inner sun, we miserly hide
At our individual fountain of love
That awaits a liberation
To flood all barriers of
Sadness driven stagnancy.
Do we hear the tune of the flute ?
Can we,
That has ever been inviting us
To the paradise of revolution
Individual by individual ?
Do we ever feel due urge inside
For the bake and call and turn bright
To transform into deeper green
While growing gloriously in spirit
Even far tall ?
.
https://go2arup.blogspot.com/2019/12/the-call.html
.
শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১
আনন্দম
ভালবাসি ব'লে
আমার বহু-মাত্রিক চেতনার রঙে
তোমার পান্নারা হতে পারে অবিশ্বাস্য সবুজ,
চুনীরাও ওঠে রাঙা হয়ে ৷
ভালবাসা বিপ্লবের চিরকালীন বীজ-মন্ত্র ব'লে
আমার এ সাত-পুরানো দৃষ্টিতে
নূতন সৃষ্টির খেলা উৎসারিত রোজ রোজ,
তোমাকে, অবাক বিষ্ময়ে,
আরও বেশি প্রাণ ভরে শেখার সুযোগে ৷
ভালবাসার স্বর্গীয় মহিমায়
অনবরত খই ফুটতে থাকা পরাণ হতে
উত্তরণের মই অনায়াসে পৌঁছেই যায়
বীমা-হীন আকাশের অশেষ সীমানায় ৷
ভালবাসি বলে তুমুল বাঁচি -
একথা তুমিও যদিও ভালই বোঝো,
সাপের প্যাঁচে জড়িয়ে ধরে
এ স্বাধীনতাকে হরণের দিশা
বারবার খুঁজে পেতে চাও তবু -
আপন বীর্য-গন্ধী অমার স্খলিত অগভীরে !
পাথেয় যে অশেষের-আলো,
তাকে, এ জনমে, কোনও অদূর অন্তে,
পুনর্বার হারাতে পারবো না ব'লে,
আমার এ অমৃত-সর্ত উপার্জনে
সাময়িকের ভাষায় ভাসার মত
কোনও প্রসারণ-উন্মুখ ডানা নেই ৷
বিশুদ্ধ আত্মনির্ভরের অবারিতে
ভালবেসে নিরন্তর উৎরে যেতে যেতে,
এক বারের জন্যও,
কোনও প্রকার পরনির্ভর মানার
ঠিকানা-চেনা হানার ফরমান,
বহুকাল হলো, এ চত্তরে আর জানা নেই ৷
মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১
এ দুর্লভ প্রেম
নিজেকে সম্যক খুঁজে পাওয়া
পরকে অপর করা সুনিবিড় আগ্রহের ফাঁকে !
ভালবাসার জোয়ারকে
শেষ অবধি আটকে রাখার মত বাঁধ
কোনওদিন তৈরী করতে পারে নি এ ধরা ৷
শুধু অনুভবের প্রতি বিশ্বাসের শক্তিতে
তিলে তিলে গড়ে তোলা
আপন উন্নততর সংস্করণ
খুঁজে নেবেই উত্তীর্ণ সুন্দরের দিশা
মানবজনমের পরম্পরায় !
সে উদ্ভিন্ন রূপ দেখে
অবাক বন্ধু-রা ফেটে পড়তে চাইবে
বাহবা আর হাততালি তে !
প্রণতি জানিও,
আপন হৃদয়ের নির্ঝরের সামনে
হাঁটু মুড়ে বসে, খোদ নিজেকে,
রবি ঠাকুরের কথায় -
যে তোমার "এযাবৎ অনাগত দূরের আমি" !
কৃতজ্ঞ থেকো সমর্পণে
অবিরাম আপন বিবর্তন-স্পৃহার ডাকে !
যাকে ভালবেসেছিলে
সে তোমার বিকাশে অধিক গুরুত্বপূর্ণ
বা মহান কারক না হতেই পারে ৷
হৃদয়ের আলো
একবার অন্তর হতে বিচ্ছুরিত হলে
আর কি সহজে নেভে পিছু-ডাকে ?
ভ্রমর চিনলো অথবা হয়তো চিনলোই না,
ফোটার সময়ে ফুল কি অনিশ্চয়তায় কাঁপে ?
.
রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১
সহযোগ
সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে নি কোনওদিন !
সুযোগ যে হারায়, সে চিরতরে হারায় ৷
লাভের লোভে
মানুষ সর্বদা অনাবশ্যক তাড়ায় থাকে ৷
তার পক্ষে তাই
অবসরের প্রকৃত উপযোগিতাদের চেনা দায় ৷
একবার নিজের পানে তাকাও !
প্রতিটি অবসর কি
জহুরীর অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে থাকে,
দৈনন্দিন বাধ্যতাদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে
জীবনের গভীরতর তলে ডুব দিয়ে
তোমাকে বিরল মনি-মানিক্যদের খুঁজে দিতে ?
আপন গভীরে
তার দৃঢ়তাকে পুরোটা পাওয়ার পরেও
আত্মকেন্দ্রিক বিহ্বলতা পেরিয়ে
খুঁজে পেয়েছো এ অবধি কখনও
তেমন অবসরের নিশ্চিন্তি - আপন আত্মবিশ্বাসে,
কোমল ও কঠিনের নান্দনিক দ্বন্দ্বের
তাৎক্ষণিক প্রগাঢ় অনুভবে, সুরের মিলটি হয়ে গেলে,
দৃষ্টিকে দৃষ্টির বাহুমূলে ডেকে নিয়ে
কেবল অধর-সুধার দরদী বিনিময়ের
ধৈর্যশীল আদরের ভরসায়
তাকে তৃপ্তির আপ্লুত-স্তরে পৌঁঁছে দিতে পারায় ?
অবসর কি কখনো
আমি হতে বিশুদ্ধ তুমি-র
দূরদর্শী লক্ষ্য অবধি পৌঁছে যেতে যেতে
ধৈর্যকে সংযমী উত্তরণে বাড়ায় ?
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
দেনা-বিনা
কামনা-বাসনার অপর নামটি দেনা ৷
একজনের নাম একাকিত্ব বা অতৃপ্ত কামনা আর
অপরের নাম ভালবাসা,
যুযুধান দূরত্বে বাস করে দুইজনা ৷
দুজনে এত অধিক বিকর্ষণ, যে
কখনো কেউ কারও সামনেই আসে না ৷
একাকী হতে পারে বুঝি সে কখনো,
হিসেব করে ভালবাসে না বলে
ফুরিয়ে ফেলার ভয়
যাকে কদাপি স্পর্শ করে না ?
