মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

Arise, awake and stop not till the goal is reached

 ."উত্তিষ্ঠত, জাগ্রত, প্রাপ্য বরাণ নিবোধত" 

___________________Swami Vivekananda


Expansion by Arup Sarkar


লক্ষ্যহীনতা গতির মারক ৷

দিশাহীনের অবধারিত নিয়তি জড়তা

ও অপর কে প্রভাবিত করতে চাওয়া

হুজুগের মাদারী-খেল ৷


একাকীত্বকে ভয় না পেলে,

লক্ষ্যকে বাকি জীবন হতে একা করে,

একান্ত নিজের করে নিলে,

লক্ষ্যের জন্য নিয়ম করে, নিষ্ঠা সহকারে,

সময় দিলে,

সে একটু একটু করে

তোমাকে অপ্রতিহত গতির জগতে নিয়ে যাবে ৷

একাকিত্বের অন্তরে লুকিয়ে থাকা 

চরৈবেতির আশীর্বাদ 

জীবনে অঝোর ধারে বর্ষিত হবে ৷


ভয় কে জয় করে

আপন সম্ভাবনাদের যথার্থ সুযোগ দাও,

যত্ন করে আবাদ করতে

নিয়মিত জল ঢালো গোড়ায় !

নূতন চারা গজাবে চরিত্রে ৷

সম্ভাবনারা ক্রমশঃ 

সামর্থ ও দক্ষতায় পাল্টে যাবে ৷

.

রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ফানুস

বিবাহ নামক অনুষ্ঠানটি

পাশ্চাত্যের অনেক দেশেই

বাসি ও সাত-পুরোনো

"নির্বোধের গলার দড়ি" - ব'লে

বহুকাল আগেই বর্জিত হয়েছে ৷


বাঁচার মডেল পাল্টে পাল্টে গেছে ৷


যেভাবে, আবেগের নিরাপত্তা

ও বৈচিত্রের বহুবিধ সহবাসকে

মানুষ একাধারে সম্ভব করেছে -


তেমন একটি হলো, -


অভিনয়ের প্রয়োজনকে নস্যাৎ করে,

বলে কয়ে, বহু মানুষ

একদিন ছেড়ে একদিন ক'রে

সপ্তাহের তিনটি দিন

স্থায়ী সম্পর্ককে পূর্ণ সময় দিয়ে

গভীর দরদে ও শ্রদ্ধা-সহকারে

যে আদরে আগলে রেখেছে,


ঠিক তেমনই, সপ্তাহের দুটো দিন

মানবজীবনে 

সাময়িক বৈচিত্রের প্রয়োজনকে

সমানতালে স্বীকৃতি দিতে,

নিয়মিত সঙ্গ পরিবর্তনকে

জীবনের প্রত্যক্ষ অংশিদার হিসেবে

ভনিতা-হীন উচ্চগ্রামে স্বস্তির চর্চায় রেখে,

বিশ্বাস-ঘাতকতার ব্যাজার প্রশ্নকে 

জনসমক্ষে নির্মূল করে বসে আছে ৷


সপ্তাহের আর বাকি দুটি দিন

নিজের সাথে নিজে

সম্পূর্ণরূপে একা হওয়ার জন্য

"একান্ত ব্যক্তিগত" ডিক্লেয়ার করে দিয়ে

পরবর্তী আত্মবিকাশের সচেতন স্বার্থে

আপোষহীন আত্মবিশ্বাসে একার রেখেছে ৷


মানুষ নামক এই প্রাণীটি 

কী ভীষণ ইন্টারেস্টিং না ?


এতসবের মাঝেও 

স্থায়ী সম্পর্কটির তিনটি নির্দিষ্ট দিনে

সঙ্গীর যাপন ইতিহাসে

কোনও প্রকার বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ 

ঘটনাচক্রে পেতে হলে, 

ওমনি বিশ্বাসে নির্ভরতা খুইয়ে

যার-পর-নাই মুষড়ে পড়েছে,

চোখের জলের বন্যা বয়েছে,

নিজেকে একা, নিঃসঙ্গ 

ও প্রবঞ্চিত অনুভব করে

মনোবিদের চেম্বারে

দিনের পর দিন সময় দিয়েছে ৷


মানুষ নামক এই প্রাণীটি 

কী ভীষণ ইন্টারেস্টিং না ?

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রদীপের_আলো

ভালবাসার ঘোরটি লাগা মাত্রই

তুমি অন্য একটা মানুষ হতে শুরু কর ৷

তুমি কি খেয়াল করেছ কখনো,
তোমার এযাবৎ অভ্যাসদের
বল্কল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চায়
সম্পূর্ণ নূতন আর একজন তুমি,
যাকে নিজেই চিনতে না
এই সবে মাত্র কিছু দিন আগে ?

ভালবাসা তোমাকে সুন্দর করে না
একথা আমাকে বিশ্বাস করতে বলো না ৷

তবে, ভালবাসার সাথে জোড় বাঁধতে চায়
যেমন কামনা, তেমনই শ্রদ্ধা ৷
যে রঙের স্থায়িত্ব যত কম অথবা বেশি
সে তেমন আবীরে রাঙায় তোমাকে ৷

প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি মানুষ
সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে
সুন্দরের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা ৷
তুমি কাকে কবে ভালবেসেছিলে
এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷
ভালবেসেছিলে ব'লে,
প্রবল আত্মবিশ্বাসের তোড়ে
অনুভব
প্রাণবন্ত গতিময়তা পেয়েছিল ব'লে,
উদ্ভিন্ন সুন্দর হতে পেরেছিলে,
খুঁজে পেয়েছিলে বাঁচার অনস্বীকার্য মানে,
আপন অন্তরের আকুলতা, ব্যকুলতাদের
সম্ভাব্য সর্বাধিক তীব্রতা সহ
জীবনকে সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছিল,
এটাই চিরাচরিত সত্য ৷

আর বাকি সব মিথ্যা জেনো ৷
এমনকি সে হতভাগা, নাছোড়, কেষ্টাও !

