সোমবার, ১ মে, ২০২৩

ব্যর্থ প্রয়াস

চোখ দিয়ে দেখার দৌড় তো 
অন্যের বাইরের ত্বক অবধি ।
বুক দিয়ে দেখার দৌড় 
আরও অনেকটা গভীরে যায় ।

বুদ্ধির উপরে একটু
বেশিই ভরসা করেছিলে ?
প্রলোভনে সাড়া দেওয়া
যে-আপোষটি তোমার 
একপ্রকার বাধ্য হয়েই 
অভিনয়ে ঢাকতে হয়,
একবারও ভেবো না
সে মুখের কথারা
অনায়াসে পার পেয়ে যাবে
বুক দিয়ে দেখার সমীপে ।

সব মরীয়া চেষ্টার পরেও, 
সে ভিন্ন দৃষ্টি, শেষ অবধি, 
আপন স্বচ্ছতার অধিকারে
একদিন তোমার
প্রতিটি অভিনয়-প্রয়াসকে 
অপ্রাসঙ্গিক করেই দেবে 

আর শুধু তাই নয়,
তোমার বিরল কবি-প্রতিভাটি
একইসাথে, তোমারই চোখের সামনে,
আপোষের চাপে, অকালে মারা যাবে ।
মুখ না বলুক, তোমার বুক 
সে পরাজয়কে বাধ্য হয়ে মেনেও নেবে ।

প্রতারক শব্দরা

গত পঞ্চাশ বছরে 
অনেক শব্দের অর্থ ঘুরে গেছে
একশো আশি ডিগ্রী ।
এককালে যা পরম শ্রদ্ধেয় ছিল
আজ তা পরিনত হয়েছে
সর্বাধিক হঠকারী উচ্চারণে ।

যেমন একটি শব্দ 'শহীদ' ।
বোকা অনুগামীদের
অন্ধ আবেগকে কাজে লাগিয়ে
সরকারী বন্দুকের সামনে
ঠেলে দিতে পারলেই
বিরোধী দলের কেল্লাফতে ।

যে সংসারগুলো হারালো টাটকা প্রাণ,
তাদের পুনর্বাসন কে
নিশ্চিত করবে না আর কোনও
রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন,
অথচ
মহা সমারোহে পালিত হতে থাকবে
বছর-বছর "শহীদদিবস" ।

তেমন আর একটি শব্দ 'বিপ্লব' ।
বিপ্লব যে একটা মুখোশ মাত্র,
যার আড়ালে একমাত্র চলে
ক্ষমতার অলিন্দে
গদিদখল-জনিত আস্ফালন 
ও তার সুগুপ্ত, একতরফা অবৈধ প্রয়োগ,
সেকথা অতি-সাধারণ জনগনের
বুঝতে বাকি নেই আর ।

ভণ্ড নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে -
লক্ষ লক্ষ তরুণদের 
জীবনের মূল্যবান চৌত্রিশ বছরের
সমূহ বলিদানও
বাস্তবের মাটিতে
সামান্যতম "বিপ্লব" আনতে 
নেহাতই অক্ষম ।
তিক্ত এই বাস্তবটি 
অনস্বীকার্য রয়ে যেতেই হয় 
শেষ অবধি জনমানসে ।

সেকালের স্বপ্নের "বিপ্লব" শব্দটিকে
নেহাৎই অকর্মন্যদের 
পার্টির দাদাগিরি-জনিত 
অবৈধ অত্যাচারের
দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস 
একালে পরিনত করে ছেড়েছে
বাঁজা বাতেলাদের 
পুনঃ পুনঃ, পূনর্মুষিক ভব,
সংগ্রামী বায়ুপ্রসবের হাস্যরসে ।

'ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র' - অপর একটি ভণ্ডামির
নিরাপদ আড়ত ।
বিগত পঁচাত্তর বছরে
এমন একটিও রাজনৈতিক দল আসেনি
এযাবৎ
যারা পাঁচ বছর বাদে বাদে 
ভোট শিকারে নামেনি
বিশেষ ধর্মকে বিশেষরূপে তোল্লা দিয়ে ।

ভারতবর্ষে তাই
মানুষের সমৃদ্ধি যত না হয়েছে
স্বাধীনতার পরে,
মন্দির-মসজিদের সমৃদ্ধি ঘটেছে
তার ন্যূনতম দশগুণ অধিক ।
গরীবের প্রাপ্য দুবেলার আহার
তাদের না দিয়ে,
মানুষের তৈরী ঈশ্বর-আল্লার আড়ালে
তাদের তাবেদাররা 
আশ মিটিয়ে চেটেপুটে খেয়েছে
সরল মানুষের মাথায় বসে ।

রাজনীতি আর ধর্মের আপোষী হাতমেলানো
মানুষকে বারংবার 
যে মিথ্যাটি আখেরে বোঝাতে চেয়েছে,
সে হলো -
'ধর্মীয় কুসংস্কারের উপযোগিতার কাছে
মানবিকতার প্রয়োজন মূল্যহীন ।'
মানুষকে বোকা বানিয়ে গেছে হামেশা
আবার কখনো পারেওনি ।
.