তাকে, এ ধরা, না দিয়ে দিয়ে
কি করে ঠকাবে,
বাসনা জমিয়ে প্রবল করে
সুযোগ-মত চাইবে বলে,
যে একবারও অপেক্ষায় থাকে না ?
একা ভাবলে তাকেই,
যে সম্রাট-সুলভ চরৈবেতি
সামান্য-সাময়িকীর লোভে
পরের দুয়ারে কৃপাপ্রার্থী হতেই জানে না ?
সিক্ততা
ভিজছিলে রাস্তার ধারে অসহায়ে,
সেদিন অঝোর বর্ষা !
কারা যেন দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছিল দেখেও !
একটা কাক-ভেজা রাস্তার কুকুর
আরও বেশি ভিজে যাবে জেনেও
যেচে এসে দাঁড়িয়েছিল প্রায় পাশে !
সহযাপনে ?
কুকুরটা দেখতে বেশ ফর্সা !
তোমার জলে ভেজা ঠোঁট
আটকাতে পারেনি
তেমন সঘন ররষণ মাঝেও
সুস্পষ্ট একচিলতে হাসির বরষা !
আচমকা ঝাপসায়
স্পষ্ট হলো একটি ছায়ামূর্তি আর ছাতা ৷
কাছে আসতেই এক ধমক -
"এভাবে গরুর মত ভেজে কেউ ?
ধর, ধর ছাতাটা !"
কাঁপা হাতে ছাতাটা ধরতেই
মূর্তি, ছায়ামূর্তি হয়ে, ফের পুরোটা ঝাপসা !
মনে কি পড়লো তখনো, ও লো সখি,
এই অবলা-অবেলায়
সেই ছোটবেলায় হৈ হৈ করে খেলা - ধাপসা ?
.
সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
আঘাত
নিজেকে এবং তৎসহ তোমাকে
বুদ্ধি-সর্বস্ব চতুর ও লোভী হওয়ার পথে, ফলতঃ
ক্রমশঃ নিষ্প্রাণ-অননুভবী হতে দেখলেই,
ঝন-ঝন শব্দে
প্রতিবার পুরোটা না ভেঙে ফেললে,
গড়তে পারা সম্ভবই না - সম্পর্কের নিবেদনকে
নবরাগের ভোরে অনাবিল সুন্দরতরে
অপ্রতিরোধ্য ভালবাসার যোগ্য করে ৷
প্রস্তুত রেখো তাই চেতনে -
"নূতন পাতা যতদিন গজাতে পারে ভালবাসার
গাছ ঠিক ততদিনই বাঁচতে পারে,
না হলে অবধারিত মরে ৷"
ফিনিক্স-রক্ত না বইলে ধমনীতে
মানুষ কেবল মরার ভয়ে
বাঁচাকে - নিজে, নিরন্তর আপোষে,
প্রায় রোজই গলা টিপে একবার করে মারে ৷
রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
বেঘোর
"নাভির নিচে
তেমন অমৃতকুম্ভ ছিল না কোনওদিন
সুখকে চিরতরে অমর করে দেওয়ার
গ্যারেন্টি সহকারে,
কোনও মহত্তম ঈশ্বরের ব্যতিক্রান্ত বরে !"
তনুর বহু-ব্যবহারে দীর্ণ তুমি
সে কথা হাড়ে হাড়ে জেনেও,
কোন লোভের আপোষে
পড় না আজও সে সত্য-গাথা
বিবেকের সাথে সমানতালে উচ্চস্বরে ?
তোমার যাবতীয় ব্যথা, কথকতার প্রবণতা,
সবই ঘুরে ফিরে একমাত্র সাময়িক ভোগের তরে ?
ভালবাসতে পারার অধিকারে
নিজেকে উত্তীর্ণ কর নি বাস্তবে
অনুভবের শিখরে - অর্জিত আভিজাত্যে ?
পদে, বিপদে, যে ভালবাসায় অদম্য বিশ্বাস
রাজি ছিল জীবনকে সতত উদ্ধারে,
কেন সে উচ্চতর স্থিতি তবে
অস্থায়ীর পায়ে পায়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে
প্রতিনিয়তঃ নির্লজ্জের পারা কেঁদে মরে ?
সাহসী সত্যকে আর অস্বীকার না করে
পারলে মেনে নিও -
"শরীরে তোমার তেমন রসদ ছিল না কখনো
যা পুরুষকে নিশ্চিত রূপে, অদৃশ্য বকলেসে,
প্রতিটি ক্ষেত্রে আজীবন বেঁধে রাখতেই পারে ৷"
শুধু পুরুষ কেন, যে কোনও মানুষ, আজও,
শ্রদ্ধায় নতজানু থেকে যেতে পারে, দ্বর্থহীন সমর্পণে,
শুদ্ধ ভালবাসার
অক্লান্ত সহযোগের শর্তহীন আদরে ৷
শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
অচেনা
হ্রস্ব বালির চর
আর পাঁকাল খাঁড়ির
বিবিধ বিন্যাস-চেনা যাপনে,
নদীর পক্ষে
মোহনায় পৌঁছানোর আগে
সম্ভব কি হতে পারে
কল্পনা করা
চিন্তার যে কোনও বিস্তারে,
.
সাগরের
দুই অদৃশ্য বাহুর মাঝে
আদিগন্ত প্রসারিত বক্ষে
ঝাঁপ দিয়ে পড়ার সুখ
সুদীর্ঘ অপেক্ষার শেষে
ঠিক কতটা পরিমান হতে পারে ?
বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
দায়
প্রেম আর কর্ম-জগৎ
দুই-ই মানুষের পূজার উপাদানে
মূলতঃ সমর্পণ চায় ৷
দ্বন্দ্বটি যেখানে, সে হলো -
কেউ কারও হতে লঘু নয় ৷
একজনকেই নিতে হয়
সময়ের ভেদে উভয়ের একক দায় ৷
কোনও এক শারদ প্রভাতে
বাঁশিকে গোকুলে নামিয়ে রেখে
বার-বার কানাইকে তাই
পায়ে পায়ে
হস্তিনাপুরের পানে চলে যেতে হয় ৷
সে চিরন্তনীর বয়ান
কবির অবিশ্বাস্য কলম
আজি হতে শতেক বরষ আগে
কতই না অক্লেশে রচনা করে যায় !