কোনও এক মহাপুরুষ কোনও একদিন
এই কারণে লিখেছিলেন -
"আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ
চুনি উঠলো রাঙা হয়ে" !
একটা নূতন দর্শন জন্মলাভ করেছিল এ ধরায়
এই সত্যটির প্রতি নির্ভরে, অস্তিত্ব-বাদ নামে ৷

মানো অথবা না মানো,
তোমার প্রেমের সার কথাটি হলো -
তুমি আসলে ভালবাসতে বড্ড ভালবাসো
আর ভালবাসলেই ওমনি চুটিয়ে ভাল থাকো ৷
ভাল থাকতে চাওয়া তো অন্যায় নয় কোনও ৷
আর এই ভালবাসতে চাওয়া
তুমি নামক মানুষটি তোমার এ জীবনের
প্রথম ও সর্বশেষ সত্য ৷

"কাকে ভালবেসেছিলে ?"
আরে ধুসস ! ওটা আবার কোনও প্রসঙ্গ নাকি ?
একবার নয়, যতবার খুশি পরীক্ষা করে নিও
আপন জীবনে -
"ভোগে ভালবাসা মরে, বিহনে ভালবাসা বাড়ে ৷"
.
https://youtu.be/TcCPQrrI1jM
.
.

শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রবজ্যা

কি বললে ? "অবসর - অনেকদিন পর

আবার হয়তো কোনও একদিন

ডাকবেই অধিকতর কাছে ?"


তাহলে আর হতাশ কেন স্বর ?

কাজও ঠিকঠাক গোছানোই আছে !


চলে যাব স্টিয়ারিং এ হাত রেখে

সেদিনও - লং ড্রাইভে

তিস্তার পাশে পাশে

সেবকের সর্পিল বাড়ানো হাতে

উত্তেজনাদের নিশ্চিন্তে বন্ধক রেখে


পৌঁছে যেতে

ভালবাসার পাহাড়ি ঠিকানায়

ঘুরতে ঘুরতে, বার বার বাঁক পেরিয়ে

আরও উপরে উঠতে উঠতে,

অবশেষে - অদেখা উচ্চতরতায়,

চূড়ার যে বিন্দুতে এসে

সব দ্বিতীয়কে অদ্বৈতে মিশতে হয়

তার প্রকৃত প্রাকৃতকে ছুঁয়ে-ফেলায় 

এ পুরোনো আমাদের

আবার নূতনের

অপূর্বে পাল্টে যেতে পারা কাছে ৷


বিশ্বাসকে নিজেতে পুরোটা ভরে রেখো !

তার চেয়ে অধিক

আর কি কোনও নির্ভরতা

এ ধরায় আমৃত্যু অবিকলে বাঁচে ?

ত্রিনয়ন

বড় হওয়ার ঠিক পরে পরে

তিনি একদিন কাছে বসিয়ে বলেছিলেন -


"যারা দেখবি - চাহিদামত শুতে পেলেই

পূর্ণ-তৃপ্ত বা চালু কথায় "বক-বক খুশি",

তারা জানবি 

পশুজন্ম পেরিয়ে এসেছে অতি সদ্য !

গায়ে তাই গন্ধ পাবি মাঝে মাঝেই এখনও !


যারা দেখবি - ভালবাসার মানুষটিকে

ইচ্ছানুযায়ী চালাতে বদ্ধ-পরিকর

তারা জানবি ভিতরে ভিতরে শোষকও !

ভালবাসার অজুহাতে, ভালবাসার চেয়ে,

অধিকারের প্রয়োজন তাদের নিকটে অধিক ৷

এরা মানবজনমে অভিজ্ঞতর, 

বুদ্ধির সুবিধাবাদী প্রয়োগের ক্ষেত্রদের 

আগে থেকে চিনে রাখার অধিকারে ৷


যারা দেখবি তুলনামূলক ভাবে শান্ত ও মৌন

তারা অনুভবে সাধারণতঃ গভীর ৷

মুখে না বলেও মানুষকে পড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে

তারা বেশিরভাগই এগিয়ে ৷

ভাব বিনিময়ের জন্য দৃষ্টির ভাষাটি যথেষ্ট ৷

সমাজের ছড়ির শাসন পারে না রুখতে

ইচ্ছানুসারে প্রাণের সঙ্গমে

তাদের বানভাসি খুঁজে নিতে পারা !


নিচু হতে ক্রমশঃ উঁচুতে 

তিনখানি স্তর !

প্রথমটি শরীর, 

যেখানে আকাট ও সেয়ানায়

ভীড় সর্বাধিক ৷

দ্বিতীয়টি মন, 

যেখানে অহমিকা আর

কর্তৃত্বের লড়াই প্রাণপণ

আর তৃতীয়টি পরাণ,

যে জীবনের আসল ক্ষীরটি

মেরে দিতে জানা ছুপারুস্তম ৷"