.
.
বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১
পরিচয়-সঙ্কট ( Identity Crisis )
অকারণ ভয় আর অন্ধ-সংস্কার
যুগে যুগে পরমুখাপেক্ষী করেছে মানুষকে !
আর সেই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে
শার্দূল কর্তৃত্ব-লোভ, কেবল ধূর্ততার অধিকারে,
মানুষকে, গলায় বকলেস বেঁধে,
একটি মনুষ্যেতর পরিচয়পত্র মাত্র ঝুলিয়ে,
চারপেয়ে তে পাল্টে, হিঁচড়ে টেনে নিয়ে চলেছে
গড্ডলিকা প্রবাহে,
আপন স্বার্থসিদ্ধির এক এর পর এক দিশায়,
রাজনীতি আর ধর্মের সুবিধাবাদী মুখোশ
নিজে আগে পরিপাটি করে সর্বাঙ্গে গলিয়ে নিয়ে !
সুদীর্ঘ দৈন্যের পরম্পরা মুক্তি দেবে না সহজে ৷
এ চারপেয়ে-যাপনের দুর্ভোগ
সাহসে-পঙ্গু মানুষকে
এখনো অনেকদিন ভোগাবে ৷
তারপরে একদিন ফের
সকালের মত সকাল আসবে
একে একে সকলের জন্য,
মানুষ যেদিন মুখোশের আড়ালে থাকা
প্রতিটি কুটিলতাকে ঠিক-ঠাক বুঝতে পেরে,
তার অপ্রয়োজনীয়ের ভারকে
ঠিক কমিউনিজমের মত
জীবন হতে খুলে, ছুঁড়ে,
চিরতরে সংস্পর্শের বাইরে ফেলে দেবে ৷
"ভালবাসা ছাড়া
আর কোনও নৈতিক নিরাপত্তার
প্রয়োজন নেই আদপে মানুষের" -
একথা খোলাখুলি উচ্চারণে
যেদিন আর ভয় থাকবে না কোনও,
নিছকই ফাঁকা বুলি-সর্বস্ব
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভেদাভেদের
যত্ন করে সাজানো জটিলতার পসরাকে সেদিন
তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তেই হবে,
মানুষ যেদিন ফের
শুধু আপন দুই পায়ের জোরে
নতুন ক'রে, গর্ব-ভরে,
হাসতে হাসতে আবার উঠে দাঁড়াবে ৷
মানবিকতার অফুরাণ ঐশ্বর্য্যে, মানুষের পরিচয়ে -
ঠিক যেমন রাজকীয় সৌন্দর্য ফুটে ওঠার কথা,
শুদ্ধ আত্ম-নির্ভরতাকে স্থায়ী রূপে অন্তরে পেয়ে
মানুষ ও তার স্বাধীনতা, সেদিন,
ঠিক তেমনই অপ্রতিহত ঔজ্জ্বল্যে অটুট হবে ৷
মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
পার্থক্য
তুমুল তর্ক, চুল ছেঁড়াছেঁড়ি ঝগড়া,
হতাশা, রাগ, অভিমান
আর হাজারো গণ্ডা অভিযোগেের মধ্যেও
আদরের মখমলি চাদরে, রোজ নিয়ম করে,
মুড়ে রাখতে ও থাকতে পারার নাম
"ঘর" ৷
ইঁট, কাঠ, সিমেন্ট দিয়ে তৈরী হয়
মানুষের জন্য যে বাসস্থান
তাকে "বাড়ি" বলে ৷
বাড়িকে ঘরে পাল্টে নিতে
সেই ধরণের ভালবাসাটি লাগে,
যে, কোনও এক অন্তিমে,
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে,
বাধ্য হার মেনে নিয়ে,
একবারের জন্য হলেও
ফুরিয়ে ফেলে না নিজেকে কখনও !
.
স্বাধীনতার সুখ
গাছ কে
কাছ থেকে দেখেছ কখনও অরুণেশ ?
আলো আর জল ঠিক মত পেলে
সবুজের অভিনিবেশ
কী অপরূপ রূপ ধারণ করতে পারে,
একবার, খুব ভাল করে দেখে জানিও ৷
অনেক মিল - গাছের সাথে মানুষের ৷
জল আমি আহরণ করে নিতে পারি
রোজ রোজ, - দূরত্বের সুবিধাটুকু নিয়ে,
তোমাকে নিত্য নতুন রঙে
শর্তহীন ভালবাসায় রাঙিয়ে নিলে
বুকের ঝরণার স্বতঃস্ফূর্ততার অঝোরে ৷
আমাকে থামাতে
হাজির নেই যেখানে সাক্ষাৎ তুমিও ৷
ত্বককে ছোঁওয়া নাইবা হলো ৷
তোমাকে প্রলুব্ধ যদিবা করে
আমার প্রয়োজন না পড়তেও পারে কখনো ৷
আমার ভিতরের সবুজকে
অধিক ক্লোরোফিলে ভরে রাখতে ইচ্ছা হলে,
যেমন ব্যস্ত রয়েছ আজও -
আপন আলোর অকৃত্রিম প্রকাশে,
আপন অভ্যাসে
তেমনটি দরাজ রেখো যত্ন
আর
দূর হতে, যদি পারো,
আমার নিবিড় সোহাগ মেখো তখনো !
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১
ঘাপলা
ভালবাসা - সুযোগ-সন্ধানী বড় কম নয় ৷
ইতিউতি চায় আর ওৎ পাতে ৷
দৃষ্টিতে দৃষ্টির সম্মতি মিলে গেলেই
হাত ধরে ওমনি একছুট -
'রে' থেকে সটান 'ধা'-এর পানে !
ঘরে ঢুকে ছিটকিনিটি দিয়ে দিলেই
স্বতস্ফূর্তের নিরাপত্তায়
সাময়িক দম ফিরে পাওয়ার বিরতি,
তারই সাথে, দাম্পত্যের
চিরকালীন-এঁড়ে অনুশাসন হতে
চুরি করে জিতে নেওয়া দুর্লভ যতি,
ভালবাসা
আড়বাঁশির নিখাদ ব্যাকুলতার সুর হতে
অগতির-গতি লেহ্য-প্রেমে পাল্টে নেওয়ার মুখে,
এইবার, পরিপাটি সমর্পণ-সুখে
বিছানার কলকে-কাটা থালায়
নিজেকে থরে থরে বিছিয়েই দেবে,
অতৃপ্তি-অধীর এ জীবন
অপেক্ষার বিরহী ফাঁকে ফাঁকে
সোহাগের সিক্ততা আচমকা পরিপাটি পেলে,
আমে-দুধে
শেষ অবধি, সঘন মিলে গিয়ে,
অন্তরে
উষ্ণতার আকাঙ্খিত সুসহযোগের,
দৈনন্দিনতার মাঝে
সহসা ফুঁড়ে ওঠা টগবগে
নিবিড় উদ্দীপনাকে
হুবহু খুঁজে নিতে পারা চলে ৷
.
বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
অনুভব
শহরের থেকে বেরিয়ে, কিছুটা দূরে,
একটি গাছের তলে বসে
বছর পঁচিশের এক যুবক
আপন মনে পা ছড়িয়ে
নিজের ভাষায় গান গাইছিল ৷
বছর সতেরোর এক তরুণী
রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে
অদ্ভুত সুরটি শুনে
বাধ্য দাঁড়িয়ে পড়েছিল ৷
ভাষাটি অজানা হলেও
ভাবের তরঙ্গে ভাসা
পড়েনি আটকে ৷
সুরটি গুনগুন করতে করতে
তরুণীটি একসময়ে, সাহস করে,
নিজের পছন্দ মত
শব্দ বসিয়ে নিল সে সুরে ৷
এরপরে
একে অপরের দিকে তাকিয়ে
দুজনে হেসে ফেলেছিল,
দৃষ্টির ভাষা পড়তে
অসুবিধা হয়নি কারও -
আচমকা বুঝতে পেরে ৷
দুজনে, একটু পরে,
বেশ মজা পেয়ে
আর একটু নিকটবর্তী হয়ে,
মুখোমুখি বসে, একই সুরটিতে
ফের নিজের নিজের ভাষায়
আগের মত গান ধরেছিল ৷
তৃতীয় জন
ততক্ষণে থমকে দাঁড়িয়েছিল ৷
দুটি ভাষাই তার জানা ৷
আক্ষরিক অনুবাদ
আর ভাবানুবাদের মধ্যে
কোনটি সুন্দরতর,
সেদিনই প্রথমবার তার কাছে
বরাবরের জন্য
হঠাৎই স্বচ্ছ হতে পেরেছিল ৷
.
Check yourself ?
Well :)
.
https://youtu.be/PccTGESPppE
.
https://youtu.be/dD3Oa0y8n70
.
শনিবার, ১২ জুন, ২০২১
গল্প হলেও সত্যি
পনেরো বছর অতিক্রান্ত
অভি আর রিমঝিম বিবাহিত দম্পতি ৷
দুজনেই চাকরি করে ৷
অভি রোজ সকালের চা করে
রিমঝিম কে ডাকে ৷
রিমঝিম ঘরঝাঁট দিতে দিতে
অভি রাতের বাসন মেজে নেয় ৷
রিমঝিম বাথরুমে যায় যখন, স্নান সেরে নিতে,
অভি, ডাণ্ডা দিয়ে, পুজোর জায়গা সহ
চারটি ঘর মুছে রাখে ৷
রিমঝিম স্নান সেরে এসে পুজোয় বসে ৷
তারপরে রান্না ঘরে যায় ৷
এরপরে একটানা কাজ রিমঝিমের ৷
লক ডাউনে যদিও দুজনেরই ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম,
রিমঝিমের সব কাজ শেষ হতে
দুপুর আড়াইটে পেরিয়ে যায় ৷
ফাঁকেতালে থাকে
ছেলে, মেয়ে, আর অভির জন্য
লাঞ্চ বেড়ে দেওয়া ৷
রান্নাঘর ধুয়ে, ভাতের থালা হাতে
রিমঝিম যখন অভির কাছে
অবশেষে পৌঁছায় কিছুটা টলমল পায়ে,
অভি ততক্ষণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ৷
থালাটি রিমঝিমের হাত থেকে টেনে নিয়ে
ডাল, ভাজা, তরকারি, মাছ দিয়ে
একটু একটু করে ভাত মাখতে থাকে ৷
তার পরে গ্রাসে গ্রাসে আদর
বিশ্রান্ত প্রিয়তমার মুখে তুলে দিলে,
রিমঝিমের এযাবৎ ক্লান্তি কেটে গিয়ে
একটু একটু করে রঙ পাল্টানোর সাথে
মুখে অনাবিল হাসি ফের ফুটতে পায় ৷
না না, অভি অথবা রিমঝিম,
কেউই অবাঙালী অথবা বিদেশী নয় ৷
.
প্যারাসাইট
"কবিতাকে শরীর দেব" -
শালা, এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করা মাত্রই
আমার বাম দিকে আর ডান দিকে
ওমনি খাড়া হয়ে গেল যুযুধান দুই পক্ষ
আকস্মিক বাঙালিয়ানার প্রতিযোগিতায়
ঘেউ ঘেউ আস্ফালনে -
তুমুল বাক-বিতণ্ডা সহযোগে ৷
বাম-পক্ষ বললো - "ও যে রাজি হলো শরীর দিতে,
তা, কবিতা কবে চাইলো নির্লজ্জের মত
ওরই কাছে বহুমূল্য শরীর ?
কী প্রমাণ আছে তেমন অঙ্গ ওরই একার আছে,
দেখাতে হবে আগে ৷"
ডান-পক্ষ বললো "ও কত বড় কবি ?
কটা পুরষ্কার রেখেছে বগলে, যে ঘটা করে
ঘোষণা দিতে হবে - "কবিতাকে অবয়ব দেওয়ার" ?
কী এমন দৃষ্টান্তমূলক শরীর ও দিয়েছে
অতীতে কবিতায় ?
দুপক্ষ অতঃপর একযোগে চেঁচিয়ে উঠলো -
"একজনের কেন হবে এত একতরফা বাড় ?
সমবন্টনে প্রতিভার কী মূল্য আছে ?"
ঝগড়া, বাঙালীর নিয়মে,
দ্রুত হাতাহাতির ঠিক আগের স্তরে পৌঁছে যেতেই,
'লড়াই যথারীতি জমে গেছে' - এ বিষয়ে
পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে,
টুক করে, ছোট, বড়, মেজ,
সকল পরমুখাপেক্ষী বগলের তল দিয়ে গলে,
আমি আর কবিতা
আত্মমুখাপেক্ষিতায় তুমুল আস্থা রেখে,
হাসতে হাসতে, নাচতে নাচতে,
সটান পাগার পার ৷
বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
ভারী ও হালকা
মুক্তি - কোনও জনমে পর-নির্ভর নয় ৷
আসক্তির বন্ধন ছিন্ন করে
মুক্তিকে খুঁজে পেতে হয় ৷
পথটি অন্তরে আরোহনের ৷
আসক্তি আত্মস্বার্থের নামান্তর ৷
আত্মস্বার্থকে অবশেষে একদিন
সংকীর্ণতার অভিশাপে
নিজেরই ভারাক্রান্ত নিকটে
পরবাস-সম হওয়া ভিন্ন উপায় নেই ৷
ভালবাসা, অপর পক্ষে, শুদ্ধ পরার্থে
আসক্তির বিপরীত দিশায়
আনন্দের ঔদার্যে,
অবিরাম উৎসবে নিশ্চিত করে
উৎকণ্ঠাহীন উড়ানের বরাভয় ৷
.
ফেরা
বেশ কিছুদিন যাবৎ
কিছুতেই বোঝাতে পারি না তোমাকে আর,
এই যে নিঃস্ব, রিক্ত, বর্তমানটুকু কে
"একমাত্র তুমি" বলে ধরে বসে আছো,
এটা আদৌ আসল তুমি নয়,
তোমার একটি পরিবেশ-জনিত
প্রক্ষিপ্ত বিকার মাত্র ৷
তুমি, আসলে, তোমার তেজোদ্দীপ্ত রূপকে ভুলে
দিব্যি আছো, দিনের পর দিন, ভেড়াবৃত সিংহী ৷
মানায় না তোমাকে - এই মেনে নেওয়া "হায় হায়" !
তোমাকে একটিবার, সম্পূর্ণ একা,
নিজের পায়ে হেঁটে হ্রদের পাশে যেতেই হবে
আপন প্রতিবিম্ব প্রত্যক্ষ করে
সুদূর কাঁপানো গর্জনে
ফের নিজেকে ফিরে পেতে
আত্মবিশ্বাসীর অপরাজেয় সত্ত্বায় ৷
.
তান
ইচ্ছাশক্তি - নারী-পুরুষে
অসীম বিশ্ব-শক্তির
একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ ব'লে
সে স্বভাবে স্বাধীন এবং অনন্ত,
মানবজীবনে লভ্য একমাত্র পুরুষকার ৷
শরীর, মন ও প্রাণ-জনিত
অবশিষ্ট একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ মানুষের
মূলতঃ প্রকৃতির প্রতিরূপ
এবং স্বভাবে পরমুখাপেক্ষী নারী-স্বরূপ ৷
যে মানব-জনমে
পুরুষকার প্রকৃতির দাস,
সে যাপন বাধ্য বৃত্তাকারে গতির অগতি,
উন্মেষহীন,
কলুর বলদের পারা
দীনের দিনগত পাপক্ষয়-জনিত
হতাশার স্তুপ ৷
যে জীবনে
প্রকৃতি ইচ্ছার স্থির লক্ষ্যে অনুগত সহচরী,
সে আসক্তি-মুক্ত চরৈবেতি
ক্রমাগত সরলরৈখিক উত্তরণে
সার্থক-জনম ও মহান মুক্তির জয়গান ৷
.
বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
Fluidic
Water, trapped wherever,
Waits and waits
To spill out someday
By a lifetime love
As the call finally taps
To instantly catch the flow....
To roll over
Towards an overwhelming exploration
But, of course, in full swing
And without any regret along the go.
Water just seems to be like a woman
Who's dreaming all through her life
To uproot herself from all useless past
For a final abundance to humbly abide.
.
.
সোমবার, ৭ জুন, ২০২১
স্রোতস্বিনী
উৎসটি তথাপি নিবেদিত কিনা
সেকথা কেউ এভাবে, বাইরে নামিয়ে এনে,
বেবাক খুলে ফেলে পরীক্ষা করে ?
ফেরার পথটিই,
হতচ্ছাড়া, সবার আগে চুরি করে নেবে,
এমনটি জানলে
কেউ কি আর সখ করে এসে বিপদে পড়ে?
সরল মানুষের
লজ্জার মাথা খেয়ে
এখনও কী পরিমান বোকার ঠকা বাকি,
'নিবারণ' - ব'লে এই যে বাধ্য ফিরে ফের ডাকি,
সে উচ্চারণকে লুকিয়ে কি করে রাখি
সমস্বরের অনুনয় হতে,
এ জাগরণ-ব্যপী উৎকণ্ঠাদের ঘরে ঘরে ?
রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
কৃপণ
চিরটাকাল গলা-জড়াজড়ি বন্ধুত্ব
অভিমান আর অভিযোগে !
নিয়ম করে চোখে হারাতে থাকে
একে অপরকে
মাসের পর মাস, বছরের পর বছর !
তৃষ্ণা উভয়েরই পায় - দীর্ঘ শুষ্কতার দহনে ৷
শুকিয়ে আসে যখন গলা,
একে হাত রাখে অপরের কাঁধে,
না বলেই বুঝে নেয় !
ভালবাসা স্বভাবে কৃপণ ! সচরাচর দূরে থাকে ৷
কেবল কালেভদ্রে আসে জোয়ার ঠেলে দিলে !
একবার পৌঁছে গেলে
তুমুল ভিজিয়ে যায় হেসে-খেলে ৷
অভিমান আর অভিযোগে আকর্ষণ অত্যধিক !
একের নিশ্বাস অপর-জন প্রশ্বাসে পেলে
বর্তে যায় !
পার্থক্য শুধু সৌন্দর্যবোধের
হামেশা না খেয়াল করা একটি সূক্ষ্ম মাত্রায় !
ভালবাসার চৌম্বকক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়ে তার ?
ঝাঁপিয়ে আসার কালেও অভিযোগ হতে তাই,
যৎসামান্য হলেও, অভিমানের পানে বেঁকে যায় ?
এ দুরন্ত মানব-জীবন
"গড় মান" - বলে একটি প্রথম বন্ধনী চিরকাল রয়ে যাবে পৃথিবীতে ৷ এই মানে বাঁধা পড়ে থাকবে সেই পরমুখাপেক্ষী মানুষেরা, যারা নিজেদের দিকে সৃজনশীল দৃষ্টিতে তাকাতে জানে না ৷ যারা অলীক ভবিতব্যের দিকে তাকিয়ে থেকে, কলুর বলদের চেতনায়, জীবনভর দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে ৷ একটি মানবজীবনের অন্তরে কী বিশাল সম্ভাবনা রইতে পারে - তাকে বাস্তবে প্রতিনিয়ত আবিষ্কারে ও সদব্যবহারে সমূহ অক্ষম এরা ৷
চেতনার তারতম্যে এর বাইরে যারা, একমাত্র তারাই খুঁজে পাবে - দৈনন্দিন জীবনের ঘন্টায় ঘন্টায়, কেবল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কিরূপে সঠিক কর্মটি নির্বাচন মানুষের প্রাথমিক দায়িত্ব হতে পারে ৷
কর্ম নির্বাচন একবার হয়ে গেলে, তাকে সার্থক রূপে কার্যকর করারও শতাধিক পদ্ধতি রইতে পারে ৷ এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম পদ্ধতিটি অবলম্বন করা চেতন মানুষের দ্বিতীয় দায় ৷
তৃতীয় দায়টি হলো - জীবনের ন্যূনতম সময় খরচ করে শ্রেষ্ঠতম কর্তব্যটি, নিয়মিত রূপে, এমন ভাবে সম্পাদন করা, যাতে সে আপন উৎকর্ষকে ভরপুর উপভোগ করতে পারে ৷
অতঃপর চতুর্থ দায়টি অবধারিত ভাবেই হতে চায় - অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কর্মে, পূর্ব প্রকারে, সচেতন মনোনিবেশ-সক্ষমতা অর্জন করতে পারা ৷
শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
ধায় যেন মোর
ভালবাসা আর অধিকারবোধ
মূলতঃ শত্রু - একে অপরের,
তীব্র বিপরীতমুখিতায় ৷
ভালবাসা মানুষকে
আত্মমুখাপেক্ষী স্নানে
নিরন্তর সতেজ আর সবুজ করে ৷
বাড়তে থাকে সে অবগাহনে
ঐকতানের প্লাবন, দিনে দিনে
অবিরাম প্রাণোচ্ছলতায় ৷
অধিকারবোধ - অবশ্যই পরমুখাপেক্ষী !
কুক্ষিগত করার
একতরফা সংকীর্ণ লোভ এর অধিক
আর কিছু নয় ৷
"আমি আর আমার" - এর আবর্ত হতে
কোনও মতে, "আমরা"তে,
স্থায়ী উত্তরণের পথটি না খুঁজে পেয়ে,
অতৃপ্ত মানুষ তাই
প্রভুত্ব-লিপ্সার নিদারুণে, অসহায় হীনমন্যতায়,
কালে কালে ক্রমশঃ শুকিয়ে যায় ৷
ভাল যে বাসতে জানে, সে আগে ভাগে,
অনুরণন-সামর্থে, দিনের প্রতিটি মুহূর্তের
সচেতন কার্মিক রূপান্তর ঘটাতে পেরে,প
ভালবাসার জোরে
যাপনকে আপনতর করে পায় ৷
তারপরে, বিবিধ আপনের সংসর্গে
পরিবৃত হয়ে নির্মল আনন্দের সহবাস করে ৷
আত্ম-সৃষ্টির চমৎকার, শিল্পের আরাধনায়
এমনই সর্বাঙ্গ-সুন্দর বিনীতের পরিনয় ৷
পৃথিবীর যত ক্রমাগত সম্ভোগ-লোভীর
অবধারিত ভিখিরিপনার
এ স্বর্গীয় উৎসবে
দুর্ভাগ্যক্রমে প্রবেশাধিকার নেই ৷
.
শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
অনাগত
আজ যত দায়িত্বের ভার
কাল সে খোয়াবেই সার,
আগলে রাখা ছানাপোনারা
যেদিন সবে মেলবে ডানা
পুরোনা ঘরকে ছেড়ে,
জীবনকে দিতে দুহাত ভরে
নূতন প্রেমের বিহ্বল নজরাণা !
অপেক্ষারা শেষ হবে তবে ৷
ঝাড়া হাত পায়ে তৈরী ভবে,
দৌড়াবি সেদিন আমার সাথে
পৌছাতে পর্বতদের পাশে
প্রান্তিক মাঠে, সবুজ যেখানে
থাকেই বারোমাস ভরে ?
হবি রাজি গন্ধর্ব মতে
উদযাপনকে খুঁজে পেতে,
দেনার দায়কে মুক্ত করে
বিরলতম অভিসারে,
একে অপরের নামটি ধরে,
শুধু আশ মিটিয়ে চিল্লাতে ?
অবাক হয়ে দেখবি তখন
অনাগত সন্তানদের যতন,
প্রতিধ্বনির নিনাদে চড়ে
চারপাশ হতে ঘুরে ঘুরে
আমাদেরই সুরে সুর মিলিয়ে
জড়াবে কেমন সে সাক্ষাতে ৷
বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
অমোঘ
ঝড়ের সাথে মিশে যাচ্ছে কালো ধোঁয়া ৷
পুড়ছে শরীর ৷
একটা জলজ্যান্ত মানুষ
আর একটু পর থেকেই চিরতরে নেই হয়ে যাবে ৷
শেষ হয়ে যাবে
এতদিন ধরে চর্চিত বাসনা কামনারা
ক্রন্দনরোল যেই বিষণ্ণ বিদায় দেবে ?
একটি নাটকের সাময়িক যবনিকাপতন ৷
কালো পর্দা উঠবে আবার ৷
যেখানে শেষ হলো আজ
ঠিক তার পর থেকে
সব কামনা বাসনার সঞ্চয় সহযোগে
পরের অঙ্ক
আবার প্রথম থেকে শুরু হবে ৷
ভাল-মন্দে কর্মের সমাহার
আর তার যাবতীয় দায়
এতই সহজেই কি নিশ্চিহ্ন হতে পাবে ?
বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
অপর্ণা
মানুষ অভিযোগ করতে পারে -
"মৌন, - স্বভাব-দুখী ব'লে" !
অভিমান-জনিত শব্দাধিক্য -
সবই অবশ্য ফাঁকা-কালে ৷
অপর্ণা-যাপন অবশেষে ভরন্তে শান্তি পেলে,
বাইরে আর কোনও আওয়াজ পৌঁছায় না ব'লে,
বোঝানো যাবে না -
কী সুখে মজে থাকার
লগন আসে এ উথলানো অন্তরে,
পরাণ কলস তোমার
একবারটি প্রাপ্য সোহাগ পেয়ে
ফের আহ্লাদে টইটুম্বুর হলে ৷
বরণমালা
ভালবাসলে
যে প্রবৃত্তিটি সবার আগে সক্রিয় হয়
তার নাম অনুভব !
বুদ্ধি কেবল আপন অভিজ্ঞতার সামর্থে
পরকে বুঝতে চায়, অথচ,
অনুভব পরের দৃষ্টিকোণ হতে অপরকে বোঝায় !
ভাল কি কেবল বিপরীত লিঙ্গ হলে
তবেই বাসতে হয় ?
লিঙ্গ-নির্বিশেষে
প্রতিটি মানুষের ভালবাসার জন্য
যে নিকটতম উপাদানটি অহরহ থাকে পাশে,
তার নাম সময় ৷
সময়কে নিবিড় হৃদয়ে ভালবাসতে পারলে
সে তার আপন অবগুণ্ঠন তুলে
অনন্ত রসদ মানুষের হাতে তুলে দেয় ৷
সময়ের কাছে লুকানো থাকে,
সুযোগের নামে, আত্মবিশ্বাসের শ্রেষ্ঠ বীজ
প্রতিদিনের ঘন্টায় ঘন্টায় ৷
সময় থেমে থাকে না কখনো ৷
সুযোগটি ঠিক সময়ে গ্রহণ করতে না পারলে
সুযোগ চলেও যায় ৷
সময়কে ভালবাসলে, তবেই
সে কখন কোন সুযোগটি দিয়েছিল
ধরতে পারা যায়, নচেৎ নয় ৷
মানুষ, অথচ, কাছের উপহারকে অবহেলা করে
কেবলই দূরে তাকিয়ে থাকতে ভালবাসে
আর অদৃষ্টকে দোষারোপ করে ৷
যে ফুল ছড়ানো ছিল পায়ের কাছে
তাকে অঞ্জলিতে তুলে মালায় গাঁথতে ভুলে যায় ৷
সঠিক সময়ে বিশেষ কর্মটির নিরন্তর কার্পণ্যে
আত্মবিশ্বাসের বরমাল্যটি ওঠে না গলে ৷
সৌভাগ্য হারাতেই থাকে পদদলনের উপেক্ষায় ৷
.
রবিবার, ২৩ মে, ২০২১
Freedom
You may lead or lag in reality
But the choice remains self-made everytime.
Options remain always on, too,
Between a sterio type compromise
With awareness
And an intelligent reconsideration
Of every judgement,
Such that, doing things in a superior way
May let you reach your central purpose
With better agility and accuracy.
You, thus, ceaselessly mould
An improved version of yourself
And enjoy the marvel of your
Performances-oriented existence Simultaneously.
There is nothing wrong
In availing the scope of telling yourself -
"You are just brilliant, my dear,
And leave me no higher option
Than madly loving you."
At the end of the day
Life may remain an exciting game and
Happiness ? Is it actually a parasite ?
Did it ever last longer
Being outsourced ?
Well, happiness is
Really a cool and delicious experience
That need not wait for others
So long
You remain a performer inside.
বুধবার, ১৯ মে, ২০২১
কারা করবো জয় ?
তিনি চেয়েছিলেন
সমাজে অবশিষ্ট রইবে না
প্রতিভার এমন কোনও উচ্চশৃঙ্গ পর্বত
যার শুভ্র উচ্চতার পরিপ্রেক্ষিৎ হতে
তত্ত্বের অন্তঃসারশূন্যতাটি
সহজেই প্রতিভাত হতে পারে !
প্রতিভামাত্রের জন্য তাই
ক্ষমতার পরবর্তী আদেশ ছিল -
"হয় অনুগমন নতুবা মরণ" ৷
তত্ত্বটি ঠিক কি ছিল ?
তত্ত্বটি হলো -
পর্বত, সমতলভূমি আর সাগরের সমন্বয়
একা প্রকৃতিতে থাকলে, থাক বরং,
মানবসমাজ কেবল সর্বহারা শ্রমিক ও কৃষকদের
সমতলভূমিতে গঠিত হতে হবে ৷
পর্বত ও সমুদ্রের আদৌ কোনও প্রয়োজন নেই ৷
সেইমত চললো ক্ষমতার বুলডোজার ৷
ফলে যা হবার তাই হলো !
নতুন প্রতিভাদের অঙ্কুরোদগমের পরমুহূর্তে
তাদের পঙ্গু-করণ নিয়মিত হলো
বুলির আগ্রাসনে,
পোষ্য শেফার্ডের সীমিত শিক্ষায় ৷
পাহাড়দের ভেঙে ভেঙে
ভরাট করা হলো সমতলের গর্ত ও খাঁড়ি ৷
উচ্চতার পার্থক্য বাধ্য হারিয়ে গেলে,
ঝাঁপিয়ে পড়ে আর না বইতে পেয়ে,
প্রথমেই যাকে স্থবির হতে হলো, তার নাম - জল ৷
নদীরা শুকালো একটু একটু করে !
সমাজের যত শস্য-শ্যামলা উর্বর জমিন
আর তার সবুজ সম্ভাবনারা
শুদ্ধ প্রাকৃতিক জলের আস্বাদন না পেতে পেতে
ক্রমশঃ রূপান্তরিত হলো
ম্যাড়ম্যাড়ে হলুদ মরুভূমিতে ৷
ইতিহাস আজও বলে - কোনও এক কালে
সে সব দেশের গর্বিত ফলনে ছিল
টলস্টয়, সোলঝেনিৎসিন, রবীন্দ্রনাথ
অথবা এই সেদিনের সত্যজিৎ রায় ৷
তার ধূর্ত শব্দ-সম্মোহনের জাদুর প্রভাবে
আজও ফেঁসে বসে আছ তুমি ৷
বাকি দুনিয়াও ছুঁড়ে ফেলে দিলে
আপন পঙ্গু সন্তানকে, এ প্রজন্মের নামে তাই
ধিক্কার দাও, হে মহান বিপ্লবী ?
আজও, আপন বিবেকের মুখোমুখি না হয়ে,
বিপ্লবের নামে,
বন্ধ্যাত্ব নতুন করে বাড়ানোর স্বপ্ন দেখতে চাও ?
রবিবার, ১৬ মে, ২০২১
কাঁঠালের আঠা
প্রেমে পড়ে মানুষের যা যা দিতে পারা
সে সব একমাত্র ক্ষণস্থায়ীই হতে পারে
যদি হয় শুধুমাত্র স্পর্শযোগ্য - বাস্তবে ৷
ফুরোবার আগে, অমলিন আগ্রহের প্রমাণে,
ফের প্রতিবার নতুন করে ভরে দিতে হলে,
জীবনের আর বাকি সব দায় অস্বীকার করে,
প্রথমেই ক্রীতদাসের মত পরমুখাপেক্ষী আত্মনিগ্রহে
একটি অদৃশ্য পরাধীনতার শৃঙ্খল
মানুষকে স্বেচ্ছায় বরণ করে নিতে হবে ৷
মানব-জীবনের
এতদূর সংকীর্ণ ও পরাধীন স্তরে যাপন
নিছকই কূপমণ্ডূক-সম
এবং কদাপি কাম্য হওয়া সমিচীন নয় ৷
ভাল আমরা তখনই লাগাম খুলে বাসি
যখন বুক ভরে সবুজের
সাহসী নূতনত্বকে নির্দ্বিধায় অনুমোদন করি ৷
নিত্য-উদ্যত সুকোমল অনুভবের বিস্মিত বৈভবে
যখনই প্রতিনিয়ত অলঙ্কৃত করি আপন পরাণ,
সে কিন্তু সারা জীবনের জন্য
গতানুগতিকতা হতে উত্তরণের উৎসবে,
স্থির গতিকে ত্বরণে পরিবর্তনের অভ্যাসে,
সঞ্চিত হতে থাকে
নিজেকে ইচ্ছানুযায়ী ছাপিয়ে যেতে পারার
বর্ধিত আত্মবিশ্বাসে, - একান্ত আপনার ধন হয়ে !
পাওয়ার অনভিজাত আকাঙ্খাটুকুই
অথচ পরমুখাপেক্ষী দাসত্বে
পিছনে টেনে ধরে বার বার
স্বতঃস্ফূর্ততাকে !
আমরা কি তাব'লে পারি না
সব পাওনাদের দেনার পাট
আসক্তি হতে চরম ঔদাসিন্যে চুকিয়ে দিয়ে,
মূল লক্ষ্যে ধ্যানময়তা বৃদ্ধিতে নিমগ্ন হতে,
একনিষ্ঠতার প্রতিজ্ঞায় - উদ্ভূত তেজে
ভালবেসে, আপন অন্তর-কমলটি কে
সহস্রদলে প্রস্ফূটনের উল্লাস-সুখ অবিরাম দিতে ?
সোমবার, ১০ মে, ২০২১
তিক্ত বাস্তব
শুদ্ধ-আত্মমুখাপেক্ষী, রবীন্দ্রনাথ, জীবনভর ব্যাপৃত ছিলেন অনুভবের বিষ্ময়কর সৌহার্দ্যে মানবজীবনের বহুরূপী সত্য তথা আত্ম-আবিষ্কারের শৈল্পিক চর্চায়, যা নিছক বুদ্ধি অথবা কল্পনার দ্বারা কোনওমতেই সম্ভব নয় ৷
বেচারা, গড়পড়তা বাঙালী বুদ্ধিজীবীরা, বুদ্ধির সাথে অনুভবের পার্থক্যটিকেই স্বচ্ছ রূপে অনুধাবনে ও ধারণে সমর্থ নয় ব'লে, আজও আবদ্ধ - শৈশব-জনিত অদূরদর্শিতার যথাবিহিত বেড়াজালে, "মন" নামক একটি ধোঁয়াটে পরিসরে তৃপ্ত থেকে, প্রাণ বা পরাণের প্রতি বিমাতৃসুলভ অবজ্ঞার, অভ্যাস-জনিত আসক্তির, নিরলস চর্চায় ৷
মূলতঃ, পরমুখাপেক্ষী উন্নাসিকতার বাধ্য দৈন্যে, অধিকাংশই তাই জীবনভর ব্যস্ত -
একদিকে, কুসমালোচনার মাধ্যমে দল ভারী করার মরীয়া প্রয়াসের কিঞ্চিৎকর সামর্থে, আপন অহমিকাটুকুর নিরন্তর পদলেহনে
এবং
অপরদিকে, সমান হারে, সুযোগ পাওয়া-মাত্রই, হাস্যকর জ্ঞান মেরে দেওয়ার দ্বারা, কূপমণ্ডূকের আত্মপ্রসাদ সঞ্চয়ে ৷
হ্যাঁ, নিঃসংশয় না হয়ে উপায় থাকে না আর, গড়পড়তা বেচারাম বুদ্ধিজীবীর অদূর সীমা আজও এই স্তরেই বাধ্য কিলবিল করে ৷
.
রবিবার, ৯ মে, ২০২১
পান্থজনের সখা
সময় একটি অপ্রতিরোধ্য মাপক ও বিচারক ৷ সে শুধু এগিয়েই চলেছে একটি নির্দিষ্ট গতিতে ৷ থামার কোনও প্রশ্ন নেই তার ৷
মানবজীবনে সময়ের অর্থ সাময়িক সুযোগ ৷
অলস, অসংবদ্ধ ও মূখ্যতঃ ভোগবাদী মানুষের কাছে সময় মানে - নিরবচ্ছিন্ন অপচয় ও তদজনিত ঋণগ্রস্ততার কারণ ৷
সচেতন মানুষের কাছে সময় মানে - অক্লান্ত কর্ম-সহায়ে, সুযোগের বিচক্ষণ সদ্ব্যবহারে, সময় অপেক্ষা অধিকতর গতিময়তা, - যা তার উপার্জন-সমষ্টিকে প্রতিনিয়তই পাল্টে ফেলতে থাকে, আত্মিক ও পার্থিব স্তরে, অর্জিত সম্পদে ৷
সে সম্পদ, কর্মফলের সৌজন্যে, মানবজীবনে হয়ে ওঠে, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে, তার প্রশ্নাতীত কর্তৃত্ব ও কৃতিত্বের কারক এবং নশ্বর এ মানব-জীবনে একটি ঐশ্বরিক উচ্চতার অমর ইতিহাস ৷
যেমন পঁচিশে বৈশাখ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৷
.
.







